ফেডারেল আদালতে পাঁচ প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে মামলা
১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। সম্ভাব্য জরিমানার পরিমাণ এখন ১০৯.২ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার। ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর সিডনিতে যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেন, পাঁচটি প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধেই মামলা হবে বলে তিনি আশা করছেন।
সূচিপত্র
- ফেডারেল আদালতে পাঁচ প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে মামলা
- আইনে কোম্পানিগুলোর করণীয়
- তদন্তে শুধু অ্যাকাউন্টের সংখ্যাই দেখা হচ্ছে না
- দুটি গবেষণায় অ্যাকাউন্ট কমার চিত্র, তবে পরিমাপ ভিন্ন
- বয়স যাচাই না থাকায় অ্যাকাউন্ট চালু ছিল
- বাড়তি ক্ষমতা, জরিমানার সর্বোচ্চ সীমাও বেশি
- বিধিনিষেধ ও তদন্ত যেভাবে এগিয়েছে
- পরিবারের ভাষ্য, চাপ কমেছে; কিছু সম্পর্কেও ছেদ পড়েছে
- বয়স যাচাইয়ে গোপনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে
- মূল বিষয়গুলো
পরিকল্পিত এই পদক্ষেপের আগে কয়েক মাস ধরে তদন্ত করেছেন ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট। জুলাইয়ে প্রকাশিত এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার আগে যেসব শিশুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট ছিল, তাদের বেশির ভাগই তা চালু রাখতে পেরেছে অথবা কার্যকরের তিন মাস পর নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেছে। এর প্রধান কারণ ছিল কার্যকর বয়স যাচাইব্যবস্থার অভাব।
২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। এতে ১৬ বছরের কম বয়সী অস্ট্রেলীয়দের অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে যুক্তিসংগত পদক্ষেপ নিতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে বলা হয়েছে। শিশু, অভিভাবক ও পরিচর্যাকারীদের কোনো জরিমানা করা হবে না। দায় থাকবে পরিষেবাগুলো পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর ওপর।
ওয়েলস বলেন, ফেডারেল আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রমাণ সংগ্রহে ইনম্যান গ্রান্ট সম্প্রসারিত তদন্তক্ষমতা ব্যবহার করছেন। এসব ক্ষমতাবলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোম্পানির নথি তলব করতে পারে এবং বর্তমান বা সাবেক কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বাধ্য করতে পারে।
কমিশনারের বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে ওয়েলস বলেন:
এখন ওই পাঁচটি কোম্পানিকে ফেডারেল আদালতে নিতে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের আরও ক্ষমতা তাঁর আছে," ওয়েলস বলেন। "নিজের মামলা প্রস্তুত করতে তিনি এখন সেই ক্ষমতা ব্যবহার করছেন।
মামলা দায়েরের কোনো তারিখ জানানো হয়নি। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটা এবং ই-সেফটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। স্ন্যাপ, টিকটক, এর মালিক বাইটড্যান্স এবং ইউটিউবের মূল কোম্পানি গুগলও মন্তব্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।
আইনে কোম্পানিগুলোর করণীয়
আইনি বাধ্যবাধকতাটি এসেছে ২০২৪ সালের নভেম্বরে পাস হওয়া অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট ২০২১-এর সংশোধনী থেকে। সরকারের ন্যূনতম বয়সসংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে যুক্তিসংগত পদক্ষেপ নিতে হবে।
আদালতে মামলা হলে ই-সেফটিকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে, কোনো কোম্পানি কী ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করে, কী কী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তাদের আছে, সেগুলো কতটা কার্যকর, কত ব্যয়বহুল এবং সেগুলোর অন্য কী প্রভাব রয়েছে। সহজ কথায়, বয়সসীমা কার্যকর করতে কোম্পানিটি উপযুক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা তৈরি ও পরিচালনা করেছে কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।
