ফুকেটের এক কিশোরী মঞ্চ ভাগ করল তার রক-তারকাদের সঙ্গে
সেপ্টেম্বরে আমেরিকাস গট ট্যালেন্ট জয়ী ১৬ বছর বয়সী থাই গায়িকা ও গিটারবাদক নেনে রয়্যাল ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর সিঙ্গাপুর ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অ্যাভেঞ্জড সেভেনফোল্ডের সঙ্গে পারফর্ম করেন। তিনি ‘ব্যাট কান্ট্রি’ ও ‘আনহোলি কনফেশন্স’ গাওয়ার পাশাপাশি ইলেকট্রিক গিটার বাজান। এর আগে তিনি ব্যাকিং ব্যান্ড ছাড়াই পাঁচটি গান পরিবেশন করে নিজের উদ্বোধনী সেট করেন।
সূচিপত্র
- ফুকেটের এক কিশোরী মঞ্চ ভাগ করল তার রক-তারকাদের সঙ্গে
- যেভাবে এলো আমন্ত্রণ
- একক উদ্বোধনী পরিবেশনায় পাঁচটি কভার
- মূল পরিবেশনার শেষ দিকে দুটি অতিথি গান
- সিঙ্গাপুরে অ্যাভেঞ্জড সেভেনফোল্ডের পরিবেশনা
- টেলিভিশনের ফাইনাল থেকে সিঙ্গাপুরের অ্যারেনায়
- ছোট মঞ্চে গড়ে ওঠা সংগীতের শিক্ষা
- মৌলিক গান ও পড়াশোনা এখনো অগ্রাধিকার
- দেশে প্রথম সাফল্যের পর ব্যস্ত অক্টোবর
- মূল বিষয়গুলো
বিক্রির জন্য ছাড়া সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়া এই কনসার্টে প্রায় ১০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ১১ বছর পর সিঙ্গাপুরে ফিরেছিল অ্যাভেঞ্জড সেভেনফোল্ড। স্টেডিয়ামটির ঘোষিত ধারণক্ষমতা ১২ হাজার; উপস্থিতির সংখ্যাটি এই নির্দিষ্ট কনসার্টের দর্শকসংখ্যা বোঝায়।
অ্যাভেঞ্জড সেভেনফোল্ডের প্রধান গায়ক এম. শ্যাডোজ বলেন, এই যৌথ পরিবেশনার কোনো মহড়া হয়নি। রয়্যাল দুই গানে প্রধান কণ্ঠশিল্পীর দায়িত্ব ভাগ করে নেন এবং গিটার বাজান। কনসার্টের উদ্বোধনী পরিবেশনার আমন্ত্রণটি তার জন্য এমন শিল্পীদের পাশে পারফর্ম করার সুযোগ হয়ে ওঠে, যাদের গান তিনি আগে ফুকেটের এক রাতের বাজারে কভার করেছিলেন।
রয়্যালের আসল নাম রাত্তিকান আমলোয়, ডাকনাম প্রেও। সিঙ্গাপুরে পারফর্ম করার আগে তিনি বলেছিলেন, একই সঙ্গে রোমাঞ্চিত ও ভীত বোধ করছেন। ব্যান্ডটির সঙ্গে তার পরিচয় টেলিভিশনে জয়ের মাধ্যমে নয়, বরং নিজের দল ওজোন ব্যান্ডের সঙ্গে পারফর্ম করার সময় থেকেই।
আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেওয়া প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার চেয়ে সিঙ্গাপুরের পরিবেশটিও ছিল আলাদা। প্রতিষ্ঠিত একটি মেটাল ব্যান্ডের কনসার্টে আসা অ্যারেনার দর্শকদের সামনে পারফর্ম করার জন্য রয়্যাল পেয়েছিলেন আধা ঘণ্টা। তার পরিবেশনায় দর্শকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, দাঁড়ানোর জায়গায় নাচেন এবং দ্য ক্র্যানবেরিজের ‘জম্বি’ গানের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ কণ্ঠ মেলান।
যেভাবে এলো আমন্ত্রণ
