নতুন নিয়মে আসছে যন্ত্র, খুচরা যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তিও
চীন ২০২৬ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে টানেল বোরিং মেশিন, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ এবং নির্দিষ্ট কিছু নির্মাণ সরঞ্জামের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ চালু করবে। এর ফলে বেইজিংয়ের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে, এমন সংবেদনশীল দেশ ও অঞ্চলে রপ্তানির জন্য নতুন করে লাইসেন্স নিতে হবে। অন্য গন্তব্যে পণ্য পাঠাতে নিবন্ধন এবং অনুমতি ছাড়া অন্যত্র সরবরাহ না করার অঙ্গীকার প্রয়োজন হবে।
সূচিপত্র
- নতুন নিয়মে আসছে যন্ত্র, খুচরা যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তিও
- কোন টানেল যন্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রণের আওতায়?
- নির্দিষ্ট সক্ষমতা ছাড়ালেই নিয়ন্ত্রণে পড়বে হাঁটতে সক্ষম খননযন্ত্র
- উচ্চ পার্বত্য এলাকায় ব্যবহারের কংক্রিট স্প্রেয়িং সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত
- অনুমতি ও নিবন্ধন কীভাবে কাজ করবে?
- শুল্ক ঘোষণা হবে গুরুত্বপূর্ণ যাচাইয়ের ধাপ
- বিদেশি অবকাঠামো প্রকল্প কেন নজর রাখছে
- বিস্তৃত প্যাকেজে ড্রোন ও ড্রেজারও রয়েছে
- সাম্প্রতিক সময়রেখায় নতুন পদক্ষেপের অবস্থান
- মূল বিষয়গুলো
১৯ অক্টোবর ঘোষিত পদক্ষেপগুলো রেলপথ ও অন্যান্য অবকাঠামোর জন্য টানেল খননকারী বিশাল যন্ত্রের বাইরেও বিস্তৃত। নির্দিষ্ট কিছু হাঁটতে সক্ষম খননযন্ত্র, উচ্চ পার্বত্য এলাকায় ব্যবহারের জন্য তৈরি কংক্রিট স্প্রেয়িং মেশিন এবং নিয়ন্ত্রিত সরঞ্জাম পুনর্নির্মাণ বা পরিচালনায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিও এর আওতায় পড়বে।
বিশ্বের টানেল বোরিং মেশিনের বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ চীনের দখলে। ফলে এ নিয়মের প্রভাব দেশের সীমানার অনেক বাইরের নির্মাণ প্রকল্পেও পড়তে পারে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য চীনা যন্ত্র আমদানিতে শুল্ক ছাড়পত্র পেতে জটিলতা ও বিলম্বের অভিজ্ঞতা ভারতের ইতিমধ্যেই হয়েছে।
ঘোষণায় রপ্তানির জন্য দুটি পথ নির্ধারণ করা হয়েছে: চীনের সঙ্গে বিরোধ থাকা সংবেদনশীল গন্তব্যে পণ্যের জন্য অনুমতির আবেদন, আর অন্য গন্তব্যের জন্য রপ্তানি সনদ পেতে নিবন্ধন। এ ছাড়া চীনের বাইরে যেসব সংস্থা ও ব্যক্তি চীনে উৎপত্তি হওয়া সরঞ্জাম অন্যত্র পাঠান, তাঁদের ওপরও বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় রাষ্ট্রীয় পরিষদ এসব পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। এর আইনি ভিত্তির মধ্যে রয়েছে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন, বৈদেশিক বাণিজ্য আইন, শুল্ক আইন এবং দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য রপ্তানি নিয়ন্ত্রণবিধি। নিয়ম কার্যকর হলে বেসামরিক ও সামরিক—দুই ধরনের কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্যের জন্য চীনের নিয়ন্ত্রণ তালিকা হালনাগাদ করা হবে।
কোন টানেল যন্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রণের আওতায়?
