চার ঘণ্টায় কেলান্তান, ভাড়ায় পরিবর্তন
মালয়েশিয়ার ইস্ট কোস্ট রেল লিংক (ECRL)-এ গোমবাক থেকে কোটা ভারু পর্যন্ত একমুখী ইকোনমি ট্রানজিট ভাড়া শুরু হবে RM125 থেকে। এক্সপ্রেসের টিকিট শুরু হবে RM147 থেকে। ১২ ডিসেম্বর, ২০২৬-এ যাত্রীসেবা চালুর লক্ষ্য সামনে রেখে এই ভাড়া ঘোষণা করা হয়েছে। ৫২৩ কিলোমিটারের যাত্রায় এক্সপ্রেসে প্রায় চার ঘণ্টা লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে; সড়কপথে লাগে সাত থেকে আট ঘণ্টা।
সূচিপত্র
মালয়েশিয়া রেল লিংক এসডিএন বিএইচডির (MRL) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতুক সেরি দারউইস আবদুল রাজাক ১৯ অক্টোবর ভাড়ার কথা জানান। ১৬ অক্টোবর মন্ত্রিসভা ভাড়া নির্ধারণের সূত্র অনুমোদন করে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ জুন চাহিদাভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণব্যবস্থায় নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। এই ব্যবস্থায় চাহিদা, যাত্রার সময় এবং আসনপ্রাপ্যতা অনুযায়ী টিকিটের দাম বদলাবে।
পাহাং সরকারের প্রকাশিত ভাড়া ঘোষণায় গোমবাক থেকে কুয়ান্তানের কোটা সুলতান আহমদ শাহ, সংক্ষেপে কোটাSAS, পর্যন্ত ট্রানজিটের প্রারম্ভিক ভাড়া RM60 এবং এক্সপ্রেসের RM68 নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে কোটা ভারু পর্যন্ত যথাক্রমে RM125 ও RM147 এবং কুয়ালা তেরেংগানু পর্যন্ত RM95 ও RM110 প্রারম্ভিক ভাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে।
টিকিট বিক্রি নভেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হওয়ার কথা। যাত্রীসেবা চালু করা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শর্ত ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। ডিসেম্বরের লক্ষ্যমাত্রার আগে আরও ট্রেন চালনা পরীক্ষা ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা রয়েছে।
যাত্রীদের জন্য এই ঘোষণা নতুন রেলপথের সঙ্গে গাড়ি চালানো বা বাসে যাওয়ার তুলনা করার প্রথম বাস্তব ভিত্তি দিচ্ছে। সিদ্ধান্তে শুধু সবচেয়ে কম ভাড়াই বিবেচ্য নয়: এক্সপ্রেসে সময় বাঁচবে, ট্রানজিট বেশি স্টেশনে থামবে, আর যাত্রীরা কখন টিকিট কাটছেন ও ভ্রমণ করছেন তার ওপর ভাড়া নির্ভর করবে।
যাত্রীদের প্রকৃত ভাড়া কত হবে?
MRL-এর ঘোষিত প্রারম্ভিক ভাড়া উভয় দিকের যাত্রার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। গোমবাক থেকে ঘোষিত তিনটি প্রধান রুট হলো:
- কোটা ভারু, ৫২৩ কিলোমিটার: ট্রানজিট RM125 থেকে; এক্সপ্রেস RM147 থেকে।
- কুয়ালা তেরেংগানু, ৩৭৮ কিলোমিটার: ট্রানজিট RM95 থেকে; এক্সপ্রেস RM110 থেকে।
- কুয়ান্তানের কোটাSAS, ২০৯ কিলোমিটার: ট্রানজিট RM60 থেকে; এক্সপ্রেস RM68 থেকে।
সরকারের প্রকাশিত তথ্যে কোটাSAS পর্যন্ত এক্সপ্রেস ভাড়া RM68, যা MRL-এর মূল ঘোষণার সঙ্গে মেলে; ব্রিফিংয়ের সংবাদ প্রতিবেদনে ওই যাত্রার ভাড়া RM95-ও উল্লেখ করা হয়েছিল।
দারউইস জানান, গোমবাক থেকে কোটা ভারু পর্যন্ত ট্রানজিট ভাড়ার মধ্যম স্তর RM156। ভাড়া ঘোষণার সময় তিনি বলেন:
কোটা ভারু থেকে গোমবাক, অথবা গোমবাক থেকে কোটা ভারু পর্যন্ত ট্রানজিট ট্রেনের মধ্যম ভাড়া RM156,
RM156 হলো RM125 প্রারম্ভিক ভাড়ার চেয়ে RM31 বা প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। চাহিদা বেশি থাকলে, ছুটির ব্যস্ত সময়সহ, ভাড়া RM156 ছাড়িয়ে যেতে পারে। আগে টিকিট কাটলে বা নির্দিষ্ট সময়ে ভ্রমণ বেছে নিলে কম দামের টিকিট পাওয়া যেতে পারে, তবে তা আসনপ্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে।
দারউইস আরও বলেন, ভাড়া অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তা যুক্তিসংগত সীমার মধ্যে রাখতে একটি হস্তক্ষেপব্যবস্থা থাকবে। তবে তিনি ভাড়ার কোনো সংখ্যাগত সর্বোচ্চ সীমা বা হস্তক্ষেপ শুরু করার প্রান্তসীমা জানাননি।
এক্সপ্রেসে কতটা সময় বাঁচবে?
