রিয়াদে বিঘ্নিত এক রাতের পর তিনটি বিষয়
রিয়াদে উজবেকিস্তানের নেফতচি ফেরগানাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আল নাসরের হয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ক্যারিয়ারের ৯৮১তম গোল করেন। নিরাপত্তা সতর্কতায় খেলা শুরুতে দেরি হওয়ার পর এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটে এটিই তাদের প্রথম জয়। বিবরণে ম্যাচটির তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৬ বলা হয়েছে এবং একে ২০২৬/২৭ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূচিপত্র
- রিয়াদে বিঘ্নিত এক রাতের পর তিনটি বিষয়
- কিকঅফের আগে নিরাপত্তা সতর্কতা
- অ্যাঞ্জেলো ও রোনালদোর গোলে এগিয়ে যায় আল নাসর
- নেফতচির প্রত্যাবর্তনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় দুটি ঘটনা
- ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
- ১,০০০ গোল থেকে ১৯ ধাপ দূরে রোনালদো
- পয়েন্টে ঘুরে দাঁড়াল আল নাসর, তবে কাজ বাকি
- পোস্টেকোগলুর প্রশংসা, চোট পর্যবেক্ষণে আল নাসর
- সামনে ঘরোয়া ও মহাদেশীয় ম্যাচ
- মূল বিষয়গুলো
৩৩ মিনিটে অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েল প্রথম গোল করেন, ৪২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রোনালদো এবং ৫১ মিনিটে আলিশের ওদিলভ নেফতচিকে লড়াইয়ে ফেরান। এক খেলোয়াড় বহিষ্কৃত হওয়ায় সফরকারীরা ১০ জনে নেমে আসে। এরপর ৭৮ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়।
শুরুর ম্যাচে আল আইনের কাছে ৪-০ গোলে হারের পর এই জয়ে আঙ্গে পোস্টেকোগলুর দল তিন পয়েন্ট পেল। দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে নেফতচিরও পয়েন্ট তিন, এর আগে তারা ইরাকের আল কুওয়া আল জাওইয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল। প্রকাশিত পয়েন্ট তালিকায় নেফতচি সপ্তম এবং আল নাসর অষ্টম স্থানে ছিল।
ম্যাচটি রিয়াদের যে ভেন্যুতে হয়, বিভিন্ন বিবরণে সেটিকে আল আউয়াল পার্ক এবং কিং সৌদ ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়াম—দুই নামেই উল্লেখ করা হয়েছে। খেলা শুরুর আগে রাজধানীর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবরের মধ্যে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার সময় দর্শকেরা আসনে বসে ছিলেন।
বিরতির দৈর্ঘ্য এবং শেষ আত্মঘাতী গোলটির জন্য দায়ী খেলোয়াড়ের পরিচয় নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে অমিল রয়েছে। তবে মূল ফল অপরিবর্তিত: শুরুর ম্যাচে হারের পর আল নাসর ঘুরে দাঁড়িয়েছে, আর নেফতচির আশাব্যঞ্জক শুরুতে বাধা দিয়েছে এমন এক হার, যেখানে তারা কিছু সময়ের জন্য ম্যাচে ফেরার হুমকি দিয়েছিল।
কিকঅফের আগে নিরাপত্তা সতর্কতা
বেশ কয়েকটি বিবরণে খেলা শুরুতে প্রায় এক ঘণ্টা দেরির কথা বলা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত শুরুর প্রায় ১৫ মিনিট আগে সিভিল ডিফেন্স সতর্কতা জারি করে এবং পরে জানায় তাৎক্ষণিক বিপদ কেটে গেছে, ফলে ম্যাচটি শুরু করা সম্ভব হয়। অন্য একটি বিবরণে ২০ মিনিট দেরির কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগাম সতর্কতা জারি এবং রাজধানীর দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার পর ১২ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যায় রিয়াদে বিপদ কেটে যাওয়ার কথা জানায় সিভিল ডিফেন্স। বাসিন্দাদের সরকারি চ্যানেলে জারি করা সতর্কতা অনুসরণ এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। পাওয়া বিবরণে বিপদমুক্তির ঘোষণার সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ নেই।
