সংশোধিত মামলায় ১০,১২৩ বিনিয়োগকারী চিহ্নিত
কাল্পনিক শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ১০,১২৩ বিনিয়োগকারীর ৮.৪৫৯ ট্রিলিয়ন ডংয়েরও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ভিয়েতনামের সুপ্রিম পিপলস প্রকিউরেসি এগরুপ এডুকেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী Nguyễn Ngọc Thủy-এর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগপত্র দিয়েছে। অভিযোগে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৮২ বিলিয়ন ডং বাড়ার পর মামলাটি হ্যানয় পিপলস কোর্টে পাঠানো হচ্ছে।
সূচিপত্র
- সংশোধিত মামলায় ১০,১২৩ বিনিয়োগকারী চিহ্নিত
- অভিযোগে ক্ষতির পরিমাণ কতটা বেড়েছে?
- মূলধন ফুলিয়ে দেখানো ও আয় জাল করা
- শেয়ার চুক্তির পেছনের প্রতিশ্রুতি
- অর্থ সংগ্রহে পুরস্কৃত বিক্রয় নেটওয়ার্ক
- নতুন বিনিয়োগে পুরোনো দায় পরিশোধ
- ঘুষের অভিযোগ ও আসামির সংখ্যা নিয়ে মতভেদ
- সম্পত্তি হস্তান্তর ও দেওয়ানি রায়
- প্রক্রিয়াগত সময়রেখা ও অমীমাংসিত বিষয়
- মূল বিষয়গুলো
Thủy, যিনি সাধারণত শার্ক থুই নামে পরিচিত, সম্পত্তি প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ এবং ঘুষ দেওয়ার অভিযোগের মুখে রয়েছেন। Nhất Trần-এর নির্বাহী Tống Thị Kim Liên-এর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অধিকাংশ প্রতিবেদনে হিসাবরক্ষক ও ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপকদেরসহ মোট আসামির সংখ্যা ২৯ বলা হয়েছে; তাঁদের বিরুদ্ধে বিনিয়োগ সংগঠিত ও বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগগুলোতে শুধু একটি ব্যর্থ শিক্ষা ব্যবসার কথা বলা হয়নি। কৌঁসুলিদের দাবি, এগরুপের নিবন্ধিত মূলধন কৃত্রিমভাবে ৩২ বিলিয়ন ডং থেকে বাড়িয়ে ৯৬২.৫ বিলিয়ন ডং করা হয়েছিল, জাল আয় বার্ষিক ঘোষিত আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল এবং বিনিয়োগকারীরা এমন চুক্তির আওতায় কথিত শেয়ার কিনেছিলেন, যেখানে এক বছর পর বেশি দামে পুনরায় কিনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তকারীদের আরও অভিযোগ, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র ও প্রাক্-প্রাথমিক স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় ব্যবস্থাপকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের ৭০ শতাংশ আগের বিনিয়োগকারীদের পরিশোধে ব্যবহার করতে। কথিত এই পরিকল্পনায় তোলা অর্থের হিসাব আলাদাভাবে রাখা হয়েছিল এবং কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া আর্থিক ও কর-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
অভিযোগপত্রটি একটি অভিযোগ, অপরাধ প্রমাণের রায় নয়। নতুন করে বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর খবরগুলোতে বিচার শুরুর কোনো তারিখ বা রায়ের উল্লেখ নেই। বিনিয়োগকারীদের জন্য আরেকটি পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ: তদন্তে ভুক্তভোগী হিসেবে চিহ্নিত মোট মানুষের সংখ্যা এবং যাঁদের মূলধনের কিছু অংশ এখনো পরিশোধ হয়নি, তাঁদের সংখ্যা আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে।
অভিযোগে ক্ষতির পরিমাণ কতটা বেড়েছে?
