আগুন নেভানোর নির্দেশ পেল আরও তিন কোম্পানি
কালিমান্তানে জমির মালিক তিনটি কোম্পানির বিরুদ্ধে ধোঁয়াশা মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়ার আওতা বাড়িয়েছে সিঙ্গাপুর। এতে ১৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে প্রতিরোধমূলক নোটিশ পাওয়া ইন্দোনেশীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়াল ১০টিতে। ১৮ অক্টোবর দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে দূষণ মান সূচক (PSI) মৌসুমের সর্বোচ্চ ২৩০-এ পৌঁছানোর পর এই সম্প্রসারণ করা হলো, যা ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে।
সূচিপত্র
- আগুন নেভানোর নির্দেশ পেল আরও তিন কোম্পানি
- কোম্পানিগুলোর প্রতি NEA-র নির্দেশ
- ধোঁয়াশা ও ব্যবস্থা গ্রহণের ধারাবাহিকতা
- কালিমান্তানের কনসেশনগুলোর পেছনে কারা?
- APP-কে দৈনিক প্রতিবেদন দিতে হবে, ঝুঁকিতে সবুজ সনদ
- পরিদর্শনের প্রস্তাব First Resources-এর, বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া
- ব্যাংক, বিনিয়োগকারী ও সরকারি সুবিধার দিকেও নজর সিঙ্গাপুরের
- মামলা করা কঠিন কেন
- অনুমতি, পুনরুদ্ধার ও মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া
- বাসিন্দারা স্বস্তি চাইছেন, বাড়ছে আঞ্চলিক চাপ
- কবে উন্নতি হতে পারে বায়ুমানের?
- মূল বিষয়গুলো
সিঙ্গাপুরের জাতীয় পরিবেশ সংস্থা (NEA) ১৯ অক্টোবর PT Baratama Putra Perkasa, PT Buana Megatama Jaya এবং PT Mananjung Hayak-এর নাম জানায়। সংস্থাটি দেখতে পেয়েছে, তাদের জমিতে লাগা আগুনের ধোঁয়া সিঙ্গাপুরে পৌঁছে থাকতে পারে। সুমাত্রায় আগুনের ঘটনায় আগে লক্ষ্যবস্তু করা আরও সাতটি কোম্পানির সঙ্গে এবার তারাও যুক্ত হলো।
বাগান পরিচালনাকারীদের বাইরে তাদের সরবরাহকারী, করপোরেট মালিক, ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের দিকেও নজর দিচ্ছে সিঙ্গাপুর। জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী কে শানমুগাম বলেছেন, সরকার অর্থায়ন ও সরকারি সুবিধায় প্রবেশাধিকার খতিয়ে দেখতে পারে এবং সহযোগিতা নিশ্চিত করতে জরুরিভিত্তিতে আইন জোরদার করতে পারে।
তাৎক্ষণিক নির্দেশগুলো আগুন নেভানো এবং নতুন করে আগুন লাগা ঠেকানো নিয়ে। বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্যাটেলাইট ছবি, বাতাসের তথ্য, কনসেশন মানচিত্র এবং ইন্দোনেশিয়ায় সংগ্রহ করা প্রমাণকে আদালতে সফল হতে পারে এমন মামলায় রূপ দেওয়া। ২০১৪ সালে কার্যকর হওয়ার পর থেকে সিঙ্গাপুরের আন্তঃসীমান্ত ধোঁয়াশা দূষণ আইন (THPA)-এর আওতায় কোনো কোম্পানিকে জরিমানা করা হয়নি বা তার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।
কোম্পানিগুলোর প্রতি NEA-র নির্দেশ
NEA-র ১৬ অক্টোবরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানচিত্র, আবহাওয়াবিদ্যাগত তথ্য ও স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে সংস্থাটি কীভাবে আগুনের হটস্পট ও ধোঁয়ার বিস্তার শনাক্ত করে। সংস্থাটি দেখতে পেয়েছে, সাতটি ইন্দোনেশীয় কোম্পানির কনসেশনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত জমি থেকে ধোঁয়া সিঙ্গাপুরের দিকে যেতে পারে। কনসেশন বলতে নির্দিষ্ট জমি ব্যবহার বা পরিচালনার জন্য কোনো কোম্পানিকে দেওয়া অধিকার বোঝায়।
