নভেম্বরের পরীক্ষা QRIS সম্প্রসারণের গতি নির্ধারণ করবে
তিমুর-লেস্তের সঙ্গে QRIS পেমেন্ট সংযোগের পরীক্ষা ২০২৬ সালের নভেম্বরে শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইন্দোনেশিয়া। এর পর ২০২৭ সালের শুরুতে জনসাধারণের জন্য সেবা চালু হতে পারে। ২০২৭ সালে সৌদি আরবেও সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে, আর হংকংয়ে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পরীক্ষা বা বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। দুই বছরের বেশি সময়ের প্রস্তুতিমূলক কাজের পরও ভারতের সঙ্গে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি।
সূচিপত্র
- নভেম্বরের পরীক্ষা QRIS সম্প্রসারণের গতি নির্ধারণ করবে
- বিদেশে QRIS দিয়ে পেমেন্ট করার অর্থ
- সৌদি আরব কেন অগ্রাধিকার পাচ্ছে
- চুক্তি থেকে প্রযুক্তিগত কাজে এগোচ্ছে হংকং
- পরীক্ষার পরবর্তী নির্দিষ্ট তারিখ তিমুর-লেস্তের
- চালুর তারিখ ছাড়াই ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে
- দেশে ৬ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর নেটওয়ার্ক
- সামনে যেসব তারিখ গুরুত্বপূর্ণ
- মূল বিষয়গুলো
ইন্দোনেশিয়ার পেমেন্ট সিস্টেম অ্যাসোসিয়েশনের (ASPI) চেয়ারম্যান সান্তোসো ১৪ অক্টোবর জাকার্তায় ১৩তম ইন্দোনেশিয়া শরিয়াহ অর্থনৈতিক উৎসবে এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর সময়সূচিতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরিচালনাগত পরীক্ষাকে সম্প্রসারণের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে: গ্রাহকেরা ব্যবহারের আগে পেমেন্ট সংযোগগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে হবে।
সৌদি আরবে সেবা চালুর জন্য ASPI-এর ঘোষিত লক্ষ্য ২০২৭ সাল; তবে তা সিস্টেমের প্রস্তুতি ও পরীক্ষার ওপর নির্ভরশীল। এর আগে এক প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে সংযোগ চালুর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। হংকংয়ের ক্ষেত্রে সান্তোসো ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ২০২৭ সালে পুরোপুরি চালু হবে বলে প্রত্যাশিত সংযোগগুলোর মধ্যেও অঞ্চলটিকে রেখেছেন।
দেশে QRIS-এর ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া (BI) এসব সংযোগ এগিয়ে নিচ্ছে। গভর্নর দেশত্রি দামায়ান্তি বলেন, QRIS ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটি ৭০ লাখে পৌঁছেছে, যা ইন্দোনেশিয়ার জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় ২০২৬ সালের আগস্টে লেনদেন বেড়েছে ৬৭.২ শতাংশ।
এই সম্প্রসারণের ফলে লাখো ইন্দোনেশীয়ের পরিচিত পেমেন্ট পদ্ধতি দেশের বাইরেও আরও বেশি গন্তব্যে ব্যবহার করা যাবে। হজ ও ওমরাহর জন্য যাতায়াতের কারণে সৌদি আরব বিশেষ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিমুর-লেস্তের পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়সীমা সবচেয়ে কাছের, আর ভারতের সময়সূচি নির্ভর করছে এমন আলোচনার ওপর, যেখান থেকে এখনো বাস্তবায়নের কোনো তারিখ ঠিক হয়নি।
বিদেশে QRIS দিয়ে পেমেন্ট করার অর্থ
QRIS-এর পূর্ণরূপ Quick Response Code Indonesian Standard। এটি কিউআর কোড ব্যবহার করে পেমেন্টের জন্য একটি অভিন্ন মানদণ্ড। কিউআর কোড হলো বর্গাকার নকশা, যা ফোন দিয়ে স্ক্যান করে পেমেন্টের গন্তব্য শনাক্ত করা যায়। সীমান্ত পেরিয়ে সংযোগ তৈরি হলে বিভিন্ন বাজারের অংশগ্রহণকারী পেমেন্ট সেবাগুলো একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
