তিন ঘণ্টা, ৩০টি গান এবং স্টেডিয়ামে প্রত্যাবর্তন
২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায় বিগব্যাংয়ের। সীমিত দৃশ্যমানতার আসনগুলোর টিকিটও বিক্রি হয়। জি-ড্রাগন, তেয়াং ও দেসং তাদের ২০তম বার্ষিকী সফরের একমাত্র পূর্ব উপকূলীয় কনসার্টটি আয়োজন করেন সেখানে। প্রায় তিন ঘণ্টার এই কনসার্টে ছিল ৩০টি গান, পরিচিত দলীয় হিট, একক পরিবেশনা এবং নতুন একক গান "BiiiG"।
সূচিপত্র
- তিন ঘণ্টা, ৩০টি গান এবং স্টেডিয়ামে প্রত্যাবর্তন
- নিউ জার্সিতে মাইলফলক, যার পেছনে আছে দীর্ঘ ইতিহাস
- শুরুর পরিবেশনায় ছিল হিট গান
- এক মঞ্চে তিন একক পরিচয়
- চলমান স্ক্রিন ও লাইভ ব্যান্ড
- বার্ষিকীর সঙ্গে পুনর্মিলনকে যুক্ত করেছে BiiiG
- ২০ বছরের জন্য ভক্তদের ধন্যবাদ জানালেন সদস্যরা
- সফরের মোট শো নিয়ে সংখ্যার পার্থক্য কেন
- এরপর ইউরোপ, তারপর এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া
- মূল তথ্য
এই কনসার্টের মধ্য দিয়ে উত্তর আমেরিকা সফর শেষ হয়। এর আগে ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর ওকল্যান্ড-আলামেডা কাউন্টি কোলিসিয়ামে কনসার্ট করে দলটি। ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টের আনুষ্ঠানিক সূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি পরিবেশনাই ‘সোল্ড আউট’ হিসেবে চিহ্নিত। ত্রয়ীর জন্য এগুলো ছিল যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম স্টেডিয়াম শো এবং ২০১৫ সালের MADE সফরের পর দেশটিতে প্রথম একক কনসার্ট ট্যুর।
বার্ষিকী উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে এমন এক সফরের চিত্রও সামনে এসেছে, যা প্রাথমিক ঘোষণার পর আরও বিস্তৃত হয়েছে। মেটলাইফের অনুষ্ঠান পাতায় ৩১টি শোর কথা বলা হয়েছে, ওয়াইজির ঘোষণায় বলা হয়েছে ৩৩টি; পরবর্তী কনসার্ট প্রতিবেদনে ১৯টি শহরে ৩৬টি পরিবেশনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াইজির প্রকাশিত সূচির প্রতিটি তারিখ গুনলে একই ১৯টি শহরে মোট ৩৯টি শো পাওয়া যায়, যার শেষটি ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি।
সফরটির খোঁজ রাখা পাঠকদের জন্য এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ: একটি শিরোনামের মোট সংখ্যার চেয়ে প্রতিটি তারিখের তালিকা সফরটির আরও বিস্তারিত চিত্র দেয়। ঘোষণাগুলোতে যে বিষয়টি একই রয়ে গেছে, তা হলো প্রত্যাবর্তনের ব্যাপ্তি: এশিয়া, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়াজুড়ে পরিবেশনা এবং জি-ড্রাগন, তেয়াং ও দেসংকে নিয়ে সফরের দল।
নিউ জার্সিতে মাইলফলক, যার পেছনে আছে দীর্ঘ ইতিহাস
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান তালিকায় ১১ সেপ্টেম্বরের কনসার্ট নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বার্ষিকী সফরটিকে ২০১৭ সালের পর বিগব্যাংয়ের প্রথম সফর বলা হয়েছে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের শেষ একক সফরের পর ১১ বছর পেরোনোর মাইলফলকটি অবশ্য আলাদা। দুটি বর্ণনাই সঠিক হতে পারে, কারণ সেগুলো সফরের ভিন্ন ইতিহাসের কথা বলে।
