জ্বালানির দামের ধাক্কায় বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা
পেট্রোলের দাম ৬৮.৩% বেড়ে যাওয়ায় গাড়ি চালানোর খরচ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন চালকেরা। এর মধ্যে ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রির প্রায় এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও হাইব্রিডের বিক্রি। জ্বালানি বিভাগের এনার্জি ইউটিলাইজেশন ম্যানেজমেন্ট ব্যুরোর পরিচালক প্যাট্রিক টি. অ্যাকুইনোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩০% বেশি।
সূচিপত্র
- জ্বালানির দামের ধাক্কায় বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা
- প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান আসলে কী বোঝায়
- ক্রেতারা অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম লেখাচ্ছেন
- বাজারের পরিবর্তনের ব্যাপকতা দেখাচ্ছে বিওয়াইডির সরবরাহ
- চলতি খরচ কম, তবে কেনার বাধা রয়ে গেছে
- চার্জিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিলম্ব
- সরকারি নীতির রূপরেখায় তিনটি সময়সীমা
- মোটরসাইকেলে বাজারের চিত্র আলাদা
- সস্তা আমদানিতে চাপে স্থানীয় নির্মাতারা
- এক নজরে
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পেট্রোলের দাম বেড়ে যায়। সংবাদ প্রতিবেদনে উদ্ধৃত গ্লোবালপেট্রোলপ্রাইসেসের তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইনে এ দামবৃদ্ধি বিশ্বে চতুর্থ সর্বোচ্চ। আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চের পর থেকে দেশটিতে পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। হিসাব দুটির প্রারম্ভিক সময় আলাদা, তাই সরাসরি তুলনা করা যায় না। তবে দুটিই চালকদের ব্যয় তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
প্রায় সব জ্বালানি আমদানি করা, সীমিত গণপরিবহন এবং জ্বালানিতে ভর্তুকি না থাকার কারণে দেশটিতে এই চাপ বিশেষভাবে তীব্র। কাজ বা পরিবারের যাতায়াতের জন্য যাঁদের গাড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাঁদের জন্য জ্বালানি খরচ কমানো এখন তাৎক্ষণিক আর্থিক উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।
এসিমোবিলিটির মোবিলিটি অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কার্লা বুয়েনকামিনো বলেন, কোম্পানিটির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালে গাড়ি বিক্রির প্রায় এক-চতুর্থাংশ হবে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও হাইব্রিড। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ১২%, আর ২০২৪ সালে ৪%। এসিমোবিলিটি দেশটির বৃহত্তম ইভি চার্জিং নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে।
এ হিসাবে আনুমানিক হারটি ২০২৫ সালের প্রায় দ্বিগুণ এবং ২০২৪ সালের প্রায় ছয় গুণ। তবে এতে বিক্রি হওয়া গাড়ির ধরনে পরিবর্তন বোঝা যায়, ফিলিপাইনের সড়কে আগে থেকেই চলাচল করা সব গাড়ির মধ্যে এগুলোর অনুপাত নয়।
প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান আসলে কী বোঝায়
বিভিন্ন তথ্যভান্ডারে বাজারের গতি বৃদ্ধির চিত্র দেখা যায়, তবে সেগুলোর মোট সংখ্যা একে অপরের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সংবাদ প্রতিবেদনে উদ্ধৃত জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ইভি বিক্রি ছিল প্রায় ১৪ হাজার, যেখানে ২০২৫ সালের পুরো বছরে বিক্রি হয়েছিল ৩২ হাজার। শিল্পখাতের তথ্য বলছে, আগের বছরের তুলনায় প্রথম প্রান্তিকে বিক্রি ৩৬% বেড়েছে।
