জরিপে বড় ব্যবধান, পূর্বাভাসে অনেক কাছাকাছি লড়াই
২০ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত এক জরিপে ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির প্রার্থী শেন পুমা তাইপের মেয়র চিয়াং ওয়ান-আনের চেয়ে ১৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। তবে একই জরিপে নির্বাচনের পূর্বাভাসে ব্যবধান অনেক কম দেখা গেছে। ভোটার উপস্থিতির কয়েকটি পরিস্থিতিতে বর্তমান মেয়র অল্প ব্যবধানে জয়ী হতে পারেন।
সূচিপত্র
- জরিপে বড় ব্যবধান, পূর্বাভাসে অনেক কাছাকাছি লড়াই
- সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরে কী বদলেছে?
- ডিপিপির বাইরেও শেনের সমর্থন বেড়েছে
- তাইপের বিভিন্ন এলাকায় চিয়াংয়ের ওপর চাপের ইঙ্গিত
- তরুণ ভোটারদের সমর্থনে বড় পরিবর্তন, কিছু গোষ্ঠীতে এগিয়ে চিয়াং
- পূর্বাভাসে ভোট দেওয়ার আগ্রহ কেন গুরুত্বপূর্ণ
- নমুনার ওজন নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক
- যোগ্যতা, দল বদল এবং প্রচারশিবিরগুলোর প্রতিক্রিয়া
- রাজধানীর বাইরেও ছড়াচ্ছে উদ্দীপনা
- মূল বিষয়গুলো
তাইপে সিনমিন ক্রস-স্ট্রেইট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের করানো জরিপে শেনের সমর্থন ৫০.৩% এবং কুওমিনতাঙের চিয়াংয়ের ৩৩.৩%। এক মাস আগে চিয়াং ৪১.৭% বনাম ৪০.৫% সমর্থনে এগিয়ে ছিলেন। ফলে অ্যাসোসিয়েশনের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের জরিপের মধ্যে দুই প্রার্থীর ব্যবধান শেনের পক্ষে ১৮.২ শতাংশ পয়েন্ট সরে গেছে।
জরিপ-প্রণেতা ও বিশ্লেষক তাই লি-আন ভোটের দিনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও সতর্ক চিত্র দিয়েছেন। ভোট দেওয়ার ইচ্ছা, সেই সিদ্ধান্তে অঙ্গীকারের মাত্রা এবং আগের নির্বাচনের ফল বিবেচনায় নেওয়া তাঁর হিসাব অনুযায়ী, শেনের সম্ভাব্য ভোটের হার ৪৯.২% থেকে ৫২.৯% এবং চিয়াংয়ের ৪৬.৯% থেকে ৪৯.৯%।
অ্যাসোসিয়েশনের বিস্তারিত উপস্থাপনায় দেখা যায়, চিয়াং ০.৭ শতাংশ পয়েন্টে জিততে পারেন, আবার শেনও প্রায় ছয় পয়েন্টে জিততে পারেন। অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুয়াং চিং-লুং ব্যবধানটিকে মোটামুটিভাবে এভাবে বর্ণনা করেছেন: শেন প্রায় সাত পয়েন্টে এগিয়ে থাকতে পারেন, অথবা প্রায় এক পয়েন্টে পিছিয়ে পড়তে পারেন। দুই বর্ণনাতেই পূর্বাভাসের লড়াইটি শিরোনামে দেখানো সমর্থনের ব্যবধানের চেয়ে অনেক কাছাকাছি।
মূল প্রশ্ন হলো, জরিপে কারা সাড়া দেন, কারা প্রকাশ্যে নিজেদের পছন্দ জানান, আর ২৮ নভেম্বর কারা সত্যিই ভোট দিতে যান। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মিল থাকলেও তারা এক নয়। এ কারণেই জরিপে কোনো প্রার্থী বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মুখে পড়তে পারেন।
সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরে কী বদলেছে?
