জুনের ২৭ তারিখের মধ্যে হিমায়িত ব্যয়ের প্রায় সব খাত ছাড়
২০২৫ সালের ২৭ জুনের মধ্যে তাইওয়ানের আইনসভা হিমায়িত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ২৭৯টি খাতের মধ্যে ২৭৮টি ছাড় করেছিল। অমীমাংসিত ছিল শুধু দেশীয়ভাবে সাবমেরিন নির্মাণ কর্মসূচির অর্থায়ন। সাময়িকভাবে সামরিক ব্যয়ের ৯০ বিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার (এনটি ডলার) আটকে দেওয়া এবং সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও নির্মাণের সময়সূচিতে চাপ তৈরির বিরোধের পর এসব অর্থ ছাড় করা হয়।
সূচিপত্র
- জুনের ২৭ তারিখের মধ্যে হিমায়িত ব্যয়ের প্রায় সব খাত ছাড়
- মন্ত্রণালয় আইনপ্রণেতাদের কাছে যা ছাড়ের অনুরোধ করেছিল
- পর্যালোচনা কীভাবে শেষের দিকে এগোল
- সাবমেরিনের শর্তটি বহাল ছিল
- অনুমোদনে বিলম্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ
- বডি আর্মারে তদারকির পরিধি স্পষ্ট
- নির্মাণের সমস্যা পরিবর্তনের দাবি তোলে
- রাজনৈতিক সমঝোতা ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বড় ব্যবধান
- মূল বিষয়গুলো
লেজিসলেটিভ ইউয়ান ফেব্রুয়ারিতে অর্থ আটকে দেয় এবং প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা ব্যয় থেকে আলাদাভাবে ৮.৪ বিলিয়ন এনটি ডলার কমায়। কমিটির সদস্য কুওমিনতাং (কেএমটি) আইনপ্রণেতা চেন ইয়ং-কাংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জুনের শেষ নাগাদ এর পররাষ্ট্র ও জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিটির তিনটি বৈঠকে হিমায়িত প্রায় সব খাত ছাড় করা হয়। সর্বশেষ দফায় ছিল ৪০টি খাত।
এর বাস্তব গুরুত্বের বিস্তারিত রয়েছে জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৬ মে-র বাজেট প্রতিবেদনে। মন্ত্রণালয় জানায়, হিমায়িত পরিচালন তহবিল সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণের গোলাবারুদ, বিমান ও জাহাজের জ্বালানি, অস্ত্র সংগ্রহ এবং সামরিক ইউনিটগুলোর মৌলিক পরিচালন ব্যয়ে সহায়তা করত।
তাই বিরোধটি তাইওয়ান কত অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছিল, শুধু তা নিয়ে ছিল না; সশস্ত্র বাহিনী কখন সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে, সেটিও ছিল প্রশ্ন। বাজেট স্থগিত থাকলে বরাদ্দটি বাজেটে থাকে, তবে কর্মকর্তাদের অর্থ ব্যয়ের আগে আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়। আর বরাদ্দ কমালে বাজেটের অর্থের পরিমাণই কমে যায়।
সামরিক পরিকল্পনাকারীদের জন্য এই পার্থক্যের তাৎক্ষণিক প্রভাব রয়েছে। কমিটির পর্যালোচনার পর ছাড় করা অর্থ দিয়ে ওই বছরের জন্য আগে থেকে পরিকল্পিত কেনাকাটা করা যায়। বাজেট থেকে বাদ পড়া ব্যয় ফিরিয়ে আনতে চাইলে সরকারকে নতুন করে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
মন্ত্রণালয় আইনপ্রণেতাদের কাছে যা ছাড়ের অনুরোধ করেছিল
মন্ত্রণালয়ের ২৬ মে-র প্রতিবেদনে হিমায়িত অর্থ ছাড়ের ১২০টি অনুরোধ নিয়ে একটি আলোচ্যসূচি ছিল। এর মধ্যে ৪৯টি বিষয় আলোচনার জন্য তালিকাভুক্ত হয়: বিশেষ উপস্থাপনা প্রয়োজন এমন দুটি এবং লিখিত প্রতিবেদন প্রয়োজন এমন ৪৭টি। এই ৪৯টি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৪.৫৩ বিলিয়ন এনটি ডলার।
পরিচালন ব্যয়ের ওপর বিশেষভাবে ব্যাপক বিধিনিষেধের কথা জানায় মন্ত্রণালয়: আইনপ্রণেতাদের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া এবং অর্থ ব্যয়ের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত ৩০ শতাংশ অর্থ আটকে থাকবে। ফলে সামরিক বাহিনীর অনুমোদিত পরিকল্পনা এবং সেগুলোর খরচ মেটানোর সক্ষমতার মধ্যে কমিটির পর্যালোচনা একটি শর্ত হয়ে দাঁড়ায়।
মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আগের তিন বছরে প্রতিবারই তাদের পরিচালন ব্যয়ের বাস্তবায়নের হার ৯৫ শতাংশের বেশি ছিল। বাস্তবায়নের হার বলতে বাজেটের যে অংশ সত্যিই ব্যয় করা হয়েছে, তা বোঝায়। হিমায়িত তহবিল ব্যবহারের অনুমতি চাওয়ার পক্ষে মন্ত্রণালয় এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে।
২৩ মে পর্যন্ত ২০২৫ সালের ব্যয় বাস্তবায়নের হার ছিল ২২ শতাংশ। অস্ত্র কেনার বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ এবং সরবরাহের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয় আশা করেছিল, জুনের মাঝামাঝি তা ৩০ শতাংশে পৌঁছাবে। বছরের প্রথমার্ধের জন্য বরাদ্দ ব্যয় ছিল বার্ষিক পরিচালন বাজেটের ৩৬ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি অর্থ পরিশোধের সময়সূচিও তুলে ধরে। কোনো সরঞ্জাম কেনার অর্থ সমান মাসিক কিস্তিতে নয়; বরং চুক্তির পরিশোধের সময় হলে বা সরঞ্জাম সরবরাহ হলে অর্থের প্রয়োজন হতে পারে।
পর্যালোচনা কীভাবে শেষের দিকে এগোল
নিশ্চিত হওয়া ২০২৫ সালের ঘটনাক্রমে দেখা যায়, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা থেকে হিমায়নটি একটি মাত্র অমীমাংসিত কর্মসূচিতে এসে ঠেকে:
- ফেব্রুয়ারি: আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ৯০ বিলিয়ন এনটি ডলার আটকে দেন এবং আলাদাভাবে ৮.৪ বিলিয়ন এনটি ডলার কমান।
- ২৩ মে: মন্ত্রণালয় পরিচালন ব্যয়ের বাস্তবায়নের হার ২২ শতাংশ বলে জানায়।
- ২৬ মে: হিমায়িত অর্থ ছাড়ের ১২০টি অনুরোধের আলোচ্যসূচি নিয়ে মন্ত্রণালয় প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।
- ২৭ জুনের মধ্যে: তিনটি বৈঠকে কমিটি হিমায়িত ২৭৯টি খাতের মধ্যে ২৭৮টি ছাড় করে।
- সেপ্টেম্বর: চেন ইয়ং-কাং বলেন, প্রথম সাবমেরিনের সমুদ্র পরীক্ষা শেষ হলে অবশিষ্ট অর্থ ছাড় করা হবে।
চেন ইয়ং-কাংয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতিটি বরাদ্দ কেন দরকার, তা ব্যাখ্যা করে মন্ত্রণালয় লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য জমা দিয়েছিল। প্রকৃত ব্যয় কমানোর অনুরোধ এবং দর-কষাকষি খুব কম ক্ষেত্রেই হয়েছে; এর মধ্যে ছিল সেনাবাহিনীর চালকবিহীন আকাশযান, সাধারণভাবে ড্রোন নামে পরিচিত, কেনার একটি বিষয়।
ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) আইনপ্রণেতা চেন কুয়ান-টিং বিরোধ নিষ্পত্তির আরেকটি পথের কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, তাইওয়ানের দেশীয় ড্রোন শিল্প পরিকল্পনার অংশ মিনশিয়ং অ্যারোস্পেস পার্ককে প্রভাবিত করতে পারে এমন প্রস্তাবিত কাটছাঁটের বদলে অর্থ আটকে রাখা হয়েছিল। বরাদ্দ ছাড় করতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া প্রয়োজন ছিল বলে তিনি জানান।
সরকারি সংস্থা ও ঠিকাদারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি ছিল কমিটির অনুমোদন। প্রতিবেদন তৈরি করে শর্তের একটি অংশ পূরণ করা হয়েছিল; আর অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত ব্যয় এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেয়।
সাবমেরিনের শর্তটি বহাল ছিল
