দ্বাদশ সপ্তাহে প্রত্যাবর্তন, সঙ্গে আরেকটি মাইলফলক
চিইকাওয়া দ্য মুভি: দ্য সিক্রেট অব মারমেইড আইল্যান্ড ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে টিকিট বিক্রি থেকে ১৭.৯ বিলিয়ন ইয়েনের বেশি আয় এবং ১২.২৯ মিলিয়ন দর্শক পেয়েছে। ২৪ জুলাই মুক্তির প্রায় তিন মাস পর ছবিটি আবার জাতীয় সাপ্তাহিক ছুটির দর্শকসংখ্যার তালিকার শীর্ষে ফিরেছে। ৯ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে অ্যানিমেটেড ছবিটি ৩৭৫,০০০ দর্শক টেনেছে এবং আয় করেছে ৫৬৩ মিলিয়ন ইয়েন।
সূচিপত্র
- দ্বাদশ সপ্তাহে প্রত্যাবর্তন, সঙ্গে আরেকটি মাইলফলক
- দর্শকসংখ্যায় প্রথম, সাপ্তাহিক আয়ে নয়
- ১৭.৯ বিলিয়ন ইয়েন আয়ে পৌঁছানোর পথ
- বছরের সেরা আয় ও ঐতিহাসিক র্যাঙ্কিংয়ে উত্থান
- অন্ধকারের ইঙ্গিতময় এক দ্বীপের আমন্ত্রণ
- বন্ধুত্ব, কাজ ও গল্পের কেন্দ্রে থাকা গান
- বিশেষ প্রদর্শনী ও ফিরতি সংগ্রহযোগ্য উপহার
- দক্ষিণ কোরিয়ায় অল্প ব্যবধানে সাপ্তাহিক জয়
- ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিসংখ্যান কী জানায়, আর কী এখনো অনিশ্চিত
- মূল বিষয়
এটি ছিল ছবিটির তৃতীয়বার শীর্ষ স্থান ফিরে পাওয়া এবং সপ্তমবার সাপ্তাহিক ছুটিতে এক নম্বরে থাকা। মুক্তির দ্বাদশ সপ্তাহে ফের শীর্ষ স্থান দখলের আগে তিন সপ্তাহ তালিকার শীর্ষে ছিল না ছবিটি। প্রথম দিনে ৯৯০ মিলিয়ন ইয়েন আয় করে মুক্তি পাওয়া ছবিটির সর্বশেষ পরিসংখ্যান দেখায়, সাফল্যটি প্রাথমিক ভক্ত-উন্মাদনার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
একই সপ্তাহান্তে দক্ষিণ কোরিয়ায়ও আলাদা একটি সাফল্য এসেছে। সেখানে ছবিটি ৪০৭,৮৯৫টি টিকিট বিক্রি করে মাত্র ২১৫ দর্শকের ব্যবধানে শীর্ষ স্থান দখল করেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে মুক্তির পর ছবিটির মোট কোরীয় দর্শকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,২৮১,৪৮৫। এর ফলে জাপানের বাইরেও ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রেক্ষাগৃহে সাফল্য পরিমাপ করার মতো হয়েছে।
এই ফলাফলের পেছনে রয়েছে এক অস্বাভাবিক সমন্বয়: ছোট, আকর্ষণীয় চরিত্র; হুমকিতে ভরা দ্বীপ অভিযান; বন্ধুত্ব নিয়ে পরিচিত একটি গান; আর এমন এক মুক্তি-প্রচার, যা বারবার দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার নতুন কারণ দিয়েছে। ছবিটির প্রদর্শনী চলাকালে বিশেষ শো ও সংগ্রহযোগ্য উপহার দেওয়া হয়েছে, যদিও প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে টিকিট বিক্রিতে কোনটির অবদান কতটা, তা জানা যায় না।
দর্শকসংখ্যায় প্রথম, সাপ্তাহিক আয়ে নয়
জাপানের সাপ্তাহিক ছুটির র্যাঙ্কিং নির্ধারিত হয় দর্শকসংখ্যার ভিত্তিতে; এই ক্ষেত্রে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। জ্যাক ক্রেগার পরিচালিত সদ্য মুক্তি পাওয়া রেসিডেন্ট ইভিল ছবির চেয়ে চিইকাওয়া বেশি দর্শক টেনেছে, তবে একই তিন দিনে ভৌতিক ছবিটির আয় হয়েছে বেশি।
