বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনার সঙ্গে বাড়ছে পুঁজির চাহিদা
ভিয়েত লাও এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট জয়েন্ট স্টক কোম্পানি (VLE) এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী পাঁচ বছরে লাওসে ১০ বিলিয়ন থেকে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত বিনিয়োগ অনুমোদন ও বিশেষ কর-প্রণোদনা চেয়েছে তারা।
সূচিপত্র
- বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনার সঙ্গে বাড়ছে পুঁজির চাহিদা
- লাওসের কাছে VLE-এর চাওয়া পরিবর্তন
- সরকারও একই প্রশাসনিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছে
- অনুমোদিত বিনিয়োগমূল্যের অর্ধেকের বেশি ভিয়েতনামের
- পরবর্তী উন্নয়ন পরিকল্পনার বড় অংশ বেসরকারি পুঁজিনির্ভর
- ব্যবসায়ীদের কাছে দুই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি
- জ্বালানি পরিকল্পনার পাশাপাশি পরিবহন ও বাণিজ্য প্রকল্প
- বিনিয়োগ কর্মসূচির অগ্রগতি
- মূল বিষয়গুলো
VLE-এর মহাপরিচালক নুয়েন বা সান ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর ভিয়েনতিয়েনে লাওস-ভিয়েতনাম বিনিয়োগ উন্নয়ন সম্মেলনে এ প্রস্তাবের কথা জানান। লাওসের প্রধানমন্ত্রী সালেউমসাই কোম্মাসিথ এবং ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুংয়ের উপস্থিতিতে তিনি ত্রুয়ং সন ৩ প্রকল্পের উন্নয়ন চুক্তিও গ্রহণ করেন।
লাওসের সাম্প্রতিক বিনিয়োগের রেকর্ডের তুলনায় প্রস্তাবিত ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। ২০২১–২০২৫ সময়ে দেশটি প্রায় ২৭৪.৪ ট্রিলিয়ন কিপ, অর্থাৎ ১২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বিনিয়োগ হিসেবে সংগ্রহ করেছে। ফলে VLE-এর প্রস্তাবিত অঙ্কটি ওই পাঁচ বছরের মোট বিনিয়োগের চেয়ে কম থেকে শুরু করে তার চেয়ে বেশি পর্যন্ত বিস্তৃত; তবে কোম্পানিটি ভবিষ্যৎ সময়ে পরিকল্পিত ব্যয়ের কথা বলেছে।
পরবর্তী উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য লাওসের আরও অনেক পুঁজি প্রয়োজন। ২০২৬–২০৩০ সময়ে দেশটির বিনিয়োগের প্রাক্কলিত চাহিদা ৬৩৬.১৭৮ ট্রিলিয়ন কিপ, যা আগের পাঁচ বছরে সংগৃহীত অঙ্কের চেয়ে প্রায় ১৩২ শতাংশ বেশি। দেশীয় বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ থেকে প্রায় ৪১০ ট্রিলিয়ন কিপ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
VLE-এর ঘোষণা লাওসের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একসঙ্গে সামনে এনেছে: উন্নয়ন সম্প্রসারণে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং বড় প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার মতো দ্রুত সরকারি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের অনুরোধগুলো পর্যালোচনা এবং সরকারকে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য লাওসের কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। চাওয়া প্রণোদনা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা ব্যয়ের বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
লাওসের কাছে VLE-এর চাওয়া পরিবর্তন
সান বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং উল্লেখযোগ্য পুঁজি বিনিয়োগ, একাধিক ছাড়ভিত্তিক প্রকল্প পরিচালনা ও দীর্ঘ সময় লাওসে বিনিয়োগ ধরে রাখার অঙ্গীকার করা কোম্পানিগুলোর জন্য ভিন্ন ধরনের কর-প্রণোদনার প্রস্তাব দেন।
সাধারণত, সরকারের সঙ্গে চুক্তির আওতায় কোনো কোম্পানিকে প্রকল্প উন্নয়ন বা পরিচালনা, কিংবা নির্দিষ্ট সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়াকে ছাড় বলা হয়। এ ধরনের প্রকল্পে একাধিক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষ করে জমি, অবকাঠামো ও পরিচালনার অনুমতির বিষয় থাকলে।
সান বলেন, প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো বিনিয়োগ অনুমোদনের প্রক্রিয়া তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারে। তাঁর যুক্তি, দ্রুত সিদ্ধান্ত হলে কোম্পানিগুলো আগে বিনিয়োগের অর্থ ছাড় করতে পারবে এবং ২০২৬–২০৩০ মেয়াদের লাওসের দশম পঞ্চবার্ষিক জাতীয় আর্থসামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সহায়তা করবে।