সংশোধিত হিসাবে অভিযোগে ক্ষতির পরিমাণ ৮.৪৫৯ ট্রিলিয়ন ডংয়ের বেশি, যা আগে জানানো ৭.৬৭৭ ট্রিলিয়ন ডংয়ের বেশি অঙ্কের সঙ্গে তুলনীয়। উল্লেখিত অঙ্ক অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৮২ বিলিয়ন ডং বা প্রায় ১০.২ শতাংশ বেড়েছে। দুই মোট অঙ্কই নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি বলে জানানো হয়েছে। তাই এই হিসাবটি সুনির্দিষ্ট হিসাবের সমন্বয় নয়, আনুমানিক তুলনা।
অধিকাংশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিহ্নিত ভুক্তভোগীর সংখ্যা ৬০ জন বেড়ে ১০,০৬৩ থেকে ১০,১২৩ হয়েছে। তবে একটি প্রতিবেদনে চূড়ান্ত সংখ্যা একই রেখে বৃদ্ধির পরিমাণ ৭০ বলা হয়েছে। অভিযোগপত্রের বিবরণে এই অসংগতি মীমাংসা করা হয়নি।
আরও বিস্তারিত হিসাবে বকেয়া দাবির চিত্রটি স্পষ্ট হয়েছে। তদন্তকারীরা ৮,৯৩৮ জনকে চিহ্নিত করেছেন, যাঁদের ৮.৪৫৯ ট্রিলিয়ন ডংয়ের বেশি মূলধন এখনো পরিশোধ করা হয়নি। আরও ১,১৮৫ জন বিনিয়োগকারী তাঁদের প্রাথমিক বিনিয়োগের চেয়ে বেশি মূলধন ও বিনিয়োগ-আয় ফেরত পেয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই শেষোক্ত গোষ্ঠীর জন্য তদন্তকারীরা দেওয়ানি ক্ষতিপূরণ দাবি করেননি।
এই দুই গোষ্ঠীর মোট সংখ্যা ১০,১২৩। প্রতিবেদনগুলোর অঙ্কের ভিত্তিতে, চিহ্নিত ভুক্তভোগীদের প্রায় ৮৮.৩ শতাংশের মূলধন বকেয়া রয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেকের ক্ষতির পরিমাণ বা তাঁরা কতটা ফেরত পেতে পারেন, তা নির্ধারিত হয়েছে। তবে এতে বোঝা যায়, মোট ভুক্তভোগীর সংখ্যাকে একই ধরনের ক্ষতিপূরণ দাবিদার মানুষের সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
মূলধন ফুলিয়ে দেখানো ও আয় জাল করা
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১৪ সালে কথিত পরিকল্পনাটি রূপ নিতে শুরু করে। তখন Thủy-এর ঋণ পরিশোধ, ব্যক্তিগত খরচ মেটানো এবং এগরুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু রাখতে অর্থের প্রয়োজন ছিল। অভিযোগ, তিনি কর্মীদের কোম্পানির নিবন্ধিত মূলধন বাড়িয়ে দেখাতে এবং পরে বিনিয়োগকারীদের কাছে কাল্পনিক শেয়ার হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন।
নিবন্ধিত মূলধন হলো কোনো কোম্পানির জন্য নথিভুক্ত মূলধনের পরিমাণ। এটি বার্ষিক আয়, মুনাফা বা বিনিয়োগকারীদের পরিশোধ করার জন্য হাতে থাকা অর্থের সমান নয়। কৌঁসুলিদের অভিযোগ, এই বৃদ্ধির পেছনে প্রকৃত মূলধন না থাকা সত্ত্বেও এগরুপের নথিভুক্ত মূলধন ৩২ বিলিয়ন ডং থেকে বেড়ে ৯৬২.৫ বিলিয়ন ডং হয়েছিল।
বড় অঙ্কটি প্রাথমিক পরিমাণের প্রায় ৩০ গুণ। অধিকাংশ প্রতিবেদনে ৯৬২.৫ বিলিয়ন ডং বলা হয়েছে, যদিও দুটি প্রতিবেদনে গোল করে ৯৬২ বিলিয়ন ডং উল্লেখ করা হয়েছে। কোনোটিতেই মূল অভিযোগ বদলায় না: কোম্পানির আপাত মূলধনকে প্রকৃত অঙ্কের চেয়ে বহুগুণ বেশি দেখানো হয়েছিল।
এগরুপের অর্থ পরিচালক এবং ইগেমের প্রধান হিসাবরক্ষক হিসেবে চিহ্নিত Nguyễn Mạnh Phú এবং সাধারণত এগরুপের প্রধান হিসাবরক্ষক হিসেবে চিহ্নিত Phạm Thị Thanh Thọ কথিত মূলধন ও শেয়ারহোল্ডার-সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করেছিলেন বলে অভিযোগ। কোম্পানিতে তাঁদের পদ সম্পর্কে প্রতিবেদনে কিছু পার্থক্য রয়েছে; একটি প্রতিবেদনে Thọ-কে ইগেমের প্রধান হিসাবরক্ষক বলা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, জাল আয় বার্ষিক আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল। এই অভিযোগ বিনিয়োগকারীদের কাছে উপস্থাপিত ব্যবসার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে, শুধু শেয়ারের নির্ধারিত মূল্য নিয়ে নয়। কৌঁসুলিদের দাবি, এসব অঙ্কের মাধ্যমে এগরুপকে বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম চালানো একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।
