১১৯০ কোটি ডলারের বৃদ্ধির বেশির ভাগই করপোরেট খাতের
উজবেকিস্তানের বৈদেশিক ঋণ ২০২৬ সালের ১ জুলাই ৮৪১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এক বছর আগে ৭২২০ কোটি ডলার থেকে তা ১১৯০ কোটি ডলার বা ১৬.৫ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধির মধ্যে করপোরেট ঋণের অংশ ৭০০ কোটি ডলার, আর সরকারি বৈদেশিক ঋণের অংশ ৪৯০ কোটি ডলার। উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক খাত পর্যালোচনার পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সূচিপত্র
- ১১৯০ কোটি ডলারের বৃদ্ধির বেশির ভাগই করপোরেট খাতের
- ২০২৫ সালের তীব্র বৃদ্ধির পর প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে
- করপোরেট ঋণ সরকারের পরিশোধযোগ্য দায় নয়
- সরকারি ঋণের অঙ্ক আলাদা কেন
- সরকারকে কারা ঋণ দেয়
- সরকারি বৈদেশিক ঋণের অর্ধেকের বেশি বাজেট সহায়তায়
- স্বর্ণ বাদে রপ্তানি বেড়েছে, তবে আমদানি আরও দ্রুত বেড়েছে
- দ্বিতীয় প্রান্তিকে রপ্তানি ও বিনিয়োগ বেড়েছে
- বৈদেশিক সম্পদ এখনো দায়ের চেয়ে বেশি, তবে ব্যবধান কমেছে
- ঋণের অনুপাত কমা নির্ভর করে প্রবৃদ্ধি ও বিনিময় হারের ওপর
- মূল তথ্য
মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় সমান দুই ভাগে বিভক্ত: সরকারি বৈদেশিক ঋণ ৪১৭০ কোটি ডলার এবং করপোরেট বৈদেশিক ঋণ ৪২৪০ কোটি ডলার। প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে হিসাব করলে, মোট ঋণের প্রায় ৫০.৪ শতাংশ এবং বার্ষিক বৃদ্ধির ৫৮.৮ শতাংশ এসেছে কোম্পানি ও ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে।
এই বৃদ্ধির সময় ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৩৪০ কোটি ডলার, স্বর্ণ রপ্তানি কমেছে এবং উজবেকিস্তানের বৈদেশিক সম্পদ ও দায়ের মধ্যকার উদ্বৃত্ত সংকুচিত হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি মূল্যায়নের কথাও উল্লেখ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে বৈদেশিক ঋণের বোঝা কম এবং অধিকাংশ ঋণ নেওয়া হয়েছে সহজ শর্তে।
অর্থনীতি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পৃথক হিসাবে, অভ্যন্তরীণ ঋণসহ মোট সরকারি ঋণ ৪৮৩১ কোটি ডলার। এই অঙ্ক ৮৪১০ কোটি ডলারের বৈদেশিক ঋণের বিকল্প হিসাব নয়: এতে সরকারি দায় পরিমাপ করা হয়েছে, আর মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে বিদেশ থেকে নেওয়া করপোরেট ঋণও রয়েছে।
ঋণ পরিশোধের দায় কার, তা বোঝার জন্য এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি গ্যারান্টি ছাড়া করপোরেট ঋণ সরকারের কোনো দায় তৈরি করে না। ফলে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ বাড়লে তা রাষ্ট্রের বাজেট থেকে পরিশোধযোগ্য ঋণ সমপরিমাণ বেড়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না।
২০২৫ সালের তীব্র বৃদ্ধির পর প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে
১ জুলাই ২০২৫ থেকে পরের এক বছরে সরকারি বৈদেশিক ঋণ ৩৬৮০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৪১৭০ কোটি ডলার হয়েছে, অর্থাৎ ১৩.৩ শতাংশ বেড়েছে। করপোরেট বৈদেশিক ঋণ আরও দ্রুত বেড়েছে: ৩৫৪০ কোটি ডলার থেকে ৪২৪০ কোটি ডলারে, অর্থাৎ ১৯.৮ শতাংশ।
