৩৭ মিনিটের জয়ে মালয়েশিয়া আবার ফাইনালে
১৭ অক্টোবর, ২০২৬-এ ডেনমার্ক ওপেনের নারী দ্বৈতের ফাইনালে উঠেছেন পিয়ারলি তান ও এম থিনাহ। ওডেন্সের এসজেএফ ব্যাংক অ্যারেনায় তাঁরা চীনের বাও লি জিং ও কাও জি হানকে ২১-১৬, ২১-১৪ ব্যবধানে হারান। এই জয়ে ২০০৮ সালে ওং পেই ট্টি ও চিন ঈ হুই শিরোপা জয়ের পর প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠল মালয়েশিয়া।
সূচিপত্র
- ৩৭ মিনিটের জয়ে মালয়েশিয়া আবার ফাইনালে
- তিনটি শিরোপাজয়ী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নির্ধারক জয়
- ১৮ বছর পর ফিরে আসার তাৎপর্য
- যে প্রত্যাবর্তনে টিকে ছিল তাদের অভিযান
- মাইলফলকের পর মনোযোগ ধরে রাখার আহ্বান পিয়ারলির
- রোববার অপেক্ষায় জাপানি জুটি
- দ্বিতীয় শিরোপা ও ডিসেম্বরে খেলার সুযোগের হাতছানি
- সেমিফাইনালের তিন সুযোগে মালয়েশিয়ার দুই ফাইনাল
- শিরোপার লড়াই গড়ে দিয়েছে তিন দিন
- মূল বিষয়
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে পঞ্চম স্থানে থাকা মালয়েশিয়ার জুটি, যাদের টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় বাছাই করা হয়েছিল, ৩০ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ের প্রতিপক্ষকে হারাতে মাত্র ৩৭ মিনিট সময় নেয়। ১৮ অক্টোবর শিরোপার লড়াইয়ে নামবে তারা। জানুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়া মাস্টার্স জয়ের পর এ বছর দ্বিতীয় টুর্নামেন্ট শিরোপা জয়ের লক্ষ্য তাদের।
তাদের এই অগ্রগতির ফলে দ্বৈতের দুই ফাইনালেই মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি থাকছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বসেরা জুটি কিম ওন হো ও সো সেউং জেকে হারিয়ে পুরুষ দ্বৈতের ফাইনালে উঠেছেন অ্যারন চিয়া ও সোহ উয়ি ইয়িক। মিশ্র দ্বৈতের সেমিফাইনালে হেরেছেন হু পাং রন ও লাই পেই জিং।
তিনটি শিরোপাজয়ী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নির্ধারক জয়
বাও ও কাওয়ের সঙ্গে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েই দুই গেম জিতেছেন পিয়ারলি ও থিনাহ। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ছিল যথাক্রমে পাঁচ ও সাত পয়েন্ট। সরাসরি দুই গেমে জেতায় আগের দিন কোয়ার্টার ফাইনালের মতো তৃতীয় নির্ধারক গেমে যেতে হয়নি তাদের।
এ বছর জার্মান ওপেন, থাইল্যান্ড ওপেন ও ম্যাকাও ওপেনে শিরোপা জিতে এই প্রতিযোগিতায় এসেছিলেন বাও ও কাও। র্যাঙ্কিংয়ে তারা মালয়েশিয়ান জুটির নিচে থাকলেও, শিরোপার সংগ্রহ দেখিয়েছে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ট্রফি জেতার সামর্থ্য তাদের আছে।
সেমিফাইনালে ওঠার পথে বুলগেরিয়ার গ্যাব্রিয়েলা ও স্তেফানি স্তোয়েভাকে ২১-১২, ২৬-২৪ ব্যবধানে হারিয়েছিল চীনা জুটি। দ্বিতীয় গেমে অতিরিক্ত পয়েন্ট খেলে ম্যাচ শেষ করতে হয় বাও ও কাওকে। পিয়ারলি ও থিনাহর বিপক্ষে কোনো গেমই সে পর্যায়ে গড়ায়নি।
১৮ বছর পর ফিরে আসার তাৎপর্য
২০০৮ সালে ডেনমার্ক ওপেনে নারী দ্বৈতের শিরোপা জিতে মালয়েশিয়ার জন্য মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন ওং পেই ট্টি ও চিন ঈ হুই। ১৮ বছর পর একই চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ফিরিয়ে এনেছেন পিয়ারলি ও থিনাহ।