সরকারের সংজ্ঞায় এমন পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত, যেগুলো সামাজিক যোগাযোগ, ব্যবহারকারীদের মধ্যে সংযোগ এবং কনটেন্ট পোস্ট করার সুযোগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। অ্যাকাউন্টভিত্তিক সুপারিশ, অন্তহীন স্ক্রলিং, দৃশ্যমান লাইক এবং মুছে যাওয়া স্টোরির মতো সুবিধাও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ২৯ জুলাই করা বিধিতে বার্তা আদান-প্রদান, অনলাইন গেমিং, পেশাগত যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সহায়তাসহ নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণিকে বাদ রাখা হয়েছে। শিশুরা এসব পরিষেবা ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবে। অ্যাকাউন্টসংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার আগে, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ই-সেফটি শিল্প খাতের জন্য নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা প্রকাশ করে।
তদন্তে শুধু অ্যাকাউন্টের সংখ্যাই দেখা হচ্ছে না
ই-সেফটির মার্চের বিধিপালনসংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে পাঁচটি তদন্তের লক্ষ্য হিসেবে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ১০টি প্ল্যাটফর্মকে তথ্য সংগ্রহের জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক ২৩টি নোটিশ দিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বৃহত্তর এই তালিকায় কিক, রেডিট, থ্রেডস, টুইচ ও এক্সও ছিল। মার্চের শুরুর দিকে ৩ লাখ ১০ হাজারের বেশি অতিরিক্ত অ্যাকাউন্টকে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। এটি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা; একটি শিশুর একাধিক পরিষেবায় অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে।
কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থা কীভাবে নকশা করা ও কার্যকর করা হয়েছে, তা যাচাই করছিলেন তদন্তকারীরা। তাঁরা পরিষেবাগুলো পরীক্ষা করছিলেন এবং আগে পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করছিলেন। বয়স যাচাই প্রযুক্তির সরবরাহকারী ও প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে গবেষণা এবং আলোচনার কথাও জানিয়েছে ই-সেফটি।
মার্চের প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে অন্তত কিছু প্রয়োগমূলক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। জুলাইয়ে ই-সেফটি জানায়, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং শিল্প খাতে কিছু উন্নতি সত্ত্বেও পাঁচটি প্ল্যাটফর্ম নিয়েই উদ্বেগ রয়েছে।
দুটি গবেষণায় অ্যাকাউন্ট কমার চিত্র, তবে পরিমাপ ভিন্ন
ই-সেফটির মার্চের বিধিপালনসংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে করা একটি জরিপের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ৮ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুর ৮৯৮ জন অভিভাবক ও পরিচর্যাকারী অংশ নেন। তাঁদের তথ্যে, বিধিনিষেধের আগে অ্যাকাউন্ট থাকার হার ছিল ৪৯.৭ শতাংশ, পরে তা নেমে দাঁড়ায় ৩১.৩ শতাংশে; কমেছে ১৮.৪ শতাংশ পয়েন্ট।
৩১ জুলাই প্রকাশিত পৃথক এক মূল্যায়নে মার্চে সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহার করা হয়। ওই গবেষণায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের অ্যাকাউন্ট থাকার হার ৫২.৪ শতাংশ থেকে কমে ৪২.১ শতাংশ হয়েছে বলে দেখা যায়; কমেছে ১০.৩ শতাংশ পয়েন্ট। জরিপ দুটিতে অংশ নেওয়া গোষ্ঠী ও তথ্য সংগ্রহের সময় আলাদা ছিল। তাই এগুলো শুরুর দিকের মাসগুলোর ভিন্ন ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