মিডাস প্রমোশনস ও শ’ লাইভ এন্টারটেইনমেন্ট ২৫ সেপ্টেম্বর রয়্যালের উদ্বোধনী পরিবেশনার ঘোষণা দেয়। আমেরিকাস গট ট্যালেন্ট জয়ের পরপরই তার অংশগ্রহণের খবর প্রকাশ্যে এলেও মিডাস প্রমোশনসের আঞ্চলিক ব্যবসা উন্নয়ন পরিচালক ফ্রান্সিস হসকিং বলেন, জয়ের আগেই তার পারফর্ম করার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছিল।
কয়েক বছর আগে ফুকেটের রাতের বাজারগুলোতে পারফর্ম শুরু করার সময় থেকেই হসকিং রয়্যালের কথা জানতেন। জুলাইয়ে ‘জম্বি’ গান দিয়ে তার টেলিভিশন অডিশন দেখে তিনি যৌথ পরিবেশনার সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যান।
কনসার্টের আয়োজকের আঞ্চলিক ব্যবসা উন্নয়ন পরিচালক ফ্রান্সিস হসকিং চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন:
তিনি জেতার আগেই সবকিছু নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।
রয়্যাল বলেন, অ্যাভেঞ্জড সেভেনফোল্ডের সঙ্গে বাজাতে চান—এ কথা শোনার পর সিঙ্গাপুরের ব্যবস্থাপকেরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা জানান, ব্যান্ডটি চায় তিনি তাদের উদ্বোধনী পরিবেশনা করুন এবং তিনি রাজি কি না জানতে চান। রয়্যালের কাছে এই আমন্ত্রণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল এমন এক আকাঙ্ক্ষা, যার কথা তিনি আগেই প্রকাশ্যে বলেছিলেন।
গায়িকা ও গিটারবাদক নেনে রয়্যাল সুযোগটি পেয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন:
হ্যাঁ! স্বপ্ন সত্যি হয়। অবিশ্বাস্য।
হসকিং বলেন, সিঙ্গাপুরে ব্যান্ডটির কনসার্ট নিয়ে আগে থেকেই ব্যাপক আগ্রহ ছিল, আর রয়্যালের অন্তর্ভুক্তি আগ্রহ আরও বাড়ায়। রয়্যাল বলেন, কিছু ভক্ত বিশেষভাবে তাকে দেখার জন্য টিকিট কিনেছেন জেনে তিনি অবাক হয়েছিলেন।
একক উদ্বোধনী পরিবেশনায় পাঁচটি কভার
কনসার্টের আগে রয়্যালের বাবা নারং আমলোয় বলেন, তাকে ৩০ মিনিটের একটি পরিবেশনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ব্যাকিং ব্যান্ড ছাড়াই পারফর্ম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, রয়্যাল নিজেই গানগুলোর সংগীত নতুন করে সাজিয়েছেন এবং পরিবেশনার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
তার উদ্বোধনী পরিবেশনায় গানগুলো ছিল এই ক্রমে:
- মিউজের ‘হিস্টেরিয়া’
- সাউন্ডগার্ডেনের ‘ব্ল্যাক হোল সান’
- রেজ এগেইনস্ট দ্য মেশিনের ‘কিলিং ইন দ্য নেম’
- সিস্টেম অব আ ডাউনের ‘আই-ই-এ-আই-এ-আই-ও’
- দ্য ক্র্যানবেরিজের ‘জম্বি’
‘হিস্টেরিয়া’, ‘ব্ল্যাক হোল সান’ ও ‘জম্বি’ সিঙ্গাপুরের পরিবেশনাকে আমেরিকাস গট ট্যালেন্টে তার পারফরম্যান্সের সঙ্গেও যুক্ত করে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যারা রয়্যালকে চিনেছেন, তারা পরিচিত গান শুনতে পেয়েছেন। অন্য গানগুলো অ্যারেনায় হেভি রকের প্রতি তার আগ্রহের আরও দিক তুলে ধরে।