VLE ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের লাওসের বৃহত্তম বিনিয়োগকারীদের অন্যতম বলে বর্ণনা করেছে। সান বলেন, জ্বালানি, অবকাঠামো ও শিল্প খাতের বড় বিনিয়োগকারীরা প্রাথমিক ব্যয়ের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যবসা, অবকাঠামো, রপ্তানি ও সরকারি রাজস্বের মাধ্যমে অবদান রাখে।
প্রস্তাবটিতে প্রশাসনিক গতির পাশাপাশি করব্যবস্থার বিষয়ও রয়েছে। কোনো কোম্পানির জন্য এসব শর্ত প্রকল্পের ব্যয় ও সময় নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। লাওসের জন্য সিদ্ধান্তটি নির্ধারণ করবে, কী শর্তে দেশটি পুঁজি আকর্ষণ করবে এবং প্রকল্পগুলো থেকে কত রাজস্ব পাওয়ার প্রত্যাশা করবে।
সরকারও একই প্রশাসনিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছে
বিনিয়োগ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটি (IPMC) আগেই দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া, পরস্পর-অতিব্যাপ্ত বিধিবিধান, প্রকল্প পর্যবেক্ষণের দুর্বলতা, বিচ্ছিন্ন বিনিয়োগ-তথ্যভান্ডার এবং জমিসংক্রান্ত জটিলতার কথা নথিভুক্ত করেছে। কমিটির আগস্টের বৈঠকের পর্যালোচনায় ২০২৬ সালের ১১–১২ আগস্ট ভিয়েনতিয়েনে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রথম দেশব্যাপী বৈঠকের আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে।
কমিটির অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগ আইন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন, পর্যবেক্ষণ ও আইন প্রয়োগ জোরদার করা এবং সমন্বিত জাতীয় বিনিয়োগ-তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা। একটি অভিন্ন তথ্যভান্ডার প্রকল্পগুলো বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় কর্তৃপক্ষকে সেগুলোর আরও ধারাবাহিক নথি রাখতে সহায়তা করবে।
সরকার আরও জানিয়েছে, তারা মানসম্মত, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিনিয়োগে গুরুত্ব দেবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরকারি রাজস্ব আয়, অর্থনৈতিক মূল্য সংযোজন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের ওপর নির্ভরতা কমায়—এমন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তাই VLE-এর অনুরোধে এমন সমস্যাগুলো উঠে এসেছে, যেগুলো সরকার নিজেই চিহ্নিত করেছে। তবে কমিটির কর্মসূচিতে দ্রুত অনুমোদনের পাশাপাশি অনুমতি দেওয়ার পর প্রকল্পের তদারকির বিষয়ও রয়েছে।
অনুমোদিত বিনিয়োগমূল্যের অর্ধেকের বেশি ভিয়েতনামের
অক্টোবরের সম্মেলনে ঘোষিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে নিয়ন্ত্রিত খাত ও ছাড়ভিত্তিক এলাকায় ৪৫টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে লাওস। প্রকল্পগুলোর সম্মিলিত মূল্য ৮.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভিয়েতনামের বিনিয়োগ ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মূল্যের হিসাবে সবচেয়ে বড় অংশ।
এই হিসাবে অনুমোদিত মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫৪.৮ শতাংশ, অর্থাৎ অর্ধেকের কিছু বেশি, ভিয়েতনামের। বাকি অনুমোদিত বিনিয়োগের মূল্য প্রায় ৩.৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
IPMC-এর আগের পর্যালোচনায় বলা হয়, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে ছাড়ভিত্তিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়িক কার্যক্রমসহ ৩৪টি প্রকল্পে ৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছিল। ওই সময়ে বিনিয়োগের মূল্য ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৬৮ শতাংশ বেশি ছিল বলেও জানায় কমিটি।
অনুমোদিত বিনিয়োগের মূল্য থেকে বোঝা যায়, সরকার অনুমোদন দেওয়া প্রকল্পগুলোর আকার কত। কোম্পানিগুলো পরে প্রকল্পে অর্থায়ন, ঠিকাদারদের অর্থ প্রদান, সরঞ্জাম কেনা এবং নির্মাণ বা অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করলে অর্থনীতিতে সেই অর্থ প্রবেশ করে। এসব ধাপ কখন সম্পন্ন হয়, তা থেকেই বোঝা যায় কেন সান দ্রুত পুঁজি ছাড়ের ওপর এত গুরুত্ব দিয়েছেন।
