দুটি সাংবিধানিক প্রস্তাব রাজকীয় আলোচ্যসূচিতে
প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার সময়সীমা নির্ধারণের মালয়েশিয়ার প্রস্তাব এবং অ্যাটর্নি-জেনারেলের পদ থেকে পাবলিক প্রসিকিউটরকে পৃথক করার পরিকল্পনা নিয়ে ২০২৬ সালের ১৪ ও ১৫ অক্টোবর ইস্তানা নেগারায় অনুষ্ঠিত শাসকদের ২৭৩তম সম্মেলনে আলোচনা হয়।
সূচিপত্র
- দুটি সাংবিধানিক প্রস্তাব রাজকীয় আলোচ্যসূচিতে
- প্রস্তাবিত প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা যেভাবে কার্যকর হবে
- ফৌজদারি মামলা পরিচালনার জন্য পৃথক দপ্তর
- পাবলিক প্রসিকিউটর কে নিয়োগ দেবেন?
- সংসদীয় পরিকল্পনা থেকে অক্টোবরের পরামর্শ
- শিশু আইনের পরিবর্তন ও জাকাত তহবিলের বিস্তৃত নিরীক্ষা
- নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতি বিষয়ে ব্রিফিং
- রাজকীয় বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন?
- মূল বিষয়গুলো
পেরাকের সুলতান নাজরিন শাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসংক্রান্ত সংবিধান (সংশোধন) বিল ২০২৬-এর একটি পরামর্শপত্র বিবেচনা করা হয়। দুই আইনি পদ পৃথক করার বিষয়ে সংবিধান (সংশোধন) (নং ২) বিল ২০২৬ সম্পর্কে সম্মেলনকে আলাদাভাবে অবহিত করা হয়।
শাসকদের সিলমোহরের রক্ষকের দপ্তর ১৫ অক্টোবরের বিবৃতিতে এই দুই প্রস্তাবের ভিন্ন উদ্দেশ্য তুলে ধরে: প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসংক্রান্ত প্রস্তাবটি পরামর্শের জন্য সম্মেলনে পেশ করা হয়, আর অ্যাটর্নি-জেনারেল ও পাবলিক প্রসিকিউটর-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি তথ্যের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমকে সঙ্গে নিয়ে সম্মেলনে যোগ দেন। আলোচ্যসূচিতে শিশু আইন ২০০১-এর ৯৭ ধারায় প্রস্তাবিত পরিবর্তন, জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি এবং জাকাত তহবিলের আরও বিস্তৃত নিরীক্ষার বিষয়ও ছিল।
দুটি সাংবিধানিক প্রস্তাব জনক্ষমতার ভিন্ন দুটি ধরন নিয়ে। একটি সরকারপ্রধান হিসেবে কারও দায়িত্ব পালনের মেয়াদ সীমিত করবে। অন্যটি ফৌজদারি মামলা পরিচালনার দায়িত্ব সরকারের প্রধান আইন উপদেষ্টার পদ থেকে পৃথক একটি দপ্তরে ন্যস্ত করবে।
আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারবিষয়ক মন্ত্রী দাতুক সেরি আজালিনা ওথম্যান সাঈদ এর আগে প্রস্তাবিত প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ ১০ বছর বা দুই মেয়াদের সীমা এবং প্রস্তাবিত পাবলিক প্রসিকিউটরের জন্য নির্দিষ্ট সাত বছরের মেয়াদের কথা জানিয়েছিলেন। এই বিবরণগুলো অক্টোবরের আলোচনার ব্যবহারিক তাৎপর্য স্পষ্ট করে: সংস্কারগুলো রাজনৈতিক নেতৃত্বের মেয়াদ এবং ফৌজদারি মামলা দায়েরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে বেছে নেওয়া—দুই বিষয়ই নিয়ে।
প্রস্তাবিত প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা যেভাবে কার্যকর হবে
আজালিনা প্রস্তাবিত সীমাটি ১০ বছর বা দুই মেয়াদ বলে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কারও জীবদ্দশায় দায়িত্ব পালনের সময়গুলো যোগ করে এই হিসাব হবে, মেয়াদগুলো ধারাবাহিক হোক বা সরকারে না থাকার বিরতি দিয়ে হোক।
সহজ কথায়, পদ ছেড়ে পরে আবার দায়িত্বে ফিরলে হিসাব নতুন করে শুরু হবে না। মন্ত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, আগে দায়িত্ব পালন করা সময়ও জীবদ্দশার মোট মেয়াদের হিসাবে যুক্ত হবে।