সর্বশেষ হিমায়িত খাতটি ছিল তাইওয়ানের দেশীয়ভাবে সাবমেরিন নির্মাণ কর্মসূচি। চেন ইয়ং-কাংয়ের দপ্তর জানায়, প্রথম সাবমেরিনের সমুদ্র পরীক্ষা সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার সঙ্গে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি যুক্ত ছিল। সমুদ্র পরীক্ষায় কোনো জাহাজ সেবায় যুক্ত হওয়ার আগে সমুদ্রে তার এবং এর সরঞ্জামের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়।
সেপ্টেম্বরের আগেও সাবমেরিন নির্মাতা সিএসবিসি করপোরেশন যাতে ভবিষ্যতের সাবমেরিনগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তি করতে পারে, সে জন্য কিছু অর্থ বরাদ্দ ছিল। কেএমটি ও ডিপিপি, দুই দলের আইনপ্রণেতারাই বলেন, অবশিষ্ট বরাদ্দ আটকে রাখার বিলম্বটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছিল।
এই ব্যবস্থায় সাবমেরিন কর্মসূচির একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের সঙ্গে অর্থ ব্যবহারের সুযোগকে যুক্ত করা হয়। তাই ২৭ জুন নাগাদ কমিটির বাজেটসংক্রান্ত কাজ প্রায় শেষ হয়েছিল; সর্বশেষ অর্থ ছাড়ের শর্ত ছিল একটি পরীক্ষার মাইলফলক।
অনুমোদনে বিলম্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ
কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট নিয়ে আলাদা এক বিরোধে অনুমোদনের সময়সূচি ছিল অনেক দীর্ঘ। আগের বছরের আগস্টের শেষ দিকে নির্বাহী ইউয়ান বাজেট জমা দিয়েছিল, কিন্তু ৩৫১ দিন বিলম্বের পর লেজিসলেটিভ ইউয়ান ১৪ আগস্ট তা পাস করে। এই ঘটনাক্রমটি কোন বছরের, তা উল্লেখ করা হয়নি।
এরপর আইনসভা অনুমোদিত বাজেট নির্বাহী ইউয়ানে পাঠাতে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করে, আর প্রেসিডেন্ট ১৮ সেপ্টেম্বর তা জারির আদেশ দেন। বলা হয়, নথিভুক্ত ইতিহাসে এটিই ছিল বাজেট অনুমোদনের সবচেয়ে দেরির ঘটনা।
নতুন মূলধনি ব্যয় ও নতুন যুক্ত প্রকল্প আট মাসেরও বেশি সময় এগোতে পারেনি। অনুমোদনের পরও অনেক বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের আগে বিশেষ বা লিখিত প্রতিবেদন এবং কমিটির সম্মতির শর্ত ছিল।
ওই বিরোধে বর্ণিত আইনসভার অধিবেশনের শুরুর সপ্তাহগুলোতে প্রতিরক্ষা বাজেট স্থগিত রাখার ১৫০টির বেশি প্রস্তাব পর্যালোচনার অপেক্ষায় ছিল। কোনোটিরই পর্যালোচনা শেষ হয়নি, আর কমিটির আহ্বায়কেরা সেগুলোর শুনানির সময় নির্ধারণ করেননি। বছর শেষ হতে দুই মাসের কিছু বেশি বাকি থাকায়, অনুমতি নেওয়া ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সংস্থাগুলোর হাতে সময় ছিল খুব কম।
কেএমটি আহ্বায়ক হসিয়াও চিয়াও-সিন সঙশান বিমানবন্দর স্থানান্তরের প্রস্তাব এবং ওভারসিজ কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে শুনানির ব্যবস্থা করেছিলেন। ডিপিপি আহ্বায়ক ওয়াং ই-চুয়ান দুই দিনের পরিদর্শন এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যুরোর কাজের প্রতিবেদন নির্ধারণ করেছিলেন। হসিয়াও বলেন, তিনি পররাষ্ট্র ও প্রবাসী সম্প্রদায়বিষয়ক কাজ দেখতেন, আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সময়সূচির দায়িত্ব ছিল ওয়াংয়ের।
বডি আর্মারে তদারকির পরিধি স্পষ্ট
মন্ত্রণালয়ের ২৬ মে-র জমা দেওয়া প্রতিবেদনে শুধু অর্থ ছাড়ের অনুরোধ ছিল না। দুটি বিশেষ উপস্থাপনার একটিতে সেনাদের জন্য নতুন বডি আর্মার প্লেটের উন্নয়ন, সংগ্রহের উৎস এবং পরীক্ষা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