রেসিডেন্ট ইভিল প্রথম সপ্তাহান্তে ৩৫৬,০০০ দর্শক টেনে আয় করেছে ৬২৭ মিলিয়ন ইয়েন। অন্যদিকে চিইকাওয়া পেয়েছে ৩৭৫,০০০ দর্শক এবং আয় করেছে ৫৬৩ মিলিয়ন ইয়েন। অর্থাৎ টিকিট বিক্রিতে চিইকাওয়া ১৯,০০০টি এগিয়ে থাকলেও আয়ে রেসিডেন্ট ইভিল এগিয়ে ছিল ৬৪ মিলিয়ন ইয়েনে। আয়কে দর্শকসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে চিইকাওয়ার ক্ষেত্রে টিকিটপ্রতি প্রায় ১,৫০১ ইয়েন এবং রেসিডেন্ট ইভিলর ক্ষেত্রে ১,৭৬১ ইয়েন দাঁড়ায়। এই গড় থেকে টিকিটের দামের পার্থক্যের কারণ বোঝা যায় না, তবে কেন দুই মাপকাঠিতে দুই ছবি এগিয়ে থাকে তা স্পষ্ট হয়।
আগের সপ্তাহান্তে শীর্ষে থাকা মামা গা মো কনো সেকাই নি ইনাকুতেমো: ওয়াতাশি নো ইনোচি নো নিক্কি নেমে তৃতীয় স্থানে এসেছে। ছবিটি পেয়েছে ৩২৭,০০০ দর্শক এবং আয় করেছে ৪৮৮ মিলিয়ন ইয়েন। নতুন মুক্তি পাওয়া চারটি ছবি সেরা দশে ঢুকেছে: রেসিডেন্ট ইভিল, ইউ নাগিরার উপন্যাস অবলম্বনে নানজি, হোশি নো গোটোকু, গার্লস অ্যান্ড প্যানজার দাস ফিনালে এপিসোড ৫ এবং ডিগার।
একাদশ সপ্তাহের ফলাফলের তুলনায় চিইকাওয়া
১৭.৯ বিলিয়ন ইয়েন আয়ে পৌঁছানোর পথ
জাপানের ৪৪৭টি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পায়, এর মধ্যে ৬৫টি ছিল আইম্যাক্স হল। মুক্তির দিনে টোহো সিনেমাস ইকেবুকুরোতে ৪১টি প্রদর্শনীর সময়সূচি ছিল, যা প্রাথমিক মুক্তির ব্যাপকতা তুলে ধরে। প্রথম তিন দিনে ছবিটি দেখেছেন ১,৫০৮,৫০০ জন; আয় হয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে ২,২৪০,৩৩৩,৫০০ ইয়েন।
প্রকাশিত প্রধান মাইলফলকগুলোর ধারাবিবরণী থেকে দেখা যায়, গ্রীষ্মের শেষভাগ পেরিয়ে অক্টোবর পর্যন্ত ছবিটির আয় বেড়েছে:
- ২৪ জুলাই: জাপানে মুক্তির প্রথম দিনে আয় ৯৯০ মিলিয়ন ইয়েন।
- প্রথম তিন দিন: ১.৫ মিলিয়নের বেশি দর্শকসহ আয় প্রায় ২.২৪ বিলিয়ন ইয়েন।
- প্রথম ১৪ দিন: আয় ৫ বিলিয়ন ইয়েন ছাড়ায়।
- ২৩ আগস্ট: এক প্রতিবেদনে দর্শকসংখ্যা ৭.৬৬ মিলিয়ন এবং আয় ১০ বিলিয়ন ইয়েন ছাড়ানোর কথা জানানো হয়।
- ৬ সেপ্টেম্বর: ৪৫ দিনে দর্শকসংখ্যা ৯.৬ মিলিয়নে পৌঁছায়; আয় প্রায় ১৩.৯ বিলিয়ন ইয়েন বলে জানানো হয়।
- ১৪ সেপ্টেম্বরের ঘোষণা: ৫২ দিনে দর্শকসংখ্যা ১০ মিলিয়ন এবং আয় ১৪.৬৬ বিলিয়ন ইয়েন ছাড়ায়।
- ২০ সেপ্টেম্বর: ৫৯ দিনে আয় ১৫.৮৪ বিলিয়ন ইয়েন এবং দর্শকসংখ্যা ১০.৮৫৭ মিলিয়ন হয়।
- ৬ অক্টোবর: আয় ১৭.২ বিলিয়ন ইয়েন ছাড়ায়, দর্শকসংখ্যা ১১.৭৮ মিলিয়নের বেশি হয়।
- ১২ অক্টোবর: আয় ১৭.৯ বিলিয়ন ইয়েন এবং দর্শকসংখ্যা ১২.২৯ মিলিয়ন ছাড়ায়।
প্রাথমিক মাইলফলকগুলোর প্রতিবেদনে কিছু পার্থক্য রয়েছে। একটিতে বলা হয়েছে, ৩০ দিন পরই ছবিটির আয় ১০ বিলিয়ন ইয়েন ছাড়ায়; অন্যটিতে ৩১ দিন পর আয় ১১.০৫ বিলিয়ন ইয়েন এবং দর্শকসংখ্যা ৭.৬৬ মিলিয়ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকটি প্রতিবেদনে এক মাস পর প্রায় ১১ বিলিয়ন ইয়েন আয়ের কথা বলা হয়েছে। এগুলোকে একই সময়সীমার অভিন্ন হিসাব হিসেবে দেখা উচিত নয়।
