জুলাইয়ে চালুর উচ্চাভিলাষী সময়সীমা
বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী বায়োডিজেল কর্মসূচি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন করবে ইন্দোনেশিয়া। দ্বীপপুঞ্জজুড়ে বিক্রি হওয়া ডিজেল জ্বালানিতে ৫০ শতাংশ পাম তেলভিত্তিক জৈব জ্বালানি মেশানো বাধ্যতামূলক হবে। মঙ্গলবার দ্রুত এগিয়ে আনা সময়সূচি ঘোষণা করে অর্থনৈতিক বিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী এয়ারলাঙ্গা হার্তার্তো জানান, চলতি বছরের শুরুর দিকে উত্থাপিত কারিগরি উদ্বেগ সত্ত্বেও মিশ্রণ কার্যক্রম পরিচালনায় রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি পেরতামিনা প্রস্তুত রয়েছে।
সূচিপত্র
সরকারের ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তটির পেছনের অর্থনৈতিক যুক্তি তুলে ধরেন এয়ারলাঙ্গা।
সরকার ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে B50 বাস্তবায়ন করবে এবং পেরতামিনা মিশ্রণ কার্যক্রম চালাতে প্রস্তুত। এতে বছরে ৪০ লাখ কিলোলিটার জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমতে পারে।
B50 বাধ্যবাধকতা ২০২৫ সালের শুরুর দিক থেকে চালু থাকা বর্তমান B40 মানের তুলনায় বড় ধরনের বৃদ্ধি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ নীতিতে বছরে প্রায় ৪০ লাখ কিলোলিটার জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমবে। পাশাপাশি, শুধু কার্যক্রমের প্রথম ছয় মাসেই আনুমানিক ৪৮ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ বা প্রায় ২৮০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির জন্য এটি বড় নীতিগত পরিবর্তন। উৎপাদন সক্ষমতা ও অর্থায়নের ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগে মাত্র তিন মাস আগেই B50 প্রস্তাব স্থগিত করা হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত বাড়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সময়েই এ সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এল। সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি অবরোধও রয়েছে। সমুদ্রপথে বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এ প্রণালি দিয়ে যায়।
এ ঘোষণার ফলে বৈশ্বিক বায়োফুয়েল ব্যবহারে শীর্ষ অবস্থানে চলে আসছে ইন্দোনেশিয়া; মিশ্রণের বাধ্যতামূলক হারে ব্রাজিল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য বড় বাজারকেও ছাড়িয়ে যাবে দেশটি। জুলাই থেকে ইন্দোনেশিয়ার ভোক্তারা এমন ডিজেল কিনবেন, যার অর্ধেক উপাদান পাম তেল থেকে তৈরি। সম্পদসমৃদ্ধ দেশটিকে জ্বালানিতে স্বনির্ভর করার প্রাবোওয়ের লক্ষ্যের দিকে এটি বড় পদক্ষেপ। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ঐতিহ্যবাহী সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়ে বিশ্ব তেলের বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার প্রতিফলন নীতিটি দ্রুত কার্যকরের সিদ্ধান্ত।
স্থগিত অবস্থা থেকে জরুরি বাস্তবায়ন
১ জুলাইয়ের সময়সীমায় পৌঁছানোর পথ মোটেও সরল ছিল না। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপমন্ত্রী ইউলিওত তানজুং জানান, কারিগরি সীমাবদ্ধতা ও বাজেটের ঘাটতির কারণে ওই বছরজুড়ে ইন্দোনেশিয়াকে B40 মিশ্রণ বজায় রাখতে হবে। তখন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ট্রেন, ভারী যন্ত্রপাতি ও শিল্পকারখানার যন্ত্রে উচ্চমাত্রার মিশ্রণ ব্যবহারের পরীক্ষা শেষ না হওয়াই আরও উচ্চাভিলাষী মান চালুর প্রধান বাধা।
তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথের আশপাশে সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ৯ মার্চের মধ্যে ইউলিওত জানান, কর্তৃপক্ষ সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দামের ওঠানামার ওপর নির্ভর করে দ্বিতীয়ার্ধে, এমনকি তার আগেও B50 বাস্তবায়ন হতে পারে। এয়ারলাঙ্গার নেতৃত্বে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত পরিচালনা কমিটি জ্বালানি নিরাপত্তায় সংঘাতের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করে।