সাতটি প্রতিষ্ঠান হলো PT Bumi Andalas Permai, PT Bumi Mekar Hijau, PT Paramitra Mulia Langgeng, PT Sumatera Alam Anugerah, PT SBA Wood Industries, PT Hutan Lestari Raya এবং PT Bangkanesia।
THPA-র ৯ নম্বর ধারায় জারি করা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা-সংক্রান্ত নোটিশে কোম্পানিগুলোকে তাদের মালিকানাধীন বা দখলে থাকা জমিতে আগুন নেভাতে কিংবা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে অগ্নিনির্বাপণকর্মী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলোকে আগুন লাগানো বন্ধ করতে বা তা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং আগুন নেভানো বা পুনরায় আগুন লাগা ঠেকানোর পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।
টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশমন্ত্রী গ্রেস ফু বলেছেন, সম্ভাব্য উৎস শনাক্ত করতে NEA কনসেশন মানচিত্র, স্যাটেলাইট ছবি, জনসাধারণের দেওয়া তথ্য এবং আবহাওয়ার তথ্য একত্রে ব্যবহার করে। বাতাসের গতি ও দিক দেখে সংস্থাটি মূল্যায়ন করে, নির্দিষ্ট কোনো আগুনের ধোঁয়া সিঙ্গাপুরে পৌঁছাতে পারে কি না।
ধোঁয়াশা ও ব্যবস্থা গ্রহণের ধারাবাহিকতা
৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের বায়ুমানের সূচক প্রথমবার অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছায়। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর সেটিই ছিল এ ধরনের প্রথম মাত্রা। অক্টোবরের শুরুতে NEA-র দৈনিক সতর্কবার্তায় কালিমান্তানকে সিঙ্গাপুরে আসা ধোঁয়ার উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছিল।
বায়ুমানের অবনতির পর কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিধি বেড়েছে, তার ধারাবাহিকতা:
- ৪ সেপ্টেম্বর: সিঙ্গাপুরের বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছায়।
- ১৪ অক্টোবর: পশ্চিমাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার PSI ২০৩-এ পৌঁছে, ওই বছরের প্রথমবারের মতো অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে প্রবেশ করে।
- ১৫ অক্টোবর: NEA পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা বাতাসে কালিমান্তানের ঘন ধোঁয়া সিঙ্গাপুরের দিকে যাওয়া অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দেয়।
- ১৬ অক্টোবর: সুমাত্রার আগুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতটি কোম্পানিকে প্রতিরোধমূলক নোটিশ দেওয়ার ঘোষণা দেয় NEA।
- ১৮ অক্টোবর: পশ্চিমাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার PSI মৌসুমের সর্বোচ্চ ২৩০-এ পৌঁছায়।
- ১৯ অক্টোবর: কালিমান্তানের তিনটি কোম্পানির ক্ষেত্রেও নোটিশের আওতা বাড়ায় সিঙ্গাপুর এবং সম্ভাব্য আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার কথা জানায়।
- ২০ অক্টোবর: First Resources তাদের কার্যক্রম পরিদর্শন ও পর্যালোচনাকে স্বাগত জানায়।
বায়ুদূষণকারী উপাদানগুলোর তথ্য একত্র করে বায়ুমান বর্ণনায় যে সূচক ব্যবহার করা হয়, সেটিই PSI। ২৪ ঘণ্টার পাঠ পুরো দিনের পরিস্থিতি তুলে ধরে, দূষণের স্বল্প সময়ের ওঠানামা নয়।
কালিমান্তানের কনসেশনগুলোর পেছনে কারা?