দীর্ঘমেয়াদি তুলনায় করপোরেট ঋণের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। ২০২০ সালে করপোরেট বৈদেশিক ঋণ ছিল ১২৫০ কোটি ডলার; ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ তা বেড়ে ৪১৭০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়, যা তিন গুণেরও বেশি। ২০২৫ সালে মোট বৈদেশিক ঋণ বেড়েছিল ১৮১০ কোটি ডলার। এর তুলনায় ২০২০ সালে বার্ষিক বৃদ্ধি ছিল ৯২০ কোটি ডলার, ২০২৩ সালে ৯৮০ কোটি ডলার এবং ২০২৪ সালে ১০৮০ কোটি ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ৮২২০ কোটি ডলার। এতে প্রথমার্ধে প্রায় ১৯০ কোটি ডলার বা ২.৩ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেই হিসাবে ১১৯০ কোটি ডলারের বার্ষিক বৃদ্ধির প্রায় ১০০০ কোটি ডলার ঘটেছে ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে।
প্রকাশিত তুলনাগুলোতে সময়ের হিসাবে অসামঞ্জস্য রয়েছে। একটি বিবরণে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিলেও মোট ঋণ ৮২২০ কোটি ডলার দেখানো হয়েছে; সরকারি ঋণ ৪০৫০ কোটি ডলার এবং করপোরেট ঋণ ৪১৭০ কোটি ডলার। অন্য বিবরণগুলোতে একই অঙ্কগুলো বছরের শুরুর হিসাব হিসেবে দেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের শেষের হিসাবটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও, আগের হিসাবের তারিখ পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত ১৯০ কোটি ডলারের বৃদ্ধি পুরোপুরি দ্বিতীয় প্রান্তিকের বলে নির্দিষ্ট করা যায় না।
- ১ জুলাই ২০২৫: মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ৭২২০ কোটি ডলার; এর মধ্যে সরকারি ঋণ ৩৬৮০ কোটি এবং করপোরেট ঋণ ৩৫৪০ কোটি ডলার।
- ২০২৫ সালের শেষ: রেকর্ড ১৮১০ কোটি ডলার বার্ষিক বৃদ্ধির পর মোট বৈদেশিক ঋণ ৮২২০ কোটি ডলারে দাঁড়ায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ১ এপ্রিল ২০২৬: একটি ত্রৈমাসিক তুলনাতেও ৮২২০ কোটি ডলারের হিসাব দেওয়া হয়েছে।
- ১ জুলাই ২০২৬: মোট বৈদেশিক ঋণ ৮৪১০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।
- ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উজবেক ভাষার প্রকাশনাটি হালনাগাদ করা হয়।
করপোরেট ঋণ সরকারের পরিশোধযোগ্য দায় নয়
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, করপোরেট ঋণের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রের গ্যারান্টি ছাড়া বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নেওয়া ঋণ। এসব ঋণ পরিশোধ করতে হবে ঋণগ্রহীতা কোম্পানি ও ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে।
ঋণ পরিশোধের দায় সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে:
এ ধরনের ঋণে সরকারের কোনো দায় তৈরি হয় না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে এসব দায় পরিশোধ করা হয়।
এতে সরাসরি বাজেটের দায় এবং করপোরেট দায় আলাদা করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব করপোরেট ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধের শর্ত একই। প্রকাশিত সারসংক্ষেপে ঋণগ্রহীতা, মেয়াদ, সুদের হার বা মুদ্রা অনুযায়ী করপোরেট ঋণের পূর্ণাঙ্গ বিভাজন নেই।
ঋণের স্থিতিকে নতুন করে পাওয়া ঋণের মোট অঙ্ক হিসেবেও দেখা উচিত নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদ্ধতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি বৈদেশিক ঋণের হিসাবে বকেয়া সুদ অন্তর্ভুক্ত থাকে; আর সার্বভৌম আন্তর্জাতিক বন্ডের মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রতিবেদন তৈরির দিনের বাজারদর অনুযায়ী। নতুন নগদ ঋণ ছাড়াও এসব হিসাবপদ্ধতি নথিভুক্ত ঋণের স্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারি ঋণের অঙ্ক আলাদা কেন
