জরুরি ব্যয়সংকোচনমূলক পদক্ষেপ
৩১ মার্চ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় বিনা মূল্যে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ সপ্তাহে ছয় দিন থেকে কমিয়ে পাঁচ দিন করা হবে। ব্যয় কমানোর এই জোরালো পদক্ষেপে বছরে আনুমানিক ৪০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ (২.৩ বিলিয়ন থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার) সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২৯ মার্চ এ পরিবর্তনের ঘোষণা দেয় জাতীয় পুষ্টি সংস্থা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং এর ফলে তেলের দামের অস্থিরতায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির ওপর বাড়তে থাকা আর্থিক চাপ সামাল দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি বলে জানায় সংস্থাটি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চালু হওয়া এ কর্মসূচিতে খাদ্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা-সহ নানা পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। তা সত্ত্বেও দারিদ্র্য কমানোর সরকারের কৌশলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সূচিপত্র
সংস্থাটির উপপ্রধান নানিক সুদারিয়াতি দেয়াং এএফপিকে সাশ্রয়ের অঙ্ক নিশ্চিত করে বলেন, এই পদক্ষেপে কর্মসূচিটি দ্বীপপুঞ্জজুড়ে প্রচলিত পাঁচ দিনের স্কুল সপ্তাহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তবে প্রত্যন্ত এলাকা এবং খর্বাকৃতির উচ্চ হার রয়েছে এমন অঞ্চলে সরকার সপ্তাহে ছয় দিনই খাবার বিতরণ চালু রাখবে, কারণ সেখানে শিশুদের বিকাশে পুষ্টি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থার প্রধান দাদান হিন্দায়ানা লক্ষ্যভিত্তিকভাবে সেবা চালু রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
খর্বাকৃতির ঝুঁকি বেশি এমন অঞ্চলে শনিবারও বিনা মূল্যে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যাতে শিশুরা প্রতিদিন পর্যাপ্ত পুষ্টি পায়।
বর্তমানে এ উদ্যোগের আওতায় রয়েছে ৬ কোটি ১০ লাখ মানুষ; তাদের মধ্যে আছে শিক্ষার্থী, ছোট শিশু, গর্ভবতী নারী ও স্তন্যদানকারী মা। ২০২৬ সালের জন্য এতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট ৩৩৫ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ (১৯.৭ বিলিয়ন ডলার)। ইন্দোনেশিয়ার মোট রাষ্ট্রীয় বাজেটের প্রায় এক-দশমাংশ এই বরাদ্দ, যা দেশটির ইতিহাসের বৃহত্তম সামাজিক কর্মসূচিগুলোর একটি। কাটছাঁটে কার্যকর আওতা আনুমানিক ১৬ শতাংশ কমবে, তবে সেবাবঞ্চিত অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা বজায় থাকবে।
তেলের ধাক্কায় আর্থিক সংকট
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হওয়ায় আর্থিক চাপ বাড়ছে; এর জবাবে এই কাটছাঁটই প্রথম বাস্তব ব্যয়সংকোচনমূলক পদক্ষেপ। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে উঠেছে, যা ইন্দোনেশিয়ার ২০২৬ সালের রাষ্ট্রীয় বাজেটে ধরে নেওয়া ৭০ ডলারের চেয়ে অনেক বেশি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়; ইন্দোনেশিয়ায় জ্বালানি আমদানির প্রধান পথও এটি।
অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া সতর্ক করে বলেছেন, বছরজুড়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি গড়ে ৯০ থেকে ৯২ ডলার থাকলে ইন্দোনেশিয়ার বাজেট ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নবিষয়ক ১৭/২০০৩ নম্বর আইনে নির্ধারিত ৩ শতাংশের আইনি সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে যাবে। এশীয় আর্থিক সংকটের পর থেকে এই আইনি সীমা ইন্দোনেশিয়ার সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং জি২০-ভুক্ত দেশটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার করেছে। ২০২৫ সালে বাজেট ঘাটতি ইতিমধ্যে জিডিপির ২.৯২ শতাংশ বা ৬৯৫.১ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহে পৌঁছেছে। ফলে বাইরের ধাক্কা সামাল দেওয়ার আর্থিক অবকাশ খুবই কম।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ধরে নিলে, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ থেকে ৯২ ডলার পর্যন্ত উঠলে এবং বর্তমান বাজেটে কোনো সমন্বয় না আনলে ঘাটতি জিডিপির প্রায় ৩.৬ শতাংশে পৌঁছাবে।
