উদ্বৃত্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সঞ্চয়ে বিশাল জলাধার নির্মাণ করছে চীন

পড়তে 12 মিনিট
উদ্বৃত্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সঞ্চয়ে বিশাল জলাধার নির্মাণ করছে চীন

সৌরশক্তিতে মহাশক্তিধর দেশের সঞ্চয়-চ্যালেঞ্জ

২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন ঘোষণা করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে চীন বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের ১,২০০ গিগাওয়াট সক্ষমতা স্থাপন করবে, তখন লক্ষ্যটি উচ্চাভিলাষী মনে হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ছয় বছর আগেই, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে, চীন সেই মাইলফলকে পৌঁছে যায়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের সম্মিলিত সক্ষমতা ১,৮৪০ গিগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়, যা দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৪৭.৩ শতাংশ। এ সম্প্রসারণের গতি কমার কোনো লক্ষণ নেই। শুধু ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যেই চীন ১৯৮ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ও ৪৬ গিগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ সক্ষমতা যোগ করেছে। শুধু মে মাসেই দেশটি ৯৩ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ও ২৬ গিগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ সক্ষমতা স্থাপন করে। জ্বালানি বিশ্লেষক লরি মিলিভির্তা উল্লেখ করেছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী এই সংযোজন থেকে পোল্যান্ড, সুইডেন বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

সূচিপত্র
  1. সৌরশক্তিতে মহাশক্তিধর দেশের সঞ্চয়-চ্যালেঞ্জ
  2. পাম্পড স্টোরেজ যেভাবে কাজ করে: ব্যাটারি হিসেবে মাধ্যাকর্ষণ
  3. রেকর্ড গড়া প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে চিত্র
  4. ভূপ্রকৃতিতে উদ্ভাবন: পাহাড় থেকে উপকূল
  5. নির্মাণের গতি ও মান নিয়ন্ত্রণ
  6. দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা
  7. মূল বিষয়গুলো

এই বিস্ফোরক প্রবৃদ্ধি তৈরি করেছে এক অপ্রত্যাশিত সমস্যা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি মেলে সূর্যের আলো ও বাতাসের প্রবাহ থাকলে, মানুষের বিদ্যুতের প্রয়োজনের সময়ে নয়। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে দেশগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া বা উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ফেলে দেওয়ার রেকর্ড মাত্রার কথা জানিয়েছে, যখন গ্রিড অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রহণ করতে পারে না। ব্রাজিল তাদের সৌরবিদ্যুতের ২০ শতাংশ অপচয় করেছে, আর জার্মানি, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস মিলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩.৯ টেরাওয়াট-ঘণ্টা কমিয়েছে। এখন চীনের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো, শুধু আরও বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, প্রয়োজনের সময় ব্যবহারের জন্য তা সঞ্চয় করা।

২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ব্যাটারি সঞ্চয় খাত ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। তবু এই দ্রুত সম্প্রসারণও প্রয়োজনীয় মাত্রার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। রাসায়নিক ব্যাটারি স্বল্পমেয়াদি ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হলেও, কয়েক ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের জন্য বড় পরিসরে ব্যবহারে সেগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলের সীমাবদ্ধতায় পড়ে। সমাধান মিলছে পুরোনো এক প্রযুক্তিতে, যা এবার নতুন পরিসরে ব্যবহৃত হচ্ছে: পাম্পড-স্টোরেজ জলবিদ্যুৎ। এসব কেন্দ্র বিশাল ব্যাটারির মতো কাজ করে। এগুলোর কার্যকাল ৭০ থেকে ১০০ বছর, রাসায়নিক বিকল্পের তুলনায় রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম এবং বিরল মৃত্তিকা খনিজের প্রয়োজন হয় না।

