নতুন কার্যালয়ে এআই পরীক্ষা ও জনসেবা আরও কাছাকাছি
অ্যানথ্রপিক ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর সিঙ্গাপুরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের পঞ্চম কার্যালয় খুলেছে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা, সুরক্ষা, মডেল মূল্যায়ন ও দুর্ঘটনা মোকাবিলা নিয়ে সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যানথ্রপিকের ভাষ্য, সিঙ্গাপুরের সরকারি প্রযুক্তি সংস্থা গভটেকের ১,৫০০ জনের বেশি প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মী ইতিমধ্যে ক্লড কোড ব্যবহার করেন। তাদের ইকোনমিক ইনডেক্সে জনসংখ্যার অনুপাতে Claude.ai ব্যবহারে ১২১টি দেশের মধ্যে সিঙ্গাপুরের অবস্থান দ্বিতীয়।
সূচিপত্র
- নতুন কার্যালয়ে এআই পরীক্ষা ও জনসেবা আরও কাছাকাছি
- সরকারি চুক্তির আওতায় যা আছে
- নতুন মডেলের নিরাপত্তা মূল্যায়ন কেন প্রয়োজন
- দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত তথ্য চায় সিঙ্গাপুর
- কার্যালয় খোলার আগে তিন বছর ধরে পরীক্ষা
- সিঙ্গাপুরের দল কী কাজ করবে
- সরকারি সংস্থাগুলো কীভাবে ক্লড ব্যবহার করছে
- ব্যাংক, বিনিয়োগ দল ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানেও ব্যবহার বাড়ছে
- ব্যাপক ব্যবহার সিঙ্গাপুরের কর্মশক্তির জন্য কী অর্থ বহন করে
- মূল বিষয়গুলো
কার্যালয়টি সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়িক এলাকা র্যাফেলস প্লেসে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে ক্যাপেলা সিঙ্গাপুরে। এর এক দিন আগে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল সাইবার উইকের অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারকে সই করেন অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা বেঞ্জামিন মান ও ডিজিটাল উন্নয়ন ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব চং কাই ফং। সইয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন ডিজিটাল উন্নয়ন ও তথ্যবিষয়ক মন্ত্রী জোসেফিন তেও এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অ্যানথ্রপিকের নীতিবিষয়ক প্রধান মাইকেল সেলিটো।
অ্যানথ্রপিকের সিঙ্গাপুর কার্যালয় খোলার ঘোষণায় ব্যবহারিক প্রয়োগের সঙ্গে কারিগরি যাচাইকে যুক্ত করে অংশীদারত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষার মানদণ্ড নিয়ে তথ্য বিনিময়, এআই ব্যবহারের ওপর গবেষণা ভাগ করে নেওয়া এবং দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।
সিঙ্গাপুরের সরকারি সফটওয়্যার উন্নয়ন, ব্যাংকিং, বিনিয়োগ, বিক্রয় সহায়তা ও অনলাইন কেনাকাটার সেবায় ইতিমধ্যে ক্লড ব্যবহার হচ্ছে। এসব ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি চুক্তিতে সরকারের একটি মৌলিক উদ্বেগও উঠে এসেছে: ক্রমেই সক্ষম হয়ে ওঠা এআই ব্যবস্থা কী করতে পারে, কোথায় ক্ষতি করতে পারে এবং কিছু ভুল হলে নির্মাতারা কত দ্রুত তথ্য জানাবে, তা বোঝা।
সরকারি চুক্তির আওতায় যা আছে
ডিজিটাল উন্নয়ন ও তথ্য মন্ত্রণালয় এবং অ্যানথ্রপিক সহযোগিতার তিনটি বিস্তৃত ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে: এআই নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও মডেল মূল্যায়ন; প্রযুক্তি গ্রহণ ও এর প্রভাব নিয়ে গবেষণা; এবং সরকার ও ব্যবসায় দায়িত্বশীল ব্যবহার। কারিগরি বিনিময়ের আওতায় থাকবে মূল্যায়ন পদ্ধতি, পরীক্ষার মানদণ্ড ও দুর্ঘটনা মোকাবিলার ব্যবস্থা।
মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব চং বৃহত্তর পরিসরে এআই ব্যবহারের শর্ত হিসেবে জনআস্থার কথা বলেছেন:
এআইয়ের বিকাশমান ঝুঁকির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করাই সব সময় সিঙ্গাপুরের এআই-সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কর্মী ও সাধারণ মানুষ যাতে আস্থার সঙ্গে এআই ব্যবহার করতে পারেন, সে জন্য বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সিঙ্গাপুর এআই-সংক্রান্ত নিয়মকানুন তৈরি করার সময় অ্যানথ্রপিক কারিগরি ও নীতিবিষয়ক দক্ষতা দিয়ে সহায়তার পরিকল্পনাও করেছে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায় এআই ব্যবহারের উপায় খুঁজবে প্রতিষ্ঠানটি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের এআই-দক্ষতা বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগেও সহায়তা করবে।
সমঝোতা স্মারকে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, তবে বিস্তারিত কার্যসূচি নেই। কারিগরি বিনিময়, গবেষণা প্রকাশ বা দুর্ঘটনা মোকাবিলার পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া কবে হবে, সে বিষয়ে কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। সই অনুষ্ঠানের পর অংশীদারত্ব কীভাবে কাজ করবে, তা নির্ধারণ করবে এসব ব্যবহারিক আয়োজন।
নতুন মডেলের নিরাপত্তা মূল্যায়ন কেন প্রয়োজন
ক্যাপেলা সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বিল্ডার সামিটে মান বলেন, নতুন এআই মডেল প্রশিক্ষণ দিলেই তার সক্ষমতা সম্পর্কে নির্মাতারা পূর্ণ ধারণা পান না। প্রশিক্ষণের সময় একটি মডেল উপাত্ত থেকে ধরন শেখে। আর মূল্যায়ন হয় প্রশিক্ষণের পরে এবং উন্নয়ন চলাকালে, নির্দিষ্ট কাজে মডেলটির আচরণ যাচাই করতে।
অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মান মডেলগুলোর সক্ষমতা ও ঝুঁকি যাচাইয়ে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে সিঙ্গাপুরের এআই সেফটি ইনস্টিটিউটের কথা উল্লেখ করেন:
আমরা যখন একটি নতুন মডেল প্রশিক্ষণ দিই, তখন তার সক্ষমতা ঠিক কী, তা কেউই সত্যিকার অর্থে জানেন না। সিঙ্গাপুরের নতুন ইনস্টিটিউটসহ বিশ্বের বিভিন্ন এআই নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে নতুন মডেলগুলো তৈরি হওয়ার সময় সেগুলোর ঝুঁকি ও সুফল বোঝা যায়।
অ্যানথ্রপিকের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটগুলোর সঙ্গে একই ধরনের তথ্য বিনিময় করে তারা। কারিগরি তথ্য ভাগাভাগি করলে সরকার শক্তিশালী মডেলগুলো সম্পর্কে কাছ থেকে জানতে পারে এবং নির্মাতারা নিজেদের পরীক্ষা আরও উন্নত করতে পারেন। সহজ করে বললে, এ কাজে যাচাই করা হয় এআই ব্যবস্থা নির্ভরযোগ্যভাবে কী করতে পারে, বিপজ্জনক আচরণ শনাক্ত করা হয় এবং সমস্যা দেখা দিলে কীভাবে তা সামলানো হবে, সে বিষয়ে একমত হওয়া হয়।
সেলিটো বলেন, অপ্রকাশিত অ্যানথ্রপিক মডেলগুলোতে সিঙ্গাপুর অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রবেশাধিকার পাবে না। সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানগুলো অভ্যন্তরীণ সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য অ্যানথ্রপিকের সর্বশেষ প্রকাশিত মডেল ব্যবহারে প্রতিষ্ঠানটির সাইবারভেরিফিকেশন কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারে। নিরাপত্তা খাতে পরীক্ষার সুযোগ দেবে এই কর্মসূচি, আর সরকারি অংশীদারত্ব সহযোগিতার আরও বিস্তৃত পথ তৈরি করবে।
দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত তথ্য চায় সিঙ্গাপুর
সিঙ্গাপুরের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা সমন্বয়মন্ত্রী কে শানমুগাম এআইয়ের ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দ্রুত তথ্য জানাতে বলেছেন। ১৩ অক্টোবর দেওয়া তাঁর বক্তব্যে সরকারের প্রত্যাশার কেন্দ্রে ছিল দ্রুততা ও স্বচ্ছতা।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সিঙ্গাপুরের প্রত্যাশা সরাসরি তুলে ধরেন শানমুগাম:
সিঙ্গাপুরসহ আরও অনেক দেশের মূল অনুরোধ ছিল: কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা কি সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ণ স্বচ্ছতা পেতে পারি?
