তিন বলে আবুধাবি টেস্টের মোড় ঘুরল
১১ অক্টোবর ২০২৬-এ হাসান মাহমুদ বাংলাদেশের প্রথম ফাস্ট বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেন, জাতীয় পেসারদের মধ্যে দ্রুততম ১৭ ম্যাচে ৫০ টেস্ট উইকেট পূর্ণ করেন এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে দলকে ৩২৯ রানের লিড গড়তে সাহায্য করেন। শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৮৩তম ওভারে পরপর তিন বলে তাঁর তিনটি উইকেট আবুধাদির একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনের সকাল বদলে দেয়।
সূচিপত্র
- তিন বলে আবুধাবি টেস্টের মোড় ঘুরল
- যেভাবে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন মাহমুদ
- টেস্টে বাংলাদেশের রেকর্ডে তৃতীয় নাম
- বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে দ্রুততম ৫০ উইকেট
- চারটি ভিন্ন দেশে সাফল্য
- প্রথম ইনিংসের শেষ ভাগে এবাদত ও রহমতের ভূমিকা
- শান্ত ও মুশফিকুরের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ
- ম্যাচের পরিসংখ্যানে যেখানে অমিল
- শেষ ধাপের আগে আরও রান করতে চায় বাংলাদেশ
- মূল তথ্য
সকালের দ্বিতীয় ওভারে পরপর বলে ইসমত আলম, কাইস আহমেদ ও জিয়া-উর-রেহমানকে ফেরান ২৬ বছর বয়সী এই পেসার। ২১ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন তিনি। বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২৪০ রানে, প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়ে ১০৬ রানে। দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৩; অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম করেন যথাক্রমে ৮২ ও ৮১ রান।
বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করলেন মাহমুদ। এর আগে ২০০৩ সালে লেগ স্পিনার অলক কাপালি এবং ২০১৩ সালে অফ স্পিনার সোহাগ গাজী এই কীর্তি গড়েছিলেন। গাজীর কীর্তির ১৩ বছর পর মাহমুদের এই সাফল্য পেস আক্রমণে যোগ করল নতুন মাইলফলক; আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসের ১০ উইকেটের ৯টিই নেন বাংলাদেশের পেসাররা।
ম্যাচ তখনো শেষ হয়নি। লিড আরও বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের হাতে ছিল চার উইকেট, আর আফগান অধিনায়ক রহমত শাহের অপরাজিত ১০৫ রান দেখিয়েছে, দৃঢ় ব্যাটিং এখনো সম্ভব। তবে মাহমুদের সকালের ঝড় এবং শান্ত-মুশফিকুরের ১৫৯ রানের জুটি দুই দলই চাপের মুখে পড়ার পর বাংলাদেশকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেয়।
যেভাবে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন মাহমুদ
তৃতীয় দিনের শুরুতে দ্বিতীয় নতুন বল নেয় বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে ৮০ ওভার খেলার পর ফিল্ডিং দল নতুন বল চাইতে পারে। বলের শক্ত পৃষ্ঠ ও স্পষ্ট সিম পেসারদের সুইং পেতে সাহায্য করতে পারে, প্রতিষ্ঠিত জুটি ভাঙার চেষ্টায় যা গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণাত্মক বিকল্প।
ইকরাম আলিখিলকে ৩২ রানে বোল্ড করে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন এবাদত হোসেন। এতে রহমতের সঙ্গে তাঁর ৮০ রানের পঞ্চম উইকেট জুটির অবসান হয়। এরপর আফগানিস্তানের ইনিংসের ৮৩তম ওভারে, সকালের নিজের দ্বিতীয় ওভারে, আঘাত হানেন মাহমুদ।
চার বলে এক রান করা ইসমতকে বোল্ড করেন মাহমুদ। বলটি তাঁর দিকে ভেতরে ঢুকে ব্যাটের নিচ দিয়ে চলে যায়। পরের বলে কাইসের ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় পেছনে; তিনি রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন। শুরুতে উল্টো দিকে সরে গেলেও উইকেটকিপার লিটন দাস দিক বদলে ডান দিকে নিচু হয়ে ঝাঁপিয়ে এক হাতে ক্যাচটি নেন।