PT Buana Megatama Jaya, Asia Pulp & Paper (APP)-কে পাল্পউড সরবরাহ করে; ২০২০ সালে এটি APP-র সরবরাহকারী নেটওয়ার্কে যোগ দেয়। পশ্চিম কালিমান্তানের কেতাপাং জেলার কেন্দাওয়াঙ্গানে এর কনসেশনের আয়তন ৪৩,৮০০ হেক্টর। কনসেশনের ভেতরে পোড়া এলাকা শনাক্ত হওয়ার পর ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ কর্তৃপক্ষ কোম্পানিটির অনুমতি স্থগিত করে।
Buana Megatama Jaya-কে অন্তর্ভুক্ত করায় ১০টি কোম্পানির মধ্যে শনাক্ত APP সরবরাহকারীর সংখ্যা দাঁড়াল চারটিতে। বাকি তিনটি হলো Bumi Andalas Permai, Bumi Mekar Hijau এবং SBA Wood Industries। এগুলো দক্ষিণ সুমাত্রায় কার্যক্রম চালায় এবং ২০১৫ সালের ধোঁয়াশা সংকটের সময় সিঙ্গাপুরের নোটিশও পেয়েছিল।
AidEnvironment-এর নথিতে Baratama Putra Perkasa-র মালিক হিসেবে Batavia Prosperindo-র নাম রয়েছে। Batavia Prosperindo Internasional-এর প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুরভিত্তিক Malacca Trust Pte. Ltd., যা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আরেকটি করপোরেট যোগসূত্র তৈরি করেছে।
Mananjung Hayak-এর নাম PT Dwi Mitra Adhiusaha-এর অধীনে তালিকাভুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৬,০০০ হেক্টর তেলপাম বাগান এবং ঘণ্টায় ৩০ টন প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম একটি কারখানা। ২০২৫ সালে বনাঞ্চলের ভেতরে কথিত অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ার বনাঞ্চল আইন প্রয়োগবিষয়ক টাস্কফোর্স মধ্য কালিমান্তানে Mananjung Hayak-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১,৭২৮ হেক্টর জমির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
APP-কে দৈনিক প্রতিবেদন দিতে হবে, ঝুঁকিতে সবুজ সনদ
পাল্প ও কাগজের জন্য বর্ধিত Singapore Green Labelling Scheme-এর আওতায় APP-র সনদে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে Singapore Environment Council (SEC)। এই স্কিমটি SGLS+ নামে পরিচিত। ১৮ অক্টোবর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা করা হলেও নোটিশ জারির তারিখও ১৯ অক্টোবর উল্লেখ করা হয়েছে।
Bumi Andalas Permai, Bumi Mekar Hijau এবং SBA Wood Industries পরিচালিত কনসেশনে আগুন মোকাবিলার বিষয়ে APP-কে দৈনিক প্রতিবেদন দিতে হবে। SEC বলেছে, নজরদারি, প্রতিরোধ ও অগ্নিনির্বাপণে কার্যকর উন্নতি হয়েছে—প্রতিবেদন তা প্রমাণ করতে না পারলে সনদ স্থগিত করা হতে পারে। সনদ স্থগিত হলে সংশ্লিষ্ট পণ্যে ওই লেবেল ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
APP বলেছে, তারা সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হালনাগাদ তথ্য চেয়েছে, NEA-র সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে বলেছে এবং আরও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন কি না তা মূল্যায়ন করবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ পাওয়ার আগেই সরবরাহকারীরা NEA-কে জবাব দিয়েছিল।
APP-র এক মুখপাত্র বলেছেন, তাদের কার্যক্রম ও সরবরাহ শৃঙ্খলজুড়ে আগুন লাগানোর বিরুদ্ধে কঠোর নীতি রয়েছে। APP আরও জানিয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে অগ্নিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনায় তারা ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং তদন্তে গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে সরবরাহকারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত বা বাতিল করতে পারে।
