১৩ অক্টোবরের ঘোষণায় তদন্তের মুখে প্রভাবশালী অর্থনৈতিক উপদেষ্টা
কমিউনিস্ট পার্টির নেতা বো শিলাইয়ের পতনের পরও যিনি পদে বহাল ছিলেন, সেই চংকিংয়ের সাবেক মেয়র হুয়াং চিফানের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগে তদন্ত চলছে বলে ১৩ অক্টোবর ঘোষণা দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। ৭৪ বছর বয়সী হুয়াং ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়রের পদ ছাড়েন, তবে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ও বক্তা হিসেবে জনসমক্ষে উপস্থিত হতে থাকেন।
সূচিপত্র
- ১৩ অক্টোবরের ঘোষণায় তদন্তের মুখে প্রভাবশালী অর্থনৈতিক উপদেষ্টা
- শৃঙ্খলাগত ঘোষণায় যা নিশ্চিত হয়েছে
- সাংহাইয়ের কারখানা থেকে চংকিংয়ের মেয়র পদে
- বো শিলাইয়ের সংকট, যা হুয়াং এড়িয়ে যান
- পদ ছাড়ার পরও অর্থনীতিবিষয়ক জনভূমিকা
- বাতিল ফোরাম ও আয়োজক নিয়ে ভিন্ন তথ্য
- আলাদা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক মামলা, যোগসূত্র নিশ্চিত নয়
- সময়রেখা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
- যা জানা দরকার
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা পরিদর্শন কমিশন এবং জাতীয় তদারকি কমিশন এই শৃঙ্খলাগত পর্যালোচনা ও তদারকি তদন্ত পরিচালনা করছে। ঘোষণায় হুয়াংকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নগরীটির কমিউনিস্ট পার্টির চংকিং পৌর কমিটির সাবেক উপসচিব এবং মেয়র হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে। তবে অভিযোগে কী ধরনের অসদাচরণ রয়েছে, তা কখন ঘটেছে বা কোন পদে থাকার সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
ঘোষণার আগে খবর প্রকাশিত হয়, ২৬ অক্টোবর হাংজৌতে নির্ধারিত একটি ফোরাম বাতিল করা হয়েছে। সেখানে হুয়াংয়ের প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সাবেক সরকারি পদের বদলে একাডেমিক ও নীতিবিষয়ক উপদেষ্টার পরিচয়ে তাঁকে অনুষ্ঠানের প্রচারে তুলে ধরা হয়েছিল। তদন্তের সঙ্গে অনুষ্ঠান বাতিলের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনায় চংকিংয়ের অর্থনীতি পরিচালনা এবং চীনের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির মধ্যেও টিকে থাকা এক রাজনীতিকের প্রতি নতুন করে মনোযোগ তৈরি হয়েছে। ২০১২ সালে বোকে অপসারণের পরও হুয়াংয়ের পদে বহাল থাকা, ওই ঘটনায় জড়িয়ে পড়া অন্য কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার তুলনায় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরে।
এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো, তদন্ত চলছে; কোনো দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবর নয়। কর্তৃপক্ষ অভিযোগের বিস্তারিত, আদালতের কার্যক্রম বা সিদ্ধান্তের সময়সীমা জানায়নি। মন্তব্যের জন্য হুয়াংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁকে আইনজীবী রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না, তাও স্পষ্ট নয়।
শৃঙ্খলাগত ঘোষণায় যা নিশ্চিত হয়েছে
ঘোষণায় ‘শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের গুরুতর সন্দেহ’—এই প্রচলিত ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগসংক্রান্ত তদন্তে সাধারণত এ ধরনের শব্দবন্ধ দেখা যায়, কিন্তু এতে কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধের কথা বলা হয়নি। একে হুয়াং ঘুষ নিয়েছেন, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার করেছেন বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কাজ করেছেন—এমন সিদ্ধান্ত হিসেবে পড়া উচিত নয়।
ঘোষণায় উল্লেখ করা দুটি সংস্থা সম্পর্কিত হলেও ভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে। দলীয় শৃঙ্খলা বলতে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের জন্য নির্ধারিত নিয়ম বোঝায়। তদারকি তদন্তে সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য অসদাচরণ বা আইন লঙ্ঘন খতিয়ে দেখা হয়। উভয় প্রক্রিয়ার উল্লেখ থেকে পর্যালোচনার পরিধি বোঝা যায়, তবে এর চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হয় না।