৩০ মার্চ টোকিওতে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো নিজেই নীতিটি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের আগে এক ব্যবসায়িক ফোরামে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তায় কৌশলগত অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। আমরা বড় পরিসরে বায়োফুয়েলের দিকে এগোচ্ছি। এ বছর পাম তেল থেকে ডিজেল উৎপাদন করব, আর এখন এর অনুপাত ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করছি।
উৎপাদন সক্ষমতা ও সরবরাহের সীমাবদ্ধতা
রাজনৈতিক সমর্থন থাকলেও শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন, B50 মানের কারিগরি চাহিদা মেটানোর মতো অবকাঠামো ইন্দোনেশিয়ার বায়োডিজেল খাতে আছে কি না। ইন্দোনেশিয়ার বায়োফুয়েল উৎপাদক সমিতি (APROBI) ২০২৬ সালের বায়োডিজেল উৎপাদন কোটা নির্ধারণ করেছে ১৫.৬৪৬ মিলিয়ন কিলোলিটার, যা B40 কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালের বরাদ্দের চেয়ে মাত্র ২৯,৮০০ কিলোলিটার বেশি। এই সামান্য বৃদ্ধি উচ্চতর মিশ্রণ অনুপাতের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহে শিল্প খাতের সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
APROBI-এর মহাসচিব আর্নেস্ট গুনাওয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার স্থাপিত বায়োডিজেল উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১৯.৬ মিলিয়ন কিলোলিটার। তবে রক্ষণাবেক্ষণের কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকায় বাস্তবে উৎপাদন এই সক্ষমতার প্রায় ৮৫ শতাংশে নেমে আসে। B50 লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আরও ৪ মিলিয়ন কিলোলিটার উৎপাদন সক্ষমতা প্রয়োজন হবে। এর জন্য বড় অবকাঠামো বিনিয়োগ দরকার, যা জুলাইয়ের সময়সীমার আগে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
পাম তেলের সরবরাহের হিসাবেও সমান কঠিন সীমাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে। শিল্প খাতের হিসাব বলছে, B50 বাধ্যবাধকতা পূরণে বছরে ১৭ থেকে ১৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন অপরিশোধিত পাম তেল (CPO) কাঁচামাল লাগবে। ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল অ্যাসোসিয়েশনের (GAPKI) পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে দেশের অভ্যন্তরীণ বায়োডিজেল চাহিদা ১৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে পৌঁছাবে। এতে বর্তমান B40 চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ১.৫ থেকে ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন CPO লাগবে। এ বছর বিশ্বব্যাপী পাম তেলের উৎপাদন মাত্র ১ থেকে ১.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত চাহিদায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে টানটান হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশীয় সরবরাহ পর্যাপ্ত রাখতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় পাম তেল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক ভোজ্যতেলের বাজারে সরবরাহ আরও সংকুচিত হবে; এ বাজারে ইন্দোনেশিয়া বৃহত্তম উৎপাদক ও রপ্তানিকারক। GAPKI-এর চেয়ারম্যান এডি মার্তোনো সতর্ক করে বলেছেন, উৎপাদন স্থবির থাকায় উৎপাদনশীলতা না বাড়িয়ে শিল্প খাত নতুন বায়োডিজেল বাধ্যবাধকতা ও বিদ্যমান রপ্তানি প্রতিশ্রুতি, দুটোই পূরণ করতে পারবে না।
আমাদের উৎপাদন স্থবির। [বায়োডিজেলের মিশ্রণের হার] বাড়াতে জোর দিলে শুধু রপ্তানিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করাই একমাত্র সমাধান।
রাজস্ব সুবিধা ও ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস
সরকার B50 কর্মসূচিকে রাজস্ব সংহতি ও জ্বালানি স্বনির্ভরতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরছে। বিদ্যমান B40 বাধ্যবাধকতার আওতায় ডিজেল আমদানি কমিয়ে ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়া বৈদেশিক মুদ্রায় প্রায় ১৩০.২ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ (৭৭০ কোটি ডলার) সাশ্রয় করেছে। উন্নত মান চালু হলে এ সাশ্রয় আরও বাড়বে এবং একই সঙ্গে জ্বালানি ভর্তুকিতে বাজেটের চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া নিশ্চিত করেছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা সামলাতে জ্বালানি ভর্তুকির বরাদ্দ বাড়াতে ইন্দোনেশিয়া প্রস্তুত। তবে B50 বাধ্যবাধকতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার ওপর নির্ভরতা কমানোর একটি কাঠামোগত সমাধান। ২০২৬ সালের মধ্যে ডিজেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করার এবং এরপর ২০৩০ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে অন্যান্য জ্বালানি আমদানি কমানোর প্রাবোওয়ের বৃহত্তর নির্দেশনার সঙ্গেও এ নীতি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পেট্রোলিয়াম ডিজেলের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল বায়োডিজেলের দামের পার্থক্য মেটাতে পাম তেল রপ্তানি শুল্ক থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহার করে ইন্দোনেশিয়া। সম্প্রতি বর্ধিত বায়োডিজেল কর্মসূচির অর্থায়নে অপরিশোধিত পাম তেলের রপ্তানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২.৫ শতাংশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। B50 চালু হলেও রপ্তানি শুল্কের ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে GAPKI-এর ধারণা। পাম তেল ও গ্যাসঅয়েলের দামের ব্যবধান কমে আসায় অর্থায়নের হিসাব আরও জটিল হয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ
B50 বাধ্যবাধকতা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের বৃহত্তর পদক্ষেপের একটি অংশমাত্র। ১ এপ্রিল থেকে ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানি কেনায় কঠোর সীমা আরোপ করবে ইন্দোনেশিয়া। ব্যক্তিগত যানবাহনের ক্ষেত্রে দৈনিক কেনার সীমা হবে ৫০ লিটার। গণপরিবহনের যানবাহন এ বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া বলেছেন, দক্ষতা বাড়ানো এবং ভর্তুকি যাতে ফটকাবাজ বা বেশি পরিমাণে জ্বালানি কেনা গ্রাহকদের বদলে নির্ধারিত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই এ পদক্ষেপের লক্ষ্য।
এ ছাড়া, কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক সংস্থার সরকারি কর্মচারীদের প্রতি শুক্রবার বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। যাতায়াতে জ্বালানি খরচ কমানো এ নীতির উদ্দেশ্য। এয়ারলাঙ্গা ব্যাখ্যা করেছেন, দূর থেকে কাজের নির্দেশে প্রায় ৬.২ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ (৩৬ কোটি ৫৪ লাখ ডলার) সাশ্রয় হতে পারে এবং ডিজিটাল সরকারি কার্যক্রমে রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে। সরকারি সফর কমানোও এ নীতির অংশ। অভ্যন্তরীণ সফর ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কমানো হবে এবং সরকারি যানবাহনের ব্যবহার সীমিত করা হবে; তবে কার্যক্রম পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত যান ও বৈদ্যুতিক যানবাহন এর আওতামুক্ত থাকবে।
বাহলিল আরও বলেছেন, বায়োইথানল মিশ্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। ২০২৮ সালের মধ্যে পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল (E20) মেশানো বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে বর্তমান তেলের দামের অস্থিরতা বিবেচনায় কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, এ সময়সীমা এগিয়ে আনা হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরবরাহ বিঘ্ন দীর্ঘায়িত হলে বায়োডিজেল মিশ্রণের হার B60-এ (৬০ শতাংশ পাম তেল) উন্নীত করার সম্ভাবনাও সরকার তুলেছে।
বিশ্ববাজারে প্রভাব
