মন্ত্রিসভার অনুমোদনে মুক্তির নতুন পথ খুলল
দক্ষিণ কোরিয়ার মন্ত্রিসভা ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন অ্যাক্টের একটি সংশোধনী অনুমোদন করেছে। এর ফলে যোগ্য মিউজিক ভিডিও প্রযোজক ও পরিবেশকেরা নিজেরাই ভিডিওর দর্শক-উপযোগী বয়সসীমা নির্ধারণ করতে পারবেন। পরিবর্তনটি কার্যকর হলে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি ভিডিও প্রকাশের আগে কোরিয়া মিডিয়া রেটিং বোর্ডের কাছ থেকে শ্রেণিবিন্যাস নিতে হবে না; তবে সরকারি তদারকি বহাল থাকবে।
সূচিপত্র
- মন্ত্রিসভার অনুমোদনে মুক্তির নতুন পথ খুলল
- ভিডিও জনসমক্ষে আসার আগে কী বদলাবে
- উৎপাদনের পরিসংখ্যান ঐচ্ছিক ব্যবস্থার কারণ ব্যাখ্যা করে
- নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যাবে রেটিং নির্ধারণের দায়িত্ব
- ভুল রেটিংয়ের জন্য আলাদা শাস্তি হতে পারে
- অনলাইনে আইন প্রয়োগে যুক্ত হচ্ছে সংশোধনের ব্যবস্থা
- ২০১২ সালের বিধি দেখায় কী পুনর্গঠিত হচ্ছে
- অন্যান্য খাতে ব্যবহৃত মডেলে যুক্ত হচ্ছে সংগীত
- নিবন্ধনের নিয়ম ও শুরুর তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়
- মূল বিষয়গুলো
সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশোধিত আইনটি প্রজ্ঞাপনের এক বছর পর কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপন হলো আইনের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ। তাই মন্ত্রিসভার অনুমোদনের দিন থেকে সংস্থাগুলো এই ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করতে পারবে না। প্রজ্ঞাপনের তারিখ বা সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবস্থা চালুর দিন জানানো হয়নি।
নতুন ব্যবস্থায় মিউজিক ভিডিও এবং সংগীত-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ভিডিও কনটেন্ট অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রিতে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে রেটিং বোর্ডে নিবন্ধন করতে হবে, কনটেন্টের শ্রেণিবিন্যাস করতে হবে এবং বিতরণ বা প্রকাশের আগে বোর্ডকে জানাতে হবে। কনটেন্ট জনসমক্ষে আনার আগেই রেটিং প্রদর্শন করাও বাধ্যতামূলক।
বিনোদন সংস্থাগুলোর জন্য বাস্তব পরিবর্তনটি হলো, মুক্তি-প্রক্রিয়ার একটি ধাপের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে আসবে। নিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্বভাবে শ্রেণিবিন্যাস শেষ করে বোর্ডকে জানানোর পর আলাদা বোর্ড-শ্রেণিবিন্যাসের জন্য অপেক্ষা না করেই কনটেন্ট প্রকাশ করতে পারবে। এতে বয়সভিত্তিক রেটিং বা তরুণ দর্শকদের সুরক্ষার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত বাধ্যবাধকতা উঠে যাচ্ছে না।
ভিডিও জনসমক্ষে আসার আগে কী বদলাবে
বর্তমান ব্যবস্থায় মিউজিক ভিডিও তৈরি বা বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কনটেন্ট সরবরাহের আগে কোরিয়া মিডিয়া রেটিং বোর্ডের কাছ থেকে রেটিং নিতে হয়। সংশোধনীতে বোর্ডের সেবা বাতিল না করে এর পাশাপাশি আরেকটি পথ যোগ করা হচ্ছে।
অংশগ্রহণ ঐচ্ছিক। নিবন্ধনের যোগ্য কোনো সংস্থা, প্রযোজক বা পরিবেশক নিজস্ব কনটেন্টের শ্রেণিবিন্যাস করতে পারবে। নিবন্ধন না করা প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতোই বোর্ডে ভিডিও জমা দিতে পারবে। এই সংস্কারে সব প্রযোজককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেটিং বেছে নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে না।
মুক্তির সময়সূচির জন্য এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। নিজস্বভাবে শ্রেণিবিন্যাস করলে গানের মুক্তি বা প্রচারাভিযানের সঙ্গে ভিডিও প্রকাশ সমন্বয় করা সহজ হতে পারে। তবে প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় ধাপগুলো সম্পন্ন করার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানেরই থাকবে। এতে কত সময় বা অর্থ সাশ্রয় হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো পরিমাপভিত্তিক হিসাব দেয়নি।
উৎপাদনের পরিসংখ্যান ঐচ্ছিক ব্যবস্থার কারণ ব্যাখ্যা করে
২০২৩ সালের জন্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানে প্রতিষ্ঠানের আকারভেদে মিউজিক ভিডিও তৈরির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে গড়ে ২৬.৮টি ভিডিও তৈরি করেছে; মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৮.৩ এবং ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ৪.৯।
