স্বর্ণের মজুত বেড়েছে, তবে রিজার্ভের মূল্য কমেছে
স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় উজবেকিস্তানের আন্তর্জাতিক রিজার্ভ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার কমে ১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৬৬.৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ পতনের বেশির ভাগের জন্য দায়ী স্বর্ণের কম দাম। মাসটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভৌত স্বর্ণের মজুত বেড়েছে, যদিও ডলারে এর মূল্য কমেছে প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন ডলার।
সূচিপত্র
- স্বর্ণের মজুত বেড়েছে, তবে রিজার্ভের মূল্য কমেছে
- দাম কমায় নতুন স্বর্ণের প্রভাবও ছাপিয়ে গেছে
- রিজার্ভ পোর্টফোলিওতে এখনো স্বর্ণের প্রাধান্য
- যে খাতে বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ কমেছে
- সিকিউরিটিজ নিয়ে পরিসংখ্যানে মতভেদ
- দীর্ঘমেয়াদি রিজার্ভ প্রবণতায় সেপ্টেম্বর
- স্বর্ণ কেনা অব্যাহত ছিল
- খনির ব্যয় আলাদা চাপ তৈরি করছে
- মূল তথ্য
সামগ্রিক হিসাবে মোট রিজার্ভ ৬৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার, যা এক মাসে ৭.৭ শতাংশ কম। আরও বিস্তারিত হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ৬৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার এবং কমেছে ৫.৫৪ বিলিয়ন ডলার, বা ৭.৬৯ শতাংশ। আরেকটি হিসাবে মোট রিজার্ভ ৬৬.৬ বিলিয়ন ডলার এবং ক্ষতির পরিমাণ ৫.৫৫ বিলিয়ন ডলার বলা হয়েছে। এই পার্থক্যগুলো মূল বিষয়টি বদলায় না: স্বর্ণনির্ভর রিজার্ভ পোর্টফোলিওর মূল্যের বড় একটি অংশ সেপ্টেম্বরে মুছে গেছে।
ভৌত স্বর্ণের মজুত প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ থেকে বেড়ে ১ কোটি ৪৩ লাখ ট্রয় আউন্স হয়েছে। আরও নির্দিষ্ট হিসাবে তা ১ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার থেকে বেড়ে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৪০ হাজার আউন্স হয়েছে, যা প্রায় ৪৪৬.২ টনের সমান। মূল্যবান ধাতুর দাম নির্ধারণে সাধারণত ট্রয় আউন্স একক ব্যবহৃত হয়; এক ট্রয় আউন্স প্রায় ৩১.১ গ্রামের সমান।
বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদও কমেছে, ৭০২.৮ মিলিয়ন ডলার কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫.৯২ বিলিয়ন ডলারে। স্বর্ণের ঘোষিত মূল্য কমার বাইরে এটি ছিল আলাদা একটি পরিবর্তন। তবে এই হ্রাসের পেছনে কী ধরনের লেনদেন হয়েছে, তা প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় না।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। ডলারে স্বর্ণ রিজার্ভের মূল্য কমা মানেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বর্ণ বিক্রি করেছে বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করেছে, এমন নয়। সেপ্টেম্বরে মাস শেষে উজবেকিস্তানের স্বর্ণের পরিমাণ বেশি ছিল, কিন্তু প্রতি আউন্সের দাম কমে গিয়েছিল।
দাম কমায় নতুন স্বর্ণের প্রভাবও ছাপিয়ে গেছে
রিজার্ভের বিস্তারিত হিসাবে ১ অক্টোবর উজবেকিস্তানের স্বর্ণের মূল্য ছিল ৬০.০৮ বিলিয়ন ডলার; সেপ্টেম্বরে তা ৪.৮৩ বিলিয়ন ডলার বা ৭.৪৬ শতাংশ কমেছে। এ দুই ঘোষিত পরিসংখ্যান ধরে হিসাব করলে, মোট রিজার্ভ ৫.৫৪ বিলিয়ন ডলার কমার প্রায় ৮৭ শতাংশের জন্য দায়ী স্বর্ণ।