৪৫ দিনের আয়ও কোথাও ১৩.৯ বিলিয়ন ইয়েন, কোথাও ১৩.৮৯ বিলিয়ন ইয়েন বলা হয়েছে; অঙ্কের এই সামান্য পার্থক্য রাউন্ড করে প্রকাশ করার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০ সেপ্টেম্বর ও ১২ অক্টোবরের রাউন্ড করা হিসাব ধরলে, ওই সময়ের মধ্যে ছবিটি প্রায় ২.০৬ বিলিয়ন ইয়েন আয় করেছে এবং দর্শকসংখ্যা বেড়েছে ১.৪৩৩ মিলিয়ন। দর্শকসংখ্যা বলতে বিক্রি হওয়া টিকিট বোঝায়, আলাদা ব্যক্তির সংখ্যা নয়; তাই কতজন পুনরায় ছবিটি দেখেছেন, তা এই হিসাব থেকে জানা যায় না।
বছরের সেরা আয় ও ঐতিহাসিক র্যাঙ্কিংয়ে উত্থান
বক্স অফিস পর্যবেক্ষক সংস্থা কোগিয়ো ৎসুশিনশার বরাতে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জাপানে ২০২৬ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে চিইকাওয়া শীর্ষে ছিল। সেপ্টেম্বরের আগের প্রতিবেদনগুলোতেই এর আয় ডিটেকটিভ কোনান: ফলেন অ্যাঞ্জেল অব দ্য হাইওয়ের ১৩.৭ বিলিয়ন ইয়েন ছাড়িয়েছিল।
মোট আয়ের সঙ্গে জাপানের সর্বকালের আয়-তালিকায় ছবিটির অবস্থানও ওপরে উঠেছে। ৬ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে এর অবস্থান ছিল ২৩তম, জুজুৎসু কাইসেন ০র ঠিক ওপরে; ওই ছবির আয় ছিল ১৩.৮৯ বিলিয়ন ইয়েন। পরের এক প্রতিবেদনে চিইকাওয়া
এই অবস্থানগুলো নির্দিষ্ট সময়ের র্যাঙ্কিং; ১৭.৯ বিলিয়ন ইয়েন আয়ের মাইলফলকের সময়কার হালনাগাদ ঐতিহাসিক অবস্থান হিসেবে এগুলো যাচাই করা হয়নি। একইভাবে, বছরের সেরা আয়ের অবস্থানটি বছর শেষ হওয়ার আগের হিসাব, ২০২৬ সালের চূড়ান্ত ফল নয়।
ছবিটির অগ্রযাত্রা প্রাথমিক তুলনাগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রথম দুই সপ্তাহের পর এর গতির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল এভানজেলিয়ন: ৩.০+১.০ থ্রাইস আপন আ টাইমর, যার চূড়ান্ত আয় ছিল ১০.২৮ বিলিয়ন ইয়েন, এবং হাইকিউ!! দ্য ডাম্পস্টার ব্যাটলর, যার চূড়ান্ত আয় ছিল ১১.৬৪ বিলিয়ন ইয়েন। চিইকাওয়া
অন্ধকারের ইঙ্গিতময় এক দ্বীপের আমন্ত্রণ
সন্দেহজনক একটি প্রচারপত্রে বিশেষ এক দ্বীপে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে চিইকাওয়া, হাচিওয়ারে ও উসাগিকে ঘিরে ছবির গল্প এগোয়। দ্বীপের আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে স্বাভাবিকের ১০০ গুণ পুরস্কারে সহজে দানব শিকার, দ্বীপের বিশেষ রামেন এবং মিষ্টি। প্রচুর খাবার ও উদার পারিশ্রমিকের প্রতিশ্রুতি চরিত্রগুলোকে সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও গ্রীষ্মের অভিযানে টেনে নেয়।
দ্বীপে তারা সাইরেন নামের এক সামুদ্রিক দানব ও তার মারমেইড সঙ্গীদের দেখা পায়। ছুটির আমেজের আড়ালে রয়েছে প্রতিশোধ, অমরত্ব, ভুল-বোঝাবুঝি এবং এমন কিছু সিদ্ধান্তের গল্প, যার পরিণতি থেকে পালানো ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে। নিরীহ চেহারা ও গুরুতর বিপদের এই বৈপরীত্যই ছবিটির আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে।