কয়েকটি মৌলিক তথ্য এখনো অপ্রকাশিত: অভিযোগগুলো হুয়াংয়ের সাংহাইয়ে কাটানো বছরগুলোর সঙ্গে, চংকিংয়ের প্রশাসনের সঙ্গে, পরবর্তী সংসদীয় দায়িত্বের সঙ্গে, নাকি পরে উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত। সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ, লেনদেন বা এতে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের সম্পর্কেও ঘোষণায় কোনো তথ্য নেই।
সাংহাইয়ের কারখানা থেকে চংকিংয়ের মেয়র পদে
হুয়াং ১৯৫২ সালের মে মাসে ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝুজিতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে সাংহাই কোকিং প্ল্যান্টে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। সেখানে তিনি কোক ওভেন কর্মশালার শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে পরে প্রকৌশলী হন। ১৯৮৩ সালে তিনি সাংহাইয়ের পৌর প্রশাসনে যোগ দেন এবং অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করেন।
সাংহাইয়ে তাঁর পদগুলোর মধ্যে ছিল পৌর পার্টি কমিটির উপমহাসচিব এবং পৌর সরকারের উপমহাসচিব। তিনি পার্টি কমিটির গবেষণা দপ্তরের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রকাশিত জীবনবৃত্তান্তে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং গবেষণাগত যোগ্যতার উল্লেখ রয়েছে।
২০০১ সালে উপমেয়র হিসেবে হুয়াং চংকিংয়ে যান। ২০১০ সালে তিনি মেয়র এবং পৌর পার্টি কমিটির উপসচিব হন। তখন বো শিলাই নগরীটির পার্টিপ্রধান ছিলেন, ফলে হুয়াং শহরটির সরকারের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিলেন।
এই অগ্রযাত্রাই অর্থনৈতিক নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর পরিচিতির ভিত্তি। এ ধরনের পরিচয় সাধারণত কারিগরি ও নীতিগত দক্ষতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। শিল্পোন্নয়ন, বিনিয়োগ, ব্যাংকিং, আবাসন ও পৌর অর্থায়ন নিয়ে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা ছিল। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়র পদ ছাড়ার মধ্য দিয়ে ওই পদে প্রায় ছয় বছর এবং চংকিংয়ের প্রশাসনে প্রায় ১৫ বছরের অধ্যায় শেষ হয়।
বো শিলাইয়ের সংকট, যা হুয়াং এড়িয়ে যান
হুয়াংয়ের মেয়রত্বের সময়কার বড় রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয় ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সে সময় চংকিংয়ের উপমেয়র এবং সম্প্রতি পদচ্যুত পুলিশপ্রধান ওয়াং লিজুন চেংদুতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন। ওয়াংকে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে রাজি করাতে হুয়াং কনস্যুলেটে যান। এ ঘটনার পর ওয়াং, বো এবং বোয়ের স্ত্রী গু কাইলাইকে নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
ব্রিটিশ ব্যবসায়ী নিল হেউডকে হত্যার দায়ে গু ২০১২ সালের আগস্টে দোষী সাব্যস্ত হন এবং দুই বছরের জন্য স্থগিত মৃত্যুদণ্ড পান। পরের মাসে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ নেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে ওয়াংয়ের ১৫ বছরের কারাদণ্ড হয়। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঘুষ, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে বোকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বো নগরীটির পার্টি সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের তদারকির দায়িত্বে থাকায় হুয়াং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একবার হুয়াং তাঁদের সম্পর্ককে “মাছ ও পানির” মতো বলে বর্ণনা করেছিলেন। তবে বোকে অপসারণের পর হুয়াং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান এবং মেয়র পদে বহাল থাকেন।
২০১৩ সালে চংকিংয়ের মেয়র হিসেবে কথা বলতে গিয়ে হুয়াং তাঁর সাবেক ঊর্ধ্বতনের কর্মকাণ্ডের কিছু দিক প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, বোয়ের উত্তরাধিকার “মুছে ফেলা হয়েছে” এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোকে এভাবে বর্ণনা করেন:
লোকদেখানো প্রকল্প
হুয়াং বলেন, এসব প্রকল্প “মানুষকে ক্লান্ত করেছে এবং অর্থের অপচয় ঘটিয়েছে”; এগুলো আর হতে দেওয়া হবে না। ওই বছর তাঁর সরকারের কাজের প্রতিবেদনে বো ও ওয়াংয়ের মামলার গুরুতর প্রভাব কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বজায় রাখার প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়।