বিজ্ঞাপন

পাম্পড স্টোরেজ যেভাবে কাজ করে: ব্যাটারি হিসেবে মাধ্যাকর্ষণ

পাম্পড-স্টোরেজ জলবিদ্যুতের কার্যপদ্ধতি মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। হাজার হাজার টন ওজনের পানি ওপরের জলাধারে উঁচুতে রাখা হয়, যেখানে মাধ্যাকর্ষণজনিত বিভব শক্তি হিসেবে তা সঞ্চিত থাকে। পানি ছেড়ে দিলে তা টারবাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জেনারেটর ঘোরায়, ফলে ওই বিভব শক্তি আবার বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়। নদীর প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল প্রচলিত জলবিদ্যুৎ বাঁধের বিপরীতে, পাম্পড-স্টোরেজ ব্যবস্থা একই পানি বারবার ব্যবহার করে। এতে একটি বদ্ধ চক্র তৈরি হয়, যা মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর না করেই চলতে পারে।

চাহিদা কম থাকলে বা নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন বেশি হলে, এসব কেন্দ্র উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে নিচের জলাধার থেকে পানি পাম্প করে ওপরের জলাধারে তোলে। চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠলে পানি আবার নিচে নেমে টারবাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং প্রয়োজনমতো বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। মাধ্যাকর্ষণনির্ভর এই সরল সঞ্চয়ব্যবস্থা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সঞ্চয়ের ৯০ শতাংশেরও বেশি জোগায়।

আধুনিক কেন্দ্রগুলোতে ক্রমেই পরিবর্তনশীল গতির মোটর-জেনারেটর ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট গতিতে চালানোর বদলে পানি পাম্প করার সময় বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ নমনীয়তার ফলে গ্রিড স্থিতিশীল রাখার সেবা আরও ভালোভাবে দেওয়া সম্ভব হয়। বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রহণ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন ধরে তা সরবরাহ করার ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তি বিশেষভাবে কার্যকর; তাই অনিয়মিত বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ভারসাম্য রক্ষায় এটি আদর্শ। স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয়ের বাজারে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্রাধান্য পেলেও, কয়েক ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বড় পরিসরে ব্যবহার করতে এগুলোর খরচ বেশি এবং বারবার চার্জ-ডিসচার্জে এগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

চীনের ভূপ্রকৃতি এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সুবিধা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির পাম্পড-স্টোরেজের সম্ভাবনার ৭৯ শতাংশ উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে, যেখানে পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি জলাধার নির্মাণের উপযোগী প্রাকৃতিক উচ্চতার পার্থক্য তৈরি করেছে। তবে অপেক্ষাকৃত সমতল এলাকাগুলোর জন্যও প্রকৌশলীরা উদ্ভাবনী সমাধান ব্যবহার শুরু করেছেন। এতে প্রমাণ হয়েছে, যথেষ্ট প্রকৌশলগত উদ্ভাবনী সক্ষমতা থাকলে বিভিন্ন ভূপ্রকৃতির সঙ্গে এ প্রযুক্তিকে মানিয়ে নেওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

রেকর্ড গড়া প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে চিত্র

চীন শুধু পাম্পড-স্টোরেজ কেন্দ্র নির্মাণ করছে না; এখন পর্যন্ত পরিকল্পিত বৃহত্তম ও সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী স্থাপনাগুলো গড়ে তুলছে। হেবেই প্রদেশের ফেংনিং পাম্পড-স্টোরেজ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২৪ সালের আগস্টে নির্মাণ শেষ হওয়ার পর বিশ্বের বৃহত্তম এ ধরনের কেন্দ্রের মর্যাদা পেয়েছে। চীনের স্টেট গ্রিড করপোরেশন পরিচালিত ফেংনিংয়ে রয়েছে ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১২টি উল্টোদিকে চালানো যায় এমন পাম্প-টারবাইন ইউনিট; এর মোট স্থাপিত সক্ষমতা ৩.৬ গিগাওয়াট। ২০১৩ সালের জুনে নির্মাণ শুরু হওয়া এ প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের বাথ কাউন্টি কেন্দ্রের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এখন এটি উত্তর চীনের গ্রিড স্থিতিশীল রাখার প্রধান ভিত্তি। কেন্দ্রটির দ্বিতীয় পর্যায়ে উন্নত পরিবর্তনশীল-গতির জেনারেটর ব্যবহার করা হয়েছে, যার জেনারেটর মোডে ক্ষমতা ৩৩০ এমভিএ এবং পাম্প মোডে ৩৪৫ এমভিএ। ফলে গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সির ওঠানামার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিখুঁতভাবে মেলানো যায়।