চীনের ৫.৮ মিলিমিটার স্টিল-কোর গোলাবারুদের হুমকি মোকাবিলায় ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে উন্নয়নকাজ শুরু হয় বলে আর্মামেন্টস ব্যুরো জানায়। এতে ব্যালিস্টিক ফাইবারের সঙ্গে সিরামিক উপাদান ও সুরক্ষামূলক জলরোধী প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। আই-শৌ বিশ্ববিদ্যালয় এবং লুনঘওয়া ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সঙ্গে গবেষণার ভিত্তিতে এই কাজ করা হয়।
১৫ জানুয়ারি ২০২৫-এ সই করা একটি চুক্তিতে ১ লাখ ৬০ হাজার সেট সিরামিক উপাদানের কথা ছিল। এর ৬০ শতাংশের দায়িত্ব ছিল দেশীয় সরবরাহকারীদের, আর ৪০ শতাংশের বিদেশি সরবরাহকারীদের। সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়ায় মূল ভূখণ্ড চীনের উপকরণ নিষিদ্ধ করেছিল মন্ত্রণালয়।
ব্যুরোর ২০৫তম আর্সেনালের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৬০ হাজার সেট। পূর্ণ সক্ষমতায় নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন এবং সময়মতো উপাদান সরবরাহ ধরে নিলে ১ লাখ ৬০ হাজার সেট তৈরি করতে প্রায় দুই বছর আট মাস লাগত।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ডাফুর পরীক্ষাগার ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ইএসএপিআই মান অনুযায়ী পরীক্ষার স্বীকৃতি পায়। সেনাদের কাছে সরবরাহের আগে তৈরি প্লেটগুলো পরীক্ষা করা হবে। অর্থ ছাড়ের অনুরোধ বিবেচনার সময় এই তথ্যগুলো আইনপ্রণেতাদের জন্য উৎপাদন ও গুণমান যাচাইয়ের নির্দিষ্ট বিষয় তুলে ধরে।
নির্মাণের সমস্যা পরিবর্তনের দাবি তোলে
দ্বিতীয় বিশেষ উপস্থাপনায় ব্যারাক, আবাসন, গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার, বিমানের আশ্রয়কেন্দ্র এবং নতুন অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণসহ সামরিক নির্মাণকাজ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সিং আন ব্যারাক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মন্ত্রণালয় ১০৩টি প্রকল্পের কথা জানায়, যার ব্যয় ১১৪.৫ বিলিয়ন এনটি ডলারের বেশি। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ৮৩টি প্রকল্প শেষ হয়েছিল; বাকি ২০টি ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। ১০.২ বিলিয়ন এনটি ডলারের বেশি বরাদ্দসহ আরও ১৩টি প্রকল্প ২০২৬ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল।
কিছু নির্মাণকাজে বিলম্বের পেছনে থাকা সমস্যাগুলো মন্ত্রণালয় স্বীকার করে। প্রকল্পের বাজেটে কখনো কখনো নির্মাণের বর্তমান ব্যয় প্রতিফলিত হতো না; ফলে দরপত্র সফল হতো না অথবা প্রকল্পের পরিধি কমাতে হতো। চুক্তি নিয়ে বিরোধ, ঠিকাদারের আর্থিক অসুবিধা এবং বিদেশি শ্রমিকদের অবৈধভাবে নিয়োগের কারণেও সমস্যা হয়েছিল।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে ছিল, ২০২৬ সাল থেকে ২০০ মিলিয়ন এনটি ডলারের বেশি মূল্যের সাধারণ সামরিক নির্মাণ প্রকল্পগুলো আর্মামেন্টস ব্যুরোর একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল ইউনিটের কাছে দেওয়া। তবে জরুরি বা বিশেষায়িত সামরিক কাজের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হবে।
সংশোধিত চুক্তিতে বিদেশি শ্রমিকদের অবৈধভাবে নিয়োগের জন্য ১ লাখ থেকে ৩ লাখ এনটি ডলার জরিমানার বিধান ছিল; একই অপরাধ আবার করলে জরিমানা ধাপে ধাপে বাড়ত। ঠিকাদারদের কাজের মান এবং পেশাগত নিরাপত্তার রেকর্ডও সংগ্রহ মূল্যায়নের অংশ হওয়ার কথা ছিল।
নির্মাণবিষয়ক উপস্থাপনায় বোঝা যায়, দ্রুত অর্থ ব্যবহারের অনুমতি চাওয়ার পাশাপাশি আইনপ্রণেতারা কেন ব্যাখ্যা চাইছিলেন। ব্যয় করার অনুমতি, বাস্তবসম্মত খরচের হিসাব এবং কার্যকর ঠিকাদার ব্যবস্থাপনা, সবই নির্ধারিত সময়ে স্থাপনার কাজ শেষ হবে কি না, তা প্রভাবিত করত।
