ফ্রান্সের জ্বালানির দাম নতুন কারখানার সম্ভাবনা তৈরি করেছে
২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বিলম্বিত হাঙ্গেরি কারখানায় উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতির পাশাপাশি নতুন গাড়ির কারখানার স্থান হিসেবে ফ্রান্সকে গভীরভাবে বিবেচনা করছে বিওয়াইডি। ১২ অক্টোবর প্যারিস মোটর শোর উদ্বোধনে পরিকল্পনার কথা জানান নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টেলা লি। তিনি বলেন, চীনা নির্মাতা ইউরোপে দ্বিতীয় ও তৃতীয় কারখানা স্থাপন করতে চায়।
সূচিপত্র
- ফ্রান্সের জ্বালানির দাম নতুন কারখানার সম্ভাবনা তৈরি করেছে
- সময়সূচি বদলের পর আগে আসছে হাঙ্গেরি
- আর কতটি অতিরিক্ত কারখানার পরিকল্পনা?
- ফ্রান্সের বিদ্যুতের আকর্ষণ কোথায়?
- বিক্রির প্রবৃদ্ধিতে সম্প্রসারণের বাণিজ্যিক ভিত্তি
- বাণিজ্যনীতি তাগিদ বাড়াচ্ছে, তবে বিস্তারিত এখনো অনিশ্চিত
- স্থানীয় পরিচয় মানে শুধু সংযোজন লাইন নয়
- প্যারিসে বিওয়াইডির প্রচারের আরেক দিক দ্রুত চার্জিং
- মূল বিষয়গুলো
ফ্রান্স সম্ভাব্য স্থানগুলোর সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছে, তবে বিনিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দেশটি বিবেচনার একটি কারণ হিসেবে প্রতিযোগিতামূলক জ্বালানির দামের কথা বলেছেন লি। তবে ফ্রান্সের কারখানার জন্য কোনো পৌরসভা, বিনিয়োগের পরিমাণ, উৎপাদন সক্ষমতা বা চালুর তারিখ ঘোষণা করেননি তিনি। তাঁর বক্তব্যে এটিও নিশ্চিত হয়নি যে প্রস্তাবিত দুই অতিরিক্ত কারখানাই ফ্রান্সে হবে।
বিওয়াইডির আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের নেতৃত্বে থাকা লি সরাসরি ভাষায় এর আকর্ষণ ব্যাখ্যা করেন:
আপনাদের জ্বালানির দাম খুবই প্রতিযোগিতামূলক, তাই ফ্রান্স সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছে,
চীনা নির্মাতারা ইউরোপের ভেতরে আরও বেশি গাড়ি উৎপাদনের চাপে থাকায় এই অনুসন্ধান চলছে। স্থানীয় উৎপাদনের শর্ত ও বাণিজ্য বিধিনিষেধ নিয়ে ইউরোপের সরকারগুলোতে বিতর্ক চলছে। উৎপাদন, গবেষণার কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং স্থানীয় বিক্রেতাদের সহায়তাসহ দ্রুত বাড়তে থাকা বিক্রিকে দীর্ঘস্থায়ী শিল্পভিত্তিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টাও করছে বিওয়াইডি।
তাৎক্ষণিক পরীক্ষা এখনো হাঙ্গেরি। আগের বিলম্বের পর সেজেদে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদন শুরুর কথা রয়েছে। ফলে প্যারিসে ঘোষণাটি সম্প্রসারণ পরিকল্পনার বিবৃতি, বিওয়াইডির পূর্ণাঙ্গ কার্যকর ইউরোপীয় উৎপাদন নেটওয়ার্ক থাকার নিশ্চয়তা নয়। হাঙ্গেরিতে সফলভাবে উৎপাদন শুরু হলে লির বর্ণিত বৃহত্তর উৎপাদন কৌশলের জন্য কোম্পানিটি প্রথম বাস্তব ভিত্তি পাবে।
সময়সূচি বদলের পর আগে আসছে হাঙ্গেরি
সেজেদে কারখানায় প্রথমে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গাড়ি উৎপাদন শুরুর কথা ছিল। পরে সময়সূচি পিছিয়ে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে নেওয়া হয়; সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চতুর্থ প্রান্তিকে উৎপাদন শুরুর আশা করা হচ্ছে। এই শেষ সময়সীমাকে আরেক দফা বিলম্ব বলা হলে সতর্কতা প্রয়োজন: অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরও আগে ঘোষিত দ্বিতীয়ার্ধের মধ্যেই পড়ে।
২০২৬ সালের শুরুতে লন্ডনে বিওয়াইডির কার্যালয় পরিদর্শনের সময় লি হাঙ্গেরিকে কোম্পানির প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং বলেন, সেখানে এখনো যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছে। অক্টোবরের মন্তব্যেও বছরের শেষের আগে কারখানা চালুর প্রত্যাশা বজায় ছিল। তবে সুনির্দিষ্ট উৎপাদন শুরুর তারিখ দেওয়া হয়নি, কিংবা কারখানাটি কখন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উৎপাদনে পৌঁছাবে তাও নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রতিবেদনগুলোতে যে ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে:
- সেপ্টেম্বর ২০২৫: হাঙ্গেরিতে উৎপাদন শুরুর প্রাথমিক লক্ষ্য।
- ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধ: বিলম্বের পর সংশোধিত উৎপাদন সময়সীমা।
- জুন ২০২৬: প্রতিবেদনে উৎপাদন শুরুর সম্ভাব্য সময় চতুর্থ প্রান্তিক বলা হয়; যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছিল।
- ১২ অক্টোবর ২০২৬: হাঙ্গেরিতে বছরের শেষের আগে উৎপাদন শুরুর সূচি বহাল থাকলেও প্যারিসে লি ইউরোপে আরও কারখানা নিয়ে আলোচনা করেন।
সেজেদেতে প্রথম সংযোজনের জন্য ডলফিন সার্ফ শহুরে গাড়িটি প্রত্যাশিত, এরপর আসবে অ্যাটো ২ এসইউভি। আরও দুটি মডেলের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে সেগুলোর পরিচয় জানানো হয়নি। কারখানাটির লক্ষ্য বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩ লাখ গাড়ি। এটি পরিকল্পিত সর্বোচ্চ উৎপাদনসীমা, প্রথম বছরের পূর্বাভাস নয়, কিংবা ক্রেতাদের চাহিদা ইতিমধ্যে ওই পরিমাণে পৌঁছেছে তার প্রমাণও নয়।
আর কতটি অতিরিক্ত কারখানার পরিকল্পনা?
লির প্যারিসের মন্তব্যের সবচেয়ে স্পষ্ট বিবরণে বলা হয়েছে, হাঙ্গেরির পর ইউরোপে আরও দুটি কারখানা হবে, ফলে মোট নেটওয়ার্ক দাঁড়াবে তিনটিতে। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত কারখানা হতে পারে দুই থেকে তিনটি। বর্ণনাগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, আর এ অসংগতি মেটানোর মতো বিস্তারিত বিনিয়োগ সূচি নেই।
এই সম্প্রসারণের জন্য ফ্রান্স বিবেচনায় রয়েছে, তবে প্রস্তাবিত কোনো কারখানাই সেখানে হবে কি না, তা ঘোষণা করা হয়নি। পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: কোনো দেশের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা স্থান খোঁজার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি, কিন্তু এতে জমি নিশ্চিত হওয়া, অনুমতির আবেদন করা বা নির্মাণ অনুমোদনের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় না।
তুরস্কে আলাদা একটি কারখানা প্রকল্প স্থগিত রাখা হয়েছে। আগের প্রতিবেদনগুলোতে বিওয়াইডির কোনো বিদ্যমান, স্বল্প ব্যবহৃত ইউরোপীয় গাড়ি উৎপাদনকেন্দ্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও তোলা হয়েছিল। ফ্রান্স নিয়ে আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত এমন কোনো স্থাপনা অধিগ্রহণ বা ব্যবহারের চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।
ফ্রান্সের বিদ্যুতের আকর্ষণ কোথায়?
ফ্রান্স বিবেচনার পক্ষে লির দেওয়া সবচেয়ে নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কারণ হলো জ্বালানি। গাড়ির কারখানায় নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ প্রয়োজন, আর সেখানে ব্যাটারি উৎপাদন হলে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। বিওয়াইডির কার্যক্রমে ব্যাটারি ও সম্পূর্ণ গাড়ি দুটোই রয়েছে, তাই শিল্পক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্তে বিদ্যুতের খরচ প্রাসঙ্গিক।
একটি প্রতিবেদনে ফ্রান্সে প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম ৯০ ইউরো, আর জার্মানিতে ১২০ ইউরোর বেশি বলা হয়েছে। ওই দরে ফ্রান্সের দাম অন্তত ২৫% কম। তবে তুলনায় চুক্তির মেয়াদ, গ্রাহকের ধরন, নেটওয়ার্ক চার্জ ও করের হিসাব কীভাবে করা হয়েছে, তা উল্লেখ নেই। এটি আকর্ষণের একটি ইঙ্গিত, ভবিষ্যৎ বিওয়াইডি কারখানার যাচাই করা বিদ্যুৎ বিল নয়।
জলবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎসের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে ফ্রান্সের বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্বন নিঃসরণও তুলনামূলক কম। কারখানা নিয়ে আলোচনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বিদ্যুতের কার্বন তীব্রতা প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৫০ গ্রামের নিচে। পাশাপাশি ২০২৭ সালে ইউরোপে পরিকল্পিত ব্যাটারির কার্বন পদচিহ্ন-সংক্রান্ত শর্তের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানকে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক ফলাফলের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়। ব্যাটারির জন্য নির্ধারিত নির্গমন শুধু শেষ কারখানার বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে না; উপকরণ ও উৎপাদনের অন্যান্য ধাপও এর অন্তর্ভুক্ত। ফ্রান্সে ব্যাটারি কারখানার ঘোষণা দেননি লি, আর বিস্তারিত কোনো ফরাসি উৎপাদন পরিকল্পনাও নেই, যা থেকে বোঝা যাবে কোন কার্যক্রম স্থানীয়ভাবে হবে।
তাই প্রতিযোগিতামূলক বিদ্যুতের দাম ফ্রান্স বিবেচনায় থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে। তবে তা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে না, কিংবা সেখানে তৈরি গাড়ির চূড়ান্ত খরচ ও কার্বন পদচিহ্নও নির্ধারণ করে না।
বিক্রির প্রবৃদ্ধিতে সম্প্রসারণের বাণিজ্যিক ভিত্তি
ইউরোপীয় অটোমোবাইল নির্মাতাদের সমিতির সূত্রে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপে বিওয়াইডির বিক্রি ২০২৪ সালের ৫০ হাজার ৯১২টি গাড়ি থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৫৭টিতে পৌঁছায়। বৃদ্ধি ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪৫টি গাড়ি, বা প্রায় ২৬৯%। ২০২৫ সালের মোট বিক্রি আগের বছরের প্রায় ৩.৭ গুণ।
বিওয়াইডির ফরাসি ব্যবসাও তুলনামূলক ছোট ভিত্তি থেকে দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালে বিক্রি দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৩১১টি গাড়ি, যা প্রতিবেদনে ১৫০% বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ নাগাদ ফ্রান্সে ১৮ হাজারের বেশি গাড়ি বিক্রি করেছে কোম্পানিটি। এতে ২০২৫ সালের পুরো বছরের বিক্রিকে অন্তত ৩ হাজার ৬৮৯টি গাড়ি বা প্রায় ২৬% ছাড়িয়ে গেছে।
এই তুলনার সীমাবদ্ধতা রয়েছে: ২০২৬ সালের আট মাসের বিক্রি দিয়ে পুরো বছরের চূড়ান্ত প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা যায় না। তবে এতে দেখা যায়, ডিসেম্বরের অনেক আগেই কোম্পানিটি আগের বছরের মোট বিক্রি ছাড়িয়েছে।
ওই সময়ে ফরাসি বাজারে বিওয়াইডির অংশ ছিল প্রায় ১.৫%। ফ্রান্সের অটোমোবাইল শিল্প সংস্থা পিএফএর সূত্রে দেওয়া পরিসংখ্যানে সংশ্লিষ্ট সময়ে স্টেলান্টিসের বিক্রি ৩ লাখ ৭১ হাজার ৯১৩টি এবং রেনোর ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪৩৫টি; বিওয়াইডির চেয়ে অনেক বেশি।
হাঙ্গেরি কারখানার পরিকল্পিত ৩ লাখ গাড়ির উৎপাদন সক্ষমতা ২০২৫ সালে বিওয়াইডির ঘোষিত ইউরোপীয় বিক্রির চেয়ে প্রায় ৬০% বেশি। এগুলো ভিন্ন ধরনের পরিমাপ, একটি উৎপাদন সক্ষমতা, অন্যটি বিক্রি। তবে তুলনাটি দেখায়, বিনিয়োগটি কোম্পানির বর্তমান বার্ষিক উৎপাদনের সমপরিমাণ গাড়ি তৈরির জন্য নয়, বরং আরও প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে।
বাণিজ্যনীতি তাগিদ বাড়াচ্ছে, তবে বিস্তারিত এখনো অনিশ্চিত
ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাক্সিলারেটর অ্যাক্ট এবং নির্মাতাদের অঞ্চলের ভেতরে আরও উৎপাদনের সম্ভাব্য শর্ত নিয়ে ইউরোপে বিতর্কের পাশাপাশি এই স্থান অনুসন্ধান চলছে। এমন নিয়মে ইউরোপে আমদানি করা গাড়ি বিক্রি এবং সেখানে নিয়মের আওতাভুক্ত শিল্পকার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে পার্থক্য করা হবে।
বিওয়াইডির জন্য এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় কারখানা এমন একটি বাজারে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন কার্যক্রম সৃষ্টি করতে পারে, যেখানে কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত মূলত গাড়ি বিক্রির মাধ্যমে সম্প্রসারিত হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট কার্যক্রম ভবিষ্যৎ নিয়ম পূরণ করবে কি না, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত আইনের এবং স্থানীয় উৎপাদন ও উপাদানের সংজ্ঞার ওপর।
প্যারিস শোর আগের শুক্রবার ঘোষণা করা হাইব্রিড গাড়ি ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি সীমিত রাখার একটি চীনা অঙ্গীকারের কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বার্ষিক আমদানির সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার গাড়ি বলা হয়েছে, যা আগে ছিল ৮ লাখ। অন্য প্রতিবেদনগুলোতে সংখ্যাগত সীমা উল্লেখ না করে সংযমের কথা বলা হয়েছে।
ওই সংখ্যাগুলোর সঙ্গে কোনো প্রকাশিত চুক্তি বা আইনি নথি নেই। লি বলেন, কোম্পানি ঘোষণাটির কথা শুনেছে, তবে বিস্তারিত এখনো জানে না। তাই নির্দিষ্ট কোটার সংখ্যাগুলোকে চূড়ান্ত নীতি হিসেবে দেখা উচিত নয়; বিওয়াইডির পৃথক মডেলগুলোর ওপর এর প্রভাব কী হবে, তাও নির্ধারণ করা যায় না।
লির বক্তব্যে নিয়ন্ত্রক টানাপোড়েনকে ইউরোপে বিওয়াইডির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের তুলনায় সাময়িক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এটি কোম্পানির অবস্থান, বাণিজ্য বিধিনিষেধের প্রভাব সামান্য হবে তার নিশ্চয়তা নয়। চূড়ান্ত নিয়মে বিওয়াইডি স্থানীয়ভাবে কোন গাড়ি তৈরি করবে, যন্ত্রাংশ কোথা থেকে সংগ্রহ করবে এবং অতিরিক্ত কারখানাগুলো কত দ্রুত বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হবে, তা প্রভাবিত হতে পারে।
স্থানীয় পরিচয় মানে শুধু সংযোজন লাইন নয়
লির উচ্চাকাঙ্ক্ষা সীমান্ত পেরিয়ে উৎপাদন স্থানান্তরের চেয়ে বিস্তৃত। প্যারিসে তিনি উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের কথা বলেন। স্থানীয় বিক্রেতাদের সহায়তা এবং ফরাসি ক্রেতারা যেন কোম্পানিটিকে ফরাসি ব্র্যান্ড হিসেবে বিবেচনা করেন, সেই আকাঙ্ক্ষার কথাও জানান।
এটি ব্যবসাটিকে মানুষ কীভাবে দেখবে, সে বিষয়ে আকাঙ্ক্ষা; মালিকানা বা করপোরেট জাতীয়তা পরিবর্তনের ঘোষণা নয়। বিওয়াইডি এখনো চীনা কোম্পানি। ইউরোপীয়রা যেন ১০ বছরের মধ্যে এটিকে ইউরোপীয় ব্র্যান্ড হিসেবে দেখে, এমন লক্ষ্যও আলাদাভাবে জানিয়েছেন লি।
এই প্রচেষ্টায় কোম্পানিটি উৎপাদনের ব্যাপক অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। গাড়ির পাশাপাশি ব্যাটারিও তৈরি করে তারা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার বহু ধাপের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। অটোমোটিভ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেভের সহপ্রতিষ্ঠাতা জামেল তাগানজা বলেছেন, এই নিয়ন্ত্রণ বিওয়াইডিকে খরচ সামলাতে এবং সরবরাহ-ঘাটতির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
বিশ্বজুড়ে কোম্পানিটির পরিসর ইতিমধ্যে বড়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে তাদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি ছিল ২২ লাখ ৬০ হাজার, যেখানে টেসলার ছিল ১৬ লাখ ৪০ হাজার। এই পরিসংখ্যান শুধু সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ির, বিওয়াইডির বিক্রি করা সব ধরনের গাড়ির নয়। এই শ্রেণিতে বিওয়াইডি প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার গাড়িতে এগিয়ে।