প্রধানমন্ত্রী মেয়াদসীমায় পৌঁছালে সরকারের বাকি অংশের কী হবে, প্রস্তাবে তা-ও রয়েছে। আজালিনার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোট নির্ধারিত সর্বোচ্চ মেয়াদে পৌঁছালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের দায়িত্বের অবসান হবে।
উত্তরণকালীন একটি বিধান বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাকে উত্তরসূরি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দৈনন্দিন প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সীমিত দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেবে। এতে বিদায়ী প্রশাসনের ভূমিকা সীমিত রেখেও সরকারের নিয়মিত কাজ চালু রাখা যাবে।
আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী আজালিনা প্রস্তাবিত উত্তরণকালীন ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করেন:
তিনি বলেন, "ধারা ৪৩-এর ২(ক) উপধারা অনুযায়ী নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত উত্তরণকালে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা কেবল দৈনন্দিন সরকারি প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট সীমিত দায়িত্ব পালন করবেন।"
অক্টোবরের বিবৃতিতে সংশোধনীর আগের দায়িত্ব পালনের সময় কীভাবে গণনা হবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। এতে কার্যকর হওয়ার তারিখ জানানো, সংসদে পাস হওয়ার ঘোষণা দেওয়া বা নতুন করে বিতর্কের তারিখ নির্ধারণও করা হয়নি। কোনো নির্দিষ্ট পদধারীর ক্ষেত্রে কখন থেকে এই সীমা কার্যকর হবে, তা নির্ধারণে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
ফৌজদারি মামলা পরিচালনার জন্য পৃথক দপ্তর
সংবিধান (সংশোধন) (নং ২) বিল ২০২৬ অ্যাটর্নি-জেনারেলের ভূমিকা থেকে পাবলিক প্রসিকিউটরের ভূমিকা পৃথক করবে। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে একই দপ্তরের অধীনে দুটি দায়িত্ব রয়েছে: আইনি বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া এবং ফৌজদারি মামলা পরিচালনার কর্তৃত্ব প্রয়োগ করা।
প্রসিকিউশন হলো আদালতে ফৌজদারি অভিযোগ উপস্থাপনের প্রক্রিয়া। কোনো মামলা হবে কি না এবং কীভাবে তা এগিয়ে নেওয়া হবে, তা প্রসিকিউটর নির্ধারণ করেন; মামলার রায় দেয় আদালত। পদ দুটি পৃথক হলে সরকারি আইনি পরামর্শ এবং মামলা পরিচালনার সিদ্ধান্ত ভিন্ন দুই পদধারীর দায়িত্বে পড়বে।
আজালিনা বলেন, পদমর্যাদা ও চাকরির ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পাবলিক প্রসিকিউটরের অবস্থান অ্যাটর্নি-জেনারেলের সমপর্যায়ের হবে। প্রার্থীদের অন্তত ১০ বছরের মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং নিয়োগের মেয়াদ হবে নির্দিষ্ট সাত বছর।
অ্যাটর্নি-জেনারেল দুসুকি মোখতারও বলেন, প্রার্থীরা সংসদ সদস্য বা রাজ্য আইনসভার সদস্য হতে পারবেন না। সংসদে এক ব্রিফিংয়ে তিনি প্রস্তাবিত নিয়োগব্যবস্থার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন:
তিনি বলেন, "পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ঠেকানোই এর উদ্দেশ্য।"
দুসুকি পদধারীর কাজের জন্য প্রত্যাশিত মানদণ্ডের কথাও জানান:
আমরা নিশ্চিত করতে চাই, দায়িত্ব পালনের সময় পাবলিক প্রসিকিউটর যেন ন্যায্যভাবে কাজ করেন।
পাবলিক প্রসিকিউটর কে নিয়োগ দেবেন?