ফেংনিং সক্ষমতার দিক থেকে শীর্ষে থাকলেও, জিয়াংসু প্রদেশের ঝেনজিয়াং (জুরং) পাম্পড-স্টোরেজ বিদ্যুৎকেন্দ্র এ ধরনের কেন্দ্রের সর্বোচ্চ বাঁধের রেকর্ড গড়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে চালু হওয়া এ কেন্দ্রের ওপরের জলাধারের বাঁধটি ১৮২.৩ মিটার উঁচু, যা প্রায় ৬০ তলা ভবনের সমান এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির চেয়েও উঁচু। জিয়াংসু প্রদেশের ভূপ্রকৃতি মূলত সমতল হওয়ায় প্রকৌশলগত এ অর্জন বিশেষভাবে কঠিন ছিল। প্রকৌশলীরা বাঁধ নির্মাণে সাইট থেকে খনন করা মাটি ও পাথর ব্যবহার করে লুনশান উপত্যকায় কৃত্রিম উচ্চতার পার্থক্য তৈরি করেছেন, যেখানে প্রকৃতিতে এমন কোনো উচ্চতার পার্থক্য ছিল না।

জুরং কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ৮০০ মিটার গভীর ভূগর্ভস্থ কক্ষে স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে রয়েছে ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ছয়টি উল্টোদিকে চালানো যায় এমন ইউনিট; মোট সক্ষমতা ১.৩৫ গিগাওয়াট। ওপরের জলাধারে ১ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার ঘনমিটার পানি ধরে। পাম্প করার সময় ব্যবস্থাটি বছরে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এবং পানি ছাড়ার সময় ১.৩৫ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। স্টেট গ্রিড ঝেনজিয়াং পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানির উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ওয়াং চেনহুইয়ের মতে, কেন্দ্রটি প্রায় ২৭ লাখ কিলোওয়াট দ্বিমুখী জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা দেয়। এতে শিল্পঘন ইয়াংসি নদী বদ্বীপ অঞ্চলে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমে। সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, কেন্দ্রটি বছরে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন কয়লার ব্যবহার এড়াবে এবং প্রায় ৩ লাখ ৪৯ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমাবে; এতে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার পরিবারের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো যাবে।

পুরোপুরি চালু হলে কেন্দ্রটি প্রায় ২৭ লাখ কিলোওয়াট দ্বিমুখী জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা দেবে, যা সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমাবে।

স্বতন্ত্র সঞ্চয়কেন্দ্রের বাইরেও চীন প্রচলিত জলবিদ্যুতের সঙ্গে পাম্পড স্টোরেজ যুক্ত করে সমন্বিত স্থাপনা নির্মাণে পথ দেখাচ্ছে। পশ্চিম সিচুয়ানের লিয়াংহেকৌ প্রকল্পটি তিব্বতি মালভূমিতে ৯,৮৪২ ফুট উচ্চতায় নির্মিত এবং বিশ্বের বৃহত্তম সমন্বিত ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে। এতে ৩,০০০ মেগাওয়াটের প্রচলিত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে ১,২০০ মেগাওয়াটের পাম্পড-স্টোরেজ ইউনিট যুক্ত হয়েছে; সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ৪.২ গিগাওয়াটের কমপ্লেক্স। প্রকল্পটি ইয়াগেন লেভেল-১ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত, যা নিচের জলাধার হিসেবে কাজ করছে; ফলে তৈরি হয়েছে বিশাল এক জল-ব্যাটারি। পাহাড়ের পৃষ্ঠ থেকে ১,৬৪০ ফুট নিচে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য খননকাজ শেষ হয়েছে; এখন নিচের জলাধারে কংক্রিট ঢালাই চলছে।

