সাময়িক কমার পর আবার বাড়ছে সারচার্জ
জাপান এয়ারলাইন্স (জেএএল) ও অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইস্যু করা টিকিটের জন্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি সারচার্জ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। জাপান থেকে ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকার অনেক রুটে প্রতি যাত্রাপথে যাত্রীপ্রতি সারচার্জ হবে ৬২,০০০ ইয়েন। এ হারে সারচার্জ প্রযোজ্য দুটি ফ্লাইটে যাওয়া-ফেরায় শুধু জ্বালানি সারচার্জই হবে ১ লাখ ২৪ হাজার ইয়েন, এর সঙ্গে বিমানভাড়া, কর ও অন্যান্য চার্জ যোগ হবে।
সূচিপত্র
- সাময়িক কমার পর আবার বাড়ছে সারচার্জ
- জ্বালানি ও ইয়েনের কারণে কেন বাড়ছে সারচার্জ
- সরকারি সহায়তায় কমেছে প্রযোজ্য মূল্যস্তর
- যাওয়া-ফেরার খরচ কতটা বাড়বে?
- চীন, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন বৃদ্ধি
- হাওয়াই ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য আলাদা হার
- গ্রীষ্মে সর্বোচ্চে ওঠার পর শরতে কমেছিল সারচার্জ
- টিকিট পরিবর্তন ও বিদেশ থেকে যাত্রার ক্ষেত্রে খুঁটিনাটি দেখুন
- পরবর্তী সংশোধনে কী প্রভাব ফেলতে পারে?
- মূল বিষয়গুলো
১৫ অক্টোবর ঘোষিত এ বৃদ্ধি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে যাত্রীরা যে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন, তার একাংশ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ওই গন্তব্যগুলোতে জেএএলের সারচার্জ প্রতি যাত্রাপথে ৫০,০০০ ইয়েন থেকে ১২,০০০ ইয়েন বেড়ে হবে ৬২,০০০ ইয়েন। এএনএর সারচার্জ ৫৫,০০০ ইয়েন থেকে ৭,০০০ ইয়েন বেড়ে একই পর্যায়ে পৌঁছাবে। উভয় সংস্থার সারচার্জই হবে রেকর্ডে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, তবে জুলাই ও আগস্টের ৬৫,০০০ ইয়েনের চেয়ে কম।
সরকারি সহায়তার কারণে বৃদ্ধির পরিমাণ সীমিত থাকছে। জেএএল জানিয়েছে, হিসাবের জন্য ব্যবহৃত জ্বালানির দাম সাধারণত আরও বেশি সারচার্জের কারণ হতো। তবে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত জরুরি সহায়তার ফলে সংস্থাটি কম দামের একটি স্তর প্রয়োগ করতে পারছে। এএনএও বলেছে, জ্বালানির বাড়তি খরচ সামাল দিতে সরকারি ব্যবস্থার প্রভাব তাদের সূচিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
দুই সংস্থার পরিকল্পিত সূচিই সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে; অনুমোদনের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। জেএএল ও তাদের গ্রুপভুক্ত সংস্থা জাপান ট্রান্সওশান এয়ার তাদের পরিবর্তনের অনুমোদন চেয়ে ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে।
যাত্রীদের জন্য আপাতত মূল বিষয়টি হলো টিকিট ইস্যুর তারিখ। নতুন সারচার্জের সময়কাল শুরু হচ্ছে ১ নভেম্বর। ঘোষিত তারিখগুলো যাত্রীর ভ্রমণের তারিখ নয়, বরং টিকিট ইস্যুর তারিখের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই টিকিট কেনার সময় ভ্রমণ বাজেটের হিসাবেও প্রভাব পড়বে।