ঘোষণায় কোড 2B906-এর আওতায় ফুল-ফেস টানেল বোরিং মেশিন রাখা হয়েছে। এগুলো সামনে এগোতে এগোতে টানেলের সম্পূর্ণ প্রস্থচ্ছেদ খনন করে। অল্প অল্প করে শিলা বা মাটি সরায়, এমন সরঞ্জাম থেকে এগুলো আলাদা।
তালিকায় রয়েছে আর্থ প্রেসার ব্যালান্স শিল্ড, স্লারি ব্যালান্স শিল্ড এবং অন্যান্য শিল্ড মেশিন। খননের সম্মুখভাগে মাটিকে ঠেকনা দিতে এগুলো ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে। ওপেন, সিঙ্গেল শিল্ড, ডাবল শিল্ড এবং অন্যান্য ধরনের রক টানেল বোরিং মেশিনও এর আওতায় রয়েছে।
কোড 2A906-এর আওতায় বিশেষভাবে নকশা করা যন্ত্রাংশও তালিকাভুক্ত করেছে চীন: কাটিং টুল ও কাটারহেড, স্ক্রু কনভেয়ার, সেগমেন্ট ইরেক্টর, মেইন ড্রাইভ সিস্টেম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। কাটারহেড মাটিতে কাটে; স্ক্রু কনভেয়ার খনন করা উপাদান সরিয়ে নেয়; আর সেগমেন্ট ইরেক্টর টানেলের আস্তরণ তৈরির অংশগুলো যথাস্থানে বসায়।
নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বা যন্ত্রাংশের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা পুনর্নির্মাণ প্রযুক্তি কোড 2E906-এর আওতায় পড়ে। পুনর্নির্মাণ বলতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম মেরামত ও পুনর্গঠন করে আবার কর্মক্ষম অবস্থায় ফিরিয়ে আনা বোঝায়। ফলে নিয়ন্ত্রণ শুধু সম্পূর্ণ যন্ত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এর আওতায় পড়ছে সেগুলো পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও কারিগরি জ্ঞানও।
টানেল বোরিং মেশিনের বিধানে যন্ত্রের ধরন উল্লেখ করা হয়েছে, তবে ন্যূনতম মাপ বা ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। পণ্য শনাক্ত করার সময় রপ্তানিকারকদের ঘোষণায় থাকা শুল্ক পণ্যের রেফারেন্স নম্বরের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত বিবরণ ও নিয়ন্ত্রণ কোড যাচাই করতে হবে।
নির্দিষ্ট সক্ষমতা ছাড়ালেই নিয়ন্ত্রণে পড়বে হাঁটতে সক্ষম খননযন্ত্র
কোড 2B904-এর আওতায় হাঁটতে সক্ষম খননযন্ত্র নিয়ন্ত্রণে পড়বে, যদি সেগুলো চারটি সক্ষমতার সীমার যেকোনো একটি ছাড়ায়। এসব যন্ত্র কাজের সরঞ্জাম, ঠেকনা দেওয়ার পা বা চাকার সমন্বয়ে দুর্গম এলাকায় চলাচল ও খনন করে।
- ১.২ মিটারের বেশি উঁচু উল্লম্ব বাধা পার হওয়া।
- ১.৫ মিটারের বেশি গভীর পানিতে কাজ করা।
- ৩ মিটারের বেশি চওড়া নালা পার হওয়া।
- হেঁটে চলার সময় ৪০ ডিগ্রির বেশি খাড়া ঢাল বেয়ে ওঠা।
এই শ্রেণিতে পড়তে যন্ত্রটিকে শর্তগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি পূরণ করলেই হবে। উদাহরণস্বরূপ, ৩ মিটারের বেশি চওড়া নালা পার হতে সক্ষম কোনো খননযন্ত্র নির্ধারিত সীমার চেয়ে কম গভীর পানিতে চললেও এ শ্রেণিতে পড়বে।