আনহুই প্রদেশের জিশি পাম্পড-স্টোরেজ কেন্দ্রটি ২০২১ সাল থেকে পূর্ব চীনের ‘সুপার পাওয়ার ব্যাংক’ হিসেবে কাজ করছে। ১৮ লাখ কিলোওয়াট সক্ষমতার এ কেন্দ্র ১০৬টি জরুরি গ্রিড-চাহিদায় সাড়া দিয়েছে, প্রতিবারই সফলভাবে চালু হয়েছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রটি ২.৪৭৯ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। একই সময়ে বছরে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার টন কয়লার ব্যবহার কমিয়েছে এবং ৪ লাখ ৭৫ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাস করেছে। ২০২৪ সালে কেন্দ্রটির উৎপাদিত মূল্যের পরিমাণ ছিল ১.৬৮৪ বিলিয়ন ইউয়ান। স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার পাশাপাশি পানি ও মাটি সংরক্ষণে জাতীয় মডেল প্রকল্প হিসেবেও স্বীকৃতি বজায় রেখেছে এটি।

বিজ্ঞাপন

ভূপ্রকৃতিতে উদ্ভাবন: পাহাড় থেকে উপকূল

প্রচলিত পাম্পড-স্টোরেজ প্রকল্প পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠে, যেখানে প্রাকৃতিক উপত্যকা ওপরের ও নিচের জলাধার হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী। চীনে দেশটির মোট জ্বালানি সঞ্চয়-সম্ভাবনার ৭৯ শতাংশ উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে; এর মধ্যে শুধু ছিংহাই প্রদেশেই রয়েছে মোট সম্ভাবনার ৩২ শতাংশ। দক্ষতার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় খাড়া উচ্চতার পার্থক্য এসব এলাকায় রয়েছে। ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা ও ডিজিটাল উচ্চতা মডেল ব্যবহার করে করা গবেষণায় এমন ৫৩২টি বড় বিদ্যমান জলাধার চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে ওপরের জলাধার যুক্ত করা সম্ভব। এগুলোর তাত্ত্বিক সম্ভাবনা ৯,৬৭১ গিগাওয়াট-ঘণ্টা। বাস্তবে কাজে লাগানো সম্ভব এমন সম্ভাবনা ৮,৭১৭ গিগাওয়াট-ঘণ্টা, যা বর্তমানে পরিকল্পিত ও সংরক্ষিত পাম্পড-স্টোরেজ সক্ষমতার প্রায় ১.৭৪ গুণ।

তবে চীনের জ্বালানির চাহিদার প্রধান কেন্দ্র পূর্ব উপকূলীয় প্রদেশগুলোতে, যেখানে সমতল ভূপ্রকৃতির কারণে ঐতিহাসিকভাবেই সঞ্চয়কেন্দ্র নির্মাণ কঠিন হয়েছে। জিয়াংসুর জুরং প্রকল্পের সাফল্য দেখিয়েছে, ভূপ্রকৃতিগতভাবে কঠিন এলাকাতেও বড় পরিসরে পাম্পড স্টোরেজ কাজ করতে পারে। কৃত্রিম উচ্চতার পার্থক্য তৈরি করে এবং ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবহার করে প্রকৌশলীরা এখন প্রত্যন্ত পাহাড় থেকে দীর্ঘ দূরত্বে বিদ্যুৎ পাঠানোর বদলে বড় বিদ্যুৎ-চাহিদার কেন্দ্রগুলোর কাছেই সঞ্চয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারেন।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে গবেষকেরা চীনের বিস্তৃত উপকূলরেখায় সমুদ্রের পানি ব্যবহার করে পাম্পড জ্বালানি সঞ্চয়ের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। এ পদ্ধতিতে সমুদ্রকে নিচের জলাধার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে মিঠাপানির প্রয়োজন হয় না এবং কৃষি বা পৌরসভার পানির চাহিদার সঙ্গে প্রতিযোগিতাও এড়ানো যায়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্রায় ২০,০০০টি সম্ভাব্য উপকূলীয় স্থান চিহ্নিত হয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত সঞ্চয়ক্ষমতা ৪,৩৭৯ গিগাওয়াট-ঘণ্টা। এর মধ্যে ৮৭টি স্থানে নির্মাণব্যয় প্রচলিত মিঠাপানিনির্ভর ব্যবস্থার কাছাকাছি, প্রতি কিলোওয়াটে প্রায় ৯৪৯ ইউরো। বিশেষ করে প্রাকৃতিক উপকূলীয় অবনমন ব্যবহার করলে খননকাজ কমিয়ে আনা যায়। উপকূলীয় প্রদেশগুলোতে অফশোর বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্ত করার ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে; সঞ্চয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বিত উন্নয়নে এটি দিতে পারে সম্প্রসারণযোগ্য কাঠামো।

