গ্রেপ্তার, আটক ও বিচারিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়ছে চ্যালেঞ্জ
শ্রীলঙ্কার প্রস্তাবিত সন্ত্রাসবাদ থেকে রাষ্ট্রের সুরক্ষা বিলের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সংবিধানবিষয়ক ৩৬টি আবেদন জমা পড়ে। এর আগে ঘোষিত ২৫টির বাইরে আরও ১১টি চ্যালেঞ্জের কপি পাওয়ার কথা স্পিকার জগৎ বিক্রমরত্নে সংসদকে জানান। প্রস্তাবিত আইনটি ১৯৭৯ সালের সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ আইনকে প্রতিস্থাপন করবে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনী ও কোস্টগার্ডের তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা বাড়াবে।
সূচিপত্র
- গ্রেপ্তার, আটক ও বিচারিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়ছে চ্যালেঞ্জ
- আদালতে চ্যালেঞ্জ যেভাবে এগিয়েছে
- সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞায় আসলে কী বলা হয়েছে
- প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের সুরক্ষা কোথায় প্রযোজ্য
- সেনা ও কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা কখন ব্যবস্থা নিতে পারবেন
- আটক ও মুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে
- রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও সরকারের জবাব
- বাতিল হলেও পুরোনো কাঠামোর কিছু অংশ কার্যকর থাকবে
- মূল বিষয়গুলো
আইনজীবী কুমারাভাদিভেল গুরুপরন সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দেন, প্রতিস্থাপনের প্রস্তাবটি সংবিধান-নিশ্চিত মৌলিক অধিকারের জন্য হুমকি। আইনজীবী শিবা পুন্নিয়াম আবিলাশের পক্ষে, আইনজীবী জননী আয়াথুরাইয়ের সহায়তায় আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, পুরোনো আইন বাতিল হওয়া উচিত—এ বিষয়ে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে; তবে প্রস্তাবিত নতুন আইনটি আরও খারাপ বলে তিনি যুক্তি দেন।
সরকারের প্রকাশিত সন্ত্রাসবাদ বিল ২২ সেপ্টেম্বর বিচার ও জাতীয় সংহতিমন্ত্রীর নির্দেশে গেজেটের সম্পূরক হিসেবে জারি করা হয়। এতে প্রতিবাদ ও শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের জন্য স্পষ্ট সুরক্ষা রয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, এসব সুরক্ষার পাশাপাশি রয়েছে বিস্তৃত অপরাধের সংজ্ঞা, নির্বাহী বিভাগের আটকাদেশ দেওয়ার ক্ষমতা এবং ম্যাজিস্ট্রেটদের কর্তৃত্বে সীমাবদ্ধতা।
বিতর্কটি মানুষের জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে: কে তাদের থামিয়ে তল্লাশি করতে পারবেন, কে তাদের আটকের নির্দেশ দিতে পারবেন এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমোদন ছাড়াই কোনো বিচারক তাদের মুক্তি দিতে পারবেন কি না। সরকারের বক্তব্য, মানবাধিকার সুরক্ষিত রেখে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের উদ্দেশ্য।
সুপ্রিম কোর্ট ২০ অক্টোবর ২৫টি আবেদনের শুনানি শুরু করে। কার্যক্রমের বিবরণে কোনো সিদ্ধান্ত বা রায় ঘোষণার তারিখ জানানো হয়নি।
আদালতে চ্যালেঞ্জ যেভাবে এগিয়েছে
প্রধান বিচারপতি প্রীতি পদ্মন সুরসেনার নেতৃত্বে বিচারপতি অচলা ওয়েঙ্গাপ্পুলি ও সম্পথ আবেকুনকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ আবেদনগুলোর শুনানি করে। অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল নেরিন পুলে ২০ অক্টোবর আদালতকে জানান, ২৫টি আবেদন জমা পড়েছে এবং স্পিকারের কার্যালয়কে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।
পরদিন স্পিকারের ঘোষণায় তাঁর নোটিশে অন্তর্ভুক্ত আবেদনের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬-এ। নতুন ১১টি আবেদনের ফলে আগের ২৫টির তুলনায় মোট সংখ্যা ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। এসব ঘোষণা সংবিধানের ১২১(১) অনুচ্ছেদের অধীনে করা আবেদনের বিষয়ে, যার মাধ্যমে প্রস্তাবিত আইন পাস হওয়ার আগে তা চ্যালেঞ্জ করা যায়।
- ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বিলটি গেজেটের সম্পূরক হিসেবে জারি করা হয়।
- ৭, ৮ ও ২০ অক্টোবর: স্পিকারের নোটিশে বিলটির বিরুদ্ধে মোট ২৫টি আবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়।
- ২০ অক্টোবর: সুপ্রিম কোর্ট ওই ২৫টি আবেদনের শুনানি শুরু করে।