সেপ্টেম্বরে শেনের সমর্থন ছিল ৪০.৫%; সেখান থেকে তিনি ৯.৮ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়েছেন। অন্যদিকে, চিয়াংয়ের সমর্থন ৪১.৭% থেকে ৮.৪ পয়েন্ট কমেছে। হুয়াং বলেন, মে মাসে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার পর অক্টোবরে এই প্রথম শেন জরিপে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে গেলেন।
বাকি উত্তরগুলোতে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উত্তরদাতা এখনও দুই প্রধান শিবিরের বাইরে রয়েছেন। আরও ১২.২% কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি, আর ৩.০% বলেছেন, তাঁরা ভোট দেবেন না বা বাতিল ভোট দেবেন। অন্য চার প্রার্থী প্রত্যেকে ১%-এর কম সমর্থন পেয়েছেন: স্বতন্ত্র প্রার্থী লিন চিহ-চেং ০.৭%, কুও শি ০.৪% এবং তাং সিন-মিন ও সিয়াও ওয়েন-চিয়েন প্রত্যেকে ০.১%।
সাম্প্রতিক প্রচারাভিযানের ঘটনাক্রম:
- ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর: অ্যাসোসিয়েশন প্রথম জরিপটি পরিচালনা করে; ১,০৭৬ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
- ২২ সেপ্টেম্বর: ফলাফলে চিয়াংয়ের সমর্থন ছিল ৪১.৭% এবং শেনের ৪০.৫%।
- ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর: সাক্ষাৎকারগ্রহীতারা দ্বিতীয় জরিপটি পরিচালনা করেন; মোট ১,০৭৫টি সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয়।
- ২০ অক্টোবর: অ্যাসোসিয়েশন নতুন ফল প্রকাশ করে; শেনের সমর্থন ৫০.৩% এবং চিয়াংয়ের ৩৩.৩%।
- ২৮ নভেম্বর: তাইওয়ানের স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কথা ভোটারদের।
২০ অক্টোবর শেন বলেন, ভোটের আগে বাকি ৩৯ দিনে জনমত দ্রুত বদলাতে পারে। তিনি বলেন, সমর্থন বা জনপ্রিয়তার পরিসংখ্যানের চেয়ে বাসিন্দারা তাঁদের নীতির সঙ্গে কতটা একাত্ম বোধ করছেন, তা নিয়েই তাঁর দলের বেশি ভাবনা।
ডিপিপির বাইরেও শেনের সমর্থন বেড়েছে
হুয়াংয়ের মতে, তাইওয়ান পিপলস পার্টির সমর্থক এবং কোনো দলের প্রতি দৃঢ় পক্ষপাত নেই এমন ভোটারদের সমর্থন শেনের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দুই জরিপের মধ্যে উভয় গোষ্ঠীর সমর্থন তাঁর দিকে ঝুঁকেছে, যদিও তাইওয়ান পিপলস পার্টির সমর্থকদের মধ্যে চিয়াং এখনও এগিয়ে।
তাইওয়ান পিপলস পার্টির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেওয়া উত্তরদাতাদের মধ্যে শেনের সমর্থন সেপ্টেম্বরে ১.৬% থেকে অক্টোবরে বেড়ে ১৯.০% হয়েছে, অর্থাৎ ১৭.৪ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। ওই গোষ্ঠীতে চিয়াংয়ের সমর্থন ৮৮.৫% থেকে কমে ৬৩.৮% হয়েছে, অর্থাৎ ২৪.৭ পয়েন্ট কমেছে।
যাঁরা নিজেদের নিরপেক্ষ বলেছেন অথবা দল নয়, প্রার্থী বেছে নেওয়ার কথা বলেছেন, তাঁদের মধ্যে শেনের সমর্থন ৮.৩ পয়েন্ট বেড়ে ৩৪.২% হয়েছে। চিয়াংয়ের সমর্থন ৮.৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২২.৯%। ফলে ওই গোষ্ঠীতে শেন ১১.৩ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।