বিজ্ঞাপন

নির্মাণের গতি ও মান নিয়ন্ত্রণ

চীনের উন্নয়নের গতি বিশ্ব প্রতিযোগীদের চেয়ে অনেক বেশি। ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশটিতে ৫০ গিগাওয়াট পাম্পড-স্টোরেজ সক্ষমতা চালু ছিল, যা বৈশ্বিক মোট সক্ষমতার ৩০ শতাংশ। ২০২৫ সালের আগস্টে স্থাপিত সক্ষমতা ৬২.৩৬৫ গিগাওয়াটে পৌঁছায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই ১৪তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে দেশটিতে ৮৯ গিগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্র নির্মাণাধীন, আর উন্নয়নকারীরা আরও ২৭৬ গিগাওয়াটের অনুমোদন চাইছেন। ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪০০ গিগাওয়াটে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছে চীন। তা হলে জাতীয় দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ব্যবস্থার ভিত্তি হয়ে উঠবে পাম্পড জলবিদ্যুৎ।

এ ত্বরান্বিত অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে উন্নত প্রকৌশল কৌশল ও শিল্পায়িত নির্মাণপদ্ধতির কারণে। হুনান প্রদেশের পিংজিয়াং প্রকল্পে প্রকৌশলীরা ‘তিয়ানইউয়ে’ নামের পরিবর্তনশীল ব্যাসের টানেল বোরিং মেশিন দিয়ে ৫০ ডিগ্রি কোণে ১,৩৩৮ মিটার ঢালু শ্যাফট খনন করেছেন। এ ধরনের প্রথম মেশিনটি ওপরে ওঠার সময় খননের ব্যাস ৬.৫ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৮ মিটার করতে পেরেছে। পিছলে যাওয়া ঠেকাতে এতে তিন ধাপের গ্রিপিং হাইড্রোলিক ইন্টারলক ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। মেশিনটি ৮৭ মিটার লম্বা এবং এর ওজন ৯০০ টন। নির্মাতা সিআরসিএইচআই-এর ভাষায়, এর তিন ধাপের গ্রিপিং ব্যবস্থা একটি ‘অ্যান্টি-স্লিপ ত্রিভুজাকার কাঠামো’ তৈরি করে। ফলে মেশিনটি শ্যাফটের দেয়ালে আটকে নিরাপদে ঢাল বেয়ে ওপরে উঠতে পারে। প্রতি ১.৫ মিটার পরপর মাঝের ও পেছনের গ্রিপারের অবস্থান পাল্টে অবিচ্ছিন্ন প্রতিরোধী বল বজায় রাখা হয়। এ ধরনের উদ্ভাবনে দ্রুত সময়সূচি অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে; কিছু ইউনিট স্থাপন শুরুর মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে চালু হয়েছে।

তবে দ্রুত নির্মাণের গতি মান নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জও সামনে এনেছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ফুজিয়ান প্রদেশের ইয়ংআন পাম্পড-স্টোরেজ প্রকল্পে কেলেঙ্কারি দেখা দেয়। ৭.৫ বিলিয়ন ইউয়ান (১.০৬ বিলিয়ন ডলার) ব্যয়ের এ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের নিচের জলাধার নির্মাণে ‘গুরুতর মানগত ত্রুটি’ থাকার খবর প্রকাশিত হয়। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অগ্রাধিকারভুক্ত এ প্রকল্পে নিম্নমানের উপকরণ ও গাফিলতিপূর্ণ কাজের অভিযোগ তদন্তে জাতীয় জ্বালানি প্রশাসন উদ্যোগ নেয়। ঠিকাদারদের মূল প্রতিষ্ঠান পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী সমস্যাগুলো সমাধানের অঙ্গীকার করে। চীন যখন দ্রুততার সঙ্গে সঞ্চয় অবকাঠামো গড়ছে, তখন এ ঘটনা নির্মাণের গতি ও প্রকৌশলগত কঠোরতার মধ্যকার টানাপোড়েন তুলে ধরে।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা

চীনের এই বিস্তৃত নির্মাণকাজ পাম্পড-স্টোরেজ উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী নতুন জোয়ারের অংশ। আন্তর্জাতিক জলবিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে উন্নয়নকারীরা নতুন করে ৫৭০ গিগাওয়াট পাম্পড-স্টোরেজ সক্ষমতা নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছেন, যার প্রায় ৪০ শতাংশ চীনে। সমিতির প্রধান নির্বাহী এডি রিচ জোর দিয়ে বলেছেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার রেকর্ড মাত্রা সতর্কসংকেত দিচ্ছে: উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে সঞ্চয় অবকাঠামোরও মিল থাকতে হবে।

২০২৫ সালে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার যে রেকর্ড মাত্রা দেখেছি, তা স্পষ্ট সতর্কসংকেত। বিশ্ব দ্রুতগতিতে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ছে, কিন্তু তা কাজে লাগাতে বা সঞ্চয় করতে যে অবকাঠামো দরকার, সেটিও এখন একই গতিতে গড়ে তুলতে হবে।

রিচ আরও বলেন, “জ্বালানি নিরাপত্তা, জ্বালানিতে সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে আমরা সত্যিই আন্তরিক হলে, পাম্পড স্টোরেজকে পরবর্তী চিন্তা হিসেবে নয়, মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।”

অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রক বাধার কারণে অন্য দেশগুলো এগোচ্ছে ধীরগতিতে। ইউরোপে জার্মানির ৩০০ মেগাওয়াট রিডল প্রকল্প এক দশকেরও বেশি পরিকল্পনার পর অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে অস্ট্রিয়ার লিমবার্গ-৩ কেন্দ্র চার বছর নিবিড় ভূগর্ভস্থ নির্মাণকাজের পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চালু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৯০টিরও বেশি প্রকল্প উন্নয়নাধীন; এর মধ্যে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ১,২০০ মেগাওয়াট গোল্ডেনডেল কেন্দ্রও রয়েছে। তবে ১৯৮০-এর দশকের আইন অনুযায়ী অনুমোদন প্রক্রিয়া চলায় অধিকাংশ প্রকল্প অন্তত এক দশকের আগে চালু হবে না।

যুক্তরাজ্য ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি নাগাদ ১০ গিগাওয়াট পাম্পড-স্টোরেজ সক্ষমতা গড়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে স্কটিশ হাইল্যান্ডসের ১,৮০০ মেগাওয়াট আরবা প্রকল্প রয়েছে। এসব উন্নয়নের লক্ষ্য উদ্বৃত্ত বায়ুবিদ্যুৎ সঞ্চয় করা এবং ব্যয়বহুল গ্যাসচালিত পিকিং কেন্দ্রের ব্যবহার কমানো। মধ্যপ্রাচ্যে দুবাই বিদ্যুৎ ও পানি কর্তৃপক্ষ ২৫০ মেগাওয়াটের হাত্তা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে এ ধরনের এটিই প্রথম কেন্দ্র। এর ওপরের বাঁধে ৫৩ লাখ ঘনমিটার পানি ধরে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ভূগর্ভে ৬০ মিটার গভীরে অবস্থিত। কেন্দ্রটি দুবাইয়ের ২০৫০ সালের নেট-জিরো কার্বন নিঃসরণ কৌশল বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