নিউইয়র্ক মহানগর এলাকায়ও ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে নিউয়ার্কের প্রুডেনশিয়াল সেন্টারে দুটি কনসার্টের পর এটিই ছিল বিগব্যাংয়ের প্রথম শো। নিউ জার্সিতে তাদের ইতিহাস আরও পুরোনো: ২০১২ সালে প্রুডেনশিয়াল সেন্টারে একটি পরিবেশনাকে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পুরুষ কে-পপ দলের প্রথম অ্যারেনা শো হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
মঞ্চের কথোপকথনেও সেই ইতিহাস উঠে আসে। দেসং অল্প সময়ের জন্য জানতে চান, নিউ জার্সিতে এটিই তাদের প্রথমবার কি না; জি-ড্রাগন ও তেয়াং তাকে সংশোধন করে দেন। এই কথোপকথনে স্টেডিয়ামের আয়োজনটি অঙ্গরাজ্যে প্রথম পরিবেশনা হিসেবে নয়, বরং আগের অ্যারেনা সফরগুলোর ধারাবাহিকতায় উপস্থাপিত হয়।
টেলর সুইফট ও কোল্ডপ্লের মতো শিল্পীরা মেটলাইফে পরিবেশনা করেছেন; তাই এখানে শো করা ভেন্যুর আকারের দিক থেকে বড় এক ধাপ। তবে এই কনসার্টের প্রতিবেদনগুলোতে দর্শকসংখ্যা, টিকিট বিক্রির আয় বা আসনবিন্যাসের কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। সীমিত দৃশ্যমানতার অংশসহ বিক্রির জন্য রাখা টিকিট সব বিক্রি হওয়াকে স্টেডিয়ামের সাধারণ ক্রীড়া আয়োজনের আসনবিন্যাসে প্রতিটি আসন পূর্ণ হওয়ার যাচাইকৃত হিসাব হিসেবে ধরা উচিত নয়।
শুরুর পরিবেশনায় ছিল হিট গান
আগুনের প্রভাব ও আতশবাজির সঙ্গে "FANTASTIC BABY" দিয়ে শুরু হয় বিগব্যাংয়ের পরিবেশনা। "HANDS UP," "TONIGHT," "BLUE," "LOSER" এবং "IF YOU"-ও গাওয়া হয়। এতে জোরালো নাচের গান ও তুলনামূলক ভাবগম্ভীর গানের মধ্যে এগিয়ে চলে পরিবেশনার ধারাবাহিকতা।
প্রায় তিন ঘণ্টার আয়োজনে ছিল "BANG BANG BANG," "Haru Haru" এবং "Lies"-ও। বার্ষিকীর নতুন প্রকাশনার ওপরই শুধু নির্ভর না করে, দলের ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ের গান একত্র করা হয় এই সেটলিস্টে। উদ্যাপনের মূল শক্তি ছিল এই ব্যাপ্তি: বিগব্যাংয়ের জনপ্রিয়তা গড়ে তোলা গানের পাশাপাশি শ্রোতারা শুনেছেন আজকের ত্রয়ীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগীতও।
বেশির ভাগ গানই ছিল কোরীয় ভাষায়, তবু পুরো পরিবেশনা জুড়ে ভক্তরা সঙ্গে গেয়েছেন। এর স্পষ্ট উদাহরণ ছিল "Haru Haru"; গানটির বিষাদময় কথার সঙ্গে কণ্ঠ মেলান দর্শকেরাও। এতে নিউ জার্সির আগের অ্যারেনা কনসার্টগুলোর কথা মনে পড়ে, যেখানে একই গান শিল্পী ও শ্রোতাদের মধ্যে এমন এক যৌথ মুহূর্ত তৈরি করেছিল।
