৬০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি আইনি অনুমোদনের অপেক্ষায়
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দুই দেশের পণ্য থেকে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য চিহ্নিত করেছে, যেগুলোর ওপর শুল্ক কমানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন পণ্যের ১,৬১৯টি শ্রেণি এবং চীনা পণ্যের ৭৭টি শ্রেণি। ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ঘোষিত তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা, দুগ্ধজাত পণ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে চীনের খেলনা, কফি মেকার ও বড়দিনের সাজসজ্জার সামগ্রী।
সূচিপত্র
- ৬০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি আইনি অনুমোদনের অপেক্ষায়
- কোন পণ্যগুলোতে শুল্ক কমবে?
- শুল্ক কমলেই শুল্কমুক্ত বাণিজ্য নয়
- ডলারের অঙ্ক সমান হলেও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সমান নয়
- সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি ও সয়াবিনে শুল্কছাড় আলাদা বিষয়
- কেন কেনার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কৃষকেরা উদ্বিগ্ন
- কয়লা কেনার প্রতিশ্রুতিতে জাহাজ চলাচলের চাহিদা বদলাতে পারে
- ভোক্তা ও ইউরোপীয় উৎপাদকদের ওপর প্রভাব ভিন্ন
- বাণিজ্যবিরতির সময়সীমা আছে, তবে বাস্তবায়নের নেই
- মূল বিষয়গুলো
মূল পার্থক্যটি হলো, কোন পণ্য সুবিধার আওতায় আসবে সে বিষয়ে চুক্তি এবং ব্যবসায়ীরা বাস্তবে যে শুল্কছাড় ব্যবহার করতে পারবেন, সেটি এক বিষয় নয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জামিসন গ্রিয়ার বলেন, এটি কার্যকরের কোনো সময়সীমা নেই। সুপারিশগুলোকে এখনো অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে; নতুন শুল্কহারের কার্যকর তারিখ বা পূর্ণাঙ্গ সময়সূচিও ঘোষণা করা হয়নি।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আওতাভুক্ত পণ্যের ৯০ শতাংশের বেশি পণ্য সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ (এমএফএন) হিসেবে প্রচলিত শুল্ক সুবিধা পাবে। এতে ওই পণ্যগুলোর ওপর আরোপিত অতিরিক্ত পাল্টা শুল্ক উঠে যাবে। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নির্দিষ্টভাবে আরোপিত শুল্কের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যদিও সাধারণ আমদানি শুল্ক বহাল থাকবে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রীয় সফর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সমঝোতা হয়েছে। এর সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত করার পৃথক সিদ্ধান্তও যুক্ত রয়েছে। উন্নত চিপ, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ব্যাটারিসহ কৌশলগত পণ্য এই শুল্ক প্যাকেজের বাইরে থাকছে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি রিসার্চের কয়লা চুক্তি মূল্যায়ন-এ, যা ৯ অক্টোবর প্রকাশিত, বলা হয়েছে—আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দুই সরকার একই সময়ে শুল্কছাড় কার্যকর করবে। এতে আরও বলা হয়েছে, দুই পক্ষের ৩০ বিলিয়ন ডলারের তালিকা ২০২৪ সালের আমদানি তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। তাই শিরোনামের অঙ্কটি সম্ভাব্য শুল্কছাড়ের জন্য বাছাই করা বাণিজ্যের পরিমাণ বোঝায়, অতিরিক্ত ৬০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি নয়।
কোন পণ্যগুলোতে শুল্ক কমবে?