জুলাইয়ের মূল্যায়নসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাকাউন্ট থাকুক বা না থাকুক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের হারও তুলে ধরা হয়েছে। বাস্তবায়নের আগে এই হার ছিল ৮৫.৯ শতাংশ। তিন মাস পর তা কমে দাঁড়ায় ৮১.৫ শতাংশে; কমেছে ৪.৪ শতাংশ পয়েন্ট।
ব্যবহারের হারে এই তুলনামূলক কম পরিবর্তন পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাকাউন্ট থাকা আর কনটেন্ট দেখার সুযোগ পাওয়া এক বিষয় নয়, আর আইনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্ট ঠেকানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মূল্যায়নের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রথম তিন মাসেও শিশুদের জীবনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় জায়গা ছিল।
বয়স যাচাই না থাকায় অ্যাকাউন্ট চালু ছিল
আগের জরিপে অংশ নেওয়া অভিভাবকেরা বিধি কার্যকরে বড় ধরনের ঘাটতির কথা জানিয়েছেন। যেসব শিশুর অ্যাকাউন্ট চালু ছিল, তাদের অভিভাবকদের ৬৬.৮ শতাংশ বলেছেন, প্ল্যাটফর্মটি তখনও শিশুর বয়স যাচাই করতে বলেনি। অ্যাকাউন্ট চালু থাকার ক্ষেত্রে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রচলিত ব্যাখ্যা।
যেসব অভিভাবক বলেছেন, ১০ ডিসেম্বরের আগে তাঁদের সন্তানের নির্দিষ্ট কোনো পরিষেবায় অ্যাকাউন্ট ছিল, তাঁদের মধ্যে অ্যাকাউন্টটি চালু থাকার কথা জানিয়েছেন ফেসবুকের ক্ষেত্রে ৬৩.৬ শতাংশ, ইনস্টাগ্রামে ৬৯.১ শতাংশ, স্ন্যাপচ্যাটে ৬৯.৪ শতাংশ এবং টিকটকে ৬৯.৩ শতাংশ। ইউটিউবের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৪৮.৫ শতাংশ।
এই হারগুলো প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে আগে অ্যাকাউন্ট থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইউটিউব ছাড়া অন্য চারটি পরিষেবায় প্রায় প্রতি তিন শিশুর মধ্যে দুজন বা তার বেশি অ্যাকাউন্ট চালু রেখেছিল; ইউটিউবে এ হার ছিল প্রায় অর্ধেক।
প্রথম তিন মাসে ন্যূনতম বয়সসংক্রান্ত ই-সেফটির অভিযোগ জানানোর ফরমে ৭৬০টির বেশি অভিযোগও জমা পড়ে। বারবার উঠে আসা উদ্বেগের মধ্যে ছিল শিশুদের অ্যাকাউন্ট চালু রাখা বা আবার চালু করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরও প্ল্যাটফর্মগুলোর তেমন ব্যবস্থা না নেওয়া।
বাড়তি ক্ষমতা, জরিমানার সর্বোচ্চ সীমাও বেশি
ওয়েলসের ভাষ্য অনুযায়ী, বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর সরকার সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করে ১০৯.২ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারে উন্নীত করেছে। সরকারের বর্তমান নির্দেশিকায় এই অঙ্ক উল্লেখ রয়েছে, তবে ই-সেফটির মার্চের প্রতিবেদনে আগের সর্বোচ্চ সীমা ৪৯.৫ মিলিয়ন ডলার বলা হয়েছিল। প্রয়োগব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশিত নির্দেশিকার প্রতিফলন এই অঙ্কগুলো।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির হাতে প্রয়োগমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কয়েকটি উপায় রয়েছে। মার্চের প্রতিবেদনে জনসাধারণকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া, আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অঙ্গীকার গ্রহণ, লঙ্ঘনের নোটিশ দেওয়া, আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং দেওয়ানি জরিমানার আবেদন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অঙ্গীকার হলো কোম্পানির দেওয়া এমন প্রতিশ্রুতি, যা আদালতের মাধ্যমে কার্যকর করা যায়। নিষেধাজ্ঞা হলো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া বা তা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে আদালতের আদেশ।
