প্রায় তিন মাস পর নিখোঁজ দেহভস্মের সন্ধানে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান
হংকংয়ের গায়িকা ও অভিনেত্রী অনিতা মুই ইম-ফংয়ের দেহভস্ম রাখা কলসটি ১৮ জুলাই পো লিন মঠ থেকে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তাঁর বড় ভাই পিটার মুই কাই মিং কলসটির সন্ধানে ৫০ হাজার হংকং ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেন। ক্যান্টোপপ তারকার ৬৩তম জন্মদিন হওয়ার কথা ছিল যে ১০ অক্টোবর, সেদিন পরিবার জনসাধারণের কাছে সাহায্যের আবেদন জানায়।
সূচিপত্র
- প্রায় তিন মাস পর নিখোঁজ দেহভস্মের সন্ধানে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান
- ১৮ জুলাই ভক্ত কী দেখেছিলেন
- শৈশবের ডাকনামে চিহ্নিত নিরিবিলি সমাধিস্থল
- পুলিশি তদন্ত ও চুরির অমীমাংসিত প্রশ্ন
- নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, স্ক্রু ঢিলা হওয়ার ভিন্ন ব্যাখ্যা
- ভাইয়ের পুরস্কার ঘোষণা, দেহভস্ম ফেরত চাওয়ার আহ্বান
- মুইয়ের জন্মদিনে কেন আবেদন
- খোঁজ চলার মধ্যে বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া
- দর্শনার্থী ও চালকদের কাছে যে তথ্য চাওয়া হচ্ছে
- মূল বিষয়গুলো
পরিবার জানায়, লানতাউ দ্বীপে মঠের কলাম্বারিয়াম হোই ওয়াই প্যাগোডা দেখতে যাওয়া এক ভক্ত মুইয়ের কুলুঙ্গি-ঢাকা প্যানেলের স্ক্রুগুলো ঢিলা দেখতে পান এবং কলসটি সেখানে নেই বলে বুঝতে পারেন। কলাম্বারিয়াম হলো এমন একটি স্থান, যেখানে দাহের পর দেহাবশেষ আলাদা আলাদা খোপে রাখা হয়; এই খোপগুলোকে কুলুঙ্গি বলা হয়।
নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার প্রায় তিন মাস পর পরিবার জানায়, তদন্তে "কোনো অগ্রগতি" হয়নি এবং ঘটনাটি তাদের "প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা" দিচ্ছে। পুলিশ নিশ্চিত করে, ১৮ জুলাই ঙং পিংয়ের একটি মঠে কোনো বস্তু নিখোঁজ হওয়ার সন্দেহে তারা অভিযোগ পেয়েছিল। ১১ অক্টোবর পুলিশের জবাব দেওয়ার সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যের এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ: পরিবার ও ভক্তগোষ্ঠীগুলো ঘটনাটিকে সম্ভাব্য চুরি বলে বর্ণনা করেছে, আর পুলিশ একে "পুলিশি সহায়তার আবেদন" হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে তখনও চুরি হয়েছে কি না তা নির্ধারণ করছিল। কলসটি কোথায়, কখন এটি নিখোঁজ হয়েছে এবং কে সেটি সরিয়ে থাকতে পারে—এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
১৮ জুলাই ভক্ত কী দেখেছিলেন
পরিবারের বিবৃতি অনুযায়ী, মুইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক ভক্ত সেখানে গেলে ঘটনাটি নজরে আসে। কুলুঙ্গির সামনের প্যানেল আটকে রাখা স্ক্রুগুলো ঢিলা হয়ে গিয়েছিল, আর ভেতরে সাধারণত রাখা কলসটি সেখানে ছিল না। ওই ভক্ত পরিবারকে জানান, পরে পরিবার পুলিশের সহায়তা চায়।
তাই ১৮ জুলাই হলো কলসটি নেই বলে জানার তারিখ, সেটি সরিয়ে নেওয়ার নিশ্চিত তারিখ নয়। এ কারণে শুধু ওই দিন সেখানে যাঁরা ছিলেন তাঁদের কাছে নয়, বরং আরও দীর্ঘ সময়ের মধ্যে—বিশেষ করে জানুয়ারির শুরু থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত—যাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন, তাঁদের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে।