দ্রুত সম্প্রসারিত সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ সক্ষমতার পরিপূরক হিসেবে ভারত বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশের ১,৮০০ মেগাওয়াট গণ্ডিকোটা প্রকল্পে আন্দ্রিৎস সরবরাহ করা উল্টোদিকে চালানো যায় এমন পাম্প-টারবাইন ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে গ্রিনকোর পিন্নাপুরাম কমপ্লেক্সে রয়েছে ১,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, ৫৫০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ এবং ১,২০০ মেগাওয়াটের বদ্ধ-চক্র পাম্পড স্টোরেজ। এটিই ভারতের প্রথম একই স্থানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সঞ্চয়কেন্দ্রের সমন্বিত প্রকল্প। অস্ট্রেলিয়ার প্রকল্পতালিকায় রয়েছে স্নোয়ি ২.০, যেখানে জলাধারগুলোর মধ্যে সুড়ঙ্গ তৈরি করে ২,০০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা যোগ হবে, এবং কুইন্সল্যান্ডের কিডস্টন প্রকল্প, যেখানে সাবেক স্বর্ণখনিকে ২৫০ মেগাওয়াটের সঞ্চয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক জলবিদ্যুৎ সমিতির উপপ্রধান নির্বাহী পাবলো ভালভার্দে চীনের অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রথম উৎসটি কীভাবে নতুন রেকর্ড গড়ছে, নতুন প্রযুক্তিকে সহায়তা করছে এবং নতুন সমাধান খুঁজে বের করছে, তা দেখা অনুপ্রেরণাদায়ক। জলবিদ্যুৎ শিল্পে প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন হচ্ছে। সেখানকার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চীনে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দল নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি আমরা।

বিজ্ঞাপন

মূল বিষয়গুলো

  • ২০৩০ সালের বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের ছয় বছর আগেই ছাড়িয়ে গেছে চীন। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সক্ষমতা পৌঁছেছে ১,৮৪০ গিগাওয়াটে। অনিয়মিত উৎপাদন ও বিদ্যুৎ অপচয় সামাল দিতে জরুরি হয়ে পড়েছে জ্বালানি সঞ্চয়।
  • পাম্পড-স্টোরেজ জলবিদ্যুতে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে পানি পাহাড়ে তোলা হয়, পরে টারবাইনের মধ্য দিয়ে ছেড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ৭০ থেকে ১০০ বছরের কার্যকালের এ প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সঞ্চয়ের ৯০ শতাংশেরও বেশি জোগায়।
  • হেবেই প্রদেশের ৩.৬ গিগাওয়াট ফেংনিং কেন্দ্র বিশ্বের বৃহত্তম পাম্পড-স্টোরেজ স্থাপনা। জিয়াংসুর জুরং কেন্দ্রে রয়েছে ১৮২.৩ মিটার উঁচু সর্বোচ্চ বাঁধ। এ প্রকল্প প্রমাণ করেছে, সমতল এলাকাতেও প্রযুক্তিটি কার্যকর।
  • চীনে বর্তমানে ৬২ গিগাওয়াট পাম্পড-স্টোরেজ সক্ষমতা চালু এবং ৮৯ গিগাওয়াট নির্মাণাধীন। নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪০০ গিগাওয়াটে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।
  • প্রকৌশলীরা পাহাড় থেকে শুরু করে উপকূলীয় অবনমন ব্যবহার করে সমুদ্রের পানিনির্ভর পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা এবং প্রচলিত জলবিদ্যুতের সঙ্গে সঞ্চয় প্রযুক্তি যুক্ত সমন্বিত কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ভূপ্রকৃতিতে এ প্রযুক্তি মানিয়ে নিচ্ছেন।
  • কিছু প্রকল্পে মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ফুজিয়ানের ইয়ংআন কেন্দ্রে নির্মাণত্রুটির অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে, যা দ্রুত সম্প্রসারণের ঝুঁকি তুলে ধরে।
  • বিশ্বজুড়ে উন্নয়নকারীরা নতুন করে ৫৭০ গিগাওয়াট পাম্পড-স্টোরেজ সক্ষমতা নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছেন। অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় চীন পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় দ্রুত নির্মাণ করছে; অন্যদিকে অনেক দেশে অনুমোদন পেতে এক দশক লেগে যায়।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে