যে গ্রেপ্তার সিলিকন ভ্যালিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল
২০২৬ সালের ১৯ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাড়ি থেকে সুপারমাইক্রোর ৭১ বছর বয়সী সহপ্রতিষ্ঠাতা ওয়ালি লিয়াওকে গ্রেপ্তার করেন ফেডারেল এজেন্টরা। বিচার বিভাগ একটি অভিযোগপত্র প্রকাশ করে, যেখানে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণবিধি লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটিয়েছিলেন লিয়াও। কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আনুমানিক ২৫০ কোটি ডলারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সার্ভার চীনা ক্রেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। এ গ্রেপ্তারের খবরে সিলিকন ভ্যালিতে তোলপাড় শুরু হয়। এক দিনের লেনদেনেই সুপারমাইক্রোর শেয়ারের দাম ৩৩ শতাংশ পড়ে যায়, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানিটির বাজারমূল্য থেকে ৬০০ কোটি ডলারেরও বেশি উধাও হয়ে যায়।
সূচিপত্র
কোম্পানির ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্য লিয়াওর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর খ্যাতির নাটকীয় পতন। সান হোসের একটি স্টার্টআপ থেকে সুপারমাইক্রোকে বৈশ্বিক সার্ভার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। ফেডারেল কৌঁসুলিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত তাইওয়ানভিত্তিক বিক্রয় ব্যবস্থাপক রুই-তসাং চ্যাং এবং ঠিকাদার টিং-ওয়েই সানের সঙ্গে মিলে লিয়াও একটি নাম প্রকাশ না করা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিধিনিষেধের আওতায় থাকা এনভিডিয়ার জিপিইউ চীনে পাঠান। সুপারমাইক্রোকে মামলার আসামি করা হয়নি। তবে কোম্পানিটি স্বীকার করেছে, অভিযোগে উল্লিখিত পরিকল্পনায় তাদের কর্মীরা জড়িত ছিলেন। এ কারণে লিয়াও ও চ্যাংকে সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং সানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে।
চীনের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে—এমন উন্নত মার্কিন প্রযুক্তির প্রবাহ ঠেকাতে নেওয়া রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কার্যকরে গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা এ মামলায় সামনে এসেছে। আধুনিক যুদ্ধ, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থা এবং নজরদারি অবকাঠামোয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব বাড়তে থাকায় চীনে উচ্চক্ষমতার চিপ বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। কিন্তু সুপারমাইক্রোর অভিযোগপত্র দেখায়, ভুয়া প্রতিষ্ঠান, জাল নথি এবং দুঃসাহসী শারীরিক প্রতারণার সমন্বয়ে প্রায় দুই বছর ধরে কত সহজে এসব নিয়ন্ত্রণ এড়ানো গেছে।
ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখনই এ অভিযোগপত্র প্রকাশ পেল। মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার সতর্ক করেছেন, উন্নত সেমিকন্ডাক্টর একটি কৌশলগত সম্পদ, যা আগামী কয়েক দশকে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করতে পারে। কৌঁসুলিদের বর্ণনা অনুযায়ী, মিথ্যার জটিল জালের আড়ালে কোটি কোটি ডলারের প্রযুক্তি কোনো বাধা ছাড়াই চীনে পৌঁছে যাওয়ার ঘটনা বর্তমান আইন প্রয়োগব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে জরুরি প্রশ্ন তুলেছে। প্রায় তিন দশক আগের নজির থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো শিক্ষা নিয়েছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।
প্রতারণার কৌশল
