১৫.৬ বর্গকিলোমিটারের পরীক্ষামূলক এলাকায় বিভিন্ন যানবাহনের জন্য ভিন্ন নিয়ম
হো চি মিন সিটি ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শহরের বর্তমান কেন্দ্রীয় এলাকা ও থু থিয়েমজুড়ে একটি নিম্ন নিঃসরণ অঞ্চল চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। শুরুতে এই অঞ্চলে প্রবেশের শর্ত প্রযোজ্য হবে ট্যাক্সি, চুক্তিভিত্তিক যাত্রীবাহী যান, বাস এবং ছোট পণ্যবাহী ট্রাকের ক্ষেত্রে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের জন্য পরে আরও কঠোর মানদণ্ড আরোপ করা হবে; পেট্রল ও ডিজেলচালিত সব যানবাহন তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ করা হবে না।
সূচিপত্র
- ১৫.৬ বর্গকিলোমিটারের পরীক্ষামূলক এলাকায় বিভিন্ন যানবাহনের জন্য ভিন্ন নিয়ম
- কোথায় বিধিনিষেধ কার্যকর হবে
- প্রথম পর্যায়ের মানদণ্ড কোন যানবাহনের জন্য
- আগের প্রস্তাবের বদলে সংশোধিত সময়সূচি
- গণপরিবহনের আওতা একটি শর্ত, যাতায়াতের পূর্বাভাস নয়
- সাতটি রেললাইন, ৩০০টি বাস রুট ও নতুন যাতায়াত-সংযোগ সুবিধা
- পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সময়সীমা কেন্দ্রীয় এলাকার বাইরেও কার্যকর হবে
- আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব আছে, তবে অর্থপ্রদানের বিষয় চূড়ান্ত নয়
- বায়ুর মানের লক্ষ্য যানবাহনের নিঃসরণের বাইরেও বিস্তৃত
- নজরদারি এবং যেসব সিদ্ধান্ত এখনো বাকি
- মূল বিষয়গুলো
প্রায় ১৫.৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলবে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রিং রোড ২-এর ভেতরের এলাকায় এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে। তবে তা নির্ভর করবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল, অবকাঠামোর প্রস্তুতি এবং গণপরিবহনের বিস্তারের ওপর।
পৌর গণকমিটি খসড়া বিষয়ে মতামত আহ্বানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এতে ২০২৬ সালের ৮ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত জনমত নেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি পৌর গণপরিষদে পেশ করার কথা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়নি যে পরিষদ বিধিনিষেধগুলো গ্রহণ করেছে, বা ভোটের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা হয়েছে।
খসড়ায় আইনি ভিত্তি হিসেবে আরবান ডেভেলপমেন্ট ল, নং ১৮/২০২৬/QH16-এর অনুচ্ছেদ ১৪-এর দফা ১-এর উপদফা d ও i উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তিনটি পদক্ষেপ একত্র করা হয়েছে, যেগুলোর প্রভাব বাসিন্দাদের ওপর আলাদা: নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশের জন্য নিঃসরণ মান, বিশেষ কিছু যানবাহন গোষ্ঠীকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের সময়সীমা এবং রূপান্তরে আর্থিক সহায়তা।
এ পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শহরে নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা ১২ লাখ ৮০ হাজার এবং মোটরসাইকেলের সংখ্যা ১ কোটি ১৫ লাখ বলে জানা গেছে। নিঃসরণ মান পূরণ করলে শুরুতে কিছু দহন ইঞ্জিনচালিত যান এই অঞ্চলে চলাচল চালিয়ে যেতে পারবে। পরে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাধ্যবাধকতা কার্যকর হলে যানবাহন চালানোর জ্বালানি বদলাতে হবে।
কোথায় বিধিনিষেধ কার্যকর হবে
প্রথম অঞ্চলটি সাইগন নদীর দুই পাড়ে থাকা বর্তমান ৯৩০ হেক্টরের কেন্দ্রীয় এলাকা ও থু থিয়েমকে একত্র করবে। প্রস্তাবিত ১৫.৬ বর্গকিলোমিটারের পরীক্ষামূলক এলাকার মধ্যে কেন্দ্রীয় এলাকার আয়তনই ৯.৩ বর্গকিলোমিটার।
