বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পর্যালোচনায় PLN-এর ব্যবসায়িক মডেল ও জরুরি পরিকল্পনা
১২ অক্টোবর ২০২৬, WIB সময় ০৬:৩৭টায় শুরু হওয়া বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে বাতাম ও বিনতানজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। PLN বাতাম প্রাথমিকভাবে জানায়, এতে ৪১১,২১৯ জন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুই দিন পর প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ কোম্পানিটির ব্যবসায়িক মডেল পর্যালোচনা এবং রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে দানান্তারা ইন্দোনেশিয়াকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।
সূচিপত্র
- বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পর্যালোচনায় PLN-এর ব্যবসায়িক মডেল ও জরুরি পরিকল্পনা
- বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও পুনরুদ্ধার যেভাবে এগিয়েছে
- পুনরুদ্ধারের পরিসংখ্যান কী বলছে
- যন্ত্রপাতি, বজ্রপাত ও প্রাণীর অনুপ্রবেশ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা
- নতুন ব্যবসায়িক প্রস্তাব তৈরি করতে হবে দানান্তারাকে
- বিদ্যমান বিকল্প পরিকল্পনা আরও জোরদার করা প্রয়োজন
- স্বয়ংক্রিয় ক্ষতিপূরণ কারা পাবেন?
- পরিবার ও ডেটা সেন্টার, দুপক্ষই বিপর্যয়ের প্রভাব টের পেয়েছে
- স্থানীয় সরবরাহ উন্নয়ন ও জাতীয় সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা
- মূল বিষয়গুলো
১৪ অক্টোবর জাকার্তার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ কমপ্লেক্সে বৈঠকের পর এই নির্দেশ দেওয়া হয়। দানান্তারার প্রধান নির্বাহী রোসান রোয়েসলানি বলেন, তাঁর দল PT PLN (Persero)-এর সঙ্গে কাজ করে প্রেসিডেন্টের জন্য পর্যালোচনা ও প্রস্তাব তৈরি করবে। ঘোষিত লক্ষ্য হলো দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং ভর্তুকির বোঝা কমানো।
PLN-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও নতুন নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের পরিচালক সুরোসো ইসনান্দার বলেন, ১৪ অক্টোবরের মধ্যে বাতামে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, তবে বিনতানের কিছু এলাকায় পুনরুদ্ধারের কাজ চলছিল। পরিষেবার সম্মত মানদণ্ডের চেয়ে বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকা যোগ্য গ্রাহকদের বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে PLN বাতাম।
এই ঘটনায় পরস্পর-সম্পর্কিত তিনটি বিষয় সামনে এসেছে: সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করা যন্ত্রপাতির ত্রুটি, জরুরি অবস্থায় পরিষেবা পুনরুদ্ধারে কোম্পানির সক্ষমতা এবং চাহিদা বাড়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা। PLN বাতামের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক ইয়োগা পারদানা সুলাস্তামার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে ছিল বাতামের সম্প্রসারিত ডেটা সেন্টার শিল্প।
বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও পুনরুদ্ধার যেভাবে এগিয়েছে
প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক সমস্যার স্থান হিসেবে সুংগাই হারাপান সাবস্টেশনের কথা জানায় PLN বাতাম। সাবস্টেশন হলো বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের এমন একটি স্থান, যেখানে ভোল্টেজ সমন্বয় করা হয় এবং বিদ্যুৎ পরবর্তী গন্তব্যে পাঠানো হয়। সেখানে ত্রুটি হলে ওই স্থানের চেয়ে অনেক বড় এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন হালনাগাদ তথ্যে গ্রাহক, বিদ্যুতের চাহিদা ও নেটওয়ার্ক সরঞ্জামের অগ্রগতির বিবরণ দেওয়া হয়:
- ১২ অক্টোবর, WIB সময় ০৬:৩৭: ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেয়, বাতাম ও বিনতানের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়।
- ১২ অক্টোবর, আনুমানিক ১৮:০০: বাতামের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ ফিরতে শুরু করেছে।
- ১২ অক্টোবর, ২২:৪৫: PLN বাতাম জানায়, ২,২৮,৪৮০ জন গ্রাহকের বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং ১,৮২,৭৩৯ জন তখনো বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন।
- ১৩ অক্টোবর, ০৪:০০: PLN বাতাম জানায়, ৯৮% গ্রাহক এবং বিচ্ছিন্ন হওয়া বিদ্যুৎ চাহিদার ৯৯% পুনরুদ্ধার হয়েছে; বাতামের সাবস্টেশন ও সঞ্চালনব্যবস্থা পুরোপুরি সচল।
- ১৩ অক্টোবর, ০৫:০০: পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যে ৫,১২৭ জন গ্রাহক তখনো বিদ্যুৎবিহীন এবং একটি বিতরণ ফিডারের মেরামত চলার কথা জানানো হয়।
- ১৪ অক্টোবর: সুরোসো বলেন, বাতামে বিদ্যুৎ পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে, তবে বিনতানের কিছু এলাকায় কাজ চলছিল। প্রাবোও PLN-এর রূপান্তর প্রস্তাব তৈরির জন্য দানান্তারাকে নির্দেশ দেন।
PLN বাতামের কোম্পানি সেক্রেটারি রুদি আন্তোনো বলেন, কারিগরি দল উৎপাদন ইউনিটগুলো পরীক্ষা ও মেরামত করে, সেগুলোকে সমন্বিতভাবে চালু করে, এরপর সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধার করে। সমন্বিতভাবে চালু করার অর্থ হলো, উৎপাদন ইউনিটগুলোকে একই বৈদ্যুতিক কম্পাঙ্কে চালানো, যাতে সেগুলো নিরাপদে একটি অভিন্ন নেটওয়ার্কে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে।
সঞ্চালনব্যবস্থা পুরো নেটওয়ার্কজুড়ে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বহন করে, আর বিতরণব্যবস্থা তা নির্দিষ্ট এলাকা ও গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয়। তাই কিছু এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরানোর চূড়ান্ত কাজের আগে নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সচল করতে হয়েছে।
পুনরুদ্ধারের পরিসংখ্যান কী বলছে
১২ অক্টোবর WIB সময় ২২:৪৫-এ PLN বাতামের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত ৪১১,২১৯ জন গ্রাহকের ৫৫.৬% বিদ্যুৎ ফিরে পেয়েছেন। তবে বিচ্ছিন্ন হওয়া বিদ্যুৎ চাহিদার পুনরুদ্ধারের হার ছিল কম, ৪০.৩%: ৫৭৮.২ মেগাওয়াটের মধ্যে ২৩৩.২ মেগাওয়াট। আরও ৩৪৫ মেগাওয়াটের সরবরাহ বিচ্ছিন্ন ছিল।
গ্রাহক পুনরুদ্ধারের হার ও চাহিদা পুনরুদ্ধারের হারের মধ্যে ১৫.৩ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধান দেখায়, একটি মাত্র শতাংশ দিয়ে পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। গ্রাহকসংখ্যা সংযোগের সংখ্যা বোঝায়, আর মেগাওয়াট বোঝায় ওই সংযোগগুলো কত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। কোনো বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের চাহিদা একটি পরিবারের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
PLN বাতাম আরও জানায়, ওই রাতেই ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি সাবস্টেশনের মধ্যে ১১টি এবং ১৮টি সঞ্চালন ইউনিটের মধ্যে ১২টি সচল করা হয়েছে। সে হিসাবে সাবস্টেশনের ৭৩.৩% এবং সঞ্চালন ইউনিটের ৬৬.৭% পুনরুদ্ধার হয়েছিল।
১৩ অক্টোবর WIB সময় ০৫:০০-র হালনাগাদ তথ্যে ভিন্ন হিসাব দেওয়া হয়: ৪১১,২১৯ জন গ্রাহকের বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার হয়েছে, যা ৯৮.৮%; ৫,১২৭ জন তখনো বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত ৫০১.৮ মেগাওয়াটের মধ্যে ৪৯৬.৭ মেগাওয়াট পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল। এই হিসাবে ৪১১,২১৯ হলো বিদ্যুৎ ফিরে পাওয়া গ্রাহকের সংখ্যা, আগের হিসাবে যা ছিল মোট ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা। পাশাপাশি, বিচ্ছিন্ন হওয়া মোট বিদ্যুৎ চাহিদা আগের ৫৭৮.২ মেগাওয়াটের তুলনায় কম দেখানো হয়েছে। হিসাব পরিবর্তনের ব্যাখ্যা PLN দেয়নি।