ইন্দোনেশিয়া তার অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২৫ শতাংশ এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) প্রায় ৩০ শতাংশ আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এসব চাপের মধ্যে ডলারের বিপরীতে রুপিয়াহের দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে প্রায় ১৭ হাজারে নেমেছে, ফলে ডলারে কেনা জ্বালানির খরচ আরও বেড়েছে। ইউওবি কে হিয়ানের বিশ্লেষকদের হিসাবে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার বাড়লে ইন্দোনেশিয়ার ঘাটতি প্রায় ৬.৮ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ (৫১৪ মিলিয়ন ডলার) বেড়ে যায়।
চাপে নীতির পরিবর্তন
এই হ্রাস প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর জন্য একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন। এর আগে বাড়তে থাকা আর্থিক উদ্বেগ সত্ত্বেও তিনি বলেছিলেন, তার অগ্রাধিকারমূলক বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচিতে হাত দেওয়া হবে না। নির্বাচনী প্রচার এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকে প্রবোও ২৮ কোটি ৪০ লাখ মানুষের দেশে খর্বাকৃতি প্রতিরোধ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে এই উচ্চাভিলাষী উদ্যোগকে অপরিহার্য বলে তুলে ধরেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য ছিল।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও সরকার বলেছিল, বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচি এবং রেড অ্যান্ড হোয়াইট কো-অপারেটিভ উদ্যোগের মতো অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি বাজেট কাটছাঁটের বাইরে থাকবে। এগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বলে বর্ণনা করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র প্রসেতিয়ো হাদি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সরকার মোট ৮০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ (৪.৭ বিলিয়ন থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার) সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়েছে। এতে বোঝা যায়, খাবার কর্মসূচিতে কাটছাঁট পরিকল্পিত আর্থিক সমন্বয়ের মাত্র অর্ধেক। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক উদাহরণের কথা উল্লেখ করেন।
“ব্যয় সাশ্রয়ের আরও অনেক পদক্ষেপ এখনো নেওয়া সম্ভব,” সপ্তাহান্তে প্রচারিত এক রেকর্ড করা সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের বলেন প্রবোও। তিনি জানান, জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, যাতে আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমে। অতিরিক্ত সাশ্রয়ের সম্ভাব্য মডেল হিসেবে তিনি পাকিস্তানের ব্যয়সংকোচনমূলক পদক্ষেপের কথা বলেন; এর মধ্যে মন্ত্রণালয়গুলোর জন্য জ্বালানির সরবরাহ কমানো এবং যানবাহনের ব্যবহার সীমিত করা রয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চালুর পর থেকে কর্মসূচিটির আওতাভুক্তদের মধ্যে একাধিকবার খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলের নেতারা ও স্বাস্থ্য অধিকারকর্মীরা; তাদের উদ্বেগের কারণ স্বাস্থ্যবিধি ও সরবরাহব্যবস্থার সমস্যা। এসব সত্ত্বেও উদ্যোগটি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর, কারণ প্রতিদিনের পুষ্টি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ পরিবারের জীবনে এর সরাসরি প্রভাব রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও ঋণমানের চাপ
সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থাগুলো ইন্দোনেশিয়ার আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে মুডিস ইন্দোনেশিয়ার ঋণমানের পূর্বাভাস স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচক করেছে। বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচির মতো সামাজিক উদ্যোগ এবং আর্থিক শৃঙ্খলায় সেগুলোর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগকে এর নির্দিষ্ট কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। এ মাসে ফিচও পূর্বাভাস নেতিবাচক করেছে। সংস্থাটি নীতিগত অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি এবং নতুন দানান্তারা সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রভাব রাষ্ট্রের অর্থায়নে কী হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সম্ভাব্য ঘাটতি-সীমা অতিক্রমের ঝুঁকি বিনিয়োগকারীরা বিবেচনায় নেওয়ায় মার্চে জাকার্তা কম্পোজিট সূচক আট মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। পুঁজি প্রত্যাহারের চাপে রুপিয়াহের দর এ বছর মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১ শতাংশের বেশি কমেছে। শেয়ারবাজারের সূচক ৭.৫ শতাংশ কমার পাশাপাশি, এশিয়ার সবচেয়ে খারাপ ফল করা মুদ্রাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে রুপিয়াহ।
অর্থমন্ত্রী পুরবায়া বাজারকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে সরকার কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই ঘাটতি জিডিপির ৩ শতাংশের মধ্যে রাখবে। “এখন বা ভবিষ্যতে, কোনো সময়ই আমি এই সীমা অতিক্রম করব না,” বলেন তিনি। পাশাপাশি উল্লেখ করেন, প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক স্থায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। তবে অর্থনীতিবিদদের সতর্কতা, সীমাটির গুরুত্ব কেবল সংখ্যায় নয়, সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে জড়িত। ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এলপিইএম) তেউকু রিফকি বলেন, “সীমা অতিক্রম হলে বোঝাবে, সরকার বিচক্ষণতার সঙ্গে দেশের অর্থব্যবস্থা পরিচালনা করতে পারছে না।”
এনার্জি শিফট ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ডলার বাড়লে ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি ভর্তুকির ব্যয় আরও ৭ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ (৪১৩ মিলিয়ন ডলার) বাড়ে। এরই মধ্যে ভর্তুকি বাবদ কয়েক শ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ বরাদ্দ রয়েছে। ২০২৬ সালের জ্বালানি ভর্তুকির বরাদ্দ মোট ৩৮১ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ (২২.৫ বিলিয়ন ডলার), যা তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলার থাকবে ধরে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিস্তৃত ব্যয়সংকোচন ও জ্বালানি সাশ্রয়
খাবার কর্মসূচিতে কাটছাঁটের পাশাপাশি সরকার ব্যাপক ব্যয়সংকোচনমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অপ্রয়োজনীয় সরকারি সফরে বিধিনিষেধ, সভার খরচ কমানো এবং মন্ত্রীদের বেতন হ্রাসের সম্ভাবনা। জ্বালানি ব্যবহার ও যানজট কমাতে সরকারি কর্মী এবং বেসরকারি খাতের কিছু কর্মীকে সপ্তাহে এক দিন দূর থেকে কাজ করতে হবে, এমন নীতির চূড়ান্ত প্রস্তুতিও নিচ্ছেন কর্মকর্তারা।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবোও বলেন, “কিছু সরকারি কর্মী ও কর্মকর্তার যদি অফিসে আসার প্রয়োজন না থাকে, তাহলে যানজট কমবে এবং উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হবে।” বাড়ি থেকে কাজের নীতিতে জ্বালানি সাশ্রয় হতে পারে, তবে অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের ওপর অনিচ্ছাকৃত প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় অর্থনীতিবিদেরা এর সমালোচনা করেছেন। গাজা মাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশ্লেষক ফাহমি রাধি সতর্ক করে বলেছেন, যাতায়াত কমলে রাইড-হেইলিং চালক এবং অফিসযাত্রীদের ওপর নির্ভরশীল ছোট খাবারের দোকানগুলোর আয় কমে যেতে পারে।
এখন পর্যন্ত সরকার ভর্তুকি কর্মসূচির পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। এর আওতায় ভোক্তা ব্যয়ের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বহন করা হয়, যা মোট বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশ। অতীতে জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর উদ্যোগে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তাই এটি রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে অর্থমন্ত্রী পুরবায়া স্বীকার করেছেন, তেলের দাম সংকটকালীন পর্যায়ে থাকলে দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের সঙ্গে বোঝা ভাগ করা ছাড়া সরকারের উপায় নাও থাকতে পারে।