কোড 2E904-এর আওতায় এসব খননযন্ত্রের হাইড্রোলিক সিস্টেমের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা ইলেকট্রো-হাইড্রোলিক প্রপোরশনাল কন্ট্রোল প্রযুক্তিও রয়েছে। সহজভাবে বললে, এ প্রযুক্তিতে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে হাইড্রোলিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়, ফলে চালক যন্ত্রের গতি ও কাজের ধরন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
উচ্চ পার্বত্য এলাকায় ব্যবহারের কংক্রিট স্প্রেয়িং সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত
উচ্চ পার্বত্য এলাকায় ব্যবহারের ওয়েট স্প্রেয়িং মেশিনের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণে ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়েছে। কোড 2B903-এর আওতায় পড়তে সরঞ্জামটি ৩,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় ব্যবহারের উপযোগী হতে হবে এবং তালিকাভুক্ত সব কারিগরি বৈশিষ্ট্য পূরণ করতে হবে; যেকোনো একটি পূরণ করলেই চলবে না।
এসব মেশিন মিশ্রিত উপাদান, যেমন কংক্রিট, পাম্প করে নজলে পাঠায়। বাতাস ও জমাট বাঁধার সহায়ক পদার্থ দিয়ে তা কাজের পৃষ্ঠে ছিটানো হয়। টানেল নির্মাণে সদ্য খনন করা মাটিকে ঠেকনা দিতে স্প্রে করা কংক্রিট কাজে লাগতে পারে।
নিয়ন্ত্রিত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে ৭৫ কিলোওয়াটের বেশি সর্বোচ্চ ক্ষমতা ও ৬৮০ নিউটন-মিটারের বেশি টর্কের ইঞ্জিন, ৫৫ কিলোওয়াটের বেশি সর্বোচ্চ ক্ষমতার বৈদ্যুতিক মোটর এবং ৯৫ শতাংশের বেশি উপাদান গ্রহণ দক্ষতাসম্পন্ন পাম্পিং ব্যবস্থা। মেশিনে প্রতি মিনিটে ১৫ ঘনমিটারের বেশি বাতাস সরবরাহ করতে সক্ষম এয়ার কম্প্রেসার এবং মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে কাজের উপযোগী হাইড্রোলিক তেলও থাকতে হবে।
কোড 2A903-এর আওতায় বিশেষভাবে নকশা করা যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত ক্ষমতা ও টর্কের সীমা পূরণকারী উচ্চ পার্বত্য এলাকার ইঞ্জিন, ইঞ্জিনের জন্য অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহের যন্ত্র, ৫৫ কিলোওয়াটের বেশি ক্ষমতার বৈদ্যুতিক মোটর, নির্ধারিত উৎপাদনক্ষমতার বেশি দুই-ধাপের এয়ার কম্প্রেসার, উচ্চ পার্বত্য এলাকার উপযোগী চ্যাসিস এবং ভাঁজ করা যায় এমন বুম।
নিয়ন্ত্রিত স্প্রেয়িং মেশিনের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হাইড্রোলিক ও পাম্পিং প্রযুক্তি কোড 2E903-এর আওতায় পড়ে। তাই উৎপাদক ও সরবরাহকারীদের রপ্তানির পরিকল্পনায় থাকা সম্পূর্ণ সরঞ্জামের পাশাপাশি পৃথক যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তিও খতিয়ে দেখতে হবে।
অনুমতি ও নিবন্ধন কীভাবে কাজ করবে?