সনদ হারানোর ঝুঁকির পেছনে বাণিজ্যিক নজির রয়েছে। ২০১৫ সালের ধোঁয়াশা সংকটের সময় সিঙ্গাপুরের সুপারমার্কেটগুলো APP-র কাগজের পণ্য বিক্রি থেকে সরিয়ে নেয় এবং পণ্যগুলো তাদের সবুজ লেবেল হারায়। ২০১৭ সালে SEC আরও কঠোর SGLS+ স্কিম চালু করে, যেখানে পিটভূমি ব্যবস্থাপনা, আগুন প্রতিরোধ এবং সরবরাহ শৃঙ্খল প্রকাশের শর্ত যুক্ত হয়। ২০১৯ সালের মে মাসে APP ওই স্কিমের সনদ পায়; বর্তমানে এর আওতায় পাল্প ও কাগজের প্রায় ৫৮টি পণ্য রয়েছে।
পরিদর্শনের প্রস্তাব First Resources-এর, বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া
সিঙ্গাপুরে তালিকাভুক্ত পাম তেল উৎপাদক First Resources ২০ অক্টোবরের এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ে জানায়, তারা নথি পর্যালোচনা, কারিগরি মূল্যায়ন এবং সরেজমিন পরিদর্শনকে স্বাগত জানায়। প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আগুন দিয়ে জমি পরিষ্কারের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং জানায়, তাদের কার্যক্রমের সর্বত্র আগুন না লাগানোর নীতি প্রযোজ্য।
প্রতিষ্ঠানটি ২ লাখ হেক্টরের বেশি তেলপাম বাগান পরিচালনা করে, যার মধ্যে উত্তর সুমাত্রা ও পশ্চিম কালিমান্তানের বাগানও রয়েছে। হটস্পট শনাক্তকরণ ও আগুন ছড়িয়ে পড়ার স্যাটেলাইট নথি, অগ্নিনির্বাপণ-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সংরক্ষিত এলাকার ভৌগোলিক বিশ্লেষণ পরীক্ষা করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
ফাইলিংয়ে First Resources তাদের অবস্থান তুলে ধরে:
আমরা মনে করি, আগুনের উৎস সম্পর্কে যেকোনো মূল্যায়ন যাচাইকৃত তথ্য, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং সরেজমিন পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধির ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে First Resources-এর দুই সহযোগী প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত জমিতে ধোঁয়াশার ৩০টির বেশি উৎসস্থল শনাক্ত করেছিল Greenpeace। ৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে কোম্পানিটির নাম আসার পর থেকে এর শেয়ারের দর ১০ শতাংশের বেশি কমে ২০ অক্টোবর S$3.74-এ দাঁড়ায়। First Resources বলেছে, আগুনের ঘটনায় তাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।
কোম্পানিটির নীতি ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমের বক্তব্য স্বীকার করলেও এর পক্ষে প্রমাণ চেয়েছেন শানমুগাম। পরিদর্শনের আমন্ত্রণের বিষয়ে NEA-র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ব্যাংক, বিনিয়োগকারী ও সরকারি সুবিধার দিকেও নজর সিঙ্গাপুরের
সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জ সাতটি তালিকাভুক্ত কৃষি কোম্পানির কাছে তথ্য চেয়েছে: Golden Agri-Resources, Bumitama Agri, First Resources, Wilmar International, Kencana Agri, Indofood Agri এবং TSH Resources। তাদের কার্যক্রম এবং আগুন ও ধোঁয়াশার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে।
Kencana Agri জানিয়েছে, তাদের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের জমিতে লাগা আগুন নিয়ে ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। তখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোম্পানিটি বলেছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় ওই সহযোগী প্রতিষ্ঠান জমি পরিষ্কার বা প্রস্তুত করার কোনো কাজ করেনি।
একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শানমুগাম বলেছেন, বড় করপোরেট গোষ্ঠী এবং কনসেশনধারীদের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ যাদের হাতে, তাদের খতিয়ে দেখবে সিঙ্গাপুর। First Resources, Bumitama Agri এবং First Borneo Plantations-এর সঙ্গে ধোঁয়ার উৎসের সম্ভাব্য যোগসূত্রের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