ফেডারেল কৌঁসুলিরা এমন এক অভিযানের বর্ণনা দিয়েছেন, যেখানে অত্যাধুনিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে সাদামাটা প্রতারণার কৌশল মেশানো হয়েছিল। পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিল নাম প্রকাশ না করা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় একটি প্রতিষ্ঠান, যাকে আদালতের নথিতে “কোম্পানি-১” বলা হয়েছে। বিধিনিষেধের আওতায় থাকা প্রযুক্তি পাঠানোর গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী ছিল প্রতিষ্ঠানটি। চীনের বাইরে নিবন্ধিত এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অচীনা নাগরিকদের মালিকানাধীন কোম্পানি-১ এনভিডিয়ার সবচেয়ে উন্নত এআই চিপ, যেমন বি২০০ ও এইচ২০০ জিপিইউ-যুক্ত সার্ভারের জন্য সুপারমাইক্রোর কাছে ক্রয়াদেশ দেয়। উন্নত অস্ত্র তৈরি ও বৃহৎ পরিসরের নজরদারিতে সম্ভাব্য ব্যবহারের কারণে এসব প্রসেসর কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সার্ভারগুলো সংযোজন করে কোম্পানি-১-এর স্থাপনায় পাঠানো হতো। সেখানে নির্বাহীরা অভিযোগ অনুযায়ী, লিয়াওর দলের সঙ্গে সমন্বয় করে জাল নথি তৈরি করতেন, যাতে দেখানো হতো সরঞ্জামগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেই থাকবে। বাস্তবে কর্মীরা হার্ডওয়্যারগুলো চিহ্নবিহীন বাক্সে ভরে চূড়ান্ত গন্তব্য চীনে পাঠিয়ে দিতেন। নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের নিরীক্ষায় ধরা পড়া এড়াতে ষড়যন্ত্রকারীরা হাজার হাজার নকল সার্ভার তৈরি করে সাজানো দৃশ্যের ব্যবস্থা করেন। এগুলো ছিল কাজ না করা, আসল সরঞ্জামের মতো দেখতে শারীরিক প্রতিরূপ।
গুদামে এসব নকল সরঞ্জাম তৈরির দৃশ্য নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আসল সার্ভারের বাক্স থেকে সিরিয়াল নম্বরের লেবেল হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে খুলে নকল ইউনিটে লাগানো হয়। পরে নিরীক্ষকদের দেখানোর জন্য এসব নকল সার্ভার আসল নির্মাতার বাক্সে ভরে রাখা হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাণিজ্য বিভাগের শিল্প ও নিরাপত্তা ব্যুরোর এক পরিদর্শনের সময় ঠিকাদার টিং-ওয়েই সান নিজেকে “মাইকেল” পরিচয় দিয়ে কোম্পানি-১-এর প্রতিনিধিত্বকারী আইন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন বলে দাবি করেন এবং ফেডারেল কর্মকর্তাদের প্রশ্নের জবাব দেন—এমন অভিযোগ রয়েছে।
এ অভিযানের ব্যাপ্তি ছিল বিস্ময়কর। শুধু ২০২৫ সালের এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে আসামিরা ৫১ কোটি ডলারের সার্ভার চীনে পাঠান বলে অভিযোগ। তদন্তকারীরা উদ্ধার করা খুদে বার্তায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের মে মাসে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার আগে সরবরাহ দ্রুত শেষ করার জন্য লিয়াও সহযোগীদের তাগাদা দিচ্ছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি লেখেন, “১৩ মে’র আগে এগুলো দ্রুত পাঠাতে হবে!” পরে যোগ করেন, “ফেব্রুয়ারির মধ্যে তোমাদের ৫১২টি বি২০০ পাঠাতে পারি। ১৩ মে’র আগে দ্রুত কাজটা শেষ করি!” ২০২৫ সালের আগস্টে অন্য চিপ পাচারের ঘটনায় গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হলে লিয়াও কান্নার ইমোজির সারি পাঠান, এরপরও চালান সমন্বয় চালিয়ে যান।
নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি জে ক্লেটন এ অভিযানকে মার্কিন আইন দুর্বল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করেন।
মিথ্যা, অস্পষ্টতা এবং গোপনীয়তার জটিল জালের মাধ্যমে তারা এসব করেছে—উদ্দেশ্য ছিল বিক্রি বাড়ানো এবং মার্কিন আইন লঙ্ঘন করে আয় করা। আজ যেসব পাচারচক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মতো চক্র অবৈধভাবে অর্জিত কোটি কোটি ডলার আয় করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করে।
প্রতারণার দুঃসাহসী ধরন থেকে মনে হয়, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করার মতো সম্পদ বা এ ধরনের পরিকল্পনা শনাক্তে প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়িত্ব কর্তৃপক্ষের নেই—এমন হিসাব করেই অভিযুক্তরা এগিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের শেষ দিকে সুপারমাইক্রোর অভ্যন্তরীণ কমপ্লায়েন্স দল নিরীক্ষা শুরু করার পরও চ্যাং সহযোগী এক নিরীক্ষককে পরিদর্শনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে কোম্পানি-১-এর নির্বাহীরা কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তাকে বাইরে আপ্যায়নে ব্যস্ত রাখতেন। ২০২৫ সালের আগস্টের এক নিরীক্ষায় নকল সার্ভার যাচাইয়ের জন্য হাজির করার সময় ওই কর্মকর্তাকে বিনোদনের ব্যবস্থা করে ব্যস্ত রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগসূত্র