এক্সপ্রেস ট্রেন চারটি প্রধান স্টেশনে থামবে: গোমবাক, কোটাSAS, কুয়ালা তেরেংগানু ও কোটা ভারু। ট্রানজিট ট্রেন নির্ধারিত প্রতিটি স্টেশনে থামবে, ফলে অন্যান্য শহরের যাত্রীরাও রেলপথে চলাচলের সুযোগ পাবেন।
গোমবাক থেকে কোটা ভারু যেতে এক্সপ্রেসে প্রায় চার ঘণ্টা লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে, আর ট্রানজিটে লাগতে পারে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত। সড়কপথে সাত থেকে আট ঘণ্টার তুলনায় এক্সপ্রেসে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় বাঁচবে।
কুয়ালা তেরেংগানুগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রে দুই রেলসেবার সময়ের পার্থক্য কুয়ান্তানগামী যাত্রীদের চেয়ে বেশি। এক্সপ্রেসে কুয়ালা তেরেংগানু যেতে নির্ধারিত সময় দুই ঘণ্টা ৫৪ মিনিট, ট্রানজিটে তিন ঘণ্টা ৫১ মিনিট। প্রারম্ভিক ভাড়ায় RM15 বেশি দিয়ে ৫৭ মিনিট সময় বাঁচবে।
কোটাSASগামী যাত্রীদের এক্সপ্রেসে প্রারম্ভিক ভাড়া RM8 বেশি, তবে সময় লাগবে এক ঘণ্টা ২৭ মিনিট; ট্রানজিটে লাগে দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট। এতে ৩৮ মিনিট বাঁচবে। কোটা ভারুর ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক ভাড়ার পার্থক্য RM22, আর সময় বাঁচবে প্রায় এক ঘণ্টা।
এই তুলনাগুলো ঘোষিত প্রারম্ভিক ভাড়ার ভিত্তিতে করা হয়েছে। চাহিদাভিত্তিক ভাড়া ওঠানামা করলে উপলভ্য টিকিটের দামের পার্থক্যও বদলাবে। যাত্রীদের যাত্রার স্টেশনে পৌঁছানো এবং গন্তব্য স্টেশন থেকে পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার সময়ও হিসাব করতে হবে।
কারা কম দামের টিকিট পাবেন?
দুই থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মালয়েশীয় নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সরকারি পেনশনভোগীদের মধ্যে কয়েকটি গোষ্ঠী সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবেন। ১৩ থেকে ২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা পাবেন ৪০ শতাংশ ছাড়।
দারউইসের ঘোষণার একটি বিবরণে সামরিক বাহিনীর প্রবীণ সদস্যদেরও ছাড় পাওয়ার যোগ্য গোষ্ঠীর মধ্যে রাখা হয়েছে। যোগ্যতা কীভাবে যাচাই করা হবে এবং পরিবর্তনশীল ভাড়ায় ছাড় কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সেসব বিস্তারিত নিয়ম টিকিট-সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে প্রকাশ হওয়ার কথা।
পরিবারের ক্ষেত্রে ছাড় মোট খরচে বড় পার্থক্য আনতে পারে। ৫০ শতাংশ ছাড়ে প্রযোজ্য ভাড়া অর্ধেক হবে, আর ৪০ শতাংশ ছাড় পাওয়া শিক্ষার্থীকে দিতে হবে ভাড়ার ৬০ শতাংশ। চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ভর করবে নির্বাচিত যাত্রার উপলভ্য ভাড়া ও বুকিংয়ের শর্তের ওপর।
বেন্টংয়ের বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী এ. চন্দ্রন শিক্ষার্থীদের ছাড়কে অভিভাবকদের জন্য সহায়ক বলে স্বাগত জানান। তবে উৎসবের সময় বড় পরিবার নিয়ে ভ্রমণে চাহিদাভিত্তিক ভাড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর উদ্বেগে একটি বাস্তব পার্থক্য উঠে আসে: যাত্রার তারিখ বদলাতে পারেন এমন যাত্রীরা স্কুলের ছুটির সঙ্গে বাঁধা যাত্রীদের তুলনায় কম দামের আসন খোঁজার বেশি সুযোগ পাবেন।
ট্রেন কত ঘন ঘন চলবে?