প্রস্তাবিত নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ইয়াং দি-পেরতুয়ান আগোং, বিচার বিভাগীয় ও আইনসেবা কমিশন এবং শাসকদের সম্মেলন যুক্ত থাকবে। দুসুকি বলেন, পাবলিক প্রসিকিউটর বাছাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ভূমিকা থাকবে না; কমিশন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবে।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সম্মেলনের ভূমিকা নিয়ে বর্ণনা ভিন্ন ছিল, যা নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সংসদে দুসুকির ব্রিফিংয়ে বলা হয়, শাসকদের সম্মেলনের সম্মতি সাপেক্ষে রাজা নিয়োগ দেবেন; আজালিনার আগের ব্যাখ্যায় বলা হয়, কমিশনের সুপারিশে এবং সম্মেলনের সঙ্গে পরামর্শের পর রাজার বিবেচনায় নিয়োগ হবে। সম্মতির অর্থ হলো একমত হওয়া, আর পরামর্শের অর্থ হলো মতামত চাওয়া।
দায়িত্ব পালনরত কোনো পাবলিক প্রসিকিউটর মেয়াদ বাড়াতে চাইলে কমিশনেরও ভূমিকা থাকবে। আজালিনা বলেন, পদধারীকে আবেদন করতে হবে, যাতে প্রাথমিক সাত বছর পর কমিশন নিয়োগটি পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে।
মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে আজালিনা তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করেন:
তিনি বলেন, "আমরা চাই না পাবলিক প্রসিকিউটরের মেয়াদ নবায়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হোক।"
নিয়োগ ও মেয়াদ নবায়নের নিয়ম স্বাধীনতার ভিন্ন দুটি পর্যায় নিশ্চিত করে। বাছাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ না থাকলে নিয়োগের শুরুতে সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কমবে। আবেদন ও পুনর্মূল্যায়নের বাধ্যবাধকতা নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে পদধারীর দায়িত্ব অব্যাহত রাখার আগে আরেকটি সিদ্ধান্তের সুযোগ তৈরি করবে।
সংসদীয় পরিকল্পনা থেকে অক্টোবরের পরামর্শ
২০২৬ সালের শুরুর দিকে সরকারের পরিকল্পনা ও সংসদীয় কার্যক্রমের কয়েকটি ধাপের পর অক্টোবরের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। আজালিনা বলেছিলেন, দুটি বিলই মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, রাজনৈতিক দলগুলোতে এগুলোর পক্ষে সমর্থন থাকবে।
প্রস্তাবগুলো দেওয়ান রাকইয়াতে প্রথম পাঠের জন্য পেশ করা হয়েছিল। প্রথম পাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিল উত্থাপন করা হয়; পরবর্তী ধাপগুলোতে আইনপ্রণেতারা এর বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক করেন এবং পাস হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেন। মন্ত্রীর আগের সময়সূচি এবং পরে প্রস্তাবগুলো আবার উত্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণায় রাজকীয় বৈঠকের আগে সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতির চিত্র পাওয়া যায়।
- ২ মার্চ: আজালিনার আগের সময়সূচিতে অ্যাটর্নি-জেনারেল সংস্কার বিলের দ্বিতীয় পাঠের তারিখ নির্ধারিত ছিল।
- ৩ মার্চ: এরপর প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসংক্রান্ত বিলের দ্বিতীয় পাঠ হওয়ার কথা ছিল; আনোয়ার নিজে এটি উপস্থাপন করবেন বলে আশা করা হয়েছিল।
- ১ এপ্রিল: আজালিনা জানান, পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে সাংবিধানিক প্রস্তাবগুলো আবার উত্থাপনে সরকার সম্মত হয়েছে।
