রেকর্ডসংখ্যক দর্শক ও শেষ রাতে হিটের দ্বৈরথ
দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া বেসবল অর্গানাইজেশন (কেবিও) ১২ অক্টোবর ২০২৬ সালের নিয়মিত মৌসুম শেষ করেছে। ৭২০টি ম্যাচে মোট দর্শক ছিল ১২,৭৭০,৫৫১ জন। শেষ ম্যাচে লটে জায়ান্টসের ব্যাটার ভিক্টর রেয়েস চারটি হিট করে মৌসুমে ২১১ হিটের নতুন রেকর্ড গড়েন। ২০২৫ সালের ১২,৩১২,৫১৯ জনের আগের রেকর্ডের চেয়ে দর্শক বেড়েছে ৪৫৮,০৩২ জন, অর্থাৎ প্রায় ৩.৭ শতাংশ।
সূচিপত্র
- রেকর্ডসংখ্যক দর্শক ও শেষ রাতে হিটের দ্বৈরথ
- যেভাবে দর্শকসংখ্যা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল
- আট ক্লাবের মাঠে দর্শকসংখ্যা ১০ লাখ ছাড়াল
- অনলাইনের ক্লিপ দর্শকদের স্টেডিয়ামে টেনেছে
- সপ্তাহের কর্মদিবসের দর্শক, টেলিভিশন ও নিয়ম পরিবর্তন
- শেষ ম্যাচ পর্যন্ত চলা লড়াইয়ে রেয়েসের জয়
- দশকের পর দশক ধরে গড়া পাওয়ার রেকর্ড
- কাং ও রিউয়ের ক্যারিয়ারে প্রথম
- রিলিফ পিচিং ও গতিতেও নতুন মাইলফলক
- শুরুর ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতা, এরপর প্লে-অফ
- এক নজরে
শেষ তিনটি ম্যাচের টিকিটই শেষ হয়ে যায়। সিউলের জামসিল বেসবল স্টেডিয়ামে দোসানের বিপক্ষে লটে ম্যাচ দেখতে আসেন ২৩,৭৫০ জন, দেগুর দেগু স্যামসাং লায়ন্স পার্কে স্যামসাং-কে-টি ম্যাচে ২৪,০০০ জন এবং গোয়াংজুর গোয়াংজু-কিয়া চ্যাম্পিয়নস ফিল্ডে কিয়া-এলজি ম্যাচে ২০,৫০০ জন। এই তিন ম্যাচে মোট ৬৮,২৫০ দর্শক যোগ হওয়ায় মৌসুমে টিকিট শেষ হওয়া ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৪৫-এ, যা আগের ৩৩১ ম্যাচের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।
প্রতি ম্যাচে গড় দর্শকসংখ্যা রেকর্ড ১৭,৭৩৭-এ পৌঁছায়; আগের বছর তা ছিল ১৭,১০১। সূচির প্রায় অর্ধেক ম্যাচের টিকিট শেষ হয়ে যায়: ৭২০টির মধ্যে ৩৪৫টি, অর্থাৎ ৪৭.৯ শতাংশ। আসন পূর্ণতার হার ছিল ৮৫.৪ শতাংশ, যা দেখায় যে দর্শকের চাহিদা শুধু পূর্ণ আসনের ম্যাচেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
ලিগে বড় দর্শকসমাগম আরও অনেক ক্লাবের মাঠে দেখা গেছে। প্রথমবারের মতো ১০টি ক্লাবের মধ্যে আটটি নিজেদের মাঠে ১০ লাখের বেশি দর্শক টেনেছে। সাতটি ক্লাব নিজেদের দর্শকসংখ্যার রেকর্ড গড়েছে।
মাঠের খেলায় রেয়েস ও কে-টির চোই ওন-জুনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পাশাপাশি কাং মিন-হো, রিউ হিউন-জিন, চোই হিয়ং-উ এবং আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার-সাফল্যও ছিল। এসব অর্জন সাফল্যের ভিন্ন ভিন্ন দিক তুলে ধরে: এক মৌসুমের পারফরম্যান্স, বহু মৌসুম ধরে ধারাবাহিকতা এবং ক্যারিয়ার রেকর্ড গড়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী সক্ষমতা।