- ২১ অক্টোবর: আরও ১১টি আবেদনের কপি পাওয়ার কথা স্পিকার জানান; ঘোষিত মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬-এ।
আবেদনকারীরা আদালতের কাছে নির্ধারণের অনুরোধ করেছেন, বিতর্কিত বিধানগুলো পাস করতে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং গণভোটে ভোটারদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কি না। বিলটি পাসের সাংবিধানিক শর্তগুলোকে তাঁদের আবেদনের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞায় আসলে কী বলা হয়েছে
গুরুপরনের যুক্তি, বিলে সন্ত্রাসবাদের যথেষ্ট স্পষ্ট সংজ্ঞা নেই। তবে ৩ নম্বর ধারায় কয়েকটি পরস্পর-সম্পর্কিত শর্তে সংজ্ঞাটি দেওয়া হয়েছে: কোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বা জেনেশুনে কাজ করতে হবে, নির্দিষ্ট কোনো পরিণতি ঘটাতে হবে এবং উল্লেখিত দুটি উদ্দেশ্যের যেকোনো একটি অর্জনের জন্য রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক লক্ষ্য অনুসরণ করতে হবে।
উদ্দেশ্য দুটি হলো জনসাধারণ বা কোনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, অথবা কোনো সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অন্যায্যভাবে কোনো কাজ করতে বা করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা। তালিকাভুক্ত পরিণতির মধ্যে রয়েছে মৃত্যু, গুরুতর আঘাত ও জিম্মি করা; সেই সঙ্গে সম্পত্তি, অবকাঠামো, পরিবেশ ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার নির্দিষ্ট ধরনের গুরুতর ক্ষতি।
ক্ষতি-সংক্রান্ত কয়েকটি বিধানে জীবনহানির ঝুঁকি বা উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকা আবশ্যক। সাংস্কৃতিক সম্পত্তির ক্ষতিও এর আওতায় পড়তে পারে, যদি তাতে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুতর ক্ষতি হয়। ফলে এ সংজ্ঞা এমন হামলার বাইরেও বিস্তৃত, যাতে মানুষ নিহত বা শারীরিকভাবে আহত হয়।
সাবেক মন্ত্রী ও অধ্যাপক জি.এল. পেরিসের পক্ষে আদালতে উপস্থিত প্রেসিডেন্টস কাউন্সেল আলী সাবরি যুক্তি দেন, ভাষাটি বিস্তৃত এবং এর ফলে নিজে থেকে অপরাধ নয়—এমন কর্মকাণ্ডও সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অপরাধের আওতায় আসতে পারে। তিনি বলেন, সংজ্ঞাটি কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার আইনের আদলে তৈরি। অতীতে আইনি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকায় শ্রীলঙ্কার জন্য এটি উপযুক্ত কি না, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের সুরক্ষা কোথায় প্রযোজ্য
৩(৪) ধারায় বলা হয়েছে, প্রতিবাদ, প্রচার, ভিন্নমত, ধর্মঘট, লকআউট বা অন্য কোনো শিল্পসংক্রান্ত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া—একমাত্র এ কারণে সন্ত্রাসবাদের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্দেশ্য, জ্ঞান বা পরিণতি অনুমান করা যাবে না। লিখিত আইন মেনে মানবিক সংস্থাগুলোর পরিচালিত মানবিক ও চিকিৎসাসেবামূলক কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুরক্ষা রয়েছে।
৬ ধারায় নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হওয়া, সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়ন এবং নির্দিষ্ট ধরনের সহায়তার বিষয়ে বলা হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন বলতে আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা কোনো সংগঠনকে বোঝায়। শুধু মতামত, বিশ্বাস বা সহানুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি, বস্তুগত সহায়তা বা সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশ, সংগঠন বা সমাবেশের জন্যও এতে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। অ্যাটর্নি-অ্যাট-ল’র আইনসম্মত পেশাগত দায়িত্বও সুরক্ষিত।
প্রতিবাদকারী, সাংবাদিক, ত্রাণকর্মী ও আইনজীবীদের জন্য এসব ধারা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে আইনটি যেসব কর্মকাণ্ডকে স্পষ্টভাবে সুরক্ষা দেয় তা চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরাধের ভাষা এবং সেগুলোর তদন্তে ব্যবহৃত ক্ষমতা বাস্তবে এসব সুরক্ষাকে যথেষ্ট কার্যকর রাখে কি না, তা নিয়েই বিরোধ।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল শ্রীলঙ্কা বিলটি নিয়ে তাদের বিবৃতিতে বলেছে, উদ্দেশ্য এবং গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা-সংক্রান্ত শর্তগুলো যথেষ্ট কঠোর নয়। সংস্থাটির সতর্কতা, সাধারণ ফৌজদারি আইনে মোকাবিলা করা উচিত—এমন কর্মকাণ্ডও সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অপরাধের আওতায় পড়তে পারে; এতে মতপ্রকাশ ও সংগঠিত হওয়ার অধিকারের ঝুঁকি তৈরি হবে।
