তিনবার পূর্ণ ঘুরে রেকর্ডের পাতায় চোই
স্নোবোর্ড হাফপাইপে ব্যাকসাইড ১০৮০ করে অবতরণ করা প্রথম নারী হয়েছেন চোই গা-অন। দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে স্নো স্পোর্টসে প্রথম অলিম্পিক সোনা জয়ের মৌসুমে এই কীর্তি তাঁর নতুন প্রযুক্তিগত মাইলফলক। ১৭ বছর বয়সী চোই সুইজারল্যান্ডের সাস-ফিতে স্টম্পিং গ্রাউন্ডস পার্কে কৌশলটি সফলভাবে করার পর, কোরিয়া সময় ১৬ অক্টোবর ইনস্টাগ্রামে এই অর্জনের কথা জানায় দ্য স্নো লিগ।
সূচিপত্র
- তিনবার পূর্ণ ঘুরে রেকর্ডের পাতায় চোই
- ব্যাকসাইড ১০৮০ কেন আলাদা?
- যে অলিম্পিক ফাইনাল প্রায় আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছিল
- পরপর পাঁচ কৌশলে সোনা
- পরামর্শদাতা হলেন তাঁর সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী
- তিন অস্ত্রোপচার ও এক বছর স্নোবোর্ডের বাইরে
- অলিম্পিক সোনার বাইরেও ছিল তাঁর মৌসুম
- দলীয় ইভেন্ট থেকে অ্যাসপেনে আরেকটি প্রতিযোগিতা
- দ্রুত প্রত্যাবর্তনের পেছনের তারিখগুলো
- মূল তথ্য
১০৮০ বলতে বাতাসে তিনবার পূর্ণ আবর্তন বোঝায়: ৩৬০ ডিগ্রি করে তিনবার। ব্যাকসাইড বলতে আবর্তনের দিক বোঝায়। আবর্তন, টেকঅফ ও অবতরণ মিলিয়ে এই কৌশলটি একই ডিগ্রির অন্য কৌশলগুলোর চেয়ে আলাদা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
সিউলের সেহওয়া গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষার্থী চোই ইনস্টাগ্রামে এই অর্জন উদ্যাপন করেন:
বিশ্বের প্রথম ব্যাকসাইড ১০৮০
দ্য স্নো লিগের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে জবাব দেওয়া হয়:
কিংবদন্তিতুল্য।
ঘোষণায় সফল চেষ্টাটির সুনির্দিষ্ট তারিখ বা প্রতিযোগিতার স্কোর জানানো হয়নি। এর তাৎপর্য কৌশলটি সম্পন্ন করায়, যা হাফপাইপে নারীদের সফলভাবে করা কৌশলের তালিকায় নতুন সংযোজন।
চোইয়ের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ পুনর্বাসনের ইতিহাস। ১৫ বছর বয়সে মেরুদণ্ডে চোট পেয়ে তাঁকে তিনবার অস্ত্রোপচার করাতে হয় এবং এক বছর পুনর্বাসনে কাটাতে হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অলিম্পিক ফাইনালে দুবার পড়ে যাওয়ার পরও ঘুরে দাঁড়িয়ে সোনা জেতেন তিনি। এরপর নারীদের হাফপাইপ বিশ্বকাপ মৌসুমের শিরোপাও জেতেন, আর এখন দ্য স্নো লিগের আরেকটি মৌসুমের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ব্যাকসাইড ১০৮০ কেন আলাদা?
