আরও বড় উপকূলীয় প্রকল্পের প্রথম ধাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডেমাক
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর জাভা উপকূল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (BOPPJ) ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর ম্যানগ্রোভভিত্তিক উপকূল সুরক্ষা পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করার কথা রয়েছে। এর আগে পূর্ব জাভার বানতেন থেকে গ্রেসিক পর্যন্ত ৫৭৫ কিলোমিটার বিস্তৃত একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সমুদ্রে কৃত্রিম প্রতিরোধক নির্মাণ ২০২৭ সালে শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূচিপত্র
- আরও বড় উপকূলীয় প্রকল্পের প্রথম ধাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডেমাক
- অক্টোবর ও ২০২৭ সালে কী হওয়ার কথা?
- সমুদ্রপ্রতিরোধকের পাশাপাশি ম্যানগ্রোভের ভূমিকা
- উপকূলের নিচের ভূমিও কেন গুরুত্বপূর্ণ
- সামুদ্রিক জরিপ থেকে তৈরি হচ্ছে প্রকৌশল পরিকল্পনা
- দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহায়তা চাওয়া হচ্ছে
- স্থানীয় ম্যানগ্রোভ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতার দিকে তাকাচ্ছে মধ্য জাভা
- জটিল উপকূলজুড়ে বিশাল প্রকল্প
- পরিবেশগত পর্যালোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত
- মূল বিষয়গুলো
মধ্য জাভার ডেমাকের সায়ুং এলাকার তিম্বুলোস্লোকো গ্রামে ১৬ অক্টোবর শ্রমিকেরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আধা-ভেদ্য ঢেউ-প্রতিরোধক দিয়ে সুরক্ষিত ম্যানগ্রোভ রোপণ এলাকা শক্তিশালী করছিলেন। এ কাজে ষড়ভুজাকার ব্লক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা রোপণ এলাকাকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করবে এবং একই সঙ্গে কিছু পানি চলাচলের সুযোগ রাখবে।
প্রকল্পটি ‘জায়ান্ট সি ওয়াল’ নামে বহুল পরিচিত। এতে সমুদ্রের দিকে প্রতিরোধক, উপকূল বরাবর বাঁধ এবং উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক সুরক্ষা একত্র করা হয়েছে। ১৯ অক্টোবরের আয়োজনের লক্ষ্য বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক অংশটি তুলে ধরা; বৃহত্তর প্রকৌশল কর্মসূচি পরে এগোবে।
এ প্রকল্পের গুরুত্ব শুধু উপকূলরেখায় সীমাবদ্ধ নয়। জাভার উত্তর উপকূলজুড়ে—ইন্দোনেশিয়ায় যা পান্তুরা নামে পরিচিত—বাড়িঘর, শিল্পাঞ্চল, বন্দর, বিমানবন্দর, কৃষিজমি ও অন্যান্য অবকাঠামো সুরক্ষার লক্ষ্য রয়েছে এ ব্যবস্থার। উপকূলীয় জনপদগুলো জোয়ারের পানিতে প্লাবন, ভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ভূমি দেবে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেছেন, প্রকল্পটি শেষ হতে প্রায় ২০ বছর লাগতে পারে। ডেমাকে তাৎক্ষণিক কাজটি তুলনামূলক ছোট ও সুনির্দিষ্ট: এমন একটি জায়গা প্রস্তুত করা, যেখানে উপকূল সুরক্ষার অংশ হিসেবে ম্যানগ্রোভ গড়ে উঠতে পারে। একই সময়ে সরকারি সংস্থাগুলো নকশা তৈরি করছে এবং অনেক বিস্তৃত এলাকায় নির্মাণকাজ সমন্বয় করছে।
অক্টোবর ও ২০২৭ সালে কী হওয়ার কথা?
