বেইজিংয়ে রোবটনির্ভর প্রবীণসেবা কেন্দ্র চালু, গুরুত্ব পাচ্ছে খাবার, পুনর্বাসন ও বাসিন্দাদের মতামত

পড়তে 12 মিনিট
Beijing Opens Robot Senior Care Center, Putting Meals, Rehabilitation and Resident Feedback First

দৈনন্দিন পরিচর্যার চাহিদা মেটাতে ৪০টির বেশি রোবট পণ্য

২০২৬ সালের ১২ মার্চ বেইজিংয়ে চালু হওয়া ১,১০০ বর্গমিটারের একটি কমিউনিটি পরিচর্যা কেন্দ্র একটি বাস্তবসম্মত ধারণা যাচাই করছে: রোবট মানুষের মতো দেখানোর চেয়ে প্রবীণদের দুপুরের খাবার রান্না, চলাফেরায় সহায়তা কিংবা নিয়মিত ম্যাসাজ দেওয়ার সময় বেশি কাজে লাগতে পারে। রংহুয়া সাবডিস্ট্রিক্টের তিয়ানহুয়া ইউয়ান ইলিতে চারতলা এই কেন্দ্রে শুরুতে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের ৪০টির বেশি রোবট পণ্য ছিল। উদ্বোধনের দিন দুপুরে সেখানে ২০০ জনের বেশি প্রবীণ খাবার খান।

সূচিপত্র
  1. দৈনন্দিন পরিচর্যার চাহিদা মেটাতে ৪০টির বেশি রোবট পণ্য
  2. রান্নার রোবট সহায়তা করে, তবে রান্নাঘর চালান কর্মীরাই
  3. পুনর্বাসনে আগ্রহ আছে, তবে সহায়তার সীমা রয়েছে
  4. মডেল অ্যাপার্টমেন্টে পরীক্ষা পৌঁছেছে ঘরের কাছাকাছি
  5. ভিন্ন দর্শনার্থীর কাছে সঙ্গের অর্থ ভিন্ন
  6. কোন পণ্য থাকবে, তা নির্ধারণে বাসিন্দাদের ভূমিকা
  7. খরচ ও জনবল পরীক্ষামূলক উদ্যোগটির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে
  8. নীতিগত সমর্থন থাকলেও নিরাপত্তা ও তথ্যের সমস্যা মেটে না
  9. পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো পরীক্ষা, পরিচর্যার বিকল্প নয়
  10. মূল বিষয়

বেইজিং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এলাকার প্রশাসন কেন্দ্রটিকে বিশ্বের প্রথম স্মার্ট রোবট প্রবীণসেবা কেন্দ্র বলে বর্ণনা করেছে। ১৩ মার্চ প্রকাশিত তাদের উদ্বোধনের সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, কেন্দ্রটি তৈরি করেছে রংহুয়া সাবডিস্ট্রিক্ট এবং পরিচালনা করছে একটি পেশাদার সংস্থা। বিশ্বের প্রথম—এটি সরকারি দাবি; অন্য সব স্থানের পরিচর্যা কেন্দ্রের সঙ্গে স্বাধীনভাবে তুলনা করে প্রতিষ্ঠিত কোনো তথ্য নয়।

ঘোষণায় প্রতিদিন প্রায় ৩০০ দর্শনার্থী এবং কয়েক হাজার বাসিন্দাকে সেবার আওতায় আনার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে প্রতিদিন ৩০০ জনের বেশি প্রবীণ দর্শনার্থীর উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে। আরেকটি পরবর্তী বিবরণে উদ্বোধনের পর থেকে চালু করা রোবট পণ্যের সংখ্যা ৪৩ বলা হয়েছে; ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে পরিবর্তনের জন্য পরে প্রায় ১০টি সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সংখ্যা পরিবর্তনশীল পরীক্ষামূলক উদ্যোগের চিত্র তুলে ধরে, অপরিবর্তিত কোনো যন্ত্রসম্ভারের নয়।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রটিতে কমিউনিটি সেবা, একটি প্রদর্শনী অ্যাপার্টমেন্ট এবং বাস্তব ব্যবহারকারীদের নিয়ে যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করার ব্যবস্থা একসঙ্গে রয়েছে। কর্মীরা এখনো উপকরণ প্রস্তুত করেন, যন্ত্র চালান, দর্শনার্থীদের সহায়তা করেন এবং মানুষের মনোযোগ প্রয়োজন এমন পরিচর্যা দেন। রোবট একাই প্রবীণসেবা চালাতে পারে, এই প্রকল্প তার প্রমাণ নয়।