হাফপাইপে রাইডাররা বিশাল ‘ইউ’ আকৃতির কাঠামোর দুই দেয়ালের মধ্যে চলাচল করেন এবং কিনারা ছাড়িয়ে ওপরে উঠে স্পিন ও বোর্ড গ্র্যাব করেন। প্রতিটি অবতরণ পরের টেকঅফের জন্য গতি জোগায়। তাই ছোট একটি ভুলও শুধু একটি নয়, একাধিক কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে।
৭২০-তে দুইবার, ৯০০-তে আড়াইবার এবং ১০৮০-তে তিনবার পূর্ণ আবর্তন হয়। রাইডাররা আবর্তনের দিক ও নিজেদের অবস্থানও বদলান। সুইচ রাইডিং বলতে রাইডারের স্বাভাবিক অবস্থানের বিপরীত পা সামনে রেখে চলাকে বোঝায়।
চোইয়ের নতুন ব্যাকসাইড ১০৮০ তাঁর অলিম্পিক পারফরম্যান্সে দেখা যাওয়া বিস্তৃত কারিগরি দক্ষতারই পরের ধাপ। দ্য স্নো লিগের অফিসিয়াল অ্যাথলেট প্রোফাইলে বলা হয়েছে, তাঁর সোনাজয়ী রানে বড় বড় জাম্পের সঙ্গে চার দিকেই স্পিন ছিল।
বিচারকেরা শুধু আবর্তনের সংখ্যা বিবেচনা করেন না। কৌশলের কঠিনত্ব, উচ্চতা ও নিখুঁতভাবে সম্পাদন, সবই গুরুত্বপূর্ণ। জটিল কৌশলে নিয়ন্ত্রিত অবতরণ দরকার, আর প্রতিযোগিতায় সফল রান দিতে একাধিক কৌশল পরপর যুক্ত করতে হয়। চোইয়ের অলিম্পিক জয় দেখিয়েছে, পড়ে গিয়ে থেমে যাওয়া উচ্চাকাঙ্ক্ষী চেষ্টার চেয়ে সম্পূর্ণ ও নিখুঁত রান বেশি মূল্য পেতে পারে।
যে অলিম্পিক ফাইনাল প্রায় আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছিল
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি লিভিগনো স্নো পার্কে অলিম্পিক সোনা জেতেন চোই। অলিম্পিকের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে তাঁর জয়ী স্কোর ৯০.২৫ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লোই কিম ৮৮.০০ এবং জাপানের মিৎসুকি ওনো ৮৫.০০ স্কোর নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় হন।
প্রথম চেষ্টায় ভয়াবহভাবে পড়ে যান তিনি। সুইচ ব্যাকসাইড ৯০০ দিয়ে শুরু করার পর পরের কৌশল করতে গিয়ে পাইপের কিনারায় ধাক্কা লেগে নিচে পড়েন। চিকিৎসাকর্মীরা তাঁর শুশ্রূষা করেন। পরে তিনি নিজেই স্নোবোর্ডে করে সেখান থেকে চলে যান। ওই রানে তাঁর স্কোর ছিল ১০.০০।
দ্বিতীয় চেষ্টার আগে তাঁর নামের পাশে ‘ডিএনএস’ চিহ্ন দেখা যায়, যার অর্থ প্রতিযোগিতা শুরু করেননি। তবু চোই শুরুর স্থানে ফিরে আসেন। প্রথম কৌশলেই আবার পড়ে যান তিনি, ফলে প্রতিযোগিতায় মানানসই স্কোর করার জন্য তাঁর হাতে ছিল আর একটিই সুযোগ।
ফাইনালে ১২ জন রাইডারের প্রত্যেকের জন্য তিনটি করে চেষ্টা ছিল; এর মধ্যে সেরা স্কোরটিই গণনা করা হয়। তাই প্রথম দুইবার পড়ে যাওয়ার পরও চোইয়ের সোনা জেতার সুযোগ ছিল। শেষ রানে তাঁকে কিমের ৮৮.০০ স্কোর ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো পারফরম্যান্স করতে হতো।
ফাইনালের পর প্রতিযোগিতার চাপের কথা বলেন চোই:
ফাইনালের সময় মানসিকভাবে খুব কঠিন ছিল,