১৯ অক্টোবর উডল্যান্ডস চেকপয়েন্টে শানমুগাম ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে চাপ প্রয়োগ করতে পারে সিঙ্গাপুর:
কোম্পানিগুলো সহযোগিতা করতে অস্বীকার করলে, সিঙ্গাপুরে তাদের উপস্থিতি থাকুক বা না থাকুক, যেখানে চাপ সবচেয়ে কার্যকর হবে সেখানে চাপ দিতে আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি আইনি ও নিয়ন্ত্রক উপায় ব্যবহার করব। এর মধ্যে তাদের মুনাফা, অর্থায়নে প্রবেশাধিকার এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে তাদের অবস্থানও রয়েছে।
ধোঁয়াশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো সরকারি অনুদান বা প্রণোদনা পায় কি না, তা খতিয়ে দেখবে সিঙ্গাপুর। শানমুগাম আরও বলেছেন, কৃষি খাতের ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত ও আইনি ঝুঁকি ব্যাংকগুলোর মূল্যায়ন করা উচিত; ব্যাংকগুলো কীভাবে এসব ঝুঁকি সামলায়, তা তদারক করবে সিঙ্গাপুরের মুদ্রা কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য আইন পরিবর্তনের কোনো সময়সীমা তিনি জানাননি।
মামলা করা কঠিন কেন
THPA অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে ধোঁয়াশাজনিত দূষণ ঘটালে বা তাতে অবদান রাখলে কোনো কোম্পানিকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ S$100,000 জরিমানা করা যায়। প্রতিরোধমূলক নোটিশ না মানলে প্রতিদিন সর্বোচ্চ S$50,000 জরিমানা হতে পারে, যার মোট সীমা S$2 মিলিয়ন। সিঙ্গাপুরে কেউ আহত হলে বা ক্ষতি কিংবা আর্থিক লোকসানের শিকার হলে দেওয়ানি ক্ষতিপূরণ দাবিও করতে পারেন; এ ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের আইন অধ্যাপক অ্যালান তান বলেছেন, ব্যবস্থা কার্যকরের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় প্রমাণ পাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষের সরাসরি অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা ছাড়া সরেজমিন তথ্য তদন্ত ও প্রমাণ করার কোনো উপায় সিঙ্গাপুরের নেই।
তানের ধারণা, ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ নিজেরাই যেসব কোম্পানিকে শনাক্ত করেছে ও অভিযুক্ত করেছে, সিঙ্গাপুর সেগুলোর ওপর নজর দেবে। ফৌজদারি মামলায় সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণ করতে হয়, যার জন্য ওই কঠোর আইনি মানদণ্ড পূরণ করার মতো শক্তিশালী প্রমাণ প্রয়োজন।
২০১৫ সালের অভিজ্ঞতা থেকেই এই কঠিনতার ইঙ্গিত মেলে। NEA ছয়টি কোম্পানিকে নোটিশ দিয়েছিল, ২০১৭ সালে দুটি তদন্ত বন্ধ করে এবং বাকি চারটি খোলা রাখে। সাক্ষাৎকারে হাজির না হওয়া এক পরিচালকের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেওয়ার পর ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশমন্ত্রী বলেছিলেন, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।
মানচিত্র-সংক্রান্ত প্রমাণে প্রবেশাধিকার আরও কঠিন হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয় তাদের Sigap বন মানচিত্র প্ল্যাটফর্ম শুধু দেখার জন্য উন্মুক্ত রেখেছে। লিখিত অনুমতি ছাড়া তথ্য সংগ্রহ করলে সর্বোচ্চ নয় বছর কারাদণ্ড হতে পারে। শানমুগাম আরও বলেছেন, অ্যাটর্নি-জেনারেলের চেম্বার্স পরামর্শ দিয়েছে যে সর্বশেষ নোটিশগুলোতে কারিগরি ও আইনি জটিলতা থাকতে পারে।
অনুমতি, পুনরুদ্ধার ও মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার এই অভিযান সাতটি প্রদেশে প্রায় ১২,৯২৭ হেক্টর জমিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা আগুনের ঘটনায় ৩২টি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে ১৯টির অনুমতি স্থগিত এবং প্রতিবেশব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; আটটি শুধু পুনরুদ্ধারের নির্দেশ পেয়েছে; আর পাঁচটির অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।