দামের পতন এতটাই বড় ছিল যে ভৌত মজুত বৃদ্ধির প্রভাবও তা পুষিয়ে দিতে পারেনি। আগস্টের শেষে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪ হাজার ৬৬০ ডলার ছিল বলে জানানো হয়। সেপ্টেম্বরে প্রথমার্ধে দাম ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৪ হাজার ৪৫০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে এবং মাসের শেষদিকে ৪ হাজার ২০০ ডলারের নিচে নেমে যায়।
আরেকটি হিসাবে সেপ্টেম্বরে লন্ডনের স্বর্ণের নির্ধারিত দাম প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ১৮৮.৭৫ ডলার, যা মাসে ৯ শতাংশ কম। স্বর্ণের মূল্যায়ন ও লেনদেনে এই বেঞ্চমার্ক দামটি নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বেঞ্চমার্ক দাম ও রিজার্ভের মূল্যায়ন থেকে পাওয়া দামের মধ্যে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে; এর কারণ হতে পারে পরিমাপের সময় ও পদ্ধতি।
আরও নির্দিষ্ট পরিমাণের হিসাব অনুযায়ী, মজুত বেড়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার আউন্স বা প্রায় ১.৬ শতাংশ। তুলনামূলক কম নির্দিষ্ট আরেকটি হিসাবে বৃদ্ধির পরিমাণ ২ লাখ আউন্স বলা হয়েছে। দুই হিসাবেই একই প্রবণতা দেখা যায়: স্বর্ণের মজুত বাড়ায় দাম কমার প্রভাব কিছুটা কমেছে, তবে মূল্যায়নে বড় ধরনের পতন ঠেকানো যায়নি।
পরবর্তী সময়ে ৭ অক্টোবর স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ১১৯ ডলার বলে জানানো হয়। সেপ্টেম্বরে হিসাবের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ ছিল বলে এই পরবর্তী দাম ইঙ্গিত দেয়। তবে এটি অক্টোবরের রিজার্ভের হিসাব নয় এবং ১ অক্টোবরের পর উজবেকিস্তানের মোট রিজার্ভ কতটা বদলেছে, তা এর মাধ্যমে জানা যায় না।
রিজার্ভ পোর্টফোলিওতে এখনো স্বর্ণের প্রাধান্য
অক্টোবরের শুরুতে উজবেকিস্তানের রিজার্ভের প্রায় ৯০.২ শতাংশ ছিল স্বর্ণ। স্বর্ণের দাম বদলালে এই অনুপাতের কারণে রিজার্ভের মোট অঙ্কে তার প্রভাব ছোট সম্পদশ্রেণিগুলোর ওঠানামার তুলনায় অনেক বেশি হয়।
সেপ্টেম্বরে রিজার্ভে স্বর্ণের অংশ বেড়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রতিবেদনে মতভেদ রয়েছে। একটি হিসাবে আগের মাসে এ অংশ ছিল ৯০ শতাংশ, যা ১ অক্টোবর বেড়ে ৯০.২ শতাংশ হয়। অন্য একটি হিসাবে অংশ অপরিবর্তিত থেকে ৯০.২ শতাংশ ছিল। দুই হিসাবেই অক্টোবরের অঙ্ক একই, তবে মাসিক পরিবর্তনটি ঠিক কত ছিল, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
স্বর্ণের অংশ বাড়লেও ডলারে এর মূল্য কমে যাওয়ার সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। অন্য সম্পদের মূল্য আরও দ্রুত কমলে সংকুচিত পোর্টফোলিওতেও স্বর্ণের অংশ বাড়তে পারে। বিস্তারিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ ১০.৫৯ শতাংশ কমেছে, যেখানে স্বর্ণের মূল্য কমেছে ৭.৪৬ শতাংশ।
রিজার্ভের গঠন থেকে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত সম্পর্কে শিরোনামে দেওয়া মোট অঙ্কটি কতটা তথ্য দেয়, তারও সীমা বোঝা যায়। মোট প্রায় ৬৬.৬ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের মধ্যে প্রায় ৬০.১ বিলিয়ন ডলার ছিল স্বর্ণ এবং প্রায় ৫.৯ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা। স্বর্ণ রিজার্ভ সম্পদ হলেও এর ঘোষিত মূল্য বৈদেশিক মুদ্রার নগদ অর্থ ও আমানতের সমান নয়।