জ্বালানি ও ইয়েনের কারণে কেন বাড়ছে সারচার্জ
জেএএলের জ্বালানি সারচার্জ বৃদ্ধির ঘোষণাতে বাড়তি চার্জের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরে কেরোসিন-জাতীয় জেট জ্বালানির গড় দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১৫৯.১৯ ডলার। গড় বিনিময় হার ছিল ডলারপ্রতি ১৫৭.৬১ ইয়েন। এতে জ্বালানির মানদণ্ডমূল্য দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ২৫,০৮৯ ইয়েন।
জেট জ্বালানি হলো উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি। সংস্থাগুলোর হিসাবের জন্য সিঙ্গাপুরের দাম বাজারের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দাম ডলারে নির্ধারিত হওয়ায় ইয়েনে এর খরচ নির্ভর করে জ্বালানির বাজারদর ও বিনিময় হারের ওপর। ইয়েন শক্তিশালী হলে ডলারে দাম বাড়ার প্রভাব কিছুটা কমতে পারে; ইয়েন দুর্বল হলে একই জ্বালানি আরও ব্যয়বহুল হয়।
এর আগের মূল্যায়নকাল, জুন ও জুলাইয়ে, মানদণ্ডমূল্য ছিল ২১,৪১৭ ইয়েন। তখন জ্বালানির গড় দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১৩২.৫০ ডলার এবং বিনিময় হার ছিল ডলারপ্রতি ১৬১.৬৩ ইয়েন। দুই সময়ের মধ্যে ডলারের হিসাবে জ্বালানির দাম প্রায় ২০% বেড়েছে। ইয়েন শক্তিশালী হওয়ায় সেই বৃদ্ধি আংশিকভাবে সামাল দেওয়া গেছে, তবে ইয়েনে হিসাব করা মানদণ্ডমূল্য তবুও ৩,৬৭২ ইয়েন বা প্রায় ১৭.১% বেড়েছে।
জেএএল ও এএনএ প্রতি দুই মাসে সারচার্জ পর্যালোচনা করে। আগের সময়ের গড় ব্যবহার করায় জ্বালানির বাজারদরের পরিবর্তন যাত্রীদের ওপর পড়ে পরবর্তী টিকিটিং পর্বে; প্রতিদিন নতুন সারচার্জ নির্ধারণ করা হয় না।
সরকারি সহায়তায় কমেছে প্রযোজ্য মূল্যস্তর
জেএএল জ্বালানির মানদণ্ডমূল্যকে ‘জোন’ নামে বিভিন্ন মূল্যস্তরে ভাগ করে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের ২৫,০৮৯ ইয়েনের মানদণ্ডমূল্য সাধারণত জোন টি-তে পড়ত। এ জোনে দাম ২৫,০০০ ইয়েন বা তার বেশি, তবে ২৬,০০০ ইয়েনের কম। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার জন্য এতে প্রতি যাত্রাপথে সারচার্জ হতো ৬৫,০০০ ইয়েন।
তবে সরকারি জরুরি সহায়তার কারণে প্রযোজ্য স্তর কমে জোন এস-এ নেমেছে, যা ২৪,০০০ ইয়েন থেকে শুরু। ফলে সারচার্জ দাঁড়িয়েছে ৬২,০০০ ইয়েন। এ হারে সারচার্জ প্রযোজ্য দুটি ফ্লাইটে যাওয়া-ফেরায় সহায়তার কারণে সারচার্জ ৬,০০০ ইয়েন কমে ১ লাখ ৩০ হাজার ইয়েনের বদলে ১ লাখ ২৪ হাজার ইয়েন হবে।
সরকারি সহায়তা বিবেচনায় নিয়ে এএনএও ২৪,০০০ ইয়েন থেকে ২৫,০০০ ইয়েনের কম দামের স্তর প্রয়োগ করছে। ফলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের তুলনায় যাত্রীদের বেশি দিতে হবে, তবে জ্বালানির মানদণ্ডমূল্য অনুযায়ী যতটা হওয়ার কথা তার চেয়ে কম।
যাওয়া-ফেরার খরচ কতটা বাড়বে?