চীনের তালিকায় কৃষিপণ্য ও পণ্যসামগ্রীর প্রাধান্য রয়েছে। এতে ভুট্টা, গম, জোয়ার, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, সামুদ্রিক খাবার, উদ্ভিজ্জ তেল ও খৈল রয়েছে; পাশাপাশি কাঠ, প্রসাধনী, ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্য ও কয়লাও রয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জামের মধ্যে আছে এমআরআই স্ক্যানার, শ্রবণযন্ত্র, পেসমেকার, স্টেন্ট ও সার্জিক্যাল রোবট।
যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্যের প্রাধান্য। সুবিধাভোগী শ্রেণির মধ্যে রয়েছে মাইক্রোওয়েভ ওভেন, টোস্টার, কফি মেকার, বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, খাবার পরিবেশনের বাসন, কম্বল, বিছানার চাদর, কৃত্রিম ফুল, আতশবাজি, শিশুদের গাড়ির আসন ও ক্রীড়াসামগ্রী। উৎসবের পণ্যের মধ্যে রয়েছে কাচ ও কাঠের অলংকার এবং বড়দিনের গাছের বাতি।
বিস্তারিত শর্তে কিছু আপাতদৃষ্টিতে বিস্তৃত শ্রেণির আওতা সীমিত করা হয়েছে। খেলনা অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, ইথারনেট বা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি সংযোগযুক্ত খেলনা বাদ। বাল্ক কাঁচা সয়াবিনও বাদ, যদিও সয়াবিনের খৈল ও তেল যোগ্য এবং অন্য একটি বিবরণে চীনের তালিকায় বপনের জন্য সয়াবিন বীজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সুপারিশ ঘোষণার বিবৃতিতে গ্রিয়ার পরিকল্পিত আওতার বর্ণনা দেন:
দুই পক্ষের এমন অসংবেদনশীল পণ্য, যেগুলো আরও অনুকূল শুল্ক সুবিধা পেলে উপকৃত হতে পারে।
এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চুক্তিতে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রযুক্তি খাতগুলো অক্ষত থাকছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইলেকট্রনিকস ও সেমিকন্ডাক্টরকেও বাদ পড়া পণ্যের তালিকায় রাখা হয়েছে। পরে দুই দেশই তালিকা সংশোধন করতে পারে, তবে বছরে একবারের বেশি পরিবর্তন হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুল্ক কমলেই শুল্কমুক্ত বাণিজ্য নয়
সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের মর্যাদা হলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত বাণিজ্য অংশীদারদের দেওয়া প্রচলিত শুল্ক সুবিধা। নামের মধ্যে ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত’ থাকলেও এটি কোনো একটি পছন্দের দেশকে দেওয়া বিশেষ ছাড় নয়। পণ্যভেদে শুল্কহার ভিন্ন হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে এক অঙ্কের মধ্যে থাকে।
আওতাভুক্ত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পরিবর্তনে অতিরিক্ত দ্বিপক্ষীয় শুল্কের বোঝা উঠবে, তবে সব আমদানি শুল্ক যে বিলুপ্ত হবে তা নয়। আমদানিকারককে যে হার দিতে হবে, তা নির্ধারণ করবে পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস ও চূড়ান্ত আইনি বিজ্ঞপ্তি।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ চীনবিষয়ক অর্থনীতিবিদ লিয়া ফাহি হিসাব করেছেন, চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্ক প্রায় ২২ শতাংশ থেকে কমে ২০.৫ শতাংশ হবে। অর্থাৎ ১.৫ শতাংশ পয়েন্ট কমবে, তবে ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার আগের প্রায় ১১ শতাংশ হারের চেয়ে গড় শুল্ক ৯.৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি থাকবে।
এই হিসাবগুলো দেখায়, বাছাই করা পণ্যে বড় ধরনের শুল্কছাড় হলেও সব আমদানি মিলিয়ে পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে সামান্য হতে পারে। পূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্কের তুলনায় প্যাকেজটির আওতা সীমিত, আর অনেক পণ্যে উচ্চ শুল্ক বহাল থাকবে। এর আগে ২০২৫ সালে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় কিছু চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল।