উদ্বোধনী পরিবেশনার সময় কানে থাকা মনিটরে সমস্যা হলেও রয়্যাল পারফর্ম চালিয়ে যান। কনসার্টের শব্দের মধ্যেও শিল্পীরা যেন সংগীত ও নিজেদের কণ্ঠের নিয়ন্ত্রিত মিশ্রণ শুনতে পান, সে জন্য এই যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। শেষ গান ‘জম্বি’তে তিনি গিটারের একক পরিবেশনা করেন, আর দর্শকেরা গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান ও লাফিয়ে ওঠেন।
মূল পরিবেশনার শেষ দিকে দুটি অতিথি গান
মূল পরিবেশনার শেষ ভাগে, ‘হেইল টু দ্য কিং’-এর পর অ্যাভেঞ্জড সেভেনফোল্ড রয়্যালকে আবার মঞ্চে ডাকে। তিনি প্রথমে ব্যান্ডটির ২০০৫ সালের অ্যালবাম ‘সিটি অব ইভিল’-এর ‘ব্যাট কান্ট্রি’ গানে তাদের সঙ্গে যোগ দেন, এরপর ‘আনহোলি কনফেশন্স’-এর জন্যও মঞ্চে থাকেন।
রয়্যালের ভূমিকা মাইক্রোফোনে ক্ষণিকের উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি গান গাওয়ার পাশাপাশি ইলেকট্রিক গিটারও বাজান। এম. শ্যাডোজের সঙ্গে প্রধান কণ্ঠের দায়িত্ব ভাগ করে নেন এবং ব্যান্ডের সঙ্গে গিটারের অংশ বাজান। শ্যাডোজের ভাষায় পরিবেশনাটি ছিল মহড়াবিহীন। ফলে প্রতিষ্ঠিত একটি লাইভ ব্যান্ডের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জও ছিল কিশোরী শিল্পীর সামনে।
এর আগে ফুকেটের নাকা উইকএন্ড নাইট মার্কেটে পথসংগীত পরিবেশনের সময় ওজোন ব্যান্ড অ্যাভেঞ্জড সেভেনফোল্ডের ‘নাইটমেয়ার’, ‘আ লিটল পিস অব হেভেন’ ও ‘সো ফার অ্যাওয়ে’সহ কয়েকটি গান বাজিয়েছিল। পথসংগীত বলতে জনসমক্ষে, প্রায়ই বকশিশের বিনিময়ে, গান পরিবেশন করাকে বোঝায়। সিঙ্গাপুরের আমন্ত্রণ পাওয়ার আগেই এই ছোট পরিসরের পরিবেশনাগুলোর মাধ্যমে রয়্যাল ব্যান্ডটির গান বাজানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন।
পরে রয়্যালের ফেসবুক পেজে প্রায় ১৩ মিনিটের একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখা হয়, "Thank you very much A7X I love you"। দর্শকদের ধারণ করা ভিডিওও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে; এর মধ্যে ইউটিউব অ্যাকাউন্ট টিডলি ও ক্রিস’স মিউজিকে পোস্ট করা ফুটেজও ছিল।
সিঙ্গাপুরে অ্যাভেঞ্জড সেভেনফোল্ডের পরিবেশনা
অ্যাভেঞ্জড সেভেনফোল্ডের এই পারফরম্যান্স ছিল তাদের এশিয়া ট্যুর ২০২৬-এর অংশ। সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে ৬ ও ৭ অক্টোবর ব্যাংকক এলাকায় থান্ডার ডোমে তাদের দুটি কনসার্টের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।
সিঙ্গাপুরের পরিবেশনায় ছিল ১৪টি গান। শুরু হয় ‘নাইটমেয়ার’ দিয়ে, আর অতিরিক্ত পরিবেশনা হিসেবে ‘কসমিক’ দিয়ে শেষ হয়। মূল পরিবেশনা শেষ হওয়ার পর দর্শকের অনুরোধে অতিরিক্ত গান পরিবেশন করাকে এনকোর বলা হয়। রয়্যাল ১১তম ও ১২তম গানে মঞ্চে ছিলেন, অর্থাৎ ব্যান্ডের শেষ দিকের গানগুলোর ঠিক আগেই তার অংশগ্রহণ ছিল।
ব্যান্ডটির গানের ক্রম ছিল:
- নাইটমেয়ার
- গেম ওভার
- আফটারলাইফ
- শেফার্ড অব ফায়ার
- বেরিড অ্যালাইভ
- দ্য স্টেজ
- সো ফার অ্যাওয়ে
- গানসলিঙ্গার
- নোবডি
- হেইল টু দ্য কিং
- নেনে রয়্যালের সঙ্গে ‘ব্যাট কান্ট্রি’
- নেনে রয়্যালের সঙ্গে ‘আনহোলি কনফেশন্স’
- আ লিটল পিস অব হেভেন
- এনকোর হিসেবে ‘কসমিক’
‘আ লিটল পিস অব হেভেন’ ও ‘কসমিক’ পরিবেশনার সময় অ্যাভেঞ্জড সেভেনফোল্ড রয়্যালকে ছাড়াই বাজায়। গান নির্বাচনে ‘আফটারলাইফ’ ও ‘গানসলিঙ্গার’-এর মতো পরিচিত গানের সঙ্গে ২০২৩ সালের অ্যালবাম ‘লাইফ ইজ বাট আ ড্রিম...’-এর ‘নোবডি’ ও ‘কসমিক’-এর মতো গানও ছিল।
টেলিভিশনের ফাইনাল থেকে সিঙ্গাপুরের অ্যারেনায়
সেপ্টেম্বরে আমেরিকাস গট ট্যালেন্টের ২১তম মৌসুমের শিরোপা জিতে রয়্যাল হন প্রতিযোগিতাটির প্রথম থাই বিজয়ী। ফাইনালে তিনি দ্য হোয়াইট স্ট্রাইপসের ‘সেভেন নেশন আর্মি’ পরিবেশন করেন; তাতে ছিল কণ্ঠ ও ইলেকট্রিক গিটার।
২৩ সেপ্টেম্বরের ফাইনালে তিনি লিংকিন পার্কের সঙ্গে ‘দ্য এম্পটিনেস মেশিন’ গানটিও পরিবেশন করেন এবং এমিলি আর্মস্ট্রংয়ের সঙ্গে কণ্ঠ ভাগ করে নেন। রয়্যাল বলেন, টেলিভিশন দলের লোকজন প্রথমে তাকে গানটি শিখতে বলেছিলেন। তাই তিনি ভেবেছিলেন, একাই গানটি পরিবেশন করবেন। পরে লিংকিন পার্ক তার অনুশীলন কক্ষে এসে হাজির হয়, আর মাইক শিনোদা জানান, তারা একসঙ্গে বাজাবেন।
রয়্যাল বলেন, মঞ্চে ওঠার আগে মহড়া দেওয়ার জন্য তাদের হাতে ছিল মাত্র কয়েক মিনিট। ব্যান্ডটির সঙ্গে দেখা হওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কিশোরী শিল্পী বলেন:
আমি এতটাই অবাক হয়েছিলাম যে প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলাম,
প্রতিযোগিতায় তার পরিবেশনায় দ্য ওয়ার্নিংয়ের সঙ্গে একটি যৌথ পরিবেশনাও ছিল। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিঙ্গাপুরে পারফর্ম করার সুযোগ তাকে আরেকটি বড় রক ব্যান্ডের সঙ্গে কাজের সুযোগ এনে দেয়। এবার টেলিভিশন অনুষ্ঠানের বদলে একটি ট্যুরের কনসার্টে।
সিঙ্গাপুরের পরিবেশনার আগে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছিল:
- ২৩ সেপ্টেম্বর: আমেরিকাস গট ট্যালেন্টের ফাইনালে লিংকিন পার্কের সঙ্গে পারফর্ম করেন রয়্যাল।
- ২৫ সেপ্টেম্বর: মিডাস প্রমোশনস ও শ’ লাইভ এন্টারটেইনমেন্ট সিঙ্গাপুরে তার উদ্বোধনী পরিবেশনার ঘোষণা দেয়।
- ৬ ও ৭ অক্টোবর: ব্যাংককে কনসার্ট করতে গেলে অ্যাভেঞ্জড সেভেনফোল্ডের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
- ৯ অক্টোবর: ব্যাংককের দুসিত প্রাসাদে থাইল্যান্ডের রাজা ও রানি তাকে রাজকীয় সাক্ষাৎ দেন।
- ১৩ অক্টোবর: অ্যাভেঞ্জড সেভেনফোল্ডের সিঙ্গাপুর কনসার্টের উদ্বোধনী পরিবেশনা করেন এবং তাদের সঙ্গে দুটি গান গেয়ে মঞ্চে যোগ দেন।
ছোট মঞ্চে গড়ে ওঠা সংগীতের শিক্ষা