প্রথম প্রান্তিকের বিক্রি আগের বছরের পুরো বিক্রির প্রায় ৪৪%। এতে বছরের শুরুতে বাজারের শক্তিশালী অবস্থান বোঝা যায়, তবে ২০২৬ সালের পুরো বছরে বিক্রি কত হবে, তা এ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
আলাদা একটি নিবন্ধন-পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ইভি নিবন্ধিত হয়েছে ৬০,৯০৬টি, যা ২০২৪ সালের ২৪,২৮৬টির তুলনায় প্রায় ১৫১% বেশি। এই নিবন্ধনসংখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বিক্রির মোট সংখ্যার সঙ্গে মেলে না। দুটি ধারায় একই ধরনের যানবাহন বা গণনার পদ্ধতি ব্যবহার হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। তাই এগুলো একত্র করে একটি ধারাবাহিক পরিমাপ তৈরি করা যায় না।
বৈদ্যুতিক গাড়ি ও হাইব্রিডের পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যাটারিতে সঞ্চিত বিদ্যুতে চলে। হাইব্রিডে ইঞ্জিনের সঙ্গে বৈদ্যুতিক মোটর থাকে, তবে এটি জ্বালানিও ব্যবহার করে; কিছু হাইব্রিড বাইরের বিদ্যুৎ উৎস থেকেও চার্জ করা যায়। হাইব্রিডসহ ৬৭ হাজারের বেশি নিবন্ধনের যে তথ্য অ্যাকুইনো দিয়েছেন, তাতে হাইব্রিডও অন্তর্ভুক্ত। তাই এর অর্থ এই নয় যে ওই সব গাড়ির জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ হয়েছে।
বাজার কত দ্রুত বদলেছে, তার প্রধান মাইলফলকগুলো হলো:
- ২০২৪: ইভি নিবন্ধন ২৪,২৮৬টিতে পৌঁছায়; এসিমোবিলিটির হিসাবে গাড়ি বিক্রিতে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও হাইব্রিডের অংশ ছিল ৪%।
- ২০২৫: নিবন্ধন বেড়ে ৬০,৯০৬টিতে দাঁড়ায় এবং বিক্রিতে আনুমানিক অংশ বেড়ে হয় ১২%।
- ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক: প্রায় ১৪ হাজার ইভি বিক্রি হয়; শিল্পখাতের হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৬%।
- ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট: হাইব্রিডসহ নিবন্ধন ৬৭ হাজার ছাড়ায়, যা প্রায় ১৩০% বেশি।
ক্রেতারা অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম লেখাচ্ছেন
চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গাড়ির ডিলারদের সরবরাহসংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি বিভাগের এনার্জি ইউটিলাইজেশন ম্যানেজমেন্ট ব্যুরোর পরিচালক চতুর্থ পদমর্যাদার কর্মকর্তা হিসেবে অ্যাকুইনোর পরিচয় দপ্তরের এনার্জি ইউটিলাইজেশন ম্যানেজমেন্ট ব্যুরোর তালিকায় নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, গাড়ি হাতে পাওয়ার আগেই ক্রেতারা অর্থ জমা দিয়ে বুকিং দিচ্ছেন।
"চাহিদা ছিল আকাশছোঁয়া। তাই আপনাকে অর্ডার দিতে হয়েছে, অগ্রিম জমা দিতে হয়েছে এবং গাড়ি আসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে," তিনি বলেন।
ইভি সুপ্রিমের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মাইক লিম বলেন, তেলসংকট শুরুর পর মেট্রো ম্যানিলায় তাঁর ডিলারশিপে বিক্রি আট গুণ বেড়েছে। এটি একটি প্রতিষ্ঠানে বড় পরিবর্তনের প্রমাণ, দেশজুড়ে প্রবৃদ্ধির হার নয়।
ফিলিপাইনের ইলেকট্রিক ভেহিকল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উইলি টি টেন বলেন, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্র্যান্ডগুলো অর্ডারের সঙ্গে সরবরাহ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
"বেশির ভাগ ব্র্যান্ডের এখন অপেক্ষমাণ তালিকা আছে, কারণ কেউই (চাহিদা) এত বেশি হবে বলে ভাবেনি," তিনি বলেন।