জেএএলে ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকায় সারচার্জ প্রযোজ্য যাওয়া-ফেরার যাত্রায় সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের সূচির তুলনায় জ্বালানি সারচার্জ ২৪,০০০ ইয়েন বাড়বে। মোট সারচার্জ ১ লাখ ইয়েন থেকে বেড়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ইয়েন হবে, অর্থাৎ বৃদ্ধি ২৪%।
একই বিস্তৃত রুটশ্রেণিতে এএনএর যাত্রীদের বাড়তি খরচ তুলনামূলক কম হবে, কারণ আগে তাদের সারচার্জ বেশি ছিল। দুটি ফ্লাইটে সারচার্জ ১ লাখ ১০ হাজার ইয়েনের বদলে হবে ১ লাখ ২৪ হাজার ইয়েন, যা ১৪,০০০ ইয়েন বা প্রায় ১২.৭% বৃদ্ধি।
চারজনের একটি পরিবারের প্রত্যেকে সারচার্জ প্রযোজ্য দুটি ফ্লাইটে ভ্রমণ করলে মোট জ্বালানি সারচার্জ হবে ৪ লাখ ৯৬ হাজার ইয়েন। আগের সময়ের তুলনায় জেএএলে বাড়তি ৯৬,০০০ ইয়েন এবং এএনএতে ৫৬,০০০ ইয়েন দিতে হবে। এএনএর নিয়মে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের জন্য একই জ্বালানি সারচার্জ প্রযোজ্য। তবে আসন ব্যবহার না করা দুই বছরের কম বয়সী শিশুরা এ চার্জ থেকে অব্যাহতি পায়।
প্রকাশিত সূচিতে মধ্যপ্রাচ্য ও ওশেনিয়াও ৬২,০০০ ইয়েনের শ্রেণিতে রয়েছে। হাওয়াইয়ের জন্য আলাদা, কম হার আছে। টোকিও ও মেক্সিকো সিটির ক্ষেত্রে এএনএ আলাদা ব্যতিক্রমের কথা জানিয়েছে।
চীন, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন বৃদ্ধি
চীন ও তাইওয়ানের জন্য এএনএর সারচার্জ প্রতি ফ্লাইটে ১৪,৩০০ ইয়েন থেকে বেড়ে হবে ১৫,১০০ ইয়েন, অর্থাৎ ৮০০ ইয়েন বৃদ্ধি। এসব গন্তব্যে জেএএলের সাধারণ সারচার্জ ১২,৪০০ ইয়েন থেকে বেড়ে হবে ১৬,০০০ ইয়েন, যা ৩,৬০০ ইয়েন বেশি।
এ রুটগুলোর সাধারণ হারে প্রতি যাত্রাপথে জেএএল এএনএর চেয়ে ৯০০ ইয়েন বেশি নেবে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে চিত্রটি উল্টো ছিল; তখন জেএএলের চার্জ ১,৯০০ ইয়েন কম ছিল। সারচার্জ প্রযোজ্য দুটি ফ্লাইটে নতুন মোট সারচার্জ হবে জেএএলে ৩২,০০০ ইয়েন এবং এএনএতে ৩০,২০০ ইয়েন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতি যাত্রাপথে দুই সংস্থার সারচার্জই হবে ৭,১০০ ইয়েন। এএনএ তাদের হার ৬,৫০০ ইয়েন থেকে ৬০০ ইয়েন বাড়াচ্ছে, আর জেএএল ৫,৯০০ ইয়েন থেকে ১,২০০ ইয়েন বাড়াচ্ছে। জেএএল তাইওয়ানের সাধারণ হারের ব্যতিক্রম হিসেবে ওকিনাওয়া থেকে তাইপে ও কাওশিয়ুংয়ের রুটও ৭,১০০ ইয়েনের শ্রেণিতে রেখেছে।
হাওয়াই ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য আলাদা হার
হাওয়াই, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি ফ্লাইটে দুই সংস্থাই ৩৮,৫০০ ইয়েন নেবে। জেএএল একই শ্রেণিতে শ্রীলঙ্কাকেও রেখেছে। এ হারে দুটি ফ্লাইটে জ্বালানি সারচার্জ হবে ৭৭,০০০ ইয়েন; আগে জেএএলে ছিল ৬১,৮০০ ইয়েন এবং এএনএতে ৭১,৬০০ ইয়েন।
থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াগামী যাত্রীরা সংস্থাভেদে ভিন্ন পরিমাণ দেবেন। এএনএর সারচার্জ প্রতি যাত্রাপথে ৩২,০০০ ইয়েন, আর জেএএলের ৩৩,২০০ ইয়েন। এএনএ ৩২,০০০ ইয়েনের শ্রেণিতে মিয়ানমার ও কম্বোডিয়াকেও রেখেছে; জেএএল ৩৩,২০০ ইয়েনের শ্রেণিতে ব্রুনেইকে রেখেছে।
ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, গুয়াম ও পালাউয়ের জন্য দুই সংস্থাই ২১,৫০০ ইয়েন নির্ধারণ করেছে। এএনএ এ শ্রেণিতে মঙ্গোলিয়াকে রেখেছে, আর জেএএল উল্লেখ করেছে উলানবাতার। এ হারে দুটি ফ্লাইটে যাওয়া-ফেরায় সারচার্জ হবে ৪৩,০০০ ইয়েন।
গন্তব্যের শ্রেণি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আন্তর্জাতিক সব যাত্রায় সংস্থাগুলো একই নির্দিষ্ট চার্জ নেয় না। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ঘোষিত সারচার্জ একই হলেও অন্য গন্তব্যে তাদের হার ভিন্ন হতে পারে।