ওডেন্সে এবারের সফরে দুটি মাইলফলক ছুঁয়েছে এই জুটি। কোয়ার্টার ফাইনালে জয়ের ফলে ২০০৮ সালের পর প্রথম মালয়েশিয়ান নারী দ্বৈত জুটি হিসেবে এই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওঠে তারা। পরের জয়ে নিশ্চিত হয় ফাইনাল।
ওং ও চিনের শিরোপা জয়ের কীর্তির সমকক্ষ হতে এখন তাদের সামনে মাত্র একটি ম্যাচ। ফাইনালে ওঠার মধ্য দিয়ে নারী দ্বৈত প্রতিযোগিতার শেষ দিনে মালয়েশিয়ার উপস্থিতির অপেক্ষা শেষ হয়েছে; রোববার জিতলে যোগ হবে শিরোপাও।
যে প্রত্যাবর্তনে টিকে ছিল তাদের অভিযান
১৬ অক্টোবর ভারতের ত্রিসা জলি ও গায়ত্রী গোপীচাঁদ পুল্লেলার বিপক্ষে পিয়ারলি ও থিনাহর ফাইনালে ওঠার পথ প্রায় থেমে গিয়েছিল। প্রথম গেমে ১৪-২১ ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় গেমে ১০-১৪ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ে মালয়েশিয়ার জুটি। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২১-১৭ ব্যবধানে জেতে তারা, এরপর নির্ধারক গেমে জয় পায় ২১-১১ ব্যবধানে।
ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশনের ১৬ অক্টোবরের ফলাফলে ম্যাচটির সময়কাল ৫৬ মিনিট উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাচের প্রতিবেদনে সময়কাল বলা হয়েছে ৫৫ মিনিট। সরকারি স্কোরে ম্যাচের নাটকীয় মোড় স্পষ্ট: প্রথম গেমে সাত পয়েন্টে হারের পর শেষ গেমে ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে জেতে মালয়েশিয়ার জুটি।
দ্বিতীয় গেমে ১০-১৪ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকার পর পরের ১৪ পয়েন্টের ১১টিই জিতে নির্ধারক গেম নিশ্চিত করেন পিয়ারলি ও থিনাহ। এরপর ১৮ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ের প্রতিপক্ষকে হারিয়ে প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করেন তারা, ডেনমার্ক ওপেনের প্রথম ফাইনালে ওঠার সুযোগও বাঁচিয়ে রাখেন।
জলি ও গোপীচাঁদের বিপক্ষে ১০ বারের মুখোমুখিতে এটি ছিল তাদের অষ্টম জয়। আগের মাসে এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালেও ভারতীয় জুটিকে সরাসরি দুই গেমে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছিলেন তারা।
মাইলফলকের পর মনোযোগ ধরে রাখার আহ্বান পিয়ারলির
কোয়ার্টার ফাইনালে জয়ের পর ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশনের সঙ্গে কথা বলেন মালয়েশিয়ার নারী দ্বৈত জুটির একজন পিয়ারলি তান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার আগের সেমিফাইনাল উপস্থিতির পর এত দীর্ঘ বিরতির কথা তাঁদের জানা ছিল না।
আমরা জানতাম না, ১৮ বছর পর আমরাই এখানে সেমিফাইনালে ওঠা প্রথম জুটি,
অর্জনটি নিয়ে আনন্দ প্রকাশের পাশাপাশি পরের ম্যাচে নিজেদের পরিকল্পনার কথাও জানান পিয়ারলি ও থিনাহ।
এই অর্জনে আমরা সত্যিই খুশি, তবে মনোযোগ ধরে রাখতে হবে, পরের ম্যাচের পরিকল্পনা করতে হবে এবং আবেগ সামলে রাখতে হবে।
পরদিনের জয়ে তাদের অভিযান আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়। জলি ও গোপীচাঁদের বিপক্ষে তিন গেম খেলতে হলেও বাও ও কাওয়ের বিপক্ষে সেমিফাইনাল দুই গেমেই শেষ করেন মালয়েশিয়ানরা। সরকারি সময় অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালের তুলনায় কোর্টে ১৯ মিনিট কম সময় কাটান তারা।