যন্ত্রপাতি, বজ্রপাত ও প্রাণীর অনুপ্রবেশ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা
সুরোসো বলেন, যন্ত্রপাতিতে ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। কারিগরি মূল্যায়নে ট্রান্সফরমারকে বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ট্রান্সফরমার ভোল্টেজ পরিবর্তন করে, যাতে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অংশ দিয়ে যেতে পারে এবং ব্যবহারযোগ্য মাত্রায় গ্রাহকদের কাছে পৌঁছায়।
রুদি বলেন, প্রাথমিক ইঙ্গিত অনুযায়ী, একটি বন্য প্রাণী সুংগাই হারাপান সাবস্টেশনে ঢুকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে বিঘ্ন ঘটিয়েছিল। সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করতে PLN-এর কারিগরি দল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তখনো তদন্ত করছিল।
১৪ অক্টোবর প্রাসাদে বৈঠকের পর ডাউনস্ট্রিমিং ও জ্বালানি রূপান্তরবিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী এবং একই সঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বালিল লাহাদালিয়া বজ্রপাত ও কারিগরি ত্রুটির কারণে নেটওয়ার্কে সমস্যার আশঙ্কার কথা বলেন। বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর সংস্পর্শে আসা বাদুড় বা অন্য কোনো প্রাণীর সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
বালিলের বর্ণনা ছিল প্রাথমিক। বজ্রপাত, সম্ভাব্য প্রাণীর অনুপ্রবেশ এবং ট্রান্সফরমারের ত্রুটির মধ্যে কীভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার বিস্তারিত ধারাবাহিকতা তিনি দেননি। মেরামত ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যেন প্রকৃত ত্রুটি মোকাবিলা করে, সে জন্য PLN-এর তদন্তে ঘটনাক্রমটি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
বালিল বলেন, কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের আরও জোরালো উন্নয়ন প্রয়োজন। পরিচালনাগত তদন্তের দায়িত্ব তিনি PLN-এর ওপর ছেড়ে দেন, কারণ যন্ত্রপাতি পরিচালনা করে তাদের দল এবং মাঠপর্যায়ের অবস্থা তারাই ভালো বোঝে।
নতুন ব্যবসায়িক প্রস্তাব তৈরি করতে হবে দানান্তারাকে
প্রাবোওর নির্দেশ শুধু বাতামের বিদ্যুৎব্যবস্থা মেরামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রোসান বলেন, ইন্দোনেশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ তহবিল দানান্তারা PLN-এর সঙ্গে কাজ করে কোম্পানিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা ও প্রস্তাব তৈরি করবে, বিশেষ করে এর ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে।
ব্যবসায়িক মডেল বলতে বোঝায়, একটি কোম্পানি কীভাবে তার পরিষেবা, ব্যয় ও আয় সংগঠিত করে। PLN-এর ক্ষেত্রে পর্যালোচনার বিষয় হলো, গ্রাহক ও জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কীভাবে আরও দক্ষতার সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়।
প্রাসাদে বৈঠকের পর দানান্তারার প্রধান নির্বাহী হিসেবে কথা বলতে গিয়ে রোসান প্রেসিডেন্টের অনুরোধের বিবরণ দেন:
আমাদের একটি পর্যালোচনা করতে এবং এরপর প্রেসিডেন্টের কাছে প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে,
রোসান বলেন, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের লক্ষ্য হবে দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং ভর্তুকির বোঝা কমানো। সহজভাবে বললে, সরকার চায় PLN কমানো সম্ভব এমন ব্যয় কমিয়ে এবং সরকারি তহবিলের ওপর চাপ কম রেখে আরও ভালো পরিষেবা দিক।