সেলিটো বলেন, যত দ্রুত দায়িত্বশীলভাবে সম্ভব সাইবার দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত তথ্য জানাতে এবং সরকারকে প্রযুক্তি বুঝতে ও নিয়ন্ত্রণবিধি প্রণয়নে সহায়তা করতে অ্যানথ্রপিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এআই পরিচালনার জন্য একটি বৈশ্বিক স্বাধীন সংস্থা গঠনে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের আহ্বানেরও জবাব দিচ্ছিলেন তিনি।
তাই দুর্ঘটনা মোকাবিলা সমঝোতা স্মারকের একটি ব্যবহারিক অংশ। কোনো নিরাপত্তা সমস্যায় এআই ব্যবস্থা জড়িত থাকলে কী ঘটেছে এবং কীভাবে তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সে বিষয়ে কর্মকর্তা ও নির্মাতাদের তথ্য প্রয়োজন। তাৎক্ষণিক স্বচ্ছতার জন্য সিঙ্গাপুরের অনুরোধ এবং দায়িত্বশীলভাবে তথ্য প্রকাশের বিষয়ে অ্যানথ্রপিকের অঙ্গীকার ভবিষ্যৎ সহযোগিতায় তথ্য বিনিময়ের সময়কে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
কার্যালয় খোলার আগে তিন বছর ধরে পরীক্ষা
সিঙ্গাপুরের সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের সম্পর্কের শুরু ২০২৩ সালে। সে বছর প্রতিষ্ঠানটি ইনফোকম মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (আইএমডিএ) ও এআই ভেরিফাই ফাউন্ডেশন পরিচালিত জেনারেটিভ এআই ইভ্যালুয়েশন স্যান্ডবক্সে যোগ দেয়। স্যান্ডবক্স হলো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো মূল্যায়ন পদ্ধতি পরীক্ষা করতে পারে এবং আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহারের আগে বিভিন্ন ব্যবস্থার আচরণ সম্পর্কে জানতে পারে।
পরে অ্যানথ্রপিক ওই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইংরেজি, ম্যান্ডারিন, মালয় ও তামিল ভাষায় একটি রেড-টিমিং প্রকল্পে কাজ করে। রেড-টিমিং হলো কোনো ব্যবস্থার দুর্বলতা খুঁজে বের করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা। এর মধ্যে অনিরাপদ উত্তর বা কঠিন নির্দেশনার মুখে ব্যর্থতার বিষয়ও রয়েছে। চারটি ভাষায় পরীক্ষা করলে ইংরেজির বাইরেও ব্যবস্থাটির আচরণ যাচাই করা যায়।
অন্যান্য বড় এআই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে সিঙ্গাপুর। অ্যানথ্রপিকের চুক্তিটি প্রযুক্তি গ্রহণ ও নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচিতে কীভাবে যুক্ত হয়েছে, তা নিচের ধারাবাহিকতায় দেখা যায়:
- ২০২৩: আইএমডিএ ও এআই ভেরিফাই ফাউন্ডেশন পরিচালিত জেনারেটিভ এআই ইভ্যালুয়েশন স্যান্ডবক্সে যোগ দেয় অ্যানথ্রপিক।
- মে ২০২৬: ব্যবহারিক এআই উদ্ভাবনে সহায়তার জন্য ওপেনএআইয়ের সঙ্গে চুক্তি করে সিঙ্গাপুর।
- জুন ২০২৬: এআই নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে সই করে আইএমডিএ ও মাইক্রোসফট।
- ১৩ অক্টোবর ২০২৬: সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল সাইবার উইকে অ্যানথ্রপিক ও ডিজিটাল উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সমঝোতা স্মারকে সই করে।
- ১৪ অক্টোবর ২০২৬: চুক্তির ঘোষণা দেয় অ্যানথ্রপিক এবং ক্যাপেলা সিঙ্গাপুরে তাদের কার্যালয় উদ্বোধন করে।
ঘটনার সময় সরাসরি ডিভাইসে প্রতারণা শনাক্তের কাজেও গুগল ডিপমাইন্ডের সঙ্গে কাজ করছে গভটেক। এসব প্রকল্পে এআই উন্নয়নের প্রতি সিঙ্গাপুরের আগ্রহের সঙ্গে জনসেবা ও সাইবার নিরাপত্তার নির্দিষ্ট প্রয়োজন যুক্ত হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের দল কী কাজ করবে
দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় কার্যালয়ের পর সিঙ্গাপুরে কার্যালয় খুলেছে অ্যানথ্রপিক। আসিয়ান অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক ডেল ফিনলে বলেন, স্থানীয়ভাবে তাদের পণ্যের সঙ্গে গ্রাহকদের পরিচয় করানো এবং সরকারি সংস্থা, বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও স্টার্টআপকে ইতিমধ্যে সেবা দেওয়া দলটির সম্প্রসারণই মূল লক্ষ্য।
১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিক্রয়, বিপণন, নিয়োগ ও অর্থ বিভাগে স্থানীয় ১২টি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল অ্যানথ্রপিক। সিঙ্গাপুরে তাদের বর্তমান কর্মীর সংখ্যা বা দলের লক্ষ্যমাত্রা জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রসারণের কারণ হিসেবে ফিনলে সিঙ্গাপুরের কারিগরি মেধা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ এআইয়ের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করেন। স্থায়ী স্থানীয় উপস্থিতির অর্থ ব্যাখ্যা করে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ঘোষণায় বলেন:
দীর্ঘ মেয়াদে সিঙ্গাপুরে থাকার ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখানকার গ্রাহকেরা এআইয়ের কাছে অত্যন্ত উচ্চমান প্রত্যাশা করেন, বিশেষ করে নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। স্থানীয়ভাবে আমাদের দল থাকলে ক্লড দিয়ে কঠিনতম সমস্যাগুলোর সমাধান করছে, এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও কাছে যেতে পারব।
উদ্বোধনের সপ্তাহে অ্যানথ্রপিক তাদের ডেভেলপারদেরও একত্র করেছিল। বিল্ডার সামিট সিঙ্গাপুরে ৩০০ জনের বেশি ডেভেলপার এবং সপ্তাহের শুরুতে আয়োজিত কমিউনিটি মিটআপে ৭০০ জনের বেশি অংশ নেন। এসব আয়োজনের মাধ্যমে কার্যালয় উদ্বোধনের সঙ্গে ক্লড ব্যবহার করে পণ্য ও সেবা তৈরি করা ব্যক্তিদের যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।
সরকারি সংস্থাগুলো কীভাবে ক্লড ব্যবহার করছে
সিঙ্গাপুরে ক্লডের বিদ্যমান ভূমিকার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণগুলোর একটি গভটেকের ব্যবহার। অ্যানথ্রপিকের তথ্য অনুযায়ী, ১,৫০০ জনের বেশি প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মী সরকারি ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং সফটওয়্যার সরবরাহের কাজ দ্রুত করতে ক্লড কোড ব্যবহার করেন।
ক্লড কোড একটি এআই সরঞ্জাম, যা কোড লেখা ও ত্রুটি সংশোধনসহ সফটওয়্যারের কাজে সহায়তা করে। অ্যানথ্রপিকের ভাষ্য, জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা আরও দক্ষভাবে তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণে এটি গভটেকের দলগুলোকে সাহায্য করে। ব্যবহারের এই পরিসংখ্যানটি কারিগরি ব্যবহারকারীর সংখ্যা জানায়; গভটেকের কত সময় সাশ্রয় হয়েছে, সে বিষয়ে ঘোষণায় কোনো সংখ্যাগত হিসাব নেই।
সিঙ্গাপুরের সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি দেশটির সাইবার প্রতিরক্ষায় ক্লড কীভাবে সহায়তা করতে পারে, তা খতিয়ে দেখছে। কাজটি এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে, সফটওয়্যার উন্নয়নে গভটেকের ব্যবহার ইতিমধ্যে চলছে। এ দুটি প্রয়োগে প্রযুক্তিটির ভিন্ন ভূমিকা দেখা যায়: জনসেবা তৈরি করতে সহায়তা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থা সুরক্ষায় সহায়তা।