এই কাহিনির রূপান্তরকে সাধারণত মারমেইড আর্ক, সাইরেন আর্ক বা আইল্যান্ড আর্ক বলা হয়। এর উৎস নিয়ে প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে: কোনো কোনো প্রতিবেদনে একে নাগানো ছবিটির জন্য বিশেষভাবে লেখা দীর্ঘ কাহিনি বলা হয়েছে; আবার অন্যগুলোতে বলা হয়েছে, এটি ২০২৩ সালের মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এক্সে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত মাঙ্গার একটি অংশ। পরের বিবরণগুলো থেকে বোঝা যায়, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই আর্কটি অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছিল। তাই কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া একে প্রেক্ষাগৃহে প্রথম উন্মোচিত সম্পূর্ণ নতুন কাহিনি বলা উচিত নয়।
নাগানো চিত্রনাট্য লিখেছেন এবং রূপান্তরটির তত্ত্বাবধান করেছেন; পরিচালনা করেছেন কেই ওইকাওয়া। ওইকাওয়ার আগের কাজের মধ্যে উমা মুসুমে প্রিটি ডার্বি সিরিজ রয়েছে। প্রযোজনা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে স্টুডিওর নামও ভিন্নভাবে দেওয়া হয়েছে: সাইপিক এবং সাইগেমস পিকচার্স। বিস্তারিত ক্রেডিটের একটি বিবরণে কিউটোরি ইনকরপোরেটেডকে প্রযোজনা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে এবং টোহোকে পরিবেশক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্ধুত্ব, কাজ ও গল্পের কেন্দ্রে থাকা গান
চিইকাওয়া
হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্ট ওয়াহুর জনপ্রিয় সংস্কৃতি-গবেষক জেসন চুন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির আকর্ষণের সঙ্গে উদ্বেগ এবং খোলাখুলিভাবে সংগ্রাম করা চরিত্রদের দেখে দর্শকের মনে পাওয়া আশ্বাসের যোগসূত্র টেনেছেন। অন্য ব্যাখ্যায় এর চাপের সঙ্গে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা, পেশাগত যোগ্যতা এবং স্থবির মজুরির সম্পর্ক টানা হয়েছে। এগুলো কাজটির পাঠ, বক্স অফিস সাফল্যের পেছনে কোনো একটি সামাজিক চাপই কারণ ছিল—এমন প্রমাণ নয়।
ছবিতে বন্ধুত্বের উপস্থাপনায় কিয়ো নো হি ওয়া সায়োনারা, অর্থাৎ “আজকের মতো বিদায়” গানটিও ভূমিকা রেখেছে। শোইচি কানেকো ১৯৬৬ সালে তরুণ ও শিশুদের সমাবেশের জন্য গানটি লেখেন, যেখানে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সময় অংশগ্রহণকারীরা একসঙ্গে গাইতে পারত। ১৯৬৭ সালে জাপান সফরের সময় জোয়ান বায়েজ গানটি জাপানি ভাষায় গেয়েছিলেন; একই বছর রেকর্ড করেছিলেন রিওকো মোরিয়ামা।
গানটির গীতিকার ও সুরকার কানেকো পরে এর উৎস সম্পর্কে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের প্রসঙ্গে বলেছিলেন:
“যুদ্ধবিরোধী এক ভীরু, কোমল হৃদয়ের মানুষের পাথরের আড়াল থেকে নীরবে গুনগুন করে গাওয়া সুর।”
গানটি লেখার আগে তিনি পশ্চিম জার্মানি সফর করে বার্লিন প্রাচীর দেখেছিলেন। এই ইতিহাস বন্ধুত্ব ও ক্রমবর্ধমান সংঘাতের গল্পে গানটির উপস্থিতিকে বিশেষ তাৎপর্য দেয়। ছবিটিকে বৃহত্তর বিশ্বের বিভাজনের সঙ্গে যুক্ত করে যে ব্যাখ্যাগুলো দেওয়া হয়, সেগুলো ব্যাখ্যামাত্র; নাগানোর অভিপ্রেত বার্তা হিসেবে নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি।
