বেতন বাড়ানোর সুপারিশে সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানের জন্য রাখা হয়েছে বাড়তি সুযোগ
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ওয়েজেস কাউন্সিল মাসে এস$২,৮০০ পর্যন্ত আয় করেন এমন কর্মীদের স্থায়ী বেতন ৬% থেকে ৮% বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি, লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব কর্মীর বেতন মাসে অন্তত এস$১২০ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে নতুন একটি শ্রেণি যুক্ত করেছে।
সূচিপত্র
- বেতন বাড়ানোর সুপারিশে সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানের জন্য রাখা হয়েছে বাড়তি সুযোগ
- কোন নিয়োগকর্তার কতটা বাড়ানো উচিত?
- লোকসানি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা শ্রেণি কেন
- শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির সুফল সব খাতে সমানভাবে পৌঁছায়নি
- সংশোধিত পদ্ধতির কারণ বুঝতে কম বাস্তবায়নের হার সহায়ক
- স্বেচ্ছামূলক নির্দেশিকা ও বাধ্যতামূলক মজুরি-নিয়মের যোগসূত্র
- অন্য কর্মীদের জন্য নির্দেশিকার তাৎপর্য
- এআই কর্মক্ষেত্র বদলে দেওয়ায় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ কমেছে
- প্রশিক্ষণকে কাজের অংশ করতে নির্ধারিত সময় দরকার
- মূল বিষয়গুলো
২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর ঘোষিত নির্দেশিকাগুলো ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ভালো ফল করা নিয়োগকর্তাদের সুপারিশ করা শতাংশ হারে, অথবা অন্তত এস$১৩৫ থেকে এস$১৭০ বেতন বাড়াতে হবে—যেটি বেশি। বাড়তির পরিমাণ নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর।
সরকার সুপারিশগুলো গ্রহণ করেছে। এগুলো সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; এর মধ্যে ইউনিয়ন আছে এবং নেই—এমন প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তবে এগুলো স্বেচ্ছামূলক। অন্য যেসব প্রকল্পের আওতায় নিয়োগকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক মজুরি-সংক্রান্ত শর্ত আছে, সেগুলো বহাল থাকবে।
কাউন্সিলে সরকার, নিয়োগকর্তা ও শ্রম আন্দোলনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। এর মূল বক্তব্য হলো, সিঙ্গাপুরের শক্তিশালী অর্থনীতি থেকে লাভবান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত সেই সুফল কর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া; আর আর্থিক চাপে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বয়ের সুযোগ দেওয়া।
ন্যাশনাল ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসের সভাপতি কে থানালেচিমি বলেন, কম মজুরির কর্মীদের জন্য ২০২১ সালে সংখ্যাভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম শতাংশের পরিসর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগের পরিসর ছিল ৫.৫% থেকে ৭.৫%; অর্থাৎ নিম্ন ও উচ্চ—দুই সীমাই আধা শতাংশ পয়েন্ট করে বেড়েছে।
সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কুয়াহ বুন উই বলেন, দেশটির আবাসিক কর্মীদের প্রায় ২০% মাসে এস$২,৮০০ বা তার কম আয় করেন। তাঁদের ক্ষেত্রে এই সুপারিশ নিয়মিত পারিবারিক আয়কে প্রভাবিত করতে পারে, শুধু বোনাসের পরিমাণকে নয়।
কোন নিয়োগকর্তার কতটা বাড়ানো উচিত?
