প্রস্তুতি শুরু, তবে বিক্রির ঘোষণা এখনো আসেনি
উজবেকিস্তান ৩.৪২ বিলিয়ন ডলারের উজবেকিস্তান জিটিএল প্ল্যান্ট বেসরকারীকরণের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে আর্থিক নিরীক্ষা এবং বিক্রির অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের কাজ চলছে। প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ নিয়ে নির্মিত এই স্থাপনাটির ঋণের পেছনে ছিল রাষ্ট্রের গ্যারান্টি। ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত বকেয়া মূল ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৩৮.২ মিলিয়ন ডলার বলে জানানো হয়েছে।
সূচিপত্র
স্টেট অ্যাসেটস ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির পরিচালক সোহিবজন মুরোদভ ৮ অক্টোবর তাশখন্দে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তুতির কথা জানান। তিনি বলেন, বেসরকারীকরণের ধারণাপত্র তৈরি হয়েছে; তবে কোনো ক্রেতা, লেনদেনের মূল্য বা চূড়ান্ত করার তারিখ ঘোষণা করেননি। সম্ভাব্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
বেসরকারীকরণ শুরু করা আর বিক্রি সম্পন্ন করার মধ্যে পার্থক্যটি এ ঘোষণার কেন্দ্রীয় বিষয়। ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল স্বাক্ষরিত প্রেসিডেনশিয়াল ডিক্রি পিকিউ-১৪৫-এ উজবেকিস্তান জিটিএলে রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ মালিকানা জনসাধারণের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। সময়সূচিতে ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে পেশাদার পরামর্শক নিয়োগ এবং ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রির ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল।
মুরোদভ বলেন, ডিক্রিতে দেওয়া তারিখগুলো বেসরকারীকরণের কাজ শুরুর সময়সীমা, ওই সময়ের মধ্যে লেনদেন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা নয়। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রকাশিত সময়সূচিতে পরামর্শক নিয়োগ এবং জনসাধারণের কাছে বিক্রির ঘোষণা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট ধাপও রয়েছে। এসব ধাপ সম্পন্ন হয়েছে, সংশোধন করা হয়েছে, নাকি অন্য সময়সূচি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে—এজেন্সি তা ব্যাখ্যা করেনি।
সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী ও করদাতাদের কাছে তাই তাৎক্ষণিক প্রশ্নটি প্ল্যান্টটি কে কিনবে, তা নয়; বরং কী বিক্রি হবে, অবশিষ্ট ঋণের ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবে এবং নিরীক্ষিত হিসাব থেকে কী জানা যাবে।
বেসরকারীকরণ ডিক্রিতে কী বলা হয়েছে
২০২৫ সালের এপ্রিলে ঘোষিত বেসরকারীকরণ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ২৯টি বড় প্রতিষ্ঠানের একটি উজবেকিস্তান জিটিএল। প্ল্যান্টটির মালিক উজবেকনেফতেগাজ। ডিক্রিতে এর চার্টার ক্যাপিটালের ১০০ শতাংশ বিক্রির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, অর্থাৎ ব্যবসার ছোট কোনো অংশ নয়, সম্পূর্ণ মালিকানা বিক্রির কথা বলা হয়েছে।
কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক পেশাদার পরামর্শকদের অংশগ্রহণে জনসাধারণের জন্য নিলামের কথা রয়েছে। জিটিএল বিক্রির ধাপ বর্ণনা করতে প্রতিবেদনে ‘পাবলিক টেন্ডার’ ও ‘আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত বিক্রি’সহ ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এসব শব্দকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়; সেটি আলাদা পদ্ধতি।