চীনের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে, এমন সংবেদনশীল দেশ ও অঞ্চলে তালিকাভুক্ত পণ্য পাঠাতে রপ্তানিকারকদের রাষ্ট্রীয় পরিষদের বাণিজ্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতির আবেদন করতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া এসব পণ্য রপ্তানি করা যাবে না।
এই শ্রেণিতে কোন কোন দেশ ও অঞ্চল রয়েছে, ঘোষণায় তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। চীনা টানেল বোরিং মেশিন পেতে বিদ্যমান জটিলতায় প্রভাবিত দেশগুলোর মধ্যে ভারত রয়েছে। তবে নতুন ঘোষণায় সংবেদনশীল গন্তব্যের শ্রেণি নির্ধারণ করা হলেও কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
অন্য সব দেশ ও অঞ্চলে রপ্তানির জন্য নিবন্ধন করে রপ্তানি সনদ নিতে হবে। রপ্তানিকারক ও চূড়ান্ত ব্যবহারকারী—উভয়কেই অঙ্গীকার করতে হবে যে অনুমতি ছাড়া চীনে উৎপত্তি হওয়া তালিকাভুক্ত পণ্য চীনের সঙ্গে বিরোধ থাকা দেশ ও অঞ্চলে হস্তান্তর বা সরবরাহ করা হবে না।
চীনের বাইরে থাকা সংস্থা ও ব্যক্তিদের অন্যত্র সরবরাহের ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে: অনুমতি ছাড়া চীনে উৎপত্তি হওয়া আওতাভুক্ত পণ্য চীনের সঙ্গে বিরোধ থাকা সংবেদনশীল গন্তব্যে হস্তান্তর বা সরবরাহ করা যাবে না। ফলে বিদেশি ক্রেতার ক্ষেত্রে পণ্য কেনার প্রাথমিক গন্তব্যের পাশাপাশি পরবর্তী গন্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব পণ্যের বেসামরিক ও সামরিক—দুই ধরনের ব্যবহার রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, আইনি শর্ত পূরণ করা আবেদন অনুমোদন করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতি নিয়ে আলোচনা এবং বৈশ্বিক শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি।
শুল্ক ঘোষণা হবে গুরুত্বপূর্ণ যাচাইয়ের ধাপ
ঘোষণায় দেওয়া তথ্যের সত্যতার দায় চীনা রপ্তানিকারকদের নিতে হবে এবং তাঁদের পণ্য নিয়ন্ত্রিত কি না, তা যাচাই আরও জোরদার করতে হবে। তালিকাভুক্ত পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ঘোষণার মন্তব্যের ঘরে সেগুলোকে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কোড উল্লেখ করতে হবে।
নিয়ন্ত্রণের আওতায় নেই, তবে তালিকাভুক্ত পণ্যের মাপ, সূচক বা সক্ষমতার কাছাকাছি—এমন পণ্যের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে। রপ্তানিকারকদের জানাতে হবে যে পণ্যটি নিয়ন্ত্রিত নয়, পাশাপাশি এর প্রকৃত বৈশিষ্ট্যও দিতে হবে। ফলে কোনো সরঞ্জাম নির্ধারিত সীমার ঠিক বাইরে থাকলেও তার কারিগরি নথিপত্র সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুত করতে হবে।
তথ্যের পূর্ণতা, নির্ভুলতা বা সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে শুল্ক কর্তৃপক্ষ ঘোষণা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে পারে। যাচাই চলাকালে পণ্য ছাড় করা হবে না। কোনো যন্ত্র বা বদলি যন্ত্রাংশের অপেক্ষায় থাকা নির্মাণ প্রকল্পে ঘোষণা যাচাইয়ে সময় লাগলে সরবরাহের সময়সূচিতে প্রভাব পড়তে পারে।
১৯ অক্টোবর প্রকাশিত পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে বহির্গামী দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের চালানে তাৎক্ষণিক যাচাই চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পণ্য কীভাবে পরিবহন করা হয়েছে, তা দেখাতে রসিদ ও চালানের নথি চাওয়া হয়েছে। প্রচলিত মাল পরিবহনের বাইরেও সীমান্তপারের ই-কমার্স, যাত্রীর ব্যাগেজ, ডাকযোগে পাঠানো পণ্য এবং এক্সপ্রেস কুরিয়ারের চালানও এর আওতায় রয়েছে।