প্রস্তাবিত সীমানা সাইগন ব্রিজ, নুয়েন হিউ ক্যান, ভ্যান থান ২ ব্রিজ, থি নে ২ ব্রিজ, হোয়াং সা, ভো থি সাউ, কাচ মাং থাং ৮, নুয়েন থাই হক ও ভো ভ্যান কিয়েত ধরে এগোবে। এরপর সাইগন নদীর টানেল ও থু থিয়েম পেরিয়ে ট্রান কুই কিয়েন, মাই চি থো, লুয়ং দিন কুয়া ও ট্রান নাও ধরে আবার সাইগন ব্রিজে ফিরবে।
দ্বিতীয় অঞ্চলে রিং রোড ২-এর ভেতরে বিধিনিষেধ সম্প্রসারণ করা হবে। বর্ণনায় দো মুয়ই, লে ডাক আন, লে খা ফিয়েউ, নুয়েন ভ্যান লিন, ফু মি ব্রিজ, ভো চি কং, ভো নুয়েন জিয়াপ এবং হ্যানয় হাইওয়ের নাম রয়েছে।
পূর্ব দিকের সুনির্দিষ্ট সীমানা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে ফু হিউ ব্রিজ ও রিং রোড ২-এর কথা বলা হয়েছে, অন্যগুলোতে নুয়েন থি দিন, ডং ভ্যান কং ও মাই চি থোর নাম রয়েছে। তাই চূড়ান্ত প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত সীমানা-সংক্রান্ত পরিশিষ্টটি কোন সড়ক ও যাত্রাপথ এর আওতায় পড়বে তা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
পরামর্শকদের আগের এক প্রস্তাবে বৃহত্তর এলাকার আয়তন প্রায় ২৮০ বর্গকিলোমিটার ধরা হয়েছিল, যা কেন্দ্রীয় ১৫.৬ বর্গকিলোমিটারের পরীক্ষামূলক এলাকার প্রায় ১৮ গুণ। ওই পরিমাণটি আগের পরিকল্পনার অংশ; চূড়ান্ত সম্প্রসারিত এলাকার নিশ্চিত আয়তন হিসেবে একে ধরা উচিত নয়।
প্রথম পর্যায়ের মানদণ্ড কোন যানবাহনের জন্য
২০২৮ সালের শুরু থেকে ট্যাক্সি, নয়টির কম আসনের চুক্তিভিত্তিক যাত্রীবাহী যান এবং সর্বোচ্চ এক টন পণ্য বহনকারী ট্রাককে পরীক্ষামূলক এলাকায় প্রবেশের জন্য নিঃসরণ মানের লেভেল ৫ পূরণ করতে হবে। নয়টি বা তার বেশি আসনের চুক্তিভিত্তিক যান এবং যাত্রীবাহী বাসের জন্য প্রয়োজন হবে লেভেল ৪। আবর্জনা সংগ্রহে ব্যবহৃত তিন চাকার যানকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর করতে হবে।
এই লেভেলগুলো জাতীয় কারিগরি নিঃসরণ মানদণ্ডকে নির্দেশ করে। লেভেল যত উঁচু, যানবাহনের দূষক নিঃসরণের সীমা তত কঠোর। এই শর্তগুলো নিঃসরণ কার্যকারিতা নিয়ে, শুধু যানটি পেট্রল না ডিজেলে চলে তা নিয়ে নয়।
২০৩২ সাল থেকে ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য লেভেল ৫ প্রয়োজন হবে। পরিবহন ব্যবসায় নিয়োজিত নয়—এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মোটরসাইকেলের জন্য প্রয়োজন হবে লেভেল ৪।
প্রযোজ্য মানদণ্ডের নিচে থাকা যানবাহনের প্রবেশ পরদিন রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে সীমিত করা হতে পারে। এতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বদলে রাতে প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে। গৃহীত বিধিমালায় এ সময়সীমা ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট শর্ত নির্ধারণ করতে হবে।
পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো, ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য ২০৩২ সালে প্রস্তাবিত মানদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে বাণিজ্যিক পরিবহনকে কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রথম দফার শর্ত পূরণ করতে হবে। আর পরিবহন পরিচালকদের ক্ষেত্রে ২০২৮ সালের প্রবেশ-শর্ত পূরণ করা কোনো যানবাহনকেও পরবর্তী পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সময়সীমা কার্যকর হলে বদলাতে বা রূপান্তর করতে হতে পারে।
আগের প্রস্তাবের বদলে সংশোধিত সময়সূচি