বিশেষ প্রদর্শনী ও ফিরতি সংগ্রহযোগ্য উপহার
সেপ্টেম্বরে প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির প্রচার সাধারণ প্রদর্শনীর গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে ফোরডিএক্স প্রদর্শনী শুরু হয়; ছবির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আসন নড়া এবং বাতাস ও পানির প্রভাব যুক্ত হয়। ১১ সেপ্টেম্বর পাঁচটি প্রিফেকচারের সাতটি প্রেক্ষাগৃহে শুরু হয় দর্শকদের উল্লাস-প্রদর্শনী, যেখানে দর্শকেরা মুখে সাড়া দিতে এবং সাইরেনের গানে যোগ দিতে পারতেন।
২৩ সেপ্টেম্বর ওই সাতটি প্রেক্ষাগৃহে পেনলাইট শো অনুষ্ঠিত হয়। পর্দার ঘটনার সঙ্গে মিল রেখে পেনলাইটের রং বদলানো হয়। এসব আয়োজনে কিছু প্রদর্শনী প্রচলিত নীরব অভিজ্ঞতার বদলে সম্মিলিত অনুষ্ঠানে রূপ নেয়; তবে মোট আয়ে এগুলোর প্রতিটির অবদান কতটা, তার কোনো প্রকাশিত হিসাব নেই।
সংগ্রহযোগ্য প্রবেশ-উপহারও প্রচারের আরেকটি অংশ ছিল। ষষ্ঠ দফার আকর্ষণ-যুক্ত ক্ষুদ্র মূর্তিতে রয়েছে চিইকাওয়া ও হাচিওয়ারে, এবং উসাগি ও মোমোঙ্গা। ১০ অক্টোবর থেকে এগুলো বিতরণের ঘোষণা দেওয়া হয়; ওই সপ্তাহান্তেই ছবিটি আবার শীর্ষ স্থানে ফেরে।
ওই তারিখে ষষ্ঠ দফার উপহার প্রথমবার দেওয়া হয়েছিল, নাকি আবার বিতরণ শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে। ৭ অক্টোবরের এক ঘোষণায় মূর্তিগুলোকে ফিরিয়ে আনা উপহার বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে তৃতীয় দফার সাইরেন পুলব্যাক গাড়ি এবং চতুর্থ দফার আকর্ষণ-যুক্ত ক্ষুদ্র মূর্তি বছরের শেষ হওয়ার আগে আবার বিতরণের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। শেষের এই দুই দফার বিতরণের সুনির্দিষ্ট তারিখ তখনও ঘোষণা করা হয়নি।
৭ অক্টোবরের হালনাগাদ ঘোষণায় তারাভরা আকাশের নিচে ক্যাম্পফায়ারের চারপাশে চরিত্রদের নিয়ে দ্বিতীয় প্রধান প্রচার-চিত্রও প্রকাশ করা হয়। সময়ের মিল থেকে বোঝা যায়, নতুন প্রচার ও উপহার সর্বশেষ প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে; তবে এর কোনোটিই আয় বৃদ্ধির কারণ ছিল—এটি প্রমাণ করে না।
দক্ষিণ কোরিয়ায় অল্প ব্যবধানে সাপ্তাহিক জয়
কোরীয় চলচ্চিত্র কাউন্সিল পরিচালিত ট্র্যাকিং পরিষেবা কোবিসের বরাত দিয়ে প্রকাশিত দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাব অনুযায়ী, ৯ থেকে ১১ অক্টোবর ১,০৬৭টি পর্দায় চিইকাওয়ার আয় হয়েছে ৩.১৩ মিলিয়ন ডলার। সাপ্তাহিক বাজারের ২৯.৭ শতাংশ দখল করে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৯.৯ মিলিয়ন ডলারে।
দর্শকসংখ্যার লড়াই ছিল অত্যন্ত কাছাকাছি। স্থানীয় রাজনৈতিক থ্রিলার দ্য অ্যাসাসিন(স) ৪০৭,৬৮০টি টিকিট বিক্রি করেছে—চিইকাওয়াচিইকাওয়া।
পরিবেশক ডেওন মিডিয়ার হিসাব অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ায় চিইকাওয়াটয় স্টোরি ৫, যার দর্শকসংখ্যা ২.৯৪৮ মিলিয়নের বেশি, এবং সুপার মারিও গ্যালাক্সি, যার দর্শকসংখ্যা ১.৬৩৬ মিলিয়নের বেশি।