ব্যবহারিক সুবিধাটি ৫ সেপ্টেম্বর লাম্পুং ফাইন্যান্সিয়াল ফেস্টিভ্যালে ব্যাখ্যা করেন ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার ডেপুটি গভর্নর ফিলিয়ানিংসিহ হেন্দার্তা: সংযুক্ত গন্তব্যে ভ্রমণকারী ইন্দোনেশীয়রা এসব লেনদেনের জন্য আগে নগদ অর্থ বদলে না নিয়েই ফোন ও অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ দিয়ে পেমেন্ট করতে পারবেন।
চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও জাপানকে দুই দিকেই পেমেন্টের জন্য বিদ্যমান ছয়টি সংযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই দিকেই পেমেন্ট বলতে বোঝায়, ইন্দোনেশীয় গ্রাহকেরা অংশগ্রহণকারী সেবার মাধ্যমে বিদেশে পেমেন্ট করতে পারবেন, আর সংযুক্ত বাজারগুলো থেকে আসা দর্শনার্থীরা অংশগ্রহণকারী সেবার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ায় পেমেন্ট করতে পারবেন।
কিউআর কোড শনাক্ত করতে পারলেই সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীদের সঠিক তথ্য আদান-প্রদান, লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ এবং নিষ্পত্তি সম্পন্ন করতে হয়; নিষ্পত্তি হলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অর্থ স্থানান্তর। এ কারণেই সময়সূচিতে চুক্তি, পরীক্ষা ও জনসাধারণের জন্য সেবা চালু করাকে আলাদা ধাপ হিসেবে রাখা হয়েছে।
সৌদি আরব কেন অগ্রাধিকার পাচ্ছে
হজ ও ওমরাহর জন্য ইন্দোনেশীয়দের যাতায়াত থাকায় ফোনের মাধ্যমে পেমেন্টের ব্যবহারিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে ২০২৭ সালে সৌদি আরবে সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংযোগটিকে ASPI-এর অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সান্তোসো দেশটিতে মানুষের যাতায়াত ও তাঁদের ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদারদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কাজ চলছে। সান্তোসো বলেন, জনসাধারণের জন্য চালুর আগে সিস্টেম প্রস্তুত থাকা এবং পরিচালনাগত পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার ওপর সৌদি সংযোগ নির্ভর করবে। অক্টোবরে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে ২০২৭ সালে সেবা চালুর বিষয়ে বেশি আস্থার ইঙ্গিত ছিল।
ফিলিয়ানিংসিহ বলেন, পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে ফোনের মাধ্যমে কেনাকাটা করতে পারাই হবে হজযাত্রীদের প্রত্যাশিত সুবিধা। এতে অংশগ্রহণকারী লেনদেনের জন্য নগদ অর্থ বদলানোর প্রয়োজন কমবে। দেশে QRIS ব্যবহারে অভ্যস্ত ভ্রমণকারীদের জন্য সফরের সময় পরিচিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারাটাই বড় সুবিধা।
ASPI-এর লক্ষ্য পূরণে এখনো প্রযুক্তিগত কাজ ও পরীক্ষা শেষ করতে হবে। চালুর তারিখ নিশ্চিত হওয়ার আগে যাত্রার পরিকল্পনা করা হজযাত্রীদের তখন বাস্তবে যেসব সেবা পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতেই পেমেন্টের ব্যবস্থা করতে হবে। অংশগ্রহণকারী সিস্টেম প্রস্তুত হলে দৈনন্দিন খরচ সহজ করাই প্রস্তাবিত সংযোগের উদ্দেশ্য।
চুক্তি থেকে প্রযুক্তিগত কাজে এগোচ্ছে হংকং
ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া ও হংকং মানিটারি অথরিটি (HKMA) ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সমঝোতা স্মারক সই করেছে। কিউআর কোড ব্যবহার করে সীমান্তপারের পেমেন্টে সহযোগিতা জোরদার করতে চুক্তিতে সই করেন BI গভর্নর দেশত্রি দামায়ান্তি ও HKMA-এর প্রধান নির্বাহী এডি ইউ।