২০২৮ সালের জানুয়ারিতে কার্যক্রম শুরুর প্রস্তাব আগের ২০২৭ সালের জুলাইয়ের পরীক্ষামূলক সূচির চেয়ে ছয় মাস পরে। রিং রোড ২ পর্যন্ত সম্প্রসারণও এক বছর পিছিয়ে ২০২৯ থেকে ২০৩০ সালে নেওয়া হয়েছে। শহরজুড়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির লক্ষ্য ২০৪০ থেকে পিছিয়ে ২০৪৫ করা হয়েছে।
আগের বিবরণে ১৬.৬ বর্গকিলোমিটারের পরীক্ষামূলক এলাকা, ১ লাখ ৭৬ হাজার ২০০-এর বেশি বাসিন্দা এবং প্রায় ৯৬ শতাংশ গণপরিবহন-সুবিধার কথা ছিল। সংশোধিত প্রস্তাবে আয়তন ১৫.৬ বর্গকিলোমিটার এবং ৫০০ মিটারের মধ্যে গণপরিবহন-সুবিধা পাবেন এমন বাসিন্দার হার ৯৫ শতাংশের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো পরিকল্পনার ভিন্ন সংস্করণের পরিসংখ্যান; একত্র করে একটি হিসাব হিসেবে দেখানো উচিত নয়।
যানবাহনের সময়সূচিও বদলেছে। আগের প্রস্তাবে ব্যক্তিগত গাড়ির মানদণ্ড ২০২৮ সালে, মোটরসাইকেলের মানদণ্ড ২০২৯ সালে এবং অঞ্চলের অধিকাংশ যানবাহনকে ২০৩৫ সালের মধ্যে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের কথা ছিল। সংশোধিত রূপরেখায় নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত যানবাহনের নিঃসরণ-সংক্রান্ত শর্ত ২০৩২ সালে এবং অঞ্চলের পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাধ্যবাধকতা ২০৪০ সালে কার্যকরের কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রধান মাইলফলকগুলো হলো:
- ৮ থেকে ১৭ অক্টোবর ২০২৬: খসড়া প্রস্তাবের ওপর জনমত গ্রহণ।
- ১ জানুয়ারি ২০২৭: শহরের ভেতরে চলাচলকারী বাস এবং নতুন কেনা বা প্রতিস্থাপিত সরকারি যানবাহনের জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাধ্যবাধকতা।
- ১ জানুয়ারি ২০২৮: কেন্দ্রীয় এলাকা ও থু থিয়েমে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু; একই সঙ্গে কন দাও ও থান আন-এ কঠোর নিঃসরণ সুরক্ষা অঞ্চল চালু।
- ১ জানুয়ারি ২০৩০: রিং রোড ২-এর ভেতরে সম্প্রসারণের প্রস্তাব এবং ট্যাক্সি ও অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল পরিষেবার জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাধ্যবাধকতা।
- ২০৩২: নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের জন্য নিঃসরণ মানদণ্ড কার্যকর।
- ২০৪০: নিম্ন নিঃসরণ অঞ্চলে চলাচলকারী যানবাহনের জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বাধ্যতামূলক হবে।
- ২০৪৫: বিশেষায়িত যানবাহনসহ শহরজুড়ে সব সড়কযানের জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাধ্যবাধকতা কার্যকর হবে।
গণপরিবহনের আওতা একটি শর্ত, যাতায়াতের পূর্বাভাস নয়
পরীক্ষামূলক এলাকা বাছাইয়ের একটি কারণ হলো, সেখানে ৫০০ মিটারের মধ্যে গণপরিবহন পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে—এতে এলাকার ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষ সুবিধা পাবেন। মেট্রো লাইন ১ সেখানে ইতিমধ্যে চালু আছে এবং এলাকাটি ট্রাফিক সাইন ও ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছে।
রিং রোড ২ পর্যন্ত সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত শর্ত হলো, ৫০০ মিটারের মধ্যে গণপরিবহন-সুবিধা পাবেন ৮৫ শতাংশের বেশি বাসিন্দা। তাই সম্প্রসারণের বিষয়টি নির্দিষ্ট তারিখে স্বয়ংক্রিয় পরিবর্তন হিসেবে নয়, বরং পরিষেবা-প্রাপ্যতার ওপর নির্ভরশীল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কাছাকাছি গণপরিবহন থাকা মানেই যে অধিকাংশ যাত্রা ওই পরিষেবায় হবে, তা নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে শহরজুড়ে যাতায়াতের