অমীমাংসিত ভূমি বিরোধের মধ্যে মেরিনা নির্মাণের অনুমোদন
উত্তর ফুকেটের ৪১টি পরিবারের একটি মুসলিম জেলে সম্প্রদায় আও কুং মেরিনা ক্রুজ অ্যান্ড স্পোর্টস পোর্টের পরিবেশগত অনুমোদনকে চ্যালেঞ্জ করছে। তাদের অভিযোগ, অমীমাংসিত সরকারি জমির দাবি এবং প্রস্তাবিত নৌপথ তাদের মাছ ধরার এলাকা, ম্যানগ্রোভ বন ও কবরস্থানে যাওয়ার পথকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। এপ্রিলে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন অনুমোদনের পর ২০২৬ সালের ২৬ জুন বাসিন্দারা থাইল্যান্ডের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ করেন।
সূচিপত্র
- অমীমাংসিত ভূমি বিরোধের মধ্যে মেরিনা নির্মাণের অনুমোদন
- একই পরিবেশগত প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত দুটি প্রকল্প
- নৌপথের অস্তিত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ
- কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া নথি ও সমুদ্রে যাওয়ার পথ
- এক দশকজুড়ে চলা বিরোধ
- প্রবাল ফিরে আসায় সংরক্ষণের গুরুত্ব মাপা যায়
- কর্মসংস্থান ও নৌযান চলাচল নিয়ে বাসিন্দাদের মতভেদ
- আয়, খাবার ও সম্প্রদায়ের সহায়তা হিসেবে মাছ ধরা
- বিলাসবহুল পর্যটন ও কার্বন নীতি নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন
- জেনে রাখুন
প্রতিবেদনগুলোতে অনুমোদনের তারিখ নিয়ে মতভেদ রয়েছে: সম্প্রদায়ের ১৭ মে-র বিবৃতির একটি বিবরণে ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল বলা হয়েছে, আর জুনের অভিযোগের বিবরণে তারিখ ২১ এপ্রিল। উভয় বিবরণেই প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ নীতি এবং পরিকল্পনা দপ্তরের অধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। এ পার্থক্যের মীমাংসা হয়নি, তবে মূল আপত্তি একই: বাসিন্দাদের দাবি, ভূমি ও পরিবেশবিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির আগেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
থালাং জেলার পাক খলোক উপজেলায় অবস্থিত বান আও কুংয়ের ইতিহাস ২৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো। লা ভিয়া ক্যাম্পেসিনা প্রকাশিত অ্যাসেম্বলি অব দ্য পুওরের আও কুং সম্প্রদায়বিষয়ক বিবরণ অনুযায়ী, তাদের সংরক্ষণ গোষ্ঠী খ্লং পারা ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট জাতীয় বন সংরক্ষিত এলাকার ৫৮৪ রাই ম্যানগ্রোভ বন এবং ৫৪৭ রাইয়ের বেশি প্রবালপ্রাচীর রক্ষা করে।
এই এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৯৩.৪ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বন এবং ৮৭.৫ হেক্টরের বেশি প্রবালপ্রাচীর। রাই থাইল্যান্ডের ভূমি পরিমাপের একক; ১ রাই সমান ১,৬০০ বর্গমিটার। বাসিন্দাদের কাছে এই বিরোধ শুধু প্রাকৃতিক দৃশ্য বা জীববৈচিত্র্য নিয়ে নয়: বন ও উপসাগর খাবার, আয় এবং পর্যটন খাতের কাজ হারালে বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় সাগরে মাছ ধরতে না পারলে বিকল্প জীবিকার জোগান দেয়।
একই পরিবেশগত প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত দুটি প্রকল্প
বিতর্কিত উন্নয়ন পরিকল্পনায় রয়েছে বেসরকারি উদ্যোগে প্রস্তাবিত একটি মেরিনা এবং মেরিন ডিপার্টমেন্টের আলাদা নৌপথ প্রকল্প। আগের একটি প্রস্তাবে মেরিনার ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২০ মিলিয়ন বাথ এবং ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ৭২টি ইয়ট। এসব তথ্য ওই প্রস্তাবের, ২০২৬ সালে অনুমোদিত সংস্করণের নিশ্চিত বিবরণ নয়।