বেইজিং ইন্টারন্যাশনাল অটো শোতে অংশ নেওয়াসহ বিদেশি নির্মাতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত গাড়ি বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা করছেন ডিলাররা। তাঁদের তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হলো ক্রেতাদের আগ্রহ ও অগ্রিম জমাকে সরবরাহ করা গাড়িতে রূপ দেওয়া। অপেক্ষমাণ তালিকা চাহিদার প্রমাণ, তবে এর অর্থ হলো জ্বালানি খরচের চাপ থেকে বাঁচতে চাওয়া কিছু চালক এখনই গাড়ি বদলাতে পারবেন না।
বাজারের পরিবর্তনের ব্যাপকতা দেখাচ্ছে বিওয়াইডির সরবরাহ
বিওয়াইডি কারস ফিলিপাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বব পালাঙ্কার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ফিলিপাইনে বিওয়াইডি ২৮,৩৯৯টি গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৯৯% বেশি।
পালাঙ্কা বলেন, কোম্পানিটি আগের পুরো বছরের বিক্রির মোট সংখ্যা ইতিমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে এবং বিক্রির গতি অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা করছে। তাঁর বক্তব্যটি কোম্পানির পূর্বাভাস, বাকি মাসগুলোর নিশ্চিত ফল নয়।
"লক্ষ্যমাত্রার চার মাস আগেই আমরা ২০২৫ সালের পুরো বছরের বিক্রির সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছি। আমরা পুরোপুরি আশা করছি, ২০২৬ সালের বাকি সময় এবং ২০২৭ সালেও এই গতি বজায় থাকবে," তিনি বলেন।
বিএমআই রিসার্চের মতে, বিওয়াইডি, চেরি ও এমজির মতো ব্র্যান্ডের আগমন বৈদ্যুতিক ও প্রচলিত গাড়ির ক্রয়মূল্যের ব্যবধান কমাতে সাহায্য করেছে। এতে ক্রেতাদের হিসাব বদলাচ্ছে: শুরুতে দামের ব্যবধান কম হলে চলতি খরচ সাশ্রয়ের আকর্ষণ বাড়ে।
বাজারে বিওয়াইডির সুনির্দিষ্ট অংশ হিসাব করতে তাদের সরবরাহের সংখ্যা জাতীয় নিবন্ধনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করা উচিত নয়। সরবরাহ ও নিবন্ধন ভিন্ন পরিমাপ, আর প্রতিবেদনে বলা সংখ্যাগুলোর আওতা অভিন্ন বলে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে একত্রে এগুলো দেখায়, এই পরিবর্তন এখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গাড়িতে পৌঁছেছে, শুধু অল্পসংখ্যক আগাম ক্রেতার মধ্যে সীমিত নেই।
চলতি খরচ কম, তবে কেনার বাধা রয়ে গেছে
ম্যানিলার বাসিন্দা রোমেল আসেরন কাজ, দৈনন্দিন প্রয়োজন ও পরিবারের যাতায়াতের জন্য এক শহর থেকে অন্য শহরে গাড়ি চালান। বৈদ্যুতিক গাড়িতে বদলানোর পর পরিবহনের জ্বালানিতে তাঁর মাসিক খরচ কমেছে। তিনি বলেন, আগে পেট্রোলের পেছনে মাসে প্রায় ৮,০০০ পেসো খরচ হতো।
"পেট্রোলে মাসে ৮,০০০ পেসো (১৩০ মার্কিন ডলার) খরচ করার বদলে এখন কয়েক শ পেসোই খরচ হচ্ছে," আসেরন বলেন।
আসেরন আরও বলেন, একবার চার্জ দিয়ে পুরো দিন গাড়ি চালানোর পরও তাঁর গাড়ির ব্যাটারিতে ৪০% থেকে ৫০% চার্জ অবশিষ্ট ছিল। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, পেট্রোলের দাম বাড়লে যাঁরা ঘন ঘন গাড়ি চালান, তাঁদের কাছে ইভি আকর্ষণীয় হতে পারে।
তবে প্রত্যেক ক্রেতার ক্ষেত্রেই সাশ্রয় নিশ্চিত নয়। তাঁর গাড়ির মডেল, চালানো দূরত্ব, বিদ্যুতের মূল্যহার বা চার্জিংয়ের ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদনে তথ্য নেই। প্রতি কিলোমিটারে তুলনাযোগ্য খরচ কিংবা বেশি ক্রয়মূল্য জ্বালানিতে সাশ্রয় দিয়ে পুষিয়ে নিতে কত সময় লাগবে, তা হিসাব করতে এসব তথ্য প্রয়োজন।
প্রচলিত গাড়ির সঙ্গে দামের ব্যবধান কমলেও বেশি প্রাথমিক মূল্য এখনো একটি বাধা। বিশেষায়িত গাড়ি ঋণ গ্রহণে উৎসাহ দেওয়ার জন্য দেওয়া প্রণোদনাগুলোর একটি, তবে ঋণ নিলে কেনার খরচ দূর হয় না। ঋণের কিস্তির সঙ্গে চলতি খরচ এবং বাসা বা কর্মস্থলে চার্জ দেওয়ার সুবিধার বাস্তবতা মিলিয়ে ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
