পরিচিত এক চিকিৎসার আড়ালে মৃত্যুহারের বড় ব্যবধান
যোগ্য রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ২০টি দেশে প্রতিবছর আনুমানিক ৫১৮,৪৭৬টি হৃদ্রোগজনিত মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হতে পারে। ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত প্রাথমিক গবেষণায় এ কথা বলা হয়েছে। ওই দেশগুলোতে উচ্চ রক্তচাপ আছে এমন প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র প্রায় ২০ শতাংশের রক্তচাপ বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সূচিপত্র
- পরিচিত এক চিকিৎসার আড়ালে মৃত্যুহারের বড় ব্যবধান
- গবেষকেরা কী তুলনা করেছেন
- বর্তমান সেবায় ঘাটতি কতটা
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় উন্নতির সম্ভাবনা যেসব দেশে
- রক্তচাপের সীমাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
- স্ট্যাটিন ও ডায়াবেটিসের যত্নেও বড় সুফলের ইঙ্গিত
- ক্যানসার প্রতিরোধের হিসাবে কোলন স্ক্রিনিং এগিয়ে
- যে বিষয়গুলো এখনো অনিশ্চিত, এরপর কী
- মূল বিষয়গুলো
বিশ্লেষণে ছয়টি প্রতিরোধমূলক সেবার তুলনা করে দেখা গেছে, উচ্চ রক্তচাপের উন্নত ব্যবস্থাপনায় মৃত্যুহার কমার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। উপযুক্ত ক্ষেত্রে স্ট্যাটিন চিকিৎসার পরিধি বাড়ালে বছরে আনুমানিক ৩৪০,৬৮২টি হৃদ্রোগজনিত মৃত্যু ঠেকানো যেতে পারে। টাইপ ১ বা টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে গ্লুকোজ আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনলে ঠেকানো যেতে পারে ৩০৯,৫২০টি মৃত্যু। কোলন ক্যানসারের স্ক্রিনিং বাড়ালে ওই ক্যানসারে বছরে আরও ২০৬,৭৬৭টি মৃত্যু ঠেকানো যেতে পারে।
এগুলো মডেলভিত্তিক হিসাব; কোনো চিকিৎসা কর্মসূচির মাধ্যমে ইতিমধ্যে ঠেকানো মৃত্যুর সংখ্যা নয়। প্রতিষ্ঠিত প্রতিরোধমূলক সেবার সুযোগ এবং চিকিৎসার লক্ষ্যমাত্রা পূরণকারী রোগীর অনুপাত দেশগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ালে কী হতে পারে, এসব হিসাব তা তুলে ধরে। ফলাফলগুলো এসেছে একটি সম্মেলন-সারসংক্ষেপ থেকে, যা এখনো পিয়ার রিভিউয়ের মধ্য দিয়ে যায়নি।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে ফলাফল বর্ণনাকারী গবেষক হিসেবে বাল্টিমোরের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক স্কট পিলার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের হাইপারটেনশন সায়েন্টিফিক সেশনে ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে গবেষণাটি উপস্থাপনের কথা ছিল।
গবেষকেরা কী তুলনা করেছেন
গবেষকেরা অসংক্রামক রোগে—অর্থাৎ ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়ায় না এমন রোগে—মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, এমন ২০টি দেশ বেছে নেন। তাঁরা ছয়টি সেবার জন্য যোগ্য জনগোষ্ঠীর হিসাব করেন: রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজন অনুযায়ী স্ট্যাটিন, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ এবং কোলন, স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার স্ক্রিনিং।
বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক যোগ্যতা এবং সেবা গ্রহণের হিসাব নেওয়া হয়েছে গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ নেটওয়ার্ক, এনসিডি রিস্ক ফ্যাক্টর কোলাবোরেশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্টেপওয়াইজ নজরদারি কর্মসূচি এবং সংস্থাটির ক্যানসার স্ক্রিনিং ডেটাবেইস থেকে। এরপর যোগ্য রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশের কাছে সেবা পৌঁছালে সম্ভাব্য কত মৃত্যু ঠেকানো যেতে পারে, তার হিসাব করেন গবেষকেরা। এই মানদণ্ড নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থাগুলোর কাছ থেকে।