২০১৮ সালে জমা দেওয়া মেরিনা ও ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মূল্যায়ন প্রবালপ্রাচীর ও সামুদ্রিক আবাসস্থল বিবেচনার ধরন নিয়ে সংরক্ষণকর্মীদের আপত্তির পর প্রত্যাহার করা হয়। ২০১৯ সালে পরিকল্পনাগুলো দুটি প্রকল্প হিসেবে ফিরে আসে: মেরিনা এবং প্রায় ১.২ কিলোমিটার দীর্ঘ ও দুই মিটার গভীর নৌপথ নির্মাণে মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রস্তাব। স্থানীয় নৌযান চলাচলের জন্য নৌপথটি প্রয়োজন বলে জানায় বিভাগটি।
সংরক্ষণকর্মীদের যুক্তি, প্রকল্প দুটিকে আলাদা করে দেখালে তাদের বাস্তব সংযোগ আড়াল হয়। মেরিনায় যেতে সমুদ্র পর্যন্ত নৌচলাচলযোগ্য পথ দরকার, আর তাদের ধারণা, সরকারিভাবে প্রস্তাবিত নৌপথটি সেই সুযোগ তৈরি করবে। অ্যাসেম্বলি অব দ্য পুওরের দাবি, খননকাজের পথটি ৬২ রাই অগভীর স্ট্যাগহর্ন প্রবালক্ষেত্র এবং ১২ থেকে ১৬ রাই বিরল লাল গর্গোনিয়ান প্রবালক্ষেত্রের ওপর দিয়ে যাবে; প্রবালগুলো ডাইকোটেলা প্রজাতির।
প্রবালক্ষেত্র দুটি মিলিয়ে ৭৪ থেকে ৭৮ রাই, অর্থাৎ আনুমানিক ১১.৮ থেকে ১২.৫ হেক্টর। এগুলো প্রস্তাবিত পথ সম্পর্কে সংরক্ষণকর্মীদের বিবরণ, স্বাধীনভাবে যাচাই করা ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নয়। তাদের আপত্তি হলো, মেরিনা ও নৌপথকে সম্পর্কহীন কাজ হিসেবে না দেখে সম্মিলিত প্রভাব মূল্যায়ন করা উচিত।
নৌপথের অস্তিত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ
মেরিন ডিপার্টমেন্টের যুক্তি, আগে থেকেই একটি জলপথ থাকায় নতুন পরিবেশগত মূল্যায়ন ছাড়াই খনন করা যায়। বাসিন্দারা এ দাবির ঐতিহাসিক ও বাস্তব ভিত্তি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। অ্যাসেম্বলি অব দ্য পুওর বলেছে, আকাশ থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে ৩০ মিটার চওড়া একটি প্রাকৃতিক জলপথ শনাক্ত করা হয়েছে—এমন একটি এলাকায়, যেটিকে সম্প্রদায়টি প্রতিষ্ঠিত ম্যানগ্রোভ বন বলে মনে করে।
বান আও কুং ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ গোষ্ঠীর নেতা প্রদিত ফুয়াংকেট পরিণত গাছপালাকে ওই ব্যাখ্যার বিপক্ষে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, দাবি করা জলপথের এলাকায় প্রায় দুই মিটার চওড়া কাণ্ডের একটি গাছ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, স্রোত ও পলি জমার কারণে বারবার খনন করতে হবে, সম্ভবত প্রতি তিন থেকে চার মাসে। এটি তাঁর অনুমান, বিভাগের প্রকাশিত রক্ষণাবেক্ষণসূচি নয়।
সম্প্রদায়ের চ্যালেঞ্জে আইনি পার্থক্যটি কেন্দ্রীয় বিষয়। অ্যাসেম্বলি অব দ্য পুওরের বর্ণনা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত স্বার্থে ম্যানগ্রোভে নতুন নৌপথ খোলার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে; তবে অগভীর হয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক জলপথ রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, যেখানে আগে কোনো পথ ছিল না, সেখানে যাতায়াতের পথ তৈরির ন্যায্যতা দেখাতে রক্ষণাবেক্ষণের এই বিধান ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিবেদনগুলোতে বর্ণিত কোনো আদালতের রায়ে এ অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বাসিন্দারা পুরোনো লামফায়েন গাছ কেটে ফেলাসহ ম্যানগ্রোভ ধ্বংসের ঘটনাও চলতে থাকার অভিযোগ করেছেন। গাছটি সম্প্রদায়ের ইতিহাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। তাদের মে মাসের বিবৃতিতে বন রক্ষা ও পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানানো হয়। এই ধ্বংসের জন্য কারা দায়ী এবং প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী, তা প্রতিবেদনভুক্ত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়নি।
কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া নথি ও সমুদ্রে যাওয়ার পথ
জুনের অভিযোগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বা ইআইএর কিছু অংশ কালো দাগ দিয়ে ঢেকে দেওয়ার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইআইএতে কোনো প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব এবং ক্ষতি ঠেকানো বা কমানোর প্রস্তাবিত ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। বাসিন্দাদের দাবি, গোপন রাখা তথ্যের মধ্যে জমির মালিকানা, সীমানা ও ব্যবহারসংক্রান্ত বিষয় রয়েছে—যেগুলো প্রকল্পকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তাঁদের পর্যালোচনা করা জরুরি।
সম্প্রদায়কে পাঠানো প্রতিবেদনে তথ্য ঢেকে দেওয়ার কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও বাণিজ্য গোপনীয়তার কথা বলা হয়েছে। সংরক্ষণ গোষ্ঠীর যুক্তি, বিতর্কিত সরকারি জমি ও পরিবেশগত প্রভাবসংক্রান্ত তথ্য জনসাধারণের যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। আইনি প্রশ্নটি শুধু কিছু তথ্য সুরক্ষিত রাখা যাবে কি না, তা নয়; এই নির্দিষ্ট তথ্যগুলো ঢেকে দেওয়ায় ভূমির অধিকার ও প্রকল্পের প্রভাব অর্থবহভাবে পর্যালোচনার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না, সেটিও।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমিটি তিনটি কাজে ব্যবহৃত হয়: মুসলিম কবরস্থানে যাওয়া, স্থানীয়ভাবে কুবোর নামে পরিচিত; উপকূলীয় মাছ ধরার জন্য তীরে যাওয়া; এবং ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার ও পর্যবেক্ষণ করা। সম্প্রদায়ের দাবি, নৌকা নেই এমন নারী ও দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য এই প্রবেশাধিকার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা তীর থেকে সংগ্রহ করা সম্পদের ওপর নির্ভরশীল।
প্রকল্পের মালিক ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সম্প্রদায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে যে মামলা করেন, জমির অধিকার প্রমাণ করতে না পারায় সেটি খারিজ হয়েছে বলে জানা গেছে। রায়ের তারিখ বা মামলার নম্বর উল্লেখ করা হয়নি। শুধু এই মামলা খারিজ হওয়ার তথ্যই প্রতিটি সীমানা নির্ধারণ করে না বা পুরো মেরিনা প্রস্তাবের বৈধতা স্থির করে না। বাসিন্দারা অনুমোদনকে চ্যালেঞ্জ করার সময় ফুকেটের গভর্নরের সভাপতিত্বে পৃথক তথ্য-অনুসন্ধান প্রক্রিয়াটিও অসমাপ্ত ছিল।
এক দশকজুড়ে চলা বিরোধ
সর্বশেষ অভিযোগের আগে প্রকল্পের একাধিক সংশোধন, সংরক্ষণকর্মীদের আপত্তি এবং সরকারি পর্যালোচনা নিয়ে কয়েক বছর ধরে তৎপরতা চলেছে। সম্প্রদায়টি উপকূল রক্ষার কাজের সূচনা ১৯৯২ সাল থেকে বলে জানায়। এর মধ্যে ছিল অবৈধ বাণিজ্যিক মাছ ধরা, কাঠকয়লার জন্য গাছ কাটা এবং চিংড়ির ঘের তৈরিতে ম্যানগ্রোভ পরিষ্কারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ।
- ১৯৯২: বাসিন্দারা সরকারি সংস্থা ও অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে উপকূল সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও পর্যবেক্ষণের ধারাবাহিক কাজ শুরু করেন।
