অর্থনৈতিক চাপ বাড়ায় জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ
দেশজুড়ে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যাপক জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। এ নির্দেশ অমান্যকারীদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ বাথ (প্রায় ৩ হাজার ৯০০ ডলার) পর্যন্ত জরিমানার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রাদেশিক প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক মি. নারুচা কোসাসিভিলাইজ স্বাক্ষরিত নির্দেশে জ্বালানি ও ভোগ্যপণ্যের বাজারে নজরদারি জোরদার করতে সারা দেশের প্রাদেশিক গভর্নর, জেলা প্রধান ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্ন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা-উদ্বেগ থেকে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপে এটি উল্লেখযোগ্য জোরদার পদক্ষেপ।
সূচিপত্র
এই অভিযান চলছে ১৯৭৩ সালের জ্বালানিসংকট সংশোধন ও প্রতিরোধবিষয়ক জরুরি ডিক্রির আওতায়। খুব কমই প্রয়োগ করা এই আইন কর্তৃপক্ষকে অসাধারণ প্রয়োগক্ষমতা দেয়। এই কাঠামোর অধীনে নিয়ন্ত্রিত পণ্য মজুত করা, দাম কারসাজি করা বা জনসাধারণকে সেবা দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করার অভিযোগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। মন্ত্রণালয় বিশেষভাবে সতর্ক করেছে, ঘোষণাবহির্ভূত স্থানে পণ্য মজুত করলে কিংবা যৌক্তিক কারণ ছাড়া জ্বালানি বিক্রি বিলম্বিত করলে কারাদণ্ডসহ কঠোর শাস্তি হতে পারে।
থাইল্যান্ডের মূল্যনিয়ন্ত্রণ কৌশলের সাত স্তম্ভ
সংকটকালে জ্বালানির ঘাটতি ঠেকানো ও জীবনযাত্রার ব্যয় স্থিতিশীল রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সাতটি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থাগুলো চারটি প্রধান সংস্থাকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত তদারকি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে: প্রাদেশিক বাণিজ্য দপ্তর পণ্য ও সেবার দাম পরিদর্শন করবে, প্রাদেশিক জ্বালানি দপ্তর পেট্রল স্টেশন তদারক করবে, প্রাদেশিক পুলিশ আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করবে এবং জেলা প্রধানেরা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করবেন।
প্রথম ব্যবস্থায় সরাসরি মজুতদারি ঠেকানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রিত পণ্যের মজুত পরিদর্শন করতে হবে এবং গোপন স্থানে পণ্য রাখা বা ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ আটকে রাখার দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। দ্বিতীয় ব্যবস্থায় সেবাদাতাদের জনসাধারণকে সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানানো বা বিলম্ব করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তৃতীয় ব্যবস্থায় বাজারদর নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে, যাতে জ্বালানির বাজার অস্থিতিশীল করতে পারে এমন অস্বাভাবিক বেশি বা কম দামে কারসাজি ঠেকানো যায়। চতুর্থ ব্যবস্থায় জেলা প্রধানদের নিজ নিজ এলাকায় জ্বালানি ব্যবসায়ীদের ঘনিষ্ঠভাবে পরিদর্শনের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করতে বলা হয়েছে।
পঞ্চম ব্যবস্থায় পেট্রল, গ্যাসোহল (পেট্রল ও ইথানলের মিশ্রণ), ডিজেল, বিমান জ্বালানি এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে লাওস ও মিয়ানমারে রপ্তানির ক্ষেত্রে এবং থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি করা সম্ভব নয় এমন পণ্যের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। ষষ্ঠ ব্যবস্থায় জ্বালানি ব্যবসায়ীদের বিক্রয়স্থলে খুচরা দাম স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে এবং প্রতিটি মূল্য সমন্বয়ের তথ্য জ্বালানি ব্যবসা বিভাগের মহাপরিচালককে জানাতে বলা হয়েছে। সপ্তম ব্যবস্থায় আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সীমান্তপারের প্রেক্ষাপট: জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা
থাইল্যান্ডের জ্বালানি রপ্তানি-নিষেধাজ্ঞাকে সীমান্তবর্তী এলাকায় আন্তদেশীয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে দেশটির বৃহত্তর নিরাপত্তা অভিযানের বাইরে দেখা যায় না। মিয়ানমার ও কম্বোডিয়ায় সক্রিয় অত্যাধুনিক প্রতারণাকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত কৌশলের অংশ এই রপ্তানি স্থগিতাদেশ। এসব চক্র বৈশ্বিক প্রতারণা চালাতে থাইল্যান্ডের অবকাঠামো ব্যবহার করে, যার বার্ষিক পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি ডলার।
৫ ফেব্রুয়ারি থেকে থাই কর্তৃপক্ষ মিয়ানমার সীমান্তের পাঁচটি স্থানে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও জ্বালানির সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করেছে। বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলাহীন মিয়াওয়াদি ও শোয়ে কোক্কোর এলাকাকে, যেখানে চীনা অপরাধী চক্রগুলো জোরপূর্বক শ্রমের বিস্তৃত কম্পাউন্ড পরিচালনা করে। তথাকথিত ‘শূকর জবাই’ প্রতারণার জন্য পরিচিত এসব স্থাপনায় (যেখানে ভুক্তভোগীদের কয়েক মাস ধরে অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর তাদের সঞ্চয় হাতিয়ে নেওয়া হয়) কার্যক্রম চালু রাখতে থাইল্যান্ডের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে।
চীন থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সক্রিয়ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। সমস্যার লক্ষণ ও মূল কারণ—দুটিই মোকাবিলায় ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অপরাধীদের অপরাধ করা ঠেকাতে একসঙ্গে কাজ করা হচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুনের এ বক্তব্যের আগে মার্চের শেষ দিকে চীনের জননিরাপত্তা উপমন্ত্রী লিউ ঝংই মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্ত পরিদর্শন করেন। ওই সফরের পর প্রতারণাকেন্দ্রগুলো থেকে হাজারো কর্মীকে বড় পরিসরে দেশে ফেরত পাঠানো হয়, যার প্রথম দফায় ছিলেন প্রায় ৬০০ চীনা নাগরিক। থাই সরকার অতীতে থাই নাগরিকদের জড়িত মানবপাচারের ঘটনায় মিয়াওয়াদি নিয়ন্ত্রণকারী জান্তা-সমর্থক কারেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিএফ) তিন জ্যেষ্ঠ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও চেয়েছে।
জ্বালানি নিষেধাজ্ঞার ফলে মিয়াওয়াদি টাউনশিপে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানে প্রতি লিটার জ্বালানির দাম বেড়ে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার কিয়াত (প্রায় ১.৫০ থেকে ৫ ডলার) হয়েছে। সীমিত জ্বালানি পেতে বাসিন্দাদের রাত ৩টা থেকেই সারিতে দাঁড়াতে হচ্ছে। প্রতারণাকেন্দ্রগুলো জেনারেটর ও সৌর প্যানেল ব্যবহার করে চালু থাকলেও সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা সামলাচ্ছেন মিয়ানমারের সাধারণ বাসিন্দা ও কৃষকেরা। কম্বোডিয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে থাইল্যান্ড। সাতটি প্রদেশে সীমান্ত পারাপার সীমিত করা হয়েছে এবং সেখানকার অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রাকে ঘিরে কূটনৈতিক সংকটের পর এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বৈশ্বিক জ্বালানির ধাক্কায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট তীব্র বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের মধ্যে থাইল্যান্ডের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইরান সংঘাত আন্তর্জাতিক তেলের দাম বাড়িয়েছে এবং এশিয়াজুড়ে ডিজেল, জেট জ্বালানি ও সারের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করেছে। প্রচলিত রপ্তানিকারক অংশীদাররা বিদেশে সরবরাহ সীমিত করায় আঞ্চলিক অর্থনীতিগুলো অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সার রপ্তানিকারক ও ষষ্ঠ বৃহত্তম জেট জ্বালানি রপ্তানিকারক চীন রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট শোধনাগারগুলোকে জেট জ্বালানি, ডিজেল ও কেরোসিনের বিদেশে চালান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারে সার রপ্তানি বন্ধ করতেও বেইজিং রপ্তানিকারকদের নির্দেশ দিয়েছে, তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কিছু সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে জনসমক্ষে ঘোষণা ছাড়াই কার্যকর করা এসব বিধিনিষেধের লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় চীনের মজুত সংরক্ষণ করা।