কলাম্বারিয়ামে অন্য কোনো কলস নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পরিবার আরও জানায়, দেহভস্ম ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে টাকা চেয়ে কোনো চাঁদাবাজির ফোনও তারা পায়নি। এসব তথ্য থেকে উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না, আবার চুরির সম্ভাবনাও নাকচ করা যায় না। তবে মুক্তিপণ চাওয়ার বা একাধিক কলস নিখোঁজ হওয়ার কোনো ঘটনা প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি।
শৈশবের ডাকনামে চিহ্নিত নিরিবিলি সমাধিস্থল
২০০৩ সালে ৪০ বছর বয়সে জরায়ুমুখের ক্যানসারে মারা যান মুই। তাঁর মা তাম মেই কাম মেয়ের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল-নির্ভর একটি জায়গায় মঠে তাঁর দেহভস্ম রাখার ব্যবস্থা করেন।
কুলুঙ্গিতে মুইয়ের ছবি বা জনপরিচিত নাম ছিল না। এর বদলে সেখানে তাঁর শৈশবের ডাকনাম "চু নুই" লেখা ছিল, চীনা অক্ষরে 珠女। শিলালিপি সম্পর্কে বিভিন্ন বিবরণে কুয়াংতুংয়ের তাইশানের উল্লেখ রয়েছে, আর তারিখ লেখা হয়েছিল গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকার বদলে চান্দ্র পঞ্জিকা অনুসারে।
এই ব্যবস্থার কারণে ভক্তদের পক্ষে প্রথমে সমাধিস্থলটি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়েছিল। জানা যায়, এক কর্মী তাঁদের আসল কুলুঙ্গিটি দেখিয়ে দেওয়ার আগে ভক্তরা দুই বছর ধরে খুঁজেছিলেন। কাউলুন টংয়ের একটি স্থানসহ অন্য কয়েকটি স্মৃতিচিহ্নের কাছে আগে শ্রদ্ধা জানানো হলেও সেসব জায়গায় তাঁর দেহভস্ম ছিল না বলে জানা যায়।
মুইয়ের মৃত্যুর ১২ বছর পর, ২০১৫ সালে স্থানটির কথা প্রকাশ্যে আসে। বর্তমান আবেদনটি পরিবারের আগের গোপনীয়তা রক্ষার পছন্দের উল্টো: মেয়ের শান্তির কথা ভেবে বেছে নেওয়া ওই স্থানে কী ঘটেছে তা জানতে এখন তাঁরা দর্শনার্থী, চালক ও সাধারণ মানুষের সহায়তা চাইছেন।
পুলিশি তদন্ত ও চুরির অমীমাংসিত প্রশ্ন
১১ অক্টোবর পুলিশের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেন, ১৮ জুলাই লানতাউ দ্বীপের একটি মঠ থেকে কোনো বস্তু নিখোঁজ হওয়ার সন্দেহে পুলিশ অভিযোগ পেয়েছিল। পুলিশ জানায়, লানতাউ জেলা অপরাধ দমন দল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং অভিযোগকারী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে।
পরবর্তী খবরগুলোতে বলা হয়, তদন্তের দায়িত্ব নিউ টেরিটরিজ সাউথ আঞ্চলিক অপরাধ দমন ইউনিটে দেওয়া হয়েছে। তবে জনসাধারণের কাছে দেওয়া আবেদনে লানতাউ জেলা অপরাধ দমন দলের ফোন নম্বর ও তথ্য জানানোর হোয়াটসঅ্যাপ হটলাইনই রাখা হয়। আবেদনের বিবরণে কাউকে গ্রেপ্তার বা কলস উদ্ধারের কোনো ঘোষণা ছিল না।
তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে পরিবারের বক্তব্য তাদের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। পুলিশ প্রকাশ্যে জানায়নি, কী কী অনুসন্ধান শেষ হয়েছে, কী প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বা তদন্তকারীরা কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছেন কি না। কোনো ফল ঘোষিত না হওয়াকে তদন্তে কোনো কাজই হয়নি—এর প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