চার্জিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিলম্ব
চার্জিং নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা আরও প্রবৃদ্ধির পথে বড় বাধা। প্রায় ৯০০টি চার্জিং স্টেশন চালু আছে, আর সরকারি রোডম্যাপে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশজুড়ে ৭ হাজারের বেশি স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আনুমানিক এই হিসাব অনুযায়ী, চালু নেটওয়ার্ক পরিকল্পিত মোট সংখ্যার ১৩%-এরও কম। লক্ষ্যে পৌঁছাতে আরও ৬,১০০টির বেশি স্টেশন যোগ করতে হবে এবং নেটওয়ার্ককে বর্তমান আকারের প্রায় আট গুণে উন্নীত করতে হবে। প্রতিটি স্টেশনের হিসাবে সমসংখ্যক আলাদা চার্জিং পয়েন্ট ধরা হয়েছে কি না, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ নেই। তাই এই মোট সংখ্যাকে সম্প্রসারণের একটি সামগ্রিক পরিমাপ হিসেবে দেখাই শ্রেয়।
অ্যাকুইনো বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চার্জিং অবকাঠামো নির্মাণে আগ্রহী, তবে নিয়ন্ত্রণবিধি ও স্বীকৃতির শর্ত পূরণ করতে গিয়ে নির্মাণ শুরুর আগেই প্রকল্পে অন্তত ছয় মাস দেরি হতে পারে। এতে সময়ের একটি সমস্যা তৈরি হয়: জ্বালানির দামে ধাক্কার পর গাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়তে পারে, কিন্তু চার্জিং সক্ষমতা অনুমোদন ও স্থাপনে বেশি সময় লাগে।
কেন্দ্রের সংখ্যার পাশাপাশি চার্জের গতিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে অনেক স্থাপনায় ধীরগতির চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। কয়েক ঘণ্টা পার্ক করে রাখা গাড়ির জন্য কোনো স্টেশন উপযোগী হতে পারে, তবে যে চালককে দ্রুত আয়ের কাজে ফিরতে হবে, তাঁর জন্য সেটি কম কার্যকর।
পরিবহন নেটওয়ার্কভুক্ত যানবাহন পরিচালনাকারী গ্লেনফোর্ড ফিলিপ আরতুজ জ্বালানি ভরা ও চার্জ দেওয়ার ব্যবহারিক পার্থক্যের কথা বলেন।
"পেট্রোল বা ডিজেল ব্যবহার আর বিদ্যুৎ ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য আছে। কারণ ব্যাটারির চার্জ কমে গেলে আপনাকে আবার চার্জ দিতে হয়, আর এতে (সময়) লাগে," তিনি বলেন।
বাণিজ্যিক চালকদের ক্ষেত্রে চার্জ দিতে যে সময় লাগে, তাতে ভাড়া থেকে আয় বন্ধ থাকতে পারে। তাই প্রস্তুতি কতটা, তা শুধু স্টেশনের সংখ্যা দিয়ে বিচার না করে চার্জিং কর্মসূচিতে স্টেশনের প্রাপ্যতা, অবস্থান ও গতি বিবেচনা করতে হবে।
সরকারি নীতির রূপরেখায় তিনটি সময়সীমা
এই রূপান্তরের পরিকল্পনায় জ্বালানি বিভাগের ব্যুরোর আনুষ্ঠানিক ভূমিকা রয়েছে। এর ইলেকট্রিক ভেহিকল ইন্ডাস্ট্রি ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন ইলেকট্রিক ভেহিকল শিল্পের জন্য সমন্বিত রোডম্যাপ, অর্থাৎ ক্রেভি, প্রণয়ন ও হালনাগাদ করে এবং স্থানীয় সরকার ইউনিট ও অন্যান্য অংশীজনকে কারিগরি সহায়তা দেয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত নীতিগত কর্মসূচির তিনটি তারিখ, যার প্রতিটির লক্ষ্য আলাদা:
- ২০২৮: ৭ হাজারের বেশি চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইভি আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতির বর্তমান মেয়াদও এ সময় শেষ হওয়ার কথা।
- ২০৩০: অ্যাকুইনোর মতে, ট্যাক্সি বহর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত গাড়ির ৫০% ইভি করার লক্ষ্য রয়েছে।