চাহিদার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং রিং রোড ২-এর ভেতরে ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ গণপরিবহন মেটাবে বলে খসড়ায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এগুলো ভিন্ন ধরনের পরিমাপ। গণপরিবহনের আওতা বোঝায় কতজন মানুষ এর কাছাকাছি থাকেন। আর যাতায়াতের অংশ বোঝায় পরিষেবাগুলো মোট চাহিদার কতটা বহন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিং রোড ২-এর ভেতরে সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশের পূর্বাভাস ধরলেও যাতায়াতের চাহিদার প্রায় ৬৫ শতাংশ অন্য পরিবহনে মেটাতে হবে।
এই পার্থক্যটি ব্যাখ্যা করে, খসড়ায় বাস ও রেলের পাশাপাশি পার্কিং সুবিধা, যৌথ যানবাহন এবং পরিচ্ছন্নতর ব্যক্তিগত পরিবহনের কথা কেন রয়েছে। কাছাকাছি একটি স্টপ থাকলেই প্রতিটি যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় রুট, চলাচলের সময় বা ধারণক্ষমতা আছে—তা নিশ্চিত হয় না।
সাতটি রেললাইন, ৩০০টি বাস রুট ও নতুন যাতায়াত-সংযোগ সুবিধা
২০৩০ সালের মধ্যে শহরটি প্রায় ২৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সাতটি নগর রেললাইন চালু করতে এবং বাস নেটওয়ার্ক ৩০০টি রুটে সম্প্রসারণ করতে চায়। এগুলো পরিকল্পনার লক্ষ্য; নেটওয়ার্ক ইতিমধ্যে নির্মিত হয়েছে বা প্রতিটি প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে—এমন বক্তব্য নয়।
সহায়ক নেটওয়ার্কে থাকবে ১১টি পার্কিং সুবিধা, যেখানে যাত্রীরা যানবাহন রেখে গণপরিবহনে উঠতে পারবেন। পরিকল্পনায় প্রায় ৮ হাজার যৌথ ব্যবহারের সাইকেল, বৈদ্যুতিক সাইকেল ও বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের কথাও রয়েছে; এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ৩০০টি নতুন যান সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নৌ-বাস ও চাহিদা অনুযায়ী চলাচলকারী যাত্রীসেবাও বিবেচনাধীন। এ ধরনের নমনীয় পরিবহন যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী রুট বা ছাড়ার সময় বদলাতে পারে, ফলে নির্দিষ্ট বাস রুটের জন্য কম উপযোগী এলাকাগুলোর সঙ্গে সংযোগ তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি রেল পরিকল্পনায় ২০৩৫ থেকে ২০৩৯ সালের মধ্যে প্রায় ৩৫৫ কিলোমিটার, ২০৪০ সাল থেকে প্রায় ৪৩০ থেকে ৪৬০ কিলোমিটার এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে প্রায় ৫৩২ কিলোমিটার নেটওয়ার্কের পূর্বাভাস রয়েছে। বাস পরিষেবাগুলো ক্রমে যাত্রীদের রেলস্টেশনে নিয়ে যাবে এবং সেখান থেকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে।
২০৩৫ থেকে ২০৩৯ সালের মধ্যে নিম্ন নিঃসরণ অঞ্চলে প্রবেশকারী জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত যানবাহনের ওপর ফি আরোপের কথাও খসড়ায় বিবেচনা করা হয়েছে। বর্ণিত প্রস্তাবে ফি-এর কোনো পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। এ ধরনের ফি নিঃসরণভিত্তিক প্রবেশ-মানদণ্ড এবং পরবর্তী পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থেকে আলাদা হবে।
পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সময়সীমা কেন্দ্রীয় এলাকার বাইরেও কার্যকর হবে
সরকারি মতামত আহ্বানের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শহরের ভেতরে চলাচলকারী বাসকে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। সরকারি সংস্থা ও জনসেবামূলক ইউনিটের গাড়ি নতুন কেনা হলে বা প্রতিস্থাপনের সময় পরিচ্ছন্ন জ্বালানিচালিত হতে হবে।