গ্রীষ্মে সর্বোচ্চে ওঠার পর শরতে কমেছিল সারচার্জ
ইরান পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে মে মাসে সারচার্জ দ্রুত বাড়তে শুরু করার পর থেকে তা উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। জুনের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার প্রাথমিক সমঝোতার পর দাম কমে, যার ফলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের সারচার্জও কমানো হয়।
মূল পরিবর্তনগুলোতে দেখা যায়, স্বস্তির পর্বটি কীভাবে আংশিকভাবে উল্টে গেছে:
- ২০২৬ সালের জুনের মাঝামাঝি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রাথমিক সমঝোতার পর জ্বালানির দাম কমে।
- জুলাই ও আগস্ট: দুই সংস্থাতেই ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার সারচার্জ প্রতি যাত্রাপথে রেকর্ড ৬৫,০০০ ইয়েনে পৌঁছায়।
- সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর: জেএএল সারচার্জ কমিয়ে ৫০,০০০ ইয়েন এবং এএনএ ৫৫,০০০ ইয়েন করে।
- ১৫ অক্টোবর: সংস্থা দুটি নভেম্বর ও ডিসেম্বরে সারচার্জ বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করে।
- ১ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর: অনুমোদন সাপেক্ষে এ সময়ে ইস্যু করা টিকিটে প্রস্তাবিত ৬২,০০০ ইয়েনের হার প্রযোজ্য হবে।
নতুন সারচার্জ গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ হারের চেয়ে প্রতি যাত্রাপথে ৩,০০০ ইয়েন কম। জেএএলের ক্ষেত্রে আগের ১৫,০০০ ইয়েন হ্রাসের ১২,০০০ ইয়েনই ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে; এএনএর ক্ষেত্রে আগের ১০,০০০ ইয়েন হ্রাসের ৭,০০০ ইয়েন ফিরছে।
টিকিট পরিবর্তন ও বিদেশ থেকে যাত্রার ক্ষেত্রে খুঁটিনাটি দেখুন
এএনএর প্রকাশিত সারচার্জের নিয়মে টিকিট কেনার পর কী হবে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। টিকিটে কোনো পরিবর্তন না হলে, যাত্রার আগে হার বদলালেও এএনএ জ্বালানি সারচার্জের বকেয়া সমন্বয় করে না। সম্পূর্ণ অব্যবহৃত টিকিট পরিবর্তন করা হলে মূল ও সংশোধিত সারচার্জের পার্থক্য সমন্বয় করে।
আংশিক ব্যবহৃত টিকিট পরিবর্তন করলে এএনএ জ্বালানি সারচার্জ সমন্বয় করে না। তাদের নিয়মে যাত্রাপথ, যাত্রার তারিখ বা ফ্লাইট নম্বর বদলানো এবং খোলা তারিখের টিকিটে আসন সংরক্ষণ করাও পরিবর্তনের মধ্যে পড়ে। অব্যবহৃত ফ্লাইট অংশ ফেরতের জন্য জমা দিলে সংশ্লিষ্ট সারচার্জ পুরোপুরি ফেরত দেওয়া হয়।
এএনএর মাইলেজ কর্মসূচির মাধ্যমে পাওয়া পুরস্কার টিকিটেও জ্বালানি সারচার্জ প্রযোজ্য। তাদের সূচিতে জাপান থেকে যাওয়া-আসার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে অংশীদার সংস্থার পরিচালিত কোডশেয়ার ফ্লাইটও রয়েছে। জেএএল জানিয়েছে, তাদের সারচার্জও নিজস্ব ফ্লাইট ও কোডশেয়ার সেবায় প্রযোজ্য। কোডশেয়ার ফ্লাইটে টিকিটে এক সংস্থার ফ্লাইট কোড থাকলেও উড়োজাহাজ পরিচালনা করতে পারে অন্য সংস্থা।
জাপানের বাইরে থেকে যাত্রা শুরু করা যাত্রীদের যাত্রাস্থলের জন্য প্রযোজ্য সূচি দেখে নেওয়া উচিত। এএনএ বিদেশ থেকে যাত্রার জন্য আলাদা চার্জ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ইউরোপে ৩৬৬ ইউরো (ইংল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ড বাদে), ইংল্যান্ডে ৩১৫ পাউন্ড এবং কানাডায় ৫৮৩ কানাডীয় ডলার রয়েছে। সিঙ্গাপুরে ২৬৪ সিঙ্গাপুর ডলার এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৬৪৬ অস্ট্রেলীয় ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। টোকিও ও মেক্সিকো সিটির জন্য এএনএর বিশেষ নিয়মে ১ নভেম্বর থেকে জাপান থেকে যাত্রা শুরু করা ভ্রমণসূচিতে প্রতি ফ্লাইটে ৩৮,৫০০ ইয়েন সারচার্জ ধার্য করা হয়েছে।
পরবর্তী সংশোধনে কী প্রভাব ফেলতে পারে?
