নির্মাতাদের নভেম্বরের সময়সীমা, ব্যয়বহুল নকশা পরিবর্তনের মুখে
লিফট ও জরুরি আলোর ব্যবস্থা চালানোর উপযোগী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ইয়াঙ্গুনের নির্দেশে নির্মাতাদের আনুমানিক ১০ কোটি কিয়াত খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে। একজন সরবরাহকারীর মতে, কাজটি শেষ করতে যত সময় লাগে, সময়সীমা তার চেয়েও কম। ইয়াঙ্গুন সিটি ডেভেলপমেন্ট কমিটির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ১ অক্টোবর এ নির্দেশ জারি করে; ১ নভেম্বরের মধ্যে তা মানতে হবে।
সূচিপত্র
- নির্মাতাদের নভেম্বরের সময়সীমা, ব্যয়বহুল নকশা পরিবর্তনের মুখে
- কোন ভবনে কী স্থাপন করতে হবে
- লিফটের জন্য সাধারণ সৌর কিটের চেয়ে বেশি কিছু কেন দরকার
- দাম বাড়ায় ঠিকাদার ও মালিকদের মধ্যে ব্যয় ভাগাভাগির প্রশ্ন
- সৌরনীতি যেভাবে বিকশিত হয়েছে
- সৌরবিদ্যুৎ ব্যবসার বিভিন্ন খাতে জান্তা প্রধানের পরিবারের স্বার্থ
- প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে মূল্য ও অনুমোদন নিয়ে উদ্বেগ
- বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবসার অপরিহার্য ব্যয়ে পরিণত
- ভবন সম্পন্ন করার অনুমোদনই পরবর্তী চাপের ক্ষেত্র
- মূল বিষয়গুলো
নির্দেশটি বাণিজ্যিক প্রকল্প এবং বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর আওতায় রয়েছে নির্মাণাধীন প্রকল্প এবং বিল্ডিং কমপ্লিশন সার্টিফিকেটের অপেক্ষায় থাকা ভবনও। আইনত ভবনে বসবাস বা ব্যবহার শুরু করার আগে এ সনদ প্রয়োজন। বাণিজ্যিক ভবনে সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম ইয়াঙ্গুন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই করপোরেশন (ইয়েসক) থেকে সরবরাহ করা বিদ্যুতের সঙ্গেও সমন্বিত করতে হবে।
একটি সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকের হিসাবে, উপযোগী বাণিজ্যিক ব্যবস্থা স্থাপনে অন্তত দুই মাস লাগে। নির্দেশ জারি থেকে কার্যকর হওয়া পর্যন্ত সময় মাত্র এক মাস। নির্মাণকাজ শেষের দিকে থাকা প্রকল্পগুলোর জন্য নতুন সরঞ্জাম মানে অতিরিক্ত ব্যয়, চূড়ান্ত নকশায় পরিবর্তন এবং ক্রেতা বা ভাড়াটেদের ওঠার আগে বিলম্ব হতে পারে।
এই বাধ্যবাধকতা এমন একটি ব্যবসায় নতুন চাহিদা তৈরি করছে, যেখানে সামরিক শাসক মিন অং হ্লাইংয়ের ছেলে অং পিয়া সোনের বড় স্বার্থ রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ আমদানি, সরঞ্জাম সরবরাহের লাইসেন্স এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের সঙ্গে তাঁর কোম্পানিগুলোর সংশ্লিষ্টতার কথা এসেছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই দেওয়া চুক্তিও রয়েছে।
২০২৬ সালের অক্টোবরের নির্মাণশিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে নির্মাতাদের ওপর তাৎক্ষণিক চাপের চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে চালু করা করছাড় এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঘোষিত জাতীয় সৌরনীতি থেকে বোঝা যায়, বিদ্যুৎ-সংকট বাড়তে থাকায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই বাধ্যবাধকতা এসেছে। ব্যয়বহুল ইস্পাত ও সিমেন্ট, আমদানি-নিষেধাজ্ঞা এবং বিনিময় হারের অস্থিরতায় আগে থেকেই চাপে থাকা নির্মাতাদের এখন আরও একটি বড় কেনাকাটার ব্যয় বহন করতে হবে।
কোন ভবনে কী স্থাপন করতে হবে
