মেয়র জিতলেন, ভোটার উপস্থিতি নামল নতুন সর্বনিম্নে
ভুটানের রাজধানী থিম্পুর মেয়র হিসেবে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন উগেন দর্জি। পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে চোখে পড়ার মতো বৈপরীত্য। দর্জি পেয়েছেন ১,৮৪৬ ভোট। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মুখ সোনাম ছোডেনকে তিনি হারিয়েছেন ৬৭ শতাংশের বিপরীতে ৩৩ শতাংশ ভোটে। তবে ফলাফলের চেয়েও বড় একটি বিষয় নির্বাচনের চিত্র নির্ধারণ করেছে: নিবন্ধিত ভোটারের মাত্র ৩২ শতাংশ ভোট দিয়েছেন, যা রাজধানীর পৌরসভা নির্বাচনে রেকর্ড করা সর্বনিম্ন উপস্থিতি।
সূচিপত্র
থিম্পুর মোট জনসংখ্যার সঙ্গে তুলনা করলে সংখ্যাটি আরও চোখে পড়ে। শহরটিতে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার মানুষের বাস, অথচ পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত বাসিন্দা মাত্র প্রায় ৯ হাজার। অর্থাৎ মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন রাজধানীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী ভোটে।
এই পরিসংখ্যান ভুটানে ভোটারদের অনাগ্রহ বাড়ছে কি না, নাকি নির্বাচনের নিয়মের কারণে অনেক বাসিন্দা অংশ নিতে পারছেন না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। এর পেছনে দুই কারণই থাকতে পারে। থিম্পুতে এমন অনেক মানুষ বাস করেন ও কাজ করেন, যাঁদের ভোটার নিবন্ধন রয়ে গেছে গ্রামে নিজেদের আদি এলাকায়। ফলে নাগরিকেরা যেখানে থাকেন, আর আইনত যেখানে ভোট দিতে পারেন, তার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
ভুটানের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ফুয়েন্তশোলিংয়েও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানেও জনসংখ্যার প্রায় একই অংশ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এতে ইঙ্গিত মেলে, সমস্যা শুধু থিম্পুতে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের জনসংখ্যা ও রাজনৈতিক জীবনে বৃহত্তর পরিবর্তনের সঙ্গেও এর যোগ রয়েছে।
ভুটানের পৌরসভা নির্বাচনে কীভাবে বদলেছে ভোট
বর্তমান ধারার প্রথম পৌরসভা নির্বাচনের পর থেকে ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১১ সালে থিম্পুতে নিবন্ধিত ভোটারের প্রায় ৪৯ শতাংশ ভোট দিয়েছিলেন। ফুয়েন্তশোলিংয়ে উপস্থিতি ছিল আরও বেশি, ৭২ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা কমে থিম্পুতে ৩১ শতাংশ এবং ফুয়েন্তশোলিংয়ে ৬২ শতাংশে দাঁড়ায়। সর্বশেষ নির্বাচন নিশ্চিত করেছে, এটি একবারের ওঠানামা নয়, বরং ধারাবাহিক পতন।
সাংবিধানিক ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন চালুর পর ২০০৮ সালে ভুটান সংসদীয় গণতন্ত্রে পরিণত হয়। স্থানীয় প্রশাসনে বাসিন্দাদের সরাসরি ভূমিকা দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হলো পৌরসভা নির্বাচন। মেয়ররা, যাঁদের জংখা ভাষায় থ্রোমপন বলা হয়, সড়ক, বর্জ্য সংগ্রহ, গণপরিসর ও নগর পরিকল্পনাসহ নগরসেবা এবং স্থানীয় উন্নয়ন তদারক করেন।
দ্রুত বেড়ে ওঠা রাজধানীতে স্থানীয় নির্বাচন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যানজট, আবাসনের চাহিদা, নির্মাণকাজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সেবার সম্প্রসারণের চাপের মুখে রয়েছে থিম্পু। শহরে কর্মরত বাসিন্দারা এসব দৈনন্দিন সমস্যা দিয়ে রাজনীতিকে বিচার করতে পারেন। নির্বাচন এসব বিষয়ে তেমন প্রভাব ফেলে না বলে মনে হলে ভোট দেওয়ার আগ্রহ কমে যেতে পারে।
২০২১ সালে কিনলে দর্জিকে হারিয়ে প্রথমবার মেয়র হন দর্জি। কিনলে দর্জি প্রায় এক দশক ধরে নগর প্রশাসনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সর্বশেষ জয়ে রাজধানীর বাস্তব সমস্যাগুলো মোকাবিলায় দর্জি আরেকটি মেয়াদ পেলেন। তবে কম ভোটার উপস্থিতির কারণে ফলাফল শহরের বাসিন্দাদের মতামত কতটা ব্যাপকভাবে তুলে ধরেছে, সেই প্রশ্ন রয়ে গেছে।
কেন তরুণ ভোটাররা ভোট দেননি