শেয়ার চুক্তির পেছনের প্রতিশ্রুতি
বিনিয়োগকারীদের এগরুপের শেয়ারপ্রতি ৩৮,০০০ ডং দামে শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। Thủy এক বছর পর শেয়ারপ্রতি ৪২,০০০ ডং দামে সেগুলো পুনরায় কিনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চুক্তিতে সই করেছিলেন বলে অভিযোগ। বিনিয়োগকারীরা তাঁকে তাঁদের সব শেয়ারহোল্ডার অধিকার ও দায়িত্ব পালনের ক্ষমতাও দিয়েছিলেন।
প্রতি শেয়ারে প্রতিশ্রুত মূল্যবৃদ্ধি ছিল ৪,০০০ ডং। এই বৃদ্ধিকে ৩৮,০০০ ডং ক্রয়মূল্য দিয়ে ভাগ করলে এক বছরে প্রায় ১০.৫ শতাংশ রিটার্ন হয়, অন্য কোনো অর্থপ্রদান বা খরচ ধরার আগেই। এটি অভিযোগে বর্ণিত চুক্তির প্রতিশ্রুতি, বিনিয়োগ থেকে বাস্তবে এমন রিটার্ন পাওয়ার প্রমাণ নয়।
এই ব্যবস্থায় শেয়ারের মালিকানার ভাষার সঙ্গে নির্দিষ্ট দামে পুনরায় কিনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি যুক্ত ছিল। শেয়ার সাধারণত ব্যবসায় মালিকানার অংশ বোঝায়, যার মূল্য ব্যবসার ওপর নির্ভর করে। নির্দিষ্ট দামে শেয়ার কিনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হলে অর্থ পরিশোধের সময় প্রতিশ্রুতিদাতা ব্যক্তি বা কোম্পানির হাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকতে হয়।
এ ক্ষেত্রে কৌঁসুলিদের অভিযোগ, শেয়ারগুলোই ছিল কাল্পনিক এবং সেগুলো বিক্রির জন্য উপস্থাপিত আর্থিক চিত্র ছিল মিথ্যা। বিনিয়োগকারীরা তাঁদের শেয়ারহোল্ডার অধিকারও Thủy-কে দিয়েছিলেন। ফলে প্রতিশ্রুত অর্থ ফেরত দেওয়া এবং ওই অধিকার প্রয়োগের দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে ছিল, যাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পনাটি পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
অর্থ সংগ্রহে পুরস্কৃত বিক্রয় নেটওয়ার্ক
Đặng Văn Hiển তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা, স্কুল প্রকল্পের বিজ্ঞাপন এবং প্রত্যাশিত বিনিয়োগ মুনাফার হিসাব তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ। শেয়ার কেনার চুক্তিতে সই করার আগে বিক্রয়কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগও তিনি তদারক করতেন।
প্রতিবেদনগুলোতে Hiển-কে শেয়ারহোল্ডার সম্পর্ক বিভাগের প্রধান বলা হয়েছে, তবে পদটি এগরুপের না ইগেমের, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। বিনিয়োগ প্রচারের আয়োজন এবং ব্যবসা বিভাগ পরিচালনায় তাঁর কথিত ভূমিকার কথা প্রতিবেদনে ধারাবাহিকভাবে বলা হয়েছে।
বিক্রয়কর্মীরা তাঁদের সংগৃহীত বিনিয়োগের ৫ শতাংশ কমিশন পেতেন। এর মধ্যে ২ শতাংশ দেওয়া হতো এগরুপের শেয়ারে এবং ৩ শতাংশ নগদে। কর্মীদের নগদ অংশটিও শেয়ারে রূপান্তর করতে উৎসাহিত করা হতো।
এই কমিশন কাঠামোতে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণের ভিত্তিতে পুরস্কার দেওয়া হতো। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিনিয়োগ কার্যক্রম, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও মুনাফা নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যবস্থাপক ও বিক্রয়কর্মীরা তহবিল সংগ্রহে সহায়তা করেছিলেন। তাই অভিযোগটি একদিকে কোম্পানি পর্যায়ে দেওয়া আর্থিক তথ্য নিয়ে, অন্যদিকে পৃথক ক্রেতাদের রাজি করাতে ব্যবহৃত দাবিগুলো নিয়েও।
মামলার বিবরণে প্রমাণিত হয় না যে প্রত্যেক কর্মী প্রতিটি পর্যায়ে একই মাত্রায় বিষয়টি জানতেন। তবে অভিযোগ, পরবর্তী সময়েও কর্মীরা অর্থ সংগ্রহ চালিয়ে গিয়েছিলেন, যদিও তাঁরা জানতেন নতুন অর্থ শিক্ষা কার্যক্রমে বিনিয়োগের বদলে আগের বিনিয়োগকারীদের পরিশোধে ব্যবহার করা হচ্ছে।