চুক্তিতে প্রযুক্তিগত, পরিচালনাগত ও নিয়ন্ত্রক বিষয় নিয়ে সংলাপের কথা বলা হয়েছে। এতে আন্তঃকার্যক্ষমতা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে; এর অর্থ, দুই বাজারের পেমেন্ট সিস্টেম পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করে একসঙ্গে লেনদেন প্রক্রিয়া করতে পারবে।
সান্তোসোর অক্টোবরের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালেই হংকংয়ে পরীক্ষা শুরু হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে বছরের শেষ নাগাদ বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও খোলা রাখা হয়েছে। তবে ASPI-এর পরিকল্পনায় পুরোপুরি সেবা চালুর লক্ষ্য ২০২৭ সাল। তাই সময়সূচিতে নজর রাখার দুটি ধাপ রয়েছে: ডিসেম্বর শেষ হওয়ার আগে পরীক্ষা শুরু হয় কি না, এবং গ্রাহকেরা কবে থেকে সেবা পাবেন।
BI-এর বর্ণনায় চুক্তির লক্ষ্য হিসেবে দ্রুত, সাশ্রয়ী, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পেমেন্টের কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে সংযোগটি কীভাবে কাজ করবে, তা নির্ধারণ করবে প্রযুক্তিগত আলোচনা। আর নিয়ন্ত্রক আলোচনা দেখবে, প্রতিটি বাজারে কোন নিয়মের অধীনে প্রতিষ্ঠানগুলো সেবা দিতে পারবে।
পরীক্ষার পরবর্তী নির্দিষ্ট তারিখ তিমুর-লেস্তের
ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া ও বানকো সেন্ট্রাল দে তিমুর-লেস্তে (BCTL) ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাকার্তায় সমঝোতা স্মারক সই করে। ইন্দোনেশিয়া ডিজিটাল ইকোনমি অ্যান্ড ফাইন্যান্স ফেস্টিভ্যাল এবং ইন্দোনেশিয়া ফিনটেক সামিট অ্যান্ড এক্সপোতে (FEKDI x IFSE 2026) চুক্তিতে সই করেন দেশত্রি ও BCTL গভর্নর হেলদার লোপেস।
চুক্তিতে পেমেন্ট সিস্টেম, নিষ্পত্তি, ডিজিটাল আর্থিক উদ্ভাবন, তথ্য বিনিময় এবং দুই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের বিষয় রয়েছে। BI-এর যোগাযোগ বিভাগের প্রধান রামদান দেনি প্রাকোসো চুক্তিটিকে ইন্দোনেশিয়া ও তিমুর-লেস্তের মধ্যে পেমেন্ট সংযোগ গড়ে তোলার ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে সীমান্তপারে QRIS ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইও রয়েছে।
ASPI ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্যান্ডবক্স পরীক্ষা শুরু করতে চায়। স্যান্ডবক্স হলো নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার পরিবেশ, যেখানে কোনো সেবা ব্যাপকভাবে চালুর আগে প্রতিষ্ঠানগুলো সেটি কীভাবে কাজ করে তা যাচাই করতে পারে। সান্তোসো বলেন, প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে এগোলে ২০২৭ সালের শুরুতে জনসাধারণের জন্য সেবা চালু করা সম্ভব হতে পারে।
BI-এর ৫ সেপ্টেম্বরের বিবরণে ছয়টি সংযুক্ত দেশের কথা ছিল; ২৫ সেপ্টেম্বরের চুক্তির পরবর্তী এক প্রতিবেদনে তিমুর-লেস্তেকে সপ্তম দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আর ১৪ অক্টোবর সান্তোসোর সময়সূচিতে নভেম্বরে স্যান্ডবক্স পরীক্ষা ও ২০২৭ সালের শুরুতে জনসাধারণের জন্য সেবা চালুর সম্ভাবনার কথা বলা হয়। গ্রাহকদের জন্য ব্যবহারযোগ্য সেবা চালুর মাধ্যমে এসব পরীক্ষার পরবর্তী ধাপটিই হবে বাস্তব অগ্রগতি।