হিসাবের ক্ষেত্রে সেবার যোগ্য হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মডেলে ধরে নেওয়া হয়নি যে সবার স্ট্যাটিন নেওয়া বা প্রতিটি ক্যানসার স্ক্রিনিং পরীক্ষা করানো উচিত। চিকিৎসার জন্য রোগী এবং স্ক্রিনিংয়ের উপযুক্ত বয়স ও সময়ের ব্যবধান নির্ধারণে ক্লিনিক্যাল গাইডলাইনের মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়েছে।
সেবা পাওয়া আর রোগ নিয়ন্ত্রণে আসা—এই দুটির পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারও উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত হতে পারে এবং তিনি ওষুধও নিতে পারেন, কিন্তু তবু তাঁর রক্তচাপ নির্ধারিত সীমায় নাও আসতে পারে। রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে মডেলের লক্ষ্য ছিল সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা, শুধু ওষুধের ব্যবস্থাপত্র বা চিকিৎসকের কাছে যাওয়া নয়।
বর্তমান সেবায় ঘাটতি কতটা
প্রাথমিক হিসাবগুলো প্রস্তাবিত সম্প্রসারণের পরিধি দেখায়। উচ্চ রক্তচাপ আছে এমন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় প্রতি পাঁচজনে একজনের রক্তচাপ ছিল ১৪০/৯০ মিমি পারদের নিচে। উচ্চ কোলেস্টেরল আছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে স্ট্যাটিন ব্যবহারের হার ছিল ১৬ শতাংশ। নিয়মিতভাবে সুপারিশ করা ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের হার ছিল ১৪ থেকে ২৬ শতাংশ।
টাইপ ১ বা টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা নির্দিষ্ট সীমার নিচে ছিল, তাঁদের হারও বিজ্ঞপ্তিতে ৩৯ শতাংশ বলা হয়েছে। “আদর্শ মাত্রার নিচে” কথাটি কিছুটা বিভ্রান্তিকর হলেও, পদ্ধতিতে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য হিসেবে হিমোগ্লোবিন এ১সি ৭.০ শতাংশের নিচে রাখার কথা বলা হয়েছে। এই সংখ্যাকে বিপজ্জনকভাবে রক্তে শর্করা কমে যাওয়া ব্যক্তিদের অনুপাত হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের হার প্রায় ২০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশে নেওয়া মানে ৬০ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি, অর্থাৎ বর্তমান হারের চার গুণ। স্ট্যাটিন ব্যবহারের হার ১৬ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশে নিতে হলে ৬৪ শতাংশ পয়েন্ট বাড়াতে হবে, যা বর্তমান হারের পাঁচ গুণ। প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা ব্যবহার করা হলেও এই তুলনাগুলো দেখায় যে পরিস্থিতির এই পরিবর্তন কতটা উচ্চাভিলাষী।
জনস হপকিন্সের সহযোগী অধ্যাপক পিলা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রতিরোধমূলক সেবার ঘাটতি ও উন্নতির সুযোগ সম্পর্কে বলেন:
সব দেশেই এসব রোগের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি ছিল। তবে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে উন্নতির বড় সুযোগ রয়েছে; সেখানে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও উচ্চ কোলেস্টেরল ব্যবস্থাপনার হার কম, আর ক্যানসার স্ক্রিনিং পরীক্ষার ব্যবহারও খুব সীমিত।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় উন্নতির সম্ভাবনা যেসব দেশে
মডেল অনুযায়ী, রক্তচাপ আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনলে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বছরে ২২৩,২৮২টি এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ২২৩,৬৫৫টি মৃত্যু ঠেকানো যেতে পারে। দুই হিসাবের ব্যবধান মাত্র ৩৭৩টি মৃত্যু।