বর্তমান ঘোষণায় হুয়াংয়ের তদন্তের সঙ্গে ওই পুরোনো কেলেঙ্কারির কোনো যোগসূত্রের কথা বলা হয়নি। বোয়ের সঙ্গে তাঁর সাবেক সম্পর্ক মামলাটি ঘিরে মনোযোগের ব্যাখ্যা দিতে পারে, তবে বর্তমান তদন্তের বিষয়বস্তু কী, তা প্রমাণ করে না।
পদ ছাড়ার পরও অর্থনীতিবিষয়ক জনভূমিকা
২০১৭ সালে হুয়াং দ্বাদশ জাতীয় গণকংগ্রেসের অর্থ ও অর্থনীতি বিষয়ক কমিটির উপচেয়ারম্যান হন। ২০১৮ সালে তিনি ওই পদ ছাড়েন। এরপরও একাডেমিক, উপদেষ্টা ও নীতিবিষয়ক আলোচনায় যুক্ত থেকে অর্থায়ন, আবাসন, শিল্পনীতি ও প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলতে থাকেন।
পরে তাঁর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে চায়না ফাইন্যান্স ৪০ ফোরামের একাডেমিক উপদেষ্টা এবং চায়না ইনস্টিটিউট ফর ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজির একাডেমিক কমিটির নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যানের পদ। বাতিল হওয়া হাংজৌ অনুষ্ঠানের প্রচারপত্রে তাঁকে ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক এবং চায়না সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক এক্সচেঞ্জেসের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও পরিচয় করানো হয়।
হুয়াংয়ের জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে অতিরিক্ত আবাসন জল্পনা ও ঋণ নেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা ছিল। তিনি পুঁজিবাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার পক্ষে মত দেন; একই সঙ্গে শেয়ারভিত্তিক অর্থায়নের আরও উন্নত ব্যবস্থার কথাও বলেন। শেয়ারভিত্তিক অর্থায়ন হলো ঋণ না নিয়ে মালিকানার অংশ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করা।
হুয়াং প্রায় ১০ বছর ধরে অবসরপ্রাপ্ত—এ ধরনের বর্ণনা মূলত মেয়র পদ ছাড়ার পর থেকে সময়টিকে বোঝায়। এর অর্থ এই নয় যে তিনি জনপরিসর থেকে সরে গিয়েছিলেন: মেয়র পদ ছাড়ার পরই তিনি সংসদীয় দায়িত্ব পান, আর এরপরও তাঁর বক্তৃতা ও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অব্যাহত ছিল।
বাতিল ফোরাম ও আয়োজক নিয়ে ভিন্ন তথ্য
২৬ অক্টোবর একটি হোটেলে হাংজৌতে হুয়াংয়ের উপস্থিতির কথা নির্ধারিত ছিল। প্রধান বক্তা হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ফোরামের শিরোনামে হাংজৌতে ব্যবসার উন্নয়নে সহায়তার জন্য নতুন উৎপাদনশীল শক্তি কাজে লাগানোর কথা ছিল। খবরে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে নোটিশ দিয়ে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়।
আয়োজক ব্যাংক কোনটি, তা নিয়ে প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। একটি প্রতিবেদনে ব্যাংক অব হাংজৌকে আয়োজক বলা হয়েছে। আরও বিস্তারিত আরেকটি প্রতিবেদনে ব্যাংক অব নিংবোর হাংজৌ শাখার নাম উল্লেখ করে ফোরামের পূর্ণ চীনা নাম দেওয়া হয়েছে। আয়োজকের কোনো প্রকাশিত বিবৃতিতে এই অসংগতি মীমাংসা করা হয়নি।
সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হুয়াংয়ের তদন্তের কথা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে ঘোষণার আগেই অনুষ্ঠান বাতিলের খবর ছড়ায়। তবে শুধু এ থেকে অনুষ্ঠানটি কেন বাতিল হয়েছিল বা আয়োজকেরা কখন তদন্তের খবর জানতে পেরেছিলেন, তা নিশ্চিত হয় না। নতুন কোনো তারিখ বা পুনর্নির্ধারিত অনুষ্ঠানের কথা ঘোষণা করা হয়নি।
অনুষ্ঠানের প্রচারপত্রে থাকা হুয়াংয়ের পরিচিতি আরও দেখায়, ব্যবসায়ী শ্রোতাদের সামনে তাঁকে কীভাবে তুলে ধরা হচ্ছিল: শুধু সাবেক মেয়র হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রভাবশালী মতামত দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন একাডেমিক ও নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে।
আলাদা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক মামলা, যোগসূত্র নিশ্চিত নয়