ইয়েসিডিসির নির্দেশে ছাদে কয়েকটি প্যানেল বসানোর চেয়ে লিফট ও জরুরি বাতি চালু রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবহারের জন্য ভবনের বিদ্যুৎ চাহিদা অনুযায়ী মাপের সরঞ্জাম, উপযোগী তার, বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং প্রয়োজন হলে ব্যাটারি দরকার।
বাণিজ্যিক ভবনগুলোকে এমনভাবে ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ইয়েসকের বিদ্যুতের পাশাপাশি কাজ করতে পারে। ফলে শুধু প্যানেল কেনাই যথেষ্ট নয়; সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ভবনের সার্কিট এবং সরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্যে বিদ্যুৎ কীভাবে চলাচল করবে, তা প্রকৌশলীদের নির্ধারণ করতে হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা স্থাপনা-সংক্রান্ত নিয়মে কিছু ভৌত সীমাও রয়েছে। ছাদে বসানো প্যানেল ছাদের কিনারা থেকে অন্তত এক ফুট ভেতরে রাখতে হবে। সাধারণ ভবনে প্যানেল বসানোর কাঠামোর সর্বোচ্চ উচ্চতা আট ফুট। প্যানেলের সংখ্যা, কোণ এবং সরবরাহকারীর নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে কাঠামোর বিন্যাস নির্ধারিত হবে।
পুরোনো ভবন ও নির্দেশ জারির আগে নকশা করা প্রকল্পগুলো বিশেষ সমস্যায় পড়তে পারে। ঠিকাদারদের ভাষ্য, কোনো কোনো ছাদে জায়গা কম, কোথাও তারের বিন্যাস বদলানো কঠিন, আবার বাইরে বেরিয়ে থাকা বারান্দার কারণে স্থাপনাও জটিল হয়ে পড়ে। নির্মাণ শেষের কাছাকাছি থাকা ভবনে তাই বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং ভবনের কাঠামো—দুটিতেই পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
লিফটের জন্য সাধারণ সৌর কিটের চেয়ে বেশি কিছু কেন দরকার
লিফটের মোটর চলতে শুরু করার সময় অল্প সময়ের জন্য চলন্ত অবস্থার তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ টানতে পারে। নির্মাণশিল্প-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের হিসাবে, চালুর সময় বিদ্যুতের চাহিদা স্বাভাবিক চলার সময়ের প্রায় তিন গুণ হতে পারে।
পাঁচ কিলোওয়াট ক্ষমতার লিফটের জন্য ওই বিশেষজ্ঞ অন্তত ১৫ কিলোওয়াটের ইনভার্টার, অথবা সাময়িকভাবে বেশি বিদ্যুৎ টান সামলাতে পারে এমন যন্ত্রের উদাহরণ দিয়েছেন। ইনভার্টার প্যানেল বা ব্যাটারির বিদ্যুৎকে ভবনে ব্যবহারের উপযোগী বিদ্যুতে রূপান্তর করে। লিফটের স্বাভাবিক বিদ্যুৎ চাহিদার মতোই অল্প সময়ের এই অতিরিক্ত চাহিদা সামলানোর ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাটারির খরচও উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞ বিবেচনার জন্য উদাহরণ হিসেবে ৪৮ বা ৫১.২ ভোল্টের লিথিয়াম ব্যাটারি এবং ২৮০ বা ৩০০ অ্যাম্পিয়ার-ঘণ্টা বা তার বেশি ক্ষমতার কথা বলেছেন। নির্দিষ্ট লিফট, বিদ্যুৎ পাওয়া অন্য যন্ত্রপাতি এবং সেগুলো কতক্ষণ চালু রাখতে হবে—এসব বিবেচনায় নিয়ে প্রকৃত স্থাপনার হিসাব করতে হবে।
সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সময়ও লিফট চালু রাখতে হলে সরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া কাজ করতে পারে এমন ব্যবস্থা, অথবা সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি ও গ্রিডের বিদ্যুৎ মিলিয়ে হাইব্রিড ব্যবস্থা দরকার। রাতে ছাদের প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না, তাই এ বাধ্যবাধকতায় বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
দাম বাড়ায় ঠিকাদার ও মালিকদের মধ্যে ব্যয় ভাগাভাগির প্রশ্ন
