ব্যয়বহুল স্পট রিজার্ভ ঠেকাতে ১৪ অক্টোবর থেকে স্থগিতাদেশ
বাজারের মাধ্যমে স্ট্যান্ডবাই বিদ্যুৎ কেনায় ভোক্তাদের ব্যয় বাড়ছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছে ফিলিপাইনের এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (ERC) ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর রাত ১২টা ৫ মিনিট থেকে রিজার্ভ বাজারের কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে। শুধু ভিসায়াসেই ২০২৫ সালে রিজার্ভ বাজার থেকে কেনাকাটার পরিমাণ ছিল ১৯.৫৯ বিলিয়ন পেসো (P), যা বিদ্যুতের দরে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় (kWh) ১.২৯ পেসো যোগ করেছে। চুক্তিবদ্ধ রিজার্ভের ক্ষেত্রে এ সংযোজন ছিল প্রতি kWh-এ ০.০২ পেসো।
সূচিপত্র
- ব্যয়বহুল স্পট রিজার্ভ ঠেকাতে ১৪ অক্টোবর থেকে স্থগিতাদেশ
- কোনটি বন্ধ হচ্ছে, কোনটি চালু থাকছে
- সিদ্ধান্তের পেছনে আঞ্চলিক ব্যয়ের হিসাব
- দামের সর্বোচ্চ সীমা কমিয়েও কেন সমাধান হয়নি
- রিজার্ভের ঘাটতি শনাক্তে ৩০ দিন
- বিকল্প ব্যবস্থার উদাহরণ সেবুর ব্যাটারি চুক্তি
- সরবরাহ বাড়লেও জ্বালানির দাম বেড়েছে
- দামের ব্যবধান বোঝায় সঞ্চালন সংযোগ
- রিজার্ভ চার্জ কমলেই পুরো বিলের হিসাব মেটে না
- ২০২৪ সালে চালুর পর প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় স্থগিতাদেশ
- মূল বিষয়
এই পদক্ষেপে স্পট রিজার্ভের বাণিজ্যিক ডিসপ্যাচ ও নিষ্পত্তি বন্ধ হচ্ছে, বিদ্যুতের স্পট বাজার নয়। অনুমোদিত চুক্তির আওতায় আগে থেকে নিশ্চিত করা রিজার্ভের কার্যক্রম চলবে। ন্যাশনাল গ্রিড করপোরেশন অব দ্য ফিলিপাইনস (NGCP), ফিলিপাইন ইলেকট্রিসিটি মার্কেট করপোরেশন (PEMC) এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইলেকট্রিসিটি মার্কেট অপারেটর অব দ্য ফিলিপাইনসকে (IEMOP) ছয় মাসের মধ্যে নতুন করে নকশা করা রিজার্ভ বাজারের প্রস্তাব দিতে হবে।
ERC-এর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ, ছয় মাসের সময়সীমা প্রস্তাব দেওয়ার জন্য; লেনদেন ফের শুরুর নিশ্চিত তারিখ নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, তারা এ পদক্ষেপের বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের (DOE) সঙ্গে সমন্বয় করেছে।
ERC-এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্রান্সিস স্যাটারনিনো সি. হুয়ান বলেন, বাজারের পূর্ণ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে, বিশেষ করে ভিসায়াসে, দাম উচ্চপর্যায়ে থাকায় এটি সাময়িক পদক্ষেপ।
হুয়ান বলেন, “এটি সংশোধনমূলক ও সাময়িক হস্তক্ষেপ, রিজার্ভ বাজার থেকে সরে আসা নয়।”
তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো গ্রিড স্থিতিশীল রাখতে পর্যাপ্ত স্ট্যান্ডবাই সক্ষমতা বজায় রেখে আনুষঙ্গিক সেবা খরচ থেকে ব্যয়বহুল স্পট রিজার্ভ কেনার ব্যয় বাদ দেওয়া। এতে পরিবারের মোট বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে কি না, তা উৎপাদন ব্যয়, অবশিষ্ট রিজার্ভ চার্জ এবং বিলের অন্যান্য উপাদানের ওপরও নির্ভর করবে।