বায়োফুয়েলের ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর ইন্দোনেশিয়ার সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক পণ্যবাজারে প্রভাব পড়ছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পাম তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে রেপসিড তেলের দাম বেড়েছে ৪ শতাংশ, সূর্যমুখী তেলের ৩ শতাংশ এবং সয়াবিন তেলের ১ শতাংশ। মালয়েশিয়ান পাম অয়েল কাউন্সিলের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বায়োডিজেলের অর্থনীতি উন্নত হয়েছে। ফলে উদ্ভিজ্জ তেলের বিকল্প জ্বালানি আরও প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় পাম তেলের দাম অন্যগুলোর চেয়ে বেশি বেড়েছে।
B50 বাস্তবায়িত হলে ২০২৫ সালে ৩২ মিলিয়ন মেট্রিক টন রপ্তানি করা ইন্দোনেশিয়ার পাম তেলের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বাড়ার কারণে ২০২৬ সালে রপ্তানি কমে ৩০ মিলিয়ন টনে দাঁড়াবে বলে GAPKI-এর পূর্বাভাস। বড় আমদানিকারক দেশগুলোও নিজেদের মজুত নিয়ে চাপে থাকা অবস্থায় সরবরাহের এ সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভারতের ভোজ্যতেলের মজুত ছিল ৯৯৪,২৬৩ মেট্রিক টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। চীনের মজুত ছিল ২.৭৫৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন, ৮ শতাংশ বেশি।
RHB ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা বাগান খাত নিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছেন, তবে নীতিগত পরিবর্তনে তৈরি কৌশলগত লেনদেনের সুযোগের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের মতে, B50-এর কারিগরি পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। সড়কযানের পরীক্ষা জুনে এবং রেলপথের পরীক্ষা আগস্টে হওয়ার কথা। এতে বোঝা যায়, কার্যক্রম সফলভাবে চালু করতে বাধ্যবাধকতাটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে CPO-এর দাম টনপ্রতি ৪,২৫০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত হবে। তবে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারের ওপরে থাকলে দামের পূর্বাভাস নতুন করে বিবেচনা করতে হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জুলাইয়ের সময়সীমা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ মনে করছেন, উৎপাদনের বর্তমান সীমাবদ্ধতার কারণে ইন্দোনেশিয়া পূর্ণ B50-এর বদলে B45 চালু করতে পারে। তবে সরকারের এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প দেখায়, জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে জরুরি উদ্বেগ আগের কারিগরি আপত্তিগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ইন্দোনেশিয়ায় B50 বায়োডিজেল (৫০ শতাংশ পাম তেলের মিশ্রণ) বাধ্যতামূলক হবে; বর্তমান B40 মানের পরিবর্তে এটি চালু হবে
- নীতিটির লক্ষ্য বছরে ৪০ লাখ কিলোলিটার জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং ছয় মাসে ২৮০ কোটি ডলার সাশ্রয় করা
- মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে তৈরি জ্বালানি নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে টোকিও সফরের সময় সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো
- ২০২৬ সালের উৎপাদন কোটা অপরিবর্তিত থাকায় (১৫.৬৪৬ মিলিয়ন কিলোলিটার) এবং পাম তেলের উৎপাদন স্থবির থাকায় শিল্প সংগঠনগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে
- এ বাধ্যবাধকতা পূরণে অতিরিক্ত ১.৫ থেকে ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন অপরিশোধিত পাম তেল প্রয়োজন হবে; এতে রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হতে পারে
- ১ এপ্রিল থেকে যানবাহনপ্রতি দৈনিক ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানি কেনার সীমা হবে ৫০ লিটার। জ্বালানি ব্যবহার কমাতে সরকারি কর্মচারীরা শুক্রবার বাড়ি থেকে কাজ করবেন
- কর্মসূচির ভর্তুকির চাহিদা মেটাতে পাম তেলের রপ্তানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২.৫ শতাংশ করা হয়েছে