আঞ্চলিক জ্বালানি সংকটে মিয়ানমার বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ওপর এ সংকট আরও চাপ সৃষ্টি করেছে। ধান উৎপাদনকারী ইরাবতী বদ্বীপের মিয়ানমারের কৃষকেরা এখন জ্বালানি ডিপোতে রাতভর সারিতে অপেক্ষা করছেন। ফেব্রুয়ারিতে ডিজেলের দাম ২ হাজার ৪৫০ কিয়াত থেকে বেড়ে মার্চের মাঝামাঝি ৩ হাজার ৮০০ কিয়াত হয়েছে। কালোবাজারে প্রতি লিটারের দাম ১২ হাজার কিয়াতে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করেছে, মিয়ানমারের ১ কোটি ২৪ লাখ বাসিন্দা—জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ—ইতিমধ্যে খাবার জোগাড়ে হিমশিম খাচ্ছেন। সারের দাম বৃদ্ধি ও জ্বালানির সীমিত প্রাপ্যতা আসন্ন চাষ মৌসুমকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
ভিয়েতনামের জেট জ্বালানির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি করতে হয়, যার প্রায় ৬০ শতাংশ আসে থাইল্যান্ড ও চীন থেকে। এপ্রিলে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চীনের কাছ থেকে জেট জ্বালানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংগ্রহকারী অস্ট্রেলিয়ার বিমান সংস্থাগুলো গ্রামীণ বিমানবন্দরগুলোতে ইতিমধ্যে সরবরাহ সমস্যায় পড়েছে। এই আঞ্চলিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে, প্রতিবেশী অর্থনীতিগুলোর ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব পড়লেও কেন রপ্তানির প্রতিশ্রুতির চেয়ে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে থাইল্যান্ড।
অর্থনৈতিক প্রভাব: বিমান সংস্থা থেকে পথবিক্রেতা
জ্বালানি সংকটে থাইল্যান্ডের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ধারাবাহিকভাবে দাম বেড়েছে। পরিবহন, বিমান চলাচল, খাদ্যসেবা ও ই-কমার্স—সবই এর প্রভাবে পড়েছে। জেট এ-১ জ্বালানির দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলার থেকে বেড়ে ২০০ ডলারের বেশি হওয়ায় থাই এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল টিকিটের দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশের জন্য জ্বালানির আগাম মূল্যনির্ধারণের ব্যবস্থার কারণে প্রভাব কিছুটা সামলানো গেলেও অভ্যন্তরীণ রুটগুলো বিশেষ চাপে রয়েছে। কারণ, থাই বিধিমালায় দেশের ভেতরের ফ্লাইটে আলাদা জ্বালানি সারচার্জ নেওয়া নিষিদ্ধ।
ডিজেলের দীর্ঘস্থায়ী উচ্চমূল্যে নৌপরিবহন পরিচালকেরা অস্তিত্বসংকটে পড়েছেন। চাও ফ্রায়া এক্সপ্রেস বোট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চারোয়েনফন চারোয়েনথাম সতর্ক করে বলেছেন, ব্যয় এভাবে বেশি থাকলে সেবা কমাতে বা পুরোপুরি বন্ধ করতে হতে পারে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি লিটার প্রায় ৩৫ বাথ দরে ডিজেল কিনছে, যা টেকসই মাত্রার চেয়ে বেশি। রাষ্ট্রীয় বাস পরিচালনাকারী ট্রান্সপোর্ট কো লিমিটেড পিটিটি পিএলসির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়চুক্তি এবং দৈনিক ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার লিটার মজুতের মাধ্যমে সেবা চালু রেখেছে। তবে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন দাম বেশি থাকলে শেষ পর্যন্ত ভাড়া বাড়াতে হতে পারে।
খাদ্যপণ্যের দামও ক্রমাগত বাড়ছে। ১৪ মার্চ প্রতিটি ডিমের দাম ২০ সাতাং বেড়েছে। পরিবহন ব্যয়ের কারণে এপ্রিলের শুরুতে প্রতি ডিমে আরও ০.১০ থেকে ০.২০ বাথ দাম বাড়বে বলে খুচরা বিক্রেতারা ধারণা করছেন। ব্যাংককের বাং সন এলাকার রেস্তোরাঁ পরিচালকেরা জানিয়েছেন, মাংসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে: শূকরের মাংস কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৫৫ বাথ, শূকরের পেটি ১৮০ থেকে ২০০ বাথ এবং মুরগির মাংস ৭০ থেকে ৯০ বাথ হয়েছে। ব্যবসা চালু রাখতে প্রতি পদে ৫ বাথ দাম বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন পথবিক্রেতারা। তবে অনেকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ দক্ষতা বাড়িয়ে ব্যয় সামলানোর চেষ্টা করছেন।
ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো বিক্রেতাদের ফি বাড়িয়েছে। শোপি, লাজাদা ও টিকটক শপ—সবগুলোই এপ্রিলের শুরু থেকে কমিশন ও লেনদেন ফি সমন্বয়ের ঘোষণা দিয়েছে। শোপি মলের ইলেকট্রনিকস ও ফ্যাশন বিভাগে কমিশনের হার এখন সর্বোচ্চ ১৫.৫২ শতাংশ। অন্যদিকে, লাজাদার কিছু বিভাগে সাধারণ দোকানগুলোর সর্বোচ্চ ফি ১৩ শতাংশ। জ্বালানি ও প্যাকেজিংয়ের বাড়তি ব্যয়ে আগে থেকেই চাপে থাকা থাইল্যান্ডের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোর ওপর এ বৃদ্ধি আরও চাপ সৃষ্টি করছে।
অভিযানে পদক্ষেপ: জব্দ ও পরিদর্শন
থাই কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অভিযান শুরু করেছে। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী তাক প্রদেশে, যেখানে অভ্যন্তরীণ জ্বালানির তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী সম্প্রতি মে সট জেলায় নদীতীরের একটি গুদাম থেকে ২০ হাজার লিটার ডিজেল ও জ্বালানি সংরক্ষণের সরঞ্জাম জব্দ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর মিয়ানমারে অবৈধভাবে রপ্তানির জন্য নেওয়া হচ্ছিল বলে সন্দেহভাজন জ্বালানিটি আটক করা হয়। অভিযানে ডিজেলভর্তি ১০ চাকার একটি ট্রাক এবং গুদামে থাকা দুটি ৪ হাজার ৫০০ লিটারের ট্যাংকসহ মজুতের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়।
কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরিদর্শন জোরদার করেছে: জ্বালানির মান, আইনি নথিপত্র, মূল্যবিধি মেনে চলা এবং মজুতদারি। ব্যুরোর কমিশনার পুলিশ লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাত্তাসাক চাওয়ানাসাই নিশ্চিত করেছেন, মজুত করে রাখার সন্দেহে বর্তমানে ৪০ হাজার লিটারের বেশি ডিজেল পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংকটের সুযোগ নিয়ে অনিয়ম ঠেকাতে ভোক্তা সুরক্ষা পুলিশ বিভাগ বাণিজ্য ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, কর কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
সীমান্তজুড়ে সব ধরনের অবৈধ জ্বালানি রপ্তানির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাতে তাকের গভর্নর চুসাক রুইং নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় পেট্রল স্টেশনগুলোতে প্রায়ই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের দীর্ঘ সারিতে দাঁড়াতে হচ্ছে, যা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। পেট্রল স্টেশন বা খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে মজুতদারির সন্দেহ কিংবা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধিসহ কোনো অনিয়ম নজরে এলে জেলা কার্যালয় অথবা ডামরংধামা সেন্টারের হটলাইনে জানাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- জ্বালানির ঘাটতি মোকাবিলায় থাইল্যান্ড ১৯৭৩ সালের জরুরি ডিক্রি জারি করেছে। মজুতদারি বা দাম কারসাজির জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ বাথ জরিমানার বিধান রয়েছে।
- সাতটি কঠোর পদক্ষেপে চারটি সরকারি সংস্থাকে যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় জ্বালানি স্টেশন ও দাম তদারকি এবং পেট্রল, ডিজেল, বিমান জ্বালানি ও এলপিজির রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে।
- জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করার পদক্ষেপটি মিয়ানমার ও কম্বোডিয়ার প্রতারণাকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে বৃহত্তর অভিযানের সঙ্গে যুক্ত। এসব কেন্দ্র কার্যক্রম চালাতে থাইল্যান্ডের অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করত।
- মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় জেট জ্বালানির দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার থেকে বেড়ে ২০০ ডলারের বেশি হয়েছে। থাই এয়ারওয়েজ ভাড়া ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়িয়েছে।
- সীমান্তে অভিযান জোরদারের অংশ হিসেবে থাই কর্তৃপক্ষ মে সটে চোরাচালান করা হচ্ছিল বলে সন্দেহভাজন ২০ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে।
- চীনও একই সময়ে জ্বালানি ও সার রপ্তানি সীমিত করেছে, যা ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া ও মিয়ানমারসহ অঞ্চলের সরবরাহসংকট আরও বাড়িয়েছে।
- অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রভাবের মধ্যে রয়েছে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, ই-কমার্স ফি বাড়ানো এবং নদীপথের পরিবহনসেবা কমে যাওয়ার আশঙ্কা।
- দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি করা সম্ভব নয় এমন পণ্য কিংবা নির্দিষ্ট সীমান্তপারের ব্যবস্থার ক্ষেত্রে থাইল্যান্ড লাওস ও মিয়ানমারে জ্বালানি রপ্তানির অনুমতি দিচ্ছে।