এই হিসাব অনুযায়ী, ছোট প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৫.৫ গুণ বেশি ভিডিও তৈরি করেছে; মাঝারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় প্রায় ৩.২ গুণ বেশি। এই গড়গুলো ব্যাখ্যা করে, একই নিবন্ধন-শর্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর ভিন্ন প্রভাব ফেলতে পারে কেন।
যে প্রতিষ্ঠান ঘন ঘন ভিডিও প্রকাশ করে, তার নিজস্ব শ্রেণিবিন্যাস-প্রক্রিয়া ব্যবহারের সুযোগও বেশি। বছরে মাত্র কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা ছোট প্রযোজকের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং বোর্ডকে জানানোর পদ্ধতি চালু রাখা কম আকর্ষণীয় হতে পারে। বছরে প্রায় পাঁচ থেকে আটটি ভিডিও তৈরি করা প্রযোজকদের জন্য নিবন্ধন সম্ভাব্য বোঝা—শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতামতে বিশেষভাবে এই উদ্বেগ উঠে এসেছে।
দুই সেট সংখ্যার উদ্দেশ্য আলাদা: পাঁচ থেকে আটটি ভিডিও হলো ছোট প্রযোজকদের তোলা উদ্বেগের পরিসর; আর ২৬.৮, ৮.৩ ও ৪.৯ হলো ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানের তিনটি আকারভিত্তিক শ্রেণির প্রতিবেদিত গড়। এগুলোর কোনোটিই কত প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করবে তা জানায় না, এবং অংশগ্রহণের কোনো পূর্বাভাসও প্রকাশ করা হয়নি।
নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যাবে রেটিং নির্ধারণের দায়িত্ব
নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেটিং নির্ধারণের জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মনোনীত করতে হবে এবং ওই ব্যক্তি যেন প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পান তা নিশ্চিত করতে হবে। ভিডিও বিতরণ বা প্রকাশের আগে নিজেদের নির্ধারিত শ্রেণিবিন্যাস কোরিয়া মিডিয়া রেটিং বোর্ডকে জানানোও তাদের দায়িত্ব।
এই দায়িত্বগুলো দেখায়, পরিবর্তনটি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার অবসান নয়; বরং প্রাথমিক শ্রেণিবিন্যাসের কাজটি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তর। উপযুক্ত বয়সসীমা নিয়ে প্রথম সিদ্ধান্ত নেবে প্রতিষ্ঠান, তবে সরকারি পর্যালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ থাকবে।
এই সুরক্ষাব্যবস্থার উদ্দেশ্য ২০১২ সালে মিউজিক ভিডিওর বাধ্যতামূলক রেটিং চালুর পেছনের একই উদ্বেগ মোকাবিলা করা: তরুণ দর্শকদের স্পষ্ট যৌন বিষয়বস্তু, সহিংসতা বা বিপজ্জনক আচরণের মুখোমুখি হওয়া। দ্রুত প্রকাশের সুবিধা চাইলেও প্রতিষ্ঠানকে শ্রেণিবিন্যাসের নিয়ম মানতে এবং তদারকির শর্ত পূরণ করতে হবে।
বিস্তারিত রেটিং শ্রেণি, শ্রেণিবিন্যাসের মানদণ্ড এবং নিবন্ধনের শর্তাবলি এখনো বাস্তবায়নবিধিতে নির্ধারিত হয়নি। আইন কার্যকরের আগে বোর্ড ও সংগীতশিল্পের সঙ্গে আলোচনা করে এগুলো তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রণালয়ের। বিধিগুলো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবল ও প্রশাসনিক কাজের সুনির্দিষ্ট চাহিদা জানা যাচ্ছে না।
ভুল রেটিংয়ের জন্য আলাদা শাস্তি হতে পারে
কোনো রেটিং অনুপযুক্ত মনে হলে কোরিয়া মিডিয়া রেটিং বোর্ড সেটি সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারবে। কোনো প্রতিষ্ঠান সেই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ভিডিওর জন্য নির্ধারিত শ্রেণিবিন্যাস বাতিল হতে পারে। বোর্ডকে জানানো বা প্রশিক্ষণের মতো দায়িত্বে ব্যর্থ হলেও প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।
এগুলো ভিন্ন ধরনের পরিণতি। কোনো ভিডিওর শ্রেণিবিন্যাস বাতিল হলে তা একটি নির্দিষ্ট রেটিং-সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর নিবন্ধন বাতিল হলে নতুন ব্যবস্থাটি ব্যবহারের ক্ষমতা হারাবে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে ভুল রেটিং এবং নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা পূরণে বৃহত্তর ব্যর্থতাকে একই পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