যেভাবে দর্শকসংখ্যা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল
দর্শকসংখ্যার রেকর্ড মৌসুমজুড়েই গড়ে উঠেছে, শেষ দিকে হঠাৎ দর্শক বেড়ে যাওয়ার কারণে নয়। ২৮ মার্চ মৌসুম শুরুর পর ১০ এপ্রিল, অর্থাৎ ১৪তম দিনে এবং ৫৫টি ম্যাচ শেষে কেবিওতে দর্শকসংখ্যা ১০ লাখ ছাড়ায়। ২০২৫ সালে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে ৬০টি ম্যাচ লেগেছিল; এবার পাঁচ ম্যাচ কম লেগেছে।
প্রথমার্ধে ৪২৪টি ম্যাচে দর্শকসংখ্যা ছিল ৭,৬৩৩,৭৭৫। এরপর প্রতি ১০ লাখের ধাপে দর্শকসংখ্যা রেকর্ড দ্রুততায় পৌঁছায়। ২৬ আগস্ট ৫৬৫টি ম্যাচ শেষে দর্শকসংখ্যা ১ কোটি ছাড়ায়; আগের বছর লেগেছিল ৫৮৭টি ম্যাচ।
- ২৮ মার্চ: নিয়মিত মৌসুম শুরু।
- ১০ এপ্রিল: ৫৫টি ম্যাচ শেষে দর্শকসংখ্যা ১০ লাখ ছাড়ায়।
- ২৬ আগস্ট: ৫৬৫টি ম্যাচ শেষে দর্শকসংখ্যা ১ কোটি ছাড়ায়।
- ১২ সেপ্টেম্বর: ৬২৬টি ম্যাচ শেষে দর্শকসংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ ছাড়ায়।
- ১ অক্টোবর: ৬৮৪টি ম্যাচ শেষে দর্শকসংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখ ছাড়ায়।
- ৫ অক্টোবর: ৬৯৯টি ম্যাচ শেষে দর্শকসংখ্যা ১২,৩৬২,০০০-এ পৌঁছে, যা ২০২৫ মৌসুমের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।
- ১২ অক্টোবর: শেষ তিনটি ম্যাচের পর দর্শকসংখ্যা দাঁড়ায় ১২,৭৭০,৫৫১-এ।
৫ অক্টোবরের পরিসংখ্যান ছিল অন্তর্বর্তী হিসাব, মৌসুমের চূড়ান্ত মোটের বিকল্প নয়। তখন প্রতি ম্যাচে গড় দর্শকসংখ্যা ছিল ১৭,৬৮৫, আসন পূর্ণতার হার ৮৫.২ শতাংশ এবং ৩৩০টি ম্যাচের টিকিট শেষ হয়েছিল। সূচি শেষ হওয়ার আগে তিনটি পরিমাপই বেড়েছে।
আট ক্লাবের মাঠে দর্শকসংখ্যা ১০ লাখ ছাড়াল
এলজি, হানহওয়া, এসএসজি, স্যামসাং, কে-টি, লটে, কিয়া ও দোসান—প্রতিটি ক্লাবের নিজেদের মাঠে দর্শকসংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। লিগের ৮০ শতাংশ ক্লাব এই মাইলফলকে পৌঁছেছে, যা দেখায়, রেকর্ডটি শুধু কয়েকটি বড় স্টেডিয়ামের দর্শকের ওপর নির্ভরশীল ছিল না।
লিগে স্যামসাংয়ের দর্শকসংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ, যদিও সঠিক মোট নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে অমিল রয়েছে। মৌসুমের অধিকাংশ সারসংক্ষেপে সংখ্যা ১,৭১৭,০৫০ বলা হয়েছে, যা তাদের আগের ১,৬৪০,১৭৪ জনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। অন্য একটি প্রতিবেদনে সংখ্যা ১,৭১০,৭৫০, অর্থাৎ ৬,৩০০ কম। উভয় হিসাবেই স্যামসাংয়ের দর্শকসংখ্যা ১৭ লাখের বেশি এবং ক্লাবটি শীর্ষে।