সিঙ্গাপুরের কনসার্টের প্রায় নয় বছর আগে, সাত বছর বয়সে রয়্যাল গিটার বাজানো শুরু করেন। সংগীতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল ঘটনাচক্রে: স্কুলে কম্পিউটার ক্লাসে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে জায়গা না থাকায় সংগীতের ক্লাস নেন।
ইউটিউবের টিউটোরিয়াল তাকে গিটারের অনেক দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করেছে। রকের প্রতি তার আগ্রহে বাবার প্রভাব ছিল, অন্যদিকে সহপাঠীরা সাধারণত পপ, র্যাপ ও আরঅ্যান্ডবি শুনত। রয়্যালের মনে আছে, সহপাঠীরা বলেছিল, রক গান শোনেন এমন নারীকে তারা আগে কখনো দেখেনি।
নিজের পছন্দের সংগীতের সঙ্গে কেন তিনি থেকে গেলেন, তা ব্যাখ্যা করে নেনে রয়্যাল বলেন:
আমি শুধু নিজেই থাকতে চাই, কারণ আমি রক ভালোবাসি।
তার বাবা-মা হস্তশিল্প ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রির কাজ করেন। ছোট ভাইসহ পরিবারের একমাত্র সংগীতশিল্পী রয়্যাল। নাকা উইকএন্ড নাইট মার্কেটে ওজোন ব্যান্ডের সঙ্গে পারফর্ম করার ফলে শ্রোতাদের সামনে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
অভিজ্ঞতার আলোকে রয়্যাল অন্য তরুণ সংগীতশিল্পীদেরও পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি তাদের নিজস্ব ধরন গড়ে তুলতে, ঘন ঘন অনুশীলন করতে এবং ছোট মঞ্চসহ বিভিন্ন জায়গায় পারফর্ম করার সুযোগ গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেন। শ্রেণিকক্ষের পাঠ, অনলাইন থেকে শেখা এবং বাজারে পারফর্ম করার মধ্য দিয়ে তার পথ তাকে টেলিভিশনের মাধ্যমে পাওয়া বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
মৌলিক গান ও পড়াশোনা এখনো অগ্রাধিকার
রয়্যাল প্রথম ইপির জন্য নিজের গান লিখছেন। ইপি হলো পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যালবামের চেয়ে কম গান নিয়ে প্রকাশিত রেকর্ড। জানুয়ারিতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রিয়েল ভার্স’ নামে একটি মৌলিক বাদ্যসংগীত প্রকাশ করেছিলেন।
আমেরিকাস গট ট্যালেন্টে তার জয়ের পুরস্কারের মূল্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার। এটি অ্যানুইটি হিসেবে দেওয়া হয়, অর্থাৎ সময়ের ব্যবধানে কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়। রয়্যাল বলেন, সংগীত তৈরি ও একটি স্টুডিও প্রতিষ্ঠায় তিনি এই অর্থ ব্যবহার করতে চান।
গায়িকা ও গিটারবাদক হিসেবে নিজের পরিকল্পনা নিয়ে নেনে রয়্যাল বলেন:
আমি শুধু সংগীত তৈরি, গান লেখা এবং ট্যুর, অ্যালবাম ও ইপি করার দিকেই মনোযোগ দিতে চাই।
প্রথম ইপি প্রকাশের কোনো তারিখ জানানো হয়নি। সিঙ্গাপুরে রয়্যালের পরিবেশনা ছিল কভার গানকেন্দ্রিক, তবে তার ঘোষিত পরিকল্পনায় নিজের গান লেখা ও রেকর্ড করাই পরবর্তী কাজের মূল লক্ষ্য।