“ভর্তুকির ব্যয় বাজেট একেবারেই বহন করতে না পারলে আর কোনো উপায় থাকবে না; জনগণের সঙ্গে বোঝার একটি অংশ ভাগ করে নিতে হবে, অর্থাৎ জ্বালানির দাম বাড়াতে হবে,” বলেন পুরবায়া। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ একেবারে শেষ উপায় হিসেবেই থাকবে। করের হার না বাড়িয়ে কর পরিপালন নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর পথও খতিয়ে দেখছে সরকার।
বিশ্বসংকটে আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো আধুনিক জ্বালানি বাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সরবরাহ-সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার উদ্যোগও সেই বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। হরমুজ প্রণালি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি ব্যারেলের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো কঠোর সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।
পাকিস্তানে সপ্তাহে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু হয়েছে, দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সরকারি জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় জাতীয় জ্বালানি পাসের কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি রেশনিং চালু হয়েছে; ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য সাপ্তাহিক পেট্রল বরাদ্দ ২৫ লিটার। থাইল্যান্ডে দপ্তরগুলোকে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ৭৯-৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রাখতে এবং লিফটের ব্যবহার কমাতে উৎসাহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস এক বছরের জন্য জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন।
দেশে ঘাটতি এড়াতে চীন পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ভারতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বদলে দেশের রান্নার গ্যাস ব্যবহারকারীদের অগ্রাধিকার দিতে অত্যাবশ্যক পণ্য আইন কার্যকর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জরুরি পরিস্থিতিতে নেওয়ার মতো ১০টি পদক্ষেপের তালিকা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ বাড়ানো, মহাসড়কে গতিসীমা কমানো এবং পেট্রোলিয়ামভিত্তিক রান্নার জ্বালানির বদলে বিদ্যুৎচালিত বিকল্প ব্যবহার।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থার (বিআরআইএন) রাজনৈতিক গবেষক ফিরমান নুর বলেন, “এটি সতর্কবার্তা—অন্য দেশগুলোর মতো আমাদেরও প্রস্তুত হতে হবে। আমাদের সমন্বয় করতে হবে, কারণ যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা আমরা জানি না; আর যুদ্ধ চলতে থাকলে তেলের দাম নিশ্চিতভাবেই বাড়বে।”
মূল বিষয়গুলো
- ৩১ মার্চ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় বিনা মূল্যে পুষ্টিকর খাবার সপ্তাহে ছয় দিনের বদলে পাঁচ দিন বিতরণ করা হবে। এতে বছরে ৪০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ (২.৩ বিলিয়ন ডলার) সাশ্রয় হবে; তবে প্রত্যন্ত ও খর্বাকৃতির হার বেশি এমন এলাকায় ছয় দিনের সেবা বজায় থাকবে
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়ছে; এতে ইন্দোনেশিয়ার বাজেট ঘাটতি আইনি সীমা—জিডিপির ৩ শতাংশ—ছাড়িয়ে ৩.৬ শতাংশে পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে
- প্রেসিডেন্ট প্রবোও আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কর্মসূচিটি কাটছাঁট করা হবে না। আর্থিক চাপের মধ্যে এটি বড় নীতিগত পরিবর্তন
- সরকার মোট ৮০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ে সপ্তাহে এক দিন দূর থেকে কাজ করাসহ আরও পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে
- আর্থিক শৃঙ্খলা এবং বাইরের ধাক্কার মধ্যে বৃহৎ সামাজিক কর্মসূচিগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থাগুলো ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাভাস নেতিবাচক করেছে