রান্নার রোবট সহায়তা করে, তবে রান্নাঘর চালান কর্মীরাই

ভূতলের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা দেখায়, কীভাবে নির্দিষ্ট কাজগুলোতে অটোমেশন ব্যবহার হচ্ছে। রান্নার রোবট নির্ধারিত সেটিং অনুসরণ করে, তবে রান্নাঘরের কর্মীরা উপকরণ কাটেন, মসলা প্রস্তুত করেন এবং যন্ত্রে সেগুলো দেন। উদ্বোধনের দিন একজন রাঁধুনি ছয়টি পদের মধ্যে একটি, শীতকালীন তরমুজের ঝোল, রোবটের তৈরি বলে জানান; অন্য খাবার তিনি নিজে তৈরি করেন।

বিজ্ঞাপন

অন্য যন্ত্রগুলো ট্রে দেয়, খাবারঘরে খাবার বহন করে এবং বিল হিসাব করে। পরবর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ক্যামেরা ট্রের খাবার শনাক্ত করে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে মোট দাম জানায়। এগুলো কর্মী-পরিচালিত খাবারঘরের আলাদা আলাদা কাজ, মানুষবিহীন রান্নাঘরের কার্যক্রম নয়।

প্রবেশপথের কাছে লাইসেন্সধারী একটি রোবট প্রায় তিন মিনিটে জিয়ানবিং তৈরি করে, যা একধরনের ঝাল চীনা প্যানকেক। গরম খাবার পরিবেশনের জন্য খাদ্য ব্যবসার লাইসেন্স থাকার কথা সরকারি ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক বিবরণে খাবারটিকে স্যান্ডউইচ বলা হলেও, সরকারি ঘোষণা ও অন্যান্য বিবরণে একে প্যানকেক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী এক পরিদর্শনে এর দাম বলা হয় ৬.৯ ইউয়ান।

পরিচালক হান সিন আরও জানিয়েছেন, খাবার নিবন্ধনের একটি ব্যবস্থা মুখ শনাক্ত করে আগে নথিভুক্ত স্বাস্থ্যসমস্যার তথ্য বের করে এবং দর্শনার্থীদের কোন খাবার এড়ানো উচিত তা চিহ্নিত করে। অ্যাপের মাধ্যমে অর্ডারের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে বলা হয়েছে, চালু সেবা হিসেবে নয়।

কিছু দর্শনার্থীর কাছে নির্ভরযোগ্য খাবার উন্নত পুনর্বাসন সরঞ্জামের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। ৭৪ বছর বয়সী রেন এক ঘণ্টা বাসে চড়ে কেন্দ্রে এসেছিলেন এবং দ্বিতীয়বারও ফিরে যান। নিজের অগ্রাধিকারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন:

যখন আর নিজের যত্ন নিতে পারব না, তখন ভাবব সেই দিনগুলো কীভাবে কাটাব। আপাতত আমার শুধু ভালো খাবার দরকার।

তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, খাবারের মান ও সুবিধা কেন্দ্রটির উপযোগিতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। কোনো যন্ত্র প্রযুক্তিগতভাবে কতটা উন্নত, তা দিয়ে বোঝা যায় না যে সেটি দরজায় আসা ব্যক্তির প্রয়োজন মেটাচ্ছে কি না।