রয়্যাল এখনো ফুকেটের কাজোনকিয়েট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী। ভ্রমণের কারণে স্কুলে যেতে না পারলে তিনি দূর থেকে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেন। সিঙ্গাপুর সফরে কনসার্টের প্রস্তুতির পাশাপাশি মিডিয়াকর্পের ৯৮৭এফএম-এ রেডিও অনুষ্ঠানেও অংশ নেন তিনি।
দেশে প্রথম সাফল্যের পর ব্যস্ত অক্টোবর
রয়্যালের জয় দেশে জনমনোযোগ এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমন্ত্রণও এনে দেয়। তিনি বলেন, থাইল্যান্ডে বিমানবন্দরে ভক্তরা ছবি তোলা ও অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বন্ধুরাও তাকে বলেছিল, তার পরিবেশনাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
দেশের প্রথম আমেরিকাস গট ট্যালেন্ট বিজয়ী হওয়ার পর ৯ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজা ও রানির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। রয়্যাল বলেন, তিনি থাইল্যান্ড ও এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করতে চান এবং তার অগ্রগতি যেন এই অঞ্চলের অন্য তরুণ সংগীতশিল্পীদের অনুপ্রাণিত করে, সেই আশা করেন।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আয়োজন-সংশ্লিষ্ট বিদেশি অতিথিদের জন্য ১৪ অক্টোবর গভর্নমেন্ট হাউসে আয়োজিত এক সরকারি নৈশভোজে রয়্যালের পারফর্ম করার কথা ছিল। অন্যদিকে, অ্যাভেঞ্জড সেভেনফোল্ডের অক্টোবরের শেষ দিকে কনসার্ট করতে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল।
সিঙ্গাপুরে রয়্যালের সংগীতজীবনের দুটি দিক একত্র হয়েছিল: পরিচিতি পাওয়ার আগে শেখা ও পরিবেশন করা গান, আর প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যান্ডের সঙ্গে অ্যারেনার দর্শকদের সামনে সেই গান বাজানোর সুযোগ। তার পরবর্তী ঘোষিত অগ্রাধিকার হলো, বাড়তে থাকা দর্শকগোষ্ঠীকে নিজের সংগীতের দিকে নিয়ে যাওয়া।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর সিঙ্গাপুর ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রায় ১০ হাজার দর্শকের সামনে অ্যাভেঞ্জড সেভেনফোল্ডের কনসার্টের উদ্বোধনী পরিবেশনা করেন নেনে রয়্যাল।
- ফুকেটের ১৬ বছর বয়সী এই সংগীতশিল্পী প্রায় ৩০ মিনিটের একক সেটে পাঁচটি কভার গান পরিবেশন করেন।
- ‘ব্যাট কান্ট্রি’ ও ‘আনহোলি কনফেশন্স’ গাইতে ও গিটার বাজাতে তিনি আবার মঞ্চে ফেরেন।
- এম. শ্যাডোজ বলেন, যৌথ পরিবেশনাটির কোনো মহড়া হয়নি।
- মিডাস প্রমোশনস জানায়, আমেরিকাস গট ট্যালেন্ট জয়ের আগেই তার উদ্বোধনী পরিবেশনার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছিল।
- রয়্যাল প্রথম ইপি তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং একটি সংগীত স্টুডিও প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছেন।