ECRL-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন ১২টি ট্রেন চলবে, দুই দিকেই ছয়টি করে। শুক্রবার থেকে রবিবার প্রতিদিন ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে হবে ১৬টি, দুই দিকেই আটটি করে।
তাই সাপ্তাহিক ছুটির সময় সোমবার থেকে বৃহস্পতিবারের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি ট্রেন চলবে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, পুরো সপ্তাহে দুই দিক মিলিয়ে ৯৬টি ট্রেন চলবে।
২০২৭ সালে MRL প্রায় ২২ লাখ আসন সরবরাহের আশা করছে এবং প্রায় ১৪ লাখ যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নিয়েছে। এই আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, বছরজুড়ে প্রায় ৬৪ শতাংশ আসন ব্যবহৃত হবে, যা কোম্পানির প্রাথমিক পরিকল্পনার প্রায় ৬০ শতাংশ ধারণক্ষমতা ব্যবহারের অনুমানের কাছাকাছি।
আসন ব্যবহারের এই হারকে লোড ফ্যাক্টরও বলা হয়। এতে উপলভ্য আসনের কতটা ব্যবহৃত হচ্ছে তা বোঝায়। দারউইস বলেন, MRL শেষ পর্যন্ত এই হার ৯০ শতাংশে নিতে চায়। যাত্রীচাহিদা ও পরিচালনগত প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রেন চলাচলের সংখ্যা পর্যালোচনা করা হবে।
ট্রেনে কী কী থাকবে?
প্রাথমিক যাত্রীবহরে থাকবে ১০টি বৈদ্যুতিক মাল্টিপল ইউনিট (EMU) ট্রেনসেট, যেগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। এই ট্রেনগুলো বিদ্যুতে চলে এবং যাত্রীবাহী কোচগুলো একসঙ্গে একটি সেট হিসেবে পরিচালিত হয়।
যাত্রীরা ইকোনমি, প্রিমিয়াম ইকোনমি ও বিজনেস ক্লাসের মধ্যে বেছে নিতে পারবেন। আসন বিন্যাসের ওপর নির্ভর করে ধারণক্ষমতা হবে ৪০৯ থেকে ৪২৫ জন। ঘোষিত প্রারম্ভিক ভাড়া ইকোনমি শ্রেণির জন্য; অন্য শ্রেণির ভাড়া বিস্তারিত টিকিট-সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে পরে জানানো হবে।
সুবিধার মধ্যে থাকবে লাগেজ রাখার তাক, খাবার ও পানীয়ের কাউন্টার, নামাজের কক্ষ এবং প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট আসন। পুরো রুটে 4G/5G সংযোগ ও ওয়াই-ফাই দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে MRL-এর।
রেলকর্মী ও সরঞ্জামের যোগাযোগে ব্যবহার করা হবে LTE-Railway প্রযুক্তি, যা রেলপথের জন্য তৈরি একটি যোগাযোগব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা রেল চলাচলে সহায়তা করবে; আর যাত্রীদের ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে ট্রেনে ভ্রমণের সময় ব্যবহারের জন্য।
রুটের শহরগুলোতে কী পরিবর্তন আসবে?