ওয়েলস বলেন, ইনম্যান গ্রান্টের মামলা প্রস্তুতির প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহে সম্প্রসারিত ক্ষমতাগুলো এখন সহায়তা করছে। ই-সেফটি একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যা যোগাযোগমন্ত্রীর মাধ্যমে সংসদের কাছে জবাবদিহি করে।
১৫ অক্টোবর ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে ওয়েলস বলেন, বিধি মানার বিষয়ে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে সরকার:
প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে আমরা পিছপা হব না।
বিধিনিষেধ ও তদন্ত যেভাবে এগিয়েছে
পরিকল্পিত মামলার আগে প্রায় এক বছর ধরে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে এবং কয়েক ধাপে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। জুলাইয়ে প্রকাশিত ফলাফলে কেন মার্চের শিশুদের অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, তাও এই ধারাবাহিকতায় স্পষ্ট।
- নভেম্বর ২০২৪: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ন্যূনতম বয়সসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা চালু করতে সংসদ অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট ২০২১ সংশোধন করে।
- ২৯ জুলাই ২০২৫: যোগাযোগমন্ত্রী পরিষেবার কোন কোন শ্রেণি বাদ থাকবে, তা নির্দিষ্ট করে বিধি জারি করেন।
- ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫: বিধি মানতে কী কী যুক্তিসংগত পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা প্রকাশ করে ই-সেফটি।
- ১০ ডিসেম্বর ২০২৫: অ্যাকাউন্টসংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর হয়।
- মার্চ ২০২৬: প্রথম বিধিপালনসংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ই-সেফটি। এতে পাঁচটি তদন্তের কথা জানানো হয় এবং ২০২৬ সালের মাঝামাঝি কিছু প্রয়োগমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
- ৩১ জুলাই ২০২৬: বাস্তবায়নের তিন মাস পর সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করে ই-সেফটি এবং জানায়, তদন্ত চলছে।
- ১৫ ও ১৯ অক্টোবর ২০২৬: বিধি মানার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ দেন ওয়েলস এবং পাঁচটি প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপের প্রত্যাশার কথা জানান।
জুলাইয়ের ঘোষণায় ই-সেফটি জানায়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বিধিপালনসংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তাদের দীর্ঘমেয়াদি মূল্যায়ন কর্মসূচির ফল ২০২৬, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে জনসাধারণের প্রতিবেদন এবং গবেষণাপত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
পরিবারের ভাষ্য, চাপ কমেছে; কিছু সম্পর্কেও ছেদ পড়েছে
জুলাইয়ের মূল্যায়নে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম না থাকায় কিছু থেকে বঞ্চিত হওয়ার অনুভূতি রয়েছে—এমন শিশুর হার ৪৩.৩ শতাংশ থেকে কমে ৩৬.৩ শতাংশ হয়েছে। অভিভাবকেরাও কম চাপের কথা জানিয়েছেন এবং তাঁদের সন্তানদের সমবয়সীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকে প্রচলিত বলে মনে করার প্রবণতা কমেছে।
তিন মাসের পর্যায়ে বেশির ভাগ শিশু ও অভিভাবক বলেছেন, বিধিনিষেধের প্রভাব তখনও তাঁদের ওপর পড়েনি। তবে ছোট কিছু গোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন: কিছু শিশুর যোগাযোগ কঠিন হয়েছে বা বন্ধুদের সঙ্গে কম সংযুক্ত বোধ করেছে। অন্যরা জানিয়েছে, সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে, অনলাইনে নিরাপত্তা বেড়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের চাপ কমেছে।
কিছু গোষ্ঠীতে, বিশেষ করে মেয়ে ও ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তানের ব্যবহার সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতনতা কমেছে। পরিবারগুলোর জন্য এ ফলাফল বাস্তবে অনলাইনে কী হচ্ছে, তা নিয়ে কথা বলার গুরুত্ব তুলে ধরে; এর মধ্যে শিশুরা এখনো কোন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে, সেটিও রয়েছে।