দুই শ্রেণি মিলিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঠেকানো সম্ভব বলে অনুমান করা ৫১৮,৪৭৬টি মৃত্যুর মধ্যে ৪৪৬,৯৩৭টি, অর্থাৎ প্রায় ৮৬.২ শতাংশ। এটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফলাফলগুলোর একটি: মডেল অনুযায়ী সম্ভাব্য সুফলের অধিকাংশই মধ্যম আয়ের এই দুই শ্রেণির দেশগুলোতে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফলাফলগুলো বিশ্বব্যাংকের আয়ের শ্রেণিবিন্যাস অনুসারে ভাগ করা হয়েছে এবং কোনো নিম্ন-আয়ের দেশ এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পুরো নমুনাকে কোনো কোনো বর্ণনায় মধ্যম আয়ের দেশগুলোর দল বলা হলেও, বিজ্ঞপ্তিতে দেশের পূর্ণ তালিকা নেই বা বাকি অনুমান করা ৭১,৫৩৯টি মৃত্যু কোন দেশগুলোতে বণ্টিত, তা ব্যাখ্যা করা হয়নি। তাই প্রকাশিত সংখ্যা মধ্যম আয়ের দেশগুলোর তুলনাকে সমর্থন করে, তবে দেশভিত্তিক বিস্তারিত ক্রমতালিকা দেয় না।
মোট মৃত্যুর সংখ্যার ভিত্তিতে দেশ বাছাই করাও ফলাফলের ব্যাখ্যায় প্রভাব ফেলে। গবেষণায় বেশি মৃত্যুর বোঝা রয়েছে এমন দেশগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে; ব্যক্তিপর্যায়ে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বা স্বাস্থ্যসেবা সবচেয়ে দুর্বল এমন দেশকে নয়। তাই ফলাফল সব দেশের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়, বিশেষত বিশ্লেষণের বাইরে থাকা দেশগুলোর ক্ষেত্রে।
রক্তচাপের সীমাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্লেষণে রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিমি পারদের নিচে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা হয়েছে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৫ সালের “প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ, মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা”-তে চিকিৎসার লক্ষ্যমাত্রা ১৩০/৮০ মিমি পারদের নিচে রাখার কথা বলা হয়েছে; এই বিশ্লেষণের সীমা তার চেয়ে আলাদা।
রক্তচাপের পাঠে দুটি সংখ্যা থাকে। প্রথমটি হৃদ্যন্ত্র সংকুচিত হওয়ার সময়কার চাপ মাপে, আর দ্বিতীয়টি হৃদ্স্পন্দনের মাঝের সময়কার চাপ মাপে। মিমি পারদ এককের অর্থ মিলিমিটার অব মার্কারি। কারও রক্তচাপ ১৪০/৯০-এর নিচে থাকলে এই মডেলে তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আছেন বলে গণ্য করা হতে পারে, যদিও তাঁর চাপ অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি।
তাই অনুমান করা ৫১৮,৪৭৬টি মৃত্যুকে ৮০ শতাংশ রোগীর রক্তচাপ ১৩০/৮০-এর নিচে নামানোর ফল হিসেবে বর্ণনা করা উচিত নয়। মডেলে কম কঠোর সীমা ব্যবহার করা হয়েছে। নিম্ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করলে কত মৃত্যু ঠেকানো যেতে পারে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা কোনো হিসাব নেই।
অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৫ সালের নির্দেশিকা প্রণয়ন কমিটির চেয়ার ড্যানিয়েল ডব্লিউ. জোন্স ফলাফল সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, তবে তিনি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না। তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপি স্কুল অব মেডিসিনের ডিন ও ইমেরিটাস অধ্যাপকও। চিকিৎসার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গুরুত্ব নিয়ে তিনি বলেন:
উচ্চ রক্তচাপকে লক্ষ্যমাত্রায় এনে চিকিৎসা করলে মানুষ দীর্ঘজীবী হন এবং তাঁদের জীবনও স্বাস্থ্যকর হয়। জীবনযাপনে পরিবর্তন ও ওষুধ, দুটিই ব্যবহার করে উচ্চ রক্তচাপের যথাযথ ব্যবস্থাপনায় আরও মনোযোগ দিতে এই গবেষণা চিকিৎসক ও রোগীদের উৎসাহিত করা উচিত।
স্ট্যাটিন ও ডায়াবেটিসের যত্নেও বড় সুফলের ইঙ্গিত
প্রতিরোধমূলক সেবাগুলোর মধ্যে স্ট্যাটিন চিকিৎসার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। এর মাধ্যমে বছরে আনুমানিক ৩৪০,৬৮২টি হৃদ্রোগজনিত মৃত্যু ঠেকানো যেতে পারে। স্ট্যাটিন কোলেস্টেরল কমায়, ফলে যেসব রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসাটি সুপারিশ করা হয়, তাঁদের হৃদ্রোগজনিত ঘটনার ঝুঁকি কমে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির ২০২৬ সালের ডিসলিপিডেমিয়া নির্দেশিকা থেকে গবেষণায় যোগ্যতার মানদণ্ড নেওয়া হয়েছে। ডিসলিপিডেমিয়া বলতে রক্তে কোলেস্টেরল বা অন্যান্য চর্বির অস্বাভাবিক মাত্রাকে বোঝায়।
তৃতীয় স্থানে ছিল গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ। টাইপ ১ বা টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বছরে সম্ভাব্য ৩০৯,৫২০টি হৃদ্রোগজনিত মৃত্যু ঠেকানো যেতে পারে। মডেলে আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের হিমোগ্লোবিন এ১সি ৭.০ শতাংশের নিচে রাখার লক্ষ্যমাত্রা ব্যবহার করা হয়েছে। এ১সি হলো গ্লুকোজের সঙ্গে যুক্ত হিমোগ্লোবিনের অনুপাত; এটি আগের প্রায় দুই থেকে তিন মাসের গড় রক্তে শর্করার মাত্রা নির্দেশ করে।
ফলাফলগুলো দেখায়, মডেলে সম্ভাব্য সুফল উচ্চ রক্তচাপের বাইরেও বিস্তৃত। তবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে মৃত্যুহার কমার ব্যক্তিগত হিসাবটিই সবচেয়ে বড়; এতে স্ট্যাটিনের হিসাবের চেয়ে ১৭৭,৭৯৪টি এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের হিসাবের চেয়ে বছরে ২০৮,৯৫৬টি বেশি মৃত্যু ঠেকানোর সম্ভাবনা দেখা গেছে।
এই হিসাবগুলো সরলভাবে যোগ করে নিশ্চিত সম্মিলিত সুফল হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। একই ব্যক্তির উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস থাকতে পারে এবং চিকিৎসাগুলো একই মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে পারে। সব সেবা একসঙ্গে সম্প্রসারিত হলে এই মিলিত প্রভাব মোট হিসাবকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, বিজ্ঞপ্তিতে তা নির্ধারণ করা হয়নি।
ক্যানসার প্রতিরোধের হিসাবে কোলন স্ক্রিনিং এগিয়ে
যোগ্য রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশের কাছে কোলন ক্যানসার স্ক্রিনিং পৌঁছালে বছরে ওই ক্যানসারে ২০৬,৭৬৭টি মৃত্যু ঠেকানো যেতে পারে বলে মডেলে অনুমান করা হয়েছে। তিন ধরনের ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের মধ্যে এতে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি কমেছে; এরপর জরায়ুমুখের স্ক্রিনিং, তারপর স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং।
জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ে আলাদাভাবে কত মৃত্যু ঠেকানো যেতে পারে, সে হিসাব বিজ্ঞপ্তিতে নেই। ক্রমটি বলা যায়, তবে প্রকাশিত সংখ্যা থেকে তাদের অবদান পরিমাপ করা যায় না। প্রাথমিক অবস্থায় স্ক্রিনিংয়ের হার ১৪ থেকে ২৬ শতাংশ—এই পরিসরটিও বিজ্ঞপ্তিতে ক্যানসারের ধরন অনুযায়ী ভাগ করা হয়নি।
মডেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস টাস্ক ফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক স্ক্রিনিংয়ের সময়সূচি অনুসরণ করা হয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে সবার পরীক্ষা নয়, বরং যোগ্য রোগীদের জন্য সুপারিশ করা স্ক্রিনিং বিবেচনা করা হয়েছে। ক্যানসারে ঠেকানো মৃত্যুর হিসাবও রক্তচাপ, স্ট্যাটিন ও গ্লুকোজ-সংক্রান্ত হস্তক্ষেপে অনুমান করা হৃদ্রোগজনিত মৃত্যু থেকে আলাদা।
যে বিষয়গুলো এখনো অনিশ্চিত, এরপর কী
গবেষণায় সম্ভাব্য সুফলের পরিধি দেখানো হয়েছে, তবে ৮০ শতাংশ সেবা বা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পৌঁছানোর কোনো পরিকল্পনা দেওয়া হয়নি। দেশগুলো কীভাবে সেবার সুযোগ বাড়াবে, চিকিৎসা চালু রাখবে, স্ক্রিনিংয়ে অংশগ্রহণ বাড়াবে বা এসব পরিবর্তনের খরচ মেটাবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।
কিছু দেশে প্রতিরোধমূলক সেবা গ্রহণের তথ্য সীমিত ছিল, ফলে প্রাথমিক হিসাবগুলোতে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ঠেকানো যেতে পারে বলে অনুমান করা মৃত্যুর সংখ্যার পাশে অনিশ্চয়তার পরিসরও বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়নি। তাই ৫১৮,৪৭৬-এর মতো নির্দিষ্ট সংখ্যাকে ভবিষ্যৎ ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার প্রমাণ ভাবা উচিত নয়।
গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তাদের বৈজ্ঞানিক সভায় উপস্থাপিত সারসংক্ষেপ পিয়ার রিভিউ করা হয় না। পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র পিয়ার-রিভিউড সাময়িকীতে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলকে প্রাথমিক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সম্মেলনের সংযোজিত সংখ্যায় প্রকাশনা পূর্ণাঙ্গ পিয়ার রিভিউয়ের সমতুল্য নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উপস্থাপনা ও প্রকাশনার সময়সূচি এভাবে দেওয়া হয়েছে:
- ৭ থেকে ১১ অক্টোবর, ২০২৬: ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে হাইপারটেনশন সায়েন্টিফিক সেশনস।
- ১১ অক্টোবর, ২০২৬, পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিট: সারসংক্ষেপ নম্বর ৮৯-এর মৌখিক উপস্থাপনা নির্ধারিত।
- ১৭ নভেম্বর, ২০২৬: হাইপারটেনশন সাময়িকীর একটি সংযোজিত সংখ্যায় সম্মেলনের সারসংক্ষেপ প্রকাশের কথা রয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র প্রকাশের কোনো তারিখ দেওয়া হয়নি। যোগ্যতা, সেবার সুযোগ এবং সফল চিকিৎসার মধ্যকার ঘাটতি কীভাবে বাস্তবসম্মত উপায়ে পূরণ করা যায়, তা নিয়ে আরও কাজের প্রস্তাব দিয়েছেন গবেষকেরা। এর আগে পর্যন্ত গবেষণাটি সম্ভাব্য সুফলের তুলনা তুলে ধরে, কোনো নির্দিষ্ট জাতীয় কর্মসূচি সেই সুফল এনে দিয়েছে—এমন প্রমাণ নয়।
মূল বিষয়গুলো
- যোগ্য রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ২০টি দেশে বছরে আনুমানিক ৫১৮,৪৭৬টি হৃদ্রোগজনিত মৃত্যু ঠেকানো যেতে পারে।
- ১৪০/৯০ মিমি পারদের নিচের সীমা ধরে বর্তমানে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের হার প্রায় ২০ শতাংশ।
- মধ্যম আয়ের দুই শ্রেণির দেশ মিলিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য সুফলের প্রায় ৮৬.২ শতাংশের হিসাব পাওয়া গেছে।
- স্ট্যাটিন, গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও কোলন ক্যানসার স্ক্রিনিংয়েও মডেলে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমার ইঙ্গিত মিলেছে।
- গবেষণায় রক্তচাপের যে সীমা ব্যবহার করা হয়েছে, তা এএইচএর ১৩০/৮০ মিমি পারদের নিচে রাখার চিকিৎসার লক্ষ্যমাত্রা থেকে আলাদা।
- ফলাফল প্রাথমিক, এতে নিম্ন-আয়ের দেশ নেই এবং বাস্তবায়নের কোনো ব্যবহারিক পরিকল্পনাও দেওয়া হয়নি।