অর্থনীতি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ১ জুলাই সরকারি ঋণ ছিল ৪৮৩১ কোটি ডলার। এক বছর আগের তুলনায় তা ৪৮২ কোটি ডলার বা ১১ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের শুরুর তুলনায় ১৪৬ কোটি ডলার বা ৩.১ শতাংশ বেশি। সরকারি বৈদেশিক ঋণ ছিল ৪০৭১ কোটি ডলার বা প্রায় ৮৪ শতাংশ; অভ্যন্তরীণ ঋণ ছিল ৭৬০ কোটি ডলার বা প্রায় ১৬ শতাংশ।
মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক ঋণের অঙ্ক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৪১৭০ কোটি ডলারের সরকারি বৈদেশিক ঋণের হিসাবের চেয়ে প্রায় ৯৯ কোটি ডলার কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারায় বকেয়া সুদ এবং সার্বভৌম বন্ডের বাজারমূল্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তবে প্রকাশিত ব্যাখ্যায় পুরো পার্থক্যের সমন্বয় দেখানো হয়নি। তাই দুটি হিসাব আলাদাভাবে উল্লেখ করা উচিত।
মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২৭ শতাংশ ছিল সরকারি ঋণ—প্রথম প্রান্তিকে যা ছিল ২৬.৩ শতাংশ। জিডিপির ২২.৮ শতাংশ ছিল সরকারি বৈদেশিক ঋণ এবং ৪.২ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ঋণ। জিডিপি অর্থনীতিতে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মূল্য পরিমাপ করে; ঋণের সঙ্গে জিডিপির তুলনা করলে তা ঋণ বহনকারী অর্থনীতির আকারের তুলনায় কতটা, তা বোঝা যায়।
আগের এক প্রতিবেদনে সরকারি ঋণের অনুপাত ৩১.৯ শতাংশ বলা হলেও, সেই হিসাবের সময়কাল নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে পার্থক্য রয়েছে। জুলাইয়ের একটি বিবরণে এটিকে আগের বছরের তুলনামূলক হিসাব বলা হয়েছে; ২০২৫ সালের ফলাফলের বিবরণে ২০২৫ সালের শেষের অনুপাত বলা হয়েছে। উভয় হিসাবেই আগের অনুপাত বেশি, তবে তুলনার সময়কাল এক নয়।
সরকারকে কারা ঋণ দেয়
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সরকারি বৈদেশিক ঋণের ৫৫ শতাংশ বা ২২৪৮ কোটি ডলার ছিল আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। বিদেশি সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশ ২৮ শতাংশ বা ১১৪৫ কোটি ডলার, আর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশ ১৭ শতাংশ বা ৬৭৭ কোটি ডলার। প্রকাশিত অঙ্কগুলোর সূক্ষ্মতার কারণে যোগফলের সঙ্গে মোটের সামান্য পার্থক্য রয়েছে।
একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বব্যাংক ছিল সবচেয়ে বড় ঋণদাতা; ঋণের পরিমাণ ৯১২ কোটি ডলার। এরপর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ৮১৭ কোটি ডলার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। তাদের সম্মিলিত ১৭২৯ কোটি ডলার মন্ত্রণালয়ের হিসাবে মোট সরকারি বৈদেশিক ঋণের প্রায় ৪২.৫ শতাংশ। অন্যান্য ঋণদাতার মধ্যে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের ২৩২ কোটি এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের ১২০ কোটি ডলার রয়েছে।
বিদেশি সরকারের ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ছিল ৩৮৮ কোটি ডলার এবং জাপানের ৩০৯ কোটি ডলার। ফ্রান্সের ১৩০ কোটি, জার্মানির ৭২ কোটি ৫০ লাখ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ৬৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
