দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আর্থিক বাধা ভাঙা
ইন্দোনেশিয়া প্রথমবারের মতো চীনকে তাদের অভ্যন্তরীণ আর্থিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। এটি আঞ্চলিক আর্থিক সংহতি আরও গভীর করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন মুদ্রার আধিপত্যে থাকা ঋণবাজারগুলোর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকের ফাঁকে চীনের অর্থমন্ত্রী লান ফোআনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর পারস্পরিক এই ব্যবস্থার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া। প্রচলিত মুদ্রা বিনিময়ব্যবস্থা বা আন্তর্জাতিক বাজারে তালিকাভুক্তির বাইরে গিয়ে এ চুক্তি এশিয়ার বৃহত্তম দুটি ঋণবাজারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ স্থাপন করেছে, যা একটি কৌশলগত অগ্রগতি।
সূচিপত্র
অর্থমন্ত্রীদের আলোচনায় ঠিক হওয়া শর্ত অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি ইউয়ান-নির্ধারিত সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর অনুমতি পাবে চীন। একই সঙ্গে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরকারি ঋণপত্র ইস্যুর সমান অধিকার পাবে ইন্দোনেশিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতিতে সার্বভৌম ঋণ ইস্যুর জন্য বেইজিংয়ের বাজারে প্রবেশ এই প্রথম। এটি চীনের আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রতি জাকার্তার ক্রমবর্ধমান আস্থার ইঙ্গিত দেয় এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানিবাজারের অস্থিরতার মধ্যে বৈশ্বিক বিনিয়োগের ধরনে পরিবর্তন প্রতিফলিত করে।
পারস্পরিক বন্ড ইস্যুর প্রক্রিয়া
পারস্পরিক বন্ড ইস্যুর মডেলটি বাজারে একে অপরের প্রবেশাধিকারের নীতিতে কাজ করে, যা দুই দেশের আগের আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থাগুলোর চেয়ে মৌলিকভাবে আলাদা। ইন্দোনেশিয়া আগে জাপানে সামুরাই বন্ড, অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাঙ্গারু বন্ড এবং হংকংয়ে ডিম সাম বন্ডসহ বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ তুলেছে। তবে এই ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো চীন জাকার্তার অভ্যন্তরীণ পুঁজিবাজারে সরাসরি সার্বভৌম ঋণপত্র তালিকাভুক্ত করতে পারবে।
ইন্দোনেশিয়ার তাৎক্ষণিক সুবিধা হলো তুলনামূলক কম খরচে অর্থায়নের সুযোগ। চীনা সরকারি বন্ডের সুদহার বর্তমানে প্রায় ২.৩ শতাংশ, যা অনেক পশ্চিমা বাজারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম; সেখানে মূল্যস্ফীতির চাপে ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ১০ বছর মেয়াদি সরকারি সিকিউরিটিজ সাধারণত এর চেয়ে অনেক বেশি স্প্রেডে লেনদেন হয়। ফলে জাতীয় মূলধন ব্যয় কমাতে এবং সরকারি ঋণের কাঠামো উন্নত করতে পান্ডা বন্ড বাজার একটি আকর্ষণীয় বিকল্প।
প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো তাঁর প্রশাসনকে বৈশ্বিক অর্থায়নের উৎস বহুমুখী করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। এ বছর ইন্দোনেশিয়ার প্রথম পান্ডা বন্ড ইস্যুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এটি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ব্যবস্থা বাণিজ্য নিষ্পত্তিও সহজ করবে: ইন্দোনেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রুপিয়া-ইউয়ান লেনদেনে জামানত হিসেবে চীনা সরকারি বন্ড রাখতে পারবে, ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মুদ্রা রূপান্তর ও ঝুঁকি হেজ করার খরচ কমবে। চীন ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার, তাই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য করা ব্যবসায়ীদের জন্য এই আর্থিক অবকাঠামো বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
বৈশ্বিক আলোচনায় বিকল্পের ব্যবহার