পুলে সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার উদ্দেশ্য সরকারের নেই। সাবরি ৫১ নম্বর ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে যুক্তি দেন, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করা সভা, সংবাদ সম্মেলন ও অন্যান্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা এটি নির্বাহী বিভাগকে দিতে পারে। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের হাতে থাকা উচিত।
সেনা ও কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা কখন ব্যবস্থা নিতে পারবেন
গুরুপরন সতর্ক করেন, সাধারণত পুলিশ যে ক্ষমতা প্রয়োগ করে তা অন্যদের হাতে দিলে সামরিকীকরণ আরও বাড়তে পারে এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আগে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে সিভিল সিকিউরিটি ফোর্সের কথাও ছিল; তবে প্রকাশিত বিলে উদ্ধৃত তল্লাশি ও গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত বিধানে স্পষ্টভাবে সশস্ত্র বাহিনী ও কোস্টগার্ডের নাম রয়েছে।
১৯ ধারায় প্রস্তাবিত আইনের অধীন অপরাধের ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের পুলিশি ক্ষমতা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং কোস্টগার্ড কর্মকর্তাদের দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা ২৪ নম্বর ধারার শর্তসাপেক্ষ। ২০ ধারায় মানুষ ও যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ, বাড়ি বা জমিতে প্রবেশ করে তল্লাশি এবং সন্দেহভাজন অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনিসপত্র জব্দ করার ক্ষমতার উল্লেখ রয়েছে।
২৪ ধারায় নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী বা কোস্টগার্ডের তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, পুলিশ কর্মকর্তার অনুপস্থিতি এবং তাঁকে দ্রুত সেখানে আনা যুক্তিসংগতভাবে সম্ভব না হওয়া; আসন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঠেকানোর প্রয়োজন; অথবা জনশৃঙ্খলা রক্ষা কিংবা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য আইনসম্মতভাবে মোতায়েন থাকা।
গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিকে অবিলম্বে এবং যেকোনো ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অন্য কোনো মনোনীত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করতে হবে। ৪২ ধারায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সদুদ্দেশ্যে, আনুপাতিকভাবে এবং যতটুকু প্রয়োজন কেবল ততটুকু নিতে হবে।
আইনজীবী হেজাজ হিজবুল্লাহ যুক্তি দেন, গ্রেপ্তারের ক্ষমতা বাড়ালে মানুষ নির্যাতন বা ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হতে পারে। জবাবদিহি নিয়েও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল শ্রীলঙ্কা একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছে; এর মধ্যে রয়েছে, সামরিক সদস্যরা আইন প্রয়োগের ক্ষমতা ব্যবহার করলে সুরক্ষাব্যবস্থা ও নির্দেশনার ধারাগুলো কতটা স্পষ্ট থাকবে। বাস্তব প্রশ্নটি হলো, কোনো কর্মকর্তার হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত কে তদারক করবেন এবং কোনো ব্যক্তি কীভাবে সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।
আটক ও মুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে
হিজবুল্লাহ ২৭ ও ২৮ নম্বর ধারা চ্যালেঞ্জ করে যুক্তি দেন, এগুলো আদালতের আদেশ ছাড়াই আটকের সুযোগ দেবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল শ্রীলঙ্কা বলেছে, প্রস্তাবিত কাঠামোয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রাথমিকভাবে দুই মাস পর্যন্ত আটকের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে; একই সঙ্গে আটক প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাধীন মূল্যায়নের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।