কাউন্সিল নিয়োগকর্তাদের চারটি ভাগে রেখেছে। প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক ফলাফল ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক প্রত্যাশা অনুযায়ী তাদের শ্রেণি নির্ধারিত হবে:
- যেসব নিয়োগকর্তার ফলাফল ভালো এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইতিবাচক, তাঁদের ৬% থেকে ৮% বৃদ্ধির উচ্চ সীমায়, অথবা অন্তত এস$১৩৫ থেকে এস$১৭০—যেটি বেশি—বেতন বাড়ানো উচিত।
- যেসব নিয়োগকর্তার ফলাফল ভালো, কিন্তু ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অনিশ্চিত, তাঁদের ওই পরিসরের মাঝামাঝি হারে, অথবা অন্তত এস$১৩৫ থেকে এস$১৭০—যেটি বেশি—বেতন বাড়ানো উচিত।
- যেসব নিয়োগকর্তার ফলাফল ভালো নয়, তবে তাঁরা লাভে আছেন, তাঁদের ৬% থেকে ৮% বৃদ্ধির নিম্ন সীমায়, অথবা অন্তত এস$১২০—যেটি বেশি—বেতন বাড়ানো উচিত।
- যেসব নিয়োগকর্তার ফলাফল ভালো নয় এবং তাঁরা লোকসানে আছেন, তাঁদের অন্তত এস$১২০ বেতন বাড়ানো উচিত।
বিশেষভাবে ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই মাত্রার চেয়েও বেশি বাড়াতে উৎসাহিত করা হয়েছে। নিয়োগকর্তাদের মজুরি পর্যালোচনা করা এবং ব্যবসার সম্ভাবনা উন্নত হলে আরও বাড়তি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
স্থায়ী বেতন বৃদ্ধি নিয়মিত মজুরি বাড়ায়; একবার দেওয়া বোনাসের মতো নয়। আয়ের ভিন্ন স্তরে শতাংশ ও ডলারের অঙ্কের তুলনা ভিন্নভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মাসে এস$২,৮০০ আয় করা কর্মীর জন্য ৬% হলো এস$১৬৮ এবং ৮% হলো এস$২২৪। মাসে এস$১,৫০০ আয় করা কারও ক্ষেত্রে একই শতাংশে বৃদ্ধি হবে যথাক্রমে এস$৯০ ও এস$১২০। তাই ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানের জন্য সুপারিশ করা নির্দিষ্ট ডলারের অঙ্কে তাঁদের বেতন আরও বেশি বাড়বে।
লোকসানি নিয়োগকর্তার জন্য নতুন এস$১২০ বৃদ্ধির সুপারিশ মাসে এস$১,৫০০ মজুরির ৮%, অথবা এস$২,৮০০ মজুরির প্রায় ৪.৩%। তাই নির্দিষ্ট অঙ্কে বেতন বাড়ালে যাঁদের প্রাথমিক আয় কম, তাঁরা শতাংশের হিসাবে বেশি সুবিধা পান।
লোকসানি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা শ্রেণি কেন
এবারই প্রথম কাউন্সিল খারাপ ফল করা ও লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ব্যয় মোট আয়ের চেয়ে বেশি।
কুয়াহ বলেন, আগের সুপারিশে দেওয়া শতাংশের পরিসর পূরণ করা অনেক নিয়োগকর্তার জন্য কঠিন হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, এস$১২০-এর ন্যূনতম সীমা অর্জনযোগ্য লক্ষ্য, যা সবচেয়ে কম মজুরি পাওয়া কর্মীদের জন্যও অর্থবহ বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
ন্যাশনাল ওয়েজেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সিয়ে ফু হুয়া নমনীয়তা বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন:
কম মজুরির কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি সমান না হওয়ায়, আরও নমনীয়তার প্রয়োজনীয়তাও এনডব্লিউসি স্বীকার করছে।
জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব স্ট্যানলি লোহ বলেন, কোনো ব্যবসা ভালো করেছে কি না—এমন বিস্তৃত বর্ণনার চেয়ে লাভজনকতা যাচাই করা সহজ বলে এটিকে মানদণ্ড হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জরিপের মাধ্যমে নিয়োগকর্তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে। কুয়াহ বলেন, লোকসানের ভুল দাবি ঠেকাতে নিয়োগকর্তাদের ফেডারেশনও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করবে।
শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির সুফল সব খাতে সমানভাবে পৌঁছায়নি
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে সিঙ্গাপুরের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬% বেড়েছে। প্রথমার্ধে শ্রম উৎপাদনশীলতা আগের বছরের তুলনায় ৩.৮% বেড়েছে। উৎপাদনশীলতা দিয়ে বোঝা যায়, কর্মীরা কত পণ্য বা সেবা উৎপাদন করছেন; উৎপাদন বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে বেশি মজুরি দেওয়া সহজ হতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা জোরালো থাকায় ইলেকট্রনিকস ও প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং খাত লাভবান হয়েছে। বিপরীতে, খাদ্য ও পানীয় পরিষেবা খাতে সংকোচন ঘটেছে। ফলে অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পৃথক নিয়োগকর্তাদের পরিস্থিতি ছিল একেক রকম।