যে খাতে বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ কমেছে
সেপ্টেম্বরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৬.৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৫.৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ১০.৬ শতাংশ হ্রাস। বিস্তারিত হিসাবে মাস শেষে এর পরিমাণ ৫.৯২ বিলিয়ন ডলার; কমেছে ৭০২.৮ মিলিয়ন ডলার।
অন্য ব্যাংকে নগদ অর্থ ও আমানতের কারণে এই পরিবর্তনের বেশির ভাগ হয়েছে। এসব সম্পদের মূল্য প্রায় ৬২৯ মিলিয়ন ডলার বা ১২.৯২ শতাংশ কমে ৪.২৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ শ্রেণির মধ্যে বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকে আমানত ১৬.৭৮ শতাংশ কমে ৩.১৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
বিদেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) রাখা অর্থের পরিমাণ উল্টো পথে বেড়েছে। ০.৩৪ শতাংশ বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলারে। দুই ধরনের আমানতের অঙ্ক যোগ করলে ৪.২৪ বিলিয়ন ডলারের বদলে ৪.২৩ বিলিয়ন ডলার হয়, কারণ প্রকাশিত পরিমাণগুলো গোল করে দেওয়া হয়েছে।
এই পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, হ্রাসটি সব বৈদেশিক মুদ্রার খাতে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি; নির্দিষ্ট কিছু সম্পদে কেন্দ্রীভূত ছিল। তবে শুধু এই তথ্য থেকে পরিবর্তনগুলো লেনদেন, এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রার মূল্যায়নজনিত প্রভাব, নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা জানা যায় না। এসব পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দেয়, এমন কোনো লেনদেনভিত্তিক বিবরণ নেই।
বিশেষ উত্তোলন অধিকার (এসডিআর)-এর সম্পদের পরিমাণ ৫৭১ মিলিয়ন ডলার বলে জানানো হয়েছে। এসডিআর হলো আইএমএফ সৃষ্ট একটি আন্তর্জাতিক রিজার্ভ সম্পদ, যার মূল্য নির্ধারিত হয় প্রধান মুদ্রাগুলোর একটি ঝুড়ির ভিত্তিতে। এটি ভৌত স্বর্ণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাখা সাধারণ আমানত, দুটির থেকেই আলাদা।
সিকিউরিটিজ নিয়ে পরিসংখ্যানে মতভেদ
আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ নিয়ে সবচেয়ে বড় মতভেদ রয়েছে। একটি হিসাবে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে এসব সম্পদের পরিমাণ অপরিবর্তিত থেকে ১.৮ বিলিয়ন ডলার ছিল, যা মোট রিজার্ভের প্রায় ২.৫ শতাংশ।
অন্য দুটি বিস্তারিত হিসাবে বরং বলা হয়েছে, এর পরিমাণ কমে ১.৬৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। ওই দুই হিসাবে হ্রাসের পরিমাণ ৭৩.৭ মিলিয়ন ডলার, বা গোল করে ৭৪ মিলিয়ন ডলার; আগের পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৭৭ বিলিয়ন ডলার। বিস্তারিত হিসাবে পতনের হার ৪.১৮ শতাংশ।