খবরে বলা হয়েছে, কলাম্বারিয়ামে পৃথক কুলুঙ্গি কখন খোলা হয়েছে, তার কোনো নথি রাখা হতো না। এ ধরনের নথি না থাকায় তদন্তকারীরা খোলার লগ দেখে সহজে নির্ধারণ করতে পারবেন না, কলসটি সর্বশেষ কখন সেখানে ছিল বা খোপটিতে কারা প্রবেশ করেছিলেন। কলস সরিয়ে নেওয়ার কোনো নিশ্চিত তারিখ প্রকাশ করা হয়নি।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, স্ক্রু ঢিলা হওয়ার ভিন্ন ব্যাখ্যা
ঢিলা স্ক্রুগুলো ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে, তবে এর কারণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। প্যাগোডার এক ভিক্ষু প্রশ্ন তোলেন, স্ক্রু ঢিলা হওয়া থেকেই চুরির প্রমাণ মেলে কি না। তিনি বলেন, তাপমাত্রার পরিবর্তনে প্রসারণ ও সংকোচনের কারণে স্বাভাবিকভাবেই স্ক্রুগুলো ঢিলা হয়ে থাকতে পারে। এটি ভিক্ষুর দেওয়া একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, তদন্তকারীদের ঘোষিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
ভিক্ষু বলেন, প্যাগোডায় সিসিটিভি ও নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা ছিল এবং কয়েক মাস আগেই বিষয়টি কার্যালয়ের নজরে আনা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, কী ঘটেছিল তা বুঝতে পরে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়েছিলেন।
১১ অক্টোবরের একটি বিবরণে বলা হয়, কুলুঙ্গির প্যানেলে থাকা ছয়টি স্ক্রুই অক্ষত ছিল এবং দৃশ্যমান কোনো ক্ষতি ছিল না। পরবর্তী সময়ের এই পর্যবেক্ষণ থেকে ১৮ জুলাই প্যানেলটি দেখতে কেমন ছিল, সেটি আবার লাগানো হয়েছিল কি না বা কলসটির কী হয়েছিল—তা জানা যায় না। স্ক্রু ঢিলা হওয়ার ব্যাখ্যা থেকেও নিজে নিজে দেহভস্ম নিখোঁজ হওয়ার কারণ মেলে না।
তদন্ত চলায় মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় পো লিন মঠ। প্রাসঙ্গিক কোনো ঘটনা সিসিটিভিতে ধরা পড়েছিল কি না, রেকর্ডিংয়ে কোন সময়সীমা ছিল বা ঘটনাপ্রবাহ নির্ধারণে ফুটেজ পুলিশকে সহায়তা করেছিল কি না—এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি।
ভাইয়ের পুরস্কার ঘোষণা, দেহভস্ম ফেরত চাওয়ার আহ্বান
বোনের দেহভস্ম উদ্ধারে সহায়ক তথ্যের জন্য ৫০ হাজার হংকং ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেন পিটার মুই কাই মিং। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই অঙ্ককে প্রায় ৮ হাজার ১০০ বা ৮ হাজার ১৫০ সিঙ্গাপুর ডলারে রূপান্তর করা হয়েছে; হংকং ডলারে ঘোষিত পুরস্কারের অঙ্কটি একই ছিল।
তিনি বলেন, প্রায় তিন মাস আগে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হলেও গণমাধ্যমের যোগাযোগের পরই তিনি নিখোঁজ হওয়ার কথা জানতে পারেন। তিনি জানান, সমাধিস্থলে তাঁর শেষবার যাওয়া ছিল ২০২৫ সালের জুলাইয়ে। পরিবারের আবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কলসটি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানা যায় ২০২৬ সালের ১৮ জুলাই এবং জনসাধারণের কাছে সাহায্য চাওয়া হয় ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর।
মুই কাই মিং বলেন, তিনি দেহভস্ম অক্ষত অবস্থায় ফেরত চান; তা হলে আর কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। তিনি আরও বলেন, দেহভস্ম অন্য একটি অধিক নিরাপদ ও গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর রয়েছে। এটি তাঁর নিজের ইচ্ছার কথা; পুলিশি ব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি, পরিবারের সবার নিশ্চিত সিদ্ধান্তও নয়।