পাচারচক্রের ভৌগোলিক কাঠামোয় প্রায় তিন দশক আগের নথিভুক্ত গুপ্তচরবৃত্তির কৌশলের উদ্বেগজনক প্রতিধ্বনি রয়েছে। ১৯৯৬ সালের চিনাগেট তদন্তের সময় সিনেটের সরকারি বিষয়ক কমিটি নথিভুক্ত করে, কীভাবে চীনা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ব্যবসায়িক স্বার্থকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে বিদেশি অর্থ আমেরিকার রাজনীতিতে পাঠিয়েছিল। তদন্তের কেন্দ্রে ছিল ইন্দোনেশিয়ার রিয়াদি পরিবারের পরিচালিত লিপ্পো গ্রুপ। চীনের রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ও চায়না রিসোর্সেসের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির গভীর আর্থিক সম্পর্ক ছিল। মার্কিন গোয়েন্দারা চায়না রিসোর্সেসকে চীনা সামরিক অভিযানের আড়াল হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
১৯৯৮ সালের সিনেট প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা গোয়েন্দা ও সামরিক সংস্থাগুলোর মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এ ধরনের ব্যবস্থার কৌশলগত গুরুত্ব ছিল, কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন চীনের সার্বভৌম ভূখণ্ডের বাইরে। এতে বেইজিং রাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক অস্বীকার করার সুযোগ পেত, আবার রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থেকে আইনগতভাবে স্বতন্ত্র বলে মনে হওয়া প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আর্থিক প্রভাব বিস্তার করতে পারত।
বর্তমান মামলার নাম প্রকাশ না করা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় কোম্পানিটির সঙ্গে লিপ্পো গ্রুপের কাঠামোর উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা কোম্পানি-১-এর পরিচয় নিশ্চিত করেননি। তবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কম্পিউটিং প্রতিষ্ঠান মেগাস্পিডের বিরুদ্ধে একই ধরনের ট্রান্সশিপমেন্ট লঙ্ঘনের অভিযোগে বাণিজ্য বিভাগ তদন্ত চালাচ্ছে। লিপ্পো গ্রুপের মতো মেগাস্পিডও চীনের বাইরে নিবন্ধিত এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের মালিকানাধীন। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি চীনা গেমিং কোম্পানি ৭রোড ইন্টারন্যাশনালের শাখা হিসেবে কাজ করে, যার পেছনে রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন। সিনেটর টম কটন প্রকাশ্যে মেগাস্পিডকে চীনা সরকারের একটি শাখা বলে বর্ণনা করেছেন।
প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত উত্থান ঘটিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এনভিডিয়ার চিপের একক বৃহত্তম ক্রেতা হয়ে ওঠে। এতে এমন প্রশ্ন উঠেছে, যা শেষ পর্যন্ত রিয়াদিদেরও বিপাকে ফেলেছিল: এই প্রতিষ্ঠানকে প্রকৃতপক্ষে কে নিয়ন্ত্রণ করে, আর এটি কার স্বার্থে কাজ করে? এ ধরন থেকে মনে হয়, প্রমাণিত কৌশলগুলো সচেতনভাবে আবার কাজে লাগানো হচ্ছে এবং ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে কংগ্রেস চিহ্নিত একই বিচারব্যবস্থাগত ফাঁকগুলোর সুযোগ নেওয়া হচ্ছে।
রপ্তানি বিধি লঙ্ঘনে সুপারমাইক্রোর অতীত