বৃহত্তর কর্মসূচিতে ইউনিভার্সাল মোবাইল সিস্টেমসের ১০০ শতাংশ, উজঅটো মোটরসের ৯৯.৭ শতাংশ, উজবেক মেটালার্জিক্যাল প্ল্যান্টের ৯১ শতাংশ এবং নাভোইয়াজোটের ৭৫ শতাংশ বিক্রির প্রস্তাবও রয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য ব্যবসা রয়েছে। তাই জিটিএল বিক্রি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ, বিচ্ছিন্ন কোনো বিক্রয় নয়।
ডিক্রিতে প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লা আরিপভের নেতৃত্বাধীন স্টেট প্রাইভেটাইজেশন কমিশনকে নির্দিষ্ট কার্যক্রমসহ নিলামের রোডম্যাপ অনুমোদনের জন্য ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। এতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রের অংশগ্রহণে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনে স্থগিতাদেশও চালু হয়। কোনো পদক্ষেপই এককভাবে প্রমাণ করে না যে জিটিএল বিক্রি দরপত্র পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আইপিওর ঘোষণায় স্পষ্টতা কেন জরুরি
মুরোদভ বলেন, সম্ভাব্য আইপিওতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বড় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আইপিও হলো কোনো কোম্পানির প্রথমবারের মতো জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রি। এর মাধ্যমে একাধিক বিনিয়োগকারীর মধ্যে মালিকানা বণ্টন করা যায়; তাঁদের মধ্যে এমন ক্রেতাও থাকতে পারেন, যাঁরা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নয়, ছোট অংশীদারি চান।
এজেন্সির পরিচালক এ আগ্রহকে উৎসাহব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন, তবে স্পষ্ট করেন যে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে তবেই অংশগ্রহণের বিষয়টি প্রযোজ্য হবে:
“এটি আমাদের জন্য একটি ভালো সংকেত। আমরা যদি আইপিওর মাধ্যমে এগোই, তাহলে জিটিএলে ছোট অংশীদারি কিনতে আগ্রহী বিনিয়োগকারীও থাকবেন,” বলেন মুরোদভ।
এই ঘোষণার সঙ্গে ডিক্রিতে বর্ণিত কাঠামোর একটি অমীমাংসিত পার্থক্য রয়েছে। জনসাধারণের কাছে বিক্রির জন্য নির্ধারিত ২৯টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় উজবেকিস্তান জিটিএল রয়েছে, কিন্তু আইপিও বা পরবর্তী গণপ্রস্তাবের জন্য নির্ধারিত ১২টি প্রতিষ্ঠানের পৃথক তালিকায় নেই।
এর মানে এই নয় যে আইপিও নিষিদ্ধ, কিংবা বেসরকারীকরণ কর্মসূচিতে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন হয়েছে। তবে সম্ভাব্য শেয়ার বিক্রি কীভাবে সম্পূর্ণ মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা এজেন্সিকে ব্যাখ্যা করতে হবে। শেয়ারের কোনো অনুপাত, তালিকাভুক্তির স্থান, মূল্যায়ন বা সংশোধিত আইনি কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি।
বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রস্তাব দেওয়ার আগে নিরীক্ষা
বর্তমান প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উজবেকিস্তান জিটিএলের আর্থিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিরীক্ষা করা হচ্ছে। মুরোদভ বলেন, উৎপাদন বা আর্থিক কার্যক্ষমতার ক্ষতি করতে পারে—এমন বিষয়গুলো এজেন্সি খতিয়ে দেখছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তাব করার আগে সেগুলোর সমাধান করা যায়।