তৃতীয় উইকেটটি পেতে রিভিউ নিতে হয়। জিয়ার প্যাডে বল লাগলেও লেগ বিফোর উইকেটের আবেদন নাকচ করেন আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেকার। শান্ত নেন ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস), যে প্রযুক্তির সাহায্যে দলগুলো ভিডিও ও বল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে পারে। আলট্রাএজে ব্যাটে বল লাগার কোনো চিহ্ন মেলেনি, আর বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় বলটি স্টাম্পে লাগত। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলানো হয়, পূর্ণ হয় হ্যাটট্রিক।
মাহমুদ পরে জানান, গুরুত্বপূর্ণ রিভিউ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন অধিনায়ক ও উইকেটকিপার:
"কৃতিত্ব অধিনায়ক আর লিটন দাসের। তাঁরা আলোচনা করে আমাকে বুঝিয়েছে যে বলটি স্টাম্পে লাগত, তাই রিভিউ নিতে পারি। সতীর্থদের কাছ থেকে এ ধরনের পরামর্শ পাওয়া দারুণ লাগছে," বলেন তিনি।
টেস্টে বাংলাদেশের রেকর্ডে তৃতীয় নাম
বাংলাদেশের আগের দুই টেস্ট হ্যাটট্রিকের পাশেই থাকবে মাহমুদের এই কীর্তি। দুটিই করেছিলেন স্পিনাররা। ২০০৩ সালের আগস্টে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম হ্যাটট্রিকটি করেন কাপালি; শাব্বির আহমেদ, দানিশ কানেরিয়া ও উমর গুলকে আউট করেন তিনি। ২০১৩ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন গাজী।
কিছু প্রাথমিক প্রতিবেদনে মাহমুদকে এই কীর্তি গড়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার বলা হয়েছিল এবং কাপালির হ্যাটট্রিকের পর ২৩ বছরের অপেক্ষার কথা লেখা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে গাজীর কীর্তির উল্লেখ ছিল না। ২০১৩ সালের পারফরম্যান্স ধরলে মাহমুদ বাংলাদেশের তৃতীয় হ্যাটট্রিক করা বোলার এবং প্রথম ফাস্ট বোলার; সর্বশেষ দুই হ্যাটট্রিকের মধ্যে ব্যবধান ১৩ বছর।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও ধাপগুলো হলো:
- আগস্ট ২০০৩: পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট হ্যাটট্রিক করেন অলক কাপালি।
- অক্টোবর ২০১৩: চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকটি করেন সোহাগ গাজী।
- ২০২৪: টেস্ট অভিষেক হয় হাসান মাহমুদের।
- ১১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল: বাংলাদেশের প্রথম ফাস্ট বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেন মাহমুদ; পূর্ণ করেন ৫০ টেস্ট উইকেট।
- ১১ অক্টোবর ২০২৬, দিনের খেলা শেষে: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ২২৩ রান করে, আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থাকে ৩২৯ রানে।
বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে দ্রুততম ৫০ উইকেট
হ্যাটট্রিকটি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত বড় মাইলফলকের একটি অংশ। ইনিংসের পরে ইয়ামিন আহমদজাইকে শূন্য রানে আউট করে নিজের চতুর্থবারের মতো টেস্টে এক ইনিংসে অন্তত পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন মাহমুদ। ১৭তম ম্যাচেই পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের ৫০ উইকেট।
ম্যাচসংখ্যার হিসাবে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলারদের মধ্যে দ্রুততম ৫০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। তাসকিন আহমেদের লেগেছিল ১৮ টেস্ট, মাশরাফি বিন মর্তুজার ১৯ এবং শাহাদাত হোসেনের ২১। তাসকিনের চেয়ে এক ম্যাচ এবং শাহাদাতের চেয়ে চার ম্যাচ আগে মাইলফলকে পৌঁছান মাহমুদ।