এর আগের এক ঘোষণায় ২৬টি অনুমতি স্থগিতের কথা বলা হয়েছিল। সর্বশেষ হিসাবটিতে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরুদ্ধার থেকে শুরু করে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি হারানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
ফৌজদারি কার্যক্রমের আওতায় ১২৫ জন ব্যক্তি ও করপোরেট সত্তা রয়েছে; এর মধ্যে ১২ জন ব্যক্তি ও একটি করপোরেট সত্তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বন আইন প্রয়োগবিষয়ক মহাপরিচালক দ্বি জানুয়ান্তো নুগরোহো বলেছেন, তদন্তকারীরা প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকদের জবাবদিহি খতিয়ে দেখছেন—অর্থাৎ যারা শেষ পর্যন্ত ব্যবসার মালিক বা নিয়ন্ত্রক।
আগের আদালতের মামলাগুলো পরিবেশগত ক্ষতির সম্ভাব্য ব্যয় তুলে ধরে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয় চারটি আগুনের ঘটনায় মোট Rp721 বিলিয়নের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় ঘোষণা করে। একটি রায়ে Rp1.79 ট্রিলিয়ন ব্যয়ে পুনরুদ্ধারের নির্দেশও দেওয়া হয়। এই মামলাগুলো বর্তমান অভিযান থেকে আলাদা।
পুনরুদ্ধারের নির্দেশ, অনুমতি বাতিল এবং নিয়ন্ত্রক জরিমানার কারণে করপোরেট বিমার ঘাটতিও প্রকাশ পেতে পারে। দূষণ পরিষ্কার বা আইনি প্রতিরক্ষার কিছু খরচ বহনকারী বিমা পলিসি থাকলেও আইন অনুযায়ী পুনরুদ্ধারের খরচ কিংবা অনুমতি স্থগিত থাকাকালীন আয় হারানোর দায় কোম্পানির ওপরই থাকতে পারে।
বাসিন্দারা স্বস্তি চাইছেন, বাড়ছে আঞ্চলিক চাপ
ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগেও মামলা করছেন। বারবার ধোঁয়ার ঘটনায় তিনটি পাল্পউড কোম্পানির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে দক্ষিণ সুমাত্রার ১১ জন মামলা করেন। পশ্চিম কালিমান্তানের পন্টিয়ানাকে কয়েকটি সংগঠন সরকার ও প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর বিরুদ্ধে সমষ্টিগত মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ অবহেলা করেছে; তারা জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে, যা স্বাস্থ্যসেবা খরচসহ পুনরুদ্ধারমূলক ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করতে পারে।
প্রেসিডেন্সিয়াল স্টাফ অফিসের প্রধান দুডুং আবদুরাচমান ১৯ অক্টোবর বলেন, আগুনকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়নি। ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, দেশটি এই সংকট সামাল দিতে সক্ষম।
করপোরেট জবাবদিহি নিয়ে মালয়েশিয়াও চাপের মুখে রয়েছে। Kuala Lumpur Kepong-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান PT Menteng Jaya Sawit Perdana পরিচালিত জমিতে ধোঁয়াশার ১৯টি উৎসস্থল শনাক্ত করেছে Greenpeace। Kuala Lumpur Kepong বলেছে, বেশির ভাগ আগুন তাদের কনসেশনের বাইরে থেকে ছড়িয়েছে এবং সেগুলো নেভানো হয়েছে। মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেছেন, সরকারি পরিদর্শনে মালয়েশীয় কোম্পানিগুলোর কনসেশনের বাইরে পোড়া এলাকা পাওয়া গেছে।
পিটভূমির গাছপালা পোড়ানো বন্ধে প্রাবোওর নির্দেশনা এবং বিদেশি সহায়তা অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়েছেন শানমুগাম। সিঙ্গাপুর সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে, আর ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা কারিগরি পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কবে উন্নতি হতে পারে বায়ুমানের?