প্রস্তাবিত ব্যবসায়িক মডেল দ্রুত উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। প্রস্তাব জমা দেওয়ার তারিখ, ভর্তুকি সাশ্রয়ের হিসাব বা বিস্তারিত পুনর্গঠন পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি। তাই তাৎক্ষণিক কাজ হলো পর্যালোচনা ও সুপারিশ তৈরি করা, এরপর সেগুলো প্রেসিডেন্টের বিবেচনায় দেওয়া।
বিদ্যমান বিকল্প পরিকল্পনা আরও জোরদার করা প্রয়োজন
রোসান বলেন, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য PLN-এর আগে থেকেই জরুরি বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে, তবে সেগুলো আরও পরিমার্জন করা দরকার। তাঁর এই নির্দেশ শুধু বাতাম ও বিনতানের জন্য নয়, পুরো ইন্দোনেশিয়ার জন্য প্রযোজ্য।
দানান্তারার প্রধান নির্বাহী হিসেবে রোসান পরিকল্পনাগুলোর অবস্থা জানান:
এগুলো অবশ্যই আমাদের রয়েছে, তবে আরও পরিমার্জন করা দরকার,
স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হলে PLN যে ব্যবস্থা কাজে লাগায়, সেটাই তাদের বিকল্প পরিকল্পনা। বাতামের পুনরুদ্ধারের ঘটনায় দেখা গেছে, এর মধ্যে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়: দলগুলোকে সরঞ্জাম পরীক্ষা করতে হয়, নেটওয়ার্ক সংযোগ সচল করতে হয় এবং নিরাপদে গ্রাহকদের আবার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে হয়।
রুদি বলেন, বিদ্যুৎ ফিরে আসার পরও স্থিতিশীলতা ও নির্ভরযোগ্যতা পর্যবেক্ষণে কারিগরি ও পরিচালনাকর্মীরা প্রস্তুত ছিলেন। বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের পর ব্যবস্থাটি স্বাভাবিকভাবে সচল থাকতে পারে কি না, তা যাচাইয়ের কাজও চলেছে।
দেশব্যাপী পর্যালোচনা ও বাতামের স্থানীয় মূল্যায়নের উদ্দেশ্য পরস্পর-সম্পর্কিত। স্থানীয় তদন্তে ত্রুটি ও ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম খতিয়ে দেখা হচ্ছে, আর দানান্তারার মূল্যায়নে PLN-এর কার্যক্রমজুড়ে এ ধরনের ঘটনার প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বয়ংক্রিয় ক্ষতিপূরণ কারা পাবেন?
PLN বাতাম জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার সময় তাদের সম্মত পরিষেবার মান বা পরিষেবা-স্তরের চুক্তিতে নির্ধারিত সময়সীমা ছাড়ালে ক্ষতিপূরণ প্রযোজ্য হবে। গ্রাহকের কী ধরনের বিদ্যুৎ পরিষেবা পাওয়ার কথা, তা এসব মানদণ্ড বা চুক্তিতে নির্ধারিত থাকে।
রুদি বলেন, গ্রাহকদের দাবি জমা দিতে হবে না; পরবর্তী বিদ্যুৎ বিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষতিপূরণের সমন্বয় করা হবে। ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে PLN বাতাম রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের গভর্নরের ২০১৭ সালের ২২ নম্বর প্রবিধানের কথা উল্লেখ করেছে।
- সাধারণ গ্রাহক: মাসিক নির্ধারিত চার্জের ১০% ক্ষতিপূরণ।
- বিশেষ নির্ভরযোগ্যতা পরিষেবার গ্রাহক: চুক্তিবদ্ধ পরিষেবা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারের চার্জের ১৫% থেকে ২৫% ক্ষতিপূরণ।
- যোগ্যতা: সরবরাহে বিঘ্নের সময় প্রযোজ্য পরিষেবার মান বা সম্মত পরিষেবা-স্তর অতিক্রম করতে হবে।
- ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পদ্ধতি: পরবর্তী বিদ্যুৎ বিলে স্বয়ংক্রিয় সমন্বয়।
দুটি শতাংশ বিলের ভিন্ন অংশের ওপর প্রযোজ্য। সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে PLN বাতাম মাসিক নির্ধারিত চার্জের ভিত্তিতে হিসাবের কথা বলেছে। বিশেষ নির্ভরযোগ্যতা চুক্তির গ্রাহকদের ক্ষেত্রে হিসাব হবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চার্জের ভিত্তিতে, যার নাম রুপিয়াহ পেমাকাইয়ান তেনাগা লিস্ত্রিক।
সুরোসো বলেন, PLN-এর তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ছিল বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার; এরপর ক্ষতিপূরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। বালিলও বলেন, বাস্তবায়ন নিয়ে PLN-এর সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার PLN বাতামের ঘোষিত প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি এসব পরিচালনাগত আলোচনা চলছিল।
পরিবার ও ডেটা সেন্টার, দুপক্ষই বিপর্যয়ের প্রভাব টের পেয়েছে
বাতামের বাসিন্দারা বলেন, আলো ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ হওয়ার বাইরেও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়েছে। বাতু আজির বাসিন্দা আবিদিন বলেন, তাঁর এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরলেও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বন্ধ ছিল। তিবানের বাসিন্দা ইলহামও জানান, বিদ্যুৎ ফিরে আসার পরও সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি সরবরাহ চালু হয়নি।
তাঁদের বক্তব্যে দেখা যায়, বিদ্যুৎ ফিরলেও পরিবারের অন্য পরিষেবাগুলো সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক হয়নি। দৈনন্দিন কাজকর্মে ফিরতে বাসিন্দারা স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ও স্বাভাবিক পানি সরবরাহ, দুটোই চেয়েছেন।
ডেটা সেন্টারের গ্রাহকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন ইয়োগা। এসব স্থাপনায় তথ্য সংরক্ষণ ও ডিজিটাল পরিষেবা চালানোর কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার সরঞ্জাম থাকে। তাই নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ তাদের কার্যক্রমের জন্য অত্যাবশ্যক।
বাতামে প্রায় ২০টি ডেটা সেন্টার রয়েছে, স্থাপনার ঘনত্বের হিসাবে ইন্দোনেশিয়ায় জাকার্তার পরেই এর অবস্থান। সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি হওয়া, জমির প্রাপ্যতা এবং আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবল সংযোগ বড় কম্পিউটিং প্রকল্পের জন্য জায়গা খুঁজতে থাকা উন্নয়নকারীদের আকৃষ্ট করেছে।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে কাবিলে ডেঅনের পরিকল্পিত ক্যাম্পাস, যার সক্ষমতা ৫১১ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার পর্যন্ত; ১০০ মেগাওয়াটের নিউট্রাডিসি নক্সেরা বাতাম; এবং অস্ট্রেলিয়ার ফার্মাস টেকনোলজিসের সঙ্গে এনভিডিয়ার ৩৬০ মেগাওয়াটের DSX AI Factory প্রকল্প। মেগাওয়াট ব্যবহারযোগ্য বিদ্যুৎ পরিমাপ করে, আর মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বৈদ্যুতিক সক্ষমতার আরেকটি একক। তাই প্রকল্পগুলোর পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট এককসহ বুঝতে হবে।
অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে গাও ক্যাপিটাল পার্টনার্স ও সিনার প্রিমেরা পরিচালিত গোল্ডেন ডিজিটাল গেটওয়ে এবং GDS Holdings, Princeton Digital Group ও BW Digital-সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প। ইকুয়েটর গেট সিস্টেম বাতামও তেলুক মাতান ইকানে ৩০ হেক্টর জমিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার ক্লাস্টার নির্মাণে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে।
স্থানীয় সরবরাহ উন্নয়ন ও জাতীয় সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা
দুটি সাবস্টেশন থেকে সরবরাহ, নিয়মিত নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে ডেটা সেন্টারগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ উন্নত করার পরিকল্পনা করেছে PLN বাতাম। দুটি সরবরাহ সংযোগ থাকলে একটি সংযোগ অচল হলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার আরেকটি পথ থাকে।