গোমবাক স্টেশনটি গোমবাক ইন্টিগ্রেটেড ট্রান্সপোর্ট টার্মিনালের পাশে অবস্থিত। ফলে পূর্ব উপকূল ও ক্লাং ভ্যালির মধ্যে যাতায়াতে পরবর্তী সংযোগও যাত্রার অংশ হবে। পাহাংয়ে এক্সপ্রেস ও ট্রানজিটের থামার ধরন নির্ধারণ করবে, যাত্রীরা কোন কোন শহরে সরাসরি পৌঁছাতে পারবেন।
বেসরকারি খাতের ৫১ বছর বয়সী কর্মী হানাপি মাত রিপিন গোমবাক থেকে কুয়ান্তানের ভাড়াকে সাশ্রয়ী বলে মনে করেন। বড় এক্সপ্রেস স্টেশনগুলোর বাইরের বাসিন্দাদের জন্য ট্রেন কোথায় থামবে, তা কেন গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ে তিনি বলেন:
বেনতং, তেমেরলোহ ও মারানের যাঁরা কুয়ান্তান যেতে চান, তাঁদের ট্রানজিট সেবা নিতে হবে,
চন্দ্রন বলেন, বেন্টংয়ের বাসিন্দারা গোমবাক যেতে ৩০ মিনিটের কম সময় লাগবে বলে আশা করছেন। তিনি করাক এক্সপ্রেসওয়ের পাশে বেন্টং স্টেশনের অবস্থান এবং বাসে করে কুয়ালালামপুরে বাসিন্দাদের যাতায়াতের প্রচলিত ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।
৪০ বছর বয়সী জেসন লিম মেন্তাকাবে KTM-এর এক্সপ্রেস রাকিয়াত তিমুরানের সঙ্গে সংযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। এতে জোহরসহ মালয়েশিয়ার অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের পূর্ব উপকূলে পৌঁছানো সহজ হতে পারে। কুয়ান্তান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণাধীন থাকায় রেলপথটিকে তিনি আরেকটি যাতায়াতের বিকল্প হিসেবেও দেখছেন।
কেলান্তানের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী ফিজা আবদুল রহিম প্রারম্ভিক ভাড়াকে যুক্তিসংগত মনে করেন, যদিও তা এক্সপ্রেস বাসের চেয়ে বেশি; কারণ রেলে সময় কম লাগবে। মালয়েশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব হোটেলসের কেলান্তান শাখার উপসভাপতি মুহাম্মদ আজরিন জয়নাল আবিদিন সপ্তাহের কর্মদিবসে কম ভাড়ার প্রস্তাব দেন এবং আশা করেন, রেলপথটি রাজ্যে আরও বেশি দর্শনার্থী আনতে সহায়তা করবে।
এরপর কোন নিরাপত্তা যাচাই হবে?
MRL প্রকল্পের কাজ ৯৮.১৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে এবং সাইট অ্যাকসেপ্ট্যান্স টেস্ট ও সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন টেস্ট শেষ করার কথা বলেছে। এসব পরীক্ষায় স্থাপন করা সরঞ্জাম এবং সিগন্যাল, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করছে কি না তা যাচাই করা হয়।
২৫ আগস্ট ট্রেনের পরীক্ষা চালনা শুরু হয় এবং ভাড়া ঘোষণার সময় পর্যন্ত ৫০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পরীক্ষা করা হয়েছিল। একটি পরিদর্শন ট্রেন বিরতিহীনভাবে গোমবাক থেকে কোটা ভারু যেতে তিন ঘণ্টা ১৯ মিনিট নিয়েছে। মাঝপথের স্টেশনে থামাসহ যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত এক্সপ্রেসে প্রায় চার ঘণ্টা লাগার পরিকল্পনা রয়েছে।
ল্যান্ড পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি, সংক্ষেপে APAD, প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেনসেটকে ত্রুটিমুক্তভাবে ৩,০০০ কিলোমিটার চলার শর্ত দিয়েছে; পরবর্তী সেটগুলোর জন্য প্রয়োজন ১,৫০০ কিলোমিটার। প্রথম বৈদ্যুতিক মালবাহী লোকোমোটিভকেও ৩,০০০ কিলোমিটার চলতে হবে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংযোজন ও মালামালসহ ২,৫০০ কিলোমিটার এবং মালামাল ছাড়া ৫০০ কিলোমিটার চলতে হবে। পরবর্তী মালবাহী লোকোমোটিভগুলোর নির্দিষ্ট পরিচালনগত শর্তে ১,২৫০ কিলোমিটার চলার প্রয়োজন হবে।
ত্রুটিমুক্ত চলাচলের পরীক্ষায় নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত ট্রেন চালিয়ে নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা হয়। এই কর্মসূচি নভেম্বর থেকে এগিয়ে অক্টোবরে আনা হয়েছে। পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ দলে প্রায় ৭৬৪ জন যোগ দিয়েছেন। নভেম্বরের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রক্রিয়াও পরীক্ষা করার কথা রয়েছে।
প্রধান মাইলফলকগুলো হলো:
- ২৮ জুন, ২০২৪: মন্ত্রিসভা চাহিদাভিত্তিক ভাড়ায় নীতিগত সম্মতি দেয়।
- ২৫ আগস্ট, ২০২৬: ট্রেন চালনা পরীক্ষা শুরু হয়।
- ১৬ অক্টোবর: ভাড়া বাস্তবায়নের সূত্র অনুমোদিত হয়।
- ১৯ অক্টোবর: MRL প্রারম্ভিক ভাড়া ঘোষণা করে।
- ২৩ অক্টোবর: ত্রুটিমুক্ত চলাচলের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।
- নভেম্বর: পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ও জরুরি মহড়ার পরিকল্পনা রয়েছে; মাসের মাঝামাঝি টিকিট বিক্রি শুরুর লক্ষ্য।
- ১২ ডিসেম্বর: নিরাপত্তা অনুমোদন সাপেক্ষে যাত্রীসেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রেলপথ পরিচালনার খরচ কীভাবে জোগাবে?