রাজনৈতিক সমঝোতা ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বড় ব্যবধান
প্রায় সব অর্থ ছাড়ে একমত হলেও হিমায়নের কারণ নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। কমিটির ডিপিপি সদস্য চেন কুয়ান-টিং বলেন, আগের দুই থেকে তিন মাসে কমিটির অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। তাঁর মতে, প্রত্যাহার প্রচারণার রাজনৈতিক চাপ এর কারণ।
তাইওয়ান পিপলস পার্টির (টিপিপি) আইনপ্রণেতা ও কমিটির সদস্য লিন ই-চুন বিরোধী দলগুলো সামরিক ব্যয় বাধাগ্রস্ত করতে চাইছিল, এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন:
ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) যেভাবে পরিস্থিতি তুলে ধরেছে, বাস্তবতা তা নয়। আসলে কুওমিনতাং (কেএমটি) ও তাইওয়ান পিপলস পার্টির (টিপিপি) আইনপ্রণেতারা বাজেটের স্থগিতাদেশ তুলে নিতে সম্মত হয়েছিলেন। প্রতিরক্ষা বাজেট আটকে দেওয়ার কোনো চেষ্টা হয়নি।
অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্তে বেশির ভাগ তাৎক্ষণিক বিধিনিষেধের অবসান হলেও বড় পরিসরের অর্থায়ন নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকে। চেন ইয়ং-কাংয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা ব্যয় ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২.৩৮ শতাংশ। জিডিপি হলো অর্থনীতিতে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মোট মূল্য। প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অঙ্গীকার করেছিলেন।
জিডিপির হিসাবে ব্যবধান ছিল ০.৬২ শতাংশ পয়েন্ট। একই জিডিপির হিসাব ধরে ৩ শতাংশে পৌঁছাতে হলে ২.৩৮ শতাংশের সমপরিমাণ ব্যয়ের চেয়ে প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি খরচ করতে হবে। বাজেটে আগে থেকে অন্তর্ভুক্ত অর্থ ছাড় করা এবং উচ্চতর লক্ষ্য পূরণে পর্যাপ্ত অতিরিক্ত অর্থ যোগ করা ছিল আলাদা সিদ্ধান্ত।
প্রস্তাবিত বিশেষ বাজেট আইনপ্রণেতাদের আবারও প্রক্রিয়ায় যুক্ত করত, কারণ সেটির জন্যও আইনসভার অনুমোদন প্রয়োজন হতো। সামরিক ইউনিটগুলোর জন্য জুনের শেষ নাগাদ তাৎক্ষণিক সুবিধা ছিল আগে হিমায়িত থাকা প্রায় সব বরাদ্দ ব্যবহারের সুযোগ। সরকারের সামনে তখনও বাকি ছিল, তাইওয়ানের আরও কত ব্যয় করা উচিত, সে বিষয়ে সমঝোতা অর্জন।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৫ সালের ২৭ জুনের মধ্যে আইনপ্রণেতারা হিমায়িত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ২৭৯টি খাতের মধ্যে ২৭৮টি ছাড় করেছিলেন।
- ফেব্রুয়ারির সিদ্ধান্তে ৯০ বিলিয়ন এনটি ডলার আটকে দেওয়া হয় এবং আলাদাভাবে ৮.৪ বিলিয়ন এনটি ডলার কমানো হয়।
- মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, সীমিত করা পরিচালন তহবিল রক্ষণাবেক্ষণ, গোলাবারুদ, জ্বালানি, অস্ত্র সংগ্রহ ও সামরিক বাহিনীর মৌলিক কার্যক্রমে সহায়তা করত।
- সর্বশেষ হিমায়িত খাতটি ছিল দেশীয় সাবমেরিন কর্মসূচির জন্য; সেপ্টেম্বরে সমুদ্র পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি যুক্ত ছিল।
- বাজেট পর্যালোচনায় বডি আর্মার উৎপাদন এবং সামরিক নির্মাণের সমস্যাগুলো বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হয়।
- প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২.৩৮ শতাংশ বলা হয়, যা প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের প্রতিশ্রুত ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নিচে।