অবকাঠামো ও আঞ্চলিক উন্নয়ন সমন্বয় মন্ত্রণালয়ের মৌলিক অবকাঠামো সমন্বয়বিষয়ক উপমন্ত্রী নাজিব ফয়জাল বলেন, ম্যানগ্রোভকে কেন্দ্র করে অক্টোবরে উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে। উদ্বোধনী ধাপের বর্ণনায় তিনি বলেন:
ইনশা আল্লাহ, এ অক্টোবরে আমরা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। তবে প্রথমে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান হিসেবে ম্যানগ্রোভকে নিয়ে অনুষ্ঠান হবে।
নাজিব বলেন, কর্মকর্তারা এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করার আশা করছেন। ডেমাকের পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আরও নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা; প্রচলিত উপকূলীয় অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্য ২০২৭ সাল।
BOPPJ প্রধান দিদিত হারদিয়াওয়ান আশাফ বলেন, কর্মসূচির কার্যক্রম ও অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তুতি সমন্বিতভাবে নেওয়া হচ্ছে; এতে জেলা, শহর ও প্রাদেশিক সরকারের সহযোগিতা রয়েছে। এ সূচিতে মাঠপর্যায়ের প্রদর্শনী, গবেষণা এবং কয়েক ধাপে গড়ে ওঠা প্রকৌশল-প্রস্তুতি একত্র করা হয়েছে।
- ১৯৯৫: প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর আমলে প্রথম সমুদ্রপ্রাচীর নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়; পরবর্তী প্রশাসনগুলোও তা এগিয়ে নেয়।
- ২০ নভেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫: সরকারি সংস্থাগুলো জাকার্তা উপসাগর ও সেমারাংয়ের আশপাশের জলসীমায় সামুদ্রিক জরিপ চালায়।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: উচ্চশিক্ষা ও উপকূলীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা-সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ৮ অক্টোবর ২০২৬: মধ্য জাভায় সেমারাং উপসাগর, ডেমাক ও কেনদালকে শুরুর স্থান হিসেবে চিহ্নিত করে BOPPJ।
- ১৯ অক্টোবর ২০২৬: ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালুর কথা রয়েছে।
- ২০২৭: সমুদ্রে কৃত্রিম প্রতিরোধক নির্মাণ শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সমুদ্রপ্রতিরোধকের পাশাপাশি ম্যানগ্রোভের ভূমিকা
BOPPJ এ কর্মসূচিকে সমন্বিত উপকূল সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। সমুদ্রে বাঁধ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে, উপকূলীয় বাঁধ রক্ষা করবে তটরেখা, আর ম্যানগ্রোভ ও অন্যান্য বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক পদক্ষেপ সুরক্ষার আরেকটি স্তর তৈরি করবে।
ম্যানগ্রোভ ঢেউয়ের শক্তি কমাতে এবং শিকড়ের চারপাশে পলি ধরে রাখতে সহায়তা করে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করে স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর, যার মধ্যে রয়েছে পানির প্রবাহ, পলির সরবরাহ এবং চারাগাছ টিকে থাকতে পারবে কি না। তাই শুধু উন্মুক্ত কাদায় চারা রোপণ করলেই হয় না।
তিম্বুলোস্লোকোর আধা-ভেদ্য ঢেউ-প্রতিরোধক এ বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করছে। আধা-ভেদ্য কাঠামো পুরোপুরি কঠিন দেয়াল তৈরি না করে কিছু পানি চলাচলের সুযোগ দেয়। রোপণ এলাকায় আগত ঢেউয়ের ধাক্কা কমালে নতুন ম্যানগ্রোভের বেড়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়ে।
ডেমাকের প্রস্তুতি দেখাচ্ছে, একই স্থানে বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও প্রকৌশল কার্যক্রম কীভাবে একসঙ্গে চলতে পারে। নির্ধারিত প্রদর্শনীর আগে শ্রমিকেরা রোপণ এলাকা শক্তিশালী করছেন এবং ঢেউ-প্রতিরোধক বসাচ্ছেন। বৃহত্তর কর্মসূচির একটি অংশ হলো ম্যানগ্রোভ; এর পাশাপাশি রয়েছে বড় আকারের কৃত্রিম অবকাঠামো।
উপকূলের নিচের ভূমিও কেন গুরুত্বপূর্ণ