মিলওয়াকিতে জি২০ বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে গ্রিয়ার বলেন, শুল্ক কার্যকর করার আগে সুপারিশগুলোর আইনি সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জনমত বিবেচনার জন্য সুপারিশগুলো প্রকাশ করতে পারে।
"আমাদের আইনি প্রক্রিয়া মেনেই চলতে হবে," তিনি বলেন।
ডলারের অঙ্ক সমান হলেও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সমান নয়
দুই দিকে বাছাই করা ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের চীনে বিক্রির তুলনায় অনেক বেশি অংশ, চীনের যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির ক্ষেত্রে যা নয়। গ্রিয়ারের ভাষায়, এই সমঝোতায় চীনে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশের জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার উন্নত হচ্ছে।
বিএনপি পারিবাস ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা প্রশান্ত ভায়ানি আরেকটি তুলনামূলক চিত্র দিয়েছেন: ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে চীনে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলার, আর প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি ছিল প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার।
এই অঙ্কের তুলনায় ৩০ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানির প্রায় ৪৪ শতাংশ এবং চীনের রপ্তানির ১১ শতাংশ। এগুলো পরিমাণের তুলনা, বার্ষিক আওতার হার নয়। হিসাবের সময়কাল আলাদা, আর প্রস্তাবিত তালিকা তৈরি হয়েছে ভিন্ন একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্যভিত্তির ওপর।
আইএনজি ব্যাংকের বৃহত্তর চীন অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ লিন সং বলেন, যোগ্য পণ্যের জন্য প্রস্তাবিত সুবিধায় সামান্য শুল্কছাড়ের চেয়ে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার হতে পারে:
ক্ষতিগ্রস্ত এই পণ্যগুলোর জন্য সামান্য শুল্কছাড়ের তুলনায় এটি ইতিবাচক ফল এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে আরও উল্লেখযোগ্য গতি আনতে পারে।
এই পুনরুদ্ধার হবে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার মধ্যে। বিএনপি পারিবাস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের জ্যেষ্ঠ বাজার কৌশলবিদ একাতেরিনা বিগোসের হিসাবে, আগস্ট নাগাদ চীনের বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। তাঁর মতে, ২০২৫ সালের ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে এটি।
এর আগে ২০২৫ সালে উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়ে আমেরিকার দুর্বল চাহিদার প্রভাব পুষিয়ে দেয়। বাছাই করা দ্বিপক্ষীয় পণ্যে শুল্কছাড় একাই এই বৃহত্তর প্রবণতা উল্টে দিতে পারে না।
সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি ও সয়াবিনে শুল্কছাড় আলাদা বিষয়
কৃষি চুক্তির সবচেয়ে স্পষ্ট মতপার্থক্য কাঁচা সয়াবিন নিয়ে। ভুট্টা, গম ও জোয়ার শুল্কছাড় পাবে, কিন্তু বাল্ক সয়াবিনের ওপর চীনের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে। একটি বিবরণে সয়াবিন ও সংশ্লিষ্ট পণ্যকে কৃষি খাতের মনোযোগের অংশ বলা হয়েছে; আরও বিস্তারিত পণ্যের বিবরণে শুল্কছাড়যোগ্য খৈল, তেল ও বপনের বীজের সঙ্গে বাদ পড়া বাল্ক সয়াবিনের পার্থক্য করা হয়েছে।
চীনের বিদ্যমান কেনার প্রতিশ্রুতি এই শুল্ক তালিকার বাইরে। আমেরিকান সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ওহাইওর সয়াবিনচাষি স্কট মেটজগার বলেন, ২০২৬, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে প্রতিবছর অন্তত ২৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।
"যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিনের জন্য চীন এখনো গুরুত্বপূর্ণ বাজার, এবং আমরা এমন শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ক দেখতে চাই, যাতে চীনের আরও বেশি ক্রেতা আমাদের সয়াবিন কিনতে পারেন," মেটজগার বলেন।
তবে ৩০টি অঙ্গরাজ্যের পাঁচ লক্ষাধিক চাষির প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনটি সয়াবিন বাদ পড়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাল্টা শুল্ক হিসেবে বহাল থাকা ১০ শতাংশ শুল্ক চীনের বেসরকারি আমদানিকারকদের বাজারে প্রবেশ সীমিত করে।
ইলিনয়ের পাঁচ প্রজন্মের সয়াবিনচাষি পরিবারের সদস্য জন বার্টম্যান সরাসরি বলেন:
এটি আমেরিকার কৃষকদের জন্য হারানো একটি সুযোগ।
এশিয়া সোসাইটির জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন বাণিজ্য আলোচক ওয়েন্ডি কাটলার বলেন, আগে থেকেই কেনার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা হওয়ায় সয়াবিন বাদ দেওয়াকে ইচ্ছাকৃত বলেই মনে হয়। কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক মূল্যায়ন করে বলেন, ২০২৫ মৌসুমের জন্য প্রতিশ্রুত ১২ মিলিয়ন মেট্রিক টন চীন কিনেছে এবং ২০২৬ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের কেনাকাটাও পরিকল্পনামতো এগোচ্ছে।
কেন কেনার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কৃষকেরা উদ্বিগ্ন
আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক সুংহুন লিম বলেন, বহাল থাকা শুল্কে আমেরিকার সয়াবিন কম প্রতিযোগিতামূলক হয়ে পড়ে। এতে বিক্রির সুযোগ কমতে পারে এবং খামার পর্যায়ের দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। আলোচনায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ও স্থিতিশীল বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যে তাঁর করা পার্থক্যটি এ বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে:
কেনার প্রতিশ্রুতি আর নির্ভরযোগ্য বাজার এক জিনিস নয়।
২০২৪ সালে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২২.১ মিলিয়ন মেট্রিক টন সয়াবিন আমদানি করে, যার মূল্য ছিল ১২.০৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে চীনের মোট সয়াবিন আমদানি ৬.৫ শতাংশ বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে চালান ২৪.১ শতাংশ কমে ১৬.৮ মিলিয়ন মেট্রিক টনে নেমে আসে। ওই বছর চীনের সয়াবিন আমদানির প্রায় ৭৪ শতাংশ, অর্থাৎ ৮২.৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন, সরবরাহ করে ব্রাজিল।
২৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন কেনার প্রতিশ্রুতি ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো পরিমাণের চেয়ে ৮.২ মিলিয়ন মেট্রিক টন বেশি। তবে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বার্ষিক গড় ২৯ মিলিয়ন মেট্রিক টনের চেয়ে কম। পারডু ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর কমার্শিয়াল এগ্রিকালচারের হিসাবে, এই ঘাটতি প্রায় ১৪ শতাংশ।
কেনাকাটার অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন হিসাব এসেছে, কারণ সেগুলোতে আলাদা সূচক ও সময়কাল ব্যবহৃত হয়েছে। রোলিন্স বলেছেন, ক্যালেন্ডার বছরের লক্ষ্যমাত্রা পরিকল্পনামতো এগোচ্ছে; অন্যদিকে চীনা রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর কেনাকাটার প্রতিবেদনে পরিমাণ ১২ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি বলা হয়েছে। ব্রেকওয়েভ অ্যাডভাইজরসের হিসাবে, ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দৃশ্যমান বিক্রি ছিল ৯.৯৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন, যা ২০২৬/২৭ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে। এই অঙ্কগুলোকে সরবরাহ করা আমদানির একই ধরনের পরিমাপ হিসেবে ধরা যায় না।