দ্বিপক্ষীয় সুবিধার বাইরেও, পশ্চিমা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনাসহ ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তর আর্থিক কূটনীতিতে এই চুক্তি একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। সম্প্রতি মার্কিন বন্ড বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকে চীনের সঙ্গে চুক্তিকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন পুরবায়া। এর মাধ্যমে জাকার্তা দেখিয়েছে, প্রচলিত পশ্চিমা অর্থায়নের পথের বিকল্প তার হাতে রয়েছে এবং মার্কিন বাজারের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর না করেও প্রতিযোগিতামূলক শর্ত নিশ্চিত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বন্ড বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও আমি এই তথ্য ভাগ করে নিয়েছি। কূটনৈতিক ভাষায় বললে, আপনারা কিনতে না চাইলে অন্য বিনিয়োগকারীরা আরও কম সুদে কিনতে আগ্রহী। এটি ছিল আমাদের দর-কষাকষির কৌশলের অংশ, আর এতে সঙ্গে সঙ্গেই আসা দরপত্রের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
তথ্যটি প্রকাশের পরপরই এ কৌশল কার্যকর হয়। অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, চীনা অর্থায়নের বিকল্পের কথা জানার পর বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে আগ্রহী মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ইন্দোনেশীয় বন্ডের দরপত্র দ্রুত বেড়ে যায়। এ কৌশল দেখায়, উদীয়মান অর্থনীতিগুলো কীভাবে বহুমেরুকেন্দ্রিক আর্থিক সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে প্রচলিত ঋণদাতাদের কাছ থেকে আরও অনুকূল শর্ত আদায় করতে পারে এবং কোনো একক অর্থায়নের উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়াতে পারে।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে জাকার্তার সাম্প্রতিক জটিল যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে চুক্তিটির সময়ও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে ইন্দোনেশিয়া। এতে শুল্ক আরোপের হুমকি ৩২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয় এবং বিনিময়ে কয়েক শ কোটি ডলারের মার্কিন জ্বালানি ও কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। চীনের সঙ্গে বন্ড চুক্তি ইন্দোনেশিয়ার দর-কষাকষির ক্ষমতা আরও বাড়ায় এবং নিশ্চিত করে যে পুঁজিবাজারে প্রবেশাধিকার কেবল পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বা মার্কিন মুদ্রানীতির চক্রের ওপর নির্ভরশীল নয়।
ইউয়ানের আন্তর্জাতিকীকরণ ও নিরাপদ বিনিয়োগের বদলে যাওয়া ধারণা
বৈশ্বিক বিনিয়োগের ধরনে পরিবর্তন এবং ডলার-নির্ধারিত সম্পদের বিকল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইন্দোনেশিয়া-চীন বন্ড চুক্তিটি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে জ্বালানির দামে অস্থিরতা ও পশ্চিমা অর্থনীতিগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও সার্বভৌম সম্পদ তহবিলগুলো প্রচলিত নিরাপদ বিনিয়োগে সম্পদ বণ্টনের ধরন নতুন করে ভাবছে। চীনা সরকারি বন্ডকে মার্কিন ট্রেজারির স্থিতিশীল বিকল্প হিসেবে ক্রমেই বেশি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পক্ষে রয়েছে তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি, ধারাবাহিক চলতি হিসাব উদ্বৃত্ত এবং চীনের পিপলস ব্যাংকের পূর্বানুমেয় মুদ্রানীতি।
আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির মধ্যে ডলারভিত্তিক সম্পদ থেকে বিনিয়োগ বহুমুখী করতে চাওয়া উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো চীনা সার্বভৌম ঋণে ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দেখিয়েছে। এই অর্থপ্রবাহ বেইজিংকে স্থানীয় সরকারি ঋণ কমানো এবং কৌশলগত প্রযুক্তি খাতকে সহায়তাসহ অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন উদ্যোগে আগের চেয়ে কম সুদে অর্থায়নের সুযোগ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের তুলনায় সহজ মুদ্রানীতি বজায় রেখেছে চীনের পিপলস ব্যাংক। সম্প্রতি চীনের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার কমে প্রায় ১.৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৫ সালের আগস্টের পর সর্বনিম্ন।