শুরুর পরিমাণ গোল করে দেখালে ১.৮ বিলিয়ন ও ১.৭৭ বিলিয়ন ডলারের পার্থক্য ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু পোর্টফোলিও অপরিবর্তিত ছিল, নাকি প্রায় ৭৪ মিলিয়ন ডলার কমেছে, তা মাসটির দুটি আলাদা বিবরণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের ১ অক্টোবরের যে বিস্তারিত হিসাব প্রকাশিত হয়েছে, তাতে বৈদেশিক সিকিউরিটিজের পরিমাণ ১.৬৯ বিলিয়ন ডলার এবং সেপ্টেম্বরে তা ৭৩.৭ মিলিয়ন ডলার বা ৪.১৮ শতাংশ কমেছে। এটি অপরিবর্তিত থাকার হিসাবের বদলে পতনের তথ্যকে সমর্থন করে।
এতে উল্লেখ করা অংশের হিসাবও সতর্কতার সঙ্গে দেখা দরকার। ১.৬৯ বিলিয়ন ডলারের সিকিউরিটিজ পোর্টফোলিওকে ৬৬.৫৮ বিলিয়ন ডলারের মোট রিজার্ভ দিয়ে ভাগ করলে প্রায় ২.৫৪ শতাংশ হয়, যা বিস্তারিত হিসাবের সঙ্গে মেলে। অন্যদিকে ১.৮ বিলিয়ন ডলারকে ৬৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার দিয়ে ভাগ করলে প্রায় ২.৭ শতাংশ হয়, অপরিবর্তিত থাকার হিসাবের পাশে উল্লেখ করা প্রায় ২.৫ শতাংশ নয়।
বিস্তারিত হিসাবে বলা হয়েছে, সিকিউরিটিজের মূল্য কমলেও মোট রিজার্ভ আরও দ্রুত কমায় রিজার্ভে এর অংশ ২.৪৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২.৫৪ শতাংশ হয়েছে। আরেকটি হিসাবে বছরের শুরুতে আরও বড় পতনের কথা বলা হয়েছে: পোর্টফোলিওর পরিমাণ ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার থেকে জুলাইয়ে ১.৭৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে এবং আগস্টে সামান্য পরিবর্তিত হয়।
দীর্ঘমেয়াদি রিজার্ভ প্রবণতায় সেপ্টেম্বর
২০২৬ সালের শুরুতে রিজার্ভে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর সেপ্টেম্বরে এই পতন হয়েছে। বছরের শুরুতে রিজার্ভ ছিল ৬৬.৩ বিলিয়ন ডলার। ১ মার্চ তা ঘোষিত সর্বোচ্চ ৭৭.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। সেপ্টেম্বরের পতনের আগে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৭২.১ বিলিয়ন ডলার।
সাম্প্রতিক রিজার্ভ কোন ধারাবাহিকতার অংশ, তা প্রধান তারিখগুলোতে দেখা যায়:
- ১ জানুয়ারি, ২০২৬: মোট রিজার্ভ ছিল প্রায় ৬৬.৩ বিলিয়ন ডলার।
- ১ মার্চ: রিজার্ভ ঘোষিত সর্বোচ্চ ৭৭.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
- আগস্টের শেষ: রিজার্ভ ছিল প্রায় ৭২.১ বিলিয়ন ডলার; স্বর্ণের মজুত ছিল প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ আউন্স।
- ১ অক্টোবর: রিজার্ভ ছিল প্রায় ৬৬.৬ বিলিয়ন ডলার; স্বর্ণের মজুত ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ আউন্স।
- ৭ অক্টোবর: স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ১১৯ ডলার বলে জানানো হয়, যা সেপ্টেম্বরে হিসাবের সময়সীমা শেষে নির্ধারিত দামের চেয়ে কম।
১ অক্টোবর পর্যন্ত রিজার্ভ বছরের শুরুর পরিমাণের চেয়ে মাত্র প্রায় ০.৪ শতাংশ বেশি এবং মার্চের সর্বোচ্চ পরিমাণের চেয়ে ১৩.৬ শতাংশ কম ছিল। ৭৭.১ বিলিয়ন ও ৬৬.৬ বিলিয়ন ডলারের গোল করা অঙ্ক ধরে সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে পতনের পরিমাণ প্রায় ১০.৫ বিলিয়ন ডলার।
বার্ষিক তুলনায় চিত্রটি ভিন্ন। এক বছর আগে রেকর্ড করা প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় রিজার্ভ তখনো ২১.১ শতাংশ বা প্রায় ১১.৬ বিলিয়ন ডলার বেশি ছিল। স্বর্ণের মূল্য ৩৫.৮ শতাংশ বেড়ে ৪৪.২ বিলিয়ন ডলার থেকে ৬০.১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ভৌত স্বর্ণের মজুত ১ কোটি ১৬ লাখ থেকে বেড়ে ১ কোটি ৪৩ লাখ আউন্স হয়, অর্থাৎ প্রায় ৮৫ টন বৃদ্ধি পায়।