হুয়াং শেনের সমর্থন বৃদ্ধির বড় অংশের কৃতিত্ব নিরপেক্ষ ভোটার এবং কুওমিনতাঙ শিবিরের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে দুর্বল সম্পর্ক রয়েছে এমন কিছু মানুষের বলে মনে করেন। তাইও বলেন, চিয়াংয়ের শক্তিশালী দলীয় সমর্থনভিত্তিতে খুব বেশি বদল আসেনি, তবে ওই শিবিরের প্রতি ঝোঁক থাকা অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থী ভোটারদের সমর্থন কমছে।
তাইপের বিভিন্ন এলাকায় চিয়াংয়ের ওপর চাপের ইঙ্গিত
তাইপে সিটি কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য ব্যবহৃত ছয়টি এলাকাভিত্তিক গোষ্ঠীর সব কটিতেই শেন এগিয়ে ছিলেন। ঝংশান ও দাতংয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় ব্যবধান ছিল: সেখানে তিনি ৫৬.২% সমর্থন পেয়েছেন, চিয়াং পেয়েছেন ২৩.৬%; ব্যবধান ৩২.৬ শতাংশ পয়েন্ট।
কুওমিনতাঙের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সংশান ও সিনিয়িতেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। চিয়াংয়ের সমর্থন ৪৮.৭% থেকে কমে ৩৪.৯% হয়েছে, আর শেনের সমর্থন ২৪.৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২.৭%। ঝংশান ও দাতংয়ে চিয়াং ১৫.৭ পয়েন্ট হারিয়েছেন এবং শেন ১৫.১ পয়েন্ট পেয়েছেন।
ছয়টি এলাকাভিত্তিক গোষ্ঠীতে অক্টোবরের ফল:
- ঝংশান ও দাতং: শেন ৫৬.২%, চিয়াং ২৩.৬%।
- ঝংশেং ও ওয়ানহুয়া: শেন ৫১.৭%, চিয়াং ৩৩.১%।
- সংশান ও সিনিয়ি: শেন ৫২.৭%, চিয়াং ৩৪.৯%।
- নেইহু ও নানগাং: শেন ৪৯.৬%, চিয়াং ৩২.৩%।
- বেইতো ও শিলিন: শেন ৪৬.৬%, চিয়াং ৩৩.৩%।
- দা-আন ও ওয়েনশান: শেন ৪৭.৬%, চিয়াং ৩৯.২%।
দা-আন ও ওয়েনশানে ব্যবধান সবচেয়ে কম, ৮.৪ পয়েন্ট। শহরজুড়ে ফলাফলের এই বিস্তৃতি দুই প্রচারশিবিরকেই নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে: বিভিন্ন এলাকায় চিয়াংয়ের সমর্থন কমছে, আর শেনকে ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত জরিপ-সমর্থনকে প্রকৃত ভোটে রূপান্তর করতে হবে।
তরুণ ভোটারদের সমর্থনে বড় পরিবর্তন, কিছু গোষ্ঠীতে এগিয়ে চিয়াং
২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী উত্তরদাতাদের মধ্যে বয়সভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। শেনের সমর্থন সেপ্টেম্বরে ৪২.৮% থেকে অক্টোবরে বেড়ে ৭১.৬% হয়েছে, আর চিয়াংয়ের সমর্থন ৩৭.৩% থেকে কমে ১০.৫% হয়েছে। শেনের সমর্থন বেড়েছে ২৮.৮ শতাংশ পয়েন্ট; চিয়াংয়ের কমেছে ২৬.৮ পয়েন্ট।
৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যেও শেন এগিয়ে ছিলেন; তাঁর সমর্থন ৬০.২%, চিয়াংয়ের ৩২.৫%। ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার যথাক্রমে ৪৬.৫% ও ৩৬.৯%। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী উত্তরদাতাদের মধ্যে ১০ পয়েন্টের বেশি বৃদ্ধির পর শেনের সমর্থন দাঁড়িয়েছে ৪৬.৬%।
৫০ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে চিয়াং এগিয়ে ছিলেন; তাঁর সমর্থন ৪২.৪%, শেনের ৩৭.৯%। উচ্চমাধ্যমিক বা বৃত্তিমূলক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এমন উত্তরদাতাদের মধ্যেও তিনি ৪৬.৪% বনাম ৪০.৮% সমর্থনে এগিয়ে ছিলেন।
নারীদের মধ্যে শেন ৫০.০% বনাম ৩১.৮% সমর্থনে এগিয়ে ছিলেন। সেপ্টেম্বরের তুলনায় নারীদের মধ্যে তাঁর সমর্থন ১১.৯ পয়েন্ট বেড়েছে, আর চিয়াংয়ের কমেছে ১০.৫ পয়েন্ট। এই পরিসংখ্যান জরিপের তুলনামূলকভাবে ছোট গোষ্ঠীগুলোর, তাই পুরো নমুনার তুলনায় এগুলোর হিসাবে নমুনাজনিত অনিশ্চয়তা বেশি।