IPMC-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সাল থেকে লাওস প্রায় ৬৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৫,৩৯৪টি বেসরকারি বিনিয়োগ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড দেশটির শীর্ষ তিন বিদেশি বিনিয়োগকারী। ফলে ভিয়েতনামের সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলো আঞ্চলিক বিনিয়োগের আরও দীর্ঘ ইতিহাসের অংশ।
পরবর্তী উন্নয়ন পরিকল্পনার বড় অংশ বেসরকারি পুঁজিনির্ভর
২০২১–২০২৫ সময়ে সংগৃহীত ২৭৪.৪ ট্রিলিয়ন কিপের মধ্যে ২৬৬.৪৯৪ ট্রিলিয়ন কিপ এসেছে দেশীয় বেসরকারি বিনিয়োগ ও বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ থেকে। মোটের প্রায় ৯৭.১ শতাংশ ছিল এই দুই উৎসের অবদান।
২০২৬–২০৩০ সময়ে প্রাক্কলিত ৬৩৬.১৭৮ ট্রিলিয়ন কিপের চাহিদার মধ্যে এই দুই উৎস থেকে প্রায় ৪১০ ট্রিলিয়ন কিপ আসবে বলে আশা করছে লাওস, যা মোট চাহিদার প্রায় ৬৪.৪ শতাংশ। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বলতে অন্য দেশের কোনো ব্যবসা বা প্রকল্পে বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগকে বোঝায়; সাধারণত এতে দীর্ঘমেয়াদি মালিকানা বা ব্যবস্থাপনাগত স্বার্থ থাকে।
প্রকাশিত কিপের পরিসংখ্যান ধরে হিসাব করলে দেশীয় বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের প্রত্যাশিত অবদান প্রায় ৫৩.৮ শতাংশ বাড়ছে, যা ঘোষিত ৫৩.৭ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে প্রায় মিলে যায়। মোট বিনিয়োগের চাহিদা আরও দ্রুত, প্রায় ১৩২ শতাংশ বাড়ছে।
এই সংখ্যাগুলো অর্থায়নের কাজটির ব্যাপকতা তুলে ধরে। লাওস আরও অনেক বেশি পরিমাণে বেসরকারি ও বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ করতে চাইছে, একই সঙ্গে মোট বিনিয়োগ-চাহিদার বড় অংশ অন্যান্য উৎস থেকে আসবে বলেও আশা করছে।
ব্যবসায়ীদের কাছে দুই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি
লাওসের প্রধানমন্ত্রী সালেউমসাই কোম্মাসিথ সম্মেলনে বলেন, ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা সরকারের অগ্রাধিকার। বিনিয়োগ এগিয়ে নিতে সহায়ক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিতে তিনি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
"বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক—এমন যেকোনো মতামত বা সুপারিশ ব্যবসায়ী মহল থেকে সরকার স্বাগত জানায়," তিনি বলেন।
সালেউমসাই প্রধানমন্ত্রী সরাসরি দিকনির্দেশনায় পরিচালিত কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা হিসেবে বিনিয়োগ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। এর উদ্দেশ্য হলো, বিনিয়োগকারীদের জন্য এমন একটি একক যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করা, যার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার সমন্বয় করা যাবে। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুং ভিয়েতনামি কোম্পানিগুলোকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি, খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্যাংকিং ও অর্থায়ন, সরবরাহব্যবস্থা, পর্যটন এবং ডিজিটাল উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে উৎসাহিত করেন। তিনি লাওসের ব্যবসায়ীদেরও ভিয়েতনামে সুযোগ খুঁজে দেখতে বলেন।
ভিয়েনতিয়েনের জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রায় ৫০০ প্রতিনিধি অংশ নেন। ব্যবসায়ী সংগঠন ও কোম্পানিগুলো বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সহজতর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অনুরোধ জানায়। বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট ১৮টি নথি বিনিময় বা হস্তান্তর করা হয়।
জ্বালানি পরিকল্পনার পাশাপাশি পরিবহন ও বাণিজ্য প্রকল্প
VLE-এর বৃহত্তর বিনিয়োগ প্রস্তাবের পাশাপাশি ত্রুয়ং সন ৩ প্রকল্পের উন্নয়ন চুক্তি গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলনে একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের অগ্রগতিও উঠে আসে। প্রকল্প উন্নয়ন চুক্তিতে পরবর্তী ধাপের দিকে প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়; এসব ধাপে আরও সমীক্ষা, অনুমতি ও অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
লে মিন হুংয়ের সরকারি সফরের সময় দুই সরকার অবকাঠামো, অর্থায়ন, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ১১টি নথিতেও সই করে। বিনিয়োগ সম্মেলনের পাশাপাশি বৃহত্তর সরকারি সফরের অংশ ছিল এসব উদ্যোগ।