তিন বছরের জন্য বার্ষিক অন্তত ১৭ বিলিয়ন ডলারের বৃহত্তর কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যা ২০২২ সালে চীনে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য রপ্তানির চেয়ে কম। উৎপাদন ব্যয়ও চাপ তৈরি করছে: এএএ-র তথ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর ডিজেলের দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৬.৫৩ ডলার, যা পরের সোমবার কমে ৬.৪৫ ডলারে দাঁড়ায়।
অতীতের ক্ষতির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। ইউএসডিএর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের বাণিজ্য বিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষতির প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য সয়াবিন দায়ী ছিল, যার বার্ষিক পরিমাণ প্রায় ৯.৪ বিলিয়ন ডলার। লিম সতর্ক করে বলেন, এটি রপ্তানি ক্ষতির হিসাব, কৃষকের আয়হানির পরিমাপ বা বর্তমান বিরোধের সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস নয়।
কয়লা কেনার প্রতিশ্রুতিতে জাহাজ চলাচলের চাহিদা বদলাতে পারে
২০২৭ ও ২০২৮ সালে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্তত ১০ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। এটি চীনের বার্ষিক কয়লা আমদানির প্রায় ২ শতাংশ। ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি রিসার্চ বলেছে, ২০২৪ সালে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১২ মিলিয়ন টনের বেশি কয়লা আমদানি করেছিল। ফলে প্রতিশ্রুত ন্যূনতম পরিমাণ ঐতিহাসিকভাবে নতুন কোনো সর্বোচ্চ মাত্রা স্থাপন করবে না।
ব্রেকওয়েভ অ্যাডভাইজরসের পণ্য বাণিজ্য মূল্যায়ন অনুযায়ী, সুবিধা মূলত ইস্পাত তৈরিতে ব্যবহৃত ধাতব কয়লায় কেন্দ্রীভূত হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রধানত ব্যবহৃত তাপীয় কয়লায় নয়। বেশি দামের ধাতব কয়লার চালান যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর থেকে দীর্ঘ সমুদ্রপথে পরিবহনের খরচ তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে সামাল দিতে পারে।
মূল্যায়নে এএক্সএসমেরিনের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত চীন প্রায় ৩০.২ মিলিয়ন মেট্রিক টন কোকিং কয়লা আমদানি করেছে। রাশিয়া সরবরাহ করেছে ৪২ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়া ৩৮ শতাংশ; দুই দেশ মিলে মোটের ৮০ শতাংশ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিক্রি বাড়লে ওই বাজারে মূলত প্রতিষ্ঠিত সরবরাহকারীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা হবে, ইন্দোনেশিয়ার তাপীয় কয়লার সরবরাহ যে বদলে যাবে তা নয়।
জাহাজ চলাচলের ওপর প্রভাব নির্ভর করে পণ্যের পরিমাণের পাশাপাশি দূরত্বের ওপরও। যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে কয়লা ও শস্য পরিবহন বাড়লে টন-মাইলের পরিমাণ বাড়বে। এই পরিমাপে কত পণ্য পরিবহন হচ্ছে এবং তা কত দূর যাচ্ছে—দুটিই বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় জাহাজ বেশি দিন কাজে আটকে থাকে; জাহাজের প্রাপ্যতা কম থাকলে এতে পরিবহনভাড়া বাড়তে পারে।