মূল্যায়ন শুধু প্ল্যান্টটির নিজস্ব হিসাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বেসরকারীকরণ অর্থনীতি, ব্যবসায়িক অংশীদার, সরবরাহকারী এবং এর পণ্য কেনা গ্রাহকদের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, কর্মকর্তারা সেটিও পর্যালোচনা করছেন। প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের সঙ্গে কয়েকটি দেশীয় জ্বালানি বাজারের সংযোগ রয়েছে এমন একটি স্থাপনার ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
বিক্রির পর কোম্পানিটি কোন শর্তে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, তা নির্ধারণে এই পর্যালোচনা সহায়ক হতে পারে। তবে লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এমন গ্যাস সরবরাহ, পণ্য বিক্রি বা অন্য কোনো চুক্তির শর্ত এজেন্সি প্রকাশ করেনি। নিরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশ করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান আর্থিক সূচক তুলে ধরা হয়নি। মুরোদভ বলেন, এজেন্সি পরে তাদের আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলো প্রকাশ করবে। প্রকাশের তারিখ জানানো হয়নি। ফলে মুনাফা, নগদ অর্থ প্রবাহ বা ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় আর্থিক তথ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে এখনো নেই।
লেনদেনের কেন্দ্রে ঋণ
প্ল্যান্টটির ৩.৪২ বিলিয়ন ডলারের নির্মাণ ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে রাষ্ট্রের গ্যারান্টিতে নেওয়া বৈদেশিক ঋণ থেকে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ অর্থায়নে অংশ নিয়েছে।
উল্লিখিত নির্মাণ ব্যয়ের প্রায় ৬৭.৩ শতাংশ ছিল এসব ঋণ। বেসরকারীকরণের ক্ষেত্রে অবশিষ্ট দায় কেন গুরুত্বপূর্ণ, এই অনুপাত তা বোঝায়: ব্যবসাটির মূল্যায়ন ঋণের দায় থেকে আলাদা করে করা যায় না।
উজবেকিস্তান জিটিএলের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত বকেয়া মূল ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৩৮.২ মিলিয়ন ডলার। মূল ঋণ বলতে ঋণের আসল বকেয়া অর্থ বোঝায়, যার মধ্যে সুদ ও অন্যান্য অর্থায়ন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নয়। এ হিসাব ২.৩ বিলিয়ন ডলারের মূল বৈদেশিক ঋণের প্রায় ৩৬.৪ শতাংশ।
এই তুলনা থেকে পরিচালন মুনাফা দিয়ে কত ঋণ পরিশোধ হয়েছে, তা জানা যায় না। পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যার জন্য ঋণের অর্থ ছাড়, পরিশোধ, পুনঃঅর্থায়ন এবং ঋণে কোনো পরিবর্তন হলে তার তথ্য দরকার। শুধু মূল ঋণের অঙ্ক থেকে সুদের দায়, পরিশোধের তারিখ বা কোম্পানির অন্যান্য দায়ও জানা যায় না।
বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতা অবশিষ্ট ঋণ গ্রহণ করবেন কি না, বিক্রির আগে ঋণ পুনর্গঠন হবে কি না, কিংবা রাষ্ট্রের গ্যারান্টির কী হবে—এজেন্সি তা জানায়নি। মালিকানা হস্তান্তর হলেই ওই গ্যারান্টির ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হয় না। অর্থায়ন চুক্তি ও লেনদেনের শর্তের ওপর এর ব্যবস্থাপনা নির্ভর করবে; কোনোটিই প্রকাশ করা হয়নি।
প্ল্যান্টটি কী উৎপাদনের জন্য নির্মিত
২০২১ সালের ডিসেম্বরে উজবেকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কাশকাদারিয়া প্রদেশের গুজর জেলায় উজবেকিস্তান জিটিএল চালু হয়। প্রায় ১৩৫ হেক্টর এলাকাজুড়ে থাকা কমপ্লেক্সটি বছরে ৩.৬ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করার জন্য নির্মিত।
গ্যাস-টু-লিকুইডস প্রযুক্তির মাধ্যমে প্ল্যান্টটি প্রাকৃতিক গ্যাসকে তরল হাইড্রোকার্বন পণ্যে রূপান্তর করে। শুরতান গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্স থেকে সরবরাহ করা মিথেন ব্যবহার করে এখানে কৃত্রিম জ্বালানি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বার্ষিক নকশাগত উৎপাদনক্ষমতা হলো:
- ৭২৪,০০০ টন ডিজেল জ্বালানি।
- ৩০৭,০০০ টন বিমান জ্বালানি।
- ৪৩৭,০০০ টন ন্যাফথা।
- ৫৩,০০০ টন তরলীকৃত গ্যাস।
এই পণ্যগুলোর মোট পরিমাণ ১.৫২১ মিলিয়ন টন, যা বছরে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন টন উৎপাদনক্ষমতার গোল করে বলা হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তালিকাভুক্ত মোট উৎপাদনের প্রায় ৪৭.৬ শতাংশ ডিজেল, যা ওজনের হিসাবে বৃহত্তম পণ্যশ্রেণি।
এগুলো উৎপাদনক্ষমতার হিসাব, প্রকৃত বার্ষিক উৎপাদনের তথ্য নয়। নির্ধারিত পরিচালন পরিস্থিতিতে একটি স্থাপনা কত উৎপাদনের জন্য নকশা করা হয়েছে, উৎপাদনক্ষমতা তা বোঝায়। শুধু এ তথ্য দিয়ে বিক্রি, আয় বা আমদানি করা জ্বালানির কতটা প্রতিস্থাপিত হয়েছে তা হিসাব করা যায় না।
উৎপাদন বৃদ্ধি এখনো মুনাফার প্রমাণ নয়
২০২৫ সালে প্ল্যান্টটির পরিচালন কার্যক্রমের উন্নতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত কোম্পানির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উৎপাদন বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ১০২ শতাংশে পৌঁছায় এবং ২০২৪ সালের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বাড়ে।
এই দুটি সূচক ভিন্ন বিষয় বোঝায়। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার ১০২ শতাংশ অর্জনের অর্থ, উৎপাদন কোম্পানির পরিকল্পনাকে ২ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এর মানে এই নয় যে প্ল্যান্টটি পূর্ণ নকশাগত উৎপাদনক্ষমতার ১০২ শতাংশে চলেছে; কারণ প্রকৃত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ জানানো হয়নি।
একইভাবে, ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে—এ তথ্য দেয়, কিন্তু কোনো বছরের উৎপাদিত টনের পরিমাণ জানায় না। এই পরিমাণগুলো না থাকায় প্ল্যান্টটি ঘোষিত বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতার কতটা কাছাকাছি পৌঁছেছে তা হিসাব করা সম্ভব নয়।
চালুর সময় প্রকল্পটির উৎপাদিত পণ্যের বার্ষিক মূল্য ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে বলে আশা করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে আমদানি প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা ছিল এবং বিনিয়োগ উঠে আসতে প্রায় নয় বছর লাগবে বলে অনুমান করা হয়েছিল। এগুলো ছিল পূর্বাভাস, যাচাইকৃত আর্থিক ফল নয়। উৎপাদন বৃদ্ধি ব্যবসার পক্ষে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু শুধু উৎপাদন বাড়লেই মূল বিনিয়োগ-উসুলের পূর্বাভাস পূরণ হচ্ছে—তা প্রমাণিত হয় না।
জিটিএল চালুর পর উজবেকিস্তানে ডিজেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফলে দেশীয় উৎপাদনের সঙ্গে আমদানি একই পরিমাণে কমেছে বলে ধরে নেওয়া কঠিন। তবে তুলনাযোগ্য আমদানি বা চাহিদার পরিসংখ্যান নেই। তাই এ বৃদ্ধি থেকে প্ল্যান্টটি নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, নাকি অতিরিক্ত সরবরাহের চেয়ে চাহিদা দ্রুত বেড়েছে—কোনোটিই নিশ্চিত করা যায় না।
তাই আর্থিক নিরীক্ষাই এমন পর্যায়, যেখানে প্ল্যান্টটির শিল্প উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক কার্যকারিতা আলাদা করে বোঝা উচিত। উৎপাদন, বিক্রয় আয়, পরিচালন ব্যয় ও ঋণ পরিশোধ পরস্পর সম্পর্কিত, তবে সাফল্য পরিমাপের ক্ষেত্রে এগুলো একে অপরের বিকল্প নয়।
সময়সূচি ও পরবর্তী তথ্য প্রকাশ