বেশি প্রচারিত ১,৭১৭,০৫০ সংখ্যাটি ধরলে স্যামসাংয়ের মাঠে দর্শক বেড়েছে ৭৬,৮৭৬ জন, অর্থাৎ প্রায় ৪.৭ শতাংশ। দোসানের দর্শকসংখ্যা দাঁড়ায় ১,৫০৭,৫২২-এ। প্রথমবারের মতো ১৫ লাখ ছাড়িয়ে তারা ফ্র্যাঞ্চাইজি রেকর্ড গড়ে।
অন্যান্য ক্লাবের রেকর্ডের মধ্যে রয়েছে এলজির ১,৬২২,২৩৮, কিয়ার ১,২৯৯,৩৮৮ এবং কে-টির ১,০২২,৯৭২ জন দর্শক। ৯৩৫,৮৪৯ জন নিয়ে কিহুম এবং ৯০২,৯০৫ জন নিয়ে এনসিও ফ্র্যাঞ্চাইজি রেকর্ড গড়েছে, যদিও তাদের দর্শকসংখ্যা ১০ লাখের নিচে ছিল। এই হিসাব থেকেই বোঝা যায়, রেকর্ড গড়া ক্লাবের সংখ্যা এবং ১০ লাখ দর্শকের মাইলফলক পেরোনো ক্লাবের সংখ্যা এক নয়।
দোসানের মাইলফলকটি এসেছে পরিবর্তনের এক সন্ধিক্ষণে। মৌসুম শেষে জামসিল বেসবল স্টেডিয়াম ভেঙে ফেলার কথা রয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। সেখানে নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচটি পূর্ণ দর্শকসমাগমের মধ্যে শেষ হয়; রেয়েসের রেকর্ড তাড়া করে এগিয়ে যাওয়াও দেখেন দর্শকেরা।
অনলাইনের ক্লিপ দর্শকদের স্টেডিয়ামে টেনেছে
কেবিওর এক জরিপে দেখা গেছে, সম্পাদিত ম্যাচের ভিডিও দেখার মাধ্যমে অনেক দর্শকের মাঠে খেলা দেখতে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের সম্প্রচার-স্বত্ব চুক্তির পর থেকে লিগ অনলাইন ভিডিওতে ম্যাচের দৃশ্য ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৭.০ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা পুনর্ব্যবহৃত ম্যাচের ভিডিও দেখেছেন। সবচেয়ে বেশি দেখা হয়েছে হাইলাইটের সংকলন, ৫০.৮ শতাংশ; এরপর ছিল হাস্যরসাত্মক বা বিনোদনমূলক ক্লিপ, ৩৪.২ শতাংশ, এবং ভক্তদের তৈরি ভিডিও, ৩২.৩ শতাংশ। অংশগ্রহণকারীরা একাধিক বিভাগ বেছে নিতে পেরেছেন।
নিয়মিত স্টেডিয়ামে যাওয়া শুরুর আগে এ ধরনের ভিডিও দেখা উত্তরদাতাদের মধ্যে ৬৭.২ শতাংশ বলেছেন, ভিডিওগুলো মাঠে যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। ২০-এর কোঠার বয়সীদের মধ্যে এ হার ৭২.৩ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ৬৯.১ শতাংশ। এগুলো উত্তরদাতাদের নিজস্ব ধারণার হিসাব; নির্দিষ্টসংখ্যক টিকিট কেনার কারণ যে ভিডিও, তার প্রমাণ নয়। জরিপের বিবরণে নমুনার আকার বা উত্তরদাতারা সামগ্রিক দর্শকগোষ্ঠীর কতটা প্রতিনিধিত্ব করেছেন তা যাচাই করার মতো পদ্ধতিগত তথ্যও নেই।