লোহ বলেন, এআই-সম্পর্কিত চাহিদা থেকে লাভবান প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত কর্মীদের সঙ্গে সেই সুফল ভাগ করে নেওয়া। খাদ্য ও পানীয় পরিষেবাসহ ভোক্তাদের সেবা দেওয়া ব্যবসাগুলোর টেকসই বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কাজের ধরন বদলে নেওয়া অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
ফুড, ড্রিংকস অ্যান্ড অ্যালায়েড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নির্বাহী সম্পাদক মেলিসা ঙ বলেন, খাতটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয়ের চাপে থাকলেও বিভিন্ন পদের কর্মীরা এর ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতায় অবদান রেখেছেন। অনেক কর্মীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বেতন বৃদ্ধির জোরালো সুপারিশকে তিনি স্বাগত জানান।
সিঙ্গাপুর-জার্মান চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড কমার্সও অর্থনৈতিক কর্মদক্ষতা ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক টিম ফিলিপি কর্মসংস্থান ব্যয়ের সম্মিলিত প্রভাব প্রতিযোগিতার সক্ষমতার ওপর কীভাবে পড়ছে, তা নিয়মিত পর্যালোচনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দক্ষ স্থানীয় কর্মী খুঁজে পেতে সমস্যার কথাও তুলে ধরেন।
সংশোধিত পদ্ধতির কারণ বুঝতে কম বাস্তবায়নের হার সহায়ক
লোহ বলেন, আগের সুপারিশ কম মজুরির কর্মীদের জন্য বাস্তবায়ন করেছেন নিয়োগকর্তাদের এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি। নির্দেশিকাগুলো যখন ছোট একটি গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল, তখন তা বাস্তবায়নের হার ৭০%-এর বেশি ছিল। ২০২১ সালে সুপারিশ করা বৃদ্ধির হার বাড়ার পাশাপাশি এর আওতাও সম্প্রসারিত হয়।
লোহ বলেন, নির্দেশিকা পুরোপুরি মানেননি এমন নিয়োগকর্তাদের ৬০%-এর বেশি তবু বেতন বাড়িয়েছেন, যদিও সুপারিশের চেয়ে কম। কাউন্সিল আশা করছে, নতুন শ্রেণিটি আরও বেশি সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানকে একটি স্পষ্ট লক্ষ্য পূরণে উৎসাহিত করবে।
থানালেচিমি বলেন, ব্যবসার ফলাফল সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকলে কর্মীরা বেতন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বুঝতে পারেন। তিনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস অ্যাক্টসহ বিভিন্ন সুরক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন:
আপনি যখন স্বচ্ছ থাকেন, তখন কর্মীদের সঙ্গে আস্থা তৈরি হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও হিসাবের সময়কালগুলো হলো:
- মার্চ ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬: ব্যবসায়িক ফলাফল মূল্যায়নের সময়কাল; এটি জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক মজুরি পরিবর্তন জরিপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- আগস্ট থেকে অক্টোবর ২০২৬: সুপারিশ প্রণয়নের জন্য কাউন্সিলের বৈঠক।
- ১৯ অক্টোবর ২০২৬: নির্দেশিকা ঘোষণা।
- ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭: নতুন নির্দেশিকার আওতাধীন সময়কাল।
- ২০২৮: প্রগ্রেসিভ ওয়েজ ক্রেডিট স্কিম এ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
স্বেচ্ছামূলক নির্দেশিকা ও বাধ্যতামূলক মজুরি-নিয়মের যোগসূত্র
জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রগ্রেসিভ ওয়েজ মডেল, লোকাল কোয়ালিফাইং স্যালারি এবং প্রগ্রেসিভ ওয়েজ মার্ক স্বীকৃতি প্রকল্পের মতো ব্যবস্থাগুলো কম মজুরি পাওয়া পূর্ণকালীন কর্মীদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ জনকে সুবিধা দেয়।
প্রগ্রেসিভ ওয়েজ মডেল ও লোকাল কোয়ালিফাইং স্যালারি সংশ্লিষ্ট নিয়মের আওতাভুক্ত নিয়োগকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক মজুরি-সংক্রান্ত শর্ত নির্ধারণ করে। ন্যাশনাল ওয়েজেস কাউন্সিলের সুপারিশে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির কথা বলা হয়, যা ব্যবসায়িক পরিস্থিতি অনুযায়ী মজুরি কীভাবে বাড়ানো উচিত সে বিষয়ে নিয়োগকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেয়।