পুনর্মিলনের আরও অনানুষ্ঠানিক দিকও উঠে আসে সেটলিস্টে। "SOBER" গাওয়ার সময় সদস্যরা ক্যামেরা ও একে অন্যের সঙ্গে মজা করেন। জি-ড্রাগন দেসংয়ের পায়ের ফাঁক দিয়ে হামাগুড়ি দেন, আর তেয়াং মঞ্চের মেঝে থেকে গান করেন। কনফেটি ও দলের সদস্যদের একসঙ্গে লাথি তোলার নাচে শেষ হয় পরিবেশনাটি; এতে আয়োজনের বিশালতার সঙ্গে ত্রয়ীর রসিকতাও মিশে যায়।
এক মঞ্চে তিন একক পরিচয়
একক পরিবেশনাগুলো দেখিয়েছে, এই পুনর্মিলন কেবল একই গান পরিবেশন করা তিনজন গায়কের সমাবেশ নয়। দেসংয়ের পরিবেশনায় আবেগময় কণ্ঠের সঙ্গে ছিল ট্রট—কোরীয় জনপ্রিয় সংগীতের এমন এক ধারা, যার বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট ছন্দ ও আবেগপূর্ণ গায়কি। ২০২৫ সালের তাঁর একক গান "HANDO-CHOGUA" দিয়ে শেষ হয় একক পরিবেশনা; পর্দায় ভেসে ওঠে কোরীয় গানের কথা।
তেয়াং তাঁর একক গানের পরিবেশনা শুরু করেন মে মাসে প্রকাশিত QUINTESSENCE অ্যালবামের "BAD" দিয়ে। পরিবেশনার শুরুতেই উঁচু মঞ্চ থেকে নৃত্যশিল্পীদের মাঝে লাফিয়ে পড়েন তিনি। নৃত্যশিল্পীরা তাঁকে ধরে ওপরে তোলেন, আর তিনি গান গাইতে থাকেন। ওপর থেকে ধারণ করা ক্যামেরার দৃশ্য স্টেডিয়ামের পর্দায় এই নড়াচড়াকে আলাদা এক দৃশ্যক্রমে রূপ দেয়।
জি-ড্রাগনের পরিবেশনায় পরিচিত গানগুলোকে অবিকল না রেখে নতুনভাবে সাজানো হয়। ২০২৪ সালের তাঁর প্রত্যাবর্তনের গান "POWER"-এর রেগেতোঁ রিমিক্স করা হয়, আর "Crayon"-এ মূল ট্র্যাপ বিটের বদলে ছিল জোরালো লাইভ পারকাশন। এতে তাঁর হিপ-হপ সংগীত তেয়াংয়ের নাচনির্ভর পরিবেশনা ও দেসংয়ের কণ্ঠনির্ভর পরিবেশনা থেকে আলাদা হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ দলীয় কনসার্টে একক মঞ্চগুলোর ব্যবহারিক ভূমিকাও ছিল। প্রত্যেক সদস্য আলাদা সংগীতধারা নিয়ে আসেন, ফলে সন্ধ্যার পরিবেশনার পরিসর বাড়ে, অথচ তা বার্ষিকী উদ্যাপন থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। এরপর দলীয় গানে ফিরে এসে সদস্যদের একক পরিচয়গুলো আবার একটি যৌথ গানের তালিকায় মিলিত হয়।
চলমান স্ক্রিন ও লাইভ ব্যান্ড
ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্ট জানিয়েছে, এই প্রযোজনায় ব্যবহার করা হয়েছে ২৩ টন ওজনের চলমান এলইডি কাঠামো। এস ডেভলিন নকশা করেছেন মঞ্চ, পরিচালনায় ছিলেন মাইক কারসন এবং ওয়াও জোনসের নেতৃত্বে ছিল লাইভ ব্যান্ড। ডেভলিন টনি ও অলিভিয়ে পুরস্কারজয়ী; আর কারসনের কাজের মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের সুপার বোলের হাফটাইম শোর সৃজনশীল পরিচালনা।
বড় পর্দার কাঠামোয় গ্রাফিকস, ভিডিও দৃশ্য এবং শিল্পীদের কাছ থেকে ধারণ করা দৃশ্য দেখানো হয়। মঞ্চ ঘিরে লেজার, পাইরোটেকনিকস ও আতশবাজির প্রভাবও ছিল। স্টেডিয়ামে দূরের দর্শকেরা যে খুঁটিনাটি দেখতে পান না, সেগুলোও এ ধরনের পর্দায় দেখা যায়; যেমন মুখের অভিব্যক্তি, নৃত্যভঙ্গি এবং "SOBER"-এর সময়কার হাসি-ঠাট্টা।