পুনর্বাসনে আগ্রহ আছে, তবে সহায়তার সীমা রয়েছে

তৃতীয় তলায় পুনর্বাসন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিনোদন ও দিবাযত্নের ব্যবস্থা রয়েছে। একটি অভ্যর্থনা রোবট দর্শনার্থীদের বিভিন্ন বিভাগ খুঁজে পেতে সহায়তা করে। ম্যাসাজের যন্ত্রে শরীরের বিভিন্ন অংশের জন্য তীব্রতা সামঞ্জস্য করা যায়, আর পর্যবেক্ষণ সরঞ্জামে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন সূচক মাপা হয়।

মক্সিবাশন যন্ত্রে স্বয়ংক্রিয় অবস্থান নির্ধারণ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে। মক্সিবাশন একটি ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাপদ্ধতি, যাতে শরীরের নির্দিষ্ট অংশের কাছে তাপ প্রয়োগ করা হয়। ওই স্থান নির্ধারণ ও তাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কাজ; শুধু এ দিয়ে চিকিৎসার কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয় না বা প্রত্যেক দর্শনার্থীর জন্য তা উপযুক্ত, এমন নিশ্চয়তাও মেলে না।

পরবর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি ম্যাসাজ রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্দেশিত একটি মক্সিবাশন যন্ত্রের বুকিং বেশ বেশি। ছদ্মনাম কি-তে পরিচিত এক থেরাপিস্ট জানান, একজন থেরাপিস্ট একসঙ্গে তিন বা চারটি রোবটের তত্ত্বাবধান করতে পারেন। এতে কর্মীদের তত্ত্বাবধানে আরও বেশি সেবা দেওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়, যদিও জনবল বা খরচের কোনো নিরীক্ষিত তুলনা প্রকাশ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

পরিধানযোগ্য এক্সোস্কেলেটন বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। এক্সোস্কেলেটন হলো শরীরের বাইরে পরা সহায়ক যন্ত্র, যা কাউকে হাত-পা নাড়াতে সাহায্য করে। ওয়াং নামে পরিচিত ৭৪ বছর বয়সী এক দর্শনার্থীর সাধারণত রেলিং ধরে ধীরে ধীরে সিঁড়ি ভাঙতে হতো। উদ্বোধনের দিন পরীক্ষামূলক ব্যবহারের সময় উরু ও পায়ের নিচের অংশে সহায়তা অনুভব করার কথা তিনি জানান।

যন্ত্র পরা ব্যক্তিকেই নড়াচড়া করতে হয়। এই সরঞ্জাম সিঁড়ি ওঠাকে স্বয়ংক্রিয় করে না, আর একজনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে না যে এটি সবার ব্যথা কমাবে বা সবার জন্য নিরাপদে কাজ করবে। যন্ত্র পরানো ও সেটিং ঠিক করার ক্ষেত্রে কর্মীদের সহায়তাও সেবার অংশ।

হান সিন পরে জানান, চাহিদার কারণে এক্সোস্কেলেটনের ধরন দুটি থেকে বাড়িয়ে পাঁচটি করা হয়েছে। যন্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞ ঝেন জিশুও বলেন, এক প্রবীণ ব্যবহারকারীর মতামতের কারণে সিঁড়ি ওঠার মোড নিয়ে কাজের গতি বেড়েছে। চলাফেরায় বিদ্যমান সহায়তার পরীক্ষামূলক ব্যবহার এবং বিশেষ মোড তৈরির কাজকে একই সক্ষমতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

মডেল অ্যাপার্টমেন্টে পরীক্ষা পৌঁছেছে ঘরের কাছাকাছি

চতুর্থ তলায় বেইজিংয়ের সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি প্রদর্শনী অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যেখানে প্রবীণদের উপযোগী করে বাড়ি সাজানোর ব্যবস্থা দেখানো হয়। ঘরের ভেতরের আয়তন প্রায় ৬০ বর্গমিটার, আর এর সঙ্গে যুক্ত বাইরের বিনোদন এলাকা প্রায় ২০০ বর্গমিটার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিংজুড়ে এ ধরনের ৩৩টি প্রদর্শনীস্থানের মধ্যে এটি একটি।