২০২৫ সালের শেষের তুলনায় ঋণদাতাদের অনুপাতে সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। তখন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশ ছিল ৫৬ শতাংশ, বিদেশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ২৯ শতাংশ এবং বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ। জুলাইয়ে বিনিয়োগকারীদের অংশ বেড়ে ১৭ শতাংশ হয়েছে; তাদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫৮৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ৬৭৭ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।
সরকারি বৈদেশিক ঋণের অর্ধেকের বেশি বাজেট সহায়তায়
মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের হিসাবে, সরকারি বৈদেশিক ঋণের ২০৫৩ কোটি ডলার রাষ্ট্রীয় বাজেট সহায়তার জন্য নির্ধারিত ছিল, যা মোট ৪০৭১ কোটি ডলারের অর্ধেকের কিছু বেশি। ২০২৫ সালের শেষের ১৯৮৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারের তুলনায় নথিভুক্ত ঋণের স্থিতি প্রায় ৬৯ কোটি ২০ লাখ ডলার বেড়েছে।
অবশিষ্ট বরাদ্দের মধ্যে জ্বালানি ও শক্তি খাতে ৫৪৭ কোটি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ৩৭২ কোটি, আবাসন ও জনপরিষেবায় ৩৩৭ কোটি, কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় ৩৩৪ কোটি এবং পরিবহন ও পরিবহন অবকাঠামোয় ৩০৬ কোটি ডলার রয়েছে। এগুলো মোট ঋণের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ; প্রথমার্ধে নতুন করে নেওয়া ঋণের অঙ্ক নয়।
ঋণের মুদ্রার গঠনও আলাদা বিবেচনার বিষয়। সরকারি বৈদেশিক ঋণের ৬৭.৪ শতাংশ বা ২৭৪৪ কোটি ডলার ছিল মার্কিন ডলারে। ইউরোতে ছিল ৯.৬ শতাংশ বা ৩৮৯ কোটি ডলার, আর জাপানি ইয়েনে ৬.৮ শতাংশ বা ২৭৫ কোটি ডলার। বিনিময় হারে পরিবর্তন হলে সোমে আদায় করা সরকারি রাজস্বের তুলনায় এসব ঋণ পরিশোধের খরচ বদলে যেতে পারে।
অভ্যন্তরীণ ঋণের পুরোটাও স্থানীয় মুদ্রায় ছিল না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৫০০ কোটি ডলার ছিল সোমে এবং ২৩৮ কোটি ডলার মার্কিন ডলারে। গোল করে দেওয়া এই অঙ্কগুলো যোগ করলে অভ্যন্তরীণ ঋণের ৭৬০ কোটি ডলারের মোটের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। তবে এ হিসাব দেখায়, অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং স্থানীয় মুদ্রায় নেওয়া ঋণ এক বিষয় নয়।
স্বর্ণ বাদে রপ্তানি বেড়েছে, তবে আমদানি আরও দ্রুত বেড়েছে
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে উজবেকিস্তান ১৫৪০ কোটি ডলারের পণ্য ও সেবা রপ্তানি করেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৮.৬ শতাংশ কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে স্বর্ণ রপ্তানি কমে যাওয়ার কথা বলেছে। তবে স্বর্ণ বাদে পণ্য রপ্তানি ২৭ শতাংশ এবং সেবা রপ্তানি ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।
২৯ সেপ্টেম্বর হালনাগাদ করা ব্যাংকের উজবেক ভাষার বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পণ্য আমদানি বেড়েছে ২৪ শতাংশ এবং সেবা আমদানি ২১ শতাংশ। বিনিয়োগ কার্যক্রম ও ভোক্তাদের জোরালো চাহিদার মধ্যে যন্ত্রপাতি, যানবাহন, রাসায়নিক ও খনিজ পণ্য এবং খাদ্যপণ্যের কারণে মোট আমদানি ২৪ শতাংশ বেড়ে ২৮৮০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।
আমদানি রপ্তানির চেয়ে ১৩৪০ কোটি ডলার বেশি ছিল এবং রপ্তানির প্রায় ১.৮৭ গুণ। প্রাথমিক আয়ে ১৯০ কোটি ডলার এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের আয়ে ৫৩০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত এই ঘাটতির ৭২০ কোটি ডলার পুষিয়ে দেয়। ফলে চলতি হিসাবের ঘাটতি ছিল প্রায় ৬২০ কোটি ডলার।