মান্দালয়ের এক নির্মাতা বলেন, সৌর প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের দাম প্রতিদিন বাড়ার সময়ই এ নির্দেশ এসেছে। ইস্পাত ও সিমেন্টের দাম আগে থেকেই নির্মাণ বাজেটে চাপ তৈরি করছিল। ফলে মূল চুক্তিতে না থাকা অতিরিক্ত ব্যবস্থার জন্য বাজেটে খুব কমই জায়গা রয়েছে।
বাজার-সংক্রান্ত এক হিসাবে, আগস্টের শুরুতে ৫০০ ওয়াটের একটি প্যানেলের দাম ছিল প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কিয়াত; অক্টোবরের মাঝামাঝি তা বেড়ে ১০ লাখ কিয়াতের বেশি হয়—বৃদ্ধি ৫৪ শতাংশেরও বেশি। ২০২৬ সালের অক্টোবরে উদ্ধৃত এক ঠিকাদার আগস্টের শুরুতে প্যানেলের দাম প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার কিয়াত এবং পরে প্রায় ৯ লাখ কিয়াত বলে উল্লেখ করেন; তবে প্যানেলের ওয়াট-ক্ষমতা জানাননি।
কেনাকাটার খরচে প্যানেলই একমাত্র বিষয় নয়। বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় ইনভার্টার, ব্যাটারি, বসানোর সরঞ্জাম, তার এবং দক্ষ শ্রমিকও লাগে। নির্মাণ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ব্যবস্থার ধরন অনুযায়ী খরচ কয়েক কোটি থেকে কয়েক শ কোটি কিয়াত পর্যন্ত হতে পারে। বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকের প্রায় ১০ কোটি কিয়াতের হিসাব এই বিস্তৃত সীমার মধ্যেই পড়ে।
চলমান নির্মাণচুক্তিতে আরও একটি সমস্যা রয়েছে: দর চূড়ান্ত করার সময় যে কাজ চুক্তিতে ছিল না, তার খরচ কাউকে না কাউকে দিতে হবে। মালিকদের সঙ্গে বাজেট নিয়ে বিরোধের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ঠিকাদারেরা। ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে। বড় ব্যবস্থা নকশা ও স্থাপনায় দক্ষ কারিগরের ঘাটতিও সরঞ্জাম ও অর্থ থাকা সত্ত্বেও কাজ শেষ করতে দেরি করাতে পারে।
সৌরনীতি যেভাবে বিকশিত হয়েছে
ভবন-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতার আগে নীতি ও বাজারের প্রসারে কয়েকটি ধাপ পেরিয়েছে দেশটি। নির্মাণে বিস্তৃত নিয়ম প্রস্তাবের আগে সৌরবিদ্যুৎ আমদানিতে করছাড় দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ-বিভ্রাট বাড়তে থাকায় পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগেই সরঞ্জাম কিনতে শুরু করে।
- এপ্রিল ২০২৩: বিদ্যুৎ সরবরাহ উন্নত করার কথা বলে জান্তা সৌরবিদ্যুৎ আমদানিতে কর মওকুফ করে।
- ৯ জানুয়ারি ২০২৫: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উন্নয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান তিন অং সান নতুন ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আহ্বান জানান।
- ১৩ জানুয়ারি ২০২৫: বিদ্যুৎ-সংকটের বিবরণে প্রতিদিন চার ঘণ্টার দুটি সময়পর্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে আসা এবং সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ার কথা বলা হয়।
- অক্টোবর ২০২৬: নির্মাণশিল্প-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ইয়েসিডিসির ১ অক্টোবরের স্থাপনা-নির্দেশ এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে তা মানার সময়সীমার কথা উঠে আসে।
উপপ্রধানমন্ত্রীও থাকা তিন অং সান ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নির্মাতাদের প্রস্তাবিত বাধ্যবাধকতার মধ্যে এ শর্তের কথা বলেন:
উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে
জাতীয় প্রস্তাবটি আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। অক্টোবরের প্রতিবেদনে বর্ণিত ইয়াঙ্গুনের নির্দেশে বাণিজ্যিক ভবন, লিফট, জরুরি আলো এবং বসবাসের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পের বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবসার বিভিন্ন খাতে জান্তা প্রধানের পরিবারের স্বার্থ
অং পিয়া সোনের ব্যবসায়িক স্বার্থ শুধু ভবনে ভবনে সরঞ্জাম বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর ভেনাস এসেনশিয়াল কোম্পানি নেপিডোতে প্রকল্পের জন্য সরবরাহ-লাইসেন্স এবং তাউংদ্বিংগি, সালিন, পাকোক্কু, পাউক, চাউক ও চিউনচাউংয়ে ৪০ মেগাওয়াটের পরিকল্পিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে।
মোট ৩৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তিনটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পও ভেনাস এসেনশিয়ালকে দেওয়া হয়েছিল; দরপত্রে অংশ নিতে অন্য কোনো কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ফলে নির্মাণবিধির কারণে এখন সরঞ্জামের বাজারে যে নতুন চাহিদা তৈরি হচ্ছে, সেই ব্যবসার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পরিবারটির স্বার্থ রয়েছে।
আমদানি ব্যবসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে করছাড়ের পর সৌরবিদ্যুৎ আমদানির লাভজনক বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছেন অং পিয়া সোনে। তাঁর বোন খিন থিরি থেত মনও সৌরবিদ্যুতের কিট ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম আমদানি ও সরবরাহ করেন বলে জানা গেছে।
মান্দালয়ের এক সাবেক রাজনৈতিক বন্দি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ও বাধ্যতামূলক সৌরবিদ্যুৎ কেনার মাধ্যমে ব্যক্তিগত মুনাফা তৈরির অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সারা দেশে আমদানি ও বিক্রির অনুমতি পেয়েছিল শুধু শাসকের ছেলের কোম্পানি। তবে বৃহত্তর খুচরা বাজারে আরও অনেক বিক্রেতা রয়েছে: ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইয়াঙ্গুনে প্রায় ৮০টি স্থানীয় ও চীনা সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানি পণ্য প্রদর্শন করেছিল। আমদানির অনুমতি, পণ্য বিতরণ এবং খুচরা বিক্রি ব্যবসার আলাদা অংশ; তাই কে লাইসেন্স পাচ্ছে, তা সুবিধাভোগী কারা—এ নিয়ে উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে।
প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে মূল্য ও অনুমোদন নিয়ে উদ্বেগ
অং পিয়া সোনের মালিকানাধীন আরেক কোম্পানি গোল্ডেন ফিউচার লিংকেজ চায়না এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে অংশীদারত্বে মান্দালয় অঞ্চলের থাজি টাউনশিপে ২৩০ একর জমিতে ৪০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে নির্মাণে নয় মাস সময় এবং প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ০.০৮৫ মার্কিন ডলারে বিক্রির কথা ছিল।
এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা হলো এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী যন্ত্র এক ঘণ্টা চালালে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়, তার একক। বিদ্যুতের বিল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের অর্থ পরিশোধের হিসাব সাধারণত এ এককে করা হয়।