অ্যাপার্টমেন্টটিতে স্মার্ট হুইলচেয়ার, সঙ্গ দেওয়ার যন্ত্র ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে; পাশাপাশি রয়েছে কম চোখে পড়ে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য—চলাচলের উপযোগী বিন্যাস এবং পিছলে পড়ার ঝুঁকি কমাতে তৈরি মেঝে। আলাদা আলাদা যন্ত্র প্রদর্শনের বদলে বসবাসের জায়গায় সেগুলো কীভাবে কাজে লাগে, তা দেখানোই এর মূল্য।

পরবর্তী এক বিবরণে শোবার ঘর, বসার ঘর, রান্নাঘর ও বাথরুমের পাশাপাশি দৃশ্য শনাক্তকরণ ও মিলিমিটার-তরঙ্গ রাডার ব্যবহার করে পড়ে যাওয়া শনাক্ত করার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এই রাডার চলাচল শনাক্ত করতে রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে। পড়ে যাওয়া শনাক্তের ব্যবস্থা সম্ভাব্য দুর্ঘটনার বিষয়ে অন্যদের সতর্ক করতে পারে; তবে তা পড়ে যাওয়া শারীরিকভাবে ঠেকায় না বা তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।

কেন্দ্রটি নিজস্ব স্থানে সেবার পাশাপাশি বাড়িতে গিয়েও সহায়তা দেয়; প্রয়োজন হলে কর্মীরা বহনযোগ্য সরঞ্জাম বাসিন্দাদের কাছে নিয়ে যেতে পারেন। তবে এসব পরিদর্শনের পরিসর, খরচ বা সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থার বিষয়ে প্রকাশিত বিবরণে যথেষ্ট তথ্য নেই।

প্রদর্শনী কক্ষের অনুরূপ ব্যবস্থা করলেই বাড়িতে সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার কাজ শেষ হয় না। কোনো যন্ত্র বাস্তব পরিচর্যা সেবায় উপযোগী হয়ে উঠবে কি না, তা নির্ভর করে স্থাপন, বাসিন্দার চলাচলের সক্ষমতা, যন্ত্র ব্যবহারে সহায়তা এবং সতর্কবার্তা পেলে সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থার ওপর।

বিজ্ঞাপন

ভিন্ন দর্শনার্থীর কাছে সঙ্গের অর্থ ভিন্ন

কেন্দ্রের সব কার্যক্রম শারীরিক পরিচর্যা ঘিরে নয়। দর্শনার্থীরা রোবট হাত দিয়ে দাবা বা অন্য বোর্ড গেম খেলতে, ইন্টারঅ্যাকটিভ যন্ত্রের সঙ্গে কথা বলতে এবং চা তৈরির রোবটকে পানি গরম, কাপ গরম, চা দেওয়া, চা তৈরি ও ঢালার কাজ করতে দেখতে পারেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কর্মীদের হস্তক্ষেপ লাগে না। বাইরের একটি প্রতিবন্ধকতা পার হওয়ার পথে বাসিন্দারা রোবট কুকুর চালাতে পারেন।

দ্বিতীয় তলায় শিশু ও ছোটদের জন্য আঁকা, ফুটবল ও সঙ্গ দেওয়ার রোবট রয়েছে। ফলে একই কমিউনিটি স্থানে প্রবীণসেবা ও শিশুযত্নের ব্যবস্থা হয়েছে; এটি শুধু আবাসিক নার্সিংকেন্দ্র নয়।