দৃশ্যের বিশালতার সঙ্গে সংগীতের দিক থেকে তাল মিলিয়েছে লাইভ ব্যান্ড। জি-ড্রাগনের "Crayon"-এর পারকাশননির্ভর সংস্করণ দেখিয়েছে, পরিচিত রেকর্ডিংকে শুধু পুনরাবৃত্তি না করে কনসার্টের জন্য নতুনভাবে সাজানো যায়। বদলে যাওয়া অ্যারেঞ্জমেন্ট ও একক পরিবেশনার সমন্বয়ে প্রায় তিন ঘণ্টার শো জুড়ে দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখা হয়।
সফর ঘোষণার সময় দেওয়া প্রচারণামূলক প্রতিশ্রুতির চেয়ে এই প্রযোজনার বিবরণগুলো বেশি সুনির্দিষ্ট। তখন ওয়াইজির এক প্রতিনিধি বলেছিলেন, দলটি "এ যাবৎকালের সেরা ব্যাপ্তি ও নিখুঁততার মান" অর্জনের জন্য কাজ করছে। মেটলাইফের কনসার্টের বিবরণে সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষার পেছনে থাকা সরঞ্জাম ও সৃজনশীল কর্মীদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে, যদিও প্রযোজনার বাজেট প্রকাশ করা হয়নি।
বার্ষিকীর সঙ্গে পুনর্মিলনকে যুক্ত করেছে BiiiG
বিগব্যাংয়ের অভিষেকের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৯ আগস্ট প্রকাশিত "BiiiG" গানটি কনসার্টে পরিবেশিত হয়। ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টের বার্ষিকী প্রকল্পের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টায় ডিজিটাল একক গানটি প্রকাশ করা হবে এবং সিউলের ইয়েওইদো হানগাং পার্কে ভক্তদের জন্য বিনা মূল্যের আয়োজন হবে।
ঘোষণায় "BiiiG"-কে ২০২২ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত "Still Life"-এর পর দলের প্রথম নতুন গান বলা হয়েছে; ব্যবধানটি প্রায় চার বছর চার মাস। যদিও ঘোষণার শিরোনামে পাঁচ বছরের কথা বলা হয়েছে, মূল লেখায় আরও নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান উল্লেখ করা হয়েছে। তাই মেটলাইফের পরিবেশনায় পুরোনো হিট গানের উদ্যাপনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক প্রকাশনার সরাসরি পরিবেশনাও ছিল।
ওয়াইজি আরও ব্যাখ্যা করেছে, সফরের শিরোনামের "XX" দিয়ে অভিষেকের পর দলের ২০ বছর বোঝানো হয়েছে, আর "COSMOS" বলতে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎজুড়ে বিগব্যাং এবং তাদের ভক্তদের সংযোগ বোঝায়। নামটি বার্ষিকীর একটি বিষয়বস্তু তুলে ধরে, তবে সংগীতের যোগসূত্রটি ছিল আরও প্রত্যক্ষ: নতুন একক গান ও সাম্প্রতিক একক কাজের পাশাপাশি শোনা গেছে আগের সময়ের গানও।
সমাপনী পরিবেশনায় ছিল "Still Life"; এতে ট্যুরের দল জি-ড্রাগন, তেয়াং ও দেসংকে নিয়ে গঠিত হলেও টিওপির রেকর্ড করা র্যাপের অংশটি রাখা হয়। এতে ত্রয়ীর বর্তমান পরিবেশনার মধ্যে প্রকাশিত গানটির একটি অংশ অক্ষুণ্ন থাকে। এর অর্থ এই নয় যে টিওপি কনসার্টে উপস্থিত ছিলেন বা সফরে যোগ দিয়েছেন।
২০ বছরের জন্য ভক্তদের ধন্যবাদ জানালেন সদস্যরা
সদস্যরা সরাসরি দর্শকদের সমর্থনের কথা বলেন এবং জানান, দুই দশক ধরে সংগীতচর্চার পর স্টেডিয়ামে পরিবেশনা তাঁদের স্বপ্ন ছিল। তাঁদের সম্মিলিত বার্তার মূল বিষয় ছিল সেই সম্পর্ক, যা এত বছর দলটিকে এগিয়ে নিয়েছে:
আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান হলো আপনারা যে ভালোবাসা দিয়েছেন। এই ২০ বছর ধরে আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এত দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার পর স্টেডিয়ামে পরিবেশনা করতে পারাকে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।
সফরের ত্রয়ীর সদস্য জি-ড্রাগনও তাঁর একক প্রত্যাবর্তনের পর পরিকল্পনা করে এই পুনর্মিলন ঘটানোর কথা বলেন। সমাপনী বক্তব্যে দলের প্রত্যাবর্তন নিয়ে নিজের অনুভূতি সংক্ষেপে জানান তিনি:
শেষ পর্যন্ত, বিগব্যাং দারুণভাবে ফিরে এসেছে। সত্যিই, দারুণভাবে ফিরে এসেছে।
এসব কথায় পুনর্মিলন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ পেয়েছে, কিন্তু "BiiiG"-এর পর আরেকটি অ্যালবাম বা আলাদা কোনো প্রকল্পের প্রকাশের তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি। সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি বলতে প্রকাশিত সফরসূচিই রয়েছে। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: ফিরে আসা নিয়ে উদ্যাপনমূলক বক্তব্য বর্তমান সফরের পর কী হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ঘোষণা নয়।
সফরের মোট শো নিয়ে সংখ্যার পার্থক্য কেন
সফর নিয়ে প্রথম দিকের প্রতিবেদনে ৩১টি তারিখের কথা বলা হয়েছিল; এর মধ্যে ৫ সেপ্টেম্বর ওকল্যান্ডের একটি কনসার্টও ছিল। মেটলাইফের অনুষ্ঠান পাতাতেও ৩১টি শোর সফর বলা হয়েছে। পরে ওয়াইজির বার্ষিকী ঘোষণায় ১৯টি শহরে ৩৩টি পরিবেশনার কথা বলা হয়, আর মেটলাইফ কনসার্ট ঘিরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয় ১৯টি শহরে ৩৬টি শো।
ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টের প্রকাশিত সফরসূচিতে ১৯টি শহরে ৩৯টি পৃথক তারিখ রয়েছে। প্রথম ৩১ তারিখের সূচির তুলনায় এতে আটটি অতিরিক্ত পরিবেশনা যুক্ত হয়েছে: ৪ সেপ্টেম্বর ওকল্যান্ড, ৯ অক্টোবর তাইপে, ১৮ অক্টোবর সিঙ্গাপুর, ৮ নভেম্বর ব্যাংকক, ১৭ নভেম্বর হংকং, ১০ জানুয়ারি কুয়ালালামপুর, ১৭ জানুয়ারি জাকার্তা এবং ২০ ফেব্রুয়ারি ম্যানিলায়।
এটি মূল ৩১টি পরিবেশনার তুলনায় আটটি বেশি, অর্থাৎ প্রায় ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি। এটি প্রকাশিত সূচির তুলনা; দর্শকসংখ্যা বা টিকিট বিক্রির বৃদ্ধি পরিমাপ নয়। সফরসূচি সম্প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে মোট সংখ্যার এই পার্থক্যগুলো দেখা যাচ্ছে, তবে ৩৩ ও ৩৬—মাঝের প্রতিটি সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সূচিতে গয়াংয়ের উদ্বোধনী তিনটি কনসার্ট, ওকল্যান্ডের দুটি শো, মেটলাইফ, প্যারিস ও লন্ডনের শোগুলো ‘সোল্ড আউট’ হিসেবে চিহ্নিত। সব মিলিয়ে আটটি পরিবেশনা। পরবর্তী তারিখগুলোতে একই চিহ্ন নেই, তাই পুরো সফরকে ‘সোল্ড আউট’ বলা উচিত নয়।