- ২০৪০: দেশের সড়কে ইভি ব্যবহারের হার ৫০%-এ নেওয়ার লক্ষ্য সরকারের।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় ২০২৮ সালের পরও আমদানি শুল্ক অব্যাহতির মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে এটি এখনো প্রস্তাব, নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়। অব্যাহতি বহাল থাকলে কেনার দাম কম রাখতে সহায়তা হতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্তের তারিখ বা চূড়ান্ত শর্ত সম্পর্কে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।
লক্ষ্যগুলো বাজারের আলাদা অংশকে নির্দেশ করে। ২০৩০ সালের লক্ষ্য ট্যাক্সি ও সরকারি গাড়ি নিয়ে, আর ২০৪০ সালের লক্ষ্য আরও বিস্তৃত। কোনোটিকেই যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রিতে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও হাইব্রিডের বর্তমান প্রায় এক-চতুর্থাংশ অংশের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। নতুন কেনাকাটায় অংশ বাড়লেই বিদ্যমান গাড়িবহরে সঙ্গে সঙ্গে একই অনুপাত তৈরি হয় না।
মোটরসাইকেলে বাজারের চিত্র আলাদা
অ্যাকুইনোর মতে, বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের প্রসার ধীর। প্রচলিত মোটরসাইকেল ও জিপনি এখনো বহুল ব্যবহৃত হওয়ায় বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির কেনাকাটা বাড়লেও পেট্রোলিয়াম জ্বালানির চাহিদা বজায় থাকছে।
এ কারণে যাত্রীবাহী গাড়ির পরিসংখ্যান থেকে জাতীয় জ্বালানি ব্যবহারের পুরো চিত্র বোঝা যায় না। ফিলিপাইনে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ নিবন্ধিত যানবাহন রয়েছে, আর এর তুলনায় প্রতিবেদনে উল্লেখিত ইভি নিবন্ধনের সংখ্যা এখনো কম। বার্ষিক নিবন্ধনকে বর্তমানে ব্যবহৃত সব ইভির সংখ্যা হিসেবেও ধরা যায় না।
অ্যাকুইনো বলেন, তুলনামূলক কম দামের বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল প্রযুক্তিটিকে আরও বেশি ক্রেতার নাগালে আনতে পারে। তিনি ভিনফাস্টের এক লাখ ফিলিপাইন পেসোর কম দামের কয়েকটি মডেলের কথা বলেন, যা বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলকে ব্যয়বহুল মনে করা ক্রেতাদের জন্য বেশি বাস্তবসম্মত বিকল্প।
স্বল্প মেয়াদে দেশটির বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের বড় অংশ আসবে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল, ট্রাইসাইকেল ও হাইব্রিড থেকে বলে ক্রেভির পূর্বাভাস। এশিয়ান ফেডারেশন অব ইলেকট্রিক ভেহিকল অ্যাসোসিয়েশনসের সভাপতি এডমন্ড আরাগাও মনে করেন, স্বল্প দূরত্বের যাতায়াত ও যাত্রার শেষ অংশে ছোট বৈদ্যুতিক যানবাহনের সম্ভাবনা বেশি।
এসব যানবাহন যাত্রীবাহী গাড়ির চেয়ে ভিন্ন প্রয়োজন মেটায়। গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই এমন মানুষের কাছে বৈদ্যুতিক যানবাহন পৌঁছাবে কি না, তা নির্ভর করতে পারে এগুলোর দাম ও দৈনন্দিন স্থানীয় যাতায়াতের উপযোগিতার ওপর। তাই মোটরসাইকেলের ধীর প্রবৃদ্ধি বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারের বিস্তার এবং জ্বালানি খরচ কমানোর সম্ভাবনা, দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।
সস্তা আমদানিতে চাপে স্থানীয় নির্মাতারা
বৈদ্যুতিক পরিবহনকে সাশ্রয়ী করে তুলতে সাহায্য করা আমদানি করা যানবাহনই ফিলিপাইনের নির্মাতাদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। আরাগা বলেন, বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ও ট্রাইসাইকেলের দেশীয় নির্মাতারা সস্তা চীনা আমদানির সঙ্গে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুঁজি, সীমিত অর্থায়ন এবং দুর্বল বিতরণ নেটওয়ার্কের সমস্যায় রয়েছে।