- ২০১৬: আঞ্চলিক মেরিনা কেন্দ্র হওয়ার লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের উদ্যোগের সময় স্থানীয়ভাবে মেরিনা প্রস্তাবটি সামনে আসে।
- ২০১৮: প্রবালপ্রাচীর ও সামুদ্রিক আবাসস্থল নিয়ে আপত্তির পর মেরিনা ও ক্রীড়া কমপ্লেক্সের ইআইএ প্রত্যাহার করা হয়।
- ২০১৯: মেরিনা এবং মেরিন ডিপার্টমেন্টের পৃথক নৌপথ প্রস্তাব আবার সামনে আসে। ডিসেম্বরে প্রকল্পের মালিক সম্প্রদায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
- ২০২১: বাসিন্দাদের দাবি, ড্রেজিং এগিয়ে নেওয়ার নতুন উদ্যোগে ব্যক্তিগতভাবে আকাশচিত্র বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করা হয়।
- ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল: ড্রেজিংয়ের কারণে পরিবেশের ক্ষতি ও সম্প্রদায়ের অধিকারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে।
- ২০২৬ সালের এপ্রিল: মেরিনা ইআইএ বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুমোদন পায়; একটি বিবরণে তারিখ ২০ এপ্রিল, অন্যটিতে ২১ এপ্রিল বলা হয়েছে।
- ২০২৬ সালের ১৭ মে: সংরক্ষণ গোষ্ঠী অনুমোদন ও নৌপথ প্রকল্প বাতিলের দাবি জানায়।
- ২০২৬ সালের ২৬ জুন: বাসিন্দারা ঢেকে দেওয়া ইআইএ নিয়ে কমিশনে অভিযোগ জমা দেন।
২০২৪ সালের এপ্রিলের কমিশন প্রস্তাবে সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদ বিভাগকে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারের সুপারিশ করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। বাসিন্দাদের যুক্তি, ড্রেজিং এগিয়ে নেওয়া ওই সুপারিশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মে মাসের বিবৃতিতে ২০২৬ সালের ১৪ মে প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল স্বাক্ষরিত অ্যাসেম্বলি অব দ্য পুওরের সমস্যা সমাধান ব্যবস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবিও জানানো হয়।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনার সায়ামন ক্রাইয়ুরাওং জুনের অভিযোগ গ্রহণ করেন এবং জানান, কমিশন প্রাদেশিক গভর্নরের কাছ থেকে তথ্য চাইবে ও ঘটনাস্থলে তদন্ত করবে। ওই পরিদর্শন, পরবর্তী শুনানি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কোনো তারিখ জানানো হয়নি।
প্রবাল ফিরে আসায় সংরক্ষণের গুরুত্ব মাপা যায়
ফুকেট মেরিন বায়োলজিক্যাল সেন্টারের মূল্যায়নে ২০২২ সালে আও কুংয়ের প্রবালপ্রাচীরকে স্বাস্থ্যকর বলা হয়; ২০০৩ সালে সেগুলোকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল। এই পরিবর্তনের তথ্যটি বাসিন্দাদের যুক্তির একটি সুনির্দিষ্ট ভিত্তি: পুনরুদ্ধারের ফলে এমন অগ্রগতি হয়েছে, যা রক্ষা করা দরকার।
এই পুনরুদ্ধার একটানা চলেনি। ২০১৯ সালের শেষ দিকে অগভীর পানিতে জন্মানো স্ট্যাগহর্ন প্রবাল অ্যাক্রোপোরা পালক্রার কলোনিগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। সামুদ্রিক পরিবেশবিদেরা ক্ষতির সঙ্গে ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোলের সম্পর্কিত অস্বাভাবিক ভাটাকে যুক্ত করেছেন। ভারত মহাসাগরজুড়ে সমুদ্রের তাপমাত্রার পরিবর্তনের এই ধরন আঞ্চলিক আবহাওয়া ও সমুদ্রের অবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।