কোনটি বন্ধ হচ্ছে, কোনটি চালু থাকছে
আনুষঙ্গিক সেবার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যবহৃত স্ট্যান্ডবাই সক্ষমতা এবং অন্যান্য সেবা। কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে বা চাহিদা বদলালে এগুলো গ্রিডকে সাড়া দিতে সহায়তা করে। বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নিয়মিত কেনা বিদ্যুতের সঙ্গে এগুলো এক নয়।
NGCP রিজার্ভ বাজার অথবা আনুষঙ্গিক সেবা সংগ্রহ চুক্তির (ASPAs) মাধ্যমে এসব সেবা পেতে পারে। এ চুক্তিগুলোর আওতায় অনুমোদিত দরে সেবাদাতাদের কাছ থেকে সক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা রিজার্ভ বাজারে WESM-এর মাধ্যমে রিজার্ভ কেনাবেচার সুযোগ রয়েছে।
IEMOP-এর ট্রেডিং অপারেশনস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসিদ্রো ই. কাচো জুনিয়র বলেন, অক্টোবরে স্থগিতাদেশটি স্পট রিজার্ভের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, চুক্তিবদ্ধ রিজার্ভ চালু থাকবে। স্পট রিজার্ভ অংশের সময়সূচি নির্ধারণ ও ডিসপ্যাচ বন্ধ হবে।
সাময়িক ব্যবস্থার বিবরণে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছু পার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিজার্ভ সংগ্রহ সীমিত থাকবে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় থাকা সক্ষমতায়। অন্য একটি বিবরণে ওই চুক্তির আওতায় না থাকা চাহিদা মেটানোর বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট ‘মাস্ট-রান’ সক্ষমতার কথাও বলা হয়েছে; এ ক্ষেত্রে খরচ পুনরুদ্ধারের ভিত্তিতে অর্থ দেওয়া হবে। রিজার্ভ বাজারের দর থেকে আয় করার বদলে নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে এ সক্ষমতাকে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্পট কেনাকাটা বন্ধ হলেও গ্রিডের রিজার্ভের প্রয়োজন শেষ হয় না। বিদ্যমান চুক্তি এবং নির্দিষ্ট সক্ষমতাকে ওই কার্যগত চাহিদা মেটাতে হবে।
সিদ্ধান্তের পেছনে আঞ্চলিক ব্যয়ের হিসাব
ERC-এর পর্যালোচনায় ২০২৫ সালে বাজার থেকে কেনা রিজার্ভ ও চুক্তিবদ্ধ রিজার্ভের ব্যয়ে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। লুজনে রিজার্ভ বাজারে ব্যয় হয়েছে ২৪.৫৩ বিলিয়ন পেসো, যা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া আনুষঙ্গিক সেবার ব্যয়ের দ্বিগুণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিসায়াসে ব্যয় হয়েছে ১৯.৫৯ বিলিয়ন পেসো, আর মিন্দানাওয়ে ৩.৭১ বিলিয়ন পেসো।
তিন অঞ্চলে রিজার্ভ বাজারে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৪৭.৮৩ বিলিয়ন পেসো। এর প্রায় ৫১ শতাংশ লুজনে এবং প্রায় ৪১ শতাংশ ভিসায়াসে। মোট ব্যয় লুজনে সবচেয়ে বেশি হলেও, বিদ্যুতের দরে বিশেষভাবে তীব্র প্রভাবের ইঙ্গিত দেয় ভিসায়াসের হিসাব।