এই রেকর্ডটি ৫০ উইকেট পেতে কত ম্যাচ লেগেছে, তা নিয়ে; ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ উইকেটসংখ্যা নিয়ে নয়। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলারদের মধ্যে মাশরাফি ৭৮ টেস্ট উইকেট নিয়ে শীর্ষে, এরপর শাহাদাত ৭২ ও তাসকিন ৫৯ উইকেটের মালিক। এই ইনিংসেই ৫০ উইকেটে পৌঁছান মাহমুদ।
টেস্টে তাঁর চতুর্থ পাঁচ উইকেটের ইনিংস বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এমন ইনিংসে শাহাদাতের প্রতিবেদিত রেকর্ডের সমান। সব মিলিয়ে, তিন বলে তিন উইকেট নেওয়ার বিরল কীর্তির বাইরেও কেন সকালটি গুরুত্বপূর্ণ, সেই পরিসংখ্যান তা তুলে ধরে: ২০২৪ সালে অভিষেকের পর ধারাবাহিক সাফল্যের রেকর্ড গড়ছেন মাহমুদ।
চারটি ভিন্ন দেশে সাফল্য
টেস্টে মাহমুদের চারটি পাঁচ উইকেটের ইনিংস এসেছে রাওয়ালপিন্ডি, চেন্নাই, ডারউইন ও আবুধাবিতে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৩ রানে ৫ উইকেট, ভারতের বিপক্ষে ৮৩ রানে ৫, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৫ রানে ৬ এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে এবার ৫৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
এই সাফল্যে ভৌগোলিক বিস্তৃতিও গুরুত্বপূর্ণ। একটি মাঠে বারবার সাফল্যের ওপর নির্ভর না করে পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে উল্লেখযোগ্য নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তিনি। আগস্টে ডারউইনে এক ইনিংসে তাঁর ছয় উইকেট বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া জয়ে ম্যাচে মোট নয় উইকেট নেওয়ার অংশ ছিল।
আবুধাদিতে নিজের কৌশল সম্পর্কে মাহমুদ বলেন, নির্দিষ্ট কোনো মাইলফলকের পেছনে না ছুটে সঠিক জায়গায় বল করা এবং ব্যাটারদের খেলতে বাধ্য করাই ছিল লক্ষ্য:
অবশ্যই হ্যাটট্রিক করার পরিকল্পনা ছিল না, মনোযোগ ছিল নিজের প্রক্রিয়ায়, লাইন ও লেংথে," বলেন তিনি। "নিজের শক্তির ওপর আস্থা রাখতে হয়েছে। দিনটা ভালো কেটেছে।
ব্যাটার ও স্টাম্পের তুলনায় বল কোন দিকে যাচ্ছে, সেটিই লাইন; পিচে বল কোথায় পড়ছে, সেটি লেংথ। মাহমুদের বলের ধারাবাহিকতায় দুটিই নিয়ন্ত্রণে রাখার গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। একটি বলে ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে স্টাম্পে আঘাত হানে, আরেকটি ব্যাটের বাইরের কানায় লাগে এবং তৃতীয়টি প্যাডে আঘাত করে।
প্রথম ইনিংসের শেষ ভাগে এবাদত ও রহমতের ভূমিকা
মাহমুদের পাঁচ উইকেটের সঙ্গে এবাদতের ৫৬ রানে ৪ উইকেট আফগানিস্তানকে গুটিয়ে দেয়। সকালে রহমত-ইকরামের জুটি ভাঙেন এবাদত, পরে মোহাম্মদ সেলিমকে আউট করে ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান। বাকি উইকেটটি নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অর্থাৎ ১০ উইকেটের ৯টিই নেন বাংলাদেশের দুই পেসার।
ধসের পুরোটা সময় প্রতিরোধ গড়েন রহমত। আফগানিস্তানের অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টে ১০টি চার ও দুটি ছক্কায় অপরাজিত ১০৫ রান করেন তিনি। ১৩ ম্যাচে এটি তাঁর চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়। মাহমুদের বলে বাউন্ডারি মেরে শতক পূর্ণ করলেও, আফগানিস্তানকে সমতায় কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার আগেই সঙ্গীদের হারান তিনি।