ইন্টারঅ্যাকটিভ যন্ত্রের প্রতি সবার প্রতিক্রিয়া এক নয়। ঝুয়াং নামে পরিচিত ৮০ বছর বয়সী এক দর্শনার্থীর ভালো লেগেছে অভ্যর্থনা রোবট শিয়ারংকে কবিতা লিখতে বলা। অন্য প্রতিবেদনে মানুষের মতো বৈশিষ্ট্যযুক্ত যন্ত্রের প্রতি কৌতূহলের পাশাপাশি অস্বস্তির কথাও উঠে এসেছে। বিপরীতে, হান সিন বলেন, দর্শনার্থীদের মধ্যে তিনি তেমন অনীহা দেখেননি। এসব বিবরণ ভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রতিফলন, সবার গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ নয়।

এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো সং রাজবংশের কবি সু দংপো, যিনি সু শি নামেও পরিচিত, তাঁর আদলে তৈরি মানবসদৃশ রোবট। যন্ত্রটি কবিতা আবৃত্তি ও খাবার নিয়ে আলোচনা করতে পারত। তবে এর দাম ৬ লাখ ইউয়ানের বেশি বলে জানা গেছে; নিয়মিত ব্যবহার কম হওয়ায় মাত্র কয়েক দিন পরই এটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

কেন্দ্রটির বেসরকারি পরিচালক হান সিন ব্যাখ্যা করেন, কেন যন্ত্রটি রাখা হয়নি:

প্রবীণরা একবার চেষ্টা করে দেখতেন, কিন্তু এটি কোনো বাস্তব চাহিদা মেটাত না।

এর মানে এই নয় যে কারও কাছেই যন্ত্রটির মূল্য ছিল না। ঝুয়াংও সু দংপো রোবটের সঙ্গে রেসিপি ও কবিতা নিয়ে কথা বলে ভালো লাগার কথা জানান। এই পার্থক্য দেখায়, একজনের কাছে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হওয়া আর যথেষ্টসংখ্যক মানুষের নিয়মিত প্রয়োজন মিটিয়ে খরচ যৌক্তিক করা এক বিষয় নয়।

কোন পণ্য থাকবে, তা নির্ধারণে বাসিন্দাদের ভূমিকা

কেন্দ্রটির পরিচালন কাঠামো সরকারি অর্থায়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক পণ্য উন্নয়নকে যুক্ত করেছে। স্থানীয় সরকার অর্থায়ন ও কার্যক্রম তদারক করে, বেসরকারি পরিচালনাকারী দৈনন্দিন সেবা সামলায়, আর ‘রোবট মল’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম ২৪টি প্রতিষ্ঠানের সরঞ্জাম বেছে নিয়ে সরবরাহ করে। প্ল্যাটফর্মটিকে রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

ব্যবহারিক চাহিদা, নিরাপত্তা ও উপযোগিতার ভিত্তিতে পণ্য যাচাই করা হয় বলে সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে। কেন্দ্রপ্রধান ঝাং ওয়েনদং সরকারের দিকনির্দেশনা, কোম্পানির অংশগ্রহণ ও বাসিন্দাদের তদারকির সমন্বয়ে চলমান ব্যবস্থার কথা বলেন। কমিউনিটি গ্রুপ ও মতামত বাক্সের মাধ্যমে পরামর্শ সংগ্রহ করা হয়।

পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে যন্ত্রের পাশে থাকা কিউআর কোড এবং ব্যবহারকারীদের সঙ্গে পরবর্তী আলাপের মাধ্যমে মতামত সংগ্রহের কথাও এসেছে। পরিবর্তনের জন্য প্রায় ১০টি পণ্য সরিয়ে নেওয়া এবং এক্সোস্কেলেটনের বিকল্প বাড়ানোর ঘটনা দেখায়, মতামতের ভিত্তিতে সরঞ্জামের প্রস্তাবে পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে প্রতিটি পরিবর্তন কতটা সফল হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠিত হয় না।

বিজ্ঞাপন

সরকারি ঘোষণায় উল্লিখিত দুই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক স্বার্থের পরিসর তুলে ধরে। বেইজিং শিজিয়ে চিউসুও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টেকনোলজি সঙ্গ দেওয়া ও থেরাপির পণ্য সরবরাহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিয়া জিং বলেন, বৃহত্তর পরিসরে ব্যবহারের আগে সরাসরি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে শেখার জায়গা এই কেন্দ্র। শিংগং জুজিয়াং (বেইজিং) ইন্টেলিজেন্ট টেকনোলজি খাবার পৌঁছে দেওয়া ও পরিষ্কারের রোবটের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক হুইলচেয়ার সহায়তা ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হুও হুয়ায়ু বলেন, দৈনন্দিন জীবনের জটিল পরিবেশে পরীক্ষা করলে পণ্যের মানদণ্ড উন্নত করা যায়।

এই কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পায়, আর বাসিন্দারা এমন সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ পান, যা অন্যথায় তাঁদের কাছে নাও পৌঁছাতে পারত। দুই পক্ষের স্বার্থে মিল থাকতে পারে, তবে পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির কাজ স্বাধীন মূল্যায়নের সমান নয়। কেন্দ্রটির কারণে পড়ে যাওয়া, চলাচলের সক্ষমতা, নিঃসঙ্গতা বা দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ফলাফলে কী প্রভাব পড়েছে, তা প্রতিষ্ঠা করে এমন কোনো মূল্যায়ন প্রকাশিত হয়নি।

খরচ ও জনবল পরীক্ষামূলক উদ্যোগটির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে

রংহুয়ার রোবট কেন্দ্রটি সাবডিস্ট্রিক্টের চারটি প্রবীণসেবা কেন্দ্রের একটি; বাকি তিনটিকে ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ৬০ বছরের বেশি বয়সীরা জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বেশি; কিছু পাড়ায় এই হার ৩৫ শতাংশ। স্থানীয় এই চাহিদা পুনর্বাসন ও খাবারকে এত গুরুত্ব দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে।

প্রতিবেদনগুলোতে জাতীয় জনসংখ্যার পরিসংখ্যানে পার্থক্য রয়েছে। এক প্রতিবেদনে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩২ কোটি বলা হয়েছে। অন্যটিতে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৬০ বছর ও তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ৩২ কোটি ১০ লাখ, যা জনসংখ্যার ২২.৮৬ শতাংশ। আরেক প্রতিবেদনে সংখ্যা ৩২ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার, অর্থাৎ প্রায় ২৩ শতাংশ। শেষের দুটি সংখ্যার মধ্যে ২৩ লাখ ৮০ হাজারের পার্থক্য রয়েছে; এখানে এ অসংগতির কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা প্রয়োজন এমন প্রতিবন্ধী প্রবীণ মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ। পাশাপাশি শিল্পখাতের একটি হিসাব অনুযায়ী, প্রবীণসেবা কর্মীর ঘাটতি প্রায় ১ কোটি হতে চলেছে। এই সংখ্যাগুলো ভিন্ন বিষয় বোঝায়: পরিচর্যা প্রয়োজন এমন মানুষ এবং আনুমানিক জনবল-ঘাটতি। এর কোনোটিই বোঝায় না যে একই সংখ্যক রোবটেই চাহিদা মিটবে।

বেইজিংয়ের কেন্দ্রটিতে পরবর্তী এক বিবরণে রোবট ম্যাসাজের দাম ঘণ্টায় ৬৮ ইউয়ান বলা হয়েছে এবং স্থানীয় সরকার যন্ত্রগুলোর জন্য ভর্তুকি দেয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেবার এককালীন এই দাম যন্ত্র কেনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মী নিয়োগের পূর্ণ খরচের প্রমাণ নয়।

আরও সক্ষম পরিচর্যা পণ্যের দাম কয়েক দশ হাজার থেকে কয়েক লাখ ইউয়ান পর্যন্ত হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসা বিমা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা বিমার আওতায় না থাকায় পরিবারগুলোর জন্য এসব পণ্য কেনা কঠিন। ভর্তুকি-সহায়তায় কমিউনিটি সেবা অনেক ব্যবহারকারীর মধ্যে সুযোগ ছড়িয়ে দিতে পারে, তবে অন্যত্রও এই ব্যবস্থা টেকসই হবে কি না, তা প্রতিষ্ঠার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক তথ্য কেন্দ্রটি প্রকাশ করেনি।

বিজ্ঞাপন

নীতিগত সমর্থন থাকলেও নিরাপত্তা ও তথ্যের সমস্যা মেটে না

উন্নয়ন এলাকাটি কেন্দ্রটিকে বৃহত্তর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করেছে। জানুয়ারিতে তারা ২০২৬ ও ২০২৭ সালের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করে, যার লক্ষ্য আরও শিল্প ও বাড়িতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো। সরকারি উদ্বোধনী ঘোষণায় এলাকার প্রথম বিশেষ প্রবীণসেবা পরিকল্পনা এবং এমবডিড ইন্টেলিজেন্স—অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বাস্তব যন্ত্র চালানো ব্যবস্থা—সমর্থনে ১০টি নীতিগত পদক্ষেপের কথাও রয়েছে।

২০২৫ সালের শেষ দিকে আটটি বিভাগ জারি করা জাতীয় পদক্ষেপে প্রবীণসেবার জন্য প্রযুক্তি উন্নয়নে উৎসাহ দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বেসামরিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বুদ্ধিমান প্রবীণসেবা রোবট তৈরির আহ্বান জানানো হয়। এসব পদক্ষেপ নীতিগত সমর্থন দেখায়, তবে কেন্দ্রের প্রতিটি পণ্য একই ধরনের চিকিৎসা বা পরিচর্যা নিরাপত্তামান উত্তীর্ণ হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠা করে না।

বাণিজ্যিক পূর্বাভাসও সতর্কতার সঙ্গে দেখা দরকার। একটি উদ্ধৃত শিল্পখাতের হিসাবে, চীনের প্রবীণসেবা রোবটের বাজার ২০২৪ সালে ৭৯০ কোটি ইউয়ান এবং ২০২৫ সালে ৯১০ কোটি ইউয়ান ছিল। ২০২৬ সালের পূর্বাভাস ১,০৪০ কোটি ইউয়ান। ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের সম্ভাব্য বৃদ্ধি ১৩০ কোটি ইউয়ান, প্রায় ১৪ শতাংশ। এগুলো বাজারের অনুমান; বেইজিংয়ের কেন্দ্র থেকে যাচাই করা আয় নয়।

প্রতিবেদনে পরিবারে ব্যাপক ব্যবহারের পথে তিনটি বাধার কথা বলা হয়েছে: দাম, অসম্পূর্ণ নিরাপত্তামান এবং বিচ্ছিন্ন তথ্যব্যবস্থা। কেন্দ্রের রোবট ও বাড়ির যন্ত্র থেকে পাওয়া স্বাস্থ্যতথ্য এখনো ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নথি, বিমাব্যবস্থা বা অন্য নির্মাতার যন্ত্রের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যুক্ত হয় না।

মুখ শনাক্তকরণ, স্বাস্থ্য-ইতিহাস ও বাড়িতে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় গোপনীয়তা একটি বাস্তব উদ্বেগ। সরকারি ঘোষণায় এসব ব্যবস্থার জন্য বিস্তারিত সম্মতিপদ্ধতি, তথ্য সংরক্ষণের মেয়াদ বা প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়নি। ব্যাপক ব্যবহারের আগে তথ্য কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, পাশাপাশি কীভাবে ভাগ করা হবে, তা নিয়ে কাজ করতে হবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো পরীক্ষা, পরিচর্যার বিকল্প নয়