মধ্য জাভার উপকূলীয় সমস্যার মধ্যে রয়েছে ভূমি অবনমন, অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ ক্রমে নিচে নেমে যাওয়া। গভর্নর আহমাদ লুথফি বলেন, প্রদেশটির উপকূলে বছরে প্রায় ৮ থেকে ১১ সেন্টিমিটার ভূমি দেবে যাচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে জোয়ারের পানিতে প্লাবন, ভাঙন, বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি এবং নদীর মোহনার আশপাশে পরিবর্তন।
ভূমি দেবে গেলে সমুদ্রের উচ্চতা অপরিবর্তিত থাকলেও বাড়িঘর, সড়ক ও কৃষিজমির তুলনায় সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এ চাপ আরও বাড়ায়। বৃষ্টির পানিতে প্লাবনও বাড়তি সমস্যা তৈরি করে, কারণ অভ্যন্তরীণ এলাকা থেকে আসা পানিও উন্নত এলাকায় যেন জমে না থাকে, সে পথ বের করতে হয়।
সামুদ্রিক বিষয়ক ও মৎস্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাকার্তা উপসাগর ও সেমারাংয়ের আশপাশের জলসীমা জোয়ারের পানিতে প্লাবন, উপকূলীয় ভাঙন, বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বিঘ্নের ঝুঁকিতে বিশেষভাবে রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সামুদ্রিক স্থানিক পরিকল্পনাবিষয়ক মহাপরিচালক কার্তিকা লিস্ত্রিয়ানা জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বড় শহরগুলোতে দ্রুত ভূমি অবনমনের সঙ্গে উপকূলীয় উন্নয়নের ক্রমবর্ধমান সমস্যার যোগসূত্র তুলে ধরেন।
পান্তুরা উপকূলের বাসিন্দা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আবাসন, মাছের ঘের, মাছ ধরা, কৃষি, কারখানা ও পরিবহনের জন্য জমির ওপর নির্ভরশীল। সুরক্ষা কর্মসূচিতে সমুদ্রের পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ডও বিবেচনায় নিতে হবে, কারণ পানির প্রবাহ ও তটরেখার অবস্থার পরিবর্তনে উপকূলীয় জনপদের জীবনযাপন ও জীবিকায় প্রভাব পড়ে।
সামুদ্রিক জরিপ থেকে তৈরি হচ্ছে প্রকৌশল পরিকল্পনা
সামুদ্রিক বিষয়ক ও মৎস্য মন্ত্রণালয় ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনীর হাইড্রো-ওশানোগ্রাফিক সেন্টার (Pushidrosal)-এর সঙ্গে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাকার্তা উপসাগর ও সেমারাংয়ের জলসীমায় জরিপ চালায়। মন্ত্রণালয়ের জানুয়ারির জরিপসংক্রান্ত বিবৃতিতে, যার নম্বর SP.17/SJ.5/I/2026 এবং তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, বলা হয়েছে যে জরিপের ফল BOPPJ-এর কারিগরি নকশা প্রণয়নে সহায়তার জন্য ব্যবহার করা হবে।
জরিপে পানির গভীরতা মানচিত্রায়নের জন্য বাথিমেট্রি এবং পানির নিচের পরিস্থিতি-সংক্রান্ত ভূ-পদার্থবৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ ছাড়া স্রোত, ঢেউ, পলি, পলির চলাচল ও পানির গুণমানের তথ্য নেওয়া হয়; পানির প্রবাহ কেমন হবে, তা নিয়ে কম্পিউটার মডেলিংও করা হয়।
প্রতিটি তথ্যশ্রেণি নকশাসংক্রান্ত একটি বাস্তব প্রশ্নের উত্তর দেয়। পানির গভীরতার ওপর কাঠামো কোথায় দাঁড়াতে পারবে, তা নির্ভর করে। ঢেউ ও স্রোত নির্ধারণ করে কাঠামোকে কী ধরনের বল সহ্য করতে হবে। পলির চলাচল থেকে পরিকল্পনাকারীরা বুঝতে পারেন কোথায় পলি জমছে বা ধুয়ে যাচ্ছে; আর উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের অবস্থা বোঝার জন্য পানির গুণমান গুরুত্বপূর্ণ।
কার্তিকা বলেন, পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি কমিয়ে নিরাপদ, কার্যকর ও টেকসই অবকাঠামো নকশা করতে নির্ভুল সামুদ্রিক ও আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন। Pushidrosal-এর প্রধান বুদি পুরওয়ান্তো বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত করে নৌবাহিনী প্রকল্পটিকে সহায়তা করেছে। BOPPJ-এর উপপ্রধান সাওয়ারেন্দ্রো উপকূলীয় কাজকে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো ও উপকূলের সহনশীলতা জোরদার করার জরুরি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন।
দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহায়তা চাওয়া হচ্ছে
উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ব্রায়ান ইউলিয়ার্তো ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দিদিতের সঙ্গে বৈঠক করেন। দিদিত একই সঙ্গে সামুদ্রিক বিষয়ক ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আলোচনায় জায়ান্ট সি ওয়ালের কারিগরি বিষয় ও সামাজিক ইস্যুসহ গবেষণা-সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফেব্রুয়ারির গবেষণাসংক্রান্ত ঘোষণায় বলা হয়েছে, BOPPJ-কে সহায়তায় একটি টাস্কফোর্স গঠন এবং গবেষণা সমন্বয় ও কাজের অগ্রগতি অনুসরণে একজন প্রতিনিধি পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জাভার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশেষভাবে অগ্রাধিকারভিত্তিক গবেষণার বিষয় নির্ধারণে সহায়তা করবে।
ব্রায়ান প্রকল্পটিকে একটি কার্যকর গবেষণাগারে পরিণত করার আকাঙ্ক্ষার কথা বলেন। বাস্তবে এর অর্থ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু কোনো মডেল বা শ্রেণিকক্ষের উদাহরণ নিয়ে নয়, বাস্তবায়নাধীন উপকূল সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়েও গবেষণা করবে। ইন্দোনেশীয় কর্মীদের অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে জ্ঞান হস্তান্তরের আহ্বানও জানান তিনি।
দিদিত বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় সাশ্রয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, বিদ্যমান সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করা হবে এবং পাঁচটি প্রদেশের মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হবে। প্রাবোও আরও বলেছেন, জাতীয় গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থা (BRIN) প্রকল্পটির সহায়ক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন তৈরি করেছে।
স্থানীয় ম্যানগ্রোভ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতার দিকে তাকাচ্ছে মধ্য জাভা
BOPPJ-এর উপপ্রধান ফাদিল ইমরান ৮ অক্টোবর বলেন, মধ্য জাভায় সেমারাং উপসাগর, ডেমাক ও কেনদালে কাজ শুরু হবে। তিনি সায়ুংয়ের ম্যানগ্রোভ কর্মসূচিকে বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন যুক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ফাদিল বলেন, শুরু থেকেই উপকূলের বাসিন্দা, স্থানীয় গোষ্ঠী এবং অন্য অংশগ্রহণকারীদের যুক্ত করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর রোপণ এলাকা সুরক্ষা এবং উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনার দৈনন্দিন কাজে এ অঙ্গীকার গুরুত্বপূর্ণ।
BOPPJ ব্রেবেসের কালিওয়িলিঙ্গি গ্রামের ম্যানগ্রোভ ব্যবস্থাপনা থেকেও শিখতে চায়। সেখানে মোহাম্মদ বাংকিত ম্যানগ্রোভ ইকোট্যুরিজমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যটন সচেতনতামূলক গোষ্ঠী, যা পোকদারউইস নামে পরিচিত, গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন। বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনার সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র তৈরি করা স্থানীয় চর্চাগুলো কর্তৃপক্ষের আগ্রহের বিষয়।
গভর্নর লুথফি বলেন, BOPPJ-এর উদ্যোগ মধ্য জাভার মাগেরি সেগোরো কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ; এ কর্মসূচিতে উপকূল সুরক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে যুক্ত করা হয়। তিনি কৃত্রিম উপকূলীয় অবকাঠামোর পাশাপাশি ম্যানগ্রোভ, উপকূলীয় ঝাউগাছ, নারকেলগাছ এবং অন্যান্য উদ্ভিদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
জটিল উপকূলজুড়ে বিশাল প্রকল্প
লুথফির উদ্ধৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্য জাভার উপকূলরেখা ১,১২৭.৮৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে উত্তর উপকূল বরাবর ৬৫১.৪৭ কিলোমিটার, দক্ষিণ উপকূল বরাবর ৩৪৩.৫০ কিলোমিটার এবং করিমুঞ্জাওয়া ঘিরে ১৩২.৮৮ কিলোমিটার।
অর্থাৎ প্রদেশটির মোট উপকূলরেখার প্রায় ৫৮ শতাংশ উত্তর উপকূলে। ৬৫১.৪৭ কিলোমিটারকে ১,১২৭.৮৫ কিলোমিটার দিয়ে ভাগ করে এ হিসাব করা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, পান্তুরাজুড়ে সুরক্ষা দিতে কেন এত বিস্তৃত জনগোষ্ঠী, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়।
বানতেন থেকে গ্রেসিক পর্যন্ত পরিকল্পিত ৫৭৫ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি ভিন্ন একটি পরিমাপ: এটি কয়েকটি প্রদেশজুড়ে প্রকল্পের পরিকল্পিত বিস্তৃতি বোঝায়। কর্মকর্তারা কর্মসূচিটিকে ১৫টি অংশে ভাগ করেছেন, যাতে ভিন্ন উপকূলীয় পরিস্থিতির এলাকাগুলোতে কাজ গুছিয়ে নেওয়া যায়।
জাকার্তা উপসাগর ও সেমারাংয়ে ইতিমধ্যে বিস্তারিত জরিপ হয়েছে; আর মধ্য জাভার তিনটি শুরুর স্থানও চিহ্নিত করেছে BOPPJ। এসব স্থান নির্বাচনের ফলে জাতীয় কর্মসূচিটি আরও সুনির্দিষ্ট রূপ পেয়েছে: বিস্তৃত উপকূলীয় পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এমন কিছু এলাকা, যেখানে তথ্য সংগ্রহ, রোপণের প্রস্তুতি ও সরকারি সমন্বয়ের কাজ ইতিমধ্যে চলছে।
পরিবেশগত পর্যালোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত
প্রকল্পটির প্রভাব মূল্যায়ন নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে। বৈজ্ঞানিক তথ্য ও সতর্ক নকশার মাধ্যমে পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি কমানোর সরকারি অঙ্গীকারের পাশাপাশি তাদের উদ্বেগও বিবেচনায় রয়েছে।
সামুদ্রিক জরিপ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও স্থানীয় ম্যানগ্রোভ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা এ কাজের ভিন্ন ভিন্ন দিক সামলায়। জরিপে ভৌত পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। কারিগরি ও সামাজিক বিষয় খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহায়তা চাওয়া হচ্ছে। আর উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর রয়েছে এমন এলাকায় বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা, যেখানে মানুষ বসবাস করে এবং জীবিকা নির্বাহ করে।
এখানে আলোচিত ঘোষণাগুলোতে প্রকল্পের মোট ব্যয়, প্রতিটি অংশের চূড়ান্ত নকশা, বিস্তারিত নির্মাণ-পরিকল্পনা এবং পরিবেশগত মূল্যায়নের ফল জানানো হয়নি। প্রাবোওর প্রায় ২০ বছরের হিসাবটি সম্ভাব্য সময়সীমা, নির্দিষ্ট সমাপ্তির তারিখ নয়।
পরবর্তী নির্ধারিত মাইলফলক ১৯ অক্টোবর; এরপর রয়েছে ২০২৭ সালে কৃত্রিম অবকাঠামো নির্মাণ শুরুর লক্ষ্য। তিম্বুলোস্লোকোতে তাৎক্ষণিক কাজটি দেখা যাচ্ছে শক্তিশালী করা রোপণ এলাকা ও ঢেউ-প্রতিরোধকে। বৃহত্তর উপকূলজুড়ে পরবর্তী ধাপ হলো জরিপের ফল, গবেষণার অঙ্গীকার ও সমন্বয় পরিকল্পনাকে প্রতিটি স্থানের উপযোগী সুরক্ষাব্যবস্থায় রূপ দেওয়া।
মূল বিষয়গুলো
- ডেমাকে ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালুর সূচি নির্ধারণ করেছে BOPPJ।
- বানতেন থেকে গ্রেসিক পর্যন্ত প্রায় ৫৭৫ কিলোমিটার বিস্তৃত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সমুদ্রে বাঁধ, উপকূলীয় বাঁধ ও বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক সুরক্ষা একত্র করা হবে।
- অবকাঠামো নির্মাণ ২০২৭ সালে শুরু করার লক্ষ্য; কর্মসূচিটি ১৫টি অংশে ভাগ করা হয়েছে।
- কারিগরি নকশার জন্য জাকার্তা উপসাগর ও সেমারাংয়ের জলসীমায় সামুদ্রিক জরিপে গভীরতা, ঢেউ, স্রোত, পলি ও পানির গুণমানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
- গবেষণা, দক্ষতা এবং স্থানীয় ম্যানগ্রোভ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অবদান রাখার কথা রয়েছে।
- প্রাবোও বলেছেন, প্রকল্পটি শেষ হতে প্রায় ২০ বছর লাগতে পারে; অন্যদিকে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এর প্রভাব মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।