সাবরি আদালতকে বলেন, একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ এক বছর আটক রাখার পর আরও এক বছর রিমান্ডে রাখা হতে পারে। ফৌজদারি মামলা চলাকালে হেফাজতে রাখাকে রিমান্ড বলা হয়। তাঁর যুক্তি ছিল সম্ভাব্য মোট সময়কাল নিয়ে, আর সংস্থাটির দুই মাসের উদ্বেগটি ছিল নির্বাহী বিভাগের প্রাথমিক আটকাদেশ নিয়ে।
হিজবুল্লাহর বক্তব্যে ৩৭ নম্বর ধারাও গুরুত্ব পায়। তাঁর যুক্তি, কোনো ম্যাজিস্ট্রেট সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে অব্যাহতি দিতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হলে, মামলা এগিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট প্রমাণ না থাকলেও বিচারিক কর্তৃত্ব সীমিত হবে। বর্তমান আইনে ম্যাজিস্ট্রেটদের এ ক্ষমতা প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক ছাত্রনেতা বসন্ত মুদালিগে ও উপমহাপরিদর্শক নালাকা সিলভার অব্যাহতির কথা উল্লেখ করেন।
প্রিভেনশন অব টেররিজম অ্যাক্টের অধীনে নিজেও ২২ মাস আটক থাকা হিজবুল্লাহ সাংবাদিক ও সাবেক আটক ব্যক্তিসহ একাধিক আবেদনকারীর প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ৬০ নম্বর ধারাকেও চ্যালেঞ্জ করে বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ এটি দেবে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল শ্রীলঙ্কার বক্তব্য, প্রস্তাবিত পর্যালোচনা কমিটির ক্ষমতা সীমিত হবে, কারণ মন্ত্রী এর সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন। আটক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের জন্য মূল উদ্বেগ হলো, স্বাধীন কোনো আদালত আটকে রাখার কারণ কার্যকরভাবে পর্যালোচনা করে মুক্তির আদেশ দিতে পারবেন কি না।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও সরকারের জবাব
হিজবুল্লাহর যুক্তি, ৫৯ নম্বর ধারা রাষ্ট্রপতিকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেবে, যা সংবিধানের ৩ ও ৪ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন হতে পারে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল শ্রীলঙ্কা আলাদাভাবে সতর্ক করে বলেছে, সংগঠন নিষিদ্ধ করার রাষ্ট্রপতির আদেশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকবে না। এতে সংগঠনগুলোর কার্যক্রম, অর্থ সংগ্রহ, সভা আয়োজন ও প্রচার চালানোর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রেসিডেন্টস কাউন্সেল এম.এ. সুমন্থিরন যুক্তি দেন, বিলটি প্রিভেনশন অব টেররিজম অ্যাক্টের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বিচারিক কর্তৃত্ব আরও সীমিত করছে। সাবরি আইনটি পাসের আগে সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আইন কার্যকর হওয়ার পর তার সাংবিধানিকতা পর্যালোচনার তুলনীয় ব্যবস্থা শ্রীলঙ্কায় নেই।
জি.এল. পেরিসের পক্ষে আদালতে উপস্থিত আইনজীবী সাবরি বলেন:
অন্যান্য দেশের মতো আইন পাসের পর তা পর্যালোচনার ব্যবস্থা আমাদের নেই। আইন পাস হলে তা কার্যকর হয়ে যায়। মহামান্য আদালতের সামনে এখন এসব বিধান সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে,
মন্ত্রিসভার মুখপাত্র ডা. নলিন্দা জয়সা ২০ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার ব্রিফিংয়ে প্রস্তাবিত কাঠামোর পক্ষে কথা বলেন এবং বিতর্কিত বিধানগুলো নিয়ে সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ জানাতে উৎসাহ দেন। চেহারা বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের উদ্বেগের জবাবে—যার মধ্যে প্রেসিডেন্টস কাউন্সেল সালিয়া পিয়েরিসের প্রকাশ্যে তোলা উদ্বেগও ছিল—জয়সা বলেন, শুধু লম্বা চুল বা উল্কি থাকলেই গ্রেপ্তারের যুক্তি হতে পারে, এমন দাবি সঠিক নয়।
এ ধরনের উদ্বেগ যাচাইয়ের উপযুক্ত মঞ্চ হিসেবে জয়সা সুপ্রিম কোর্টের কথা বলেন:
এমন কোনো বিধান থাকলে যে কেউ সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে তা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। সেটিই সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ,