এরপর ইউরোপ, তারপর এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া
মেটলাইফের পরবর্তী নির্ধারিত পরিবেশনাগুলো ১৯ সেপ্টেম্বর প্যারিসের স্টাদ দ্য ফ্রান্সে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর লন্ডনের টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে। দুটিই ‘সোল্ড আউট’ হিসেবে চিহ্নিত। এরপর সফর চলবে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায়; ৩১ অক্টোবর সিডনির অ্যাকর স্টেডিয়ামে হবে কনসার্ট।
বার্ষিকী সফরের সূচনা থেকে শেষ তালিকাভুক্ত সপ্তাহান্ত পর্যন্ত ধারাবাহিকতা প্রকাশিত সূচিতে রয়েছে। ওয়াইজির সূচিতে সব তারিখ ও শুরুর সময় স্থানীয় সময় অনুযায়ী:
- ১৯ আগস্ট, ২০২৬: বার্ষিকী এবং "BiiiG" প্রকাশ; সিউলে ভক্তদের জন্য বিনা মূল্যের আয়োজন নির্ধারিত।
- ২১ থেকে ২৩ আগস্ট: গয়াং স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী তিনটি কনসার্ট।
- ৪, ৫ ও ১১ সেপ্টেম্বর: ওকল্যান্ড ও ইস্ট রাদারফোর্ডের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পর্ব শেষ।
- ১৯ ও ২৬ সেপ্টেম্বর: প্যারিস ও লন্ডনের কনসার্ট।
- ৯ অক্টোবর থেকে ১৭ নভেম্বর: তাইপে, সিঙ্গাপুর, হ্যানয়, সিডনি, ব্যাংকক ও হংকংয়ে পরিবেশনা।
- ২৭ নভেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর: ওসাকা, নাগোয়া, টোকিও ও ফুকুওকায় মোট ১০টি পরিবেশনা।
- ৯ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭: কুয়ালালামপুর, জাকার্তা, ম্যানিলা ও কাওশিয়ুংয়ের তারিখগুলো।
তালিকায় হংকংয়ে চারটি পরিবেশনা রয়েছে, যা সফরসূচির অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে বেশি। জাপানে চারটি শহরে হবে মোট ১০টি শো। তালিকাভুক্ত শেষ কনসার্ট দুটি ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি তাইওয়ানের কাওশিয়ুং ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে। এই ঘোষণাগুলোতে এর পরের কোনো সফরের তারিখ উল্লেখ নেই।
মূল তথ্য
- ২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায় বিগব্যাংয়ের; সীমিত দৃশ্যমানতার আসনগুলোর টিকিটও এর মধ্যে রয়েছে।
- জি-ড্রাগন, তেয়াং ও দেসং প্রায় তিন ঘণ্টায় ৩০টি গান পরিবেশন করেন।
- ওকল্যান্ডের দুটি ‘সোল্ড আউট’ শো-সহ যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর্ব শেষ হয় এই কনসার্টের মধ্য দিয়ে।
- সেটলিস্টে ছিল দলের হিট গান, একক পরিবেশনা এবং ১৯ আগস্ট প্রকাশিত "BiiiG"।
- প্রকাশিত সফরের মোট শোর সংখ্যা নিয়ে পার্থক্য রয়েছে: ঘোষণায় ৩১, ৩৩ বা ৩৬টি শোর কথা বলা হয়েছে, আর ওয়াইজির বিস্তারিত সূচিতে ১৯টি শহরে ৩৯টি তারিখ রয়েছে।
- পরবর্তী নির্ধারিত গন্তব্য প্যারিস ও লন্ডন; সফর চলবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
- মেটলাইফের যাচাইকৃত দর্শকসংখ্যা বা টিকিট বিক্রির আয় প্রকাশ করা হয়নি।