প্রাথমিক আয়ের মধ্যে বিনিয়োগ থেকে আয় এবং কাজের বিনিময়ে পাওয়া পারিশ্রমিকের মতো বিষয় রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের আয়ের মধ্যে এমন স্থানান্তর অন্তর্ভুক্ত, যার বিপরীতে পণ্য বা সেবার বিনিময় হয় না; ব্যক্তিগত অর্থ স্থানান্তরও এর মধ্যে পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স বাড়ার কথা জানালেও, দ্বিতীয় পর্যায়ের আয়ের পুরো ৫৩০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্তকে রেমিট্যান্স বলে চিহ্নিত করেনি।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে রপ্তানি ও বিনিয়োগ বেড়েছে
ত্রৈমাসিক তুলনায় দেখা যায়, প্রথমার্ধের চলতি হিসাবের ঘাটতির বড় অংশ মার্চের মধ্যেই জমা হয়েছিল। প্রথম প্রান্তিকে ঘাটতি ছিল ৫৭৯ কোটি ডলার এবং প্রথমার্ধে প্রায় ৬২০ কোটি ডলার। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ৪১ কোটি ডলার।
প্রথম প্রান্তিকে ৫৬০ কোটি ডলার থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে রপ্তানি বেড়ে প্রায় ৯৮০ কোটি ডলার হয়েছে। আমদানি ১৩৯০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১৪৯০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। এই অঙ্ক অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল প্রায় ৫১০ কোটি ডলার, যা প্রথম প্রান্তিকের ৮৩০ কোটি ডলারের ঘাটতির চেয়ে কম।
অর্ধবার্ষিক সময়ে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ ছিল ২৩০ কোটি ডলার; এর মধ্যে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল প্রায় ১৬০ কোটি ডলার। নিট পোর্টফোলিও বিনিয়োগের প্রবাহ ছিল প্রায় ২০০ কোটি ডলার, যেখানে প্রথম প্রান্তিকে ছিল মাত্র ৪১ লাখ ডলার। অন্যান্য বিনিয়োগে নিট প্রবাহ ছিল প্রায় ১৫০ কোটি ডলার; এর মধ্যে দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রায় ৪০ কোটি ডলার।
এই বিনিয়োগের সব ধরনের প্রবাহকে বৈদেশিক ঋণের সমতুল্য বলা যায় না। প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে মালিকানার অংশীদারত্ব থাকতে পারে, আর পোর্টফোলিও বিনিয়োগে শেয়ার ও ঋণপত্র—দুই-ই থাকতে পারে। আইএমএফের হিসাব কাঠামো অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক হিসাবে ৭৫০ কোটি ডলারের ঋণাত্মক স্থিতি জানিয়েছে। এই হিসাবের স্থিতিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুঁজি পাচার হিসেবে ব্যাখ্যা করা বা চলতি হিসাবের ঘাটতির সঙ্গে যোগ করে আলাদা অর্থায়ন-চাহিদা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
বৈদেশিক সম্পদ এখনো দায়ের চেয়ে বেশি, তবে ব্যবধান কমেছে
১ জুলাই উজবেকিস্তানের বৈদেশিক সম্পদ ছিল ১২৭৪০ কোটি ডলার, আর বৈদেশিক দায় ছিল ১১৪১০ কোটি ডলার। দুইয়ের ব্যবধান—দেশটির নিট আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ অবস্থান—ইতিবাচক ১৩৩০ কোটি ডলার হলেও বছরের শুরু থেকে তা ৩৪ শতাংশ কমেছে।
এই পরিমাপ বৈদেশিক ঋণের চেয়ে বিস্তৃত, কারণ এতে ঋণের পাশাপাশি বিদেশি ইকুইটি বিনিয়োগও দায় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। জাতীয় অবস্থান ইতিবাচক হলেও, কোনো কোম্পানি বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য সমপরিমাণ সম্পদ হাতে আছে—এমনটি বোঝায় না।
প্রথমার্ধে বৈদেশিক সম্পদ ১১০ কোটি ডলার কমেছে, আর দায় বেড়েছে ৫৮০ কোটি ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমায় আন্তর্জাতিক রিজার্ভ ২৫০ কোটি ডলার কমেছে; প্রত্যক্ষ ও অন্যান্য বিনিয়োগ সম্পদ ১৪০ কোটি ডলার বাড়ায় এর কিছুটা পুষিয়ে গেছে। ১ জুলাই রিজার্ভ সম্পদ ছিল ৬৩৮০ কোটি ডলার।
ত্রৈমাসিক তুলনায় ১ এপ্রিল নিট বিনিয়োগ অবস্থান ছিল ২১৬০ কোটি ডলার, যা থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৮৩০ কোটি ডলার পতনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। স্বর্ণের মূল্যায়নজনিত প্রভাব এখানে গুরুত্বপূর্ণ: রিজার্ভে থাকা স্বর্ণের ডলারে মূল্য কমে যাওয়া মানে সমপরিমাণ নগদ রিজার্ভ খরচ হয়ে যাওয়া নয়।
ঋণের অনুপাত কমা নির্ভর করে প্রবৃদ্ধি ও বিনিময় হারের ওপর
অর্থনীতিবিদ মিরকমিল খলবয়েভের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপির ৪৮.৫ শতাংশ ছিল মোট বৈদেশিক ঋণ। প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় এটি ৪.৪ শতাংশ পয়েন্ট কম এবং ২০২৫ সালের শেষের ৫৫.৯ শতাংশের তুলনায় ৭.৪ শতাংশ পয়েন্ট কম। তাঁর হিসাবে সর্বশেষ চার প্রান্তিকের অর্থনৈতিক উৎপাদন এবং ওই সময়ের গড় বিনিময় হার ব্যবহার করা হয়েছে।
খলবয়েভের মতে, ঋণের চেয়ে অর্থনীতির ডলারে পরিমাপ করা মূল্য দ্রুত বাড়ায় অনুপাত কমেছে। তিনি প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকের হিসাবের জন্য ব্যবহৃত গড় বিনিময় হার এক বছর আগের তুলনায় ৫ শতাংশ শক্তিশালী হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। সোম শক্তিশালী হলে স্থানীয় মুদ্রায় পরিমাপ করা উৎপাদনের ডলারে মূল্য বাড়ে, ফলে ডলারে ঋণের স্থিতি বাড়লেও ঋণ-জিডিপি অনুপাত কমতে পারে।
প্রবৃদ্ধি, বিনিময় হার এবং ঋণ নেওয়ার বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৈদেশিক ঋণ জিডিপির ৪৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন। এটি শর্তসাপেক্ষ হিসাব; সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য বা নিশ্চিত ফল নয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যালোচনায় আইএমএফের কম ঋণ-ঝুঁকির মূল্যায়ন এবং সহজ শর্তে ঋণ নেওয়ার প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। সাধারণ বাজার-ঋণের চেয়ে অনুকূল শর্তে পাওয়া অর্থায়নকে সহজ শর্তের ঋণ বলা হয়। ভবিষ্যৎ ঋণ পরিশোধের পূর্ণ সময়সূচি বা মোট ঋণসেবার অঙ্ক এতে নেই। ঋণের স্থিতি, জিডিপির অনুপাত এবং রিজার্ভের পাশাপাশি পরিশোধের চাপ মূল্যায়নে এসব তথ্য দরকার। পরবর্তী প্রকাশনার তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি।
মূল তথ্য
- ২০২৬ সালের ১ জুলাই মোট বৈদেশিক ঋণ ৮৪১০ কোটি ডলারে পৌঁছায়, যা এক বছর আগের তুলনায় ১৬.৫ শতাংশ বেশি।
- করপোরেট ঋণ ছিল ৪২৪০ কোটি ডলার এবং বার্ষিক বৃদ্ধির প্রায় ৫৯ শতাংশের জন্য দায়ী।
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য, রাষ্ট্রের গ্যারান্টি ছাড়া করপোরেট ঋণে সরকারের পরিশোধের দায় তৈরি হয় না।
- মন্ত্রণালয়ের হিসাবে সরকারি ঋণ ছিল ৪৮৩১ কোটি ডলার; এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ৪০৭১ কোটি এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ ৭৬০ কোটি ডলার।
- প্রথমার্ধে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৩৪০ কোটি ডলার, আর চলতি হিসাবের ঘাটতি প্রায় ৬২০ কোটি ডলার।
- বৈদেশিক সম্পদ দায়ের চেয়ে ১৩৩০ কোটি ডলার বেশি ছিল, যা বছরের শুরু থেকে ৩৪ শতাংশ কমেছে।
- খলবয়েভের হিসাবে জিডিপির ৪৮.৫ শতাংশ ছিল বৈদেশিক ঋণ; ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা ৪৫ শতাংশে নামার পূর্বাভাস প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকা ও বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকার ওপর নির্ভরশীল।