দুটি পদক্ষেপ ভিন্ন সময়সূচিতে কার্যকর হচ্ছে। পৃথক চালান যাচাই অবিলম্বে শুরু হয়েছে। মূল ঘোষণায় উল্লেখ করা নির্মাণ সরঞ্জামের ওপর নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে ১৮ নভেম্বর থেকে।
বিদেশি অবকাঠামো প্রকল্প কেন নজর রাখছে
বিশ্বের টানেল বোরিং মেশিনের বাজারে চীনের প্রায় ৭০ শতাংশ অংশ থাকায় বহু বিদেশি ক্রেতা চীনে উৎপাদিত যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। চীনের শীর্ষ উৎপাদকদের মধ্যে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ইকুইপমেন্ট গ্রুপ রয়েছে। তাদের শিল্ড পণ্য ডেনমার্ক ও ফ্রান্সসহ ৩৬টি দেশে ব্যবহৃত হয়। জার্মানির হেরেনকনেখট এজিও এ বাজারের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের একটি।
ভারতে আগে থেকেই শুল্ক ছাড়পত্র পেতে জটিলতা থাকায় এ ঘোষণা দেশটির অবকাঠামো খাতের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। খননকাজের সময়সূচি সাধারণত টানেল বোরিং মেশিনকে কেন্দ্র করে নির্ধারণ করা হয়। মেশিন পেতে দেরি হলে টানেল খনন শুরুর সময় পিছিয়ে যেতে পারে; যন্ত্রাংশ দেরিতে পৌঁছালে চলমান কাজও প্রভাবিত হতে পারে।
কাটারহেড, মেইন ড্রাইভ ও পুনর্নির্মাণ প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করায় নিয়ন্ত্রণের প্রভাব মূল বিক্রির পরও থেকে যায়। চীনা মেশিন ব্যবহার করা কোনো প্রকল্পে মেশিন আমদানির কাগজপত্রের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বদলি যন্ত্রাংশ ও পুনর্নির্মাণের বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হতে পারে।
ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের সরঞ্জামের নিয়ন্ত্রণ শ্রেণি, গন্তব্য, চূড়ান্ত ব্যবহারকারী এবং অন্যত্র পাঠানোর পরিকল্পনা আছে কি না, তা নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিটি চালানের বাস্তব প্রভাব এসব তথ্য এবং প্রযোজ্য অনুমতি বা নিবন্ধন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
বিস্তৃত প্যাকেজে ড্রোন ও ড্রেজারও রয়েছে
চীন আরও কিছু ধরনের ড্রোন, সেগুলোর যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ ঘোষণার পাশাপাশি ড্রেজার এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এনেছে। ড্রেজারের ব্যবস্থায় মাড পাম্প ও কাটারহেডের মতো যন্ত্রাংশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ড্রেজার নদী, পোতাশ্রয় ও অন্যান্য জলপথের তলদেশ থেকে উপাদান সরিয়ে নেয়। এগুলো বাণিজ্যিক নির্মাণে সহায়তা করে, আবার নৌবাহিনীর স্থাপনা নির্মাণেও ব্যবহার করা যেতে পারে। একইভাবে, টানেল বোরিং মেশিন বেসামরিক অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত হলেও সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনার জন্য সুড়ঙ্গ খননেও সক্ষম।
চীন বিপুল পরিমাণে ড্রেজার উৎপাদন করে। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক রয়্যাল আইএইচসি এ বাজারের প্রতিদ্বন্দ্বীদের একটি। নির্মাণ সরঞ্জাম ও ড্রেজার নিয়ে পরিবর্তনগুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দুটি পৃথক ঘোষণায় জানিয়েছে। এগুলো কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ১৮ নভেম্বর।
মন্ত্রণালয় বলেছে, বেইজিংয়ের সঙ্গে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোকে তারা বিষয়টি জানিয়েছে। ব্যাখ্যায় সরঞ্জামের বেসামরিক ও সামরিক ব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে চীনের ঘোষিত স্বার্থের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শর্ত পূরণকারী বাণিজ্যের পথও খোলা রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়রেখায় নতুন পদক্ষেপের অবস্থান