বর্তমান কেলেঙ্কারিতে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ লঙ্ঘনের ঘটনায় সুপারমাইক্রোর নাম আসা এই প্রথম নয়। অতীতের এ ইতিহাস সাম্প্রতিক ত্রুটিগুলোকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। ২০০৬ সালে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৩ সালের মার্চ পর্যন্ত অবৈধভাবে ইরানে কম্পিউটার সরঞ্জাম রপ্তানির দায়ে ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করে কোম্পানিটি। বিচার বিভাগকে অপরাধমূলক জরিমানা হিসেবে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেয় তারা। পাশাপাশি দেওয়ানি নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে বাণিজ্য বিভাগের শিল্প ও নিরাপত্তা ব্যুরোকে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ ডলার এবং ট্রেজারি বিভাগের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরকে আরও ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩২৭ ডলার দেয় ইরানবিষয়ক লেনদেন বিধি লঙ্ঘনের জন্য।
২০ বছর আগের ওই মামলায় ব্যবহৃত পদ্ধতির সঙ্গে বর্তমান অভিযোগের অস্বস্তিকর রকমের মিল রয়েছে। ২০০৬ সালের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সুপারমাইক্রো সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সার্ভার, মাদারবোর্ড ও কম্পিউটার কেস রপ্তানি করেছিল। দুবাইভিত্তিক এক পরিবেশককে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে সরঞ্জামগুলো ইরানের চূড়ান্ত ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানো হয়। মার্কিন সরকারের কাছে রপ্তানিকারকের ঘোষণাপত্রে ভুল তথ্য দিয়ে কোম্পানিটি দাবি করেছিল, কোনো লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই। অথচ চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি দেশ।
২০০৬ সালের আদালতের নথি থেকে জানা যায়, সুপারমাইক্রোর কৌশলগত বিক্রয় বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ইরানে বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা জানতেন, অথবা জানার কারণ ছিল। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানা থাকা সত্ত্বেও কোম্পানিটি অভিযোগ নিষ্পত্তি করে, অভ্যন্তরীণ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চালু করে এবং একই নির্বাহীদের নেতৃত্বে ব্যবসা চালিয়ে যায়। ২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হাওয়ার্ড হিদেশিমা ইরানবিষয়ক নিষ্পত্তিতে সম্মতি দিয়েছিলেন। ২০২০ সালে হিসাবের অনিয়ম নিয়ে এসইসি অভিযোগ আনার পর তিনি কোম্পানি ছাড়েন।
২০১৮ সালের হিসাব কেলেঙ্কারির পর লিয়াও নিজেও সুপারমাইক্রো ছেড়ে যান। ওই কেলেঙ্কারির ফলে নাসডাক থেকে কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি বাতিল হয়েছিল। ২০২১ সালে উপদেষ্টা হিসেবে ফিরে এসে তিনি ২০২২ সালে পূর্ণকালীন নির্বাহী পদে যোগ দেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পরিচালনা পর্ষদে তাঁর প্রত্যাবর্তন তাঁকে সেই রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনার অবস্থানে বসায়, যা তিনি আগে লঙ্ঘন করেছিলেন। ২০০৬ সালের ইরান মামলার সাজা নির্ধারণসংক্রান্ত স্মারকে বলা হয়েছিল, অন্য কোম্পানিগুলোকে একই ধরনের অপরাধ থেকে বিরত রাখতে জরিমানাই যথেষ্ট। কিন্তু বর্তমান অভিযোগ বলছে, একই কৌশলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সে ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে।
দুই দশকের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া কিন্তু একই পদ্ধতিতে পরিচালিত এ দুই মামলা করপোরেট স্মৃতির ঘাটতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ধারাবাহিক পদক্ষেপের ব্যর্থতা নির্দেশ করে। যে লঙ্ঘন থেকে কোটি কোটি ডলার আয় হতে পারে, তার জন্য কোম্পানিকে তুলনামূলকভাবে সামান্য আর্থিক জরিমানা দিতে হলে অনেক সময় নিয়ম মেনে চলার চেয়ে ঝুঁকি নেওয়াকেই লাভজনক মনে হয়—বিশেষত ধরা পড়ার আশঙ্কা অনিশ্চিত হলে।
সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীরা
পাচার পরিকল্পনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক সম্ভবত প্রযুক্তির চূড়ান্ত গন্তব্য। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা যায়, গত এক বছরে চীনের চারটি বিশ্ববিদ্যালয় বিধিনিষেধের আওতায় থাকা এআই চিপযুক্ত সুপারমাইক্রোর সার্ভার কিনেছে। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিপলস লিবারেশন আর্মির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারণ চীনের প্রতিরক্ষা গবেষণা ক্রমেই সামরিক সংস্থা ও বেসামরিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারত্বের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