দুই বছর ধরে ৪ হাজারের বেশি শিশু ও পরিবারকে অনুসরণ করছে এই মূল্যায়ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও সুস্থতার সম্পর্কসহ তাঁদের অভিজ্ঞতা পর্যবেক্ষণে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি সোশ্যাল মিডিয়া ল্যাব এবং স্বতন্ত্র একাডেমিক উপদেষ্টা দলের সঙ্গে কাজ করছে ই-সেফটি।
বয়স যাচাইয়ে গোপনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে
বয়স যাচাইয়ের কয়েকটি পদ্ধতি নিয়ে সরকারের প্রযুক্তিবিষয়ক কাজ হয়েছে। এর মধ্যে প্রমাণের ভিত্তিতে বয়স যাচাই, বয়স অনুমান, অন্য তথ্য থেকে বয়স নির্ণয় এবং বারবার যাচাই করার পদ্ধতি রয়েছে। এসব পদ্ধতিকে একত্রে বয়স নিশ্চয়ন বলা হয়; অর্থাৎ কেউ নির্ধারিত বয়সসীমা পূরণ করে কি না, তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া।
অস্ট্রেলিয়ার ৬.৫ মিলিয়ন ডলারের এজ অ্যাস্যুরেন্স ট্রায়ালের অংশ হিসেবে এজ চেক সার্টিফিকেশন স্কিম সরকারের বাইরে থেকে স্বাধীনভাবে প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চালায়। তাদের ফলাফল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য যুক্তিসংগত পদক্ষেপসংক্রান্ত ই-সেফটির নির্দেশনা তৈরিতে সহায়তা করে।
সরকারের জন্য করা ভোক্তা-গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের প্রায় ৯ জন বয়স নিশ্চয়ন সমর্থন করেন। বয়স যাচাই করে এমন ওয়েবসাইট ব্যবহার করবে—এমন শিশুদের মধ্যে ৭৩ শতাংশ বুঝতে পেরেছিল, ওয়েবসাইটগুলো কেন এই যাচাই করে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদে পরিচালনার ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর আস্থা কম; বিশেষ করে যাঁরা তথ্য ফাঁসের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তাঁদের মধ্যে। তাই বয়স যাচাই চালু করা কোম্পানিগুলোর সামনে দুটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে: অ্যাকাউন্টসংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর করা এবং যাচাইয়ের সময় সংগৃহীত তথ্য নিরাপদে পরিচালনা করা।
এখন তাৎক্ষণিক মনোযোগের বিষয় হলো, ইনম্যান গ্রান্ট যে প্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং ওয়েলস যে আদালত-প্রক্রিয়ার প্রত্যাশা করছেন। দীর্ঘমেয়াদি মূল্যায়নে শুরুর কয়েক মাসের পরও অ্যাকাউন্ট, প্রবেশাধিকার ও পারিবারিক অভিজ্ঞতার পরিবর্তন অব্যাহত থাকে কি না, তা অনুসরণ করা হবে।
মূল বিষয়গুলো
- অস্ট্রেলিয়ার ন্যূনতম বয়সসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন ওয়েলস।
- ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। আইনি দায় প্ল্যাটফর্মগুলোর; শিশু, অভিভাবক ও পরিচর্যাকারীদের কোনো জরিমানা করা হবে না।
- সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ এখন ১০৯.২ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার, এবং প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে ই-সেফটির।
- জুলাইয়ের মূল্যায়নে দেখা গেছে, প্রথম তিন মাসে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্ট থাকার হার ৫২.৪ শতাংশ থেকে কমে ৪২.১ শতাংশ হয়েছে। তবে অনেক বিদ্যমান ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট চালু রেখেছে বা নতুন করে খুলেছে।
- বয়স যাচাইয়ের ঘাটতি ছিল অন্যতম প্রধান উদ্বেগ। বিধি মানা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে কোম্পানির ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়া পরীক্ষা করছে ই-সেফটি।
- আদালতে মামলা দায়েরের কোনো তারিখ জানানো হয়নি। ২০২৬, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে মূল্যায়নের আরও ফল প্রকাশের কথা রয়েছে।