৬০ বিলিয়ন পেসোর ইলেকট্রিক ভেহিকল ইনসেনটিভ স্ট্র্যাটেজি নিয়ে নীতিগত মতবিরোধ রয়েছে। ফিলিপাইনে গাড়ি নির্মাতাদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে নেওয়া এই কর্মসূচি থেকে দুই বা তিন চাকার বৈদ্যুতিক যানবাহন বাদ দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন টি টেন।
বিনিয়োগ বোর্ডের প্রধান সেফেরিনো রদলফো চার চাকার গাড়িকে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ও ট্রাইসাইকেল তৈরির ভিত্তি দেশটিতে আগে থেকেই রয়েছে। আরাগার অবস্থান হলো, এসব প্রতিষ্ঠিত নির্মাতার সম্প্রসারণ ও প্রতিযোগিতার জন্য এখনো সহায়তা প্রয়োজন।
এই মতবিরোধে ক্রেতাদের জন্য দাম কমানো এবং দেশীয় উৎপাদন গড়ে তোলার মধ্যে একটি বাস্তব টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়। আমদানি প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে গাড়িকে সাশ্রয়ী রাখতে সহায়তা হতে পারে, অন্যদিকে স্থানীয় নির্মাতাদের মতে, বাড়তে থাকা বাজারে অংশ নিতে পুঁজি পাওয়া ও শক্তিশালী বিতরণ নেটওয়ার্ক জরুরি।
ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণেও অগ্রগতি সমান নয়। প্রতিবেদনভুক্ত মূল্যায়নে চার চাকার যানবাহন স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারের লক্ষ্যের ৫৪.৬% অর্জন করেছে। এই হারটি একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের বিপরীতে অগ্রগতি বোঝায়, সড়কের সব যানবাহনের মধ্যে তাদের অংশ নয়।
পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো নির্দিষ্ট: ডিলাররা পর্যাপ্ত গাড়ি পাবে কি না, চার্জিং প্রকল্প অনুমোদন পেরিয়ে এগোবে কি না, আমদানি শুল্ক অব্যাহতির মেয়াদ বাড়বে কি না এবং ছোট বৈদ্যুতিক যানবাহন আরও বেশি চালকের সাধ্যের মধ্যে আসবে কি না। শুল্ক অব্যাহতির মেয়াদ বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ বা ডিলারদের অপেক্ষমাণ তালিকা পুরোপুরি সামলানোর নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি।
এক নজরে
- ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলার পর পেট্রোলের দাম ৬৮.৩% বেড়েছে, উদ্ধৃত মূল্যতথ্য অনুযায়ী।
- ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত হাইব্রিডসহ ইভি নিবন্ধন ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩০% বেশি।
- এসিমোবিলিটির হিসাবে গাড়ি বিক্রিতে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও হাইব্রিডের অংশ প্রায় এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি; ২০২৫ সালে তা ছিল ১২% এবং ২০২৪ সালে ৪%।
- ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিওয়াইডি ২৮,৩৯৯টি গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা ৯৯% বৃদ্ধি।
- প্রায় ৯০০টি চার্জিং স্টেশন চালু আছে; ২০২৮ সালের মধ্যে ৭ হাজারের বেশি স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
- ২০৩০ সালের মধ্যে ট্যাক্সি ও সরকারি গাড়ির বহরে ৫০% ইভি ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে; ২০৪০ সালের জন্য সড়কে আরও বিস্তৃত ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারিত।
- ২০২৮ সালের পর আমদানি শুল্ক অব্যাহতির মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, তবে তা নিশ্চিত হয়নি।
- বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের প্রবৃদ্ধি ধীর, আর সস্তা আমদানির চাপে রয়েছেন স্থানীয় নির্মাতারা।