চায়না সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক এক্সচেঞ্জেসের দিকেও নজর পড়েছে, কারণ হাংজৌ ফোরামে হুয়াংকে প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যানদের একজন হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছিল। খবরে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বি জিংকুয়ানের বিরুদ্ধে আগের বছরের মে মাসে তদন্ত শুরু হয় এবং পরে তাঁকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দেওয়ার সময় ঘুষ নেওয়ার বিষয়ও ছিল।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা জানুয়ারিতে জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন থেকে চীনের সামাজিক বিজ্ঞান একাডেমিতে বদল করা হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন হয়।
এই ঘটনাগুলো এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যার সঙ্গে হুয়াংয়ের প্রকাশ্য সম্পর্ক ছিল। তবে শৃঙ্খলাগত ঘোষণায় তাঁর তদন্তকে বিকে নিয়ে মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি। কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা একাই অন্যের অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়। ওই দণ্ডের ভিত্তি হওয়া লেনদেনে হুয়াং অংশ নিয়েছেন—এমন কোনো অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি।
হুয়াং সম্পর্কে সরকারি বিবরণ এখনো চংকিংয়ে তাঁর সাবেক পদগুলোর মধ্যেই সীমিত। তদন্তকারীরা প্রতিষ্ঠানে তাঁর পরবর্তী কাজ, বা অন্য কোনো উপদেষ্টা সংস্থায় তাঁর কার্যক্রম খতিয়ে দেখছেন কি না, তা জানানো হয়নি।
সময়রেখা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
হুয়াংয়ের কর্মজীবন এবং ঘোষণাকে ঘিরে ঘটনাগুলো কয়েক দশকজুড়ে বিস্তৃত। প্রধান তারিখগুলো তাঁর সরকারি দায়িত্ব এবং মেয়র পদ ছাড়ার পরও চলা জনপরিসরের কর্মকাণ্ডের পার্থক্য তুলে ধরে:
- মে ১৯৫২: ঝেজিয়াংয়ের ঝুজিতে হুয়াংয়ের জন্ম।
- ১৯৬৮: সাংহাই কোকিং প্ল্যান্টে কাজ শুরু করেন।
- ১৯৮৩: সাংহাইয়ের পৌর প্রশাসনে যোগ দেন।
- ২০০১: উপমেয়র হিসেবে চংকিংয়ে যোগ দেন।
- ২০১০: চংকিংয়ের মেয়র ও পৌর পার্টি কমিটির উপসচিব হন।
- ফেব্রুয়ারি ২০১২: ওয়াং লিজুন চেংদুতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন; তাঁকে বেরিয়ে আসতে রাজি করাতে হুয়াং সেখানে যান।
- সেপ্টেম্বর ২০১৩: বো শিলাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। হুয়াং মেয়র পদে বহাল থাকেন।
- ডিসেম্বর ২০১৬: হুয়াং মেয়র পদ ছাড়েন।
- ২০১৭ থেকে ২০১৮: জাতীয় গণকংগ্রেসের অর্থ ও অর্থনীতি বিষয়ক কমিটির উপচেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৩ অক্টোবর: কর্তৃপক্ষ হুয়াংয়ের শৃঙ্খলাগত পর্যালোচনা ও তদারকি তদন্তের ঘোষণা দেয়।
- ২৬ অক্টোবর: হাংজৌতে তাঁর নির্ধারিত ফোরামে অংশগ্রহণ বাতিল হয়।
শুনানির তারিখ, অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত বা তদন্ত শেষ করার সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। পরবর্তী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে তদন্তের ফল বা তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত জানিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি। ততদিন অভিযোগের বিষয়বস্তু অপ্রকাশিত রেখেই মামলাটি তদন্ত পর্যায়ে থাকবে।
যা জানা দরকার
- চংকিংয়ের সাবেক মেয়র ৭৪ বছর বয়সী হুয়াং চিফানের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাগত পর্যালোচনা ও তদারকি তদন্ত চলছে বলে ১৩ অক্টোবর ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
- ঘোষণায় দলীয় শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ করা হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধের কথা বলা হয়নি।
- ২০১২ সালে বো শিলাইকে অপসারণের পরও হুয়াং মেয়র পদে বহাল ছিলেন এবং ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে পদটি ছাড়েন।
- ২৬ অক্টোবর হাংজৌতে হুয়াংয়ের বক্তৃতার কথা থাকলেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়াই ফোরামটি বাতিল করা হয়।
- ফোরামের আয়োজক কোন ব্যাংক, তা নিয়ে প্রতিবেদনে মতভেদ রয়েছে।
- হুয়াংয়ের তদন্তের সঙ্গে বোয়ের কেলেঙ্কারি বা বি জিংকুয়ানকে ঘিরে আলাদা মামলার কোনো আনুষ্ঠানিক যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
- আদালতে হাজিরার তারিখ বা তদন্তের সময়সীমা জানানো হয়নি; হুয়াং আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ পেয়েছেন কি না, তাও স্পষ্ট নয়।