নির্মাণ ও চালুর পর প্রকল্পটি বেসরকারীকরণ কর্মসূচিতে এসেছে, তবে বিভিন্ন ধাপ এখনো আলাদা। প্রধান তারিখ ও ঘোষণাগুলো হলো:
- ডিসেম্বর ২০২১: উজবেকিস্তান জিটিএল চালু হয়।
- ২১ এপ্রিল ২০২৫: প্রেসিডেনশিয়াল ডিক্রি পিকিউ-১৪৫-এ বেসরকারীকরণ কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়, যার মধ্যে জিটিএলের ১০০ শতাংশ বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে।
- ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিক: জিটিএল বিক্রির জন্য পেশাদার পরামর্শক নিয়োগের সময় নির্ধারিত ছিল।
- পুরো ২০২৫ সাল: উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার ১০২ শতাংশে পৌঁছায় এবং ২০২৪ সালের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বাড়ে বলে জানানো হয়।
- ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক: জনসাধারণের কাছে বিক্রির ঘোষণা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল।
- ১৬ জুন ২০২৬: বকেয়া মূল ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৩৮.২ মিলিয়ন ডলার বলে জানানো হয়।
- ৮ অক্টোবর: মুরোদভ জানান, বেসরকারীকরণের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য আইপিওর কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে সংবাদ সম্মেলনের বছর উল্লেখ করা হয়নি।
নিরীক্ষা সম্পন্ন করা, আর্থিক সূচক প্রকাশ, দরপত্র আহ্বান বা আইপিও চালুর জন্য নতুন কোনো সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। আগ্রহ প্রকাশ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নামও এজেন্সি জানায়নি, কিংবা বাধ্যতামূলক বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির তথ্য প্রকাশ করেনি।
পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশে প্রক্রিয়াটির তিনটি দিকের যোগসূত্র স্পষ্ট করতে হবে: সম্পূর্ণ মালিকানা বিক্রির ডিক্রিতে নির্ধারিত পরিকল্পনা, সম্ভাব্য আইপিও এবং রাষ্ট্রের গ্যারান্টিতে নেওয়া ঋণের ব্যবস্থাপনা। এসব তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘোষণা শুধু প্রস্তুতিমূলক কাজ চলার কথা জানায়; মালিকানা বদলেছে বা বিক্রির চূড়ান্ত কাঠামো অনুমোদিত হয়েছে, তা নয়।
মূল বিষয়গুলো
- ৩.৪২ বিলিয়ন ডলারের জিটিএল প্ল্যান্ট বেসরকারীকরণের জন্য নিরীক্ষা ও অন্যান্য প্রস্তুতি শুরু করেছে উজবেকিস্তান।
- ২০২৫ সালের এপ্রিলে জারি করা ডিক্রিতে কোম্পানির ১০০ শতাংশ বিক্রির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। মূল পরিকল্পনায় ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জনসাধারণের কাছে বিক্রির ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল।
- সম্ভাব্য আইপিওর প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে, তবে শেয়ার বণ্টন, মূল্যায়ন বা প্রস্তাবের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
- ২০২৬ সালের ১৬ জুন বকেয়া মূল ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৩৮.২ মিলিয়ন ডলার বলে জানানো হয়েছে। বিক্রির ক্ষেত্রে এই ঋণের ব্যবস্থাপনা কী হবে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
- ২০২৫ সালে উৎপাদন ৪৩ শতাংশ বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে, তবে বর্তমান আর্থিক ফল ও নিরীক্ষিত মুনাফার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
- কোনো ক্রেতা, সম্পন্ন লেনদেন বা সংশোধিত সমাপ্তির সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।