আফগানিস্তানের মোট ২৪০ রানের প্রায় ৪৪ শতাংশই এসেছে রহমতের ১০৫ রান থেকে। ওপেনার আবদুল মালিক করেন ৬২। ফলে এই দুই ব্যাটার মিলে করেন ১৬৭ রান, যা দলের ইনিংসের প্রায় ৭০ শতাংশ। একজন সেঞ্চুরিয়ান থাকা সত্ত্বেও আফগানিস্তান কেন বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে, তা বুঝতে রান দুটির এই কেন্দ্রীভবন সাহায্য করে।
টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পর বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের ইনিংসে অবদান ছিল আরও বেশি ব্যাটারের। শাদমান ইসলাম করেন ৬৭, তানজিদ হাসান ৮৩ এবং লিটন ৫৩। আফগানিস্তানের পেসাররাও উইকেট পেয়েছেন; মোহাম্মদ সেলিম সাফি নেন চারটি, ইয়ামিন তিনটি এবং ইসমত দুটি।
শান্ত ও মুশফিকুরের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ
প্রথম ইনিংসে লিড পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে কঠিন শুরু হয় বাংলাদেশের। সেলিমের বলে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ১৩ রানে ফেরেন শাদমান। ইয়ামিনের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৭ রানে আউট হন মুমিনুল হক। এরপর ইয়ামিনের বলেই স্লিপে ক্যাচ দেন তানজিদ; ৩৮ বলে ৩১ রান করে ফেরেন তিনি।
৫৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ১৫৯ রানে, তবে শীর্ষ সারির ব্যাটাররা ফিরে গেছেন। এরপর শান্ত ও মুশফিকুর চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন ১৫৯ রান। জুটি ভাঙার আগে দলীয় সংগ্রহ পৌঁছায় ২১২-তে। দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের মোট রানের ৭১ শতাংশেরও বেশি এসেছিল তাঁদের এই জুটি থেকে।
প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ৭৩ বলে টেস্টে নিজের ৩০তম অর্ধশতক করেন মুশফিকুর। শেষ পর্যন্ত ১৪৮ বলে ৮১ রান করেন তিনি। শান্ত অর্ধশতক পূর্ণ করতে খেলেন ১৩৫ বল; ১৯১ বলে ৮২ রানে শেষ করেন ইনিংস। তাঁদের ভিন্ন রান তোলার গতি দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে, দুজনকে একই সময়ে আক্রমণাত্মক খেলতে হয়নি।
উইকেটের পেছনে একটি ক্যাচের সুযোগ থেকে বেঁচে যান অধিনায়ক। সুইপ খেলতে গিয়ে বল মিস করার পর জিয়ার বলে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সফলভাবে রিভিউ নেন তিনি। এই রিভিউয়ে অটুট থাকে সেই জুটি, যা বাংলাদেশের অবস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একই দিনে দুই ইনিংসেই ডিআরএসের সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখে।
তবে দিনের শেষ দিকে আঘাত হানে আফগানিস্তান। উইকেটকিপারের ওপর দিয়ে বল মারতে গিয়ে জিয়ার শর্ট বলে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন মুশফিকুর। কাইসের ঘূর্ণি বলে বোল্ড হন শান্ত। দিনের শেষ দিকে বিশেষজ্ঞ ব্যাটারকে রক্ষা করতে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামানো মাহমুদকে এরপর জিয়ার বলে এলবিডব্লিউ করেন তিনি।
দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৩; লিটন অপরাজিত ৫ রানে, মেহেদী এখনো রান করেননি। ইয়ামিন ৪২ রানে ২ উইকেট এবং জিয়া ৫৫ রানে ২ উইকেট নিয়ে দীর্ঘ জুটির পর আফগানিস্তানকে কিছুটা স্বস্তি দেন।
ম্যাচের পরিসংখ্যানে যেখানে অমিল
ইনিংস শেষের পরিসংখ্যান পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে একই: আফগানিস্তান ২৪০, মাহমুদ ৫৫ রানে ৫ উইকেট, এবাদত ৫৬ রানে ৪ উইকেট এবং প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লিড ১০৬ রান। দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ২২৩ রানে ছিল এবং লিড ছিল ৩২৯, এ বিষয়েও প্রতিবেদনগুলো একমত।