পুনরায় এমন বিপর্যয় ঠেকানো ও পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে এসব ব্যবস্থা তুলে ধরেছে কোম্পানিটি। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর বাতামের বিনিয়োগ-লক্ষ্য ও বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের কর্মদক্ষতার যোগসূত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে: নতুন কম্পিউটিং স্থাপনাগুলোর বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেশি, এর সঙ্গে রয়েছে পরিবার ও শিল্পের বিদ্যমান চাহিদা।
১৪ অক্টোবরের বৈঠকে ১০০ গিগাওয়াট সৌর প্যানেল স্থাপনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। PLN-কে আরও দ্রুত ও সাড়াদানে সক্ষম করার বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে এই আলোচনাকে যুক্ত করেন রোসান।
দানান্তারার প্রধান নির্বাহী হিসেবে বৈঠকের পরিধি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রোসান বলেন:
মূল কথা হলো, কীভাবে PLN-এর রূপান্তর ত্বরান্বিত করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও উন্নত, দ্রুত ও সাড়াদানে সক্ষম করা যায় এবং একই সঙ্গে ১০০ গিগাওয়াট সৌর প্যানেল স্থাপনের কাজও ত্বরান্বিত করা যায়,
এক গিগাওয়াট সমান ১,০০০ মেগাওয়াট; সে হিসাবে আলোচ্য সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ১,০০,০০০ মেগাওয়াট। সক্ষমতা বলতে উৎপাদন সরঞ্জামের নির্ধারিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বোঝায়; সূর্যালোকের ওপর সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন নির্ভর করে। নির্ভরযোগ্য সরবরাহ বজায় রেখে গ্রাহকদের কাছে এই বিদ্যুৎ পৌঁছানোর জন্য PLN-কে নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা করতে হবে।
সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আলোচনা, ব্যবসায়িক পর্যালোচনা ও জরুরি পরিকল্পনা এখন প্রেসিডেন্টের একই নির্দেশনার অংশ। বাতামের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো কারিগরি তদন্ত শেষ করা, যোগ্য গ্রাহকদের বিলে সমন্বয় করা এবং প্রস্তাবিত সরবরাহ উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা। দানান্তারা ও PLN-এর পরবর্তী পদক্ষেপ হলো পর্যালোচনাকে এমন প্রস্তাবে রূপ দেওয়া, যার ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
মূল বিষয়গুলো
- PLN বাতামের তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর ২০২৬, WIB সময় ০৬:৩৭-এ বিদ্যুৎ বিপর্যয় শুরু হয়। এতে বাতাম ও বিনতানজুড়ে প্রাথমিকভাবে ৪১১,২১৯ জন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হন।
- ১৪ অক্টোবর প্রাবোও PLN-এর ব্যবসায়িক মডেল পর্যালোচনা ও রূপান্তর প্রস্তাব তৈরির জন্য দানান্তারাকে নির্দেশ দেন।
- PLN জানায়, ১৪ অক্টোবরের মধ্যে বাতামে বিদ্যুৎ পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে, তবে বিনতানের কিছু এলাকায় কাজ চলছিল।
- বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তাধীন ছিল; যন্ত্রপাতির ত্রুটি, বজ্রপাত এবং কোনো প্রাণীর সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।
- যোগ্য সাধারণ গ্রাহকেরা মাসিক নির্ধারিত চার্জের ১০% ক্ষতিপূরণ পাবেন; বিশেষ নির্ভরযোগ্যতা পরিষেবার গ্রাহকেরা ব্যবহার চার্জের ১৫% থেকে ২৫% পেতে পারেন।
- পরবর্তী বিলে স্বয়ংক্রিয় ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে PLN বাতাম। ডেটা সেন্টার গ্রাহকদের জন্য দুটি সাবস্টেশন থেকে সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
- প্রাসাদে বৈঠকে ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা স্থাপনের কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়টিও আলোচিত হয়।