দুই প্রধানমন্ত্রী হ্যানয়-ভিয়েনতিয়েন এক্সপ্রেসওয়ে, ভুং আং সমুদ্রবন্দর, সমুদ্রবন্দরটির সঙ্গে ভিয়েনতিয়েনকে যুক্ত করা রেলপথ এবং পেট্রোলিয়াম সরবরাহ অবকাঠামোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হন।
সমুদ্র উপকূলহীন দেশ লাওসের জন্য সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থলভাগের ব্যবসা ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের মধ্যে আরেকটি পথ তৈরি করবে। সড়ক, রেল, বন্দর ও জ্বালানি প্রকল্পগুলো পণ্য ও সরবরাহসামগ্রীর ব্যবহারিক পরিবহনব্যবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত, যা জ্বালানি, শিল্প ও কৃষিতে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন।
২০২৭ সালের লাওস-ভিয়েতনাম সংহতি ও বন্ধুত্ব বর্ষের প্রস্তুতির অংশ ছিল এই সম্মেলন। দুই সরকারই তাদের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করাকে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে।
বিনিয়োগ কর্মসূচির অগ্রগতি
আগস্টে সরকারি পর্যালোচনার পর এবং লাওসের বিনিয়োগ-চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার প্রাক্কালে অক্টোবরে এ ঘোষণা আসে। প্রধান তারিখগুলো দেখায়, কোম্পানির প্রস্তাবটি কীভাবে নীতিনির্ধারণের সময়সূচির সঙ্গে যুক্ত।
- ২০২১–২০২৫: লাওস প্রায় ২৭৪.৪ ট্রিলিয়ন কিপ বিনিয়োগ সংগ্রহ করে; এর মধ্যে দেশীয় বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ থেকে আসে ২৬৬.৪৯৪ ট্রিলিয়ন কিপ।
- ১১–১২ আগস্ট ২০২৬: IPMC ভিয়েনতিয়েনে প্রথম দেশব্যাপী বিনিয়োগবিষয়ক বৈঠক করে। বৈঠকে অনুমোদনে বিলম্ব, পর্যবেক্ষণের দুর্বলতা ও অন্যান্য বাধা পর্যালোচনা করা হয়।
- ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাস: লাওস ৮.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৪৫টি প্রকল্প অনুমোদন করে, যার মধ্যে ভিয়েতনামের বিনিয়োগ ছিল ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- ৮ অক্টোবর ২০২৬: VLE ১০ বিলিয়ন থেকে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ কর্মসূচির প্রস্তাব দেয় এবং বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও কর-প্রণোদনা চায়।
- ২০২৬–২০৩০: লাওসের পরবর্তী উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট বিনিয়োগ-চাহিদা ৬৩৬.১৭৮ ট্রিলিয়ন কিপ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।
- ২০২৭: দুই দেশ লাওস-ভিয়েতনাম সংহতি ও বন্ধুত্ব বর্ষ পালনের পরিকল্পনা করেছে।
তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ হলো VLE-এর প্রস্তাবগুলো কমিটির পর্যালোচনা। এই প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সরকারের ঘোষিত অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং অনুমোদিত বিনিয়োগ থেকে কর্মসংস্থান, রাজস্ব ও অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হচ্ছে কি না, তা আরও জোরালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
মূল বিষয়গুলো
- VLE ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী পাঁচ বছরে লাওসে ১০ বিলিয়ন থেকে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
- কোম্পানিটি বিশেষ কর-প্রণোদনা এবং এমন প্রক্রিয়া চায়, যা তাদের দাবি অনুযায়ী অনুমোদনের সময় তিন থেকে ছয় মাস কমাতে পারে।
- ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে লাওসের অনুমোদিত বিনিয়োগের মূল্যের মধ্যে ভিয়েতনামের অংশ ছিল ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৫৪.৮ শতাংশ।
- ২০২৬–২০৩০ সময়ে লাওসের বিনিয়োগ-চাহিদা ৬৩৬.১৭৮ ট্রিলিয়ন কিপ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা ২০২১–২০২৫ সময়ে সংগৃহীত অঙ্কের চেয়ে প্রায় ১৩২ শতাংশ বেশি।
- অনুমোদনে বিলম্ব, পরস্পর-অতিব্যাপ্ত বিধিবিধান, দুর্বল পর্যবেক্ষণ ও জমিসংক্রান্ত জটিলতাকে সমাধানযোগ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকারের বিনিয়োগ কমিটি।
- দুই সরকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, রেল, বন্দর ও পেট্রোলিয়াম অবকাঠামো প্রকল্পের কাজও দ্রুত এগিয়ে নিতে একমত হয়েছে।