১২ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বক্স অফিসে চিইকাওয়া
ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিসংখ্যান কী জানায়, আর কী এখনো অনিশ্চিত
নাগানো ২০২০ সালে এক্সে চিইকাওয়া
ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ডিজিটাল দর্শকসংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে ভিন্নতা রয়েছে। একটি প্রতিবেদনে এক্সে অনুসারীর সংখ্যা ৫.৩৫ মিলিয়নের বেশি, অন্যটিতে ৫.৫৫ মিলিয়নের বেশি বলা হয়েছে। অ্যানিমেটির ইউটিউব দেখা ৫০০ মিলিয়নের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে; পরের একটি প্রতিবেদনে পুনঃপ্রচারের স্ট্রিমের দর্শনসংখ্যা ৫৪০ মিলিয়নের বেশি বলা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান বড় দর্শকগোষ্ঠীর ইঙ্গিত দেয়, তবে পরিমাপের তারিখ এক না হওয়ায় সুনির্দিষ্ট প্রবৃদ্ধির হার জানা যায় না।
দক্ষিণ কোরিয়ায় সিরিজটি মুনজাকগুই নামেও পরিচিত; এই ডাকনামটি ছোট ও আদুরে কিছুকে বোঝায়। সেখানে প্রেক্ষাগৃহের সাফল্যের আগে বড় আকারের অস্থায়ী বিক্রয়-আয়োজন এবং পণ্য দ্রুত বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। কোরীয় টিকিট বিক্রির হিসাব জাপানের বাইরেও দর্শকগোষ্ঠীর উপস্থিতি দেখায়, তবে এশিয়ার বাইরের বাজারে ছবিটি কেমন করবে, তা প্রমাণ করে না।
জাপানে ২০ বিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছাতে ১২ অক্টোবরের রাউন্ড করা হিসাব থেকে ছবিটির আরও প্রায় ২.১ বিলিয়ন ইয়েন আয় করতে হবে। এই মাইলফলক কবে আসতে পারে, চূড়ান্ত আয়ের পূর্বাভাস বা প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন শেষ হওয়ার তারিখ—এসবের কোনোটি এই প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিত করা হয়নি। ২০২৬ সালের শেষ হওয়ার আগে সংগ্রহযোগ্য উপহারের বাকি পুনর্বিতরণ নিয়ে প্রচারের পরবর্তী হালনাগাদ আসার কথা।
মূল বিষয়
- ১২ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে আয় ১৭.৯ বিলিয়ন ইয়েন এবং দর্শকসংখ্যা ১২.২৯ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে।
- মুক্তির দ্বাদশ সপ্তাহে সাপ্তাহিক দর্শকসংখ্যায় ছবিটি প্রথম স্থান ফিরে পেয়েছে; দর্শক টেনেছে ৩৭৫,০০০ জন।
- কম টিকিট বিক্রি করেও রেসিডেন্ট ইভিল সাপ্তাহিক আয়ে এগিয়ে ছিল।
- জাপানে ছবিটি ২৪ জুলাই ৪৪৭টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়; এর মধ্যে ৬৫টি ছিল আইম্যাক্স হল।
- সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে বিশেষ প্রদর্শনী এবং সংগ্রহযোগ্য উপহার দেওয়া হয়েছে।
- দক্ষিণ কোরিয়ায় সাপ্তাহিক দর্শকসংখ্যা ৪০৭,৮৯৫ হওয়ায় ২১৫টি টিকিটের ব্যবধানে প্রথম স্থান পেয়েছে ছবিটি।
- সংগ্রহযোগ্য উপহার আবার বিতরণের পরবর্তী তারিখ এবং ছবিটির চূড়ান্ত প্রেক্ষাগৃহ-আয় এখনো ঘোষণা করা হয়নি।