- ২২ জুন থেকে ১৬ জুলাই: এপ্রিলের ঘোষণায় উল্লেখ করা দেওয়ান রাকইয়াতের অধিবেশন ১৬ দিন চলার কথা ছিল।
- ১৪ ও ১৫ অক্টোবর: ইস্তানা নেগারায় শাসকদের সম্মেলনে মেয়াদসংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় এবং আইনি পদ দুটি পৃথক করার বিষয়ে তথ্য জানানো হয়।
তাই অক্টোবরের কার্যক্রমে দুটি প্রস্তাব সম্মেলনের সামনে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। মেয়াদসংক্রান্ত নথিটি পরামর্শের জন্য পেশ করা হয়, আর অ্যাটর্নি-জেনারেল ও পাবলিক প্রসিকিউটর-সংক্রান্ত নথির মাধ্যমে প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি সম্পর্কে সম্মেলনকে জানানো হয়।
শিশু আইনের পরিবর্তন ও জাকাত তহবিলের বিস্তৃত নিরীক্ষা
শিশু আইন ২০০১-এর ৯৭ ধারায় প্রস্তাবিত সংশোধন সম্পর্কেও সম্মেলনকে জানানো হয়। ধারাটিতে এমন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত শিশুদের বিষয়ে বিধান রয়েছে, যে অপরাধে প্রাপ্তবয়স্কদের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট রাজা বা রাজ্য কর্তৃপক্ষের ইচ্ছাধীন আটক রাখার বিষয়ও রয়েছে।
এই যোগসূত্রের কারণে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো শাসকদের আলোচ্যসূচিতে সরাসরি স্থান পায়। বৈঠকের বিবৃতিতে আলোচ্য ধারাটি উল্লেখ করা হলেও বিকল্প বিধান বা আটকের ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আসবে, তা জানানো হয়নি।
মালয়েশিয়ার ইসলামি ধর্মীয় বিষয়সংক্রান্ত জাতীয় পরিষদ, যা এমকেআই নামে পরিচিত, তার অধীন বিষয়গুলো দিয়ে ইসলামি ধর্মীয় প্রশাসনও বৈঠকের কার্যক্রমে স্থান পায়। এসব বিষয়ের মধ্যে জাকাত তহবিলের নিরীক্ষার পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল।
জাকাত হলো যোগ্য প্রাপকদের সহায়তায় ব্যবহৃত বাধ্যতামূলক ইসলামি অনুদান। নিরীক্ষায় আর্থিক নথি ও অর্থ ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা করা হয়। নিরীক্ষার পরিধি বাড়ালে পর্যালোচনার আওতা বিস্তৃত হতে পারে, ফলে সুনির্দিষ্ট নিরীক্ষানীতি অর্থদাতা ও সহায়তাপ্রাপকদের উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
বিবৃতিতে পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাবের কথা বলা হলেও কোন অতিরিক্ত কার্যক্রম, নথি বা সংস্থা এর আওতায় আসবে, তা উল্লেখ করা হয়নি। সংস্কার কর্মসূচি অনুসরণকারী পাঠকদের জন্য এটি ছিল সাংবিধানিক আলোচনার পাশাপাশি আর্থিক তদারকির একটি পৃথক বিষয়।
নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতি বিষয়ে ব্রিফিং
জাতীয় পুলিশপ্রধান তান শ্রী মোহাম্মদ খালিদ ইসমাইল জাতীয় নিরাপত্তার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্মেলনকে ব্রিফ করেন। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল তান শ্রী মালেক রাজাক সুলাইমান প্রতিরক্ষা বিষয়ে ব্রিফিং দেন, আর অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী আকমান নাসরুল্লাহ মোহাম্মদ নাসির অর্থনৈতিক বিষয় তুলে ধরেন।
তিনটি উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পরিবর্তনের পাশাপাশি একই বৈঠকে পুলিশ, সামরিক বিষয় ও অর্থনীতি আলোচিত হয়। প্রকাশ্য বিবৃতিতে কর্মকর্তাদের নাম ও আলোচ্য বিষয় উল্লেখ করা হলেও ব্রিফিংয়ের বিস্তারিত মূল্যায়ন বা অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