প্রস্তাবিত মূল্য ছিল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অন্য বিদেশি দরদাতাদের বলা দামের চেয়ে বেশি। পশ্চিমা কোম্পানিগুলো প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা ০.০৭ মার্কিন ডলার প্রস্তাব করেছিল, আর কোনো কোনো চীনা কোম্পানির দর ছিল ০.০৩৫ থেকে ০.০৫১ ডলার। পশ্চিমা প্রস্তাবের সঙ্গে তুলনা করলে, উল্লিখিত দুই দরের ভিত্তিতে গোল্ডেন ফিউচার লিংকেজের প্রস্তাবিত দাম ছিল প্রায় ২১ শতাংশ বেশি।
অনুমোদনের আবেদনটি প্রথমে মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলে জমা দেওয়া হয়। এরপর তা মান্দালয় কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। স্থানীয় এক বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বলেন, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রথমে মন্ত্রণালয় ও আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন যায়; প্রয়োজন হলে পরে তা ওপরের পর্যায়ে পাঠানো হয়। সরবরাহকারীর যুক্তি, কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ থেকে প্রস্তাবটি নিচের দিকে পাঠানোয় শাসকের ছেলের কোম্পানিকে নিবিড়ভাবে যাচাই করার আগ্রহ কমে যায়।
প্রস্তাবটি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়েছিল, তা বর্ণনাকারী প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। সে সময় ডলারের বিপরীতে সরকারি বিনিময় হার ২,১০০ কিয়াত এবং অনানুষ্ঠানিক হার প্রায় ২,৮৫০ কিয়াত ছিল। স্থানীয় ক্রেতারা কিয়াতে আয় ও ব্যয় করলেও ডলারে মূল্য নির্ধারিত জ্বালানি চুক্তিতে যে আর্থিক অনিশ্চয়তা থাকে, এই হারের ব্যবধানও তা তুলে ধরে।
বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবসার অপরিহার্য ব্যয়ে পরিণত
ইয়াঙ্গুনের ভবন-সংক্রান্ত সময়সীমার অনেক আগেই পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম কিনছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইয়াঙ্গুনের বাসিন্দারা সাধারণত প্রতিদিন চার ঘণ্টার দুটি সময়পর্বে, কখনো তারও কম সময় বিদ্যুৎ পেতেন। মান্দালয়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমন বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের কথা জানায়, যার কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে বা বিকল্প বিদ্যুতে বিনিয়োগ করতে হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ-সংকটের জন্য বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা, প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া, পাইপলাইন মেরামত এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করেছে। এল নিনোর তাপে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে ৫ অক্টোবর বিদ্যুৎ রেশনিংয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় ও নেপিডোর পরিবারগুলো প্রতিদিন বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের মুখে পড়ে।
পরিবারগুলো কীভাবে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছিল, ছোটখাটো কেনাকাটাতেই তার ইঙ্গিত মেলে। মান্দালয়ের ইলেকট্রনিকস বিক্রেতারা ১০০ ওয়াটের প্যানেলের সঙ্গে ৭০ অ্যাম্পিয়ার-ঘণ্টা ক্ষমতার ব্যাটারির চাহিদা বেশি বলে জানান। বিশেষ করে ফোন চার্জ করা ও আলো জ্বালানোর জন্য এসব কেনা হচ্ছিল। সৌরবাতির দাম অন্তত ৪৫ হাজার কিয়াত, আর ছাদে বসানোর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার দাম শুরু প্রায় ৪০ লাখ কিয়াত থেকে।