ভুটানের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তরুণ নাগরিকদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল বিশেষভাবে কম। থিম্পুতে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী মাত্র ২১৭ জন ভোট দিয়েছেন। ফুয়েন্তশোলিংয়ে এই সংখ্যা ছিল ৬০-এর কিছু বেশি।
তরুণদের কম অংশগ্রহণের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। পড়াশোনা বা কাজের জন্য তরুণ প্রাপ্তবয়স্করা প্রায়ই এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যান। স্থানীয় সরকার সম্পর্কে তাঁদের জানাশোনা কম হতে পারে, প্রার্থীদের সঙ্গে সংযোগ কম থাকতে পারে এবং পৌরসভা নির্বাচন তাঁদের জীবনে প্রভাব ফেলবে কি না, সে বিষয়ে তাঁরা সংশয়ী হতে পারেন। ভুটানে ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম এই উদ্বেগ আরও বাড়ায়, কারণ ভোট দিতে অনেককে দূরের আদি এলাকায় ফিরতে হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন ভোটার উপস্থিতি কমার সঙ্গে জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ অভিবাসন, বিদেশে অভিবাসন এবং ভুটানি সমাজের পরিবর্তিত প্রকৃতির যোগসূত্র দেখিয়েছে। শহরগুলোতে এসব চাপ বিশেষভাবে স্পষ্ট, যেখানে অনেক বাসিন্দা অস্থায়ী কর্মী, নতুন আগত অথবা গ্রামীণ জেলার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখা মানুষ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এই প্রবণতাকে নাগরিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর অর্থ এই নয় যে ভুটানের মানুষ গণতন্ত্র প্রত্যাখ্যান করেছেন। বরং ভোটের ব্যবস্থা, প্রার্থী এবং নির্বাচনের সময় উত্থাপিত বিষয়গুলো মানুষের বর্তমান জীবনযাপনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হচ্ছে, এমনটা বোঝাতে পারে।
নিবন্ধনের নিয়ম তৈরি করছে বাস্তব বাধা
ভুটানের নাগরিকেরা সাধারণত তাঁদের সিভিল রেজিস্ট্রেশন এলাকা, যা ‘মখং’ নামে পরিচিত, সেখানেই ভোট দেন। থিম্পুতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তির নিবন্ধনও দেশের অন্য কোনো গ্রামের ঠিকানায় থাকতে পারে। ভোট দিতে সেই বাসিন্দাকে বাড়ি ফিরতে, কাজ থেকে ছুটি নিতে এবং যাতায়াত ও থাকার খরচ বহন করতে হতে পারে।
স্বল্প আয়ের কর্মীদের জন্য এই ব্যয় অনেক বেশি হতে পারে। ভুটানের পাহাড়ি ভূখণ্ড পেরিয়ে দীর্ঘ যাত্রায় অনেক ঘণ্টা লাগতে পারে, আর এক দিনের কাজ বাদ পড়লে আয়ও কমে যেতে পারে। ফলে অংশ নিতে আগ্রহী কোনো নাগরিককে ভোট দেওয়া এবং তাৎক্ষণিক আর্থিক দায়িত্ব সামলানোর মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হতে পারে।
এই ব্যবস্থায় আইনগত ভোটারগোষ্ঠী ও শহরের প্রকৃত জনসংখ্যার মধ্যে ফারাক তৈরি হয়। পৌরসভার ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত ঠিকানার প্রতিফলন থাকে, অথচ শহরটি গড়ে উঠেছে আরও বড় এক জনগোষ্ঠীকে ঘিরে, যারা থিম্পুতে থাকে, কাজ করে এবং সেবার জন্য অর্থ দেয়। মেয়রের সিদ্ধান্তে এসব বাসিন্দা প্রভাবিত হলেও তাঁদের অনেকের জন্য ভোট দেওয়া বাস্তবে কঠিন।
স্থানীয় সংবাদপত্র কুয়েনসেল বিষয়টিকে কাঠামোগত বঞ্চনা বনাম ভোটারদের অনাগ্রহের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছে। এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। উদাসীনতার কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হলে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো প্রয়োজন; আর যাতায়াতের খরচ ও নিবন্ধনের নিয়মের কারণে কম হলে নির্বাচনী প্রশাসনে পরিবর্তন দরকার।
বিদেশে বসবাসকারী ভুটানি নাগরিকদের বিষয়টিও এই বিতর্কের অংশ। ২০২৩ সালে বিদেশে থাকা নাগরিকদের জন্য ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, ফলে প্রবাসীরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে বসবাসকারী তরুণ ভুটানিদের কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অনেকেরই দেশের সঙ্গে পারিবারিক ও নাগরিক সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু বিদেশ থেকে পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না।