তিনি আলাদাভাবে বলেন, তাঁদের মায়ের দেহভস্মেরও কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। এ দাবির পক্ষে পুলিশের কোনো নিশ্চিত বক্তব্য বা অনিতা মুইয়ের নিখোঁজ কলসের সঙ্গে এর যোগসূত্রের প্রমাণের খবর পাওয়া যায়নি। তাই এই দুই ঘটনাকে নিশ্চিতভাবে সম্পর্কিত নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।
মুইয়ের জন্মদিনে কেন আবেদন
১০ অক্টোবর অনিতা মুই আন্তর্জাতিক ভক্ত ক্লাব পরিবারের আবেদনটি প্রচার করে। মুইয়ের মায়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পুন সিউ-মান বলেন, জনসাধারণের নজর খোঁজাখুঁজির দিকে আনতেই ওই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছিল। পুনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবীণ ভক্তরা বার্ষিক জন্মদিনের স্মরণানুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করার জন্য পরিবার ও ভক্ত ক্লাব অপেক্ষা করেছিল।
শোকের আরেকটি সময়ের মধ্যে এ আবেদন আসে। তাম মেই কাম আগস্টে ১০২ বছর বয়সে মারা যান; একটি বিবরণে তাঁর মৃত্যুর তারিখ ৩০ আগস্ট বলা হয়েছে। পরিবার জানায়, মুইয়ের দেহভস্ম হারানো এবং তাঁর মায়ের মৃত্যু—দুটি ঘটনাই তাদের জন্য বড় আঘাত; এতে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে অবসন্ন হয়ে পড়েছে।
আলাদা ভক্ত ক্লাব মুই নেশন পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানায় এবং কলাম্বারিয়ামের ব্যবস্থাপকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করে নিজেদের দায়িত্ব ব্যাখ্যা করার দাবি তোলে। বিবৃতিতে ঘটনাটিকে এভাবে বর্ণনা করে ক্লাবটি:
চরম অযৌক্তিক এবং নীতি-নৈতিকতার পরিপন্থী।
মুইয়ের শিক্ষানবিশ, গায়ক ও অভিনেতা প্যাট্রিক তাম ইউ-মানও আশা প্রকাশ করেন, পুলিশ দ্রুত কলসটি উদ্ধার করবে। তিনি আপাত অবহেলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর প্রতিক্রিয়া দেহাবশেষ কীভাবে সুরক্ষিত রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে উদ্বেগের প্রকাশ; দায়িত্ব কার ছিল, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
খোঁজ চলার মধ্যে বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া
মুইয়ের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও বিমা নির্বাহী 連炎輝 এই শোকের বিষয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, দেহভস্ম হলো পার্থিব অবশেষ; কিন্তু মানুষের হৃদয়ে মুইয়ের স্থান, তাঁর শিল্পীসত্তার অবদান, গান ও চলচ্চিত্র কেড়ে নেওয়া যায় না। মৃত্যু সম্পর্কে বৌদ্ধধর্মের প্রতি নিজের উপলব্ধির ভিত্তিতে তিনি এ কথা বলেন।
মুইয়ের ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাঁদের বন্ধুত্ব। গানের প্রতিযোগিতায় জেতার পর বিমা নেওয়ার ক্ষেত্রে মুই ছিলেন তাঁর প্রথম দিকের গ্রাহকদের একজন। তাঁর এ প্রতিক্রিয়া কলস উদ্ধারে পরিবারের ইচ্ছাকে অস্বীকার করেনি। তিনি নিখোঁজ দেহাবশেষ থেকে মুইকে চেনা মানুষদের ব্যক্তিগত ও শিল্পীসত্তার স্থায়ী বন্ধনকে আলাদা করে দেখেছেন।
নিখোঁজ হওয়া ও আবেদন জানানো-সংক্রান্ত প্রধান তারিখগুলো হলো:
- ২০০৩: জরায়ুমুখের ক্যানসারে ৪০ বছর বয়সে মারা যান মুই; তাঁর দেহভস্ম পো লিন মঠে রাখার ব্যবস্থা করে পরিবার।
- ২০১৫: গোপনে চিহ্নিত কুলুঙ্গিটির অবস্থান প্রকাশ্যে জানানো হয়।
- ১৮ জুলাই, ২০২৬: সেখানে যাওয়া এক ভক্ত কলসটি নিখোঁজ দেখতে পান এবং পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