কিছু কর্মী প্রগ্রেসিভ ওয়েজ মডেল ও লোকাল কোয়ালিফাইং স্যালারির আওতার বাইরে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে এমন ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীরা, যারা বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে না এবং প্রগ্রেসিভ ওয়েজ মডেলের আওতাভুক্ত খাতের বাইরের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। এসব নিয়োগকর্তার ক্ষেত্রে কাউন্সিলের নির্দেশিকা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ও আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বেতন বাড়াতে উৎসাহ দেয়।
প্রগ্রেসিভ ওয়েজ ক্রেডিট স্কিমের মাধ্যমে যোগ্য নিয়োগকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির অর্থ জোগাতে সরকার সহায়তা অব্যাহত রাখবে। প্রকল্পটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই সহায়তার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের সঙ্গে অর্জিত সুফল ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কাউন্সিল।
দীর্ঘমেয়াদে কাউন্সিলের লক্ষ্য, কম মজুরির কর্মীরা আয়-পরিসরের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা কর্মীর সঙ্গে ব্যবধান কিছুটা কমাবেন। এ জন্য এক দশক ধরে তাঁদের মজুরি মধ্যম মজুরির তুলনায় ধারাবাহিকভাবে দ্রুত হারে বাড়তে হবে।
অন্য কর্মীদের জন্য নির্দেশিকার তাৎপর্য
ভালো ফল ও ইতিবাচক ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা আছে এমন নিয়োগকর্তাদের স্থায়ী বেতন বৃদ্ধি ও বোনাসের মতো পরিবর্তনশীল অর্থপ্রদানের মাধ্যমে আরও বিস্তৃতভাবে কর্মীদের পুরস্কৃত করা উচিত। যেসব প্রতিষ্ঠান ভালো করছে, কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তারা স্থায়ী বেতন বৃদ্ধি কিছুটা সংযত রেখে কর্মীদের অবদান স্বীকৃতি দিতে পরিবর্তনশীল অর্থপ্রদান ব্যবহার করতে পারে।
যেসব নিয়োগকর্তার ফলাফল ভালো নয়, তাঁরা বেতন বৃদ্ধির গতি কমাতে পারেন; এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার উচিত দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসার উন্নতির আশা করছে, তাদের উপযুক্ত ব্যবসায়িক সূচকের সঙ্গে যুক্ত ভবিষ্যৎ পরিবর্তনশীল অর্থপ্রদানের পরিকল্পনা বিবেচনা করা উচিত।
বার্ষিক ও মাসিক পরিবর্তনশীল অংশসহ নমনীয় মজুরি ব্যবস্থা পুরোপুরি কাজে লাগানোরও আহ্বান জানিয়েছে কাউন্সিল। এগুলো বেতনের এমন অংশ, যা ব্যবসায়িক পরিস্থিতির সঙ্গে বদলাতে পারে। মন্দার সময় ব্যয় সমন্বয় এবং পরিস্থিতি ভালো হলে দ্রুত পারিশ্রমিক বাড়ানোর সুযোগ দেয় এই ব্যবস্থা।
লোহ বলেন, মূল্যস্ফীতি "কিছুটা বেশি, তবে নিয়ন্ত্রণে" রয়েছে এবং বিশেষ বার্ষিক অর্থপ্রদানের মতো বাড়তি পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তবু কাউন্সিলের বিস্তৃত মজুরি সুপারিশের অংশ হিসেবে নিয়োগকর্তারা বোনাস দিতে পারেন। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী হাও শুও বলেন, মূল্যস্ফীতির প্রভাব হিসাব করার পরও ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মোট মাসিক আয় বেড়েছে।
এআই কর্মক্ষেত্র বদলে দেওয়ায় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ কমেছে
কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর আহ্বান এসেছে সংগঠিত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার সময়ে। জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৬৪% নিয়োগকর্তা কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন; ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৬৬.৪%।
একই সময়ে প্রশিক্ষণ পাওয়া কর্মীদের অনুপাত ৫২.৬% থেকে কমে ৪৮.১% হয়েছে। অর্থাৎ হারটি ৪.৫ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে এবং ২০২৫ সালে কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ পাওয়া কর্মীর সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমেছে। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা নিয়োগকর্তার হার কমেছে ২.৪ শতাংশ পয়েন্ট।