চীনে তীব্র প্রতিযোগিতা ও মূল্যছাড় নির্মাতাদের ওপর চাপ তৈরি করার মধ্যেই ইউরোপে প্রবৃদ্ধি ঘটছে। তাগানজা বলেছেন, চীনের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার কারণে রপ্তানি বাড়ানোর প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। বিওয়াইডির প্রস্তাবিত ইউরোপীয় কারখানাগুলো এই আন্তর্জাতিক কৌশলকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে; সীমান্ত পেরিয়ে গাড়ি পাঠানোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ক্রেতাদের কাছাকাছি উৎপাদন করবে।
প্যারিসে বিওয়াইডির প্রচারের আরেক দিক দ্রুত চার্জিং
শোর সপ্তাহে প্যারিসে ফ্ল্যাশ চার্জিং প্রযুক্তিও দেখানোর পরিকল্পনা করেছিল বিওয়াইডি। কোম্পানির দাবি, কয়েক মিনিটেই এই ব্যবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিসর পুনরুদ্ধার করা যায়। ইউরোপীয় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টায় চার্জিংয়ের গতিও আরেকটি দিক।
প্রযুক্তি চালুর সময়কাল নিয়ে প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একটি প্রতিবেদনে সুপার ই প্ল্যাটফর্মের উপস্থাপনা ২০২৫ সালের বলে উল্লেখ করে পাঁচ মিনিটে সর্বোচ্চ ৪৭০ কিলোমিটার অতিরিক্ত চলার পরিসরের দাবির কথা বলা হয়েছে। অন্য একটি প্রতিবেদন উন্নত চীনা বিক্রির সঙ্গে ২০২৬ সালের মার্চে ফ্ল্যাশ চার্জিং চালুর যোগসূত্র করেছে। এগুলো একই ব্যবস্থা, হালনাগাদ সংস্করণ নাকি চালুর বিভিন্ন ধাপ, তা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এই চার্জিং ব্যবস্থায় বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন হওয়ার বিষয়টি থেকে বোঝা যায়, চার্জিং সরঞ্জাম ও বিদ্যুৎ সংযোগ কেন গুরুত্বপূর্ণ। ৮০ কিলোওয়াট ঘণ্টা শক্তি পাঁচ মিনিটে সরবরাহ করতে গড়ে ৯৬০ কিলোওয়াট লাগবে, চার্জিংয়ের ক্ষতি হিসাব করার আগেই। এক ঘণ্টার এক-দ্বাদশাংশ দিয়ে ৮০ কিলোওয়াট ঘণ্টাকে ভাগ করলে এই হিসাব পাওয়া যায়।
এটি উদাহরণমূলক হিসাব, পাঁচ মিনিটে প্রতিটি বিওয়াইডি গাড়ি এত শক্তি গ্রহণ করতে পারে তার প্রমাণ নয়। বাস্তব কর্মক্ষমতা নির্ভর করে গাড়ি, ব্যাটারির অবস্থা, চার্জ শুরুর মাত্রা এবং চার্জারের ওপর। ফ্রান্সে এই ব্যবস্থা চালুর সময়সূচি, নেটওয়ার্কের আকার বা বিদ্যুৎ গ্রিডে বিনিয়োগের বাজেটও ঘোষণা করা হয়নি।
কারখানা কৌশলের ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপগুলো আরও নির্দিষ্ট: সেজেদেতে উৎপাদন শুরু, আরেকটি ইউরোপীয় কারখানার স্থান ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ ও মডেলের বিস্তারিত প্রকাশ। ফ্রান্সের সিদ্ধান্তের কোনো সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। প্যারিসের মন্তব্যে আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হলেও মূল বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো এখনো অমীমাংসিত।
মূল বিষয়গুলো
- স্টেলা লি ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ বলেন, প্রতিযোগিতামূলক জ্বালানির দামের কারণে ফ্রান্স বিওয়াইডির কারখানার সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছে।
- বিওয়াইডি ইউরোপে দ্বিতীয় ও তৃতীয় কারখানা খুঁজছে, তবে ফ্রান্সে কোনো স্থান বা বিনিয়োগ নিশ্চিত করেনি।
- আগের বিলম্বের পর ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে হাঙ্গেরির সেজেদে কারখানায় উৎপাদন শুরুর কথা রয়েছে।
- হাঙ্গেরি কারখানার লক্ষ্য বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩ লাখ গাড়ি; প্রথমে ডলফিন সার্ফ উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- ইউরোপে বিক্রি ২০২৪ সালের ৫০ হাজার ৯১২টি গাড়ি থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৫৭টিতে পৌঁছেছে।
- ইউরোপের ভবিষ্যৎ উৎপাদন বিধি এবং হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে কথিত বিধিনিষেধ এখনো গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা।
- ফ্রান্সের কারখানার চালুর তারিখ, মডেল বরাদ্দ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।