চীনা সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে স্বাগত জানিয়ে ইন্দোনেশিয়া ইউয়ান-নির্ধারিত সম্পদে রুপিয়ার তারল্য বিনিয়োগের সরাসরি পথ তৈরি করছে, যাতে পুঁজির হিসাব পুরোপুরি রূপান্তরযোগ্য করার প্রয়োজন নেই। এতে অফশোর রেনমিনবি বাজার আরও গভীর হবে এবং ইন্দোনেশিয়ার পেনশন তহবিল, বিমা কোম্পানি ও ব্যাংকগুলো ডলারভিত্তিক ব্যবস্থার বাইরের বিকল্প রিজার্ভ সম্পদে প্রবেশাধিকার পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রার ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সঙ্গে বাস্তববাদী অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে যে বৃহত্তর প্রচেষ্টা চলছে, এ পদক্ষেপ তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আঞ্চলিক আর্থিক কাঠামোর জন্য তাৎপর্য
চীনের সঙ্গে আর্থিক সংহতি আরও গভীর করার কথা ভাবছে এমন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট (আসিয়ান)-এর অন্য সদস্যদের জন্য এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অর্থনৈতিক সুরক্ষাবাদ ও সম্পদভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ঐতিহাসিক প্রবণতা থাকা সত্ত্বেও ইন্দোনেশিয়ার চীনা সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে সম্মতি মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামকে এই বার্তা দিচ্ছে যে বেইজিংয়ের সঙ্গে আর্থিক সহযোগিতা জাতীয় অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো চীনা সরকারি বন্ডে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিনিয়োগ শুরু করলে মার্কিন ট্রেজারির ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমতে পারে। এতে আর্থিক কৌশলবিদদের ভাষায় দ্বিমেরুকেন্দ্রিক নিরাপদ সম্পদের পরিসর তৈরি হবে। একটি বলয় নিউইয়র্ক ও লন্ডনকেন্দ্রিক থাকবে, অন্যটি গড়ে উঠবে সাংহাই ও হংকংকে ঘিরে; আর ইন্দোনেশিয়া এ প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে। এই কাঠামোগত পরিবর্তনের গভীর ভূরাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে, কারণ পারস্পরিক বন্ড ইস্যু সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে কার্যত আর্থিক সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে।
আঞ্চলিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যখন চীনা বন্ডকে রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে রাখে, তখন জোটভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা বা আর্থিক বিচ্ছিন্নতার কৌশলে অংশ নেওয়ার অর্থনৈতিক ব্যয় অসহনীয় হয়ে ওঠে। এতে একটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া-চক্র তৈরি হয়: চীন স্থিতিশীল অর্থায়ন পায়, আর জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ ও বাণিজ্য অংশীদারেরা পশ্চিমা অর্থনীতিগুলোর সম্ভাব্য চাপের বিরুদ্ধে ভূরাজনৈতিক সুরক্ষা পায়। এই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধ আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তোলে, কারণ চীনা সরকারি বন্ড হাতে থাকা আসিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো বিচ্ছিন্নতামূলক অভিযানে অংশ নিলে তাদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়বে।
অর্থনৈতিক সুবিধা ও বাজারে প্রবেশাধিকার
সার্বভৌম ঋণ নেওয়ার তাৎক্ষণিক ক্ষেত্রের বাইরেও পারস্পরিক এই ব্যবস্থা দুই দেশের জন্য বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনে। ইন্দোনেশিয়ার জন্য চীনের কম সুদের পরিবেশে প্রবেশাধিকার গুরুত্বপূর্ণ রাজস্বসংক্রান্ত সুযোগ তৈরি করে। সরকার ৯,৬৩৭.৯০ ট্রিলিয়ন রুপিয়ার ঋণ পোর্টফোলিও সামলাচ্ছে, যার ঋণ-জিডিপি অনুপাত ৪০.৪৬ শতাংশ। এ অনুপাত আর্থিকভাবে টেকসই বলে সাধারণভাবে বিবেচিত ৬০ শতাংশ সীমার নিচে থাকলেও, ঋণমান বজায় রেখে বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাবার উদ্যোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচিতে অর্থায়নের চাপ সরকারের ওপর রয়েছে।
চীন তার দীর্ঘমেয়াদি রেনমিনবি আন্তর্জাতিকীকরণের লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার বড় অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়ভান্ডার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পাবে। জরুরি তারল্য সরবরাহেই সীমিত থাকা মুদ্রা বিনিময়ব্যবস্থার বিপরীতে, পারস্পরিক বন্ড বাজার দীর্ঘস্থায়ী দ্বিমুখী সম্পদ-সম্পর্ক তৈরি করে। চীনা সরকারি বন্ড কেনা ইন্দোনেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কাঠামোগতভাবে ইউয়ান সম্পদের ধারক হবে। ফলে ঝুঁকি হেজ করার উপকরণ ও কাস্টোডি সেবার স্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হবে এবং শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে আরও গভীর রেনমিনবি বন্ড ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের লেনদেন খরচও কমবে এ চুক্তিতে, কারণ ইন্দোনেশীয় করপোরেশনগুলো রুপিয়া-ইউয়ান নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় জামানত হিসেবে চীনা সরকারি বন্ড ব্যবহার করতে পারবে। এই প্রাতিষ্ঠানিক উন্মুক্ততা চীনকে এমন একটি বিকল্প এশীয় আর্থিক কাঠামো গড়ার লক্ষ্যের আরও কাছে নিয়ে যায়, যা নিউইয়র্ক ও লন্ডনের আধিপত্যে থাকা ডলারভিত্তিক ব্যবস্থার পাশাপাশি এবং সম্ভাব্যভাবে তা থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ
কৌশলগত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও, এই ব্যবস্থায় নতুন জটিলতা ও সম্ভাব্য দুর্বলতা তৈরি হচ্ছে। চীনা ঋণের আন্তর্জাতিকীকরণ বাড়লে দেশটির স্থানীয় সরকারি ঋণবাজারের স্বচ্ছতা, ছায়া ব্যাংকিংয়ের ঝুঁকি এবং আবাসন খাতের চলমান দুর্বলতা নিয়ে যাচাই-বাছাই বাড়বে। চীনের প্রাদেশিক বন্ড বাজারে খেলাপি হওয়া বা জোরপূর্বক পুনর্গঠন হলে বর্তমানে চীনা সার্বভৌম বন্ডকে দেওয়া নিরাপদ বিনিয়োগের মর্যাদা দ্রুত হারিয়ে যেতে পারে, যার ফলে আঞ্চলিক বিনিয়োগকারীরা পুঁজি সরিয়ে নিতে পারেন।
এ ছাড়া, চীনা বাজারে ইস্যু করা ইন্দোনেশীয় সার্বভৌম বন্ডের প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে চীন। এসব বন্ডে অভ্যন্তরীণ বিকল্পের তুলনায় বেশি সুদ দেওয়া হতে পারে, যা স্থানীয় সরকারি প্রকল্প থেকে চীনা সঞ্চয়কে সরিয়ে নিতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার জন্য রেনমিনবিতে ঋণ নেওয়ার সময় মুদ্রার অমিলজনিত ঝুঁকি সামলানো জরুরি, কারণ কর রাজস্বের প্রধান উৎস রুপিয়া। ইউয়ানের বিপরীতে ইন্দোনেশীয় মুদ্রার বিনিময় হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে, বিনিময় হারের অস্থিরতায় কম সুদের সুবিধা ম্লান হয়ে যেতে পারে।
অর্থায়নের বিকল্প বাড়লেও ইন্দোনেশিয়া বিচক্ষণ ঋণ ব্যবস্থাপনার মান বজায় রাখে কি না, বাজার অংশগ্রহণকারীরা তা পর্যবেক্ষণ করবেন। সাম্প্রতিক বিদেশ সফর থেকে সরকার ৯০ ট্রিলিয়ন রুপিয়ার বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। তবে ঋণের নামমাত্র পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সুদের পরিবেশ অপ্রত্যাশিতভাবে বদলে গেলে সুদ বাবদ ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা থেকে রাজস্বসংক্রান্ত সুযোগ সুরক্ষিত রাখতে হবে। মধ্যমেয়াদে টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণমান বজায় রাখতে ধারাবাহিক শৃঙ্খলা জরুরি।
মূল বিষয়গুলো
- আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে আলোচিত পারস্পরিক চুক্তির আওতায় প্রথমবারের মতো ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে ইউয়ান-নির্ধারিত সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করতে পারবে চীন
- চুক্তির ফলে চীনে পান্ডা বন্ড ইস্যু করতে পারবে ইন্দোনেশিয়া; প্রায় ২.৩ শতাংশ সুদহারে ঋণ নিয়ে জাতীয় ঋণ ব্যয় কমানো ও অর্থায়নের উৎস বহুমুখী করার সুযোগ পাবে দেশটি
- ওয়াশিংটনে সাম্প্রতিক আলোচনায় মার্কিন বন্ড বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে দরপত্র বাড়াতে চীনা অর্থায়নের বিকল্পকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া
- এ ব্যবস্থায় এশিয়ার বৃহত্তম ঋণবাজারগুলোর মধ্যে আর্থিক সংহতি গভীর হবে; একই সঙ্গে চীনের রেনমিনবি আন্তর্জাতিকীকরণের উদ্যোগ এগোবে এবং ডলারের আধিপত্যের বিকল্প তৈরি হবে
- বিশ্লেষকদের মতে, অন্য আসিয়ান দেশগুলোর জন্য এ চুক্তি একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে। এতে দ্বিমেরুকেন্দ্রিক নিরাপদ সম্পদের পরিসর গড়ে উঠতে পারে এবং মার্কিন ট্রেজারির ওপর আঞ্চলিক নির্ভরতা কমতে পারে
- হংকংয়ে ডিম সাম বন্ড ইস্যু করে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ৬ বিলিয়ন ইউয়ান সংগ্রহের পর, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম পান্ডা বন্ড বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে ইন্দোনেশিয়া