তবে মাঝের কিছু পরিসংখ্যানে অমিল রয়েছে। হ্যাটট্রিকের ঠিক পর আফগানিস্তানের স্কোর কোনো প্রতিবেদনে ৮ উইকেটে ২২০, আবার কোনো প্রতিবেদনে ৮ উইকেটে ২২১; রহমতের রানও কোথাও ৮৬, কোথাও ৮৭। তাঁর শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ১০৫ রানের কথা সাধারণত উল্লেখ করা হলেও, একটি প্রতিবেদনে ইনিংস শেষে তাঁর রান ১০২ বলা হয়েছে।
আগের দিনের স্কোরও সতর্কতার সঙ্গে দেখা দরকার। অধিকাংশ প্রতিবেদন বলছে, ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে আফগানিস্তান দিন শুরু করেছিল; অর্থাৎ ২৪০ রানে অলআউট হওয়ার আগে তারা আরও ২৯ রান করে। অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা শুরু করেছিল ৪ উইকেটে ২১৭ রানে এবং ২৩ রানে হারিয়েছে শেষ ৬ উইকেট। কিছু প্রতিবেদনে ২১১ রানের সঙ্গে ২৩ রান যোগ করার কথা বলা হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ২৪০ রানের সঙ্গে মেলে না।
চায়ের বিরতির সময় বাংলাদেশের স্কোর কোথাও ৩ উইকেটে ১২৩, কোথাও ৩ উইকেটে ১২৪ বলা হয়েছে। তৃতীয় উইকেট ৫৩ রানে পড়ার পর অপরাজিত ৭১ রানের জুটির কথা একটি প্রতিবেদনে রয়েছে; এই হিসাবে স্কোর দাঁড়ায় ১২৪। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড যোগ করলে তা দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩০ রানের লিডের সঙ্গে মেলে। একটি প্রতিবেদনে তৃতীয় দিনকে সোমবার বলা হয়েছে, তবে তারিখসহ প্রতিবেদন এবং পরের দিন খেলার বিষয়ে মাহমুদের বক্তব্য অনুযায়ী দিনটি ছিল ১১ অক্টোবর, রবিবার; পরদিন ১২ অক্টোবর, সোমবার।
শেষ ধাপের আগে আরও রান করতে চায় বাংলাদেশ
দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের লিড ছিল ৩২৯, তবে সেটি তখনো জয়ের লক্ষ্য নয়। ওই সময়ে ইনিংস শেষ হলে জিততে আফগানিস্তানের দরকার হতো ৩৩০ রান। হাতে চার উইকেট থাকায় বাংলাদেশ ঘোষণা দেওয়া বা অলআউট হওয়ার আগে লক্ষ্য আরও বাড়াতে পারত।
মাহমুদ বলেন, সোমবার ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়া এবং আফগানিস্তানের জন্য আরও বড় লক্ষ্য ঠিক করাই পরিকল্পনা। ইনিংস ঘোষণার স্কোর বা সময় তখনো জানানো হয়নি। এরপর জয়ের জন্য বাংলাদেশকে আবারও আফগানিস্তানকে অলআউট করতে হবে।
এই বোলিং পারফরম্যান্স বাংলাদেশের পেস আক্রমণে বিকল্পের গভীরতাও তুলে ধরে। আগের টেস্টে ম্যাকেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নেওয়া শরিফুল ইসলামকে দলে রাখা হয়নি। আবুধাবিতে প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেট ভাগাভাগি করে নিজেদের নির্বাচন সঠিক প্রমাণ করেন মাহমুদ ও এবাদত।
শুধু রেকর্ড নয়, দলের জয়ের সম্ভাবনার সঙ্গেই হ্যাটট্রিকের আনন্দকে যুক্ত করেন মাহমুদ:
"হ্যাটট্রিক করতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। তার চেয়েও বড় কথা, দলকে শক্ত অবস্থানে আনতে পেরে ভালো লাগছে, যেখান থেকে আমরা জয় নিশ্চিত করতে পারি," বলেন তিনি।
মূল তথ্য
- বাংলাদেশের প্রথম ফাস্ট বোলার এবং টেস্টে হ্যাটট্রিক করা তৃতীয় বোলার হলেন হাসান মাহমুদ।
- আবুধাবিতে পরপর বলে ইসমত আলম, কাইস আহমেদ ও জিয়া-উর-রেহমানকে আউট করেন তিনি।
- ৫৫ রানে ৫ উইকেট নেন মাহমুদ; ১৭ ম্যাচে পূর্ণ করেন ৫০ টেস্ট উইকেট, যা বাংলাদেশের অন্য যেকোনো পেসারের চেয়ে দ্রুত।
- আফগানিস্তান অলআউট হয় ২৪০ রানে; রহমত শাহ অপরাজিত ১০৫ করেন এবং এবাদত হোসেন নেন ৫৬ রানে ৪ উইকেট।
- শান্তর ৮২ ও মুশফিকুরের ৮১ রানে গড়া ১৫৯ রানের জুটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে।
- তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ২২৩ রান করে ৩২৯ রানে এগিয়ে ছিল; সোমবার আরও ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।