লিগের নিজস্ব অনলাইন চ্যানেলগুলোর দর্শকও বেড়েছে। সেপ্টেম্বর নাগাদ কেবিওর ইউটিউব চ্যানেলের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৫ লাখে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ২১.৬ শতাংশ বেশি। ইনস্টাগ্রামে অনুসারী ছিল প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার, ২৩.২ শতাংশ বেশি। ইনস্টাগ্রাম অনুসারীদের ৭১.৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। কেবিও ছোট ভিডিও তৈরির পরিমাণও আগের বছরের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ করেছে এবং দ্রুত ম্যাচের হাইলাইট ছড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেছে।
সপ্তাহের কর্মদিবসের দর্শক, টেলিভিশন ও নিয়ম পরিবর্তন
সাধারণ কর্মদিবসের সন্ধ্যাতেও দর্শক বেড়েছে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ছুটি বাদে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের ম্যাচগুলোতে গড়ে ১৫,৯৫৩ জন দর্শক এসেছেন। আগের বছরের ১৫,২৯১ জনের চেয়ে ৬৬২ জন বেশি, অর্থাৎ ৪.৩ শতাংশ বৃদ্ধি। বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি, ৭.৩ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে; এরপর মঙ্গলবারে ৩.৫ এবং বুধবারে ২.৫ শতাংশ।
টেলিভিশনের পরিসংখ্যানও একই প্রবণতা দেখায়। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্মিলিত গড় রেটিং ছিল ১.২২ শতাংশ; ২০২৫ সালে তা ছিল ১.১৫ শতাংশ। প্রতি ম্যাচে গড় সম্মিলিত দর্শকসংখ্যা ২৭২,৯৫৭ থেকে বেড়ে ২৮৩,৪০৮ হয়েছে, অর্থাৎ ১০,৪৫১ বা প্রায় ৩.৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি। টেলিভিশনের এই হিসাব নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচের আগের সময়কাল পর্যন্ত।
মার্চে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ব বেসবল ক্ল্যাসিকের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা—১৭ বছরে প্রথমবার—এবং সেপ্টেম্বরে টানা পঞ্চম এশিয়ান গেমস বেসবল স্বর্ণপদক জয়ের সঙ্গেও কেবিও দেশীয় বেসবলের প্রতি আগ্রহকে যুক্ত করেছে। জাতীয় দলগুলো নিয়ে তৈরি ভিডিও লিগের চ্যানেলের সাধারণ কনটেন্টের তুলনায় বেশি গড় দর্শক পেয়েছে।
নিয়ম পরিবর্তন নিয়ে জরিপে ইতিবাচক মতামত এসেছে। স্বয়ংক্রিয় বল-স্ট্রাইক ব্যবস্থা, পিচ ক্লক এবং সুইং হয়েছে কি না তা পর্যালোচনাসহ বিভিন্ন পরিবর্তন খেলা দেখার আগ্রহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন ৭৬.৭ শতাংশ উত্তরদাতা। ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বল ও স্ট্রাইক নির্ধারণ করে; পিচ ক্লক পিচের মধ্যবর্তী সময়সীমা বেঁধে দেয়। জরিপে দর্শকের মতামত মাপা হয়েছে; দর্শকসংখ্যা বা ম্যাচের দৈর্ঘ্যে পরিবর্তনের স্বতন্ত্রভাবে প্রমাণিত প্রভাব নয়।
বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বেসবলের ব্র্যান্ডিং খাবার, সুগন্ধি, গৃহস্থালি পণ্য ও জুতাসহ দৈনন্দিন পণ্যেও ছড়িয়েছে। সিজে অনস্টাইল, পেপেরো, পালডো বিবিম মিয়ন, ক্রক্স, স্টারবাকস এবং কেসটিফাইয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ ছিল। তবে এসবের আয়ের পরিমাণ বা দর্শকসংখ্যায় পৃথক প্রভাবের হিসাব দেওয়া হয়নি; তাই দর্শকসংখ্যার পাশাপাশি এগুলোর অবদান পরিমাপ করা সম্ভব নয়।
শেষ ম্যাচ পর্যন্ত চলা লড়াইয়ে রেয়েসের জয়
৬ অক্টোবর রেয়েস ও চোই ওন-জুন দুজনই ২০০ হিটে পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে ২০২৬ সাল কেবিওর ইতিহাসে এমন প্রথম মৌসুম হয়, যেখানে দুজন খেলোয়াড় এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন। চোই শেষ করেন ২০৮ হিট নিয়ে, আর রেয়েসের সংখ্যা দাঁড়ায় ২১১-এ, যা ২০২৪ সালে গড়া তাঁর নিজের আগের ২০২ হিটের রেকর্ডের চেয়ে নয় বেশি।
৭ অক্টোবর চোইয়ের রেকর্ড ভাঙার বিবরণে প্রতিবেদনে অমিল রয়েছে। একটিতে বলা হয়েছে, ২০৩তম হিটে তিনি পুরোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে যান; অন্যটিতে ওই দিন তাঁর মোট হিট ২০৪ বলা হয়েছে। তবে উভয় বিবরণেই রেয়েস পুনরায় শীর্ষস্থান নেওয়ার আগে চোই আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। বিস্তারিত ঘটনাক্রম অনুযায়ী, রেয়েস ৯ অক্টোবর ২০৪ হিটে সমতা আনেন এবং ১০ অক্টোবর ২০৫-এ পৌঁছান।
শেষ রাতে দেগুতে স্যামসাংয়ের বিপক্ষে ছয়বার ব্যাট করতে নেমে চোই তিনটি হিট করেন। সিউলে দোসানের বিপক্ষে পাঁচবার ব্যাট করে রেয়েস চারটি হিট করেন, যার মধ্যে একটি এক রানের হোম রান ছিল। অষ্টম ইনিংসে তাঁর শেষ হিটের পর দুই দলের সমর্থকদের করতালির মধ্যে তিনি পিঞ্চ রানারের জন্য মাঠ ছাড়েন।
লটে ৭-৪ ব্যবধানে জিতে সপ্তম স্থানে মৌসুম শেষ করে। রেয়েসের মৌসুমের ব্যাটিং গড় ছিল .৩৬৩, হোম রান ১৮টি, রান ব্যাট করে আনা ১০৯ এবং ওপিএস .৯৩৭। ওপিএসে অন-বেস শতাংশ ও স্লাগিং শতাংশ যোগ করা হয়; এতে ব্যাটারের বেসে পৌঁছানোর সক্ষমতা ও পাওয়ার-হিটিং—দুই দিকই ধরা পড়ে।
লটের ভেনেজুয়েলায় জন্ম নেওয়া সুইচ হিটার রেয়েস লড়াই শেষে প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রশংসা করেন।