শেষ চেষ্টায় কীভাবে মনোযোগ দিয়েছিলেন, সেটাও ব্যাখ্যা করেন তিনি:
আমি শুধু আমার আগের পরিকল্পনার কৌশলটির কথাই ভাবতে থাকি।
পরপর পাঁচ কৌশলে সোনা
চোই শেষ রানে প্রথমে সুইচ ব্যাকসাইড ৯০০ করেন। এরপর ছিল ক্যাব ৭২০, ফ্রন্টসাইড ৯০০, ব্যাকসাইড ৯০০ এবং ফ্রন্টসাইড ৭২০। আগের পরিকল্পনার চেয়ে কঠিনত্ব কমিয়ে পাঁচটি কৌশলই সম্পন্ন করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক স্কি ও স্নোবোর্ড ফেডারেশনের অলিম্পিক ফাইনালের প্রতিবেদনেও স্পিনগুলোর সঙ্গে করা বোর্ড গ্র্যাবের কথা রয়েছে। এর মধ্যে ছিল প্রথম জাম্পে মিউট গ্র্যাব, ফ্রন্টসাইড ৯০০-তে মেলন গ্র্যাব এবং ব্যাকসাইড ৯০০-তে স্টেলফিশ গ্র্যাব। বাতাসে থাকা অবস্থায় বোর্ডের একটি অংশ ধরে রাখতে হয় গ্র্যাব করার জন্য, যা আবর্তনে নিয়ন্ত্রণ ও শৈলী যোগ করে।
চোইয়ের ৯০.২৫ স্কোর তাঁকে প্রথম স্থানে তুলে আনে, তখনও পাঁচজনের প্রতিযোগিতা বাকি। ২০১৮ ও ২০২২ সালে জয়ের পর টানা তৃতীয় অলিম্পিক শিরোপার লক্ষ্যে নামা কিম শেষ চেষ্টায় পড়ে যান। কিমের চেয়ে ২.২৫ এবং ওনোর চেয়ে ৫.২৫ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শেষ করেন চোই।
১৭ বছর তিন মাস বয়সে চোই হন অলিম্পিক হাফপাইপে নারীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন। কিমের আগের বয়সের রেকর্ড ভাঙেন প্রায় সাত মাসের ব্যবধানে। তাঁর জয়ে মিলানো কর্টিনা গেমসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম সোনাও আসে।
পরামর্শদাতা হলেন তাঁর সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী
অলিম্পিক সোনার জন্য দুজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনেক আগে থেকেই চোইয়ের উন্নতিতে ভূমিকা রেখেছেন ক্লোই কিম। মামথ মাউন্টেন স্নোবোর্ড দলের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন চোই। দ্য স্নো লিগের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর পরামর্শদাতা কিম।
ফাইনালে পড়ে যাওয়ার পর কিম তাঁকে সমর্থন দিয়েছিলেন বলে জানান চোই। সোনা জয়ের পর কিমের বিষয়ে তিনি বলেন:
ছোটবেলা থেকেই আমার আদর্শ আমার বোন ক্লোই। ফাইনালে পড়ে যাওয়ার পর সে আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছে। জিততে পেরে ভালো লাগছে, তবে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পেরে আরও বেশি আনন্দিত।
চোটের পরও প্রতিযোগিতায় নামেন কিম। জানুয়ারিতে প্রশিক্ষণের সময় তাঁর কাঁধ সরে গিয়েছিল। তিনি জানান, গেমসের আগে বরফের ওপর অনুশীলনের কোনো সুযোগ পাননি। তবু চোইয়ের শেষ রানের আগ পর্যন্ত ৮৮.০০ স্কোর নিয়ে এগিয়ে ছিলেন তিনি।
ইভেন্টে নামার সময় দুইবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কিম তাঁর চেয়ে কমবয়সী প্রতিদ্বন্দ্বীর সাফল্য দেখে বলেন:
এটা খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল। মজার ব্যাপার হলো, আমার মতো একই বয়সে সে প্রথম অলিম্পিক সোনা জিতল। যেন সবকিছু পূর্ণ বৃত্তে ফিরে এল। গাওন ছোটবেলা থেকেই আমার পরিচিত, আর এটা দেখে খুব ভালো লাগছে যে পরবর্তী প্রজন্মকে আমি অনুপ্রাণিত করেছি এবং তারা এখন দারুণ করছে।
তিন অস্ত্রোপচার ও এক বছর স্নোবোর্ডের বাইরে
সুইজারল্যান্ডের লাক্সে ১৫ বছর বয়সে গুরুতর চোট পাওয়ার পর দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে এল অভিজাত পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় চোইয়ের প্রত্যাবর্তন। পরে নিজের সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি মেরুদণ্ডের কম্প্রেশন ফ্র্যাকচারের কথা বলেন। এই চোটে মেরুদণ্ডের একটি হাড় চূর্ণ হয় বা বসে যায়।
এরপর জরুরি স্পাইনাল ফিউশন অস্ত্রোপচার করা হয়। মেরুদণ্ডের হাড়গুলো জুড়ে দিয়ে স্থিতিশীলতা আনা হয় এই অস্ত্রোপচারে। চোই জানান, তিনি ও তাঁর আশপাশের মানুষ ভেবেছিলেন, হয়তো আর কখনও স্নোবোর্ডিং করতে পারবেন না।
দশ দিন পর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে তাঁকে আবার জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। সংক্রমণ দূর করতে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার এবং তাঁর শ্রোণিচক্র থেকে নেওয়া হাড় দিয়ে গ্রাফট বসাতে তৃতীয় জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়।
এক মাস হাসপাতালে থেকে নিবিড় অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা নেন চোই। সুস্থ হওয়ার পথে ভয় ও বিষণ্নতার সঙ্গেও লড়তে হয়েছে তাঁকে। তিনি জানান, স্নোবোর্ডিংয়ে ফিরতে পারার আগে এক বছর পুনর্বাসন করতে হয়েছিল।
পরের মৌসুমের শিরোপার তাৎপর্যও এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেন তিনি। হাল না ছাড়ায় গর্বিত বলে জানান চোই। প্রথমে চোটের প্রসঙ্গে ফিরতে অনীহা থাকলেও বারবার অনুরোধ পাওয়ার পর এ নিয়ে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
অলিম্পিকের কিছুদিন পর ধরা পড়া কবজির হাড় ভাঙার চোটে চিকিৎসার আরেকটি পর্ব যোগ হয়। সেপ্টেম্বর নাগাদ আবার আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নিতে শুরু করেন তিনি; সামনে আরও প্রতিযোগিতা রয়েছে।
অলিম্পিক সোনার বাইরেও ছিল তাঁর মৌসুম
২০২৫–২৬ মৌসুমে বিশ্বকাপে তিনটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে তিনটিতেই জয়ের রেকর্ড নিয়ে অলিম্পিকে যান চোই। গেমসের সময় এফআইএসের তালিকায় তিনি পয়েন্ট-তালিকার শীর্ষে ছিলেন।
এরপর নারীদের হাফপাইপ মৌসুমের শিরোপা জেতেন এবং এফআইএস স্নোবোর্ড পার্ক অ্যান্ড পাইপ ক্রিস্টাল গ্লোব পাওয়া প্রথম দক্ষিণ কোরীয় হন তিনি। বিশ্বকাপ মৌসুমজুড়ে সাফল্যের স্বীকৃতি এই ট্রফি; অলিম্পিক শিরোপার পাশাপাশি এটি তাঁর দ্বিতীয় বড় অর্জন।