তিমুর-লেস্তের উন্নয়ন পরিকল্পনা তাই ভারতের তুলনায় বেশি নির্দিষ্ট: সেখানে চুক্তি সই হয়েছে, পরীক্ষার মাস নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য চালুর সময়ও জানানো হয়েছে। প্রতিটি ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলো কেনাকাটায় গ্রাহকেরা সংযোগটির ওপর নির্ভর করার আগে পরিচালনাগত সমস্যা সমাধানের সুযোগ পাবে।
চালুর তারিখ ছাড়াই ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে
সম্প্রসারণ পরিকল্পনার সবচেয়ে অনিশ্চিত অংশ এখনো ভারত। সান্তোসো বলেন, সংযোগ নিয়ে কাজ দুই বছরেরও বেশি আগে শুরু হলেও প্রয়োজনীয়তা ও ভারতের উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা কঠিন হয়ে উঠেছে।
উন্নয়ন দুই বছরেরও বেশি আগে শুরু হয়েছিল—সান্তোসোর এই বক্তব্যের পাশাপাশি অক্টোবরে তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কাজ এখনো সমন্বিতভাবে শুরু হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা এখনো প্রয়োজনীয়তা, চাহিদার পরিস্থিতি এবং ভারতের অভ্যন্তরীণভাবে বিবেচনা করার বিষয়গুলো নিয়েই চলছে।
দেশত্রিও ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে প্রস্তাবিত সংযোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, তিমুর-লেস্তের সঙ্গে সেপ্টেম্বরের চুক্তির প্রায় এক মাস আগে ওই বৈঠক হয়েছিল। পেমেন্ট আরও সুবিধাজনক করার কারণ হিসেবে তিনি ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের মধ্যে পর্যটন যাতায়াতের কথাও উল্লেখ করেন।
ভারতে বাস্তবায়নের কোনো তারিখ নিশ্চিত করেনি ASPI। ২০২৭ সালে সংযোগ চালুর আগের প্রত্যাশা এখনো অমীমাংসিত আলোচনার ওপর নির্ভরশীল। সমন্বিত প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পর্যায়ে যেতে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোতে একমত হওয়াই এখন তাৎক্ষণিক কাজ।
দেশে ৬ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর নেটওয়ার্ক
দেশের ভেতরে বড় পেমেন্ট নেটওয়ার্কের পাশাপাশি বিদেশেও QRIS সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ফিলিয়ানিংসিহ ৫ সেপ্টেম্বর বলেন, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত QRIS-এ ১ হাজার ৫০০ কোটি লেনদেন হয়েছে। ৪ কোটি ৫০ লাখ ব্যবসায়ী এটি গ্রহণ করেছেন এবং ৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ব্যবহার করছেন।
তিনি আরও জানান, ৯৬টি ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত ৬০টি প্রতিষ্ঠান এবং চারটি সুইচিং কোম্পানি এই সেবায় যুক্ত। এই তিন শ্রেণিতে মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৬০। সুইচিং কোম্পানিগুলো অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পেমেন্টের তথ্য পাঠাতে সহায়তা করে, যাতে লেনদেন সঠিক গন্তব্যে পৌঁছায়।
২৪ সেপ্টেম্বরের এক সংবাদ সম্মেলনে দেশত্রি বলেন, ৬ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারী ইন্দোনেশিয়ার জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। তিনি কেনাকাটার অভ্যাসে পরিবর্তনের কথাও জানান। এর মধ্যে ঐতিহ্যবাহী বাজারে কেনাকাটার সময় নগদের বদলে QRIS ব্যবহারের পছন্দ বাড়ার বিষয়টি রয়েছে।