বেইজিংয়ের অক্টোবরে দেওয়া ঘোষণাগুলো পণ্য ও প্রযুক্তির ওপর আগের কিছু বিধিনিষেধ ও প্রস্তাবের পর এসেছে। চীন বিরল মৃত্তিকা মৌল রপ্তানিতে সীমা আরোপ করেছে এবং জুনে ড্রোন নির্মাতা টিল ড্রোনস ও জায়া রোবোটিকসসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি প্রতিষ্ঠানে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে।
যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণের কিছু আগে ঘোষিত একটি প্রযুক্তি প্রস্তাবে উন্নত ৪০টি প্রযুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত। বায়োমেডিকেল প্রযুক্তির পাঁচটি ক্ষেত্রেও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব করা হয়েছে; এ বিষয়ে এক মাসের জনপরামর্শ চলছে।
- জুন ২০২৬: ড্রোন নির্মাতা দুটি প্রতিষ্ঠানসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি প্রতিষ্ঠানে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করে চীন।
- ১৬ অক্টোবর ২০২৬: বায়োমেডিকেল প্রযুক্তির পাঁচটি ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক মাসের জনপরামর্শ শুরু হয়।
- ১৯ অক্টোবর ২০২৬: নির্মাণ সরঞ্জামের নিয়ন্ত্রণ, ড্রেজার-সংক্রান্ত পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা করে চীন। বহির্গামী চালানের পৃথক যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়।
- ১৮ নভেম্বর ২০২৬: নির্মাণ সরঞ্জামের নতুন নিয়ন্ত্রণ ও ড্রেজারের সংশোধিত ব্যবস্থা কার্যকর হবে এবং সে অনুযায়ী দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের নিয়ন্ত্রণ তালিকা হালনাগাদ হবে।
প্রযুক্তি নিয়ে জনপরামর্শের ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। নির্মাণ সরঞ্জামের ঘোষণায় কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ থাকায় প্রকাশের পর শ্রেণিবিন্যাস, কারিগরি নথি ও গন্তব্যের তথ্য প্রস্তুত করতে রপ্তানিকারক ও ক্রেতারা এক মাস সময় পাচ্ছেন।
বিদেশের নির্মাণস্থলে সরঞ্জাম সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক কাজটি স্পষ্ট: কোন যন্ত্র, যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি আওতাভুক্ত তা শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় রপ্তানি-পথ নির্ধারণ করা এবং পরিকল্পিত গ্রহীতা ও গন্তব্যের নথি রাখা। এ নিয়ম চীন থেকে প্রথম চালানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্যত্র হস্তান্তরের বিষয়টিও বিবেচনায় এনেছে।
মূল বিষয়গুলো
- টানেল বোরিং মেশিন, নির্দিষ্ট নির্মাণ সরঞ্জাম, যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তির ওপর চীনের নতুন নিয়ন্ত্রণ ২০২৬ সালের ১৮ নভেম্বর কার্যকর হবে।
- চীনের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে, এমন সংবেদনশীল দেশ ও অঞ্চলে রপ্তানির জন্য অনুমতি লাগবে; অন্য গন্তব্যে নিবন্ধন ও রপ্তানি সনদ প্রয়োজন হবে।
- চীনে উৎপত্তি হওয়া আওতাভুক্ত পণ্য নিয়ে কাজ করা চীনের বাইরের সংস্থা ও ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও অন্যত্র হস্তান্তরে বিধিনিষেধ প্রযোজ্য।
- তালিকাভুক্ত সক্ষমতার যেকোনো একটি ছাড়ালেই হাঁটতে সক্ষম খননযন্ত্র নিয়ন্ত্রণে পড়বে। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় স্প্রেয়িং মেশিনকে সব নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
- বিশ্বের টানেল বোরিং মেশিনের বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ চীনের দখলে। চীনা মেশিন আমদানিতে বিলম্বের অভিজ্ঞতা ভারতের আগেই হয়েছে।
- ঘোষণা যাচাই করতে গিয়ে শুল্ক কর্তৃপক্ষ চালান আটকে রাখতে পারে। বহির্গামী দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য চালানের পৃথক যাচাই ১৯ অক্টোবর থেকেই শুরু হয়েছে।