শুরুর দিকের ফলাফলেই তাঁর সম্ভাবনার ইঙ্গিত ছিল। ১৪ বছর বয়সে অভিষেক মৌসুমেই এক্স গেমসে সোনা এবং প্রথম বিশ্বকাপ ইভেন্টে জেতেন চোই। দ্য স্নো লিগের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাসপেনে তাদের উদ্বোধনী ইভেন্টে সর্বোচ্চ ৯৩.৭৫ স্কোরও তাঁর। এরপর চীনের আরেকটি ইভেন্টেও সর্বোচ্চ স্কোর করেন তিনি।
লিগের প্রোফাইলে তাঁর সেরা ইভেন্ট ফল হিসেবে অ্যাসপেনে তৃতীয় হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তিনি অষ্টম, পয়েন্ট ১২৪। কোনো এক ইভেন্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর এবং ইভেন্টে চূড়ান্ত অবস্থান দুটি ভিন্ন বিষয়: স্কোর একটি পারফরম্যান্সকে বোঝায়, আর অবস্থান প্রতিযোগিতার কাঠামো অনুযায়ী সামগ্রিক ফল জানায়।
দলীয় ইভেন্ট থেকে অ্যাসপেনে আরেকটি প্রতিযোগিতা
চোইয়ের সেপ্টেম্বরের সূচিতে ছিল নিউজিল্যান্ডের কার্ড্রোনায় দ্য স্নো লিগ ওয়ার্ল্ড চ্যালেঞ্জ। নিয়মিত মৌসুমের আগে আয়োজিত বিশেষ আমন্ত্রণমূলক এই ইভেন্টে আমন্ত্রণ পাওয়া একমাত্র দক্ষিণ কোরীয় ছিলেন তিনি। এশিয়া-প্যাসিফিক দলে তাঁকে রাখা হয়।
ইভেন্টটি ১৯ সেপ্টেম্বর আয়োজনের কথা ছিল এবং এতে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া-প্যাসিফিক ও দ্য চ্যালেঞ্জার্সকে নিয়ে দলীয় প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়। ঘোষিত কাঠামোয় স্নোবোর্ডিং ও ফ্রিস্টাইল স্কিতে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ ছিল; বিশ্বকাপ দর্শকদের পরিচিত ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতার বদলে এটি দলীয় প্রতিযোগিতা।
ইভেন্টের আগে ব্যবস্থাপনা সংস্থা অল দ্যাট স্পোর্টসের মাধ্যমে বক্তব্য দিতে গিয়ে আমন্ত্রণ গ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করেন চোই:
অলিম্পিকের পর এমন সময় গেছে, যখন বিশ্রাম নিতে চেয়েছি; কিন্তু বারবার মনে হয়েছে, আবার বরফে ফিরতে চাই। প্রথম আমন্ত্রণ পাওয়ার পর কৌতূহল জেগেছিল, কারণ এটি দলীয় ইভেন্ট। অনেক আগ্রহ নিয়ে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
বিজয়ীদের হেলিবোর্ডিংয়ের সুযোগ পাওয়ার বিষয়েও আগ্রহের কথা বলেন তিনি। হেলিকপ্টারে করে স্নোবোর্ডিংয়ের উপযোগী এলাকায় যাওয়াকে হেলিবোর্ডিং বলে। তাঁর পরবর্তী নির্ধারিত স্নো লিগ ইভেন্ট হলো যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসপেন স্নোমাসে দ্বিতীয় মৌসুমের উদ্বোধনী প্রতিযোগিতা, ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি।