এ পর্যন্ত প্রকল্পটির অগ্রগতি নীতি থেকে কমিউনিটি পর্যায়ের ব্যবহার, তারপর পরিবর্তনের দিকে এগিয়েছে:

  • ২০২৫ সালের শেষ দিকে: আটটি জাতীয় বিভাগ প্রবীণসেবা খাতে প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তার পদক্ষেপ জারি করে।
  • ২০২৬ সালের জানুয়ারি: বেইজিং উন্নয়ন এলাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করে এবং বেসামরিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় বুদ্ধিমান প্রবীণসেবা রোবট তৈরির আহ্বান জানিয়ে নির্দেশনা জারি করে।
  • ২০২৬ সালের ১২ মার্চ: রংহুয়া কেন্দ্রটি চালু হয়; দুপুরে সেখানে ২০০ জনের বেশি প্রবীণ খাবার খান।
  • ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ: সরকারি ঘোষণায় কেন্দ্রের বিবরণ, পণ্য বাছাইয়ের নীতি ও প্রত্যাশিত দৈনিক উপস্থিতি তুলে ধরা হয়।
  • উদ্বোধনের পর: প্রতিবেদনে প্রতিদিন ৩০০ জনের বেশি প্রবীণ দর্শনার্থী, এক্সোস্কেলেটনের বাড়তি বিকল্প এবং পরিবর্তনের জন্য সরিয়ে নেওয়া সরঞ্জামের কথা বলা হয়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইঝুয়াংয়ে প্রযুক্তিনির্ভর প্রবীণসেবা কেন্দ্র আরও গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে এবং বেইজিংয়ের অন্যত্র ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যবহারযোগ্য মডেল বিবেচনা করছে। তবে সম্প্রসারণের নির্দিষ্ট সময়সীমা, সংখ্যাভিত্তিক লক্ষ্য বা এই কেন্দ্রের মূল্যায়নের প্রকাশিত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।

এখন পর্যন্ত রোবটগুলোর প্রমাণিত ভূমিকা পরিচর্যাকারীদের প্রতিস্থাপনের চেয়ে সীমিত। কর্মীদের তত্ত্বাবধান, সহায়তা ও সরাসরি মানবিক পরিচর্যার পাশাপাশি এগুলো নির্দিষ্ট পুনরাবৃত্ত কাজ করতে পারে। এতে টেকসই খরচে পরিচর্যার মান উন্নত হয় কি না, তা জানতে ব্যস্ত বুকিং সূচি ও ব্যক্তিগত ইতিবাচক অভিজ্ঞতার বাইরের প্রমাণ দরকার।

মূল বিষয়

  • ১,১০০ বর্গমিটারের রংহুয়া কেন্দ্রটি ২০২৬ সালের ১২ মার্চ বেইজিংয়ে চালু হয়। সেখানে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের ৪০টির বেশি রোবট পণ্য রয়েছে।
  • সেবার মধ্যে রয়েছে খাবার, পুনর্বাসন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিনোদন, শিশুযত্ন এবং বাড়ির উপযোগী পরিবর্তনের প্রদর্শনী।
  • পরবর্তী প্রতিবেদনে উদ্বোধনের পর থেকে ৪৩টি পণ্য চালুর কথা বলা হয়েছে; পরিবর্তনের জন্য প্রায় ১০টি সরিয়ে নেওয়া হয়।
  • বাসিন্দাদের মতামতের ভিত্তিতে এক্সোস্কেলেটনের বিকল্প বাড়ানো হয়েছে এবং সিঁড়িতে সহায়তার ব্যবস্থা নিয়ে আরও কাজ চলছে।
  • তত্ত্বাবধান, যন্ত্র ব্যবহারে সহায়তা ও সরাসরি মানবিক পরিচর্যার দায়িত্ব কর্মীদেরই রয়েছে।
  • ব্যাপক ব্যবহারের পথে খরচ, নিরাপত্তামান ও স্বাস্থ্যতথ্য সংযোগ এখনো বাধা। সম্প্রসারণের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে