প্রযুক্তি বাজারের চেহারা বদলে দিচ্ছে ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন
হংকং দ্বীপের একটি হোটেলের লবিতে লিফটের সামনে থেমে আছে একটি ডেলিভারি রোবট। দরজা খুলতেই একজন অতিথি বেরিয়ে আসেন। রোবটটি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে, তারপর মসৃণভাবে লিফটে ঢোকে। কৌশলটি দেখতে সহজ মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে জটিল প্রকৌশলগত অর্জন। একটি আন্তর্জাতিক চেইনের মালিকানাধীন ব্যস্ত হোটেলে চলাচলের সময় রোবটটিকে এমন পরিবেশ সামলাতে হয়, যা তার জন্য কখনো থেমে থাকে না। যন্ত্রটি ভিড়ের মধ্যে চলাচল করে, নিজে থেকেই লিফট চালায়, সঠিক তলা বেছে নেয় এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের সাহায্য ছাড়াই নির্ধারিত কক্ষ খুঁজে নেয়।
সূচিপত্র
এই রোবটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনজি (Yunji) হলো চীনের মূল ভূখণ্ডের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান সেই ধারার অংশ, যারা আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের সোপান হিসেবে হংকংকে ব্যবহার করছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট শিয়ে ইউনপেং বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হংকংয়ে পণ্যটিকে সফল করা, তারপর অন্য বাজারে সম্প্রসারিত হওয়া।” চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক বাজারে যাওয়ার কৌশলে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে, এই কৌশল তারই প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ক্রমেই সতর্ক হয়ে উঠছে। ‘চীন-ঝুঁকি’ হিসেবে পরিচিত উদ্বেগের কথা তুলে ধরে এসব দেশ ও অঞ্চলের কারণে মূল ভূখণ্ডের চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পশ্চিমা বাজারে মূলধন, গ্রাহক ও আস্থা অর্জন ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। সরকারগুলোর আশঙ্কা, রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট গুপ্তচরবৃত্তি হতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতে চীনের প্রভাব অতিরিক্ত বেড়ে যেতে পারে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা হংকংয়ের দিকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে এবং শহরটিকে পরীক্ষাক্ষেত্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের মঞ্চ—দুই হিসেবেই দেখছে।
পরিসংখ্যানে এই স্থানান্তরের ব্যাপকতা স্পষ্ট। প্রাইসওয়াটারহাউসকুপার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে চীনের মূল ভূখণ্ডের ৭৬টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ৩০টির তুলনায় ১৫৩ শতাংশ বেশি। অঞ্চলটির বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ইনভেস্ট হংকং জানিয়েছে, মূল ভূখণ্ডের যেসব প্রতিষ্ঠান সেখানে সরাসরি কার্যক্রম শুরু করছে, তাদের সংখ্যাও একইভাবে বাড়ছে; সবচেয়ে বড় খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি। এই উল্লম্ফনের সময়ে চীনা কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত করছে, যাতে উন্নত মার্কিন প্রযুক্তির বিকল্প হিসেবে দেশীয় সক্ষমতা জোরদার হয়। এর ফলে মেমোরি চিপ নির্মাতা চ্যাংশিন মেমোরি টেকনোলজিস, বাইদুর এআই চিপ শাখা কুনলুনশিন এবং স্বয়ংচালিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিপরুট.এআইসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির পথ তৈরি হচ্ছে।
হংকংয়ে তালিকাভুক্তির রেকর্ড
হংকংয়ের পুঁজিবাজারের পুনরুত্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে সেমিকন্ডাক্টর নকশা ও চিকিৎসা রোবট—প্রযুক্তির নানা ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠান আকৃষ্ট হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরুতে চীনের তিনটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সফলভাবে শেয়ার লেনদেন শুরু করে। তারা সম্মিলিতভাবে ১.১৯ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে এবং লেনদেনের দিন শেয়ারের দাম প্রস্তাবিত মূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ঝিপু এআই, যা নলেজ অ্যাটলাস টেকনোলজি নামেও পরিচিত, প্রস্তাবিত মূল্যের চেয়ে ৩.৩ শতাংশ বেশি দামে লেনদেন শুরু করে। দিন শেষে এর দাম ১৩.২ শতাংশ বেড়ে যায় এবং বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫১ বিলিয়ন হংকং ডলারে। সেমিকন্ডাক্টর নকশা প্রতিষ্ঠান সাংহাই ইলুভাটার কোরএক্সের শেয়ার আইপিও মূল্যের চেয়ে ৩১.৬ শতাংশ বেশি দামে লেনদেন শুরু করে। আর সার্জিক্যাল রোবট নির্মাতা শেনঝেন এজ মেডিকেলের শেয়ারের দাম লেনদেন শুরুর সময় ৩৬.৪ শতাংশ বেড়ে যায়।
এই জোরালো পারফরম্যান্স দেখায়, হংকংয়ের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় শেয়ার ছাড়া হলে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ প্রবল। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১১৯টি নতুন তালিকাভুক্তি থেকে ২৮৬.৯ বিলিয়ন হংকং ডলার সংগ্রহ করা হয়—আগের বছরের মোট সংগ্রহের তিন গুণেরও বেশি। এর ফলে ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বের বৃহত্তম আইপিও বাজারের মর্যাদা ফিরে পায় হংকং। তালিকাভুক্তির অপেক্ষায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বাড়ছে। এই তালিকায় রয়েছে চীনা এআই প্রতিষ্ঠান মিনিম্যাক্স গ্রুপ এবং চিপ নির্মাতা ওমনিভিশন ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটস। এসব শেয়ারের প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি, অরবিমেড, ইউবিএস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এবং টেনসেন্টের হুয়াং রিভার ফান্ড—যা শহরটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বৈশ্বিক পুঁজির পরিচয় তুলে ধরে।
ইনস্টিটিউট অব সিকিউরিটিজ ডিলারসের স্থায়ী সম্মানসূচক সভাপতি টম চ্যান পাক-লাম বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা মূল ভূখণ্ডের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সক্রিয়ভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর, এআই ও রোবট খাতে। তিনি বলেন, “হংকং একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র এবং চীন ও বিশ্বের মধ্যে সংযোগকারী—তাই এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। মূল ভূখণ্ডের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বৈশ্বিক বাজারে যাওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে হংকংকে ব্যবহার করাই স্বাভাবিক।” ইউবিএসের চীনবিষয়ক প্রধান জেনিস হু বলেন, চীনের তালিকাভুক্ত এআই ও উচ্চপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। হু বলেন, “এটি কেবল সময়ের ব্যাপার।”
সফটওয়্যারের বাইরেও বৈচিত্র্য
খবরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি গুরুত্ব পেলেও হংকংয়ে সম্প্রসারণের আওতায় রয়েছে হার্ডওয়্যার নির্মাতা, জৈবপ্রযুক্তি উদ্ভাবক এবং শিল্প স্বয়ংক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞরাও। ব্রিটিশ সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠান আর্ম হোল্ডিংসের চীনা শাখা আর্ম চায়না ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালে হংকংয়ে চিপের মেধাস্বত্ব নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করবে। হেটাও শেনঝেন-হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন সহযোগিতা অঞ্চলে অবস্থিত এই কেন্দ্রে তিন বছরের মধ্যে প্রায় ১০০ জনকে নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর কাজের মূল ক্ষেত্র হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট প্রযুক্তির প্রয়োগ। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বৈশ্বিক উদ্ভাবনী সম্পদ, শীর্ষস্থানীয় শিল্পখাতের প্রতিভা এবং পরিণত পুঁজিবাজারকে একত্র করার ক্ষেত্রে হংকংয়ের বড় সুবিধা রয়েছে।
শিল্প রোবট নির্মাতা শেনঝেন ইনোভান্স টেকনোলজি ব্যাংক অব আমেরিকা, সিআইসিসি ও মরগান স্ট্যানলিসহ কয়েকটি ব্যাংককে হংকংয়ে তালিকাভুক্তির জন্য বেছে নিয়েছে। এ থেকে সর্বোচ্চ ২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ হতে পারে। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জে ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত ইনোভান্স প্লাস্টিক, প্যাকেজিং ও ইস্পাত উৎপাদন খাতে স্বয়ংক্রিয়করণ সমাধান তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটি চীনের রোবট খাতের শিল্পভিত্তিক দিকটির প্রতিনিধিত্ব করে। এর পাশাপাশি রয়েছে ইউনজির মতো সেবা রোবট নির্মাতা এবং সহযোগী রোবট উৎপাদনকারী গুয়াংডং হুয়ান রোবটিকস। ডিসেম্বরে তালিকাভুক্তির প্রথম দিন হুয়ান রোবটিকসের শেয়ারের দাম ২৭ শতাংশ বেড়েছিল।
জৈবপ্রযুক্তি খাতও হংকংয়ে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে। হংকং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পার্কস করপোরেশনের আওতায় ৩০০টিরও বেশি স্বাস্থ্য ও জীবনবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে ৬০টিরও বেশি ক্লিনিক্যাল পর্যায়ের উদ্ভাবক। হেলথ হোপ ফার্মার মতো প্রতিষ্ঠান বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ক্যানসার চিকিৎসার বাণিজ্যিক প্রয়োগ দ্রুত করতে হংকংয়ের “১+” নিয়ন্ত্রক পথ ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান সোবি ১.৫ বিলিয়ন ডলারে আরথ্রোসি থেরাপিউটিকসকে অধিগ্রহণ করে। প্রতিষ্ঠানটি হংকং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পার্কস করপোরেশনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ব্যবস্থার সহায়তায় গাউটের চিকিৎসা তৈরি করে এবং অধিগ্রহণের আগে সিরিজ ই অর্থায়নে ১৫৩ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল।
এই বৈচিত্র্য দেখায়, হংকং কীভাবে কেবল আর্থিক কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি কেন্দ্রে রূপান্তরিত হচ্ছে। অফিস ফর অ্যাট্র্যাক্টিং স্ট্র্যাটেজিক এন্টারপ্রাইজেস শহরটিতে ১০২টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করেছে। এর মধ্যে দশটি বর্তমানে শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ৬০ বিলিয়ন হংকং ডলার বিনিয়োগ আসবে এবং আনুমানিক ২২ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হংকং: চূড়ান্ত পরীক্ষাক্ষেত্র
অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে হংকং এমন এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্র, যেখানে পণ্যকে বৃহত্তর বৈশ্বিক বাজারে যাওয়ার আগে বাস্তব আন্তর্জাতিক পরিবেশে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হয়। ইউনজির হোটেল ডেলিভারি রোবট এই পদ্ধতির উদাহরণ। এসব রোবটকে জটিল মানব-পরিবেশে চলাচল করতে এবং আন্তর্জাতিক আতিথেয়তা খাতের মান পূরণ করতে হয়। হোটেল, হাসপাতাল ও কারখানার জন্য সেবা রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের অক্টোবরে হংকংয়ে তালিকাভুক্ত হয়। মূল ভূখণ্ডের বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছানো এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশে নিজেদের কার্যক্রমের সক্ষমতা দেখানোই ছিল এর বিশেষ লক্ষ্য।
চীনা এআই সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান মাইনিংল্যাম্প টেকনোলজি গত বছর হংকংয়ে কার্যক্রম শুরু করে এবং অঞ্চলটিকে একটি নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাজে ব্যবহার করছে। প্রতিষ্ঠাতা উ মিংহুই হংকংকে “তথ্য-অনুবর্তিতা স্থানান্তরকেন্দ্র” হিসেবে বর্ণনা করেন। এখানে মূল ভূখণ্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তসীমান্ত তথ্যপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা করতে এবং অন্য বাজারে যাওয়ার আগে অনুবর্তিতা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে পারে। তথ্যের সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগের কারণে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বিধিমালা বদলাচ্ছে এবং তথ্যপ্রাপ্তির বিষয়ে সরকারগুলোর নজরদারি বাড়ছে। ফলে এই ভূমিকার মূল্যও ক্রমে বাড়ছে।
ফরাসি বিনিয়োগ ব্যাংক নাটিক্সিসের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যালিসিয়া গার্সিয়া-হেরেরো বলেন, হংকং মূল ভূখণ্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মান মেনে চলার সক্ষমতা দেখানোর এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের সুযোগ দেয়। শহরটির সাধারণ আইভিত্তিক বিচারব্যবস্থা, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং ইংরেজিভিত্তিক ব্যবসায়িক পরিবেশ এমন বিশ্বাসযোগ্যতা দেয়, যা মূল ভূখণ্ডে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কখনো কখনো অনুপস্থিত থাকে। মারকাটর ইনস্টিটিউট ফর চায়না স্টাডিজের ওয়েন্ডি চ্যাং বলেন, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বহির্বিশ্বের সঙ্গে সংযোগকারী হিসেবে হংকং নিজেকে গড়ে তুলছে। শেয়ার ছাড়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং মূল ভূখণ্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যক্রম প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করার জন্য নীতিও নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপের পরিচালক শিয়াওমেং লু বলেন, ভূরাজনৈতিক প্রতিকূলতায় নিউইয়র্কে শেয়ার ছাড়ার সক্ষমতা কমে যাওয়ায় মূল ভূখণ্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রধান শেয়ার তালিকাভুক্তির স্থান হিসেবে হংকংকে বেছে নিচ্ছে। তিনি বলেন, “এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা এবং মূল ভূখণ্ডের বাজারের সীমার মধ্যে পুরোপুরি আবদ্ধ নয়—এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার ক্ষেত্রে হংকংই তাদের সেরা ভরসা।” এভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করলে প্রতিষ্ঠানগুলো মূল ভূখণ্ডে কার্যক্রমের সম্পর্ক বজায় রেখেও কিছুটা আন্তর্জাতিক স্বাতন্ত্র্যের দাবি করতে পারে।
হংকংয়ের সুরক্ষার সীমা
সুবিধা থাকলেও হংকংয়ে কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা করলেই পশ্চিমা বাজারে নির্বিঘ্ন প্রবেশ নিশ্চিত হয় না, কিংবা বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রক তদারকি থেকেও রেহাই মেলে না। ওয়াশিংটনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিএজিএ গ্রুপের অংশীদার পল ট্রিওলো সতর্ক করে বলেন, হংকং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কেবল আংশিকভাবে কমাতে পারে। তিনি বলেন, “এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য হংকং আসলে কোনো ভূরাজনৈতিক ঢাল নয়। এটি তাদের ঝুঁকি কেবল আংশিকভাবে কমায়।” তিনি আরও বলেন, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে মূল ভূখণ্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেইজিংয়ের পরিবর্তনশীল নিয়ম মেনে চলতে হয়।
এই বাস্তবতার কারণে তালিকাভুক্তির আগে কিছু প্রতিষ্ঠানকে বড় ধরনের পুনর্গঠন করতে হচ্ছে। চীনের অন্যতম পরিচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্টার্টআপ মুনশট এআইয়ের আনুমানিক মূল্য ১৮ বিলিয়ন ডলার। হংকংয়ে তালিকাভুক্তির সুযোগ তৈরি করতে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জভিত্তিক হোল্ডিং কাঠামো ভেঙে দিচ্ছে। চীনা নিয়ন্ত্রকরা ‘রেড-চিপ’ প্রতিষ্ঠানগুলোকে—যাদের কার্যক্রম মূল ভূখণ্ডে, কিন্তু নিবন্ধন বিদেশে—এই কাঠামো বিলুপ্ত করে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করেছে, যাতে মালিকানার স্বচ্ছতা বাড়ে। চায়না সিকিউরিটিজ রেগুলেটরি কমিশন এসব কাঠামোর ওপর নজরদারি জোরদার করেছে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করেনি।
তথ্যে প্রবেশাধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরে পশ্চিমা সরকারগুলো চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির ওপর জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক পর্যালোচনা আরও কঠোর করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক থেকে চীনা সরবরাহকারীদের বাদ দেওয়া বা পর্যায়ক্রমে সরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২০ সালে লাকিন কফি বিক্রির হিসাব জাল করার কথা স্বীকার করে এবং নিউইয়র্কের নাসডাক থেকে তালিকাচ্যুতির মুখে পড়ে। ওই কেলেঙ্কারির পর চীনা প্রতিষ্ঠানের করপোরেট সুশাসন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সংশয়ও রয়ে গেছে।
এ ছাড়া হংকংয়ের নিজস্ব রাজনৈতিক রূপান্তরও শহরটির আন্তর্জাতিক আকর্ষণে প্রভাব ফেলেছে। ২০১৯ সালে গণতন্ত্রপন্থী ব্যাপক বিক্ষোভের পর কর্তৃপক্ষ বিস্তৃত জাতীয় নিরাপত্তা আইন জারি করে। এসব আইনে কয়েক ডজন কর্মী, বিরোধী রাজনীতিক ও সাংবাদিককে গ্রেপ্তার বা কারাবন্দি করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এসব পদক্ষেপে স্থিতিশীলতা ফিরেছে। তবে সমালোচকদের দাবি, এর ফলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষা ও চীনের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে একীভূত হওয়ার মধ্যে হংকংয়ের জটিল ভারসাম্য কীভাবে বদলাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
শারীরিক উপস্থিতি ও বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বাইরেও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের ভিত্তি গড়তে হংকংয়ে সরাসরি সদর দপ্তর স্থাপন করছে। আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিং ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যান্ট গ্রুপ কজওয়ে বে ওয়ানে অফিসের জায়গা কিনেছে ৭.২ বিলিয়ন হংকং ডলারে (৯২৫ মিলিয়ন ডলার)। ২০২১ সালের পর হংকংয়ে এটিই সবচেয়ে বড় অফিস সম্পত্তি লেনদেন। আলিবাবার চেয়ারম্যান জোসেফ সাই বলেন, পেশাদার জনবল, শক্তিশালী পুঁজিবাজার, উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ও বৈশ্বিক যোগাযোগব্যবস্থা—এসবই একটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য শহরটিকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বৈদ্যুতিক গাড়ির স্টার্টআপ লি অটো এ বছরের শুরুতে গবেষণা ও উন্নয়ন, মেধাস্বত্ব ব্যবস্থাপনা, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসা উন্নয়ন তদারকির জন্য হংকংয়ে বিদেশি সদর দপ্তর স্থাপন করেছে। ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তির ইউনিকর্ন প্রতিষ্ঠান ব্রেইনকো স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার এবং পণ্য উন্নয়ন দ্রুত করতে শহরটিতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র চালু করেছে। রোবট প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী লেন্স টেকনোলজি গ্রুপ হংকংয়ে শেয়ার বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ ভিয়েতনাম ও উত্তর আমেরিকায় কার্যক্রম সম্প্রসারণে ব্যবহার করতে চায়। পাশাপাশি মানবসদৃশ রোবটের যন্ত্রাংশও তৈরি করবে প্রতিষ্ঠানটি।
হংকং সরকার এর জবাবে গো গ্লোবাল টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এটি ইনভেস্টএইচকে, হংকং ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল এবং বিদেশের দপ্তরগুলোকে একত্র করা একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নবিষয়ক সচিব অ্যালজারনন ইয়াউ বলেন, এই উদ্যোগের আওতায় মূল ভূখণ্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর, আইনি বিষয়, অর্থায়ন, পরীক্ষা ও সনদায়ন, পরিবেশগত অনুবর্তিতা এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষা বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা দেওয়া হয়। এই অবকাঠামো এমন একটি মডেলকে সমর্থন করে, যেখানে “গবেষণা ও উন্নয়ন হংকংয়ে, উৎপাদন বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলে এবং বিক্রি বিশ্বজুড়ে” করা হয়। এতে অঞ্চলটির গবেষণার সক্ষমতার সঙ্গে শেনঝেন ও গুয়াংজুর উৎপাদনক্ষমতার সমন্বয় ঘটে।
হংকং থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আরও দূরে
তাৎক্ষণিক গন্তব্য হংকং হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত লক্ষ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও গ্লোবাল সাউথের বাজারে সম্প্রসারণ। আন্তর্জাতিকভাবে রেডনোট নামে পরিচিত শিয়াওহংশু গত জুনে চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে প্রথম অফিস হংকংয়ে খোলে। এরপর মালয়েশিয়ায় সম্প্রসারিত হয়, যা এখন চীনের বাইরে তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় জাতিগত চীনা জনগোষ্ঠী প্ল্যাটফর্মটির জন্য প্রাথমিক ব্যবহারকারীভিত্তি তৈরি করেছে। পশ্চিমা বাজারের তুলনায় এখানে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বাধাও কম। বাইটড্যান্স ও টেনসেন্টও একইভাবে অঞ্চলজুড়ে ই-স্পোর্টস, ই-কমার্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডিজিটাল সেবা বাড়াচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যও প্রবৃদ্ধির আরেকটি ক্ষেত্র। ইনভেস্ট হংকংয়ের বিনিয়োগ উন্নয়নবিষয়ক উপমহাপরিচালক লরেটা লি সম্প্রতি কুয়েত ও কাতারে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। সেখানে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বে প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছে। লি বলেন, “তাদের পুঁজি ও সম্পদ আছে, কিন্তু লোকবল ও উন্নত প্রযুক্তির ঘাটতি রয়েছে। আমরা যখন মূল ভূখণ্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাতে নিয়ে গেছি, তারা সঙ্গে সঙ্গে মুগ্ধ হয়েছে এবং সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে।” এই “প্রযুক্তি ও সেবা” মডেলে মূল ভূখণ্ডের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গে হংকংয়ের আইনি, আর্থিক ও হিসাবরক্ষণ-সংক্রান্ত দক্ষতার সমন্বয় করা হয়।
চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এই অঞ্চলে রয়েছে তরুণ, মোবাইল প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত ভোক্তা এবং পশ্চিমা বাজারের তুলনায় হালকা নিয়ন্ত্রক চাপ। ২০২৫ সালে ডিজিটাল সেবা থেকে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। অ্যাপের ভেতরে কেনাকাটার সুবিধা টিকটক শপের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পণ্যের মোট বিক্রয়মূল্য আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে ৪৫.৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। এই আঞ্চলিক সম্প্রসারণ বেইজিংয়ের বৃহত্তর অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যেমন বলা হয়েছে, প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং বিদেশি হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরতা কমানোও এসব লক্ষ্যের অংশ।
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সামাল দিতে হংকং আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আসিয়ান, মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। লরেটা লি বলেন, মুক্তবন্দর ও আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে হংকং পুঁজি, আইনি সেবা, ভাষা এবং তথ্যপ্রবাহের জন্য অত্যন্ত উন্মুক্ত পরিবেশ দেয়। ৭০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক ব্যাংক এবং বিশ্বমানের আর্থিক ব্যবস্থা থাকায় শহরটি মূল ভূখণ্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন ও অনুবর্তিতা থেকে শুরু করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক ব্র্যান্ড গড়ে তোলা পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সহায়তা দেয়।
মূল বিষয়গুলো
- গত বছর হংকংয়ে মূল ভূখণ্ডের চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি ১৫৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালের ৩০টির তুলনায় ৭৬টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ছেড়ে মোট ২৮৬.৯ বিলিয়ন হংকং ডলার সংগ্রহ করেছে
- সম্প্রসারণশীল খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে এআই (ঝিপু এআই, মুনশট এআই, মিনিম্যাক্স), সেমিকন্ডাক্টর (ইলুভাটার কোরএক্স, আর্ম চায়না, চায়না মাইক্রো সেমিকন), রোবট (ইউনজি, ইনোভান্স, হুয়ান) এবং জৈবপ্রযুক্তি (হংকং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পার্কস করপোরেশনের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো)
- হংকং “তথ্য-অনুবর্তিতা স্থানান্তরকেন্দ্র” ও পণ্য পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। বৈশ্বিক সম্প্রসারণের আগে প্রতিষ্ঠানগুলো এখানে আন্তসীমান্ত তথ্যপ্রবাহ ও আন্তর্জাতিক মান যাচাই করতে পারে
- আলিবাবা, অ্যান্ট গ্রুপ, লি অটো ও ব্রেইনকোসহ বড় প্রতিষ্ঠানগুলো শহরটিতে সরাসরি সদর দপ্তর ও গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করছে
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ‘চীন-ঝুঁকি’ নিয়ে উদ্বেগ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নাসডাকের বিকল্প খুঁজতে এবং নিউইয়র্কের বদলে হংকংয়ে শেয়ার তালিকাভুক্ত করতে উৎসাহিত করছে
- হংকংয়ে সাফল্য পশ্চিমা বাজারের বাধা দূর করে না, কিংবা সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রক তদারকি থেকেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে অব্যাহতি দেয় না
- সম্প্রসারণের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাজার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য। এসব অঞ্চলে পৌঁছাতে প্রতিষ্ঠানগুলো হংকংকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছে
- বিদেশে সম্প্রসারণে আগ্রহী মূল ভূখণ্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক জায়গা থেকে সেবা দিতে হংকং সরকার গো গ্লোবাল টাস্কফোর্স গঠন করেছে