ভিসায়াসে প্রতি kWh-এ ১.২৯ পেসোর প্রভাব চুক্তিবদ্ধ রিজার্ভের জন্য আরোপিত প্রতি kWh-এ ০.০২ পেসোর তুলনায় ৬৪.৫ গুণ। সেখানে রিজার্ভের দাম প্রতি kWh-এ প্রায় ২১ পেসোতে পৌঁছেছিল। রিজার্ভ সেবার ক্রয়মূল্য এবং ভোক্তার বিলে এর অবদান আলাদা পরিমাপ। তাই ২১ পেসোকে পরিবারের ব্যবহৃত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সঙ্গে যোগ হওয়া অর্থ হিসেবে বোঝা উচিত নয়।
মিন্দানাওয়ের ক্ষেত্রে তুলনাটি আরও জটিল। সেখানে রিজার্ভ বাজারে ৩.৭১ বিলিয়ন পেসো ব্যয় হয়েছে, যা ASPA-এর আওতায় খরচ হওয়া ৩.৯০ বিলিয়ন পেসোর চেয়ে ১৯০ মিলিয়ন পেসো কম, অর্থাৎ প্রায় ৪.৯ শতাংশ কম। তবু ERC বলেছে, তিন অঞ্চলেই ভোক্তাদের বিদ্যুৎ দরের ওপর বাজারের প্রভাব বেশি ছিল। সংশ্লিষ্ট পরিমাণ ও ব্যয় বণ্টনের বিস্তারিত ছাড়া শুধু মোট ব্যয়ের হিসাব থেকে বিলের ওপর আপেক্ষিক প্রভাব নির্ধারণ করা যায় না।
প্রতিবেদনে আলাদাভাবে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মিন্দানাওয়ে রিজার্ভের গড় দাম ছিল প্রতি kWh-এ ২১.১১ পেসো, যা ২০২৪ সালের শেষ দিকে ছিল ৪.৩৯ পেসো। অর্থাৎ আগের মাত্রার তুলনায় প্রায় ৪.৮ গুণ। এই রিজার্ভের দামকে মিন্দানাওয়ের সেপ্টেম্বরের WESM জ্বালানির দাম—প্রতি kWh-এ ১২.৬১ পেসো—এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
দামের সর্বোচ্চ সীমা কমিয়েও কেন সমাধান হয়নি
বাজার স্থগিত করার আগে নিয়ন্ত্রকেরা রিজার্ভ অফারের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় (MWh) ৩২ হাজার পেসো থেকে ২৫ হাজার পেসোতে নামিয়েছিলেন। এক MWh সমান ১,০০০ kWh হওয়ায় এই সীমা প্রতি kWh-এ যথাক্রমে ৩২ ও ২৫ পেসোর সমান। হ্রাসের পরিমাণ ছিল প্রায় ২১.৯ শতাংশ, কিন্তু ERC বলেছে, এতে সমস্যার সমাধান হয়নি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি দামের পাশাপাশি চুক্তি-সংক্রান্ত উদ্বেগও তুলে ধরেছে: স্পট বাজারে বেশি অর্থ পাওয়ায় সেবাদাতারা কম দামে দৃঢ় ASPA চুক্তি করতে নিরুৎসাহিত হয়েছেন। ফলে রিজার্ভের চাহিদা মেটাতে অস্থির বাজারদরের কেনাকাটার ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
দামের সর্বোচ্চ সীমা অফারের অনুমোদিত সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করে। কিন্তু শুধু এ সীমা নির্ধারণ করলেই চুক্তির আওতায় পর্যাপ্ত সক্ষমতা নিশ্চিত হয় না, বা দামকে ওই সীমার কাছাকাছি রাখার কারণগুলোও দূর হয় না। তাই নির্দেশিত পুনর্নকশায় শুধু মূল্যসীমা আরেক দফা সমন্বয়ের চেয়ে বিস্তৃত বিষয় রয়েছে: রিজার্ভের চাহিদা, সংগ্রহের নিয়ম এবং ভোক্তাদের ওপর ব্যয় বণ্টনের পদ্ধতি।
ভবিষ্যতে রিজার্ভের চাহিদার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সংগ্রহের ব্যবস্থাও চায় ERC, যাতে ব্যাটারি স্টোরেজ ও অন্যান্য নমনীয় সক্ষমতাসহ বিনিয়োগে সহায়তা মেলে। চ্যালেঞ্জ হলো, গ্রিডের প্রয়োজনীয় সম্পদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্য অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা করা, কিন্তু স্থগিতাদেশের কারণ হওয়া ভোক্তা-ব্যয়ের উচ্চ হার আবার তৈরি না করা।
রিজার্ভের ঘাটতি শনাক্তে ৩০ দিন
বিদ্যমান ব্যবস্থায় যে রিজার্ভের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না, তা যাচাই করে ৩০ দিনের মধ্যে ‘মাস্ট-রান’ সক্ষমতা নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে NGCP-কে। ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া পূর্বাভাস ব্যবহার করে সম্পূর্ণ রিজার্ভ চাহিদার জন্য চুক্তি করতেও হবে।
NGCP, PEMC ও IEMOP-কে দেওয়া ছয় মাসের পুনর্নকশার দায়িত্ব থেকে এই কাজটি আলাদা। অপেক্ষাকৃত কম সময়সীমার কাজটি তাৎক্ষণিক কার্যগত ঘাটতি মোকাবিলার জন্য; দীর্ঘ সময়সীমার কাজটি বাজারের কাঠামো নিয়ে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা নির্দেশনায় এসব সময়সীমার নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার তারিখ দেওয়া হয়নি এবং স্থগিতাদেশ শেষ হওয়ারও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই। রিজার্ভের কতটা চাহিদা অপূর্ণ রয়েছে, কোন কোন স্থাপনাকে নির্দিষ্ট করা হবে এবং খরচ পুনরুদ্ধারে কত অর্থ দিতে হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।
হুয়ান বলেন, সংগ্রহ ও ভোক্তার ওপর ব্যয় আরোপের নিয়ম বদলানোর সময় ERC ও DOE চুক্তিবদ্ধ এবং ‘মাস্ট-রান’ রিজার্ভ চালু রাখতে চায়। পুনরায় চালু হওয়া বাজারের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঘোষিত লক্ষ্যও তিনি তুলে ধরেন।
হুয়ান বলেন, “ভালো নকশা এবং ভোক্তাদের বহনক্ষম দামে নির্ভরযোগ্য রিজার্ভ সরবরাহ নিশ্চিত করে বাজারকে আরও শক্তিশালীভাবে ফিরিয়ে আনতেই আমরা এখন এটি স্থগিত করছি।”
বিকল্প ব্যবস্থার উদাহরণ সেবুর ব্যাটারি চুক্তি
সেবুতে ERC-এর আলাদা একটি অনুমোদন দৃঢ় রিজার্ভ চুক্তির দিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্যোগের উদাহরণ। লাপু-লাপু সিটির ম্যাকতানে NGCP ও ইস্ট এশিয়া ইউটিলিটিজ করপোরেশনের (EAUC) মধ্যে পাঁচ বছরের ASPA-র জন্য কমিশন সাময়িক অনুমোদন দিয়েছে।
EAUC-এর ৪৪.৭২ মেগাওয়াটের ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম থেকে সর্বোচ্চ ১৩ মেগাওয়াট নিয়ন্ত্রণমূলক রিজার্ভ এবং ১৩ মেগাওয়াট আপৎকালীন রিজার্ভ পাওয়া যাবে। নিয়ন্ত্রণমূলক রিজার্ভ সরবরাহ ও চাহিদার নিয়মিত পরিবর্তন সামাল দিতে সহায়তা করে; আপৎকালীন রিজার্ভ উৎপাদন হঠাৎ বন্ধ হলে গ্রিডকে সহায়তা করে। ব্যাটারি উভয় প্রয়োজনেই দ্রুত সাড়া দিতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিসায়াসে দৃঢ় রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪০ মেগাওয়াট নিয়ন্ত্রণমূলক রিজার্ভ, যেখানে চাহিদা ৬৭ মেগাওয়াট; এবং ৬৭.৩ মেগাওয়াট আপৎকালীন রিজার্ভ, যেখানে চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াট। এ হিসাবে ঘাটতি যথাক্রমে ২৭ ও ৭.৭ মেগাওয়াট। চুক্তি অনুযায়ী দৃঢ় সক্ষমতা সরবরাহের জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে এবং তা করতে ব্যর্থ হলে জরিমানা দিতে হবে।
EAUC-এর ১৩ মেগাওয়াট নিয়ন্ত্রণমূলক রিজার্ভ ওই হিসাবের সঙ্গে যোগ হলে এবং পুরো সক্ষমতা পাওয়া গেলে ঘাটতি কমে ১৪ মেগাওয়াট হবে। আপৎকালীন রিজার্ভে তাদের অবদান উল্লিখিত ৭.৭ মেগাওয়াট ঘাটতির চেয়েও বেশি হবে। তবে সময়সূচি ও সক্ষমতার প্রাপ্যতার ওপরই নির্ভর করবে গ্রিড বাস্তবে কতটা রিজার্ভ ব্যবহার করতে পারবে।
উভয় সেবার জন্য সাময়িক দর প্রতি kWh-এ ৫.২৮ পেসো, যা ভিসায়াসের রিজার্ভ বাজারের প্রায় ২১ পেসো-প্রতি-kWh বেঞ্চমার্কের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। তুলনাটি সেবার ঘোষিত দর অনেক কম হওয়ার ইঙ্গিত দেয়; পরিবারের বিলে একই অনুপাতে নিশ্চিতভাবে হ্রাসের নয়।
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত ভিসায়াসে ১২৩ বার হলুদ ও লাল সতর্কতা জারি হয়েছিল। হুয়ান বলেন, অতিরিক্ত দৃঢ় রিজার্ভ সতর্কতা ও বিঘ্নের আশঙ্কা কমাতে পারে বলে আবেদনটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সরবরাহ বাড়লেও জ্বালানির দাম বেড়েছে
রিজার্ভ বাজার স্থগিতের পাশাপাশি জ্বালানির দামও বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, আনুষঙ্গিক সেবার চার্জ কমলেও মোট বিল একই অনুপাতে কমবে, এমন নয়। ২৬ আগস্ট থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের বিলিং সময়ে সিস্টেমে WESM-এর গড় দাম প্রতি kWh-এ ৭.২১ পেসো থেকে বেড়ে ৭.৪৩ পেসো হয়েছে, অর্থাৎ ৩.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গড় সরবরাহ ২.৪ শতাংশ বেড়ে ২০,২০৯ মেগাওয়াট হয়েছে, আর চাহিদা ১.৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪,১৮৮ মেগাওয়াটে। IEMOP-এর জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক রিকা ও. কাগনায়ো বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের অচলাবস্থা, গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং উচ্চ ভোল্টেজ ডাইরেক্ট কারেন্ট (HVDC) বিদ্যুৎ প্রবাহের পরিবর্তনে দামের এ ওঠানামা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আলাদাভাবে গড় সরবরাহ মার্জিন ৩,৯৫৭ মেগাওয়াট বলা হয়েছে, যা আগস্টে ছিল ৩,৭৭৯ মেগাওয়াট। এই মার্জিন সরবরাহ ও চাহিদার ঘোষিত মোট পরিমাণের সরল বিয়োগফল—৬,০২১ মেগাওয়াট—এর সমান নয়। হিসাবের ভিত্তি ব্যাখ্যা করা হয়নি, তাই দুটি পরিমাপকে একই অর্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।
লুজনে দাম ৫.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি kWh-এ ৪.৯০ পেসো থেকে ৫.১৮ পেসো হয়েছে। সরবরাহ ৪.৩ শতাংশ বেড়ে ১৫,১১৪ মেগাওয়াট হয়েছে এবং চাহিদা ২.৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯,৮৯৯ মেগাওয়াটে। সরবরাহের অবস্থান উন্নত হলেও বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের অচলাবস্থায় দাম বেড়েছে।
ভিসায়াসে সরবরাহ ২,২০১ মেগাওয়াটে অপরিবর্তিত ছিল, আর চাহিদা ০.২ শতাংশ বেড়ে ২,০৯৯ মেগাওয়াট হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের অচলাবস্থা, অপারেটরদের হস্তক্ষেপ এবং হলুদ ও লাল সতর্কতার মধ্যে দাম ৫.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি kWh-এ ১১.৮১ পেসো থেকে ১২.৪২ পেসো হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের অচলাবস্থায় অঞ্চলটিতে সর্বোচ্চ ৭৭৭.২ মেগাওয়াট সক্ষমতা অনুপলভ্য ছিল।
দামের ব্যবধান বোঝায় সঞ্চালন সংযোগ
এক অঞ্চলে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ থাকলেই তা সব সময় অন্য অঞ্চলে পৌঁছানো যায় না, যেখানে বিদ্যুতের প্রয়োজন রয়েছে। HVDC আন্তঃসংযোগ গ্রিডগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ সরায়, কিন্তু পরিচালনাগত সীমা স্থানান্তর কমিয়ে দিতে পারে এবং সস্তা বিদ্যুৎকে অন্য অঞ্চলের দাম কমাতে বাধা দিতে পারে।
সেপ্টেম্বরের বিলিং সময়ের ৭৭.৬ শতাংশ সময় লুজুন-ভিসায়াস সংযোগে আঞ্চলিক দামের পার্থক্য ছিল। সিস্টেমের নিরাপত্তার কারণে সীমিত পরিচালনার সময় ছিল মোট সময়ের ৭৩.৫ শতাংশ। জাতীয় গড় সরবরাহ বাড়লেও ভিসায়াসে জ্বালানির দাম লুজুনের তুলনায় অনেক বেশি থাকার কারণ ব্যাখ্যায় এ পরিস্থিতিগুলো সহায়ক।
মিন্দানাও-ভিসায়াস সংযোগ বিলিং সময়ের ৯২.৮২ শতাংশ সময় বাধাহীন বিদ্যুৎ প্রবাহের আওতায় ছিল, যা আগস্টে ছিল ৯১.১৬ শতাংশ। বেশি বিদ্যুৎ স্থানান্তরে দুই অঞ্চলের দামের ব্যবধান কমেছে: মিন্দানাওয়ে গড় দাম ছিল প্রতি kWh-এ ১২.৬১ পেসো, যা ভিসায়াসের চেয়ে মাত্র ০.১৯ পেসো বেশি।
মিন্দানাওয়ে দাম প্রতি kWh-এ ১২.৭৯ পেসো থেকে ১.৪ শতাংশ কমেছে, আর বিদ্যুৎকেন্দ্রের অচলাবস্থায় ১,০২২.৬ মেগাওয়াট সক্ষমতা অনুপলভ্য ছিল। সরবরাহ ও চাহিদার পরিবর্তন নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে মতভেদ রয়েছে। একটি বিবরণে সরবরাহ ০.২ শতাংশ কমে ২,১৯০ মেগাওয়াট এবং চাহিদা ৫ শতাংশ কমে ২,৮৯৩ মেগাওয়াট বলা হয়েছে। অন্য একটি বিবরণে শতাংশের পরিবর্তন উল্টো করে বলা হয়েছে, সরবরাহ কমেছে ৫ শতাংশ এবং চাহিদা ০.২ শতাংশ। উভয় বিবরণেই সরবরাহ ও চাহিদা কমার কথা বলা হলেও সঠিক পরিবর্তন স্পষ্ট করা দরকার।
কাচো বলেন, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ফের চালু হলে ভিসায়াসে জ্বালানির দাম প্রতি kWh-এ ৯ থেকে ১০ পেসোর দিকে নামতে পারে, তবে হ্রাস খুব বেশি নাও হতে পারে। এ পূর্বাভাস জ্বালানির প্রাপ্যতা নিয়ে, রিজার্ভ লেনদেন স্থগিতের নিশ্চিত ফল নয়।
রিজার্ভ চার্জ কমলেই পুরো বিলের হিসাব মেটে না
স্পট রিজার্ভের অর্থপ্রদান বন্ধ হলে বিতরণ সংস্থা ও বিদ্যুৎ সমবায়গুলোর ওপর আরোপিত আনুষঙ্গিক সেবা চার্জ কমবে বলে আশা করছেন কাচো। সঞ্চালন চার্জে তাৎক্ষণিক প্রভাবের কথা তিনি বলেছেন।
কাচো বলেন, “কার্যত সঞ্চালন চার্জ কমবে, কারণ রিজার্ভ বাজারের জন্য আর অর্থ দিতে হবে না।”
চুক্তিবদ্ধ রিজার্ভের ব্যয় বহাল থাকবে, আর ‘মাস্ট-রান’ ব্যবস্থায় খরচ পুনরুদ্ধারের জন্য অর্থপ্রদান লাগতে পারে। সাধারণ পরিবারের জন্য কতটা ব্যয় কমবে বা বিলের কোন সময় থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে কোনো পরিমাণগত হিসাব বা নিশ্চিত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
সেপ্টেম্বরের জ্বালানি-সংক্রান্ত পরিসংখ্যানও দেখায়, স্পট বাজারের অংশ কমলেই নিষ্পত্তির স্পট মূল্য কমবে, এমন নয়। লেনদেনের পরিমাণে স্পটের অংশ ১৩.৪ শতাংশ থেকে কমে ১২.২ শতাংশ হয়েছে, অথচ কার্যকর স্পট নিষ্পত্তি মূল্য প্রতি kWh-এ ৮.৪৮ পেসো থেকে বেড়ে ৯.৩২ পেসো হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ১৩.৯৪ বিলিয়ন পেসো থেকে বেড়ে ২৬.৬২ বিলিয়ন পেসো হয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসের মিশ্রণও বদলেছে। মোট উৎপাদনের ২৮ শতাংশ এসেছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে। কয়লার অংশ ৫৬ শতাংশ থেকে কমে ৫১.৭ শতাংশ হয়েছে; প্রাকৃতিক গ্যাসের অংশ ছিল ১৭ শতাংশ, জলবিদ্যুতের ১১.৩ শতাংশ, সৌরশক্তির ৫.৩ শতাংশ এবং ভূতাপীয় জ্বালানির ৮.৩ শতাংশ। বিদ্যুৎকেন্দ্রের অচলাবস্থা ও সঞ্চালন সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি এ পরিবর্তনগুলো ঘটেছে, তাই শুধু এগুলো দিয়ে দাম বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করা যায় না।
২০২৪ সালে চালুর পর প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় স্থগিতাদেশ
রিজার্ভ বাজারের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর কিছুদিন পর আগেও একবার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। আগের স্থগিতাদেশের কারণ ছিল মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে ERC-এর শর্ত পূরণ না হওয়া; তখন রিজার্ভের ব্যয় দীর্ঘদিন বেশি থাকার একই যুক্তি দেওয়া হয়নি।
- জানুয়ারি ২০২৪: রিজার্ভ বাজারের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়।
- ২৬ মার্চ ২০২৪: ERC রিজার্ভ লেনদেন স্থগিত করে; তবে তার সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত ASPA-এর আওতায় প্রস্তাবিত ও ডিসপ্যাচ করা রিজার্ভ এর বাইরে ছিল।
- ২৬ জুলাই ২০২৪: ERC-এর একটি রেজল্যুশন নোটিশে বলা হয়, PEMC ও IEMOP নির্দেশনা মেনে চলায় স্থগিতাদেশের কারণ আর নেই।
- ৩০ জুলাই ২০২৪: WESM প্রাইস ডিটারমিনেশন মেথডোলজির বিলিং ও নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত ধারা ৮-এর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের কথা ERC ঘোষণা করে।
- ১৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১২টা ৫ মিনিট: স্পট রিজার্ভ কার্যক্রমে সর্বশেষ স্থগিতাদেশ শুরুর কথা IEMOP জানায়।
২০২৪ সালের প্রক্রিয়ায় ফেব্রুয়ারি ও মার্চের বিলিং সময়ে রিজার্ভ লেনদেনের পরিমাণ নতুন করে হিসাব করতে এবং মার্চের অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ সমন্বয় করতে IEMOP-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে সময়ের ERC চেয়ারপারসন মনালিসা ডিমালান্তা ব্যাখ্যা করেছিলেন, কার্যক্রম পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ DOE-এর হাতে ছিল, আর ERC মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করছিল; কার্যক্রম পুনরায় শুরুর কার্যকর তারিখ DOE ঘোষণা করার কথা ছিল।
ফিলিপাইন ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন ২০২৪ সালে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারকে জ্বালানি নিরাপত্তার পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিল। এর সভাপতি অ্যান এসকোরো মন্টেলিবানো ১৮,১৩২ মেগাওয়াট স্থাপিত গ্রিড সক্ষমতার ২৮টি বিদ্যুৎ কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করেন। সর্বশেষ স্থগিতাদেশে বিনিয়োগকারীদের আস্থা, সাশ্রয়ী মূল্য এবং নির্ভরযোগ্য রিজার্ভ সরবরাহকে পুনর্নকশার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
মূল বিষয়
- ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর রাত ১২টা ৫ মিনিট থেকে ERC-এর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্পট রিজার্ভের ডিসপ্যাচ ও নিষ্পত্তি স্থগিত থাকবে।
- চুক্তিবদ্ধ রিজার্ভ চালু থাকবে; অপূর্ণ চাহিদা মেটানোর বিকল্প হিসেবে ‘মাস্ট-রান’ সক্ষমতার কথাও বলা হয়েছে।
- ২০২৫ সালে লুজুন, ভিসায়াস ও মিন্দানাওয়ে রিজার্ভ বাজার থেকে কেনাকাটার মোট পরিমাণ ছিল ৪৭.৮৩ বিলিয়ন পেসো।
- ভিসায়াসে রিজার্ভ বাজারের কারণে প্রতি kWh-এ ১.২৯ পেসো ব্যয় যোগ হয়েছিল; চুক্তিবদ্ধ রিজার্ভের ক্ষেত্রে তা ছিল ০.০২ পেসো।
- রিজার্ভের চাহিদা যাচাইয়ে NGCP-কে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে; আর NGCP, PEMC ও IEMOP-কে ছয় মাসের মধ্যে পুনর্নকশার প্রস্তাব দিতে হবে।
- সেবুর ব্যাটারি চুক্তিতে সাময়িক দর প্রতি kWh-এ ৫.২৮ পেসো। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৩ মেগাওয়াট করে নিয়ন্ত্রণমূলক ও আপৎকালীন রিজার্ভ দেওয়া যাবে।
- সেপ্টেম্বরে WESM-এর জ্বালানির দাম জাতীয়ভাবে বেড়ে প্রতি kWh-এ ৭.৪৩ পেসো হয়েছে। রিজার্ভ বাজার স্থগিতের ফলে পরিবারের বিল কতটা কমবে এবং কখন কমবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি।