নতুন বিনিয়োগে পুরোনো দায় পরিশোধ
তদন্ত-সংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এগরুপ নেটওয়ার্কের ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র ও প্রাক্-প্রাথমিক স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। নতুন গ্রাহকের সংখ্যা কমে যায় এবং আসা অর্থ ব্যয় ও মেয়াদপূর্তিতে পৌঁছানো চুক্তির অর্থ পরিশোধের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
অভিযোগ, Thủy বিক্রয়কাজে যুক্ত ৩৪১ কর্মীকে তদারককারী ২৩ ব্যবস্থাপক ও দলনেতাকে সংগৃহীত অর্থ অন্য খাতে ব্যবহারের নির্দেশ দেন। কর্মীরা নতুন গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের ৭০ শতাংশ তাঁদের পরিচালনায় থাকা বকেয়া পরিশোধের অপেক্ষায় থাকা পুরোনো গ্রাহকদের ফেরত দিতে পারতেন। বাকি ৩০ শতাংশ কোম্পানিতে পাঠানোর কথা ছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এই অর্থ বণ্টনটি জাল আয় বার্ষিক আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ হওয়ার দাবি থেকে আলাদা। একটি অঙ্ক জাল ব্যবসায়িক আয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত; অন্যটি নতুন বিনিয়োগ থেকে সংগৃহীত অর্থ কীভাবে বণ্টন করা হয়েছিল, তা বর্ণনা করে।
বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা কার্যক্রম থেকে আয়ের বদলে পরবর্তী বিনিয়োগকারীদের অর্থ দিয়ে আগের দায় মেটালে, পরিশোধ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে ধারাবাহিকভাবে নতুন তহবিল সংগ্রহের ওপর। এ মামলায় তদন্তকারীদের অভিযোগ, বিক্রয়কর্মীরা জানতেন যে উপস্থাপিত বক্তব্য অনুযায়ী অর্থ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে না, তবু তাঁরা অর্থ সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ চালিয়ে গেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কাল্পনিক শেয়ার হস্তান্তর চলেছিল ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে তৈরি বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অর্থপ্রবাহের হিসাব আলাদাভাবে রাখা হতো এবং কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো আর্থিক ও কর-সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে তা বাদ দেওয়া হতো। এগরুপ ও ইগেমের আর্থিক অবস্থা ভারসাম্যহীন এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে অক্ষম বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আদায়যোগ্য সম্পদের কোনো যাচাইকৃত মোট অঙ্ক জানানো হয়নি।
ঘুষের অভিযোগ ও আসামির সংখ্যা নিয়ে মতভেদ
অভিযোগে ঘুষের অঙ্ক ৩২ বিলিয়ন ডং-ই রয়েছে; পরিপূরক তদন্তের পরও তা বদলায়নি। Thủy-এর বিরুদ্ধে ঘুষ দেওয়া এবং Liên-এর বিরুদ্ধে তা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। অধিকাংশ প্রতিবেদনে তাঁকে Nhất Trần-এর চেয়ারওম্যান ও অর্থ পরিচালক বলা হয়েছে; অন্য একটি প্রতিবেদনে তাঁকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
Phú-এর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Thủy-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ঘুষ দেওয়ার উভয় অভিযোগ রয়েছে এবং ২৭ হিসাবরক্ষক ও ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, Phú-এর বিরুদ্ধেও ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে; বাকি ২৬ আসামির বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং Liên-এর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুই বিবরণেই মোট আসামির সংখ্যা ২৯।