কোনো প্রতিষ্ঠান রেটিং সংশোধনের নির্দেশ না মানলে আনুষ্ঠানিকভাবে কে শ্রেণিবিন্যাস বাতিল করবে, তা নিয়ে প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে এই ক্ষমতা সংস্কৃতিমন্ত্রীর, অন্যগুলোতে রেটিং বোর্ডের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বোর্ড সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারবে এবং তা না মানলে শ্রেণিবিন্যাস বাতিল হতে পারে—এ বিষয়ে প্রতিবেদনগুলো একমত। ভিন্ন বর্ণনার ভিত্তিতে বাতিলের ক্ষমতা কার হাতে, তার সুনির্দিষ্ট বিভাজনকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
অনলাইনে আইন প্রয়োগে যুক্ত হচ্ছে সংশোধনের ব্যবস্থা
শ্রেণিবিন্যাস ছাড়া বা অনুমতি ছাড়া রেটিং পরিবর্তন করে অনলাইনে বিতরণ করা মিউজিক ভিডিও নিয়েও সংশোধনীতে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংস্কৃতিমন্ত্রী সম্প্রচার-মিডিয়া যোগাযোগ কমিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অনলাইন বুলেটিন বোর্ড পরিচালনাকারীর বিরুদ্ধে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানাতে পারবেন।
বেআইনি বিতরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার একটি পথ এই বিধানে রাখা হয়েছে; এর মধ্যে প্রবেশাধিকার বন্ধের অনুরোধও থাকতে পারে। নিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠানের রেটিং-সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার প্রক্রিয়া থেকে এটি আলাদা: একটির বিষয় প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিবিন্যাস-সংক্রান্ত নিয়ম মানা, অন্যটির বিষয় বৈধ রেটিং ছাড়া অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কনটেন্ট।
এই পার্থক্যের ঐতিহাসিক নজির রয়েছে। ২০১২ সালে ব্যবস্থা চালুর সময়ই বিদেশি ওয়েবসাইটে আপলোড করা সেন্সরবিহীন মিউজিক ভিডিও মোকাবিলায় এর সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা হয়েছিল। নতুন সংশোধন-প্রক্রিয়াকে এমন প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয় যে প্রতিটি বিদেশি সেবা বা অনুমতিবিহীন আপলোডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। সীমান্তপারের আইন প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
২০১২ সালের বিধি দেখায় কী পুনর্গঠিত হচ্ছে
মূল বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা ২০১২ সালের ১৮ আগস্ট চালুর কথা ছিল। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি হোক বা না হোক, অনলাইন মিউজিক সাইটে প্রচারিত মিউজিক ভিডিওর জন্য রেটিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
তখন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ভিডিওর শুরু থেকে ৩০ সেকেন্ডের বেশি সময় ধরে পর্দায় নির্ধারিত বয়স-রেটিং দেখাতে হবে প্রযোজক বা পরিবেশকদের। নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ২ কোটি ওন জরিমানা হতে পারত। এগুলো ব্যবস্থা চালুর সময় বর্ণিত শর্ত ও শাস্তি; সংশোধনীর নতুন শাস্তির বিবরণ নয়।
সংগীতশিল্পের পক্ষ থেকে এই নীতির বিরোধিতা করা হয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল, এটি উৎপাদন ও বিতরণের প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে খাপ খায় না। সেই বিতর্কের সময় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বিরোধী এক আবেদনে ৬,৯০০টি স্বাক্ষর জমা পড়েছিল। টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো আগে থেকেই নিজেদের যাচাইয়ের মানদণ্ড অনুসরণ করত, আর সরকারের নতুন নিয়ম ছিল অনলাইন প্রচার নিয়ে।
প্রধান মাইলফলকগুলো হলো:
- ১৮ আগস্ট, ২০১২: আগাম বাধ্যতামূলক শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা চালুর কথা ছিল।
- ২০২৩: বছরে গড় উৎপাদন ছিল বড় প্রতিষ্ঠানের ২৬.৮টি, মাঝারি প্রতিষ্ঠানের ৮.৩টি এবং ছোট প্রতিষ্ঠানের ৪.৯টি ভিডিও।
- ১৩ অক্টোবর, ২০২৬: নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রেণিবিন্যাসের সুযোগ রেখে সংশোধনী অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।
- প্রজ্ঞাপনের এক বছর পর: বাস্তবায়নবিধি তৈরির পর সংশোধিত আইন কার্যকর হওয়ার কথা।
অন্যান্য খাতে ব্যবহৃত মডেলে যুক্ত হচ্ছে সংগীত
