বহুজাতিক করব্যবস্থায় শুরু হচ্ছে নতুন যুগ
ঐতিহাসিক বৈশ্বিক ন্যূনতম করপদ্ধতির আওতায় প্রথম দফার রিটার্ন গ্রহণ করতে আগামী মাসে দরজা খুলবে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় কর দপ্তর (এনটিএস)। এর মধ্য দিয়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে কর দিতে হবে, তাতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হবে। ১ মে থেকে কোরিয়ায় কার্যরত ২,৫০০টির বেশি বহুজাতিক গোষ্ঠীর ১০,০০০-এরও বেশি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানকে জটিল নথিপত্র জমা দেওয়া শুরু করতে হবে, যাতে নিশ্চিত হয় যে তারা বৈশ্বিক আয়ের ওপর অন্তত ১৫ শতাংশ কর দিচ্ছে।
সূচিপত্র
২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চলা এই ফাইলিং সময়সীমা ২০২৪ অর্থবছরের জন্য প্রথম কমপ্লায়েন্স ডেডলাইন। দক্ষিণ কোরিয়া ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এ-সংক্রান্ত বিধি প্রণয়ন করে। যোগ্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রায় সব বড় দেশীয় গোষ্ঠীর পাশাপাশি গুগল ও অ্যাপলের মতো বিদেশি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তাদের এখন এমন এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যেখানে কর ফাঁকির আশ্রয় ও মুনাফা স্থানান্তরের কৌশলগুলো পদ্ধতিগতভাবে বন্ধ করা হবে। কোনো কোম্পানির চূড়ান্ত মূল প্রতিষ্ঠান সিউল, সিলিকন ভ্যালি বা অন্য কোনো বিচারব্যবস্থায় থাকুক না কেন, এই পদ্ধতি তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
এই উদ্যোগটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) করভিত্তি ক্ষয় ও মুনাফা স্থানান্তর ২.০-এর পিলার টু কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ক্ষতিকর কর প্রতিযোগিতা ঠেকাতে ১৪৩টি দেশ এই কাঠামো অনুমোদন করেছে। এ ব্যবস্থায়, কোনো স্বল্প-করভিত্তিক বিচারব্যবস্থায় থাকা অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ১৫ শতাংশের কম কার্যকর করহার দিলে, ঘাটতি কর সেই প্রতিষ্ঠানের অবস্থানেই অথবা মূল কোম্পানির নিজ দেশে পরিশোধ করতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়া প্রথম বিচারব্যবস্থা হিসেবে এই বিধিগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করেছে। এর ফলে করপোরেট করের সীমানা নতুন করে নির্ধারণকারী বৈশ্বিক আন্দোলনের অগ্রভাগে রয়েছে সিউল।
এই উদ্যোগের ব্যাপ্তি উল্লেখযোগ্য। এনটিএস ২,৫৪৭টি স্বতন্ত্র বহুজাতিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ১০,১৮৮টি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে ফাইলিং নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের প্রথম গ্লোবই তথ্য রিটার্ন পূরণ করতে হবে এবং প্রযোজ্য অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, অলাভজনক গোষ্ঠী ও পেনশন তহবিল এ বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবে। তবে অন্য প্রায় সব বড় করপোরেট কাঠামোই এর আওতায় পড়বে।
বৈশ্বিক ন্যূনতম করব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে
বৈশ্বিক ন্যূনতম করব্যবস্থা দুটি পরস্পরসংযুক্ত পদ্ধতিতে কাজ করে: আয় অন্তর্ভুক্তি বিধি (আইআইআর) এবং অপর্যাপ্ত করযুক্ত মুনাফা বিধি (ইউটিপিআর)। এসব কারিগরি বিধানই গ্লোবই বিধিমালার ভিত্তি, যার পূর্ণরূপ গ্লোবাল অ্যান্টি-বেস ইরোশন। সাধারণ ব্যবসায়িক পর্যবেক্ষকের কাছে এ বিধিগুলোর অর্থ হলো, কার্যকর করহার একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নামলে অতিরিক্ত কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে।
আইআইআর অনুযায়ী, কোনো কোরীয় চূড়ান্ত মূল প্রতিষ্ঠানকে সেইসব বিচারব্যবস্থায় অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্জিত মুনাফার ওপর অতিরিক্ত কর দিতে হবে, যেখানে কার্যকর করহার ১৫ শতাংশের কম। মূল কোম্পানির নিজ দেশে আইআইআর কার্যকর না থাকলে করপোরেট কাঠামোর মধ্যবর্তী মূল প্রতিষ্ঠান বা আংশিক মালিকানাধীন মূল প্রতিষ্ঠানের ওপর এ দায়িত্ব বর্তাবে। ইউটিপিআর হলো সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা। মূল প্রতিষ্ঠানের বিচারব্যবস্থা আইআইআর কার্যকর না করলে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি যেসব দেশে কাজ করে, সেসব দেশকে অতিরিক্ত কর আদায়ের সুযোগ দেয় এটি।
একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ বিবেচনা করা যাক: একটি কোরীয় গোষ্ঠী ‘ক’ দেশে একটি অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে, যেখানে ১০ বিলিয়ন ওন আয়ের ওপর তারা কোনো কর দেয় না। ‘খ’ দেশে তাদের একটি শাখা রয়েছে, যেখানে ২০ বিলিয়ন ওন আয়ের ওপর ১ বিলিয়ন ওন (৫ শতাংশ) কর দিতে হয়। নতুন বিধি অনুযায়ী, কোম্পানিটিকে কোরিয়ার এনটিএসকে মোট ৩.৫ বিলিয়ন ওন অতিরিক্ত কর দিতে হবে। এর মধ্যে ‘ক’ দেশের জন্য ১.৫ বিলিয়ন ওন (১০ বিলিয়নের ১৫ শতাংশ) এবং ‘খ’ দেশের জন্য ২ বিলিয়ন ওন (২০ বিলিয়ন ওন আয়ের ওপর ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর) অন্তর্ভুক্ত।
দক্ষিণ কোরিয়ার ফাইলিং বাধ্যবাধকতার আওতা
এনটিএস প্রায় ২,৫৪৭টি বহুজাতিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কোরিয়ায় অবস্থিত ১০,১৮৮টি প্রতিষ্ঠানকে এই বাধ্যবাধকতার আওতায় চিহ্নিত করেছে। অন্তর্ভুক্তির সীমা নির্ধারিত হয় সম্মিলিত আয়ের ভিত্তিতে: আগের চার অর্থবছরের অন্তত দুটিতে গোষ্ঠীগুলোর বার্ষিক আয় কমপক্ষে ৭৫০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন থেকে ১.৩ ট্রিলিয়ন কোরীয় ওন) হতে হবে। বর্তমানে চলমান ২০২৪ অর্থবছরের ফাইলিংয়ের জন্য কর্তৃপক্ষ ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আয়ের হিসাব পরীক্ষা করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চূড়ান্ত মূল কোম্পানির সদর দপ্তর কোথায়, তার ওপর দক্ষিণ কোরিয়ায় ফাইলিংয়ের বাধ্যবাধকতা নির্ভর করে না। মূল কোম্পানি এমন কোনো বিচারব্যবস্থায় থাকলেও, যেখানে বৈশ্বিক ন্যূনতম করবিধি কার্যকর হয়নি, তার কোরীয় অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনটিএসের কাছে রিটার্ন দাখিল করতেই হবে। অন্যদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, অলাভজনক সংস্থা এবং পেনশন তহবিল এ ব্যবস্থার আওতা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি পাবে।
প্রথমবারের এই ফাইলিং সময়ে বিদেশি বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। জটিল বিচারব্যবস্থাভিত্তিক হিসাব করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তার জন্য এনটিএস ইংরেজি ও কোরীয় ভাষায় বিস্তারিত নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের বৈশ্বিক ন্যূনতম কর ফাইলিং নির্দেশিকা। প্রক্রিয়াগত মৌলিক বিষয় ও মাঠপর্যায়ের উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতে ৮ মে কোম্পানি ও কর প্রতিনিধিদের জন্য একটি বিশেষ ব্রিফিং সেশনের আয়োজন করা হয়েছে।
২০২৫ সালের কারিগরি সংশোধনী ও সেফ হারবার
আইনগত কাঠামোর সাম্প্রতিক পরিমার্জনে জটিলতার পাশাপাশি কিছু ছাড়ও যুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রণীত আইন নং ২০৬১২-তে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে শুরু হওয়া অর্থবছরের জন্য কার্যকর কয়েকটি সংশোধনী আনা হয়েছে, যা কোম্পানির করদায় হিসাবের পদ্ধতিকে প্রভাবিত করবে।
উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে, ৬৭(৪) অনুচ্ছেদে লোকসানের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা। মোট স্থগিত কর সমন্বয় হিসাব করার পরিবর্তে, প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিচারব্যবসভিত্তিক হিসাবে গ্লোবই লোকসানের ১৫ শতাংশকে স্থগিত কর সম্পদ হিসেবে প্রয়োগ করতে পারবে। প্রথম অর্থবছরে এ বিকল্প বেছে নেওয়া হলে, পরবর্তী বছরগুলোতেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর থাকবে। এ ছাড়া, ৮০ অনুচ্ছেদে একটি অন্তর্বর্তী ইউটিপিআর সেফ হারবার চালু হয়েছে। চূড়ান্ত মূল প্রতিষ্ঠানের বিচারব্যবস্থায় করপোরেট আয়করহার অন্তত ২০ শতাংশ হলে ইউটিপিআর-এ অতিরিক্ত করের পরিমাণ শূন্য বলে গণ্য হবে। এই সেফ হারবার কেবল ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে শুরু এবং ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে শেষ হওয়া অর্থবছরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সংশোধনীগুলোতে ইউটিপিআর-এ অতিরিক্ত কর বণ্টনের পদ্ধতি স্পষ্ট করা হয়েছে এবং ফাইলিংয়ের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। ৮৩ অনুচ্ছেদে এখন বলা হয়েছে, গ্লোবই তথ্য রিটার্ন দাখিলের নিয়মিত তারিখ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের আগে হলে, সময়সীমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই তারিখ পর্যন্ত বাড়বে। এই বিধানগুলোতে ওইসিডির চলমান প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রতিফলিত হয়েছে; এর মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের হালনাগাদ, যা দক্ষিণ কোরিয়া ধাপে ধাপে দেশের আইনে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
তথ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ
আইনগত কাঠামোর আড়ালে রয়েছে বড় ধরনের পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ। এখন কর বিভাগগুলোকে নজিরবিহীন বিশদে একাধিক বিচারব্যবস্থা ও হিসাবমান অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং প্রতিবেদন করতে হবে। গ্লোবই তথ্য রিটার্নে সাংগঠনিক কাঠামো, শেয়ারভিত্তিক পারিশ্রমিক, পেনশন ব্যয় এবং পুরো বহুজাতিক গোষ্ঠীজুড়ে প্রযোজ্য নানা নির্বাচনের বিবরণ দিতে হবে।
আর্থিক হিসাবমান (যার ভিত্তিতে গ্লোবই আয় নির্ধারিত হয়) এবং কর হিসাবের (যার ভিত্তিতে আওতাভুক্ত কর নির্ধারিত হয়) পার্থক্য মেলাতে হয় বলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিদেশি কর ক্রেডিট ব্যবস্থা, সাবপার্ট এফ আয় এবং গ্লোবাল ইনট্যানজিবল লো-ট্যাক্সড ইনকাম (জিআইএলটিআই) ব্যবস্থার সঙ্গে হিসাব সমন্বয় করতে হয়। তথ্য হতে হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ, আর তা হাতে পেতে হবে সীমিত সময়ের মধ্যে, যাতে ত্রৈমাসিক কর হিসাবের সময়সূচির সঙ্গে মিল থাকে।
কর বিশেষজ্ঞরা ক্রমেই বিভিন্ন ইআরপি ব্যবস্থা, স্প্রেডশিট ও ইমেইল রেকর্ডের তথ্য এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত করে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন। স্বয়ংক্রিয় কর্মপ্রবাহ ও বিশেষায়িত হিসাবব্যবস্থা ছাড়া কমপ্লায়েন্সের চাপ এমনকি দক্ষ কর বিভাগগুলোকেও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যতিক্রম
দক্ষিণ কোরিয়ার কঠোর বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে প্রভাবিত করা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পার্থক্য রয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে কানাডার ব্যানফে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীরা এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছান, যার ফলে অন্য দেশগুলোর মাধ্যমে পিলার টু কার্যকরের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক করপোরেশনগুলো কার্যত অব্যাহতি পায়। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের আংশিক মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে প্রস্তাবিত প্রতিশোধমূলক করের বিধান বাদ দেওয়ার চুক্তির অংশ হিসেবে আসে। প্রস্তাবিত ওই বিধানে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করা বিদেশি কোম্পানিগুলোকে শাস্তি দেওয়ার কথা ছিল।
এই অব্যাহতির ফলে কোরীয় ও ইউরোপীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণাঙ্গ কমপ্লায়েন্সের মুখে পড়লেও, তাদের মার্কিন প্রতিযোগীরা বাস্তবভিত্তিক আয় অব্যাহতি এবং অন্যান্য ফাঁকফোকরের মাধ্যমে ১৫ শতাংশ ন্যূনতম কর এড়াতে পারে। এ বৈষম্যে দ্বিস্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যেখানে করপোরেট সদর দপ্তরের অবস্থান অনুযায়ী কমপ্লায়েন্সের বাধ্যবাধকতা উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। এদিকে, প্রতিবেশী ভিয়েতনামও ২৩৬ নম্বর ডিক্রি বাস্তবায়ন করেছে, যা ২০২৪ অর্থবছর থেকে পূর্বপ্রযোজ্য। ফলে এশিয়াজুড়ে সামান্য ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবায়নের এক খণ্ডিত চিত্র তৈরি হয়েছে।
করস্বর্গের সুবিধার অবসান
বৈশ্বিক ন্যূনতম কর প্রচলিত স্বল্প-করভিত্তিক বিচারব্যবস্থার হিসাব-নিকাশ মৌলিকভাবে বদলে দিচ্ছে। কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ, বারমুডা এবং এ ধরনের অন্য করস্বর্গ, যেখানে একসময় কার্যকর করহার প্রায় শূন্য ছিল, সংস্কার না করলে এখন অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ওইসিডির তথ্য অনুযায়ী, এসব বিনিয়োগকেন্দ্রিক দেশ আগে মাত্র ১.৬ শতাংশ কার্যকর করহার দিত, অথচ সেখানে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ১৫০ শতাংশেরও বেশি ছিল।
এর জবাবে সাবেক করস্বর্গগুলো করহার বাড়াচ্ছে। আয়ারল্যান্ড করপোরেট করহার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে, আর বারমুডা করপোরেট কর চালু করেছে। সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য আর্থিক কেন্দ্রও একই পথে এগোচ্ছে। ক্যারিবীয় অঞ্চলের কাগুজে প্রতিষ্ঠানে অমূর্ত সম্পদ সরিয়ে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আইনসম্মতভাবে কোটি কোটি ডলারের কর এড়ানোর যুগ শেষ হতে চলেছে। ব্রিটিশ সাংবাদিক নিকোলাস শ্যাক্সন তাঁর ‘ট্রেজার আইল্যান্ডস’ বইয়ে যেমন উল্লেখ করেছেন, এসব বিচারব্যবস্থা আগে কোম্পানিগুলোকে অন্য দেশের আইন এড়াতে সহায়তা করত; এখন বিশ্বজুড়েই সেই ফাঁকফোকর বন্ধের উদ্যোগ চলছে।
কমপ্লায়েন্স সহায়তা ও প্রয়োগ
মসৃণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এনটিএস ব্যাপক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এই পরিবর্তনের সময় করদাতাদের সহায়তায় তাদের অঙ্গীকারের কথা জানায়।
নতুন আন্তর্জাতিক করব্যবস্থার সূচনা করা বৈশ্বিক ন্যূনতম করপদ্ধতিটি যেন মসৃণভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য সহায়তা করা হবে এবং কোম্পানিগুলোকে কমপ্লায়েন্সে আমরা সক্রিয়ভাবে সাহায্য করব।
এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে মার্চ ও এপ্রিলে দেওয়া প্রাক-ফাইলিং সহায়তা, বিষয়ভিত্তিক চেকলিস্ট এবং বিভিন্ন ধরনের করদাতার জন্য উপযোগী সম্পদ। মিথ্যা রিটার্ন দাখিল বা গ্লোবই তথ্য রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা ১০০ মিলিয়ন কোরীয় ওনে পৌঁছাতে পারে। তবে পরিবর্তনকালীন সময়ে এনটিএস নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছে; কোম্পানিগুলো হিসাবের পদ্ধতি সম্পূর্ণ প্রকাশ করলে জরিমানা মওকুফ হতে পারে। অতিরিক্ত কর অপর্যাপ্ত পরিশোধ করলে বিলম্ব ফি প্রযোজ্য হবে, তবে প্রাথমিক বাস্তবায়ন পর্যায়ে তা ৫০ শতাংশ কমানো হবে।
মূল কথা
- দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈশ্বিক ন্যূনতম করের প্রথম ফাইলিং সময় শুরু হবে ১ মে ২০২৬। ২০২৪ অর্থবছরের রিটার্ন জমার শেষ তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- কোরিয়ায় কার্যরত ২,৫৪৭টি বহুজাতিক গোষ্ঠীর ১০,০০০-এর বেশি প্রতিষ্ঠান এ ব্যবস্থার আওতায় পড়বে। এর মধ্যে বড় দেশীয় গোষ্ঠী ও বিদেশি অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
- আগের চার বছরের অন্তত দুটিতে সম্মিলিত আয় ৭৫০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি হলে, কোম্পানিগুলোকে বিশ্বব্যাপী অন্তত ১৫ শতাংশ কার্যকর করহার নিশ্চিত করতে হবে।
- স্বল্প-করভিত্তিক বিচারব্যবস্থায় ঘোষিত মুনাফার ওপর অতিরিক্ত কর আদায়ে এ ব্যবস্থায় আয় অন্তর্ভুক্তি বিধি ও অপর্যাপ্ত করযুক্ত মুনাফা বিধি ব্যবহার করা হয়।
- ২০২৫ সালের সংশোধনীতে লোকসানের বিশেষ হিসাব, অন্তর্বর্তী সেফ হারবার এবং ফাইলিংয়ের সময়সীমা ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানোর বিধান রয়েছে।
- দক্ষিণ কোরিয়া কঠোর কমপ্লায়েন্স মান বজায় রাখলেও, সাম্প্রতিক জি৭ সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে পিলার টু কার্যকর করার ক্ষেত্রে অব্যাহতি ভোগ করছে।
- ১৫ শতাংশ ন্যূনতম কর বৈশ্বিক মানদণ্ড হয়ে ওঠায় প্রচলিত করস্বর্গগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বিলুপ্তির মুখে।