পূর্বাভাসে ভোট দেওয়ার আগ্রহ কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রায় প্রতি পাঁচজন উত্তরদাতার চারজন, অর্থাৎ ৭৯.৭%, বলেছেন তাঁরা নিশ্চিতভাবে ভোট দেবেন; আরও ১২.৯% বলেছেন, ভোট দিতে পারেন। সব মিলিয়ে ৯২.৬% অন্তত কিছুটা ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। হুয়াং অনুমান করেছেন, প্রকৃত ভোটার উপস্থিতি ৭০% ছাড়াতে পারে।
নিশ্চিতভাবে ভোট দেবেন বলেছেন এমন উত্তরদাতাদের মধ্যে শেন ৫৬.৭% এবং চিয়াং ৩৫.২% সমর্থন পেয়েছেন; ব্যবধান ২১.৫ শতাংশ পয়েন্ট। এ কারণে অ্যাসোসিয়েশনের পূর্বাভাসে নির্বাচনী লড়াই অনেক কাছাকাছি দেখা যাওয়াটা বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
তাই বলেন, রাজনৈতিক জরিপে সাড়া দিতে আগ্রহী মানুষের সাধারণত রাজনৈতিক আগ্রহ এবং মতামত জানানোর ইচ্ছা, সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়নি এমন মানুষের চেয়ে বেশি থাকে। তাই তাঁর পূর্বাভাসে উত্তরদাতাদের প্রকাশ করা পছন্দের পাশাপাশি ভোটদানে অংশগ্রহণ এবং জরিপে সাড়া না দেওয়া মানুষদেরও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
হুয়াং ও তাই প্রকাশ্যে মত জানানোর আগ্রহে পরিবর্তনের কথাও বলেছেন। তাঁদের যুক্তি, রাজনৈতিক পরিবেশ ডিপিপি শিবিরের সমর্থকদের নিজেদের অবস্থান জানাতে আরও আগ্রহী করেছে, অন্যদিকে কিছু কুওমিনতাঙ সমর্থক আগের চেয়ে নীরব হয়েছেন।
তাঁরা একে নীরবতার সর্পিল প্রক্রিয়া বলেছেন। এর অর্থ, কোনো রাজনৈতিক পক্ষ চাপের মধ্যে আছে বলে যাঁরা মনে করেন, তাঁরা নিজেদের পছন্দ জানাতে কম আগ্রহী হতে পারেন। তবু জরিপে পাঁচজনের চারজনের বেশি উত্তরদাতা তাঁদের অবস্থান জানিয়েছেন। তুলনামূলকভাবে নীরব ভোটার কতজন এবং তাঁরা কীভাবে ভোট দেবেন, তা এখনও অনিশ্চিত।
নমুনার ওজন নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক
কুওমিনতাঙের নেতারা জরিপের নমুনার গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নিউ তাইপে সিটি কাউন্সিল নির্বাচনের প্রার্থী তেং কাই-শুন বলেন, ডিপিপি শিবিরের সঙ্গে যুক্ত উত্তরদাতার সংখ্যা কুওমিনতাঙ শিবিরের সঙ্গে যুক্তদের চেয়ে ১৫.৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। লিঙ্গ, নির্বাচনী এলাকা, বয়স ও শিক্ষার ভিত্তিতে সমন্বয় করা হলেও দলীয় পছন্দের ভিত্তিতে সমন্বয় না করায় তিনি সমালোচনা করেন।
ওজন নির্ধারণ বলতে চূড়ান্ত হিসাবের মধ্যে বিভিন্ন উত্তরের প্রভাব কতটা হবে, তা পরিবর্তন করাকে বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ, জনসংখ্যায় কোনো বয়সী গোষ্ঠীর অনুপাতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে জরিপে সেই গোষ্ঠীর উত্তরকে সমন্বয় করা যেতে পারে। এখানে বিতর্ক হলো, দলীয় পছন্দকেও কোনো নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে মেলানো উচিত কি না।
ওই বছর পরিচালিত টিভিবিএসের দুটি জরিপে দলীয় পছন্দের যে অনুপাত পাওয়া গিয়েছিল, তা ব্যবহার করে একটি হিসাব করলে শিরোনামের ফল উল্টে যায়: চিয়াং সাত পয়েন্টে এগিয়ে থাকেন। এটি কাছাকাছি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেওয়া ভোটার উপস্থিতিভিত্তিক হিসাব থেকে আলাদা।