সম্প্রদায়ের পুনরুদ্ধারকাজের মধ্যে রয়েছে ম্যানগ্রোভ রোপণ, কৃত্রিম প্রবালপ্রাচীর তৈরি এবং সামুদ্রিক প্রাণী নিয়ে গবেষণায় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করা। জেলে উড সোমপিতের ফেসবুকে পোস্ট করা প্রবালের ছবি উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতি আরও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে সহায়তা করে। আও কুং উপসাগরের এক কিলোমিটারের মধ্যে প্রবালপ্রাচীর নেই—প্রকল্পের আগের এমন দাবিও বাসিন্দারা প্রত্যাখ্যান করেন।
ম্যানগ্রোভের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন বিবরণে পার্থক্য রয়েছে। অ্যাসেম্বলি অব দ্য পুওর সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় থাকা ৫৮৪ রাইয়ের কথা জানায়, আর আগের একটি প্রতিবেদনে উপকূলজুড়ে প্রায় ৩,০০০ রাইয়ের উল্লেখ রয়েছে। এই সংখ্যাগুলো ভিন্ন সীমানা নির্দেশ করতে পারে, তবে একটিকে অন্যটির সমতুল্য ধরা যায় না। সংরক্ষণের ফলে মাছের শিকার প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলেও সম্প্রদায়টি জানায়; তবে কোন সময়ের হিসাব বা কী জরিপপদ্ধতিতে এই পরিমাপ করা হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
ফুকেট রাজভাট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও পরিবেশ অনুষদের অধ্যাপক সাইসানিত পংসুওয়ান আও কুংকে বৃহত্তর ফাং নগা উপসাগরীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখেন, যেখানে ১৬০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি ম্যানগ্রোভ রয়েছে। তাঁর যুক্তি, আও কুংয়ে পরিবর্তন হলে প্রকল্প এলাকার বাইরের সামুদ্রিক প্রাণী ও খাদ্যশৃঙ্খলও প্রভাবিত হতে পারে।
কর্মসংস্থান ও নৌযান চলাচল নিয়ে বাসিন্দাদের মতভেদ
বিরোধিতা জোরালো হলেও, নথিতে দেখা যায় না যে স্থানীয় সবাই প্রকল্প প্রত্যাখ্যান করেছেন। ৯ ফেব্রুয়ারির এক জনশুনানিতে আও কুংয়ের ১৮০ জন বাসিন্দা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ গভীর নৌপথ ও পর্যটন খাতে কাজের সুযোগের পক্ষে ছিলেন। বিবরণে শুনানিটি কোন বছরের, তা বলা হয়নি।
জেলে সোমচাই সিনপ্রাই বড় নৌযানের চলাচলের সুবিধার পক্ষে ছিলেন। গভীর নৌপথের প্রতি সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন:
পানির পথ আরও গভীর হলে বড় নৌযানগুলোর সেখানে চলাচল সহজ হবে।
মেরিন ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা চারান দামনোয়েনপল বলেন, বেছে নেওয়া ড্রেজিং পদ্ধতিতে ম্যানগ্রোভের ওপর প্রভাব সর্বনিম্ন রাখা হবে। এটি বিভাগের অবস্থান; এর মাধ্যমে নৌপথের বিতর্কিত ইতিহাস, জমির সীমানা বা প্রবাল আবাসস্থলের ওপর প্রভাবের মীমাংসা হয় না।
প্রদিতের আপত্তির পেছনে সাউদার্ন স্মল স্কেল ফিশার্স ফেডারেশন এবং অ্যাসেম্বলি অব দ্য পুওরের হয়ে আগের আন্দোলনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তিনি প্রায় ১৯৯৭ সাল থেকে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার কথা স্মরণ করেন। ট্রলার ও পুশনেট নৌযানের জন্য উপকূলীয় নিষিদ্ধ অঞ্চল ১,৫০০ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ মিটার করার দাবিতে প্রচার চালিয়েছিলেন। প্রস্তাবিত দ্বিগুণ দূরত্বের লক্ষ্য ছিল উপকূলঘেঁষা বাস্তুতন্ত্র, মাছ ধরার সরঞ্জাম ও জীবিকা রক্ষা করা। তাঁর বর্তমান অভিযোগ, ঐতিহ্যগত জেলেরা বিধিনিষেধ ও বিরক্তির মুখে পড়লেও পর্যটন উন্নয়ন উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশাধিকার পাচ্ছে; কাজের নৌকার আশপাশে জেট স্কির চলাচলও এর মধ্যে রয়েছে।
আয়, খাবার ও সম্প্রদায়ের সহায়তা হিসেবে মাছ ধরা