গ্রেস ফু বলেছেন, অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের শুরুতে মৌসুমি বায়ুর পরিবর্তনকালে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা বেশি। বাতাসের গতি কমে গেলে এবং দিক বেশি পরিবর্তনশীল হলে সুমাত্রা ও কালিমান্তানের ধোঁয়া সিঙ্গাপুরের দিকে বয়ে আসার আশঙ্কা কমবে।
Asean Specialised Meteorological Centre-এর পূর্বাভাস, অক্টোবর ও নভেম্বরে এল নিনোর প্রভাব জোরদার হবে, ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এল নিনো এমন একটি জলবায়ু ধরন, যা বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রায় পরিবর্তন ঘটায়; গাছপালা শুষ্ক হলে আগুন সহজে ছড়াতে পারে। অক্টোবরের শেষ দিকে বৃষ্টি হলে ধোঁয়াশা কমতে শুরু করতে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস, ২০২৬ সালের শেষ দিকে এল নিনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির উপদেষ্টা স্তানিস্লাভ কিম ও সুইন বাং সতর্ক করেছেন, জলসংকট, ফসলের ক্ষতি, আগুন ও প্রচণ্ড গরম জলবায়ুর এই ধরন দুর্বল হওয়ার পরও চলতে পারে।
অর্থনীতিবিদ ইউস্টন কোয়ার প্রাথমিক হিসাবে, ধোঁয়াশার কারণে সিঙ্গাপুরের খরচ S$3.2 বিলিয়ন থেকে S$3.9 বিলিয়ন, যা ২০১৫ সালের S$1.83 বিলিয়নের তুলনায় প্রায় ১.৭ থেকে ২.১ গুণ। কোম্পানিপ্রতি সর্বোচ্চ S$2 মিলিয়ন জরিমানা আনুমানিক জাতীয় ব্যয়ের প্রায় ০.০৫ থেকে ০.০৬ শতাংশের সমান। এতে বোঝা যায়, মামলা, অর্থায়ন ও বাণিজ্যিক চাপের পাশাপাশি এসব উপায়েও সিঙ্গাপুরের আগ্রহ কেন।
মূল বিষয়গুলো
- কালিমান্তানের জমির মালিক তিনটি নতুন প্রতিষ্ঠানসহ ১০টি ইন্দোনেশীয় কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে NEA।
- নোটিশে অগ্নিনির্বাপণ, আগুন লাগানো বন্ধ এবং আগুনের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর পরিকল্পনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- শনাক্ত APP সরবরাহকারীদের মধ্যে চারটি নোটিশ পেয়েছে; দক্ষিণ সুমাত্রার তিন সরবরাহকারীকে APP-র সবুজ সনদের সঙ্গে যুক্ত দৈনিক প্রতিবেদন দিতে হবে।
- First Resources আগুন দিয়ে জমি পরিষ্কারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পরিদর্শন ও কারিগরি পর্যালোচনাকে স্বাগত জানিয়েছে।
- সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি করপোরেট নিয়ন্ত্রণ, অর্থায়ন, বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি এবং সরকারি সুবিধা খতিয়ে দেখছে সিঙ্গাপুর।
- সিঙ্গাপুরের ধোঁয়াশা আইনে মামলা করার ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা ও প্রমাণে প্রবেশাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের শুরুতে আবহাওয়ার পরিবর্তনে স্বস্তি মিলতে পারে; ধোঁয়া কেটে যাওয়ার পরও ব্যবস্থা গ্রহণ চলবে।