তাইয়ের যুক্তি, দলীয় পছন্দের ভিত্তিতে ওজন নির্ধারণ করলে জনমত বিকৃত হতে পারে এবং নির্বাচনী লড়াইয়ের ভুল ব্যাখ্যা তৈরি হতে পারে। প্রচারাভিযানের সময় দলীয় পরিচয় নিজেই বদলাতে পারে, ফলে স্থির কোনো মানদণ্ড বেছে নেওয়ার প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্নমালা তৈরি ও ফল বিশ্লেষণের জন্য অ্যাসোসিয়েশন তাইকে নিয়োগ করে; সাক্ষাৎকার নেয় বীকন মার্কেট রিসার্চ। অক্টোবরের জরিপে তাইপে শহরে পরিবারের নিবন্ধন রয়েছে এমন ২০ বছর বা তার বেশি বয়সী বাসিন্দাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১,০৭৫টি সাক্ষাৎকারের মধ্যে ৭৫৩টি আবাসিক টেলিফোনে এবং ৩২২টি মোবাইল ফোনে নেওয়া হয়; অনুপাত প্রায় ৭০% ও ৩০%। জরিপে সর্বোচ্চ নমুনাজনিত ত্রুটির সীমা বলা হয়েছে প্লাস-মাইনাস তিন শতাংশ পয়েন্ট।
যোগ্যতা, দল বদল এবং প্রচারশিবিরগুলোর প্রতিক্রিয়া
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত কি না, এ প্রশ্নেও শেন এগিয়ে ছিলেন। মোট ৫৬.৬% তাঁকে উপযুক্ত এবং ২৭.৫% অনুপযুক্ত বলেছেন। চিয়াংকে উপযুক্ত মনে করেছেন ৪১.২%, আর অনুপযুক্ত বলেছেন ৪৬.৮%।
সেপ্টেম্বরের তুলনায় শেনের উপযুক্ততার মূল্যায়ন ১০.৪ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে, আর চিয়াংয়ের কমেছে ৮.৮ পয়েন্ট। হুয়াং বলেন, প্রার্থীর উপযুক্ততা সম্পর্কে মূল্যায়ন ও ভোট দেওয়ার পছন্দ পরস্পর সম্পর্কিত হলেও এগুলো ভিন্ন বিষয় মাপে।
তাইপে কোন দলের শাসন করা উচিত—এ প্রশ্নে ৪৮.৭% ডিপিপিকে একবার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন, আর ৩১.৭% কুওমিনতাঙের প্রশাসন অব্যাহত রাখার পক্ষে। সেপ্টেম্বরে এই হার ছিল যথাক্রমে ৪২.০% ও ৩৮.০%। অক্টোবরে নিশ্চিতভাবে ভোট দেবেন এমন উত্তরদাতাদের মধ্যে ডিপিপির শাসনের পক্ষে মত বেড়ে ৫৪.৭% হয়েছে; কুওমিনতাঙের পক্ষে এই হার ৩২.৬%।
কুওমিনতাঙের প্রতিনিধিরা শেন ও ডিপিপির নিউ তাইপে মেয়র প্রার্থী সু চিয়াও-হুইকে অঙ্গীকারের প্রমাণ হিসেবে আইনসভার আসন থেকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান। অ্যাসোসিয়েশনের আগের এক জরিপে সু ১৩ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। নিউ তাইপে কাউন্সিলের প্রার্থী হো ইউয়ান-কাই অভিযোগ করেন, ডিপিপির আত্মবিশ্বাস বাড়াতে, কুওমিনতাঙ সমর্থকদের নিরুৎসাহিত করতে এবং নিরপেক্ষ ভোটারদের প্রভাবিত করতে অ্যাসোসিয়েশন জরিপ ব্যবহার করছে।
চিয়াং বলেন, তাঁর প্রচারশিবির পরিকল্পনা ও কর্মসূচির গতি বজায় রাখবে। তাঁর প্রচার সদর দপ্তরের প্রধান, তাইচুংয়ের মেয়র লু শিউ-ইয়েনকে জরিপে দুর্বল অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তথ্যটি তিনি দেখেননি; আরও কিছু জানানোর মতো হলে মন্তব্য করবেন।
রাজধানীর বাইরেও ছড়াচ্ছে উদ্দীপনা
ডিপিপির প্রচারশিবিরের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, শেনকে ঘিরে উদ্দীপনা থেকে আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি হয়েছে। তাঁর চীনা নামের একটি অক্ষরের সূত্রে এই প্রভাবকে ‘ইয়াং কারেন্ট’ নামে ডাকা হচ্ছে। দলের অভ্যন্তরীণ হিসাবে, কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব অন্তত ছয় শতাংশ পয়েন্ট।
ওই মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নিউ তাইপেতে সু-র প্রচারাভিযান আরও স্থিতিশীল ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার দিকে রয়েছে; কিলুং ও তাইচুংয়ের লড়াই প্রায় সমানে এসে দাঁড়িয়েছে। তাইতুং, তাইয়ুয়ান ও সিনচু সিটিতেও পরিস্থিতির উন্নতি এবং কাওশিউংয়ে ডিপিপির প্রার্থী লাই রুই-লুংয়ের ব্যবধান বাড়ার কথাও সেখানে বলা হয়েছে। ছয় পয়েন্টের হিসাবটি অভ্যন্তরীণ প্রচারমূলক মূল্যায়ন থেকে এসেছে, তাইপের টেলিফোন জরিপ থেকে নয়।
ডিপিপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্যান্য এলাকার প্রার্থীরা তাইপেতে শেনের সঙ্গে প্রচারে অংশ নেবেন, যাতে তাঁকে নিয়মিত ভ্রমণের বদলে রাজধানীতেই মনোযোগ দিতে হয়। ১৪ অক্টোবরের এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে দলীয় কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেন, জরিপের সংখ্যা আর নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোট এক বিষয় নয়। দলটির মহাসচিব সু কুও-ইয়ুং সতর্ক ও বিনয়ী থাকার আহ্বান জানান।
১১ থেকে ১৬ অক্টোবর পরিচালিত একটি স্বেচ্ছামূলক অনলাইন ভোটেও শেনের প্রতি সমর্থনের উদ্দীপনা দেখা গেছে: তিনি ২,৮৩৩ ভোট বা ৫৬.১% পেয়েছেন, চিয়াং পেয়েছেন ২,০৯২ ভোট বা ৪১.৫%। অংশগ্রহণকারীরা স্বেচ্ছায় ওই ভোটে যোগ দিয়েছিলেন, যা তাইপের বাইরের মানুষের জন্যও উন্মুক্ত ছিল। তাই এর শতাংশ শুধু অংশগ্রহণকারীদের পছন্দই তুলে ধরে। অন্যদিকে, অ্যাসোসিয়েশনের টেলিফোন জরিপে তাইপের নিবন্ধিত বাসিন্দাদের নমুনায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দিন ২৮ নভেম্বর। নিরপেক্ষ এবং বিরোধী দলমুখী যেসব উত্তরদাতা তাঁর দিকে ঝুঁকেছেন, তাঁদের সমর্থন ধরে রাখতে হবে শেনকে। চিয়াংয়ের কাজ হলো সমর্থন ফিরে পাওয়া এবং কম সোচ্চার সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা। অ্যাসোসিয়েশনের নিজস্ব মডেলিং অনুযায়ী, দুই প্রচারশিবিরেরই লড়াই করার মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী মাঠ রয়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- অক্টোবরে টেলিফোন জরিপে শেনের সমর্থন ছিল ৫০.৩% এবং চিয়াংয়ের ৩৩.৩%; সেপ্টেম্বরে চিয়াংয়ের অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থাকার চিত্র উল্টে গেছে।
- ভোটার উপস্থিতির হিসাব নির্বাচনী লড়াইকে আরও কাছাকাছি দেখিয়েছে; এতে চিয়াং ০.৭ শতাংশ পয়েন্টে জেতার সম্ভাবনাও রয়েছে।
- নিরপেক্ষ ভোটার, তাইওয়ান পিপলস পার্টির সমর্থক, নারী এবং তরুণ উত্তরদাতাদের মধ্যে শেনের সমর্থন বেড়েছে।
- ৫০ থেকে ৫৯ বছর বয়সী উত্তরদাতা এবং তাইওয়ান পিপলস পার্টির সমর্থকদের মধ্যে চিয়াং এগিয়ে রয়েছেন।
- দলীয় পছন্দের ভিত্তিতে নমুনার ওজন নির্ধারণ নিয়ে বিতর্কে সমর্থনের হিসাব অনেক আলাদা হয়েছে।
- ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর জরিপে তাইপের ১,০৭৫ জন বাসিন্দার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে; সর্বোচ্চ নমুনাজনিত ত্রুটির সীমা বলা হয়েছে তিন শতাংশ পয়েন্ট।
- ভোট হওয়ার কথা ২৮ নভেম্বর ২০২৬।