সৌদি আরবের ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও সতর্কতাটি জারি করা হয়েছিল বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বিরতির সময় গ্যালারিতে দর্শকসংখ্যা কম ছিল। খেলা শুরু হওয়ার আগে দুই দল অপেক্ষা করছিল; ম্যাচ চলাকালে খেলা থামানো হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, সোমবার ইয়েমেন থেকে রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। ওই সন্ধ্যায় শহরে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলেও খবর। প্রাথমিক বিবরণে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির কথা বলা হয়েছে, আর বিস্তারিত বিবরণগুলোতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা রয়েছে।
এর আগে হুতিরা হামলার দাবি করেছিল বলে খবর, যার মধ্যে আগের সপ্তাহান্তে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলাও ছিল। একটি বিবরণে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। হতাহতের এই সংখ্যা ও হামলার বিবরণ এখানে সরাসরি পাওয়া কোনো সরকারি বিবৃতি দিয়ে সমর্থিত নয়; তাই এগুলোকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য নয়, বরং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
অ্যাঞ্জেলো ও রোনালদোর গোলে এগিয়ে যায় আল নাসর
পোস্টেকোগলুর ঘোষিত শুরুর একাদশে আক্রমণভাগে ছিলেন রোনালদো, সাদিও মানে ও কিংসলি কোমান; মাঝমাঠে জোয়াও ফেলিক্স, অ্যাঞ্জেলো ও সামু কস্তা। গোলরক্ষক হিসেবে ছিলেন বেন্তো মাতেউস। তাঁর সামনে ছিলেন নওয়াফ বুশাল, মোহামেদ সিমাকান, ইনিগো মার্তিনেস ও আওয়াদ আমান।
কোমানের ম্যাচ দ্রুত শেষ হয়। চোটের কারণে ১৩ মিনিটের পর তাঁকে বদলি করা হয় বলে খবর, আল নাসর এগিয়ে যাওয়ার আগেই যা দলকে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করে। এরপর ৩৩ মিনিটে অ্যাঞ্জেলো অচলাবস্থা ভাঙেন। গোলদাতা ও সময় নিয়ে বিবরণগুলো একমত হলেও, শটটি ডিফ্লেক্ট হয়ে জালে যায়, নাকি পেনাল্টি এলাকার ভেতরে ক্রস থেকে তিনি গোল করেন—তা নিয়ে বর্ণনা ভিন্ন।
রোনালদোর গোলের আক্রমণটি তুলনামূলকভাবে একইভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। মানে বাঁ দিক থেকে উঁচু করে বল পাঠান, আইমান ইয়াহইয়া বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করেন বা দিক বদলে দেন, আর রোনালদো ঘুরে শট নিয়ে নেফতচির গোলরক্ষক বতিরালি এরগাশেভকে পরাস্ত করেন। শটের আগে শেষ স্পর্শটি ছিল ইয়াহইয়ার, যা প্রাথমিক ম্যাচ বিবরণে দেওয়া অ্যাসিস্টের সঙ্গে মেলে।
অ্যাঞ্জেলোর গোলের নয় মিনিট পর রোনালদোর গোলে স্কোর হয় ২-০। শেষ পর্যন্ত গোলটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে: নেফতচি একবার গোল করলেও, আল নাসরের জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবধান এনে দেয় রোনালদোর শট।
নেফতচির প্রত্যাবর্তনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় দুটি ঘটনা
বিরতির আগে মার্কুস ফর্সের শটে নেফতচি বল জালে পাঠালেও, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনায় দেখা যায় আক্রমণের আগের পর্যায়ে আব্রোরবেক ইসমোইলভ অফসাইডে ছিলেন; তাই গোলটি বাতিল হয়। গোলের আগে আক্রমণে অফসাইড হয়েছিল কি না, তা-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ভিডিও ফুটেজ দেখে পর্যালোচনা করার সুযোগ দেয় ভিএআর।