২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর জন্ম চোইয়ের; অক্টোবরের ঘোষণার সময় তাঁর বয়স ছিল ১৭। অ্যাসপেনের ওই ইভেন্টের আগেই ১৮ বছর পূর্ণ হবে তাঁর। প্রতিযোগিতার বাইরেও বেড়েছে তাঁর পরিচিতি: ফ্যান ক্লাবের একটি পোস্টে কে-পপ দল কর্টিসের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর নাচের ভিডিও নজর কাড়ে।
দ্রুত প্রত্যাবর্তনের পেছনের তারিখগুলো
চোইয়ের সাম্প্রতিক অর্জনে একত্র হয়েছে তাঁর প্রত্যাবর্তনের নানা ধাপ: দীর্ঘ পুনর্বাসন থেকে ধারাবাহিক জয়, এরপর নতুন কৌশল। স্নোবোর্ডিংয়ে ফেরার পর প্রতিযোগিতায় তাঁর অবস্থান কত দ্রুত বদলেছে, তা প্রধান মাইলফলকগুলোতে দেখা যায়।
- ১৪ বছর বয়সে: অভিষেক মৌসুমে এক্স গেমসে সোনা ও প্রথম বিশ্বকাপ ইভেন্টে জয়।
- ১৫ বছর বয়সে: লাক্সে মেরুদণ্ডে চোটের পর তিনটি অস্ত্রোপচার, এক মাস হাসপাতালে থাকা এবং এক বছরের পুনর্বাসন।
- ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির অলিম্পিকের আগে: ওই মৌসুমে অংশ নেওয়া তিনটি বিশ্বকাপ ইভেন্টেই জয়।
- ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: লিভিগনোতে ৯০.২৫ পয়েন্ট নিয়ে অলিম্পিক হাফপাইপে সোনা জয়।
- ২০২৫–২৬ মৌসুমে: নারীদের হাফপাইপ বিশ্বকাপ শিরোপা ও ক্রিস্টাল গ্লোব অর্জন।
- ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: কার্ড্রোনায় ওয়ার্ল্ড চ্যালেঞ্জ আয়োজনের সূচি; এশিয়া-প্যাসিফিক দলের জন্য নির্বাচিত চোই।
- ১৬ অক্টোবর, ২০২৬: সাস-ফিতে তাঁর ব্যাকসাইড ১০৮০ সফল হওয়ার ঘোষণা দেয় দ্য স্নো লিগ।
- ৭ জানুয়ারি, ২০২৭: অ্যাসপেন স্নোমাসে দ্য স্নো লিগের দ্বিতীয় মৌসুমের উদ্বোধনী ইভেন্টে প্রতিযোগিতার কথা রয়েছে তাঁর।
দক্ষিণ কোরিয়ায় স্নোবোর্ডিংয়ের জন্য অলিম্পিক শিরোপার তাৎপর্য নিয়েও কথা বলেছেন চোই। গেমসের পর তিনি বলেন, দেশে যে খেলাটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না বলে তাঁর মনে হয়, তাঁর জয় আরও বেশি মানুষকে সেটির প্রতি আগ্রহী করে তুলবে বলে আশা করেন তিনি।
মূল তথ্য
- দ্য স্নো লিগের তথ্য অনুযায়ী, স্নোবোর্ড হাফপাইপে ব্যাকসাইড ১০৮০ করে অবতরণ করা প্রথম নারী হয়েছেন চোই গা-অন।
- কৌশলটিতে তিনবার পূর্ণ আবর্তন করতে হয়। সুইজারল্যান্ডের সাস-ফিতে স্টম্পিং গ্রাউন্ডস পার্কে এটি সম্পন্ন করেন তিনি।
- ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম দুই চেষ্টায় পড়ে যাওয়ার পরও ৯০.২৫ পয়েন্ট নিয়ে অলিম্পিক সোনা জেতেন তিনি।
- মেরুদণ্ডে চোট, তিনটি অস্ত্রোপচার ও এক বছরের পুনর্বাসনের পর তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘটে।
- ২০২৫–২৬ মৌসুমে নারীদের হাফপাইপ বিশ্বকাপ শিরোপা এবং এফআইএস স্নোবোর্ড পার্ক অ্যান্ড পাইপ ক্রিস্টাল গ্লোবও জেতেন তিনি।
- দ্য স্নো লিগে তাঁর পরবর্তী নির্ধারিত ইভেন্ট শুরু হবে ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি, অ্যাসপেন স্নোমাসে।