৩৩ বছর বয়সী একক মা নুসারা ওয়ংনুই ব্যাখ্যা করেন, সেবাখাতের কাজের বিকল্প হিসেবে উপসাগরে ফিরে আসা কেন তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গলফ ক্যাডি ও পরিবহন কোম্পানি কেরিতে কাজ করার পর তাঁর কথায়, দীর্ঘ যাতায়াত এবং দিনে ৪৬০ বাথের বিনিময়ে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হতো। মহামারির সময় বাইরের কাজ ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়লে তিনি আও কুংয়ে ফিরে আসেন।
ফিরে আসাটা কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা ব্যাখ্যা করে নুসারা বলেন:
বাইরের জীবন আর সামলাতে পারছিলাম না, তাই মাছ ধরতে ফিরে এলাম। খাওয়ার মতো খাবার ছিল।
প্রাথমিক মূলধন হিসেবে ২০,০০০ বাথ নিয়ে তিনি মায়ের কাছ থেকে অক্টোপাস ধরতে শেখেন এবং স্থানীয়ভাবে লুক কুং কিং নামে পরিচিত ওজনযুক্ত কাঁকড়া ধরার ফাঁদ নতুনভাবে ব্যবহার করেন। তাঁর দাবি, মাছ ধরে দিনে ২,০০০ থেকে ৪,০০০ বাথ আয় করা যায়, যা পরিবহন খাতে তাঁর উল্লেখ করা ৪৬০ বাথ মজুরির প্রায় ৪.৩ থেকে ৮.৭ গুণ। এই তুলনায় জানানো দৈনিক অঙ্কগুলো দেখানো হয়েছে; যাচাই করা নিট মুনাফা বা নিশ্চিত আয় নয়। মাছ ধরার খরচ, আবহাওয়া এবং যেদিন কোনো শিকার মেলে না, তার হিসাব দেওয়া হয়নি।
তাঁর উদ্যোগে সরঞ্জাম পাতা ও তোলার কাজে অংশ নেওয়া বাসিন্দাদের সঙ্গে আয় ভাগ করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছে পড়াশোনার বাইরে থাকা তরুণ এবং একক বাবারা। অ্যাসেম্বলি অব দ্য পুওরের তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীরা দিনে অন্তত ৪০০ বাথ পান। উন্নত নৌকা নিয়ে তরুণ জেলেরা উপকূল থেকে আরও দূরে কাজ করেন, আর ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী জেলেরা উপসাগরের প্রবেশমুখ ও উপকূলের কাছের আশ্রয়যুক্ত পানিতে মাছ ধরেন।
নৌকা নিয়ে তীর ছেড়ে যাওয়া সম্ভব না হলেও ম্যানগ্রোভ থেকে ঝিনুক ও শামুক সংগ্রহ করা যায়। ২০০৪ সালের সুনামির সময় ম্যানগ্রোভ ঢেউয়ের শক্তি কমিয়েছিল বলে নুসারার দাবি। তাঁর বিবরণে বোঝা যায়, বাসিন্দারা কেন বনটিকে সুরক্ষার উৎস হিসেবে মূল্য দেন; তবে স্থানীয় অন্যান্য পরিস্থিতির তুলনায় ম্যানগ্রোভ কতটা ক্ষতি ঠেকিয়েছিল, তা এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় না।
বিলাসবহুল পর্যটন ও কার্বন নীতি নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন
অ্যাসেম্বলি অব দ্য পুওর আও কুংয়ের বিরোধকে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন ‘বিল্ডিং থাইল্যান্ডস ফিউচার টুডে’-এর সঙ্গে যুক্ত করেছে। তাদের বিবরণে প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, বন ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের বার্ষিক সেবার মূল্য ৩৩.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা থাইল্যান্ডের জিডিপির ৬.১ শতাংশের সমান। ২০০১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ফুকেটের বনভূমির ৩২ শতাংশ হারিয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তুতন্ত্রের সেবা বলতে প্রকৃতির দেওয়া সুবিধা বোঝায়, যেমন খাদ্য, উপকূল সুরক্ষা ও আবাসস্থল।
সংগঠনটি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে বলে জানায়, দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর বদলে সুস্থতা ও বিলাসবহুল পর্যটনের মাধ্যমে বেশি ব্যয়ের পর্যটকের দিকে সরে যাওয়া উচিত। তাদের যুক্তি, এ কৌশল এমন প্রকল্পকে উৎসাহিত করতে পারে, যা সেই জীবিকাগুলোকে উৎখাত করে যেগুলো রক্ষার কথা সংরক্ষণ নীতির। এসব পরিসংখ্যান ও নীতির বিবরণ সংগঠনটির প্রতিবেদনের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে; এগুলো আও কুং মেরিনায় বিশ্বব্যাংকের সমর্থন প্রমাণ করে না।
একই বিবরণে প্রতিবেদনের বরাতে আরও বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডের পর্যটন ও সেবাখাতের কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশের বেশি অনানুষ্ঠানিক, স্বল্প বেতনের এবং কম উৎপাদনশীল। আলাদাভাবে, সাইসানিতের দাবি, ফুকেটের ৯০ শতাংশের বেশি পরিবার পর্যটন খাতে কাজ করে এবং মহামারির আগে দ্বীপটিতে বছরে ১ কোটিরও বেশি পর্যটক আসতেন। এই পরিসংখ্যানগুলো ভিন্ন জনগোষ্ঠী নিয়ে, তবে একত্রে এগুলো আয়ের আরেকটি উৎস বাদ দিয়ে পর্যটনের ওপর আরও নির্ভরশীল হওয়ার উদ্বেগটি তুলে ধরে।
ম্যানগ্রোভ নিয়ে কার্বন ক্রেডিট নীতিরও সমালোচনা করেছেন প্রদিত। ব্লু কার্বন বলতে উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রে সঞ্চিত কার্বন বোঝায়; ক্রেডিট দিয়ে পরিমাপ করা নিঃসরণ হ্রাস বা কার্বন অপসারণের পরিমাণ বোঝানো হতে পারে। তাঁর আপত্তি হলো, ওই বাস্তুতন্ত্র কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং করপোরেট পরিবেশগত দাবির আড়ালে বাসিন্দাদের প্রবেশাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না। প্রতিবেদনভুক্ত বিরোধে আও কুংয়ের কোনো কার্বন ক্রেডিট চুক্তি, ক্রেতা বা প্রবেশে বাধার আদেশের উল্লেখ নেই।
সম্প্রদায়ের সংরক্ষণ নেতা হিসেবে প্রদিত স্থানীয়দের তত্ত্বাবধান অব্যাহত রাখার পক্ষে বলেন:
আমরা নিজেরা বন দেখভাল করলে, নিজেরাই তা ব্যবহার করলে এবং নিজেরাই সংরক্ষণ করলে, সেটিই আরও টেকসই হবে।
এখনকার সিদ্ধান্তগুলো সুনির্দিষ্ট: ইআইএর অনুমোদন পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না, বিতর্কিত ভূমিসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে কি না, জনসাধারণের প্রবেশাধিকারের দাবি নিষ্পত্তি হবে কি না, এবং ড্রেজিং হবে নাকি বাতিল হবে। বাসিন্দারা প্রকল্প বাতিল ও বন পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। কমিশন আরও তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্মাণ শুরুর কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি।
জেনে রাখুন
- আও কুংয়ের বাসিন্দারা ঢেকে দেওয়া ইআইএ নিয়ে ২০২৬ সালের ২৬ জুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ করেন।
- পরিবেশগত অনুমোদন ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল, নাকি ২১ এপ্রিল দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে মতভেদ রয়েছে।
- বিরোধে একটি বেসরকারি মেরিনার সঙ্গে মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রায় ১.২ কিলোমিটার দীর্ঘ পৃথক নৌপথের প্রস্তাবও যুক্ত।
- বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পটি মাছ ধরার এলাকা, মুসলিম কবরস্থান ও ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ এলাকায় যাওয়ার সরকারি পথের ওপর পড়েছে।
- অ্যাসেম্বলি অব দ্য পুওরের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রদায়টি ৫৮৪ রাই ম্যানগ্রোভ বন এবং ৫৪৭ রাইয়ের বেশি প্রবালপ্রাচীর রক্ষা করে।
- কিছু বাসিন্দা নৌযানের জন্য গভীর পথ ও পর্যটন খাতের কাজের পক্ষে; সংরক্ষণকর্মীরা প্রকল্প বাতিল ও বন পুনরুদ্ধারের দাবি করছেন।
- ভূমি পর্যালোচনা ও মানবাধিকার তদন্তের চূড়ান্ত ফল বা পরবর্তী শুনানির তারিখ জানানো হয়নি।