বিচারমন্ত্রী হর্ষণ নানায়াক্কারা সংসদকে বলেন, ৪(২) ধারায় অপরাধী সংগঠনের সদস্যপদ-সংক্রান্ত খণ্ডনযোগ্য অনুমানের কথা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, পরিচিত সদস্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চুলের ধরন, উল্কি, হাতের ইশারা, পোশাক বা ভাষার উল্লেখ এমন কিছু লক্ষণ, যেগুলো চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে। খণ্ডনযোগ্য অনুমান হলো এমন ধারণা, যা প্রমাণ দেখিয়ে ভুল বলে প্রতিষ্ঠা করা যায়। সদস্যপদ কীভাবে নির্ধারিত হতে পারে, তাঁর ব্যাখ্যা মূলত সে বিষয়েই ছিল; আর আদালতের চ্যালেঞ্জগুলো প্রস্তাবিত আইনের আরও বিস্তৃত প্রভাব নিয়ে।
বাতিল হলেও পুরোনো কাঠামোর কিছু অংশ কার্যকর থাকবে
৭২ ধারায় ১৯৭৯ সালের ৪৮ নম্বর প্রিভেনশন অব টেররিজম (টেম্পোরারি প্রভিশনস) অ্যাক্ট বাতিলের কথা বলা হয়েছে। তবে ৭৩ ধারায় চলমান মামলা, আগে সংঘটিত বলে অভিযোগ করা অপরাধ এবং বিধিমালার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বড় অংশ বহাল রাখা হয়েছে। ফলে আইনটি প্রতিস্থাপন করা মানে পুরোনো আইনের অধীনে সব কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং একটি রূপান্তরকাল থাকবে।
চলমান তদন্ত, বিচার, আপিল ও আবেদন সাধারণত পুরোনো আইনের অধীনেই চলবে, যার মধ্যে পদ্ধতি ও সাক্ষ্য-প্রমাণসংক্রান্ত নিয়মও রয়েছে। নতুন আইন নির্ধারিত তারিখের আগে সংঘটিত বলে অভিযোগ করা কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে পুরোনো আইনে মামলা করা হবে; যথাসম্ভব নতুন আইনের অধীনে কার্যক্রম শেষ করা হবে।
সংগঠন নিষিদ্ধ করা বিদ্যমান বিধিমালাও পরিবর্তন বা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বিলটিতে তামিল ইলমের মুক্তি বাঘ, তামিল পুনর্বাসন সংস্থা ও উগ্রপন্থী সংগঠন-সংক্রান্ত বিধিমালার পাশাপাশি আটক ব্যক্তি, রিমান্ডে থাকা ব্যক্তি ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত বিধিমালারও সুনির্দিষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
এই রূপান্তর-সংক্রান্ত ধারাগুলো সুমন্থিরনের ধারাবাহিকতা নিয়ে করা সমালোচনাকে বিলের একটি বাস্তব অংশের সঙ্গে যুক্ত করে: যাঁদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কার্যক্রম চলছে এবং যেসব সংগঠন ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ, তাঁরা পুরোনো আইনের অধীনে নেওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে থাকবেন। নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতায় স্পষ্ট সীমা এবং স্বেচ্ছাচারী আটক ঠেকানোর কার্যকর সুরক্ষার পাশাপাশি বিলটি প্রত্যাহার ও প্রিভেনশন অব টেররিজম অ্যাক্ট বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল শ্রীলঙ্কা।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বিলটির বিরুদ্ধে স্পিকারের ঘোষণায় সংবিধানবিষয়ক ৩৬টি আবেদনের কথা উঠে আসে, যার মধ্যে সদ্য ঘোষিত ১১টি চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
- প্রধান বিচারপতি প্রীতি পদ্মন সুরসেনার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ২০ অক্টোবর ২৫টি আবেদনের শুনানি শুরু করে।
- গুরুপরন ও অন্য আবেদনকারীরা সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা, সম্প্রসারিত গ্রেপ্তারি ক্ষমতা এবং বিচারিক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধতার বিরোধিতা করেছেন।
- প্রকাশিত বিলে নির্দিষ্ট শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের সুরক্ষা রয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে সেনা বা কোস্টগার্ড কর্মকর্তাদের বাধ্য করা হয়েছে।
- আইনজীবীদের যুক্তি, আটক ও রিমান্ড মিলিয়ে দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে। সন্দেহভাজনকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতাও তাঁরা চ্যালেঞ্জ করেছেন।
- সরকার জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সুরক্ষার কাঠামো হিসেবে আইনটির পক্ষে যুক্তি দিয়েছে; ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল শ্রীলঙ্কা বিলটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
- বাতিল-সংক্রান্ত বিধানে চলমান কার্যক্রম এবং বিদ্যমান প্রিভেনশন অব টেররিজম অ্যাক্টের অধীনে করা কয়েকটি বিধিমালা বহাল থাকবে।