মান বলেন, তিন বছর আগে সম্পর্কের শুরুতে অ্যানথ্রপিকের প্রথম দিককার মডেলগুলো সরকারি সংস্থার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতার উপযোগী ছিল না। তাঁর বক্তব্যে বর্তমান ব্যবহারকে মডেলের উন্নত সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, আর সমঝোতা স্মারকে সেই উন্নতির সঙ্গে আসা ঝুঁকি পর্যালোচনার একটি পথ রাখা হয়েছে।
ব্যাংক, বিনিয়োগ দল ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানেও ব্যবহার বাড়ছে
অ্যানথ্রপিকের ভাষ্য, ডিবিএস সিঙ্গাপুরে তাদের কার্যক্রমে সফটওয়্যার উন্নয়ন ও দৈনন্দিন কাজের দক্ষতা বাড়াতে ক্লড ব্যবহার করে। এসব প্রয়োগ ব্যাংকটির নিরাপত্তা ও শাসনকাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়। সিঙ্গাপুরের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল জিআইসি তাদের বিনিয়োগ ও করপোরেট সেবা দলজুড়ে ক্লড চালু করছে।
অ্যানথ্রপিক জানায়, নিয়ন্ত্রিত খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো অ্যামাজন বেডরকের মাধ্যমে আঞ্চলিক পর্যায়ে ইনফারেন্স সম্পন্ন করে ক্লড চালাতে পারে। ইনফারেন্স হলো প্রশিক্ষিত মডেল কোনো অনুরোধ প্রক্রিয়াকরণ করে উত্তর দেওয়ার প্রক্রিয়া। কঠোর তথ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা আছে এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্য কোথায় প্রক্রিয়াকরণ হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ।
গ্র্যাব তাদের বিক্রয় সহকারী ব্রিক্সে ক্লড ব্যবহার করে। অ্যানথ্রপিকের ভাষ্য, ব্রিক্স প্রতি তিন মাসে গ্র্যাবের বিক্রয় দলের আনুমানিক ৪০ হাজার কর্মঘণ্টা বাঁচায় এবং নতুন বিক্রয়ের সুযোগ শনাক্ত করে। প্রতি তিন মাসে এই হার বজায় থাকলে বছরে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে, যা প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া সংখ্যার ভিত্তিতে করা হিসাব।
শোপি, গারেনা ও মনি-এর মূল প্রতিষ্ঠান সি, শোপির গ্রাহকসেবা চ্যাটবটকে আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে উত্তর দিতে ক্লড ব্যবহার করে। অ্যানথ্রপিকের তথ্য অনুযায়ী, সি-এর হাজারো কর্মী কোড লেখা ও ত্রুটি সংশোধনেও এটি ব্যবহার করেন। সিঙ্গাপুরে যাত্রা শুরু করা ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম সুপারবেসও ক্লড কোড ব্যবহার করে।
গ্রাহক হওয়ার পাশাপাশি অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কও রয়েছে জিআইসির। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মোট ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এক অর্থায়ন পর্বে প্রথম বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের সিরিজ জি অর্থায়ন পর্বে নেতৃত্ব দেয় তারা। এই অঙ্কগুলো অর্থায়ন পর্বের মোট আকার; জিআইসির নিজস্ব বিনিয়োগের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
ব্যাপক ব্যবহার সিঙ্গাপুরের কর্মশক্তির জন্য কী অর্থ বহন করে