কিছু বিবরণে বাসের রূপান্তরকে নতুন কেনা ও প্রতিস্থাপিত যানবাহনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে শহরে ইতিমধ্যে চলাচলকারী বাসের জন্য আরও বিস্তৃত ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে; অন্যদিকে সরকারি যানবাহনের ক্ষেত্রে শর্তটি স্পষ্টভাবে নতুন কেনা ও প্রতিস্থাপনের মধ্যে সীমিত। বিদ্যমান যান কত দ্রুত বদলাতে হবে, তা পরিকল্পনা করা বহর পরিচালকদের জন্য এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ।
২০৩০ সাল থেকে শহরজুড়ে যাত্রী বা পণ্য বহনকারী ট্যাক্সি ও অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল পরিষেবাকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। এরপর প্রস্তাবিত ২০৪৫ সালের সময়সীমা হো চি মিন সিটির সর্বত্র চলাচলকারী সব সড়কযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, বিশেষায়িত যানবাহনও এর অন্তর্ভুক্ত।
পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় ভৌগোলিক ভিত্তিতে পৃথক ব্যবস্থা আরও আগে চালু হবে। ২০২৮ সাল থেকে কন দাও ও থান আন-এ কঠোর নিঃসরণ সুরক্ষা অঞ্চল হবে। ২০৩০ সাল থেকে বিন খান, আন থই ডং ও কান জিও-তে নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল চালু হবে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ২০৩০ সালের পর্যায়ের জন্য ওই তিনটি স্থানের নামই রয়েছে। এক প্রতিবেদনে চারটি প্রশাসনিক এলাকার কথা বলা হলেও একই তিনটির নাম দেওয়া হয়েছে; তাই চতুর্থ কোনো স্থান নির্দিষ্ট করা হয়নি। আগের প্রস্তাবে কন দাও ও কান জিও-র সব যানবাহন যথাক্রমে ২০৩৫ ও ২০৪০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ রূপান্তরের লক্ষ্যও ছিল। ওই পুরোনো লক্ষ্যগুলোকে সংশোধিত অঞ্চলের শুরুর তারিখের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব আছে, তবে অর্থপ্রদানের বিষয় চূড়ান্ত নয়
সংশোধিত খসড়ায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানিচালিত যান কেনা এবং নিবন্ধন ব্যয়সহ সংশ্লিষ্ট কিছু খরচে সহায়তার জন্য নগর বাজেট ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে দরিদ্র ও প্রায়-দরিদ্র পরিবার, সম্প্রতি দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসা পরিবার, জীবিকার জন্য যানবাহন ব্যবহার করেন এমন মানুষ এবং যেসব এলাকার বাসিন্দাদের আগেভাগে রূপান্তর করতে হবে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে মোটরসাইকেলের প্রথম নিঃসরণ পরিদর্শনের খরচে সহায়তার প্রস্তাবও রয়েছে। অনুমোদিত স্থানে চার্জিং, জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবেশবান্ধব যানবাহনের সুবিধার জন্য সড়ক ও ফুটপাত সাময়িকভাবে বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। গণপরিবহনের সঙ্গে সংযুক্ত চার্জিং স্টেশন, পার্কিং ও যাতায়াত-সংযোগ কেন্দ্রের জন্য জমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দের কথাও বলা হয়েছে।
পরামর্শকদের আগের কাজে আরও বিস্তারিত আর্থিক হিসাব ছিল: ১০ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডংয়ের বেশি ব্যয়ের একটি মোট কর্মসূচি, প্রায়-দরিদ্র পরিবারের জন্য বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল কেনায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডং এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য ২ কোটি ডং সহায়তার প্রস্তাব, আর মোটরসাইকেলের প্রথম পরিদর্শনে প্রতি যান ১ লাখ ডং সহায়তা।
