নতুন যোগাযোগব্যবস্থা বৃহত্তর অবকাঠামো সম্প্রসারণে গতি আনছে
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর লাদাখে প্রায় ৩,৩৫০ কোটি রুপি ব্যয়ের পাঁচটি উন্নয়ন উদ্যোগ উদ্বোধন ও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। এর মধ্যে রয়েছে এমন একটি সড়ক, যা দিয়ে যাত্রার সময় ১২ ঘণ্টা থেকে কমে তিন ঘণ্টা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন, এবং বছরে ৩৫ লাখ যাত্রী সামলানোর উপযোগী একটি বিমানবন্দর টার্মিনাল।
সূচিপত্র
- নতুন যোগাযোগব্যবস্থা বৃহত্তর অবকাঠামো সম্প্রসারণে গতি আনছে
- লেহ বিমানবন্দরে যাত্রী সামলানোর সক্ষমতা বেড়ে ৩৫ লাখ
- জান্সকার উপত্যকা দিয়ে ২৯৮ কিলোমিটারের সড়ক
- হানুতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের সংযোগ
- কৃষি মৌসুমের প্রয়োজন মেটাতে ৪০টি জলাধার
- প্রাচীন শিলাচিত্র সংরক্ষণে বিশেষ পার্ক
- ২০১৯ সালের পর কী কী পরিবর্তন হয়েছে বলে সরকারের দাবি
- পর্যটন ও স্থানীয় উৎপাদকদের যোগাযোগ বাড়ছে
- প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি শিক্ষা, বিচার ও ক্রীড়া পরিকল্পনা
- মূল বিষয়গুলো
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন মোদি। এই প্রকল্পসমূহের মধ্যে রয়েছে লেহর কুশোক বকুলা রিমপোচে বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল, ২৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নিম্মু-পাদুম-দারচা সড়ক, জলবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো, প্রাচীন শিলাচিত্র সংরক্ষণের একটি পার্ক এবং ৪০টি গ্রামের জন্য ৪০টি জলাধার।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাদের প্রকল্প ঘোষণায় সড়কটির ব্যয় ২,৫০০ কোটি রুপি এবং বিমানবন্দর টার্মিনালের ব্যয় ৬৫০ কোটি রুপি বলে জানিয়েছে। টার্মিনাল সম্পর্কে আলাদাভাবে তথ্য দেওয়া কর্মকর্তারা ব্যয় ৬৪০ কোটি রুপি উল্লেখ করেছেন।
ঘোষিত ব্যয়ের বেশির ভাগই পরিবহন খাতে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সড়ক ও টার্মিনাল মিলিয়ে ব্যয় ৩,১৫০ কোটি রুপি, যা ৩,৩৫০ কোটি রুপির মোট প্যাকেজের প্রায় ৯৪ শতাংশ। অপেক্ষাকৃত ছোট উদ্যোগগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ, সেচের পানির সময়মতো প্রাপ্যতা এবং লাদাখের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
লাদাখের দুর্গম ভূপ্রকৃতির সঙ্গে এসব প্রয়োজনের যোগ রয়েছে। একটি সড়ক গ্রামের মানুষকে হাসপাতাল বা বাজারে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে, আর নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ গন্তব্যে প্রয়োজনীয় পরিষেবা চালু রাখতে পারে। সংরক্ষিত পানি প্রাকৃতিক প্রবাহ অপর্যাপ্ত হলে কৃষকদের ফসল বুনতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাহাড়ি দৃশ্যের পাশাপাশি এই অঞ্চলের ইতিহাস জানার সুযোগও দেবে দর্শনার্থীদের।
নির্মাণকাজে যুক্ত প্রকৌশলী, শ্রমিক, স্থানীয় কর্মী ও সীমান্ত সড়ক সংস্থার দলগুলোকে ধন্যবাদ জানান মোদি। তিনি প্রকল্পগুলোকে কৌশলগত অবকাঠামোর পাশাপাশি দৈনন্দিন পরিষেবার উন্নতি হিসেবেও তুলে ধরেন।
লেহ বিমানবন্দরে যাত্রী সামলানোর সক্ষমতা বেড়ে ৩৫ লাখ
লেহর নতুন যাত্রী টার্মিনালের আয়তন ২৩,৮০০ বর্গমিটার। এতে আধুনিক যাত্রীসেবার সঙ্গে লাদাখের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটানো স্থাপত্য উপাদান যুক্ত করা হয়েছে। বছরে যাত্রী সামলানোর সক্ষমতা ১০ লাখ থেকে বেড়ে ৩৫ লাখ হয়েছে, অর্থাৎ ১০ লাখ থেকে ৩৫ লাখে উন্নীত হয়েছে।
এই হিসাবে বছরে যাত্রী সামলানোর সক্ষমতা ২৫ লাখ বেড়েছে এবং নতুন সক্ষমতা আগের তুলনায় ৩.৫ গুণ হয়েছে। মোদি আলাদাভাবে বলেছেন, ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাত্রী সামলানোর সক্ষমতা বলতে টার্মিনালটি কতজনকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য তৈরি, তা বোঝায়; আর ফ্লাইট সক্ষমতা বলতে উড়োজাহাজের ওঠানামার সংখ্যা বোঝায়।
টার্মিনালটিতে ভূতাপীয় তাপ এবং সৌরশক্তি ব্যবহার করা হয়। ভূতাপীয় তাপের ক্ষেত্রে মাটির নিচের তাপ কাজে লাগিয়ে ভবন উষ্ণ রাখা হয়। কঠোর জলবায়ুতে ভবনের তাপের চাহিদা কমাতে এই পদ্ধতি উপযোগী। সৌরশক্তি স্থাপনাটির জন্য আরেকটি নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস।
মোদি এটিকে ভূতাপীয় তাপব্যবস্থাসম্পন্ন ভারতের প্রথম বিমানবন্দর টার্মিনাল বলে বর্ণনা করেছেন। প্রকল্পটির পরিবেশগত লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন:
স্থানীয় পরিবেশের প্রতি পূর্ণ যত্ন নিয়ে লাদাখে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলাই আমাদের প্রচেষ্টা,
বৃহত্তর টার্মিনালটি যাত্রীদের সুবিধা বাড়ানো এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করার উদ্দেশ্যে নির্মিত। এর নকশায় ঘোষণার দুটি অগ্রাধিকার একত্র হয়েছে: আরও বেশি যাত্রী সামলানো এবং লাদাখে বড় ভবন পরিচালনার পরিবেশগত চাপ কমানো।
জান্সকার উপত্যকা দিয়ে ২৯৮ কিলোমিটারের সড়ক
নিম্মু-পাদুম-দারচা সড়কটি দুর্গম জান্সকার উপত্যকা দিয়ে লেহর নিম্মুকে হিমাচল প্রদেশের দারচার সঙ্গে যুক্ত করেছে। সীমান্ত সড়ক সংস্থার নির্মিত এই সড়ক শ্রীনগর-লেহ ও মানালি-লেহ মহাসড়কের পাশাপাশি লাদাখে প্রবেশের আরেকটি করিডর।
মোদি বলেছেন, ২,৫০০ কোটি রুপির সড়কটি যাত্রার সময় ১২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে তিন ঘণ্টায় এনেছে। এতে নয় ঘণ্টা, অর্থাৎ আগের যাত্রাসময়ের ৭৫ শতাংশ সাশ্রয় হবে।
শিংকুন লা গিরিপথসহ হিমালয়ের দুর্গম ভূখণ্ড পেরিয়েছে সড়কটি। সশস্ত্র বাহিনীর জন্য এই অতিরিক্ত করিডর সেনাসদস্য ও সরঞ্জাম চলাচল উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জান্সকারের বাসিন্দাদের জন্য এর ব্যবহারিক সুবিধা হলো স্বাস্থ্যসেবা, স্কুল, বাজার ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবায় সহজে পৌঁছানো।
ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের কাছে যাতায়াতের সময় কমায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতে পারেন। গাড়িচালক ও মোটরসাইকেলে ভ্রমণকারীরাও এই অঞ্চলে চলাচলের আরেকটি পথ পাবেন, ফলে প্রতিষ্ঠিত দুটি মহাসড়কের বাইরে বিকল্প বাড়বে।
অনুষ্ঠানে সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়। সারা বছর যোগাযোগ উন্নত করতে সরকার যে জোজিলা টানেলের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, সে কথাও উল্লেখ করেন মোদি।
হানুতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের সংযোগ
বিদ্যুৎ উদ্যোগের আওতায় রয়েছে ৯ মেগাওয়াটের হানু ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ৬৬ কেভি ডাবল সার্কিট দাহ-হানু-খালতসি সঞ্চালন লাইন। একই কাজের ভিন্ন দুটি অংশে এগুলো ভূমিকা রাখে: বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং তা বৃহত্তর গ্রিডে পৌঁছে দেওয়া।
জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রবহমান পানির সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়। হানু প্রকল্পের ৯ মেগাওয়াট রেটিং এর বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বোঝায়। সঞ্চালন লাইনের ৬৬ কেভি রেটিং বোঝায় এর কার্যকর ভোল্টেজ, উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ নয়।
ডাবল সার্কিট লাইনে একই পথে দুটি বৈদ্যুতিক সার্কিট থাকে। নতুন লাইনটি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে পাঠানোর অবকাঠামো, যা বিদ্যুৎ নিষ্কাশন নামে পরিচিত, শক্তিশালী করতে এবং সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে তৈরি করা হয়েছে।
নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ঘরে আলো জ্বালানো, শিশুদের পড়াশোনায় সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবার সমর্থন এবং ছোট ব্যবসা চালু রাখার সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি পুগা উপত্যকায় চলমান বিদ্যুৎ উৎপাদন উদ্যোগ এবং শ্রীনগর-লেহ সঞ্চালন লাইন উদ্বোধনের কথাও বলেন।
হানু কেন্দ্র ও এর সঙ্গে যুক্ত সঞ্চালন অবকাঠামোর ব্যয়ের আলাদা হিসাব দেয়নি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। দুটি স্থাপনা মিলেই ঘোষিত পাঁচটি উন্নয়ন উদ্যোগের বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত অংশ।
কৃষি মৌসুমের প্রয়োজন মেটাতে ৪০টি জলাধার
এই পানি উদ্যোগের আওতায় ৪০টি গ্রামের জন্য ৪০টি জলাধার নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একে ‘প্রকল্প অমৃত হিম সরোবর’ বলেছে। প্রকল্পের বিবরণে সংক্ষিপ্ত নাম ‘প্রকল্প হিম সরোবর’ও ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর লক্ষ্যকে ‘মিশন অমৃত সরোবর’-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ মিশনে জলাশয় উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণে উৎসাহ দেওয়া হয়।
লাদাখের কৃষকদের জন্য সময়মতো পানির প্রাপ্যতা একটি চ্যালেঞ্জ। কোনো কোনো সময়ে বরফগলা পানি ও হিমবাহ থেকে নেমে আসা পানির সরবরাহ যথেষ্ট হলেও বীজ বোনার সময়, যখন ফসলের চারা গজানোর জন্য পানি দরকার, তখন জমিতে পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
পানি পাওয়া গেলে তা সংরক্ষণ করে চাষের প্রয়োজনের সময় ছাড়ার জন্য জলাধারগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ ও কৃষিপঞ্জির মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে সেচ ও কৃষিজীবিকায় সহায়তা করাই এগুলোর উদ্দেশ্য।
কৃষকদের উপকারের কথা তুলে ধরে মোদি বলেন:
প্রয়োজনের সময়ে কৃষকদের সেচের পানি সরবরাহে এগুলো সহায়তা করবে,
গ্রিনহাউস চাষে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগের পরিপূরক এই প্রকল্প। মোদি বলেছেন, লাদাখজুড়ে ১১ হাজার গ্রিনহাউস চালু রয়েছে। গ্রিনহাউস ফসলের জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি করে, আর সেচের জলাধার চাষ ও ফসলের বৃদ্ধির সময় পানি পাওয়ার আলাদা প্রয়োজন মেটায়।
প্রাচীন শিলাচিত্র সংরক্ষণে বিশেষ পার্ক
লেহর সিন্ধু ঘাটে মোদি উদ্বোধন করেছেন সরকার যেটিকে ভারতের প্রথম পেট্রোগ্লিফ সংরক্ষণ পার্ক বলে বর্ণনা করছে। পেট্রোগ্লিফ হলো পাথরের গায়ে খোদাই বা খুঁচিয়ে তৈরি করা ছবি।
লাদাখে শত শত প্রাগৈতিহাসিক শিলাচিত্রের স্থান রয়েছে, যেখানে বন্যপ্রাণী, মানুষের অবয়ব ও প্রতীকী নকশা দেখা যায়। হাজার হাজার বছর আগে এ অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবন, বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক চর্চা সম্পর্কে এসব খোদাই নানা ইঙ্গিত দেয়।
ঝুঁকিপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষা, জনসচেতনতা তৈরি এবং দায়িত্বশীল ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনে উৎসাহ দেওয়াই পার্কটির উদ্দেশ্য। মঠ, পাহাড়ি ভ্রমণ ও শীতকালীন কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত পর্যটন অর্থনীতিতে এটি লাদাখের প্রাচীন ইতিহাস জানার একটি বিশেষ স্থান যোগ করবে।
বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও উৎসবসহ লাদাখের বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের সঙ্গে পার্কটিকে যুক্ত করেছেন মোদি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অঞ্চলটির ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কাছে তা তুলে ধরাই এর লক্ষ্য।
২০১৯ সালের পর কী কী পরিবর্তন হয়েছে বলে সরকারের দাবি
২০১৯ সালে লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ার পর অবকাঠামোর অগ্রগতির বৃহত্তর চিত্রের মধ্যে নতুন প্রকল্পগুলোকে স্থান দিয়েছেন মোদি। তাঁর উল্লেখ করা হিসাব অনুযায়ী, সড়ক নেটওয়ার্ক প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ৪,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি হয়েছে, অর্থাৎ ২,২০০ কিলোমিটারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বড় সেতুর সংখ্যা ১৯ থেকে বেড়ে প্রায় ৭৫ হয়েছে, আর হেলিপ্যাডের সংখ্যা সাত থেকে বেড়ে ৪০টির বেশি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এসব সূচকে দৈনন্দিন সড়কযাত্রা থেকে আকাশপথে যোগাযোগ এবং চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের প্রবেশাধিকার উঠে এসেছে।
মোদি বলেছেন, বাড়িতে নলবাহিত পানির সংযোগ ৩.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৯৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৯৫.৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি। সেচের জলাধারগুলো ভিন্ন একটি প্রয়োজন মেটায়: মৌসুমের সঠিক সময়ে চাষের জন্য পানি সংরক্ষণ।
ঘোষণায় প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি সংক্ষিপ্ত ধারাবাহিকতাও তুলে ধরা হয়েছে:
- ২০১৯: লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হয়। মোদির ভাষণে অবকাঠামো-সংক্রান্ত তুলনার ভিত্তি হিসেবে এই বছরটি উল্লেখ করা হয়েছে।
- আগস্ট ২০২৬: প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার লাদাখের জন্য একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ অনুমোদন করে।
- ১৫ অক্টোবর ২০২৬: ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পাঁচটি উন্নয়ন উদ্যোগ উদ্বোধন ও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন মোদি।
মৌলিক পরিষেবার এই সম্প্রসারণে নতুন পরিবহন, জ্বালানি ও পানি প্রকল্পকে পরবর্তী সংযোজন হিসেবে তুলে ধরেছে সরকার।
পর্যটন ও স্থানীয় উৎপাদকদের যোগাযোগ বাড়ছে
মোদির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস’ কর্মসূচির আওতায় ৪০টির বেশি সীমান্তবর্তী জনপদের উন্নয়ন করা হচ্ছে। তিনি এই কাজের সঙ্গে দুর্গম গ্রামে কর্মসংস্থান এবং শীতকালীন ও অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন প্রসারের বিষয়টি যুক্ত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর হিসাবে, স্থানীয় হোমস্টের সংখ্যা প্রায় ১৫০ থেকে বেড়ে ৩,০০০ হয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ। নতুন বিমানবন্দর টার্মিনাল ও সড়ক পর্যটন অর্থনীতির জন্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়াবে, যেখানে এখন আরও বেশি পরিবার থাকার ব্যবস্থা দিচ্ছে।
মোদির তুলে ধরা উন্নয়নের আরেকটি অংশ ছিল ভারতনেট ও ইন্টারনেট সুবিধার সম্প্রসারণ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল যোগাযোগ হোটেল, রেস্তোরাঁ, হোমস্টে ও হস্তশিল্প ব্যবসার পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষা ও সরকারি পরিষেবায় প্রবেশাধিকারেও সহায়তা করে। পরিবহন মানুষ ও পণ্যকে সরাসরি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেয়, আর ইন্টারনেট ব্যবসাগুলোকে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে ও লেনদেন পরিচালনায় সহায়তা করে।
মোদি সি-বাকথর্ন, হস্তশিল্প, ভৌগোলিক নির্দেশক ট্যাগ পাওয়া এপ্রিকট, বাণিজ্যিক ফুলচাষ এবং চাংপা সম্প্রদায়ের তৈরি পশমিনা তুলে ধরেন। ভৌগোলিক নির্দেশক কোনো পণ্যের পরিচয় দেয়, যার গুণমান বা সুনাম উৎপত্তিস্থলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি জার্মান চ্যান্সেলর, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী এবং কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্টকে লাদাখি পণ্য উপহার দিয়েছেন। উন্নত ব্র্যান্ডিং ও বাজারে প্রবেশের সুযোগকে স্থানীয় উৎপাদকদের কাছে সরাসরি আরও বেশি আয় পৌঁছে দেওয়ার উপায় হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি শিক্ষা, বিচার ও ক্রীড়া পরিকল্পনা
শিক্ষা ও প্রযুক্তি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে লেহতে একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মোদি। আইআইটি জম্মু ও আইআইএম জম্মুর স্যাটেলাইট ক্যাম্পাস স্থাপনের প্রস্তাবও এগোচ্ছে। এর ফলে লাদাখে প্রকৌশল, গবেষণা ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষার সুযোগ বাড়বে।
মোদি বলেছেন, অন্য শহরের প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করেই তরুণদের দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করাই লক্ষ্য। তিনি লাদাখের নতুন ক্রীড়ানীতি এবং প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা উন্নত করার প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে স্থানীয়দের আইস হকি, শীতকালীন ক্রীড়া ও পর্বতারোহণে অংশগ্রহণের কথা বলেন তিনি।
আগস্টে অনুমোদিত হাইকোর্ট বেঞ্চের উদ্দেশ্য হলো বিচারিক পরিষেবা বাসিন্দাদের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়া। বেঞ্চ বা প্রস্তাবিত স্যাটেলাইট ক্যাম্পাস চালুর তারিখ এবং জোজিলা টানেল শেষ করার সময়সীমা ঘোষণায় জানানো হয়নি।
উদ্বোধন করা পাঁচটি উদ্যোগের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও সক্ষমতা রয়েছে: লেহতে বড় টার্মিনাল, জান্সকারের মধ্য দিয়ে আরেকটি সড়ক, হানুতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, ৪০টি গ্রামে পানি সংরক্ষণ এবং সিন্ধু ঘাটে একটি সংরক্ষণ পার্ক। নির্মাণের বাইরেও এসব উদ্যোগের সম্ভাব্য সুফল রয়েছে বাসিন্দাদের যাতায়াত, তাঁদের ব্যবহৃত পরিষেবা এবং তাঁদের জীবিকার ক্ষেত্রে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর লাদাখে প্রায় ৩,৩৫০ কোটি রুপির পাঁচটি উন্নয়ন উদ্যোগ উদ্বোধন করেন মোদি।
- লেহ বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল বছরে যাত্রী সামলানোর সক্ষমতা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ লাখ করেছে। এতে ভূতাপীয় তাপ ও সৌরশক্তি ব্যবহার করা হয়।
- ২৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নিম্মু-পাদুম-দারচা সড়ক লাদাখে প্রবেশের আরেকটি পথ। মোদি বলেছেন, এতে যাত্রার সময় ১২ ঘণ্টা থেকে কমে তিন ঘণ্টা হবে।
- বিদ্যুৎ উদ্যোগে রয়েছে ৯ মেগাওয়াটের হানু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ৬৬ কেভি দাহ-হানু-খালতসি সঞ্চালন লাইন।
- ৪০টি গ্রামের ৪০টি জলাধার কৃষকদের প্রয়োজনের সময় সেচের জন্য পানি সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।
- লেহর সিন্ধু ঘাটে পেট্রোগ্লিফ সংরক্ষণ পার্কের লক্ষ্য প্রাচীন শিলাচিত্র রক্ষা এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।