- আগস্ট: মুইয়ের মা ১০২ বছর বয়সে মারা যান; একটি বিবরণে তাঁর মৃত্যুর তারিখ ৩০ আগস্ট বলা হয়েছে।
- ১০ অক্টোবর, ২০২৬: মুইয়ের ৬৩তম জন্মদিন হওয়ার কথা ছিল যে দিনে, সেদিন পরিবার জনসাধারণের কাছে আবেদন জানায়।
- ১১ অক্টোবর: পুলিশ ১৮ জুলাইয়ের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং জানায়, কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
দর্শনার্থী ও চালকদের কাছে যে তথ্য চাওয়া হচ্ছে
পরিবার ১৮ জুলাই বা তার আগে হোই ওয়াই প্যাগোডা কিংবা পো লিন মঠ এলাকায় যাওয়া সবাইকে—বিশেষ করে জানুয়ারির শুরু থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে যাঁরা গিয়েছিলেন—সন্দেহজনক কিছু দেখে থাকলে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছে। কলসের মতো দেখতে কোনো বস্তু বহন করতে কাউকে দেখেছেন কি না, আবেদনে বিশেষভাবে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
জুলাই মাসে ওই এলাকায় যাওয়া চালকদের ড্যাশক্যামের রেকর্ডিং, বিশেষ করে ১৮ জুলাইয়ের আগের ফুটেজ দেখতে অনুরোধ করা হয়েছে। আবেদনের কিছু বিবরণে চালকদের জন্য জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিস্তৃত সময়সীমার কথা বলা হলেও, পরিবারের প্রচারিত বিবৃতিতে ড্যাশক্যামের ফুটেজ চাওয়া হয়েছে জুলাইয়ে ওই এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে। জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ সময়সীমাটি সাক্ষ্যদাতাদের কাছ থেকে তথ্য চাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
কোনো সূত্র, ছবি বা ভিডিও থাকলে লানতাউ জেলা অপরাধ দমন দলের +852 3661 1938 নম্বরে অথবা হোয়াটসঅ্যাপ হটলাইনে +852 4740 1308 যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, তথ্য গোপন রাখা হবে।
তথ্য দেওয়ার শেষ তারিখ, পুলিশের পরবর্তী আপডেটের নির্ধারিত সময় বা কলস উদ্ধারের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো কলসটির কী হয়েছে তা জানা এবং দেহভস্ম খুঁজে পাওয়া। চুরি হয়েছিল কি না, কুলুঙ্গিতে কারা প্রবেশ করেছিলেন এবং নিরাপত্তা ক্যামেরার রেকর্ডিংয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে কি না—তা এখনো প্রকাশ্যে অমীমাংসিত।
মূল বিষয়গুলো
- ১৮ জুলাই এক ভক্তের পরিদর্শনের পর পো লিন মঠ থেকে অনিতা মুইয়ের দেহভস্মের কলসটি নিখোঁজ হওয়ার খবর জানানো হয়।
- নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানানোর প্রায় তিন মাস পর, ১০ অক্টোবর পরিবার জনসাধারণের কাছে আবেদন জানায়।
- পুলিশ ঘটনাটিকে সহায়তার আবেদন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে; কাউকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
- দেহভস্ম উদ্ধারে সহায়ক তথ্যের জন্য পিটার মুই কাই মিং ৫০ হাজার হংকং ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।
- মুক্তিপণ চাওয়ার বা কলাম্বারিয়ামে অন্য কোনো কলস নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
- আবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ, ছবি, ভিডিও ও ড্যাশক্যামের ফুটেজ চাওয়া হয়েছে। তথ্য জানাতে +852 3661 1938 নম্বরে অথবা হোয়াটসঅ্যাপে +852 4740 1308 যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।