আগের ওই প্রস্তাবে যোগ্য নতুন গাড়ির নিবন্ধনে ১ কোটি ৪০ লাখ ডং এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির জন্য ৭০ লাখ ডং সহায়তার কথাও বলা হয়েছিল। আলাদা প্রস্তাবে কন দাওয়ে সাধারণ পরিবারের বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল কেনার জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮৫ লাখ ডং, থান আনে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডং এবং ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ অঞ্চলের বাইরে রূপান্তরকারী যোগ্য যাত্রীবাহী ও ডেলিভারি চালকদের জন্য ৫০ লাখ ডং সহায়তার কথা ছিল।
এগুলো পরামর্শকদের আগের কাজের প্রস্তাবিত অঙ্ক; সংশোধিত প্রস্তাবে নিশ্চিত প্রাপ্য সুবিধা নয়। সরকারি মতামত আহ্বানের বিজ্ঞপ্তিতে সহায়তার পরিমাণ, আবেদনপ্রক্রিয়া বা চূড়ান্ত বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি।
আগের চার্জিং-সুবিধা মূল্যায়নে বৃহত্তর প্রস্তাবিত এলাকার ভেতরে প্রায় ২ হাজার ৩১৪টি গাড়ির চার্জিং পয়েন্ট ও ১ হাজার ৭১৮টি ব্যাটারি বদলের ক্যাবিনেটের কথা বলা হয়েছিল। প্রয়োজন হবে আরও ৩ হাজার ৩২২টি চার্জিং পয়েন্ট ও ৮ হাজার ৯০০টি ক্যাবিনেট বলে অনুমান করা হয়েছিল। এসব পরিকল্পনার হিসাব দেখায়, যানবাহন কেনায় সহায়তা ও জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়ন একসঙ্গে এগোতে হবে।
বায়ুর মানের লক্ষ্য যানবাহনের নিঃসরণের বাইরেও বিস্তৃত
যানবাহন-সংক্রান্ত প্রস্তাবটির পাশাপাশি ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের জন্য একটি অনুমোদিত নগর বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা রয়েছে, যার লক্ষ্য ২০৪৫ সাল পর্যন্ত। পরিকল্পনায় বার্ষিক গড় PM2.5 ঘনত্ব কমানো এবং ৮০ শতাংশ দিনে বায়ুর মান ভালো বা মাঝারি রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
PM2.5 বলতে আড়াই মাইক্রোমিটারের বেশি নয়, এমন সূক্ষ্ম কণাকে বোঝায়। বায়ুমান সূচক বা AQI দূষণের পরিমাপকে বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রকাশ করে, যাতে জনসাধারণ দৈনন্দিন বায়ুর অবস্থা বুঝতে পারে। কণার বার্ষিক ঘনত্ব এবং দৈনিক AQI শ্রেণি বায়ুমানের ভিন্ন দিক পরিমাপ করে।
২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, স্টেশনভেদে ভালো ও মাঝারি বায়ুমানের দিনের হার ছিল ৬৮.৭৫ থেকে ৮৫.০৫ শতাংশ। ফলে ৮০ শতাংশের লক্ষ্য এই পরিসরের সর্বনিম্ন মানের চেয়ে ১১.২৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি, কিন্তু সর্বোচ্চ মানের চেয়ে ৫.০৫ পয়েন্ট কম। প্রতিটি পর্যবেক্ষণস্থলের জন্য এটি সমান উন্নতির মানদণ্ড নয়।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাতটি স্বয়ংক্রিয় স্টেশনের পৃথক VN_AQI পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৫৩.৫ থেকে ৮৮.৬ শতাংশ দিনে বায়ুর মান ভালো এবং ৮.৭ থেকে ৩৬.৫ শতাংশ দিনে মাঝারি ছিল। স্টেশনগুলোর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মান ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে আসতে পারে বলে এই পরিসরগুলো যোগ করে শহরজুড়ে একটি হার নির্ণয় করা যায় না।
শহর কর্তৃপক্ষের মতে, বায়ুদূষণের প্রধান উদ্বেগ ধুলা; ব্যস্ত যান চলাচলের এলাকায় কিছু পরিমাপে সীমা অতিক্রম করেছে। শুষ্ক মৌসুমে দূষণ সাধারণত বেশি থাকে এবং বছরের শেষ ও শুরুর দিকে PM2.5 প্রায়ই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
আগের পরিবহন পরিকল্পনায় পরিবহন কার্যক্রম থেকে সৃষ্ট সূক্ষ্ম কণার প্রায় ৮৮ শতাংশ সড়ক পরিবহনের কারণে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এই পরিসংখ্যান পরিবহন খাতের নিঃসরণের ভেতরে সড়ক পরিবহনের অংশ বোঝায়; শহরের মোট সূক্ষ্ম কণা দূষণের মধ্যে সড়ক পরিবহনের অংশ নয়।