দক্ষিণ কোরিয়ায় গেম ও ভিডিও কনটেন্টের কিছু ক্ষেত্রে, এর মধ্যে অর্থের বিনিময়ে ব্যবহৃত অনলাইন ভিডিও সেবাও রয়েছে, প্রতিষ্ঠানকে শ্রেণিবিন্যাসের অনুমতি দেওয়া হয়। সংশোধনীতে মিউজিক ভিডিও কনটেন্টেও সেই পদ্ধতি সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা এখন পর্যন্ত বোর্ডের আগাম শ্রেণিবিন্যাসের আওতায় ছিল।
নির্ধারিত অনলাইন ভিডিও সেবা পরিচালনাকারীদের আইনগত দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং শ্রেণিবিন্যাসের কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বার্ষিক মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিবিন্যাস কীভাবে সরকারি তদারকির পাশাপাশি চলতে পারে, তার একটি তুলনা এটি। তবে মিউজিক ভিডিও পরিচালনাকারীদের ক্ষেত্রেও একই বার্ষিক মূল্যায়ন প্রযোজ্য হবে, এমনটা এতে প্রতিষ্ঠিত হয় না; তাদের বিস্তারিত বিধি এখনো তৈরি হচ্ছে।
সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কনটেন্ট নীতিবিষয়ক মহাপরিচালক চোই সুং-হি পরিবর্তনের আওতাভুক্ত কনটেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন:
মিউজিক ভিডিও এবং সংগীত-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ভিডিও কনটেন্ট সংগীতশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান,
চোই বলেন, নতুন ব্যবস্থায় বিতরণ প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং বিপণনের দক্ষতা ও সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা, পরিমাপ করা কোনো ফল নয়। অপেক্ষার সময় কতটা কমতে পারে বা সংগীত বিক্রিতে কী প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
নিবন্ধনের নিয়ম ও শুরুর তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়
ব্যবস্থাটি চালু করতে প্রয়োজনীয় অধস্তন বিধি নিয়ে কোরিয়া মিডিয়া রেটিং বোর্ড এবং সংগীতশিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়। এগুলো আইনের অধীনে তৈরি বিস্তারিত বিধি; এর মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের যোগ্যতা এবং রেটিং দেওয়ার মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রিতে মিউজিক ভিডিও কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্য ও বিতরণের বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় রেটিং শ্রেণি ও শ্রেণিবিন্যাসের মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। নতুন পথটি প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতে পারবে এবং নিবন্ধন বজায় রাখতে তাদের কী করতে হবে, তা এই বিস্তারিত নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।
সংশোধনীতে ভাষার একটি ছোট পরিবর্তনও রয়েছে: আইনের ইংরেজি ঋণশব্দ "infra" বদলে মৌলিক অবকাঠামোর কোরীয় প্রতিশব্দ বসানো হয়েছে। এই পরিবর্তন আইনের শব্দচয়ন নিয়ে, ভিডিও শ্রেণিবিন্যাসের প্রক্রিয়া নিয়ে নয়।
পরবর্তী সুনির্দিষ্ট ধাপ হলো প্রজ্ঞাপন জারি এবং বাস্তবায়নবিধি চূড়ান্ত করা। পরামর্শের জন্য আলাদা কোনো সময়সীমা বা ব্যবস্থা চালুর সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। আপাতত মূল পরিবর্তনটি হলো অনুমোদিত একটি কাঠামো: যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাথমিক শ্রেণিবিন্যাসের নিয়ন্ত্রণ পাবে, আর বোর্ডের পর্যালোচনার ক্ষমতা এবং বিদ্যমান শ্রেণিবিন্যাস-সেবা বহাল থাকবে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন অ্যাক্টের সংশোধনী অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
- যোগ্য ও নিবন্ধিত পরিচালনাকারীরা মিউজিক ভিডিও প্রকাশের আগে রেটিং নির্ধারণ করে বোর্ডকে জানাতে পারবেন।
- নিবন্ধন ঐচ্ছিক; প্রতিষ্ঠানগুলো বোর্ডের শ্রেণিবিন্যাস-প্রক্রিয়া আগের মতো ব্যবহার করতে পারবে।
- পরিচালনাকারীদের রেটিং-দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ, প্রশিক্ষণ সম্পন্ন এবং বোর্ডকে জানানোর শর্ত পূরণ করতে হবে।
- ভুল রেটিংয়ের ক্ষেত্রে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে; নিয়ম না মানলে নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকি রয়েছে।
- নিবন্ধন ও শ্রেণিবিন্যাসের বিস্তারিত বিধি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
- সংশোধিত আইন কার্যকর হবে প্রজ্ঞাপনের এক বছর পর, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের এক বছর পর নয়।