আগের বছরের একই মাসের তুলনায় আগস্টে লেনদেন ৬৭.২ শতাংশ বাড়ার অর্থ, আগের সময়ে প্রতি ১০০টি লেনদেনের বিপরীতে পরের সময়ে তা বেড়ে প্রায় ১৬৭টিতে দাঁড়িয়েছে। BI ও ASPI আরও আন্তর্জাতিক সংযোগের উদ্যোগ নেওয়ার সময় ব্যবহার কত দ্রুত বাড়ছিল, এ সংখ্যা তা দেখায়।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় QRIS-এর ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন ফিলিয়ানিংসিহ। তখন সরাসরি সংস্পর্শ ছাড়াই পেমেন্ট চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিল। চালুর প্রায় সাত বছর পর এখনকার সম্প্রসারণ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, দেশে প্রতিষ্ঠিত এই পেমেন্ট পদ্ধতি বিদেশে আরও বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা।
সামনে যেসব তারিখ গুরুত্বপূর্ণ
সেপ্টেম্বরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চুক্তি এবং অক্টোবরে শিল্প খাতের হালনাগাদ তথ্য পরবর্তী পর্যায়ের ধারাবাহিকতা নির্ধারণ করেছে। হংকং ও তিমুর-লেস্তের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি হয়েছে, সৌদি আরবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কাজ চলছে, আর ভারতের সঙ্গে আলোচনা এখনো অব্যাহত।
- ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: লাম্পুং ফাইন্যান্সিয়াল ফেস্টিভ্যালে QRIS-এর দেশীয় ব্যবহার এবং বিদ্যমান ছয়টি আন্তর্জাতিক সংযোগের পরিসর তুলে ধরেন ফিলিয়ানিংসিহ।
- ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: কিউআর কোড ব্যবহার করে সীমান্তপারের পেমেন্টে সহযোগিতা নিয়ে BI ও HKMA চুক্তি সই করে।
- ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: পেমেন্ট, নিষ্পত্তি ও ডিজিটাল আর্থিক উদ্ভাবন নিয়ে BI ও BCTL চুক্তি সই করে।
- ১৪ অক্টোবর, ২০২৬: জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়া শরিয়াহ অর্থনৈতিক উৎসবে পরীক্ষা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্য তুলে ধরেন সান্তোসো।
- নভেম্বর ২০২৬: তিমুর-লেস্তের সঙ্গে স্যান্ডবক্স পরীক্ষা শুরুর লক্ষ্য ASPI-এর।
- ২০২৬ সালের শেষ ভাগ: হংকংয়ে পরীক্ষা বা সম্ভাব্য বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।
- ২০২৭ সালের শুরু: পরীক্ষা নির্বিঘ্নে এগোলে তিমুর-লেস্তেতে জনসাধারণের জন্য সেবা চালু হতে পারে।
- ২০২৭: সৌদি আরবে সেবা চালুর লক্ষ্য ASPI-এর; পুরোপুরি চালু হবে বলে প্রত্যাশিত সংযোগগুলোর মধ্যে হংকংও রয়েছে।
নভেম্বরের প্রস্তাবিত স্যান্ডবক্স পরীক্ষাই সামনে থাকা সবচেয়ে কাছের নির্দিষ্ট মাইলফলক। এরপরের প্রধান কাজ হলো পরীক্ষা শেষ করা এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য সিস্টেম প্রস্তুত করা। এই কাজের ওপরই নির্ভর করবে ভ্রমণকারী ও ব্যবসায়ীরা কবে থেকে প্রস্তাবিত সুবিধা পাবেন।
মূল বিষয়গুলো
- প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরিচালনাগত পরীক্ষার পর ২০২৭ সালে সৌদি আরবে QRIS চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
- ২০২৬ সালের শেষ দিকে হংকংয়ে পরীক্ষা বা বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে; পুরোপুরি চালুর লক্ষ্য ২০২৭ সালেও রয়েছে।
- তিমুর-লেস্তের স্যান্ডবক্স পরীক্ষা ২০২৬ সালের নভেম্বরে পরিকল্পিত; জনসাধারণের জন্য সেবা চালু হতে পারে ২০২৭ সালের শুরুতে।
- ভারতের সঙ্গে আলোচনা এখনো অমীমাংসিত, আর চালুর তারিখ নিশ্চিত করেনি ASPI।
- BI জানিয়েছে, QRIS ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটি ৭০ লাখে পৌঁছেছে এবং ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় ২০২৬ সালের আগস্টে লেনদেন বেড়েছে ৬৭.২ শতাংশ।
- হজ ও ওমরাহর জন্য ইন্দোনেশীয়দের ভ্রমণে পেমেন্ট সহজ করাই সৌদির সঙ্গে সংযোগের উদ্দেশ্য।