সোনাম ছোডেনের প্রচার এবং প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন
যোগাযোগ ও জনসংযোগ পেশার সঙ্গে যুক্ত সোনাম ছোডেনের প্রার্থিতা নজর কেড়েছিল, কারণ রাজনীতিতে তিনি প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছিলেন। কোনো কোনো ভোটার তাঁর প্রচারকে ভুটানের জনজীবনে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখেছেন।
নারীদের সীমিত প্রতিনিধিত্বের বৃহত্তর জাতীয় চিত্রের মধ্যেই তাঁর পরাজয় ঘটেছে। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্রবিষয়ক গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, কিছু নির্বাচনে ভুটানের রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে, তবে নির্বাচিত পদে তাঁরা এখনও সংখ্যালঘু। আগের এক মূল্যায়নে নারীদের প্রতিনিধিত্ব প্রায় ১১ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা অর্থবহ প্রতিনিধিত্বের মানদণ্ড হিসেবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রায়ই ব্যবহৃত ৩০ শতাংশের অনেক নিচে।
২০২৩ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের চলমান চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়েছে। ২৫ সদস্যের উচ্চকক্ষে সরাসরি নির্বাচিত আসনে জিতেছেন মাত্র একজন নারী, যদিও ভোটদাতাদের অর্ধেকের কিছু বেশি ছিলেন নারী। এ ফল সামাজিক প্রত্যাশা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নির্বাচনী প্রচারের নেটওয়ার্ক এবং লিঙ্গভিত্তিক কোটা প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দেয়।
তাই ছোডেনের প্রচারের তাৎপর্য থিম্পুর মেয়র নির্বাচন ছাড়িয়ে গেছে। নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়লে রাজনৈতিক বিকল্পের পরিসর বিস্তৃত হতে পারে, তবে শুধু প্রার্থীর উপস্থিতিই অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে না। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে, উপলভ্য বিকল্পগুলো বুঝতে এবং স্থানীয় সরকার তাঁদের প্রয়োজন মেটাতে পারে বলে বিশ্বাস করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা
অংশগ্রহণ বাড়াতে দেশব্যাপী নাগরিক শিক্ষা প্রচারাভিযানের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নাগরিক শিক্ষায় নির্বাচন কীভাবে কাজ করে, বিভিন্ন পদে দায়িত্ব কী এবং কীভাবে নিবন্ধন করে ভোট দিতে হয়, তা ব্যাখ্যা করা হয়। ভোটাররা যেন প্রার্থীদের পরিচিতি পর্যালোচনা করতে পারেন, সে জন্য ‘আপনার প্রার্থীকে জানুন’ প্ল্যাটফর্মসহ ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহারেরও পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
বিশেষ করে প্রথমবারের ভোটারদের মধ্যে তথ্যের ঘাটতি থাকলে এসব উদ্যোগ তা পূরণে সহায়ক হতে পারে। অনলাইনে প্রার্থীদের পরিচিতি থাকলে তাঁদের তুলনা করা এবং অবস্থান বোঝা সহজ হতে পারে। তবে সিভিল রেজিস্ট্রেশনের এলাকায় গিয়ে ভোট দেওয়ার খরচ ও দূরত্ব শুধু ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে দূর করা যাবে না।
গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল আইডিইএ এর আগে বলেছে, নাগরিক শিক্ষা ও ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর দায়িত্ব নির্বাচন কর্তৃপক্ষ, নাগরিক সমাজের সংগঠন, রাজনৈতিক দল, বিদ্যালয় এবং তরুণদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া উচিত। ভুটানের অভিজ্ঞতাও এই পদ্ধতির পক্ষে যায়। জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযানে ভোটের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, আর অংশগ্রহণ বাস্তবে সহজ করতে প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে।
সম্ভাব্য সংস্কারের মধ্যে থাকতে পারে নিবন্ধিত এলাকার বাইরে বসবাসকারীদের জন্য অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র, ডাকযোগে ব্যালটের বিস্তৃত ব্যবহার, ভ্রাম্যমাণ ভোটকেন্দ্র অথবা মানুষ স্থানান্তরিত হলে সিভিল রেজিস্ট্রেশন হালনাগাদের ব্যবস্থা। ভোটার তালিকার নির্ভুলতা রক্ষা এবং একাধিকবার ভোট দেওয়া ঠেকাতে প্রতিটি বিকল্পেই সুরক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন হবে।