এক সরবরাহকারীর ভাষ্য, ৫০ লাখ কিয়াতের একটি ব্যবস্থা রান্না এবং ১.৫ হর্সপাওয়ারের পানির পাম্প চালাতে পারে। পাথেইংগি টাউনশিপের এক ফোন মেরামতের দোকানমালিক প্রায় ৬০ লাখ কিয়াত খরচ করে সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম কেনেন, কারণ দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালালে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণে অনেক খরচ হতো।
দোকানমালিক জানান, ইনভার্টারের ওয়ারেন্টি ১৩ বছর, প্যানেলের পাঁচ বছর এবং ব্যাটারির তিন বছর। এই ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদ ব্যবসার বাজেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যন্ত্রাংশগুলোর বদল ও সেবার চাহিদা এক রকম নয়। ছোট ব্যবস্থা কেনার সামর্থ্য নেই এমন পরিবারগুলোর জন্য কমে যাওয়া সরকারি বিদ্যুতের সরবরাহই ঠিক করে দেয় কখন তারা ঘরে আলো জ্বালাতে, ফোন চার্জ করতে বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবে।
ভবন সম্পন্ন করার অনুমোদনই পরবর্তী চাপের ক্ষেত্র
ইয়াঙ্গুনের আওতাভুক্ত প্রকল্পগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক সময়সীমা ১ নভেম্বর। বিল্ডিং কমপ্লিশন সার্টিফিকেটের অপেক্ষায় থাকা নির্মাতাদের আশঙ্কা, সৌরবিদ্যুতের কাজ বাকি থাকলে ভবনের অন্য সব কাজ শেষ হওয়া সত্ত্বেও ব্যবহার শুরুর অনুমোদন পেতে দেরি হতে পারে।
সময়সীমার সঙ্গে একাধিক বাধা একযোগে এসে পড়েছে: সরঞ্জামের উচ্চ দাম, ছাদে জায়গার সীমাবদ্ধতা, বিশেষজ্ঞ স্থাপনকারীর ঘাটতি এবং নতুন ব্যয়ের হিসাব না রাখা চুক্তি। বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকের হিসাবে, স্থাপনে অন্তত দুই মাস লাগে; অথচ ১ অক্টোবরের নির্দেশ থেকে কার্যকর হওয়ার তারিখ পর্যন্ত সময় মাত্র এক মাস।
প্রয়োজনীয় সংরক্ষণব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাসহ যথাযথভাবে নকশা করলে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সময় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভবনে বিদ্যুৎ দিতে পারে। তাৎক্ষণিক খরচের ভার পড়ছে ঠিকাদার ও মালিকদের ওপর, যাদের এই সরঞ্জামের অর্থ জোগাতে হবে। অন্যদিকে, এর ফলে তৈরি হওয়া চাহিদা এমন এক সরবরাহ ব্যবসায় যাচ্ছে, যেখানে সামরিক শাসকের পরিবারের আগে থেকেই বড় স্বার্থ রয়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- ইয়েসিডিসির ১ অক্টোবরের নির্দেশ অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে আওতাভুক্ত বাণিজ্যিক ভবন ও লিফট থাকা ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।
- ব্যবস্থাগুলোকে লিফট ও জরুরি বাতি চালানোর উপযোগী হতে হবে; বাণিজ্যিক স্থাপনায় ইয়েসকের বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে হবে।
- এক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকের হিসাবে, উপযোগী বাণিজ্যিক ব্যবস্থা স্থাপনে প্রায় ১০ কোটি কিয়াত এবং অন্তত দুই মাস লাগবে।
- সরঞ্জামের দাম বৃদ্ধি, ছাদে জায়গার সীমাবদ্ধতা, কারিগরের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত খরচ নিয়ে বিরোধের আশঙ্কায় ঠিকাদারেরা চাপে রয়েছেন।
- অং পিয়া সোনের কোম্পানিগুলোর সৌরবিদ্যুৎ আমদানি, সরঞ্জামের লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে স্বার্থ রয়েছে; এর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া দেওয়া চুক্তিও আছে।
- দীর্ঘ বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে পরিবার ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিকল্প বিদ্যুতের জন্য ইতিমধ্যে লাখ লাখ কিয়াত ব্যয় করেছে।