সত্যি বলতে, আমি বিষয়টা খুব একটা খেয়াল করছিলাম না। এখন যেহেতু শেষ হয়েছে, চোই ওন-জুনকে বলতে চাই, তাঁর কঠোর পরিশ্রমের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
কেবিওতে নিজের প্রথম তিন মৌসুমেই তিনি হিটে লিগের শীর্ষে ছিলেন: ২০২৪ সালে ২০২, ২০২৫ সালে ১৮৭ এবং ২০২৬ সালে ২১১। টানা তিন মৌসুম এই শিরোপা জেতা প্রথম বিদেশি ব্যাটার এবং অন্তত ২০০ হিটের দুটি মৌসুম কাটানো প্রথম কেবিও খেলোয়াড় তিনি।
রেয়েস বলেছেন, প্রতিটি ম্যাচে মাঠে থাকাই ছিল তাঁর অগ্রাধিকার। এই তিন মৌসুমের প্রতিটিতেই তিনি ১৪৪টি ম্যাচ খেলেছেন।
তিন বছর ধরে ১৪৪টি করে সব ম্যাচ খেলার লক্ষ্য ছিল আমার। সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছি। সুস্থ থেকে মৌসুম শেষ করতেও পেরে আমি খুশি।
দশকের পর দশক ধরে গড়া পাওয়ার রেকর্ড
১০ মে চ্যাংওনে এনসির বিপক্ষে ম্যাচে স্যামসাংয়ের চোই হিয়ং-উ কেবিওর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ারে মোট বেসের সংখ্যা ৪,৫০০-তে পৌঁছান। ৩১ মে দেগুতে দোসানের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ারে ১,০০০ এক্সট্রা-বেস হিটে পৌঁছান।
এই দুটি আলাদা পরিসংখ্যান। সিঙ্গেলে এক, ডাবলে দুই, ট্রিপলে তিন এবং হোম রানে চারটি বেস ধরা হয়। এক্সট্রা-বেস হিটের হিসাবে ডাবল, ট্রিপল ও হোম রান আলাদা হিট হিসেবে গণ্য হয়। চোইয়ের প্রথম ১,০০০ এক্সট্রা-বেস হিটের মধ্যে ছিল ৫৫৩টি ডাবল, ২০টি ট্রিপল ও ৪২৭টি হোম রান।
ইংরেজিতে একটি প্রতিবেদনে এই মাইলফলকগুলোকে ৪,৫০০ হিট ও ১,০০০ মোট বেস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি কোরীয় বিবরণ এবং মৌসুমের অন্যান্য সারসংক্ষেপের সঙ্গে সাংঘর্ষিক; সেগুলোতে মাইলফলক দুটি মোট বেস ও এক্সট্রা-বেস হিট হিসেবে চিহ্নিত। ডাবল, ট্রিপল ও হোম রানের হিসাবও এই ব্যাখ্যাকেই সমর্থন করে।
২০২৬ সালে চোই ১৮টি হোম রান করেন, ফলে টানা ১০ বা তার বেশি হোম রানের মৌসুমের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯-এ। এসএসজির চোই জং আরও দীর্ঘ ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ১২ মে কে-টির বিপক্ষে নিজের ১০ম হোম রান করে তিনি ২০০৬ সাল থেকে টানা ২১ মৌসুমে দুই অঙ্কের হোম রানে পৌঁছান।
এরপর ১৬ জুলাই কিয়ার বিপক্ষে চোই জং নিজের ২০তম হোম রান করেন। টানা ১১ মৌসুমে অন্তত ২০টি হোম রান করা প্রথম খেলোয়াড় হন তিনি। ২০১৬ সালে প্রথমবার ৪০টি হোম রান করার মধ্য দিয়ে এই ধারাবাহিকতা শুরু হয়।
কাং ও রিউয়ের ক্যারিয়ারে প্রথম
১ এপ্রিল দেগুতে দোসানের বিপক্ষে স্যামসাংয়ের হয়ে ক্যাচার হিসেবে মাঠে নেমে কাং মিন-হো কেবিওর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ারে ২,৫০০ ম্যাচে অংশ নেওয়ার মাইলফলকে পৌঁছান। এটি মোট খেলা ম্যাচের হিসাব; শুধু ক্যাচার হিসেবে ২,৫০০ ম্যাচ খেলার নয়। ক্যারিয়ারে ম্যাচ খেলার সংখ্যার শীর্ষ ১০ খেলোয়াড়ের মধ্যে একমাত্র ক্যাচার তিনি।
২০২৪ সালের ২৮ মার্চ জামসিলে এলজির বিপক্ষে ২,২৩৮তম ম্যাচ খেলার সময়ই কাং ক্যারিয়ারে ম্যাচ খেলার সংখ্যায় শীর্ষে উঠে এসেছিলেন। নতুন মাইলফলকে তিনি সেই রেকর্ড আরও ২৬২ ম্যাচ বাড়ান।
৭ এপ্রিল ৩৯ বছর ১৩ দিন বয়সে ইনচনে এসএসজির বিপক্ষে ম্যাচে হানহওয়ার রিউ হিউন-জিন কেবিওতে ১,৫০০ স্ট্রাইকআউটে পৌঁছান। এই মাইলফলকে পৌঁছানো সপ্তম পিচার তিনি; সবচেয়ে বেশি বয়সে এবং সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।
রিউয়ের লেগেছিল ২৪৬টি ম্যাচ; আগের রেকর্ডটি ছিল সন দং-ইয়লের ৩০১ ম্যাচ, অর্থাৎ ৫৫ ম্যাচ বেশি। রিউয়ের বয়সও আগের সর্বোচ্চ বয়সের রেকর্ডধারী সং জিন-উয়ের চেয়ে বেশি। সং ৩৬ বছর, পাঁচ মাস ও ২৬ দিন বয়সে এই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন।
২৪ মে দেজনে দোসানের বিপক্ষে রিউ দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র মিলিয়ে ক্যারিয়ারের ২০০তম জয় পান। এর মধ্যে ছিল কেবিওতে ১২২টি এবং মেজর লিগ বেসবলে ৭৮টি জয়। এটি দুই লিগ মিলিয়ে ক্যারিয়ারের মাইলফলক; কোনো একটি লিগে এককভাবে ২০০ জয় নয়।
রিলিফ পিচিং ও গতিতেও নতুন মাইলফলক
২৪ মে ২৪ বছর, নয় মাস ও এক দিন বয়সে এসএসজির বিপক্ষে কিয়ার ক্লোজার জং হে-ইয়ং ক্যারিয়ারের ১৫০তম সেভ অর্জন করেন। এই সংখ্যায় পৌঁছানো কেবিওর ১২তম পিচার এবং সবচেয়ে কম বয়সী তিনি; ও সিউং-হোয়ানের আগের বয়সের রেকর্ড দুই বছরেরও বেশি ব্যবধানে ছাড়িয়ে যান।
১১ আগস্ট কিহুমের বিপক্ষে এলজির কিম জিন-সঙ ক্যারিয়ারের ১৭৮তম হোল্ড রেকর্ড করেন, যা আন জি-মানের ১৭৭ ছাড়িয়ে যায়। কোনো রিলিফ পিচার ম্যাচ শেষ না করে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে লিড ধরে রাখলে সাধারণত তাঁকে হোল্ড দেওয়া হয়। টানা পাঁচ মৌসুমে অন্তত ১০টি হোল্ড পাওয়া অষ্টম পিচারও হন কিম।
৩ সেপ্টেম্বর হানহওয়ার বিপক্ষে কে-টির উ কিউ-মিন নিজের ৯০০তম পিচিং উপস্থিতি নথিভুক্ত করেন। ৯০৮ ম্যাচ নিয়ে তিনি পিচারদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন, রিউ তেক-হিয়নের ৯০১ ছাড়িয়ে। তাঁর সামনে ছিলেন জং উ-রাম, ১,০০৫ ম্যাচ নিয়ে।