কাউন্সিল নিয়োগকর্তাদের দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহার, কাজের ধরন নতুন করে সাজানো এবং কর্মীদের উন্নয়নে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। কর্মীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি এআই-জ্ঞান, বিচারবোধ ও যোগাযোগ দক্ষতা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হয়েছে। লক্ষ্য হলো, কর্মীরা যেন প্রযুক্তি এবং যে কাজে এটি প্রয়োগ করা হচ্ছে—দুটিই বুঝতে পারেন।
কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, কর্মীদের উদ্যোগে নেওয়া কোর্সে সহায়তা এবং নতুন দক্ষতা ও সম্ভাব্য ভূমিকা চিহ্নিত করতে কাঠামোবদ্ধ ক্যারিয়ার আলোচনা করা উচিত নিয়োগকর্তাদের। কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তনে সহায়তার জন্য মানবসম্পদ বিভাগের সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশও রয়েছে।
কুয়াহ বলেন, কর্মী কমানোর সুযোগ হিসেবে নয়, বরং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে এআই ব্যবহার করা উচিত। প্রযুক্তির পরিবর্তনে কিছু পদের অবসান হতে পারে, আবার অন্য ক্ষেত্রে নতুন পদ তৈরি হতে পারে।
প্রশিক্ষণকে কাজের অংশ করতে নির্ধারিত সময় দরকার
থানালেচিমি নিয়োগকর্তাদের কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত সময় এবং বেশি মূল্য সংযোজন হয় এমন কাজে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান, বিশেষ করে এআই-সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে। তাঁর আহ্বানে কর্মীদের বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শেখার জন্য সময় বের করার বাস্তব সমস্যাটি উঠে এসেছে।
নিয়োগকর্তাদের কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা ব্যাখ্যা করে এনটিইউসির সভাপতি বলেন:
বাস্তবে এর অর্থ হলো কাজের চাপ ও কাজের ব্যবস্থা এমনভাবে পরিকল্পনা করা, যাতে কর্মীরা তাঁদের কাজের দায়িত্বে আপস না করে বা শুধু ব্যক্তিগত সময়ের ওপর নির্ভর না করেই প্রাসঙ্গিক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারেন।
কর্মীদের জন্য এর অর্থ হবে, সব শেখার কাজ কর্মঘণ্টার পর করতে না হয়ে কোর্সের জন্য নির্দিষ্ট সময় পাওয়া। নিয়োগকর্তাদের ক্ষেত্রে এর জন্য প্রশিক্ষণ বাজেটের পাশাপাশি কর্মীসংস্থান ও কাজের চাপ পরিকল্পনা করতে হবে।
হুয়া বলেন, কাউন্সিল বয়স্ক কর্মীদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও দেখবে, তবে এ বছরের নির্দেশিকায় নয়। এ কাজের জন্য কোনো তারিখ জানানো হয়নি। তাৎক্ষণিক সুপারিশগুলোতে প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ মজুরি বৃদ্ধিতে সহায়ক দক্ষতায় বিনিয়োগ ও কাজের ধরন পরিবর্তনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- নির্দেশিকাগুলো ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নিয়োগকর্তার ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অনুযায়ী মাসে এস$২,৮০০ পর্যন্ত আয় করা কর্মীদের বেতন ৬% থেকে ৮% বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
- ভালো ফল করা নিয়োগকর্তাদের প্রযোজ্য শতাংশ হারে অথবা অন্তত এস$১৩৫ থেকে এস$১৭০—যেটি বেশি—বেতন বাড়ানো উচিত।
- খারাপ ফল করা ও লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানের কম মজুরির কর্মীদের বেতন মাসে অন্তত এস$১২০ বাড়ানোর সুপারিশ করে নতুন একটি শ্রেণি যুক্ত হয়েছে।
- সরকার নির্দেশিকাগুলো গ্রহণ করেছে, তবে সেগুলো স্বেচ্ছামূলক। অন্য মজুরি প্রকল্পের আওতাভুক্ত বাধ্যতামূলক শর্তগুলো বহাল থাকবে।
- আগের সুপারিশ পূরণ করেছেন নিয়োগকর্তাদের এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি, যদিও আরও অনেকে কম হারে বেতন বাড়িয়েছেন।
- ২০২৫ সালে কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ কমেছে। কাউন্সিল এআই-দক্ষতা, কাজের ধরন নতুন করে সাজানো এবং প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত সময়ে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।






