গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের অপরিহার্যতা যখন জাতীয় বোঝা
১৯৯৯ সালে আধুনিক সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি লি কুয়ান ইউ নগররাষ্ট্রটির দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থানের একটি সহজ ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমেই আমি সরকারি কর্মচারীরা যে ভবনগুলোতে কাজ করতেন, সেগুলোতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করি।” তাঁর সেই বিখ্যাত মন্তব্য, “জনসেবার দক্ষতার জন্য এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” লি মনে করতেন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ “গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে”, কারণ এতে বাইরে বিষুবীয় অঞ্চলের তাপ থাকা সত্ত্বেও ঘরের ভেতরে উৎপাদনশীলভাবে কাজ করা সম্ভব হয়েছে। এক শতাব্দীর এক-চতুর্থাংশ পরে, সিঙ্গাপুরের উৎপাদনশীলতার সেই ভিত্তিই দুর্বলতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করায় নগররাষ্ট্রটি সরকারি কর্মচারীদের অফিসের থার্মোস্ট্যাট ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৭৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বা তার বেশি তাপমাত্রায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে—লি-র সময়ে যা ছিল অকল্পনীয়। এই নির্দেশ শুধু জ্বালানি সাশ্রয়ের পদক্ষেপ নয়। এটি এমন এক দেশের জন্য বড় ধরনের চাপ-পরীক্ষার ইঙ্গিত, যে তার অপরিশোধিত তেলের শতভাগ আমদানি করে এবং অস্থিতিশীল হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
সূচিপত্র
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সিঙ্গাপুরের বর্তমান অবস্থা আর হঠাৎ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়া ভবিষ্যতের বৈপরীত্য এশিয়ার বৃহত্তর সংকটকেই তুলে ধরে। ধনী নগররাষ্ট্রটির প্রতিবেশীদের তুলনায় আর্থিক সুরক্ষা বেশি থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর কাঠামোগত নির্ভরতা তাকে স্বাচ্ছন্দ্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে অস্বস্তিকর সমঝোতায় বাধ্য করেছে। ঠান্ডা শপিংমল থেকে বেরিয়ে ফুটপাতে শীতল বাতাস ছড়ানো পথচারী করিডরে অভ্যস্ত মানুষের জন্য এই পরিবর্তন শারীরিকের পাশাপাশি মানসিকও।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ধমনি অবরুদ্ধ
সিঙ্গাপুর কেন ঘামছে, তা বুঝতে ৬,৫০০ কিলোমিটার দূরের হরমুজ প্রণালির দিকে তাকাতে হবে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথ দিয়ে সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বড় পরিসরে হামলা শুরু করার পর থেকে প্রণালিটি কার্যত বন্ধ। ইরানের বিপ্লবী গার্ড ঘোষণা করেছে, হামলা চলতে থাকলে তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে “এক লিটার তেলও” রপ্তানি হতে দেবে না; আর প্রণালি পেরোনোর চেষ্টা করা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে।
এই অবরোধের ফলে জ্বালানি অর্থনীতিবিদেরা ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর সরবরাহ-বিঘ্ন বলে যে সংকটকে অভিহিত করছেন, তা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত যেসব তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবাহিত হয় তার প্রায় ৮০ শতাংশ এবং এলএনজির প্রায় ৯০ শতাংশ এশিয়ার বাজারে যায়। শুধু ২০২৫ সালেই প্রণালিটি দিয়ে পাঠানো তেলের প্রায় ৮৪ শতাংশ এবং এলএনজির ৮৩ শতাংশ এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর জন্য ছিল। মার্চের শুরুতে ইরান কার্যত এই পথ অবরোধ করলে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ও শিল্পগতভাবে গতিশীল অঞ্চলের প্রধান জ্বালানি সরবরাহের পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সিঙ্গাপুরের ঝুঁকি বিশেষভাবে তীব্র। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। সদ্য প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রীয় গ্যাস ক্রেতা সিঙ্গাপুর গ্যাসকো বড় ধরনের প্রথম সংকটের মুখে পড়েছে: বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র কাতারের রাস লাফানে মার্চের মাঝামাঝি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। কেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণে তিন থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে। সিঙ্গাপুরের কৌশলগত মজুত এবং ২০২১ সালে স্থাপিত জরুরি এলএনজি অবকাঠামো থাকলেও জ্বালানিমন্ত্রী তান সি লেং সতর্ক করেছেন, বিকল্প সরবরাহের জন্য বেশি দাম দিতে হওয়ায় বিদ্যুতের শুল্ক অনিবার্যভাবে বাড়বে।
দেশকে ঠান্ডা রাখা
৮ এপ্রিল সিঙ্গাপুরের টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এমন নির্দেশনা জারি করে, যা লি কুয়ান ইউকে বিস্মিত করত। সব সরকারি স্থাপনায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে হবে এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ, আলো ও লিফট চালানোর সময় সক্রিয়ভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। সংস্থাগুলোকে এলইডি আলো ও স্মার্ট সেন্সর স্থাপনের কাজ ত্বরান্বিত করতে হবে এবং যন্ত্রপাতি বদলে সর্বোচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন মডেল ব্যবহার করতে হবে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “তাপমাত্রা এক ডিগ্রি বাড়ালে জ্বালানির প্রয়োজন প্রায় ১০ শতাংশ কমে”, আর পদক্ষেপগুলোকে জাতীয় সাশ্রয় প্রচেষ্টায় সরকারের “নেতৃত্ব দেওয়া” হিসেবে তুলে ধরেছে।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরেও এসব ব্যবস্থা বিস্তৃত। সরকারি কর্মচারীদের ফ্যান ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রেখে “ভ্যাম্পায়ার বিদ্যুৎ” (স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় থাকা যন্ত্রের বিদ্যুৎ খরচ) বন্ধ করা এবং গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব আচরণগত আহ্বানের সঙ্গে সরকার উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তাও দিয়েছে। সিঙ্গাপুর প্রায় ১ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলারের (৭৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বর্ধিত সহায়তা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে করপোরেট আয়করে বেশি ছাড়, সক্রিয় প্ল্যাটফর্মকর্মী ও ট্যাক্সিচালকদের জন্য ২০০ সিঙ্গাপুর ডলার নগদ সহায়তা এবং কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের ভাউচার দ্রুত দেওয়া। এই প্যাকেজে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে যে যাদের জীবিকা চলাচলের ওপর নির্ভরশীল, সংকট তাদেরই সবচেয়ে বেশি আঘাত করে।
প্রতিবেশী দেশগুলো যেখানে ঘরে থেকে কাজ বাধ্যতামূলক করেছে বা কর্মসপ্তাহ ছোট করেছে, সেখানে সিঙ্গাপুর স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রেখে স্বেচ্ছায় জ্বালানি সাশ্রয়ের অনুরোধ করেছে। এই পদ্ধতিতে নগররাষ্ট্রটির প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং দেশের ভেতরে জ্বালানির বিকল্পের অভাব—দুটিই প্রতিফলিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দেশীয় তেল বা গ্যাস উৎপাদন না থাকায় সিঙ্গাপুর ইন্দোনেশিয়া বা ভিয়েতনামের মতো নতুন কূপ খনন কিংবা কয়লা খনি সম্প্রসারণ করতে পারে না। এলএনজির চালানের জন্য স্পট বাজারে যে দাম চাওয়া হয় তা দিয়ে সংকট পার হওয়ার পাশাপাশি সাশ্রয়ও করতে হবে।
সংকটের মানবিক হিসাব
নীতিগত নির্দেশনা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের আড়ালে সাধারণ সিঙ্গাপুরবাসী প্রতিদিনের রুটিন নতুন করে সাজাচ্ছেন। সিএনএ টুডের ২২ থেকে ৬৯ বছর বয়সী ৫৫ জন বাসিন্দার ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৪ শতাংশ জ্বালানি সংকটের প্রতিক্রিয়ায় জীবনযাপনে পরিবর্তন এনেছেন। কারও পরিবর্তন সামান্য, যেমন কম সময় ধরে গোসল করা বা বাতি বন্ধ রাখা নিশ্চিত করা। অন্যদের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ঘরোয়া জীবনকে মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছে।
৪৮ বছর বয়সী ভাড়ায় গাড়ি চালানো চালক ললিতা দুরাইরাজুর হাইব্রিড গাড়ির প্রতি ট্যাংকে জ্বালানি খরচ ৮০ সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ১০০ ডলারের বেশি হয়েছে। যাতায়াত ও পারিবারিক খরচ সামলাতে তিনি তাঁর সাত বছর বয়সী সন্তানকে নিজের শোবার ঘরে নিয়ে এসেছেন, যাতে একাধিক ঘর ঠান্ডা না করে একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে পারেন। তিনি বলেন, “সাধারণত আমি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করি না, কিন্তু এই আবহাওয়া, ধোঁয়াশা—খুব খারাপ।” তিনি আরও বলেন, “শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ছাড়া আমাদের পক্ষে (সহ্য করা) সম্ভব হচ্ছে না, মনে হয় যেন চুলার ভেতরে বসে আছি।”
অন্য চালকদের হিসাব মেলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ৫১ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক গ্যারি হ্যারিস এখন ভাড়ার যাত্রী পাওয়ার জন্য চাঙ্গি বিমানবন্দরে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেন, কারণ শহরে ঘুরে বেড়ালে পেট্রোল নষ্ট হয়। বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে পর্যটক কম আসায় অল্প যাত্রীর জন্য চালকদের দীর্ঘ সারিতে তিনিও যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আজকাল আমার মতো বেশির ভাগ রাতের শিফটের চালক রাত ৩টার মধ্যে বাড়ি চলে যান, কারণ ঘুরে বেড়ালে পেট্রোল নষ্ট হয়।” কিছু পরিবার শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আর্দ্রতা সত্ত্বেও ফ্যান ব্যবহার করছে। আরেক ভাড়ায় গাড়ি চালক কোক্কি কুমার জানান, তাঁর চার সন্তান প্রথমবারের মতো ঠান্ডা বাতাস ছাড়া ঘুমাতে শিখছে।
সংকট পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের গতি বাড়াচ্ছে। রুথ গোই তাঁর গাড়ির মালিকানা সনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক মাস আগে পেট্রোলচালিত গাড়ি বদলে বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনেছেন। তাঁর মাসিক জ্বালানি খরচ ১২০ সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ১৬০ ডলার হয়েছিল। গাড়ি বদলের পর তিনি হিসাব করে দেখেছেন, চার্জ দেওয়ার বিদ্যুতে প্রায় ৫০ ডলার খরচ হয়। অন্যরা পুরোপুরি গাড়ি ছেড়ে দিচ্ছেন। ৩১ বছর বয়সী সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরামর্শক ভ্যালেরি খু এখন গ্রাহকদের সঙ্গে বৈঠকে গণপরিবহনে যান, যদিও তাঁর যাতায়াতের সময় ১৫ মিনিট থেকে বেড়ে ৩০ মিনিট হয়েছে। তিনি বলেন, “যাতায়াতের সময় দ্বিগুণ হলেও আমি অনেক বেশি (টাকা) সাশ্রয় করছি।” ছোটখাটো অভ্যাসেও এর প্রভাব পড়েছে। এক চালক রসিকতা করে বলেছেন, “এখন আর কপি গাও বা কপি সি খাওয়ার সামর্থ্য নেই, এখন শুধু কপি কোসোং খেতে পারি।”
একই সংকটে এশিয়ার নানা প্রতিক্রিয়া
সিঙ্গাপুরের থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়ানোর নির্দেশ আঞ্চলিক জরুরি পদক্ষেপের নেটওয়ার্কের একটি অংশমাত্র। দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব সামলাতে সরকারগুলো বিভিন্ন মাত্রায় তৎপরতা চালাচ্ছে। থাইল্যান্ড সরকারি কর্মচারীদের দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে; পাশাপাশি অফিসকর্মীদের লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ফিলিপাইন সরকারি দপ্তরে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমাতে সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।
দরিদ্র দেশগুলো আরও কঠোর বিঘ্নের মুখে পড়েছে। জ্বালানির ৯৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর বাংলাদেশ মজুতদারি ঠেকাতে বড় তেলের ডিপোতে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগেভাগে ছুটি দিয়েছে। পাকিস্তান দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ করেছে, সরকারি দপ্তরে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে এবং সরকারি গাড়ির ব্যবহার সীমিত করেছে। মিয়ানমারের জান্তা গাড়ির নম্বরপ্লেটের ভিত্তিতে জ্বালানি রেশনিং চালু করেছে; জোড় নম্বরের প্লেটযুক্ত গাড়ি শুধু মাসের জোড় তারিখে চলতে পারবে। শ্রীলঙ্কা বুধবারকে ছুটির দিন ঘোষণা করে স্থায়ী চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে এবং কিউআর কোডভিত্তিক জ্বালানি রেশনিং করেছে।
বড় অর্থনীতিগুলোও চাপ অনুভব করছে। দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় তিন দশকের মধ্যে প্রথমবার দেশের ভেতরে জ্বালানির দামের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে, আর জাপান কৌশলগত মজুত থেকে ইতিহাসের বৃহত্তম পরিমাণ ছেড়েছে, যা ৪৫ দিনের সরবরাহের সমান। বিপুল মজুত থাকা সত্ত্বেও চীন গোপনে ইরান থেকে তেলের চালান পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর রাশিয়া থেকে আমদানি বাড়িয়েছে বলে খবর রয়েছে। ভারতে সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অর্ধেকের বেশি চাপ নিজে বহন করেছে; রান্নার জ্বালানির ঘাটতির আশঙ্কায় শিল্প ব্যবহারকারীদের জন্য বরাদ্দ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সরবরাহ ঘরবাড়িতে পাঠানো হচ্ছে।
প্রতিক্রিয়ার এই ভিন্নতা মহাদেশজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তার অসমতা তুলে ধরে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো ধনী রাষ্ট্রগুলো কৌশলগত মজুত ও আর্থিক সুরক্ষা কাজে লাগিয়ে মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে পারে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশের অস্থিতিশীল বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত নেই; ফলে শিক্ষা, চলাচল ও মৌলিক জ্বালানি প্রাপ্তির মধ্যে কঠিন সমঝোতা করতে হচ্ছে। এক জ্বালানি বিশ্লেষকের ভাষায়, এই সংকট কাঠামোগত বাস্তবতা প্রকাশ করেছে: এশিয়া এখনো বিশ্বের সবচেয়ে আমদানিনির্ভর অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহে যেকোনো বিঘ্নের ঝুঁকিতে রয়েছে।
অর্থনৈতিক ধাক্কা ও ভর্তুকির চাপ
জ্বালানির বাড়তি দামের তাৎক্ষণিক কষ্ট অর্থনৈতিক বিঘ্নের প্রথম ঢেউ মাত্র। তেলের দাম চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায় ছাড়িয়ে পরে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৫ ডলারে স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এশিয়ার অর্থনীতিগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ ছড়াতে শুরু করেছে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে; অন্যদিকে জেট জ্বালানির দাম বেড়ে সিঙ্গাপুরে ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের বেশি হওয়ায় থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন খাত হুমকিতে পড়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সতর্ক করেছে, দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারে।
সরকারগুলো ভর্তুকির মাধ্যমে এই চাপ মোকাবিলা করছে, তবে তা ক্রমেই টেকসই থাকছে না। ইন্দোনেশিয়া ঈদুল ফিতর পর্যন্ত ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু ছুটিতে যাতায়াতকারী ১৪ কোটি ৩৯ লাখ মানুষকে এ সহায়তা দিলে জাতীয় বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ শতাংশের আইনগত সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডিজেলের দাম কৃত্রিমভাবে কম রাখতে থাইল্যান্ডের তেল তহবিল প্রতিদিন কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করছে। ভারতও একই ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে। এক গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন, “বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে চাহিদার ব্যাপকতার কারণে ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে কত দিন দাম বেঁধে রাখা যাবে, তার সীমা আছে।”
সংকট পরিবহন জ্বালানির বাইরেও ছড়িয়েছে। সার উৎপাদনে এশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল; সরবরাহে বিঘ্ন পুরো মহাদেশের কৃষি উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলছে। বিশ্বের মোট হিলিয়ামের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহকারী কাতার মার্চের হামলার পর রাস লাফান কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ করেছে। সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে অপরিহার্য এই সরবরাহ হারানোয় তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ইলেকট্রনিকস সরবরাহব্যবস্থা হুমকিতে পড়েছে; এসব দেশে সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং থেকে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি আয় আসে। উৎপাদন কমার পাশাপাশি দাম বাড়ার সম্ভাবনা, অর্থাৎ স্থবিরতাস্ফীতির আশঙ্কা, পুরো অঞ্চলেই বড় হয়ে উঠছে।
নেতৃত্বের ওপর নজরদারি
কর্তৃপক্ষ যখন সাশ্রয়ের আহ্বান জানাচ্ছে, তখন অভিজাত শ্রেণির লোকেরা নিজেরা সেই নির্দেশ মানছেন কি না—এ নিয়ে জনসন্দেহ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। উপপ্রধানমন্ত্রী গ্যান কিম ইয়ং যখন পরিবারগুলোকে শীতাতপনিয়ন্ত্রণের বদলে ফ্যান ব্যবহার এবং গণপরিবহনে চলাচলের পরামর্শ দেন, তখন সংসদ সদস্যরা নিজেরাই সেই পরামর্শ মেনে চলবেন কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নের ঝড় ওঠে। রেডিটের এক ব্যবহারকারী লেখেন, “ভোটারদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হতে চান? মন্ত্রীদের ব্যস্ত সময়ে নিয়মিত গণপরিবহন ব্যবহার করতে দিন।” অন্যরা নির্দিষ্ট প্রশ্ন তুলেছেন: এক মন্তব্যকারী জানতে চান, “সংসদে কি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ বন্ধ থাকবে?” আরেকজন জবাব দেন, “আগে সংসদে ফ্যান ব্যবহার হোক, তারপর আমিও করব।”
এই বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতি দেখায়, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ে আগে থেকেই চাপে থাকা মানুষের কাছে ত্যাগ স্বীকারের আহ্বান জানানো কতটা কঠিন। প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং জোর দিয়ে বলেছেন, সিঙ্গাপুরের জ্বালানি সক্ষমতার জন্য “সম্মিলিত প্রচেষ্টা” প্রয়োজন। কিন্তু শীতাতপনিয়ন্ত্রিত দপ্তরে থাকা মন্ত্রীদের সঙ্গে জ্বালানি বাঁচাতে গাড়িতে ঘুমানো ট্যাক্সিচালকদের দৃশ্যমান বৈপরীত্য স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা তৈরি করছে। সমন্বয়মন্ত্রী কে. শানমুগাম স্বীকার করেছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে “দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না”—যা ইঙ্গিত করে, সামনে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বর্তমান পদক্ষেপ সংকটের মাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। ঢাকা বা করাচিতে দেখা স্কুল বন্ধ ও জ্বালানি রেশনিং এড়াতে পারলেও, উপপ্রধানমন্ত্রী গ্যান যাকে “১৯৭৩ সালের তেল অবরোধের পর সবচেয়ে বড় বিঘ্ন” বলেছেন, তার জন্য তুলনামূলকভাবে মৃদু ২৫ ডিগ্রির নির্দেশ ও স্বেচ্ছামূলক সাশ্রয়ের আহ্বান যথেষ্ট কি না—কিছু নাগরিক তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। লি কুয়ান ইউর শীতাতপনিয়ন্ত্রণ বিপ্লবের স্মৃতি সব সময় তুলনার মানদণ্ড হয়ে আছে; তা পরোক্ষভাবে প্রশ্ন তোলে, বর্তমান নেতৃত্ব আধুনিক নগররাষ্ট্র গড়ে তোলা অভিযোজনক্ষম উদ্ভাবনী শক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে কি না।
জ্বালানি নিরাপত্তার নতুন ভাবনা
সংকট দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করায় এশিয়ার নীতিনির্ধারকেরা বুঝতে পারছেন, স্বল্পমেয়াদি সাশ্রয়ে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত দুর্বলতার সমাধান হবে না। এই অবরোধে একটিমাত্র সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর অঞ্চলের ব্যাপক নির্ভরতা নতুন করে পর্যালোচনা করতে হচ্ছে। এলএনজি সংগ্রহে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও একাধিক সরবরাহকারী যুক্ত করে উৎস বহুমুখী করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুর গ্যাসকো প্রতিষ্ঠা করেছিল; এখন প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বড় পরীক্ষার সময়।
তাৎক্ষণিক প্রলোভন হলো জ্বালানিতে জাতীয়তাবাদী নীতি এবং কার্বননির্ভর জ্বালানিতে ফিরে যাওয়া। থাইল্যান্ড বন্ধ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আবার চালু করেছে; দক্ষিণ কোরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহার ৮০ শতাংশে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এসব পদক্ষেপ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা আরও পাকাপোক্ত করার ঝুঁকি তৈরি করছে, ঠিক যখন বৈশ্বিক জলবায়ু অঙ্গীকারে বিপরীত পথে এগোনোর কথা। বিকল্প হিসেবে সংকট নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আসিয়ান পাওয়ার গ্রিডের মতো আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে। এতে শুধু আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভর না করে দেশগুলো সীমান্ত পেরিয়ে বিদ্যুৎ ভাগাভাগি করতে পারবে।
বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে, এই সংকট সৌর অবকাঠামোয় সাম্প্রতিক বিনিয়োগের যৌক্তিকতা প্রমাণ করছে। কিছু পরিবার এখন নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে গ্রিডে বিক্রি করছে; এতে অস্থির জ্বালানি বাজার থেকে তারা কার্যত সুরক্ষা পাচ্ছে। তবে নগররাষ্ট্রটির ঘনবসতির কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা সীমিত, তাই আঞ্চলিক জ্বালানি পারস্পরিক নির্ভরতা অপরিহার্য। লি কুয়ান ইউর উত্তরসূরিদের সামনে প্রশ্ন হলো, নতুন যুগের জন্য তাঁরা তাঁর অবকাঠামো উন্নয়নের দূরদৃষ্টি আবার দেখাতে পারবেন কি না—এমন এক যুগে, যখন শীতাতপনিয়ন্ত্রণ চালাতে হবে আর সবচেয়ে সস্তা তেলে নয়, বরং স্থিতিস্থাপক, বহুমুখী এবং শেষ পর্যন্ত কার্বনমুক্ত জ্বালানি ব্যবস্থায়।
ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা ইঙ্গিত দেয়, মানসিক প্রভাব শারীরিক বিঘ্নের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ১৯৭৩ সালের তেল সংকট পশ্চিমা দেশগুলোর জ্বালানি-চিন্তা স্থায়ীভাবে বদলে দিয়েছিল; এর ফলে দক্ষতার মানদণ্ড ও কৌশলগত মজুত গড়ে ওঠে, যা এখনো চালু। ২০২৬ সালের এশীয় সংকট দীর্ঘায়িত হলে নগর পরিকল্পনা থেকে শুরু করে পরিবহনের বিদ্যুতায়ন—সবকিছু একইভাবে নতুন রূপ পেতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়িতে যাতায়াত শুরু করা ট্যাক্সিচালক এবং বিদ্যুৎ বাঁচাতে একই শোবার ঘরে থাকা পরিবারগুলো তাৎক্ষণিক সমাধান খুঁজছেন, যা সিঙ্গাপুরের জীবনের স্থায়ী অংশ হয়ে উঠতে পারে। এসব পরিবর্তন সাময়িক অসুবিধা হয়ে থাকবে, নাকি নতুন জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে প্রথম পদক্ষেপ হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালি কত দিন বন্ধ থাকে এবং আবার ট্যাংকার চলতে শুরু করলে এশিয়ার নেতারা কী শিক্ষা নেন তার ওপর।
মূল কথা
- জাতীয় সাশ্রয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুর সরকারি দপ্তরগুলোকে শীতাতপনিয়ন্ত্রণের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি চালু করতে নির্দেশ দিয়েছে।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে; এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এবং এশিয়াগামী এলএনজি রপ্তানির ৮০ শতাংশ আটকে গেছে।
- নগররাষ্ট্রটি চালকদের নগদ সহায়তা ও কর ছাড়সহ প্রায় ১ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছে এবং নাগরিকদের শীতাতপনিয়ন্ত্রণের বদলে গণপরিবহন ও ফ্যান ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে।
- এশিয়াজুড়ে দেশগুলো জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে: ফিলিপাইন ও পাকিস্তানে চার দিনের কর্মসপ্তাহ, বাংলাদেশে জ্বালানি ডিপোতে সামরিক মোতায়েন এবং মিয়ানমারে জোড়-বিজোড় নম্বরের ভিত্তিতে গাড়ি চলাচলে রেশনিং চালু হয়েছে।
- জ্বালানি বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভারতের বর্তমান ভর্তুকি কর্মসূচি স্বল্পমেয়াদের বেশি টেকসই নয়; সংঘাত চলতে থাকলে বাজেট ঘাটতি ও সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি রয়েছে।
- সংকটের পরোক্ষ প্রভাবের মধ্যে রয়েছে কৃষিতে প্রভাব ফেলা সারের ঘাটতি, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে হিলিয়াম সরবরাহে বিঘ্ন এবং জলবায়ু অঙ্গীকার সত্ত্বেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা।
- নাগরিকদের যে সাশ্রয়ের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, রাজনৈতিক নেতারা নিজেরা তা মানবেন কি না—এ নিয়ে জনসন্দেহ তৈরি হয়েছে।
- দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড এবং মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন হতে পারে।