অ্যানথ্রপিকের সর্বশেষ ইকোনমিক ইনডেক্সে জনসংখ্যার অনুপাতে Claude.ai ব্যবহারে ১২১টি দেশের মধ্যে সিঙ্গাপুরের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, জনসংখ্যার আকার বিবেচনায় প্রত্যাশিত মাত্রার ৫.৮১ গুণ ব্যবহার হচ্ছে সেখানে। তুলনামূলকভাবে ছোট একটি বাজারে ব্যবহার যে অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত, তা এই হিসাব থেকে বোঝা যায়।
পেশা, শিল্প খাত ও দৈনন্দিন কাজে এআই কীভাবে ব্যবহৃত হয়, তা বিশ্লেষণে ইকোনমিক ইনডেক্সে বেনামি ক্লড কথোপকথন পর্যালোচনা করা হয়। সমঝোতা স্মারকের আওতায় অ্যানথ্রপিক এই উদ্যোগের গবেষণা ও উপাত্ত সিঙ্গাপুর সরকারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এতে প্রযুক্তি গ্রহণের পাশাপাশি কারিগরি নিরাপত্তা পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে।
মান বলেন, এআইয়ের কারণে ব্যাপকভাবে চাকরি হারানোর ঘটনা অনিবার্য, যদিও অ্যানথ্রপিক এখনো তা ঘটতে দেখেনি। কর্মসংস্থান নিয়ে তাঁর এই বক্তব্য একটি পূর্বাভাস; এর পাশাপাশি কোডিং সহায়তা, বিক্রয় সহায়তা ও গ্রাহকসেবার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মতো বর্তমান উদাহরণও রয়েছে।
সিঙ্গাপুরে বিদ্যমান ব্যবহার দেখায়, চুক্তির কর্মশক্তিসংক্রান্ত বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ। গভটেকের প্রকৌশলীরা সফটওয়্যারের কাজ দ্রুত করতে এআই ব্যবহার করছেন, বিক্রয় সহকারীর কারণে সময় সাশ্রয়ের কথা জানিয়েছে গ্র্যাব, আর সি-এর কর্মীরা কোড লেখায় সহায়তা পাচ্ছেন। কোন কাজগুলো বদলাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানগুলো সাশ্রয় হওয়া সময় কীভাবে কাজে লাগাচ্ছে এবং কর্মীদের কী দক্ষতা প্রয়োজন, তা পর্যালোচনা করলে কর্মসংস্থানে প্রযুক্তি গ্রহণের প্রভাব বোঝা সহজ হবে।
এই অংশীদারত্বে এসব প্রশ্নকে মডেল মূল্যায়ন ও দুর্ঘটনা মোকাবিলার একই কাঠামোয় আনা হয়েছে। পরবর্তী ব্যবহারিক পদক্ষেপ হলো কারিগরি বিনিময়, গবেষণা ভাগাভাগি এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারে সহায়তা। পরীক্ষার বিষয়ে সরাসরি সহযোগিতার পাশাপাশি সিঙ্গাপুর এআই ব্যবহারকারীর ক্রমবর্ধমান ভিত্তি তৈরি করছে। অন্যদিকে, অ্যানথ্রপিক তাদের সবচেয়ে সক্রিয় বাজারগুলোর একটিতে স্থানীয় ব্যবসায়িক উপস্থিতি গড়ে তুলছে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের পঞ্চম কার্যালয় হিসেবে র্যাফেলস প্লেসের কার্যালয় খোলে অ্যানথ্রপিক।
- সরকারি সমঝোতা স্মারকে ১৩ অক্টোবর সই হয়। এতে এআই নিরাপত্তা, সুরক্ষা, মূল্যায়ন, প্রযুক্তি গ্রহণবিষয়ক গবেষণা ও দুর্ঘটনা মোকাবিলার বিষয় রয়েছে।
- অ্যানথ্রপিকের তথ্য অনুযায়ী, গভটেকের ১,৫০০ জনের বেশি প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মী ক্লড কোড ব্যবহার করেন।
- জনসংখ্যার অনুপাতে Claude.ai ব্যবহারে ১২১টি দেশের মধ্যে সিঙ্গাপুরের অবস্থান দ্বিতীয়; ব্যবহার প্রত্যাশিত মাত্রার ৫.৮১ গুণ।
- স্থানীয় ব্যবহারকারীদের মধ্যে রয়েছে ডিবিএস, জিআইসি, গ্র্যাব ও সি। কোডিং থেকে শুরু করে গ্রাহকসেবা ও বিক্রয় সহায়তা পর্যন্ত নানা কাজে ক্লড ব্যবহৃত হচ্ছে।
- সিঙ্গাপুরে ১২টি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে অ্যানথ্রপিক, তবে স্থানীয় দলের আকার বা নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা জানায়নি।
- পরিকল্পিত কারিগরি বিনিময় ও গবেষণা ভাগাভাগির বাস্তবায়নের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।