বিরতির ছয় মিনিট পর গোল করে সফরকারীরা। বদলি খেলোয়াড় আলিশের ওদিলভ জামশিদ ইসকান্দেরভের ক্রস থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন। অন্য একটি বিবরণে বলা হয়েছে, নওয়াফ বুশালের ভুলও নেফতচির গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল।
এরপরের বড় মোড় ছিল মোহামেদ সিমাকানের ওপর চ্যালেঞ্জের পর ইক্রমজন আলিবায়েভের বহিষ্কার। বেশির ভাগ বিবরণে সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর সময় ৬৫ মিনিট বলা হয়েছে; একটিতে বলা হয়েছে ৬৬ মিনিট। ঘটনাটিকে কোথাও ফাউল, কোথাও সহিংস আচরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই রেফারির নথি ছাড়া শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট শ্রেণি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
৭৮ মিনিটে আল নাসর দুই গোলের ব্যবধান ফিরিয়ে আনে। সবচেয়ে বিস্তারিত বিবরণে বলা হয়েছে, সামু কস্তার কাটব্যাক নেফতচির ডিফেন্ডার আনভারজন গোফুরভ নিজেদের জালে পাঠান। অন্য প্রতিবেদনগুলোতে আত্মঘাতী গোলটির কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে বোয়ান সেগ্রচকে, যার নাম বোয়ান চেচের হিসেবেও লেখা হয়েছে। এক বিবরণে এক জায়গায় গোফুরভ এবং অন্য জায়গায় চেচের নাম রয়েছে। ফলে প্রতিবেদনগুলোতে গোলদাতার পরিচয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
ঘটনাক্রমে দেখা যায়, দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও নেফতচি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল; শেষ পর্যন্ত বহিষ্কার ও আত্মঘাতী গোল তাদের প্রত্যাবর্তনের আশা শেষ করে দেয়। লাল কার্ডের সময় নিয়ে এক মিনিটের পার্থক্য ছাড়া প্রধান ঘটনাগুলোর সময়ে মিল রয়েছে।
- কিকঅফের আগে: সিভিল ডিফেন্সের নিরাপত্তা সতর্কতায় খেলা শুরুতে দেরি হয়। বেশ কয়েকটি বিবরণে প্রায় এক ঘণ্টা এবং অন্য একটিতে ২০ মিনিট দেরির কথা বলা হয়েছে।
- ১৩ মিনিট: চোটের কারণে কিংসলি কোমানকে বদলি করা হয় বলে খবর।
- ৩৩ মিনিট: অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েল আল নাসরকে এগিয়ে দেন।
- ৪২ মিনিট: মানে ও ইয়াহইয়াকে নিয়ে গড়া আক্রমণের পর রোনালদো ব্যবধান ২-০ করেন।
- প্রথমার্ধের আগে: ভিএআর পর্যালোচনায় আগের অফসাইড ধরা পড়ায় মার্কুস ফর্সের একটি গোল বাতিল হয়।
- ৫১ মিনিট: আলিশের ওদিলভ নেফতচির ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন।
- ৬৫ বা ৬৬ মিনিট: সিমাকানের ওপর চ্যালেঞ্জের পর ইক্রমজন আলিবায়েভকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
- ৭৮ মিনিট: আত্মঘাতী গোলে আল নাসরের ৩-১ জয় নিশ্চিত হয়।
ওদিলভের গোলের প্রায় ১৫ মিনিট পর বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে। তার প্রায় ১২ বা ১৩ মিনিট পর আল নাসরের তৃতীয় গোল আসে, ফলে শেষ পর্যায়ে স্বাগতিকদের ব্যবধান আরও নিরাপদ হয়।
১,০০০ গোল থেকে ১৯ ধাপ দূরে রোনালদো