চিহ্নিত ক্রেতাদের মধ্যে বেইহাং বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এটি চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষার ‘সেভেন সন্স’-এর একটি প্রতিষ্ঠান, যেগুলো মহাকাশ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৬ সালের ১৬ মার্চের ক্রয় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চারটি এনভিডিয়া এ১০০ চিপযুক্ত সুপারমাইক্রো সিস্টেমে নির্মিত একটি মেশিন লার্নিং ওয়ার্কস্টেশন কিনেছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। ২০২২ সাল থেকে চীনে বিক্রিতে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা প্রসেসর এগুলো। একইভাবে, ‘সেভেন সন্স’-এর আরেক সদস্য হারবিন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি—যার স্যাটেলাইট, রোবোটিকস ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্টতার নথি রয়েছে—২০২৫ সালের জুলাইয়ের একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আটটি এনভিডিয়া এ১০০-যুক্ত সুপারমাইক্রো সিস্টেম কিনেছিল।
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ই যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে, তাদের কাছে সরবরাহের লাইসেন্স পাওয়া থেকে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিরত থাকার কথা। তবু সুপারমাইক্রোর মাধ্যমে সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় তারা বিধিনিষিদ্ধ হার্ডওয়্যার পেয়েছে। এতে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তানীতির নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কীভাবে নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে দুর্বল করা হয়, তা স্পষ্ট। দরপত্রের অতিরিক্ত নথি থেকে জানা যায়, সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত আরও অন্তত দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালে একই ধরনের কেনার চেষ্টা করেছিল। তবে এসব লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এর প্রভাব একাডেমিক গবেষণার গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তিবিষয়ক কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ তথ্য গবেষণা বিশ্লেষক জ্যাকব ফেল্ডগোইজের মতে, উন্নত এআই কম্পিউটিং ক্ষমতা চীনের অস্ত্রের নকশা ও পরীক্ষা, সামরিক পরিকল্পনা ও সরবরাহব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থা কিংবা নজরদারির উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে। চীন যখন নৌবহরের জন্য স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ-ড্রোন ও আগাম রক্ষণাবেক্ষণব্যবস্থাসহ ক্রমে উন্নত সামরিক এআই তৈরি করছে, তখন মার্কিন নকশায় তৈরি চিপের নাগাল দেশটির নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন এখনো দিতে না পারা সক্ষমতা জোগায়।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টিবিষয়ক প্রতিনিধি পরিষদের বিশেষ কমিটি এ ধরনের চোরাচালানকে মার্কিন নিরাপত্তার ব্যাপক ঝুঁকি হিসেবে বর্ণনা করেছে। সাম্প্রতিক সাক্ষ্যে কমিটির চেয়ারম্যান জন মুলেনার বলেন, এআই-সংক্রান্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে চীনা কোম্পানিগুলো যা কেনা যায় তা কিনতে এবং যা কেনা যায় না তা চুরি করতে প্রস্তুত। মালয়েশিয়ায় শতকোটি ডলারের সুপারকম্পিউটিং স্থাপনা গড়ে দূর থেকে সেগুলো ব্যবহার করার পাশাপাশি তারা সরাসরি চিপ পাচারেও জড়িত।
বাজারে অস্থিরতা
অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযানে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারে তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক ধাক্কা লেগেছে। চীনে উন্নত এআই হার্ডওয়্যারের সরবরাহব্যবস্থাও মৌলিকভাবে বদলে গেছে। ২০২৬ সালের মার্চে লিয়াও গ্রেপ্তারের পর আটটি বি৩০০ জিপিইউ-যুক্ত এনভিডিয়ার বি৩০০ সার্ভারের দাম চীনের ধূসর বাজারে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এ সার্ভারগুলো এআই ইনফারেন্সের কাজে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখন প্রতিটি সার্ভারের দাম প্রায় ৭০ লাখ ইউয়ান বা ১০ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে এর দাম ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
কালোবাজারের সরবরাহপথ হঠাৎ সংকুচিত হওয়ায় বিরলতার কারণে দাম বেড়েছে। অভিযোগপত্র প্রকাশের আগে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো রপ্তানি বিধিনিষেধের কারণে সরাসরি কিনতে না পারা হার্ডওয়্যার পেতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে ট্রান্সশিপমেন্টের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করত। সুপারমাইক্রোর মামলায় এ সরবরাহপথের কার্যপদ্ধতি প্রকাশ পাওয়ার পর প্রয়োগ-সংক্রান্ত ঝুঁকি নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। ফলে দালাল ও সরবরাহসেবাদাতারা কার্যক্রম কমিয়ে দেন।
চীনা এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নাজুক ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জে পড়েছে। এনভিডিয়ার চিপের বদলে হুয়াওয়ের মতো দেশীয় প্রতিষ্ঠানের বিকল্প কিনতে বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে নিরুৎসাহিত করলেও এনভিডিয়ার হার্ডওয়্যারের চাহিদা কমেনি। মর্গান স্ট্যানলির গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক টোকেন ব্যবহারে চীনা এআই মডেলগুলোর অংশ ছিল ৫ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের মার্চে প্রায় তিন গুণ বেড়ে ৩২ শতাংশে দাঁড়ায়। এতে ইনফারেন্স-সক্ষম হার্ডওয়্যারের অভূতপূর্ব চাহিদা তৈরি হয়েছে। মিনিম্যাক্স, ঝিপু এবং আলিবাবার কিউয়েনসহ কোম্পানিগুলোর টোকেন ব্যবহার ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ছয় থেকে সাত গুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
অনেক চীনা কোম্পানির কাছে নিষিদ্ধ হার্ডওয়্যার সরাসরি নিজেদের হিসাবের খাতায় রাখা এখন আর সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এক বছরের চুক্তিতে মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৯০ হাজার ইউয়ান খরচের ভাড়ার ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে তারা। সরবরাহ আরও সংকুচিত হলে এ দামও হয়তো টেকসই হবে না। লাইসেন্সের আওতায় চীনে বিক্রি থেকে আয়ের ১৫ শতাংশ মার্কিন সরকারকে দেওয়ার জন্য এনভিডিয়াকে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক নির্দেশ এবং তাত্ত্বিকভাবে অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও এইচ২০০ চালানের অনুমোদনে চলমান বিলম্ব—সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এনভিডিয়ার বক্তব্য, তারা বিধিনিষেধ এড়িয়ে পাঠানো সিস্টেম সমর্থন করে না। তাদের সতর্কতা, সিস্টেম যত জটিল হচ্ছে, বেআইনি উপায়ে অন্যত্র পাঠানো ততই ব্যর্থতার ঝুঁকি তৈরি করছে। তা সত্ত্বেও এনভিডিয়া চীনের এআই চিপ খাতে আনুমানিক ৫৫ শতাংশ বাজার ধরে রেখেছে। তাদের সবচেয়ে উন্নত পণ্যে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এ আধিপত্য বজায় রয়েছে।
তদন্তের পরিধি বাড়ছে
সাবেক নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের বাইরেও সুপারমাইক্রো এখন জটিল সংকটের মুখে। পরিচালনা পর্ষদের সদস্য স্কট অ্যাঞ্জেল ও ট্যালি লিউর নেতৃত্বে কোম্পানিটি একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু করেছে। তাদের গ্লোবাল ট্রেড কমপ্লায়েন্স কর্মসূচি পর্যালোচনায় মাঙ্গার, টোলস অ্যান্ড ওলসনের বাইরের আইনজীবী এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যালিক্সপার্টনার্সকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে একাধিক বিনিয়োগকারী-শ্রেণির সিকিউরিটিজ মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত সময় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রধান বাদী হিসেবে আবেদন করতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০২৬ সালের ২৬ মে পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুনামের ক্ষতি ইতিমধ্যে ব্যবসায়িক ক্ষতিতে রূপ নিয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে ওরাকল ৩০০ থেকে ৪০০টি এনভিডিয়া জিবি৩০০ এনভিএল৭২ সার্ভার র্যাকের ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এগুলোর মূল্য ১১০ থেকে ১৪০ কোটি ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, বিচার বিভাগের মামলার কারণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার সঙ্গেই এ সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এ ছাড়া সরবরাহব্যবস্থার প্রতিবেদন বলছে, এক্সএআই ব্যবসা ডেল ও হিউলেট প্যাকার্ড এন্টারপ্রাইজের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে সরিয়ে নিয়েছে। এতে সুপারমাইক্রোর হাতে বি২০০ জিপিইউর অতিরিক্ত মজুত পড়ে আছে।
ওয়াশিংটনে কেলেঙ্কারিতে সামনে আসা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ফাঁক বন্ধ করতে আইনপ্রণেতারা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি ২০২৬ সালের এপ্রিলে ‘মাল্টিল্যাটারাল অ্যালাইনমেন্ট অব টেকনোলজি কন্ট্রোলস অন হার্ডওয়্যার’ (ম্যাচ) আইন এগিয়ে নিয়েছে। নেদারল্যান্ডস ও জাপানসহ মিত্র দেশগুলোকে তাদের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সরঞ্জামে বিধিনিষেধ মার্কিন নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এ আইন বাধ্য করবে। এতে চীনে এএসএমএলের অবশিষ্ট বিক্রি বন্ধ হবে এবং ইতিমধ্যে স্থাপন করা যন্ত্রের সার্ভিসিংও নিষিদ্ধ হবে। ফলে চীনের নিজস্ব চিপ উৎপাদন সক্ষমতা আরও সীমিত হবে।
আসামিদের জন্য আইনি পরিণতি গুরুতর। লিয়াও ও সান রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সংস্কার আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছরের সাজা হতে পারে। এ ছাড়া চোরাচালান ও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে। চ্যাং পলাতক। ২০০৬ সালের ইরান মামলায় যে প্রতিরোধমূলক প্রভাব তৈরি হয়নি, এবার তার বিচারপ্রক্রিয়া সে প্রভাব ফেলতে পারবে কি না, তা এখনো অজানা। এর মধ্যে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে এআই অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে।
মূল বিষয়গুলো
- সুপারমাইক্রোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ওয়ালি লিয়াওকে ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ চীনে ২৫০ কোটি ডলারের এআই সার্ভার পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়
- নাম প্রকাশ না করা একটি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় কোম্পানির মাধ্যমে বিধিনিষেধের আওতায় থাকা এনভিডিয়ার চিপ পাঠিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে নজরদারি এড়ানো হয়েছিল
- সরকারি নিরীক্ষার সময় সিরিয়াল নম্বরের লেবেল বদলাতে আসামিরা নকল সার্ভার ও হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ
- চূড়ান্ত ব্যবহারকারীদের মধ্যে পিপলস লিবারেশন আর্মি ও প্রতিরক্ষা গবেষণার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল
- ২০০৬ সালে ইরানে একই ধরনের রপ্তানি লঙ্ঘনের দায়ে সুপারমাইক্রো দোষ স্বীকার করেছিল এবং একই ধরনের ট্রান্সশিপমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল
- কেলেঙ্কারির পর এক দিনে সুপারমাইক্রোর শেয়ারের দাম ৩৩ শতাংশ পড়ে যায় এবং চীনে এনভিডিয়ার বি৩০০ সার্ভারের ধূসর বাজারের দাম দ্বিগুণ হয়ে ইউনিটপ্রতি ১০ লাখ ডলারে পৌঁছায়
- সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সরঞ্জামের ওপর বহুপক্ষীয় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করতে কংগ্রেস এখন ম্যাচ আইন এগিয়ে নিচ্ছে