ভুটান কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। জাতীয় পরিষদের আগের নির্বাচনে ডাকযোগে দেওয়া ব্যালট মোট ভোটের উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল। এ অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হলে বিকল্প ভোটব্যবস্থা অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে। পৌরসভা নির্বাচনের জন্য আলাদা নকশার প্রয়োজন হতে পারে, কারণ পৌরসভার সীমানা ও বসবাসের নথির সঙ্গে স্থানীয় সেবার ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে।
ভুটানের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির পরীক্ষা
ভুটানের গণতন্ত্রে উত্তরণ এখনও তুলনামূলকভাবে নতুন। সংসদীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তবে ভোটার শিক্ষা, নারীদের প্রতিনিধিত্ব, স্থানীয় সংস্থাগুলোর ক্ষমতা এবং জনঅংশগ্রহণের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
জাতীয় নির্বাচনে কখনও কখনও সর্বশেষ পৌরসভা নির্বাচনের চেয়ে বেশি ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। ২০২৩ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৪.৬ শতাংশ, যদিও জেলাগুলোর মধ্যে থিম্পুতেই হার সবচেয়ে কম, ৪৩ শতাংশ। জাতীয় পরিষদের আগের নির্বাচনগুলোতেও দেখা গেছে, ডাকযোগে ভোট ও বাড়ির বাইরে থাকা মানুষের অংশগ্রহণ সহজ করে এমন ব্যবস্থা থাকলে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে।
এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয়, নির্বাচন সহজলভ্য ও অর্থবহ মনে হলে ভুটানের ভোটাররা জোরালোভাবে অংশ নিতে পারেন। তাই পৌরসভা নির্বাচনে কম উপস্থিতি জনজীবনে আগ্রহ পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার বদলে নগর এলাকায় ভোট দেওয়ার বিশেষ জটিলতার প্রতিফলন হতে পারে।
ফলাফল দর্জির ওপরও স্পষ্ট দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে জিতেছেন, তবে ভোটে রাজধানীর জনসংখ্যার যে ক্ষুদ্র অংশের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে, তাতে অংশ না নেওয়া বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছানোর চাপ পৌর প্রশাসনের ওপর পড়তে পারে। উন্নত যোগাযোগ, নগরসেবায় দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং তরুণ বাসিন্দাদের সঙ্গে বেশি যোগাযোগ আস্থা ফেরাতে সহায়তা করতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের জন্য চ্যালেঞ্জ নাগরিকদের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী হতে উৎসাহিত করার চেয়েও বড়। মানুষ গ্রাম, শহর ও অন্যান্য দেশের মধ্যে ঘন ঘন যাতায়াত করেন, এমন সমাজের সঙ্গে নিয়মগুলো খাপ খায় কি না, তা-ও কমিশনকে বিবেচনা করতে হবে। বসবাসের পুরোনো ধরন অনুসরণ করা ভোটব্যবস্থা অনেক নগরবাসীকে স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে রেখে দিতে পারে।
মূল বিষয়গুলো
- থিম্পুর মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে জিতেছেন উগেন দর্জি, পেয়েছেন ৬৭ শতাংশ ভোট।
- পৌরসভা নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের মাত্র ৩২ শতাংশ অংশ নিয়েছেন।
- ভোটদাতারা থিম্পুর আনুমানিক ১ লাখ ৪১ হাজার জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
- রাজধানীতে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী মাত্র ২১৭ জন ভোট দিয়েছেন।
- নিবন্ধনের নিয়মে অনেক নগরবাসীকে ভোট দিতে নিজেদের আদি এলাকায় যেতে হয়।
- বিদেশে থাকা ভুটানি নাগরিকদের জন্য ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা ২০২৩ সালে বাতিল করা হয়।
- নির্বাচন কমিশন নাগরিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং ‘আপনার প্রার্থীকে জানুন’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা করেছে।
- সোনাম ছোডেনের প্রচার ভুটানের রাজনীতিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিতর্ক নতুন করে উসকে দিয়েছে।