১৩ জুন লটের বিপক্ষে এলজির পাক হে-মিন ২০টি চুরি করা বেসে পৌঁছে এই পর্যায়ে টানা ১৩ মৌসুম খেলা প্রথম খেলোয়াড় হন। ৬ অক্টোবর ক্যারিয়ারে ৫০০টি চুরি করা বেসে পৌঁছে তিনি চতুর্থ খেলোয়াড় হন। এই তালিকায় তাঁর আগে ছিলেন জন জুন-হো, লি জং-বম ও লি দে-হিয়ং।
শুরুর ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতা, এরপর প্লে-অফ
এসএসজির পাক সঙ-হান মৌসুমের শুরুতে টানা ২২ ম্যাচে হিট করেন। এর মাধ্যমে ১৯৮২ সালের লিগের উদ্বোধনী মৌসুমে কিম ইয়ং-হির গড়া ১৮ ম্যাচের রেকর্ড ভাঙেন তিনি। এটি ছিল উদ্বোধনী দিন থেকে টানা হিটের রেকর্ড; মৌসুমের যেকোনো সময় শুরু হওয়া ধারাবাহিক হিটের রেকর্ড নয়।
ধারাবাহিকতার শেষ দিন নিয়ে প্রতিবেদনে অমিল রয়েছে। কোরিয়ার বিস্তারিত ঘটনাক্রমে বলা হয়েছে, ২১ এপ্রিল টানা ১৯তম ম্যাচে হিট করেন পাক এবং ২৪ এপ্রিল কে-টির বিপক্ষে ২২তম ম্যাচে হিট পান। অন্য একটি ইংরেজি প্রতিবেদনে ২২তম ম্যাচের তারিখ ২১ এপ্রিল বলা হয়েছে। পাকের মৌসুম শেষ হয় .৩৩০ ব্যাটিং গড়, ১৭৫ হিট, ৭১ রান ব্যাট করে আনা এবং ৯৬ রান স্কোর করে।
কে-টির কিম হিয়ন-সুও দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সের রেকর্ড গড়েন। ১৮ জুলাই ১০০ হিটে পৌঁছে তিনি টানা ১৭তম কেবিও মৌসুমে এই মাইলফলক অর্জন করেন। এই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ ও ২০১৭ সালের বিদেশের মৌসুম অন্তর্ভুক্ত নয়; তাই এর অর্থ টানা ১৭টি বর্ষপঞ্জির বছর নয়।
পোস্টসিজন শুরু হওয়ার কথা ছিল ১৪ অক্টোবর, বুধবার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কে-টি, স্যামসাং, কিয়া, এলজি ও দোসান যোগ্যতা অর্জন করে; কে-টি সরাসরি কোরিয়ান সিরিজে যায়। নিয়মিত মৌসুমের রেকর্ডগুলোর নিষ্পত্তি হলেও চ্যাম্পিয়নশিপের ফল তখনও নির্ধারিত হয়নি।
এক নজরে
- কেবিওতে রেকর্ড ১২,৭৭০,৫৫১ জন দর্শক এসেছেন, যা ২০২৫ সালের চেয়ে ৪৫৮,০৩২ বেশি।
- প্রতি ম্যাচে গড় দর্শকসংখ্যা ছিল ১৭,৭৩৭; ৭২০টি ম্যাচের মধ্যে ৩৪৫টির টিকিট শেষ হয়ে যায়।
- ১০টি ক্লাবের মধ্যে আটটির মাঠে দর্শকসংখ্যা ১০ লাখ ছাড়ায় এবং সাতটি ক্লাব ফ্র্যাঞ্চাইজি রেকর্ড গড়ে।
- ভিক্টর রেয়েস মৌসুম শেষ করেন রেকর্ড ২১১ হিট নিয়ে; চোই ওন-জুনের ছিল ২০৮।
- চোই হিয়ং-উ ৪,৫০০ মোট বেস ও ১,০০০ এক্সট্রা-বেস হিটে পৌঁছান।
- কাং মিন-হো ক্যারিয়ারে ২,৫০০ ম্যাচে অংশ নেওয়ার মাইলফলকে পৌঁছান; রিউ হিউন-জিন কেবিওতে ১,৫০০ স্ট্রাইকআউট এবং কেবিও ও এমএলবি মিলিয়ে ২০০ জয় অর্জন করেন।
- পোস্টসিজন শুরু হওয়ার কথা ছিল ১৪ অক্টোবর।