বায়ুমান পরিকল্পনায় সব বড় শিল্পকারখানার নিঃসরণ উৎস ও নির্মাণস্থলের ওপর কঠোর নজরদারি, অবৈধ খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ৫০০টি ভবনে সবুজায়নের লক্ষ্য রয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৯৫ শতাংশ বাসিন্দার কাছে বায়ুমানের তথ্য পৌঁছানোর লক্ষ্যও রয়েছে।
নজরদারি এবং যেসব সিদ্ধান্ত এখনো বাকি
নিম্ন নিঃসরণ অঞ্চলে সাইনবোর্ড, নম্বর প্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরা, যানবাহনের ডেটাবেস ও নজরদারি সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এসব সরঞ্জাম জনসচেতনতা, সতর্কতা, তদারকি ও যাচাইয়ে সহায়তা করবে।
নম্বর প্লেটের সঙ্গে যানবাহনের তথ্য মেলানো আর নিঃসরণ পরিমাপ করা এক বিষয় নয়। প্রবেশের শর্ত পূরণ হয়েছে কি না নির্ধারণ করতে প্রতিটি যানবাহনের প্রযোজ্য নিঃসরণ অবস্থা ও জ্বালানির ধরন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকতে হবে।
বৃহত্তর বায়ুমান পরিকল্পনার আওতায় নিম্ন নিঃসরণ অঞ্চল নিয়ে গবেষণা ও বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নির্মাণ বিভাগকে। দূষণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং পূর্বাভাস ও সতর্কতার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
এখনো যেসব সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, তার মধ্যে রয়েছে চূড়ান্ত সীমানা, প্রবেশের বিস্তারিত শর্ত, আর্থিক সহায়তার পরিমাণ, ভবিষ্যতে প্রবেশ ফি আরোপ হবে কি না এবং বাস্তবায়নের কার্যকর ব্যবস্থা। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে মতামত দেওয়ার শেষ তারিখ রয়েছে, কিন্তু গণপরিষদে ভোটের কোনো নিশ্চিত তারিখ নেই। প্রস্তাবটি গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত বিধিনিষেধগুলো প্রস্তাবিত শর্তই থাকবে, কার্যকর নিষেধাজ্ঞা নয়।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫.৬ বর্গকিলোমিটারের কেন্দ্রীয় এলাকা ও থু থিয়েমে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রস্তাব রয়েছে।
- ট্যাক্সি, ছোট চুক্তিভিত্তিক যাত্রীবাহী যান ও ছোট পণ্যবাহী ট্রাকের জন্য শুরুতে নিঃসরণ মানের লেভেল ৫ প্রয়োজন হবে; বড় চুক্তিভিত্তিক যান ও যাত্রীবাহী বাসের জন্য প্রয়োজন হবে লেভেল ৪।
- নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মানদণ্ড ২০৩২ সালে কার্যকর হবে; প্রয়োজনীয় মানের নিচে থাকা যানবাহনের জন্য রাতে প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে।
- অবকাঠামো ও গণপরিবহনের প্রস্তুতি সাপেক্ষে ২০৩০ সাল থেকে রিং রোড ২-এর ভেতরে সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে।
- ২০৩০ সালে ট্যাক্সি ও অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল পরিষেবা, ২০৪০ সালে অঞ্চলের ভেতরের যানবাহন এবং ২০৪৫ সালে শহরের সব সড়কযানের জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাধ্যবাধকতা কার্যকর হবে।
- যান কেনা ও পরিদর্শনে সহায়তার প্রস্তাব থাকলেও চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণ ও যোগ্যতার প্রক্রিয়া নির্ধারিত হয়নি।
- বিধিনিষেধগুলো এখনো খসড়া পর্যায়ে; অন্যদিকে পৃথক একটি অনুমোদিত বায়ুমান পরিকল্পনায় শিল্প, নির্মাণের ধুলা ও খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানোর বিষয়ও রয়েছে।