অক্টোবরে জ্বালানির দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৭৫ ডলার এবং বিনিময় হার ছিল ডলারপ্রতি প্রায় ১৫৮ ইয়েন। এ দুটি অঙ্ক গুণ করলে ব্যারেলপ্রতি মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৭,৬৫০ ইয়েন, যা নভেম্বর ও ডিসেম্বরের জন্য ব্যবহৃত ২৫,০৮৯ ইয়েনের মানদণ্ডমূল্যের চেয়ে বেশি।
পরবর্তী মূল্যায়নকালেও বাজারদর এ পর্যায়ে থাকলে এবং সরকারি সহায়তায় জেএএলের প্রযোজ্য মূল্যস্তর আবার এক ধাপ কমলে, তাদের মূল্যতালিকা অনুযায়ী ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় প্রতি যাত্রাপথে সারচার্জ হবে ৬৮,০০০ ইয়েন। এতে ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে যাওয়া-ফেরার সারচার্জ দাঁড়াবে ১ লাখ ৩৬ হাজার ইয়েন। এটি শর্তসাপেক্ষ হিসাব; চূড়ান্ত চার্জ নির্ভর করবে মূল্যায়নকালের গড় জ্বালানির দাম, বিনিময় হার এবং প্রযোজ্য সরকারি সহায়তার ওপর।
এখন টিকিটের দাম তুলনা করা যাত্রীদের আরও তাৎক্ষণিক একটি হিসাব করতে হচ্ছে: বিমানভাড়ার সঙ্গে রুটভিত্তিক জ্বালানি সারচার্জ ও অন্যান্য চার্জ যোগ করে মোট মূল্য বের করা। নভেম্বরের বৃদ্ধি অনেক যাত্রার খরচে নির্দিষ্ট অঙ্ক যোগ করছে; তবে সংস্থা নির্বাচন, টিকিটের শর্ত এবং যাত্রাপথের শুরুর স্থান অনুযায়ী ওই অঙ্ক কীভাবে প্রযোজ্য হবে তা বদলাতে পারে।
মূল বিষয়গুলো
- সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে জেএএল ও এএনএ ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইস্যু করা টিকিটের সারচার্জ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।
- ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার অনেক রুটে প্রতি যাত্রাপথে সারচার্জ হবে ৬২,০০০ ইয়েন, অর্থাৎ সারচার্জ প্রযোজ্য দুটি ফ্লাইটে ১ লাখ ২৪ হাজার ইয়েন।
- সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের তুলনায় যাওয়া-ফেরায় জেএএলে ২৪,০০০ ইয়েন এবং এএনএতে ১৪,০০০ ইয়েন বাড়বে।
- সরকারি সহায়তায় জেএএলের ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার যাওয়া-ফেরার সারচার্জ ৬,০০০ ইয়েন কমেছে।
- চীন ও তাইওয়ানের সাধারণ রুটে জেএএলের সারচার্জ হবে ১৬,০০০ ইয়েন এবং এএনএর ১৫,১০০ ইয়েন; দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য দুই সংস্থাই নেবে ৭,১০০ ইয়েন।
- টিকিট ইস্যুর তারিখ, যাত্রাপথের শুরুর স্থান, রুটের ব্যতিক্রম এবং পরে টিকিট পরিবর্তনের বিষয়গুলো প্রদেয় অর্থে প্রভাব ফেলতে পারে।