অন্য একটি প্রতিবেদনে ২৫ অধস্তন কর্মীর কথা বলা হয়েছে, আর একটি গবেষণা-সারাংশে আসামির সংখ্যা ২৮ বলা হয়েছে, যদিও তার সঙ্গে থাকা বিবরণে Thủy-সহ আরও ২৮ জনের কথা রয়েছে। সবচেয়ে ধারাবাহিকভাবে যে মোট সংখ্যা জানানো হয়েছে, তা ২৯; তবে ভিন্ন ভিন্ন বিবরণ থেকে অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট বণ্টন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
৩২ বিলিয়ন ডং ঘুষের অভিযোগের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, অর্থাৎ এর বিনিময়ে কী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল, তা প্রতিবেদনগুলোতে যথেষ্ট বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। তাই ঘুষের অভিযোগকে প্রতারণার মাধ্যমে শেয়ার বিক্রির জন্য দায়ী করা অনেক বড় অঙ্ক থেকে আলাদা করে দেখা উচিত।
সম্পত্তি হস্তান্তর ও দেওয়ানি রায়
পরিপূরক তদন্তে ২৮ জন ভুক্তভোগীর মালিকানাধীন ২৮টি সম্পত্তির হস্তান্তর ও বন্ধক পরীক্ষা করা হয়। একটি প্রতিবেদনে নোটারি করা লেনদেনগুলোর সময় আগস্ট ২০১৬ থেকে জুন ২০২১ বলা হয়েছে; অর্থাৎ কথিত তহবিল সংগ্রহের কয়েক বছরের সময়কালজুড়ে সম্পত্তি-সংক্রান্ত তদন্ত চলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এগেমের অনুরোধে সাত ভুক্তভোগী সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিতে সই করেছিলেন। ছয়জন এগরুপের শেয়ার জড়িত এমন কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি করেছিলেন। আরেকজন ইগার্টেনের ইস্যু করা বন্ডের বিনিময়ে দুটি সম্পত্তি হস্তান্তর করেছিলেন। এসব লেনদেন বিনিয়োগকারীদের অর্থের তদন্তে সম্পত্তির মালিকানা ও জামানত রেখে ঋণ নেওয়ার বিষয়ও যুক্ত করে।
Thủy-এর স্ত্রী Lê Thị Thanh Hiền এবং এগরুপের উপপ্রধান নির্বাহী Nguyễn Ngọc Khánh নয় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ছয়টি সম্পত্তির মালিকানা পেয়েছিলেন এবং পরে সেগুলো ব্যাংকে বন্ধক রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে তাঁরা কাল্পনিক শেয়ার বিক্রির বিষয়ে জানতেন না এবং কথিত অনিয়ম থেকে লাভবান হননি। তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায় বিবেচনা করা হয়নি।
২৮টি সম্পত্তির লেনদেন সম্পন্নকারী পাঁচ নোটারিকেও ফৌজদারি বিচারের আওতায় আনার কথা বিবেচনা করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা দেখেছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো স্বেচ্ছায় অংশ নিয়েছিল, নোটারি প্রক্রিয়া বিধি মেনে সম্পন্ন হয়েছিল এবং নোটারিরা কথিত পরিকল্পনা থেকে লাভবান হননি।
দেওয়ানি কার্যক্রমে সংখ্যার একটি পৃথক হিসাব রয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে হ্যানয়ের আদালতগুলো ভুক্তভোগী ও ইগেমের ছয়টি কোম্পানির মধ্যে চুক্তি স্বীকৃতি-সংক্রান্ত ২২টি কার্যকর দেওয়ানি রায় এবং দুটি সিদ্ধান্ত দিয়েছিল বলে জানা গেছে। অর্থনৈতিক পুলিশ বিভাগ ১৮টি রায় এবং দুটি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করে। কয়েকটি প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পরে হ্যানয় পিপলস কোর্ট ওই ১৮টি রায় ও দুটি সিদ্ধান্ত বাতিল করে। একটি বিস্তৃত বিবরণে কতগুলো বাতিল হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়; সেটিকে ২২টি রায়ই বাতিল হওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে পড়া উচিত নয়।
প্রক্রিয়াগত সময়রেখা ও অমীমাংসিত বিষয়
অধিকতর তদন্তের জন্য নথি ফেরত পাঠানোর পর মামলাটিতে এটি দ্বিতীয় অভিযোগপত্র। কথিত অপরাধ, সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি মামলা এবং নতুন করে বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর সময়রেখা প্রতিবেদনে এভাবে তুলে ধরা হয়েছে:
- ২০১৪: Thủy এগরুপের নিবন্ধিত মূলধন বাড়িয়ে দেখানোর নির্দেশ দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।
- ২০১৫ থেকে ২০২৩: কাল্পনিক শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের ৮.৪৫৯ ট্রিলিয়ন ডংয়ের বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে কৌঁসুলিদের অভিযোগ।
- ২০২১ থেকে ২০২৩: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং নতুন বিনিয়োগের ৭০ শতাংশ আগের বিনিয়োগকারীদের দায় মেটাতে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ।
- আগস্ট ২০২৩ থেকে জানুয়ারি ২০২৪: সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি রায় ও চুক্তি স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
- আগস্টের শুরুতে: প্রকিউরেসি পরিপূরক তদন্তের জন্য ফৌজদারি মামলার নথি ফেরত দেয়। দুটি প্রতিবেদনে সাল ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে।
- ২২ সেপ্টেম্বর: জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত পুলিশ সংস্থা পরিপূরক তদন্তের উপসংহার জারি করে বলে জানা গেছে।
- ১২ অক্টোবর: দুটি প্রতিবেদনে নতুন অভিযোগপত্রের বিবরণ প্রকাশের তারিখ হিসেবে এই দিনটির কথা বলা হয়েছে।
সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের তারিখগুলোর সাল প্রতিবেদনগুলোতে ধারাবাহিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তাই আগস্ট ২০২৬-এর স্পষ্ট উল্লেখকে সময়রেখার পরবর্তী সব তারিখের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়।
বিচারের স্থান হিসেবে হ্যানয় পিপলস কোর্টের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তবে শুনানির কোনো তারিখ জানানো হয়নি। চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণ আদেশ, পরিশোধের জন্য নিশ্চিতভাবে উপলব্ধ সম্পদের পরিমাণ বা বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের সময়সূচিও প্রতিবেদনে নেই।
পরবর্তী বিচারিক সিদ্ধান্তগুলোতে কথিত কর্মকাণ্ড এবং প্রত্যেক আসামির দায় নির্ধারণ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য অমীমাংসিত বাস্তব বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বকেয়া মূলধনের নিষ্পত্তি, বাতিল হওয়া দেওয়ানি সিদ্ধান্তের পরিণতি এবং তহবিল সংগ্রহের সময় হস্তান্তর বা বন্ধক রাখা সম্পত্তিগুলোর অবস্থা।
মূল বিষয়গুলো
- নতুন অভিযোগপত্রে ৮.৪৫৯ ট্রিলিয়ন ডংয়ের বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে এবং ১০,১২৩ জন ভুক্তভোগী চিহ্নিত করা হয়েছে।
- অধিকাংশ প্রতিবেদনে আসামির সংখ্যা ২৯ বলা হয়েছে, যদিও অভিযোগ ও অধস্তন কর্মীর সংখ্যা নিয়ে কয়েকটি বিবরণে পার্থক্য রয়েছে।
- তদন্তকারীরা বকেয়া মূলধন রয়েছে এমন ৮,৯৩৮ জনকে চিহ্নিত করেছেন; আরও ১,১৮৫ জন তাঁদের প্রাথমিক বিনিয়োগের চেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছেন।
- এগরুপের মূলধন ৩২ বিলিয়ন ডং থেকে বাড়িয়ে ৯৬২.৫ বিলিয়ন ডং দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ; জাল আয় বার্ষিক আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল।
- ৩৮,০০০ ডং দামে বিক্রি করা শেয়ার এক বছর পর ৪২,০০০ ডং দামে পুনরায় কিনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল।
- ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে নতুন বিনিয়োগের ৭০ শতাংশ আগের বিনিয়োগকারীদের পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
- তদন্তে ২৮টি সম্পত্তি পরীক্ষা করা হয়েছে; প্রতিবেদনে ১৮টি দেওয়ানি রায় ও চুক্তি-সংক্রান্ত দুটি সিদ্ধান্ত বাতিলের কথা বলা হয়েছে।
- অভিযোগগুলোর বিচার হ্যানয় পিপলস কোর্টে হওয়ার কথা। বিচারের তারিখ বা অর্থ ফেরতের সময়সূচি জানানো হয়নি।