ECRL প্রকল্প ও এর সম্পদের মালিক থাকবে MRL। পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে MRL এবং চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানির সমান মালিকানাধীন একটি যৌথ উদ্যোগ।
দারউইস বলেন, ঘোষণার সময় পর্যন্ত ভাড়ায় কোনো ভর্তুকি চালু করা হয়নি। MRL-এর আশা, আয় অন্তত পরিচালন ব্যয় মেটাবে। যাত্রী টিকিটের পাশাপাশি মালবাহী সেবা থেকেও আয়ের আরেকটি উৎস তৈরি হবে।
নির্মাণে করা বিনিয়োগ তুলে আনতে দৈনন্দিন চলাচল ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেটানোর চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগবে। শুধু যাত্রী আয় থেকে বিনিয়োগ ফেরত পেতে "অনেক, অনেক, অনেক বছর" লাগবে বলে দারউইস উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের বিবরণে বিনিয়োগের অঙ্ক হিসেবে RM52.3 বিলিয়ন ও RM50.27 বিলিয়ন উল্লেখ করা হয়েছে; তবে এই অঙ্ক দুটির পরিধিতে পার্থক্যের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।
যাত্রার সময় কমানো, অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানো এবং কেলান্তান, তেরেংগানু, পাহাং ও সেলাঙ্গরের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করা MRL-এর ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে। মালবাহী গ্রাহকেরা পরিচালন আয়ে সহায়তা করতে পারেন; আর যাত্রীসেবার লক্ষ্য কর্মসংস্থান, শিক্ষা, পর্যটন ও বাণিজ্যে প্রবেশাধিকার উন্নত করা।
যাত্রীদের জন্য পরবর্তী বাস্তব মাইলফলক হলো নভেম্বরের মাঝামাঝি বিস্তারিত ভাড়া, সময়সূচি ও টিকিট বিক্রির তথ্য প্রকাশ। এতে পরিকল্পিত ডিসেম্বরের উদ্বোধনের আগে পরিবারগুলো প্রকৃত টিকিটের দাম, ছাড়ের নিয়ম ও যাত্রার সময় তুলনা করতে পারবে।
মূল তথ্য
- গোমবাক থেকে কোটা ভারু পর্যন্ত একমুখী ইকোনমি ট্রানজিট ভাড়া শুরু RM125 থেকে; এক্সপ্রেসের ভাড়া RM147 থেকে।
- চাহিদাভিত্তিক ভাড়া ব্যবস্থায় চাহিদা, বুকিংয়ের সময় ও আসনপ্রাপ্যতা অনুযায়ী ভাড়া বদলাবে। ট্রানজিটের মধ্যম ভাড়া RM156।
- গোমবাক থেকে কোটা ভারু যেতে এক্সপ্রেসে প্রায় চার ঘণ্টা লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে; ট্রানজিটে লাগতে পারে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত।
- যোগ্য গোষ্ঠীগুলো সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং ১৩ থেকে ২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা ৪০ শতাংশ ছাড় পাবেন।
- MRL-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন ১২টি এবং শুক্রবার থেকে রবিবার ১৬টি ট্রেন চলবে।
- নভেম্বরের মাঝামাঝি টিকিট বিক্রি শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। নিরাপত্তা অনুমোদন সাপেক্ষে ১২ ডিসেম্বর, ২০২৬-এ যাত্রীসেবা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।