শুল্ক কমলেই পণ্য আমদানির চাহিদা বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্রেকওয়েভের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত চীন ২.৪৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন ভুট্টা আমদানি করেছে, যেখানে ২০২৩ সালের পুরো বছরে আমদানি ছিল প্রায় ২৩ মিলিয়ন টন। একই আট মাসে সমুদ্রপথে গম আমদানি ছিল প্রায় ৩.২ মিলিয়ন মেট্রিক টন; প্রধান সরবরাহকারী ছিল কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। সময়কাল ভিন্ন হওয়ায় সরাসরি বার্ষিক পতনের হিসাব করা যায় না, তবে অঙ্কগুলো দেখায়, আমেরিকান রপ্তানিকারকদের সামনে আমদানির বাজারটি কতটা ছোট।
মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংস বিক্রি ছিল প্রায় ৭,৩০০ মেট্রিক টন, এক বছর আগে যা ছিল প্রায় ৩৫,০০০ টন। বোয়িংয়ের প্রাথমিক ২০০টি উড়োজাহাজ কেনার চীনা প্রতিশ্রুতিও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চূড়ান্ত আদেশে পরিণত হয়নি। নতুন শুল্ক তালিকা থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাদ রয়েছে।
ভোক্তা ও ইউরোপীয় উৎপাদকদের ওপর প্রভাব ভিন্ন
বেইজিংভিত্তিক ডব্লিউপিআইসি মার্কেটিং + টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী জ্যাকব কুক চুলের যত্ন, ব্যক্তিগত পরিচর্যা ও শিশুখাদ্যকে এমন পণ্যের শ্রেণি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে আমেরিকান ভোক্তা ব্র্যান্ডগুলো উপকৃত হতে পারে। ন্যাটিক্সিসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ গ্যারি এনজি বলেন, চীনা ভোগ্যপণ্যের দাম কমলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়তা হতে পারে এবং চীনা উৎপাদকদের অতিরিক্ত উৎপাদন বিক্রির সুযোগ বাড়তে পারে।
ভোক্তাদের আস্থা দুর্বল থাকা অবস্থায় এই সম্ভাব্য সুবিধা আসছে। কনফারেন্স বোর্ডের ভোক্তা আস্থা সূচক সেপ্টেম্বরে ৬.৭ পয়েন্ট কমে ৮১.৯-এ দাঁড়ায়, যা ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন। শুল্ক কমলে আমদানি ব্যয় কমতে পারে, তবে খুচরা বিক্রেতারা সেই সাশ্রয়ের কতটা ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেবেন, চুক্তিতে তা নির্ধারণ করা হয়নি।
দুই বাজারেই ইউরোপীয় রপ্তানিকারকেরা কঠিনতর প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারেন। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনে প্রায় ১.০৭ মিলিয়ন টন শূকরের মাংস রপ্তানি করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শূকরের মাংসে চীনের শুল্ক ৪.৯ থেকে ১৯.৮ শতাংশ; ইউরোপের কিছু পনির ও ক্রিমে শুল্ক ৭.৪ থেকে ১১.৭ শতাংশ। আমেরিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের শুল্ক কমলে দামের এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহস্থালি পণ্য, খেলনা ও ক্রীড়াসামগ্রীর ইউরোপীয় উৎপাদকদেরও চীনের কাছ থেকে আরও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হতে পারে। দুই ক্ষেত্রেই প্রভাবের মাত্রা নির্ভর করবে চূড়ান্ত শুল্কহার, কার্যকরের তারিখ এবং ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
মৌসুমি রপ্তানিকারকদের জন্য শেষ পর্যন্ত শুল্ক কতটা কমবে, তার মতোই গুরুত্বপূর্ণ সময়। দক্ষিণ চীনে বড়দিনের সাজসজ্জা তৈরি করা গোল্ডেন আর্টস গিফটস অ্যান্ড ডেকরের রিচার্ড চ্যান ঘোষণাকে স্বাগত জানান:
এটি ইতিবাচক খবর," চ্যান বলেন। "যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—দুই দেশের অর্থনীতিই খুব একটা ভালো নয়, আর দুই পক্ষের একে অপরকে আরও বেশি সহায়তা করা উচিত।
চলতি বড়দিনের মৌসুমের জন্য বেশির ভাগ পণ্য ইতিমধ্যে পাঠানো হচ্ছিল, ফলে তাৎক্ষণিক সুবিধা সীমিত। কার্যকর তারিখ না থাকায় কোন চালান শুল্কছাড় পাবে, তা রপ্তানিকারকেরা এখনো জানতে পারছেন না।
বাণিজ্যবিরতির সময়সীমা আছে, তবে বাস্তবায়নের নেই