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচে নামার আগে রোনালদোর ক্যারিয়ার গোলের সংখ্যা ছিল ৯৮০; ম্যাচ শেষে তা দাঁড়ায় ৯৮১-এ, ১,০০০ থেকে ১৯ গোল দূরে। ম্যাচের বিবরণে পর্তুগিজ অধিনায়কের বয়স ৪১ বলা হয়েছে এবং ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেওয়ার পর আল নাসরের হয়ে তাঁর গোলের সংখ্যা ১৩৪ উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হিসাব অনুযায়ী, ক্যারিয়ারের মোট গোলের প্রায় ১৩.৭ শতাংশ আল নাসরের হয়ে করা: ৯৮১টির মধ্যে ১৩৪টি। তাই গোলটি সৌদি আরবে তাঁর সময়ের আরেকটি বড় অবদান, পাশাপাশি এই ম্যাচে জয় নিশ্চিত করা গোলও।
আল নাসরের অধিনায়ক এবং দ্বিতীয় গোলের স্কোরার রোনালদো ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানান:
আজ রাতে গুরুত্বপূর্ণ জয়। আমরা এগিয়ে চলেছি,
ক্লাবের হয়ে এই ম্যাচের আগে পর্তুগালের আন্তর্জাতিক বিরতিতে এক বিরোধের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। খেলার সময় নিয়ে কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝির পর তিনি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। পরে সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান এবং স্বীকার করেন, তাঁর চলে যাওয়া উচিত হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম শুরু করে এবং বিষয়টি তাদের শৃঙ্খলা তদন্ত কমিশনে পাঠায়। অন্য একটি বিবরণে রোনালদোকে নিষিদ্ধ বলা হয়েছে, তবে কোনো চূড়ান্ত রায়, শাস্তির মেয়াদ বা মামলার সিদ্ধান্ত কবে হবে—এসব প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।
পয়েন্টে ঘুরে দাঁড়াল আল নাসর, তবে কাজ বাকি
মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় আল নাসরের প্রথম দুটি ম্যাচের ফল ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত: আল আইনের কাছে ৪-০ গোলে হার, এরপর এই ৩-১ জয়। দুই ম্যাচ মিলিয়ে তাদের গোল তিনটি, হজম করেছে পাঁচটি; গোল ব্যবধান মাইনাস দুই।
শুরুর ম্যাচে ১-০ গোলের জয় এবং পরবর্তী ৩-১ হারের পর নেফতচির গোল তিনটি, হজম করেছে দুটি; গোল ব্যবধান মাইনাস এক। দুই ক্লাবেরই একটি করে জয় ও হার, পয়েন্ট তিন। প্রকাশিত পয়েন্ট তালিকায় নেফতচিকে আল নাসরের ওপরে রাখার সঙ্গে এই হিসাব মেলে, যদিও প্রতিযোগিতার সম্পূর্ণ ক্রম নির্ধারণের নিয়মগুলো বিবরণে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিযোগিতাটিকে কোথাও পশ্চিমাঞ্চলের লিগ পর্ব, কোথাও গ্রুপ বি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সবচেয়ে স্পষ্ট মিল হলো, এটি ছিল দ্বিতীয় রাউন্ড এবং এই অভিযানে আল নাসরের প্রথম পয়েন্ট। জয়টি তাৎক্ষণিক পয়েন্টের ঘাটতি মিটিয়েছে, তবে প্রথম ম্যাচে গোল ব্যবধানের যে ক্ষতি হয়েছিল তা পূরণ করেনি।
ম্যাচের আগের এক পর্যালোচনায় উজবেক ক্লাবগুলোর বিপক্ষে এশীয় প্রতিযোগিতায় আল নাসরের আগের সাত ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডও উল্লেখ করা হয়েছিল: চার জয়, তিন ড্র, ১৬ গোল এবং ছয় গোল হজম। এই হিসাবটি সামগ্রিকভাবে উজবেক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে; নেফতচির সঙ্গে আগের সাত ম্যাচের হিসাব নয়।
পোস্টেকোগলুর প্রশংসা, চোট পর্যবেক্ষণে আল নাসর
আল নাসর কোচ আঙ্গে পোস্টেকোগলু বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে খেলোয়াড়দের জন্য তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন; তবে খেলা শুরু হওয়ার পর তাদের প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করেন। ম্যাচ ঘিরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সঙ্গে তিনি দলের পারফরম্যান্সের যোগসূত্র টানেন।
খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম, কারণ তাদের প্রতি আমার যত্ন আছে। তবে তারা যে পেশাদারত্ব দেখিয়েছে, তাতে আমি খুব খুশি,
কোমান ও সিমাকানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানান কোচ। কোমান মাত্র ১৩ মিনিট পর মাঠ ছাড়েন, আর আলিবায়েভের লাল কার্ডের কারণ হওয়া চ্যালেঞ্জের পর সিমাকানকে তুলে নেওয়া হয়।
দুই খেলোয়াড়ের কারও রোগনির্ণয় বা সুস্থ হয়ে ফেরার সময়সীমা জানানো হয়নি। ফলে আল নাসর প্রথম মহাদেশীয় জয় পেলেও, পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে খেলোয়াড়দের ফিটনেস পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।
সামনে ঘরোয়া ও মহাদেশীয় ম্যাচ
আল নাসরের পরবর্তী মহাদেশীয় ম্যাচ ২৬ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ওয়াসলের বিপক্ষে নির্ধারিত ছিল। অন্য একটি বিবরণে তার আগে বৃহস্পতিবার জেদ্দায় আল আহলির বিপক্ষে ঘরোয়া ম্যাচের কথা রয়েছে। এগুলো আলাদা সূচি; একই ম্যাচের প্রতিপক্ষ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য নয়।
প্রকাশিত সৌদি প্রো লিগের পয়েন্ট তালিকায় আট ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে আল নাসর তৃতীয় এবং সমান আট ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে আল আহলি ষষ্ঠ স্থানে ছিল। ফলে তালিকাভুক্ত লিগ ম্যাচে নামার আগে আল নাসর চার পয়েন্টে এগিয়ে ছিল; দুই দলই সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলেছে।
এসব ম্যাচের জন্য দল নির্বাচন কোমান ও সিমাকানের শারীরিক অবস্থার মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করতে পারে। নেফতচির পরবর্তী ম্যাচ, পর্তুগালে রোনালদোর শৃঙ্খলামূলক মামলার রায়ের তারিখ, কিংবা ম্যাচের বিতর্কিত তথ্য নিয়ে আরও কোনো সরকারি ব্যাখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
মূল বিষয়গুলো
- রিয়াদে নেফতচি ফেরগানাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এই মৌসুমে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটে প্রথম জয় পেয়েছে আল নাসর।
- রোনালদো ক্যারিয়ারের ৯৮১তম গোল করেছেন বলে প্রতিবেদন; ১,০০০ গোল থেকে তিনি ১৯টি দূরে।
- নিরাপত্তা সতর্কতায় কিকঅফে দেরি হয়। প্রতিবেদনগুলোতে দেরির সময় প্রায় এক ঘণ্টা থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত ভিন্নভাবে বলা হয়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার পর ১২ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যায় বিপদ কেটে যাওয়ার কথা সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছিল বলে প্রতিবেদন রয়েছে।
- আত্মঘাতী গোলে ফল নির্ধারিত হওয়ার আগে অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েল ও আলিশের ওদিলভ গোল করেন।
- ৬৫ বা ৬৬ মিনিটে ইক্রমজন আলিবায়েভ বহিষ্কৃত হওয়ায় শেষ দিকে ১০ জন নিয়ে খেলেছে নেফতচি।
- আনভারজন গোফুরভ নাকি বোয়ান সেগ্রচ আত্মঘাতী গোলটি করেছেন, তা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে মতভেদ রয়েছে।
- দুই রাউন্ড শেষে দুই ক্লাবের পয়েন্ট তিন; প্রকাশিত তালিকায় নেফতচি সপ্তম এবং আল নাসর অষ্টম।
- আসন্ন ম্যাচগুলোর আগে কোমান ও সিমাকানের চোটের অবস্থা পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা ছিল আল নাসরের।