আলোচ্যসূচিতে বিশেষ আদালতের একজন বিচারক এবং ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মারা, বা ইউআইটিএমের মালয় শাসকগোষ্ঠীর চেয়ার পদে নতুন নিয়োগের বিষয়ও ছিল। রাজা ও রাজ্য শাসকেরা ব্যক্তিগত পরিচয়ে যুক্ত থাকলে তাঁদের বিষয়ে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করে বিশেষ আদালত।
২০২৭ সালের সম্মেলনের প্রস্তাবিত তারিখ নিয়েও আলোচনা হয়। নিয়োগ, ব্রিফিং ও আইন প্রণয়নের নথি মিলিয়ে দুই দিনের কার্যক্রমের পরিধি স্পষ্ট হয়, যা বিশেষ মনোযোগ পাওয়া দুটি সাংবিধানিক প্রস্তাবের বাইরেও বিস্তৃত ছিল।
রাজকীয় বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন?
প্রথম দিনের কার্যক্রমে মালয় শাসক ও রাজ্য গভর্নররা অংশ নেন; কয়েকটি রাজপরিবারের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। দুই দিনই সুলতান নাজরিন শাহ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
তেরেঙ্গানুর প্রতিনিধিত্ব করেন রাজপ্রতিনিধি তেংকু মুহাম্মদ ইসমাইল ইবনি আল-ওয়াথিকু বিল্লাহ সুলতান মিজান জাইনাল আবিদিন। কেলান্তানের সুলতানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কেলান্তানের যুবরাজ তেংকু মুহাম্মদ ফাখরি পেত্রা।
জোহরের তেমেংগং তেংকু ইদ্রিস ইস্কান্দার আল-হাজ ইবনি সুলতান ইব্রাহিম জোহরের রাজপ্রতিনিধির প্রতিনিধিত্ব করেন। রাজা হিসেবে সুলতান ইব্রাহিম ১৫ অক্টোবর আনোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন।
এই উপস্থিতির ফলে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো এমন একটি রাজকীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে আসে, যার অংশগ্রহণ পৃথক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের প্রস্তাবিত প্রক্রিয়াতেও অন্তর্ভুক্ত। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসংক্রান্ত প্রস্তাবের ক্ষেত্রে অক্টোবরের বৈঠকের ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল সাংবিধানিক সংশোধনী নিয়ে পরামর্শ গ্রহণ।
মূল বিষয়গুলো
- সুলতান নাজরিন শাহর সভাপতিত্বে ২০২৬ সালের ১৪ ও ১৫ অক্টোবর ইস্তানা নেগারায় শাসকদের ২৭৩তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসংক্রান্ত বিলটি পরামর্শের জন্য পেশ করা হয়; অ্যাটর্নি-জেনারেল ও পাবলিক প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পৃথক করার বিলটি তথ্যের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
- আজালিনার বর্ণনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রস্তাবিত জীবদ্দশার সীমা ১০ বছর বা দুই মেয়াদ; ভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা সময়ও এর মধ্যে গণ্য হবে।
- প্রস্তাবিত পাবলিক প্রসিকিউটরের মেয়াদ হবে সাত বছর এবং মামলা পরিচালনায় অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- নিয়োগে সম্মেলনের ভূমিকা নিয়ে সরকারি ব্যাখ্যায় ভিন্ন শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে: সম্মতি ও পরামর্শ।
- বৈঠকে শিশু আইন সংশোধন, জাকাত তহবিলের বিস্তৃত নিরীক্ষা, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি ও নিয়োগের বিষয়ও আলোচিত হয়।