শুল্ক সুপারিশ বৃহত্তর কূটনৈতিক সময়সূচির অংশ। বাজারে প্রবেশাধিকার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করতে বছরের শেষের আগে কৃষি বিষয়ক একটি কর্মদলের বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে দেশগুলোর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার জন্য যোগাযোগের একটি মাধ্যম তৈরি এবং নভেম্বরের শেষ নাগাদ আরও একটি এআই সংলাপ আয়োজনেও তারা একমত হয়েছে।
প্রধান তারিখগুলো হলো:
- মে ২০২৬: ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় বোর্ড অব ট্রেড কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ওয়াশিংটন শীর্ষ বৈঠকের পর পাল্টা শুল্কের আওতায় পণ্যের তালিকা ঘোষণা করা হয়।
- নভেম্বর ২০২৬-এর শেষ নাগাদ: আরও একটি এআই সংলাপের পরিকল্পনা রয়েছে।
- ২০২৬ সালের শেষের আগে: কৃষি বিষয়ক কর্মদলের প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা।
- ১০ জানুয়ারি ২০২৭: বর্ধিত বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ শেষ হবে।
- ২০২৭ ও ২০২৮: চীনের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বার্ষিক কয়লা কেনার প্রতিশ্রুতি কার্যকর হবে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বোর্ড অব ট্রেডকে মে মাসে প্রতিষ্ঠিত এবং সেপ্টেম্বরের শীর্ষ বৈঠকে চালু—দুইভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে। বর্ণনা দুটো হয়তো প্রাথমিক কাঠামো ও এর কার্যকর প্রক্রিয়াকে আলাদা করে বোঝায়, তবে প্রতিবেদনগুলোতে এই পার্থক্য পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
নভেম্বরে শেনঝেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন শীর্ষ সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ও শির আরও বৈঠক হওয়ার কথা। চীন বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও শাখা খোলার আবেদনের পর্যালোচনাও করবে; সরাসরি ফ্লাইট বাড়ানো নিয়ে আলোচনা চলবে।
যোগ্য পণ্যের বাইরের বিরোধগুলোও চলমান রয়েছে। অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে সেকশন ৩০১ তদন্তে ওয়াশিংটন চীনসহ ১৬টি বাণিজ্য অংশীদারকে তদন্ত করছে; এর ফলে আরও শুল্ক আরোপ হতে পারে। অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে বিবৃতির বিষয়ে জি২০ বাণিজ্যমন্ত্রীরাও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি।
ফলাফলটি সীমিত পরিসরের শুল্কছাড়, পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা নয়। ব্যবসায়ীদের জন্য পরবর্তী বাস্তব মাইলফলক হলো আইনগতভাবে কার্যকর শুল্ক ব্যবস্থা প্রকাশ, যেখানে হার, যোগ্য পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস এবং কার্যকরের তারিখ নির্দিষ্ট থাকবে। এখনো এর কোনোটিই ঘোষণা করা হয়নি।
মূল বিষয়গুলো
- প্রস্তাবিত শুল্ক প্যাকেজে দুই দেশের প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রয়েছে; এটি নিশ্চিতভাবে নতুন ৬০ বিলিয়ন ডলারের কেনাকাটার প্রতিশ্রুতি নয়।
- চীনের তালিকায় পণ্যের ১,৬১৯টি শ্রেণি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় ৭৭টি শ্রেণি রয়েছে।
- আইনি অনুমোদন সাপেক্ষে আওতাভুক্ত পণ্যের ৯০ শতাংশের বেশি প্রচলিত শুল্ক সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- কার্যকর তারিখ বা নতুন শুল্কহারের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
- আলাদা কেনার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বাল্ক কাঁচা সয়াবিনের ওপর চীনের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে।
- ২০২৭ ও ২০২৮ সালে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্তত ১০ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।
- বৃহত্তর বাণিজ্যবিরতি ১০ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত চলবে, তবে কৌশলগত প্রযুক্তি নিয়ে বিরোধ অব্যাহত থাকবে।