তবে ওই এক বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১.৭ শতাংশ কমে ১০.২ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫.৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। ফলে মোট রিজার্ভের বার্ষিক বৃদ্ধি দুটি ভিন্ন প্রবণতাকে আড়াল করে: স্বর্ণের মজুত বেড়েছে, আর বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ কমেছে।
স্বর্ণ কেনা অব্যাহত ছিল
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের ৬ অক্টোবর, ২০২৬-এর হালনাগাদ তথ্যে জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত যেসব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ কেনার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তাদের মধ্যে উজবেকিস্তানকে তৃতীয় স্থানে রাখা হয়েছে। ওই আট মাসে দেশটি প্রায় ৫০ টন স্বর্ণ মজুত করেছে; পোল্যান্ডের ৯৮ টন ও চীনের ৮০ টনের পরেই উজবেকিস্তানের অবস্থান। কাজাখস্তান মজুত করেছে প্রায় ৩৬ টন।
এই তালিকায় ওই সময়ে প্রকাশিত কেনাকাটার পরিমাণ দেখানো হয়েছে, কোনো দেশের মোট স্বর্ণ রিজার্ভ নয়। আগস্টে উজবেকিস্তান আট টন স্বর্ণ কিনে মজুত প্রায় ৪৩৯ টনে উন্নীত করে। আগস্টের শেষে রিজার্ভে থাকা ১ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার ট্রয় আউন্সের পরিমাণের সঙ্গে এটি মোটামুটি মেলে।
বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আগস্টে নিট ৩৯ টন স্বর্ণ কিনেছে। উজবেকিস্তানের আট টন ওই নিট পরিমাণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। তবে বৈশ্বিক নিট পরিসংখ্যানে কেনা ও বিক্রি—দুটিই অন্তর্ভুক্ত থাকে; এটি মোট কেনাকাটার হিসাব নয়।
সেপ্টেম্বরের রিজার্ভের তথ্য কাউন্সিলের জানুয়ারি-আগস্টের তুলনার পরের সময়টিও তুলে ধরে। ১ অক্টোবর নাগাদ মজুত বেড়ে প্রায় ৪৪৬.২ টনে দাঁড়ায়, যা আগস্টের গোল করা হিসাবের চেয়ে প্রায় সাত টন বেশি। মজুতের এই বৃদ্ধি স্বর্ণ কেনা অব্যাহত থাকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যদিও শুধু রিজার্ভের মোট হিসাব থেকে কেনা-বেচার পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায় না।
আলাদাভাবে, জাতীয় পরিসংখ্যান কমিটির বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২.৮ বিলিয়ন ডলারের মূল্যবান ধাতু বিক্রি করেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ কম। ২০২৫ সালের সুনির্দিষ্ট তুলনামূলক অঙ্ক দেওয়া হয়নি। বিক্রি হলেও স্বর্ণের মজুত বাড়তে পারে, তবে মোট বিক্রিকে স্বর্ণের মজুতের নিট পরিবর্তনের পরিমাপ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
খনির ব্যয় আলাদা চাপ তৈরি করছে
উজবেকিস্তানে স্বর্ণের গুরুত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পোর্টফোলিওর বাইরেও বিস্তৃত। কেপ্ট কনসালটেন্সির এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, নাভোই মাইনিং অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল কোম্পানি ২০২৫ সালে উৎপাদন ২.১ শতাংশ বাড়িয়ে ৩১ লাখ ৫৭ হাজার আউন্সে উন্নীত করেছে। একই সময়ে নিউমন্ট ও ব্যারিকের উৎপাদন কমেছে।
উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যয়ও বেড়েছে। এনএমএমসির টেকসই পরিচালন ব্যয়ের পরিমাপ ৩৮.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ১ হাজার ৩৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই পরিমাপে উৎপাদন ব্যয়ের পাশাপাশি কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত; এটি শুধু ধাতু উত্তোলনের তাৎক্ষণিক ব্যয় নয়।
কেপ্টের মতে, স্বর্ণের দামের সঙ্গে যুক্ত রয়্যালটি, বেশি পরিমাণে আকরিক উত্তোলন এবং ব্যবহৃত উপকরণের মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যয় বেড়েছে। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ব্যয় পরিমাপে এনএমএমসি নিউমন্ট ও ব্যারিকের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও অ্যাগনিকো ঈগলের তুলনায় সামান্য ওপরে উঠে এসেছে। খনিগুলোর পোর্টফোলিও ও প্রতিবেদন তৈরির পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকায় দক্ষতার সরাসরি তুলনা সীমিত।
এই উৎপাদনসংক্রান্ত পরিসংখ্যান ২০২৫ সালের, আর রিজার্ভের পতন হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে। খনির ব্যয়ের কারণেই রিজার্ভ কমেছে, এমন প্রমাণ হিসেবে এগুলোকে দেখা উচিত নয়। বরং স্বর্ণের সঙ্গে যুক্ত দুটি আলাদা ঝুঁকি এগুলো তুলে ধরে: বাজারদরের মূল্যায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদের মূল্য ওঠানামা করে, আর উৎপাদকদের পরিচালন ব্যয় বদলায়।
এর পরের কোনো রিজার্ভের হিসাব বা প্রকাশের নির্ধারিত সময়সূচি দেওয়া হয়নি। ৭ অক্টোবরের দাম দিয়ে সেপ্টেম্বরে কী ঘটেছে, তার পরবর্তী রিজার্ভের পরিবর্তন নির্ধারণ করা যায় না। অন্যদিকে, ১ অক্টোবরের ঘোষিত বিস্তারিত হিসাবে সেপ্টেম্বরে সিকিউরিটিজের পরিমাণ ৭৩.৭ মিলিয়ন ডলার কমার তথ্য সমর্থিত হয়েছে।
মূল তথ্য
- ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে উজবেকিস্তানের রিজার্ভ প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার কমে প্রায় ৬৬.৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।
- স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন ডলার কমলেও ভৌত মজুত বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ ৪০ হাজার ট্রয় আউন্স হয়েছে।
- বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৭০২.৮ মিলিয়ন ডলার কমে প্রায় ৫.৯২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
- মোট রিজার্ভের প্রায় ৯০.২ শতাংশ ছিল স্বর্ণ; ফলে মোট রিজার্ভের অঙ্ক স্বর্ণের দামের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
- ১ অক্টোবরের প্রকাশিত রিজার্ভের হিসাবে বৈদেশিক সিকিউরিটিজের পরিমাণ ১.৬৯ বিলিয়ন ডলার, যা সেপ্টেম্বরে ৭৩.৭ মিলিয়ন ডলার কমেছে। রিজার্ভে এর অংশ ২.৪৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২.৫৪ শতাংশ হয়েছে।
- মোট রিজার্ভ এক বছর আগের তুলনায় ২১.১ শতাংশ বেশি থাকলেও ২০২৬ সালের মার্চের সর্বোচ্চ পরিমাণের চেয়ে ১৩.৬ শতাংশ কম ছিল।
- ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার হিসাবে উজবেকিস্তান তৃতীয় স্থানে ছিল।