রোববার অপেক্ষায় জাপানি জুটি
নারী দ্বৈতের অপর সেমিফাইনালে জাপানের হিনাতা সুজুকি ও নাও ইয়ামাকিতার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল তাদের স্বদেশি সুমিরে নাকাদে ও মিউ তাকাহাশির। এই ম্যাচের বিজয়ী ১৮ অক্টোবর পিয়ারলি ও থিনাহর বিপক্ষে খেলবে। মালয়েশিয়ার সেমিফাইনাল জয়ের সময় ফাইনালের প্রতিপক্ষ নির্ধারণী ফল জানা যায়নি।
বিডব্লিউএফের ফলাফল অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর ৩৯ মিনিটে সায়াকা হিরোতা ও আয়াকো সাকুরামোতোকে ২১-১৪, ২১-১০ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন নাকাদে ও তাকাহাশি। সেটি ছিল কোয়ার্টার ফাইনালের ফল; এর মধ্য দিয়ে সুজুকি ও ইয়ামাকিতার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ওঠেন নাকাদে ও তাকাহাশি।
প্রাথমিকভাবে হিরোতা ও সাকুরামোতোকে সম্ভাব্য ফাইনাল প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, কিন্তু ১৬ অক্টোবর তাদের বিদায়ে সেই সম্ভাবনা শেষ হয়। ফলে বাকি সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে যে চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচটি হবে মালয়েশিয়া ও জাপানের মধ্যে।
দ্বিতীয় শিরোপা ও ডিসেম্বরে খেলার সুযোগের হাতছানি
জানুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়া মাস্টার্স জেতার পর এ বছর দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে খেলছেন পিয়ারলি ও থিনাহ। ডেনমার্ক ওপেনে তাদের এই পথচলা সাম্প্রতিক এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ পদকের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে এবং আরেকটি ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালে নিয়ে গেছে।
ওডেন্সে তাদের এই ফাইনালে ওঠা ওয়ার্ল্ড ট্যুর সুপার ৭৫০ পর্যায়ের কোনো টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলা। এর আগে ২০২২ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনে ফাইনালে উঠেছিলেন তারা। সুপার ৭৫০ ব্যাডমিন্টনের আন্তর্জাতিক ট্যুরের একটি টুর্নামেন্ট-স্তর। এই সংখ্যা প্রতিযোগিতার স্তর বোঝায়, অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়ের সংখ্যা নয়।
ডেনমার্ক ওপেনের ফাইনালের আগে ডিসেম্বরের ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালসের পয়েন্ট তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে ছিল মালয়েশিয়ার জুটি। মৌসুমের শেষের এই প্রতিযোগিতায় শীর্ষ আট জুটি খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। তাই ওডেন্সে তাদের এই সাফল্য যোগ্যতা অর্জনের দৌড়ে অবস্থান আরও মজবুত করেছে। ফাইনালে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান পয়েন্ট তালিকায় আরও ওপরে তুলে দিতে পারে।
বিশ্ব র্যাঙ্কিং ও ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালসের পয়েন্ট তালিকার উদ্দেশ্য আলাদা। পিয়ারলি ও থিনাহর বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে পঞ্চম স্থান তাদের সামগ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান বোঝায়; আর যোগ্যতা অর্জনের তালিকায় ষষ্ঠ স্থান ডিসেম্বরের টুর্নামেন্টে প্রবেশের সম্ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
সেমিফাইনালের তিন সুযোগে মালয়েশিয়ার দুই ফাইনাল
দিনের প্রথম ফাইনাল নিশ্চিত করে মালয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন অ্যারন চিয়া ও সোহ উয়ি ইয়িক। ৩৮ মিনিটের ম্যাচে তাঁরা কিম ওন হো ও সো সেউং জেকে ২১-১৪, ২১-১৮ ব্যবধানে হারান। চতুর্থ বাছাই হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠার পথে জাপানের হিরোকি ওকামুরা ও কিয়োহেই ইয়ামাশিতাকে ২১-১৬, ২১-১৮ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন তারা।
তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি হু পাং রন ও লাই পেই জিং। মিশ্র দ্বৈতের সেমিফাইনালে চীনের বিশ্বসেরা জুটি ফেং ইয়ান জে ও হুয়াং ডং পিংয়ের কাছে ১৩-২১, ১৩-২১ ব্যবধানে হারে তারা। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের আকিরা কোগা ও নাতসু সাইতোকে ২১-১৫, ২৪-২২ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন।
তিনটি সেমিফাইনালে ওঠার মধ্যে দুটিকে ফাইনালে রূপ দিয়েছে মালয়েশিয়া। আরেকটি পুরুষ জুটি, গোহ স্যে ফেই ও নুর ইজ্জুদ্দিন রুমসানি, কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের লিয়াং ওয়েই কেং ও ওয়াং চাংয়ের কাছে ২১-১৮, ১৮-২১, ১৫-২১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে।
শিরোপার লড়াই গড়ে দিয়েছে তিন দিন
ওডেন্সে পিয়ারলি ও থিনাহর গুরুত্বপূর্ণ পথচলা পরিচিত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো থেকে শুরু হয়ে জাপানি জুটির বিপক্ষে ফাইনাল পর্যন্ত গড়িয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো হলো:
- ১৬ অক্টোবর: ত্রিসা জলি ও গায়ত্রী গোপীচাঁদ পুল্লেলাকে ১৪-২১, ২১-১৭, ২১-১১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন।
- ১৭ অক্টোবর: বাও লি জিং ও কাও জি হানকে ৩৭ মিনিটে ২১-১৬, ২১-১৪ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন।
- ১৮ অক্টোবর: নারী দ্বৈতের ফাইনালে খেলার কথা রয়েছে; ২০০৮ সালের পর এই প্রতিযোগিতায় মালয়েশিয়ার প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্য তাদের।
কোয়ার্টার ফাইনালে একটি গেমে হার এবং দ্বিতীয় গেমে চার পয়েন্টে পিছিয়ে থাকার পর ঘুরে দাঁড়াতে হয়েছিল। সেমিফাইনালে এসেছে স্বল্প সময়ের সরাসরি দুই গেমের জয়। এই দুই ফল মিলিয়ে ঐতিহাসিক ফাইনালে ওঠাকে শিরোপায় রূপ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন পিয়ারলি ও থিনাহ।
মূল বিষয়
- পিয়ারলি তান ও এম থিনাহ ৩৭ মিনিটে বাও লি জিং ও কাও জি হানকে ২১-১৬, ২১-১৪ ব্যবধানে হারিয়েছেন।
- ২০০৮ সালে ওং পেই ট্টি ও চিন ঈ হুই শিরোপা জয়ের পর ডেনমার্ক ওপেনের নারী দ্বৈতে এই প্রথম মালয়েশিয়ার কোনো জুটি ফাইনালে উঠেছে।
- ১৮ অক্টোবর জাপানি একটি জুটির বিপক্ষে ফাইনাল হওয়ার কথা রয়েছে।
- ইন্দোনেশিয়া মাস্টার্স জয়ের পর এ বছর দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে খেলছে মালয়েশিয়ার জুটি।
- অ্যারন চিয়া ও সোহ উয়ি ইয়িকও ফাইনালে উঠেছেন; অন্যদিকে হু পাং রন ও লাই পেই জিং মিশ্র দ্বৈতের সেমিফাইনালে হেরেছেন।






